কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
পাটনির্ণয়
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী” গ্রন্থের সঙ্গে প্রকাশিত অন্যান্য
নিবন্ধের অন্তর্ভুক্ত, পৃষ্ঠা ১৯৭।


শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচন্দ্রায় নমঃ।


দক্ষিণার্দ্ধং নৈমিষার্দ্ধং যত্র তিষ্ঠন্তিসাধবঃ।
স্থানং সিদ্ধমিদং জ্ঞেয়ং তৎ তীর্থং তৎ তপোবনম্॥


যেখানে বৈষ্ণব থাকে কৃষ্ণকথা পানে।
গঙ্গাদি তীর্থ তাহাতে হয় অধিষ্ঠানে॥


তত্রৈব গঙ্গা যমুনা চ তত্র গোদাবরী তত্র সরস্বতী চ।
সর্ব্বাণি তীর্থানি রমন্থি তত্র যত্রাচ্যুতোদারকথাপ্রসঙ্গঃ॥


অতীর্থকে তীর্থ করেন বৈষ্ণব গোসাঞি।
অতএব এই স্থান দেখিতে দোষ নাই॥


তীর্থাঃ কুর্ব্বন্তি তীর্থানি স্বান্তঃস্থেন গদাভৃত


প্রথমে লিখিব শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের ধাম।
এবে তো লিখিব গোপাল মহান্তের গ্রাম॥
চৈতন্যের জন্মাদি বিলাস যেইখানে।
সংক্ষেপে কহিবে সেই গ্রামের বিধানে॥
শ্রীবৃন্দাবন মথুরা দ্বারকা নীলাচল।
নবদ্বীপ খড়দহ শান্তিপুর স্থল॥
কণ্টকনগর লইঞা অষ্ট কৃষ্ণচৈতন্যের ধাম।
ভক্তগণ সহিত জাহা সদত বিশ্রাম॥
চতুর্বিংশতি স্থান আগেত লিখিব।
মহাপাট দ্বাদশ তাহাতে রচিব॥
এক দুই বৈষ্ণব যাহা তাহা পাট সাক্ষী।
অনেক বৈষ্ণব যাহা তাহা মহাপাট লেখি॥
অগ্রপশ্চাতের না করি বিচার।
লিখনের ক্রমে যাহা হয়ে সুসার॥
রাঢ়দেশ মধ্যে শ্রীবৈদ্যখণ্ড গ্রাম।
মুকুন্দদাস নরহরি রঘুনন্দনের ধাম॥
চিরঞ্জিব সুলোচন কবিরাজ মহানন্দ।
কৃষ্ণ বৈষ্ণবসেবা পরম আনন্দ॥
গঙ্গাপার গ্রাম শ্রীঅগ্রদ্বীপ নাম।
গোপীনাথ প্রকাশ যাহা স্বয়ং ভগবান॥
গোবিন্দ ঘোষ বাসুদেব ঘোষ আর মাধব ঘোষ।
যে স্থান দেখিতে হয় পরম সন্তোষ॥
নরদ্বীপ পার কালিয়া পাহাড়পুর।
বংশাবদন দাস বংশীরসপুর॥
কবিদত্ত মহাশয় ঠাকুর সারেঙ্গ।
মহাপ্রভু স্থান লীলাখেলা রঙ্গ॥
তাহার দক্ষিণে গ্রাম অমুয়া মুলুক।
চৈতন্য নিত্যানন্দের সেবা দেখিতে মহাসুখ॥
গৌরীদাস পণ্ডিত আর অনুজ কৃষ্ণদাস।
হৃদয়চৈতন্যদাস অনেক প্রকাশ॥
তাহার পশ্চিমে ফুলিয়া নাম গ্রাম।
রঘুবংশ যাহাতে স্থিতি অতি অনুপাম॥
ত্রিবেণীর পার হয় কাচড়াপাড়া গ্রাম।
কৃষ্ণরাম ঠাকুর যাহা অতি অনুপাম॥
তাহার নিকটে হয় কুমারহট্ট গ্রাম।
শ্রীবাসপণ্ডিতের সেবা গৌরাঙ্গ অতি অনুপাম॥
শিবানন্দ সেন আর সেন শ্রীকান্ত।
কবিকর্ণপুর আর ভকত একান্ত॥
শিবানন্দ সেন আদি অনেক বসতি।
মহাপ্রভুর স্থান গোপালরায় শ্রীমূর্ত্তী॥
খড়দহের পশ্চিমে আড়িয়াদহ গ্রাম।
গদাধরদাস ঠাকুর বসতি নিজ ধাম॥
উত্তরে পুরন্দর তার দক্ষিণে রাঘব।
অনেক বৈষ্ণব সেবা পরম উত্সব॥
তাহার নিকটে হয় পানিহাটি গ্রাম।
রাঘবদাস ঠাকুর দয়মন্তির ধাম॥
শ্রীরামদাসঠাকুর তাহাতে প্রকাশে।
যোলসাঙ্গের কাষ্ঠ বংশী করিল অনায়াসে॥
মহাপ্রভুর কেবল পিরিতির অভ্যাস।
রাঘবের ঝালি দেখিতে পরম উল্লাস॥
হলদা মহেশপুর আর বোধখানা।
এক দেশের গ্রাম একই গণনা॥
ঠাকুর সুন্দরের বসতি সেই স্থানে হয়।
সদাশিব কবিরাজের বোধখানাতে নিলয়॥
তাহার তনয় ঠাকুর পুরুষোত্তম।
মহাক্ষোভ মহাফল সর্ব্বত্র উত্তম॥
বীরলোক কৃষ্ণনগর ঠাকুর অভিরাম।
তাহার ঘরণী মালিনী যার নাম॥
বাসিদেব ঘোষের তাহা গৌরাঙ্গপুর হয়।
যাদবসিংহের নবরত্ন দেখিতে বিস্ময়॥
চাতরা বল্লবপুর খড়দহের পার।
কালিপুর শঙ্করারন্য শ্রীনাথ পণ্ডিত সার॥
রুদ্র পণ্ডে সেবা রাধাবল্লভ নাম।
ভুবনমোহন রূপ অভিনব কাম॥
এই দ্বাদশ পাট লিখি এ মহান।
আর দ্বাদশ পাটের করিএ বিধান॥
আকাইহাটেতে ছিল ঠাকুর কৃষ্ণদাস।
রঘুনন্দনের নূপুর পাইল পরম উল্লাস॥
অনাডিহি গ্রামে ঠাকুর গঙ্গাদাস।
বটগাছি সালিগ্রামে কৃষ্ণদারের নিবাস॥
বেলুটি অনন্তপুরীর মহিমা প্রচুর।
বাঘনাপাড়াতে বংশী রামাই ঠাকুর॥
গুপ্তপাড়াতে সত্যানন্দ সরস্বতী।
শ্রীবৃন্দাবনচন্দ্রের সেবা পরম পীরিতি॥
জীরাটে মকরধ্বজ আচার্য্য গঙ্গাদেবী।
যশোড়াতে জগদীশ নর্ত্তন পদবী॥
তাহা হৈতে হালিশহর দিন দুই হয়।
শ্রীবৃন্দাবনদাস নারায়ণীর তনয়॥
ভাগবত আচার্য্যের বরাহনগর।
সপ্তগ্রানে উদ্ধব মিশ্রী সুগ্রীব মিশ্রের ঘর॥
কাঁচড়াপাড়া করন্দা সিথলগ্রাম।
ধনঞ্জয় পণ্ডিতের সেবা অনেক বিধান॥
এই চতুরবিংশতি পাট করিয়ে প্রকাশ।
জন্মভূমি লেখি লীলাখেলার প্রকাশ॥
বেনাপোল গ্রামে হরিদাসের নিলয়।
ফুলিয়াতে দিবস কতক আছিল মহাশয়॥
রঘুনাথ দাসের গ্রাম চাঁদপুর হয়।
হুগলী নিকট গ্রাম সর্ব্বলোকে কয়॥
কালিদাস ঠাকুরের বসতি সপ্তগ্রাম।
বাঙ্গালাতে গোস্বামী সকলের জন্মস্থান॥
সিল্লট্টি চাটিগ্রামে বিদ্যানিধির নিলয়।
একচাকা গ্রামে নিত্যানন্দের জন্ম হয়॥
রামকেলি গ্রামে কানাইর নাটসাল।
প্রভুর বিশ্রাম রাঢ়দেশে কত আছে রম্যস্থান॥
জীব প্রতিজ্ঞা বলে ক্ষণেক বিশ্রাম।
নওপাড়া ঘাটিকুড়ি কহে সেই গ্রাম॥
দামোদর পার বারাসত গ্রাম হয়।
নাগর পুরুষোত্তম দাসের বনকুণ্ডাতে নিলয়॥
সুরডাঙ্গা সুলতানপুর মহেশ পণ্ডিতের ঘর।
দোগাছিয়া গ্রামেতে বলরাম দ্বিজবর॥
সূর্য্যদাস সরখেলের বোদখানাতে নিলয়।
উদ্ধারণ জগন্নাথদাস মহাশয়॥
গৌড়ের ভিতরে পোখরিয়া গ্রাম।
নৃসিংহ চৈতন্যদাসের সেবা শ্রীবৃন্দাবনচন্দ্র নাম॥
তমোলোকে মাধব ঘোষের দেবালয়।
হরিবিষ্ণু জগন্নাথ গৌরাঙ্গ আশ্রয়॥
পণ্ডিত গোসাইর বক্রেশ্বেরের নীলাচলে বাস।
গোপীনাথের টোটা গোপালপুর নিবাস॥
উড়্যা দেশে গোপীনাথ আলয় নীলগিরি।
চক ভুবনেশ্বর কর্ণাট বিদ্যানগরি॥
সোণাকাণ্যার পশ্চিমে সুবর্ণরেখার পার।
পন্থরাজ পূর্ব্বে প্রভুর আছএ জলাধার॥
তাহার পূর্ব্বদিগ  দুই কোণ হয়।
দণ্ডভাঙ্গা স্থান খ্যাতি সর্ব্বলোকে কয়॥
আদম ছৈগ্রাম পুষ্কর্ণি বৃন্দাবন।
সেই স্থানেতে মহাপ্রভুর স্থান অবসর॥
আর কত কত স্থান আছএ উত্কলে।
কেমতে দেখিব তাহা দৃষ্টে না দেখিলে॥
ব্রজভূমি নবদ্বীপ আর নীলাচল।
গোপাল মোহান্তের স্থান আছএ সকল॥
এই সকল স্থান দেখে বন্দে করএ শ্রবণ।
অচিরাতে পায় রাধাকৃষ্ণের চরণ॥
মনবাঞ্ছা পূর্ণ হয় ঐশ্বর্য্য নিরন্তর।
নিরাপরাধে হয় বৈষ্ণব কিঙ্কর॥
নীলাচলে শ্বেতগঙ্গা গঙ্গায়ের স্থানে।
মহান্তের পাট সেই হইল লিখনে॥
সাত অঙ্কুশ ব্রহ্ম সকল বসতি।
মধুমাস সোমবার শ্রীরামনবমী তিথি॥
শ্রীরতিপতি চরণে যাহার আশ।
পাটনির্ণয় কহে শ্রীরামগোপালদাস॥

ইতি পাটনির্ণয় সম্পূর্ণ

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীশ্রীনরহরি সরকার ঠাকুর প্রভুর শাখা নির্ণয়
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী” গ্রন্থের সঙ্গে প্রকাশিত অন্যান্য
নিবন্ধের অন্তর্ভুক্ত, শাখানির্ণয়, পৃষ্ঠা ২০৫।


শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যায় নমঃ।

শ্রীশ্রীনরহরি সরকার ঠাকুর প্রভুর শাখা নির্ণয়


মূলবৃক্ষং গৌরমস্য শাখাং নরহরিং প্রভোঃ।
পরমানন্দদাসস্য ভক্ত্যা শাখাগণান্নুমঃ॥


জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার।
কল্পবৃক্ষরূপে প্রেমশাখার বিস্তার॥
শাখা উপশাখা তার অনেক বাঢ়িল।
মূলবৃক্ষে পঞ্চশাখা খণ্ডেতে জন্মিল॥
বটবৃক্ষের নামাল যেন পুন বৃক্ষ হয়।
পঞ্চশাখা প্রবীণ হইল ভক্তের আস্রয়॥
ক্ষিতি নবখণ্ড মধ্যে খণ্ড মহাস্থান।
সর্ব্বত্র সৌরভ যার মলয়জ সমান॥
আনন্দ কল্পদ্রুম হেন ভক্তিফলের শোভা।
ভক্তগণের তৃষ্ণা বাড়ে সেই ফলের লোভা॥


তথাহি---
রোমাঞ্চাঞ্চিতবিগ্রহো বিগলিতানন্দাশ্রুধৌতাততো
যত্তদ্ভাববিভাবনাভিরভিতো নির্দ্ধূতবাহ্যস্পৃহঃ।
ভক্তিপ্রেমপরম্পরাপরিচিতঃ সদ্যঃ সমুত্পদ্মতে
সোহয়ং শ্রীরঘুনন্দনো বিজয়তামানন্দকল্পদ্রুমঃ॥


পঞ্চশাখার বিবরণ শুন দিয়া মন।
মুকুন্দ শ্রীনরহরি শ্রীরঘুনন্দন॥
চিরঞ্জীব সুলোচন খণ্ডবাসী ভাই।
যদিও গ্রন্থে আছেন তবু শাখাতে জানাই॥
মুকুন্দদাস রাজবৈদ্যের যত শাখা হয়।
কাহার শকতি তাহা বিবরিয়া কয়॥
সরকার ঠাকুরের শাখা করিয়ে বিস্তার।
প্রধান প্রধান শাখার করিয়ে প্রচার॥
বৃন্দাবনে প্রাণসখী নাম মধুমতী।
অষ্টসখী সঙ্গে বাসন্তী কুঞ্জে স্থিতি॥
নীলবস্ত্র পরিধান গৌর কলেবর।
রাধাকৃষ্ণ অভিমত সেবাতে তত্পর॥
মধুপান পুষ্প যোগান চামর বীজন।
অঙ্গ মার্জ্জনাদি আর পাদসন্বাহন॥
সখী দূতী দাসী এই তিন অভিমান।
গান্ধর্ব্বার অনুগা হন যুথের প্রধান॥
অষ্টকুঞ্জ মধ্য কোণে উপকুঞ্জ হয়।
প্রিয়সখী প্রাণসখী পৃথক আশ্রয়॥


শ্রীমদ্রূপগোস্বামিনোক্তং---
শ্রীবৃন্দাবনবাসিনো রসবতীরাধাঘনশ্যাময়ো
রাসোল্লাসরসাত্মিক। মধুমতী সিদ্ধানগা যা পুরা
সোহয়ং শ্রীসরকারঠাকুর ইহ প্রেমার্থিনাং প্রেমদঃ
প্রেমানন্দমহোদধির্বিজয়তে শ্রীখণ্ডভূখণ্ডকে॥


চৈতন্যের সঙ্গে প্রকট নরহরিদাস।
তাহার সঙ্গে সখীগণ রহে আশপাশ॥
পূর্ব্বে কাঞ্চনলতা প্রকটে কানাই।
তার পুত্র মদনরায় শাখাতে জানাই॥
যার নৃত্যে রূপে হয় ভুবনমোহন।
মদনমঞ্জরী পূর্ব্বে সখীতে গণন॥
একচক্ষে ধারা বহে পুলক এক অঙ্গে।
অল্পমাত্র বর্ণন কৈল গুণের প্রসঙ্গে॥
তাহার অনুজ শাখা শ্রীবংশীঠাকুর।
কৃষ্ণরসে উনমাদ বাহ্য নাহি স্ফুর॥
দুইজনার সখা যত পুত্র পরিবার।
কে কহিতে পারে তাহা শকতি কাহার॥
গোপালিকা নামে সখী ছিল গোপকূলে।
গোপালদাসঠাকুর সব খণ্ডে বলে॥
ঠাকুরের শাখা তিঁহ ব্রত অকুমার।
শিষ্য প্রশিষ্য যার ভুবনে বিস্তার॥
খণ্ডে বাকি তকিপুর গ্রামেতে আশ্রয়।
কেহ ব্রহ্মদৈত্য ভয়ে সে বাটীতে নাহি রয়॥
সেই দৈত্যে প্রসাদ দিয়া মুক্ত করিলা।
গ্রামের সকল লোক প্রত্যক্ষ দেখিলা॥
আর এক শাখা বৈদ্য লোচনদাস নাম।
পূর্ব্বে লোচনা সখী যার অভিমান॥
শ্রীচৈতন্য লীলা যেহ করিলা বর্ণন।
গুরুর অর্থে বিকাইলা ফিরিঙ্গি সদন॥
তার সেবকের কথা অকথ্য-কথন।
মৃতক শরীরে সেবক পাইয়া জীবন॥
যমদূত আনি তেঁহো সাক্ষী বোলাইলা।
লোক বিখ্যাত যমের যাতনা এড়াইলা॥
ঠাকুরের শাখা চক্রপাণি মজুমদার।
জনানন্দ নিত্যানন্দ পুত্র যাহার॥
চক্রপাণি মহানন্দ গেলা নীলাচল।
শ্রীগৌরাঙ্গে নিবেদন করিলা সকল॥
ওহে চক্রপাণি তুমি সরকার-সেবক।
ভূমি পুত্র পৌত্র তব হইবে অনেক॥
মহানন্দে কহিলেন বৈষ্ণব অকিঞ্চন।
রঘুনন্দনের হও তুমি কৃপার ভাজন॥
প্রভু আজ্ঞায় দুই ভাই শ্রীখণ্ডে আইলা।
শ্রীবৃন্দাবনচন্দের সেবা আরম্ভিলা॥
তাঁহার তনয় শ্রীনিত্যানন্দচৌধুরী।
যদিও বিষয়ী কিন্তু আশ্রয় নরহরি॥
জনানন্দের কথা শুনহ সাবধানে।
রহে বিশশত জন যাহার কৃষাণে॥
দ্বিপ্রহর পাট করে বিকালে নাম লয়।
এই সব লোকাতীত খেয়াতি আছয়॥
দিদ্বিজয়ী নাম কবি ঠাকুরের শাখা।
লোকানন্দ আচার্য্য পণ্ডিতে করি লেখা॥
শ্রীগৌরাঙ্গে কহে মোর এই কট হয়।
যে মোরে জিনিবে তার করিব আশ্রয়॥
ঠাকুরের স্থানে তেঁহো হইলা পরাজয়।
নীলাচলে কৈলা তেঁহো চরণ আশ্রয়॥


তত্কৃতং ধ্যানং যথা---
অজ্ঞানতিমিরান্ধোহহং জ্ঞানার্ণবসুধাকরম্।
আশ্রয়ে শ্রীনরহরিং শ্রীগুরুং দীনবত্সলম্॥


ভক্তিসারসমুচ্চয় গ্রন্থ যাঁহার।
গৌরাঙ্গের সিদ্ধান্ত পুরাণে ব্যাখ্যা তার॥
ঠাকুরের আর এর শাখার শুন কথা।
কৃষ্ণপাগলিনী নাম ব্রাহ্মণ দুহিতা॥
তারে কৃপা করি পাঠাইলা নবদ্বীপে।
বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর সেবা করিলা সমীপে॥
তাঁহার সেবক এক রামদাস নাম।
একর্ব্বরপুরে আছে সেবার বিধান॥
চন্দ্রশেখর নামে বৈদ্য আছিলা খণ্ডেতে।
যার বসতবাটী খণ্ড ক্ষেত্রের তলাতে॥
রসিক রায় বিগ্রহ তার সেবা অতিশয়।
স্বর্ণঠাকুর বলি মোগল বেঢ়িল আলয়॥
বক্ষে রাখিলা ঠাকুর তবু না ছাড়িলা।
চন্দ্রশেখরের মুণ্ডু মোগলে কাটিলা॥
কাটামুণ্ড পুনঃ পুনঃ বোলে নরহরি।
সে সেবাতে গোপালদাস ঠাকুর অধিকারী॥
লক্ষ্মীকান্ত নাম শাখা ঠাকুর পূজারী।
তাহার বিখ্যাত কথা আছে দুই চারি॥
গৌরাঙ্গদাস ঘোষাল আছিলা একজনে।
তার বাটী মধুপুষ্কর্ণীর অগ্নিকোণে॥
মধুসূদন দাস বৈদ্য কীর্ত্তনের বাএন।
নীলাচল সম্প্রদায়ে আছয়ে লিখন॥
ঠাকুরের শাখা এক মিস্র কবিরত্ন।
শ্রীকৃষ্ণ সেবায় তার অতিশয় যত্ন॥
এড়ুয়ায় গ্রামে হয় তাহার বসতি।
শিষ্য প্রশিষ্য অনেক আছয়ে খেয়াতি॥
রূপপুরের শাখা কৃষ্ণকিঙ্কর দাস।
গোবিন্দ রায়ের সেবা যাহার প্রকাশ॥
কুলাই গ্রামেতে ছিলা কবিরাজ যাদব।
দৈত্যারি কংসারি ঘোষ কায়স্থ এসব॥
মহাপ্রভুর সেবা করি মানস করিলা।
স্বপ্নযোগে মহাপ্রভু তারে আজ্ঞা দিলা॥
এই নিম্ববৃক্ষে বিগ্হ করহ নির্ম্মাণ।
মনুষ্যরূপে বিশ্বকর্ম্মা করিবে বিধান॥
ছোট বড় মধ্যম তিন ঠাকুর বনাইলা।
সেইকালে সরকারে বিগ্রহ সমর্পিলা॥
ছট ঠাকুর আনিলেন শ্রীখণ্ডের বাড়িতে।
মধ্যমে পাঠাইলা গঙ্গানগর সেবাতে॥
বড় ঠাকুর বড় রূপ কাঁহা নাহি যায়।
যাঁর আকর্ষণে তিন ভুবন ভুলায়॥
বিদ্যানন্দ পণ্ডিত নাম পণ্ডিত অকিঞ্চন।
গদাধর ঠাকুরের হন কৃপার ভাজন॥
কণ্টকনগর হয় মহাপ্রভুর স্থান।
তোমা সেবা স্বীকার করিবেন চৈতন্য ভগবান॥
ঠাকুর আজ্ঞায় ঠাকুর লৈয়া আইলা।
বনের ভিতরে এক ঝুপড়ি বান্ধিলা॥
ভিক্ষার চাউল আর তোলে বন্য শাক।
তাহার ঘরণী যত্নে করে অন্ন পাক॥
সেই ভজনে তুষ্ট হন শছীর নন্দন।
আর এক কথা বলি শুন দিয়া মন।
একদিন বীরচন্দ্র গোসাঞি আইলা।
পণ্ডিতের সেবা দেখি সন্তুষ্ট হইলা॥
বিদ্যানন্দে আজ্ঞা দিলা না যাহ ভিক্ষাতে।
ঘরে বসি সুসার হবে তোমার সেবাতে॥
সংক্রান্তি পূর্ণিমায় যাত্রি আইসে সকল।
তাদের ভিক্ষায় পূর্ণ হয় পণ্ডিতের ঘর॥
কেহ জলাধার দেয় সুবর্ণের ঝারি।
রত্নভূষণ কেহ কেহ ভোজনের থালি॥
কাহাকেও আজ্ঞা করেন মন্দির তুমি দেহ।
দিনে দিনে সেবা বাড়ে অপূর্ব্ব কথা এহ॥
নরহরিকে কহে সবে নরহরি-চৈতন্য।
না জানিয়া মূঢ় লোক কহে তাহে অন্য॥
মর্ম্ম না জানিয়া জীব কহে অন্য ভাষ।
যম যাতনা পায় আর হয় সর্ব্বনাশ॥
নরহরি-চৈতন্য হল ইঁহারও আখ্যান।
নরহরি-চৈতন্য শ্রীমহাপ্রভুর নাম॥
শাখা উপশাখা যত ভুবন ভিতরে।
কাহার শকতি তাহা কহিবারে পারে॥
প্রাচীন সেবক মুখে করিয়া শ্রবণ।
অল্পমাত্র শাখাগণের করিল বর্ণন॥
রতিপতিচরণে করিয়ে অভিলাষ।
সরকার-ঠাকুরের শাখা কহে রামগোপালদাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীশ্রীরঘুনন্দনঠাকুর প্রভুর শাখা নির্ণয়
কবি গোপাল দাস
১৬৪৩-১৬৭৬ সময়কালে, রামগোপাল দাস (ভণিতা গোপাল দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত,
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী” গ্রন্থের সঙ্গে প্রকাশিত অন্যান্য
নিবন্ধের অন্তর্ভুক্ত, শাখানির্ণয়, পৃষ্ঠা ২১১।


জয় জয় রঘুনন্দন কন্দর্প অবতার।
রাধাকৃষ্ণের উজ্জ্বল রস ভুবনে বিস্তার॥
রস রসিক হয় আর হয় রসাশ্রয়।
পৃথক হইলে রস পরবশ হয়॥

তথাহি---
রসোহস্তি রসিকোহপাস্তি নাস্তি তত্র রসাশ্রয়ঃ।
রসঃ পরবশশ্চৈব যঃ পরঃ পর এব সঃ॥


বসন্ত-উজ্জ্বল মদন অন্য সখা নয়।
উদ্দীপনালম্বনে রস বাঢ়ে অতিশয়॥
উপাসনা কাণ্ড কন্দর্প ছাড়া নয়।
বশীকরণবিদ্যা কামগায়ত্রী মন্ত্রে কয়॥
কৈশোর মন্ত্রেতে কামবীজের মহিমা।
আগম-তন্ত্রে এই সব বিষয়ের সীমা॥
চৈতন্যের সঙ্গে রঘুনন্দন অবতার।
চৈতন্যের অনুভাব মহাভাবের বিকার॥
কৃষ্ণের অংশরূপে কখন ধরে অঙ্গ।
মহারাসকালে তিঁহ হয়েন অনঙ্গ॥


তথাহি শ্রীশ্রীনিবাসঠক্কুরস্য---
লোকানাং কলিকালঘোরতিমিরৈরাচ্ছাদ্যমানাত্মানা-
মাচণ্ডালমহামহোত্সবকরো যঃ কৃষ্ণসংকীর্ত্তনে।
ভক্তির্ভাগবতী যদুক্তিসুধয়া পুংসাং সমুজ্জৃম্ভতে
সোহয়ং শ্রীরঘুনন্দনো বিজয়তামংশাবতারো হরেঃ॥


অন্তরে প্রকৃতিভাব বাহ্য নটবর।
মহাভাব বিকারে পূর্ণ সব কলেবর॥
রাস নর্ত্তনে তাঁর বালা পড়য়ে ফাটিয়া।
বিরহ গান শুনি বলয়া পড়েত গলিয়া॥
রাধার আবেশে নাচে কেহ নাহি জানে।
সখ্যভাব জানি অবোধ জনেতে বাখানে॥


তথাহি---
কেকা-পুচ্ছশিখণ্ডিনীত্যাদি----
আচার্য ঠাকুর বৃন্দাবন হইতে খণ্ডে আইলা।
রঘুনন্দন-স্বরূপ মদন রায়কে জিজ্ঞাসিলা॥
বৃন্দাবন-কন্দর্প বলি করিলা সিদ্ধান্ত।
তিঁহো অর্থ করিলেন শাস্ত্রের নিতান্ত॥
রঘুনন্দনের শাখা উপশাখা প্রচুর।
কেবল প্রকৃতিভাব পরম মধুর॥
পূর্ব্বরাগ হইতে সব লীলা আস্বাদন।
অনুরাগ সম্ভোগ বিরহ গায়ন॥
রঘুনন্দনের শাখা নয়নানন্দ কবিরাজ।
যার শাখা উপশাখায় ভরিল ভবমাঝ॥
বয়ঃসন্ধি রসে হয় যাহার বর্ণন।
ভাগ্যবান যেই সেই করয়ে স্মরণ॥
শ্রীনিকেতন দাস আদি কবিরাজের শাখা।
সংক্ষেপে কহিল নাম নাহি লেখা জোখা॥
দ্বিতীয় শাখা মহানন্দ কবিরাজ মহাশয়।
যাহার প্রেমের কথা আছে অতিশয়॥
তার এক কথা আছে শুন সাবধানে।
খণ্ড ছাড়ি গৌড়দেশ করিলা গমনে॥
পদ্মায় ডুবিয়া নৌকা যবে গেলা ভাসি।
বক্ষে বৃন্দাবনচন্দ্র তিন দিন উপবাসী॥
ভাসিতে ভাসিতে গেলা পোখরিয়া গ্রাম।
প্রাচীন লোক কহে তথা করিলা বিশ্রাম॥
বৃন্দাবনচন্দ্রের ঘাট যেই স্থানে হয়।
নবীন বৃন্দাবনচন্দ্র তখন তথাই আশ্রয়॥
ঠাকুর লঞা খণ্ডে আসি সেবা আরম্ভিলা।
তার ঘরণী মালিনী সেবা অনেক করিলা॥
দুগ্ধ সরভাজা আর ব্যঞ্জন পরিপাটী।
অদ্যাবধি আছে মন্দিরের ইটমাটী॥
শ্রীমান সেন তাঁর আর শাখা হয়।
শ্রীকৃষ্ণসেবাতে তাঁর প্রীতি অতিশয়॥
বনমালী কবিরাজ আর শাখা হয়।
ঘোরাঘাটে করিলা ত্ঁহ সেবার আশ্রয়॥
একদিন মহোত্সবে দেখি অসুসার।
রঘুনন্দন বলি নারিকেল করিলা সুসার॥
হোরকি ঠাকুরাণী শাখা তাঁর ঘরণী।
অভিশাপে সেবকে ভুত করিলা আপনি॥
গোপালদাস সেবত তাঁর ভুতযোনি পাইয়া।
খণ্ডের বাড়িতে খরচ দিতেন আনিয়া॥
মহাপ্রসাদ খাইয়া বিদায় হইয়া যায়।
খণ্ডের সকল লোক সাক্ষাৎ দেখে তায়॥
আকাইহাটে ছিল শাখা কৃষ্ণদাস ঠাকুর।
বাটীতে বসিয়া পাইল প্রভুর নূপুর॥
আর এক শাখা হয় কবিশেখর রায়।
যাঁর গ্রন্থ পদ অনেক বিদিত সভায়॥
রামচন্দ্র নাম শাখা খণ্ডেতে আছিলা।
অবিশ্বাস করি তেঁহ প্রসাদ খাইলা॥
রামচন্দ্র ঘরণী স্বামীর বিলম্ব দেখিয়া।
অন্ন খাইয়া উচ্ছিষ্ট রাখিল তুলিয়া॥
ক্ষুধার্ত্ত সে রামচন্দ্র ঘরেতে আইলা।
স্ত্রীর অসাক্ষাতে তার উচ্ছিষ্ট খাইলা॥
লজ্জাভিমানে সাতদিন লঙ্ঘন করিয়া।
ঠাকুর বাটীতে উচ্ছিষ্টপাত খাইল চাটিয়া॥
ঠাকুর মারিলা তিঁহ ঘোরাঘাট গেলা।
তাহার পরশে অনেক বৈষ্ণব হইলা॥
কবিরঞ্জন বৈদ্য আছিলা খণ্ডবাসী।
যাহার কবিতা গীত ত্রিভূবন ভাসি॥
তার হয় শ্রীরঘুনন্দনে ভক্তি বড়।
প্রভুর বর্ণনা পদ করিলেন দঢ়॥

পদং যথা---
শ্যাম গৌরবরণ একদেহে ইত্যাদি

গিতেষু বিদ্যাপতিহদ্ বিলাসঃ
শ্লোকেষি সাক্ষাৎ কবি কালিদাসঃ
রূপেষি নির্ভর্ৎসিত পঞ্চবাণঃ
শ্রীরঞ্জনঃ সর্ব্বকলানিধানঃ॥

ছোট বিদ্যাপতি বলি তাহার খেয়াতি।
যাহার কবিতা গানে ঘুচায় দর্গতি॥
পূর্ব্বে কহিয়াছি শাখা চিরঞ্জীব সুলোচন।
খণ্ডবাসী সেন পদ্ধতি দুই জন॥
চিরঞ্জীব ভার্য্যা সতী বৈষ্ণবী সুশীলা।
শিশুতে পিতামহীকে মোর হরিনাম দিলা॥
তাহা সবার পুত্র পৌত্র অনেক হইলা।
সরকার ঠাকুরে সব সমর্পণ কৈলা॥
উপাধি প্রতিষ্ঠা ভয়ে মহান্ত না জানাইলা।
অদ্যাবধি সেই গোষ্ঠীর সেবক রহিলা॥
সেই গোষ্ঠীতে জন্মমাত্র আমার।
হরিভক্তিবিহীন আমি সংশয় ভবপার॥
বিনোদঠাকুর আর কবিরাজ অভিরাম।
গৌরগতি দাসের মুখে শুনিল যেই নাম॥
সেই সকল নামকথা শাখাতে জানাইলা।
শ্রীরঘুনন্দন শাখা সমাপ্তি হইলা॥
এই শাখা বর্ণনা শুনে যেইজন।
সেইজন হয় চৈতন্যকৃপার ভাজন॥
রতিপতি চরণে করিয়ে অভিলাষ।
শাখা-বর্ণনা কহে রামগোপালদাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় গোপীনাথ মদনমোহন
কবি গোপাল দাস
১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, থেকে
নেওয়া। পরিশিষ্ট, প্রথম উচ্ছ্বাস, পদসংখ্যা ২২, পৃষ্ঠা ৩৪০।


.        ॥ ধানশী॥

জয় জয় গোপীনাথ মদনমোহন।
যুগলকিশোর জয় রসিকরমণ॥
জয় রাধাবল্লভ মুরলী অধর।
জয় ব্রজবিনোদ প্রেম সুধাকর॥
মাধব গিরিধর গোপী-চিরহারী।
ললিত ত্রিভঙ্গ নাগর বনোয়ারী॥
রতিসুখসাগর ব্রজসুবিলাসী।
রূপরসায়ন গোকুলবাসী॥
ব্রজপতি বাল লাল মদনায়ক।
প্রমপ্রবীণ প্রেমসুখদায়ক॥
শ্যামের বামে কি প্যারী শোহে।
শ্রীগোপালদাস কি মন মোহে॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিদানের বন্ধু তুমি শুনিয়াছি হরি
কবি গোপাল দাস
১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, থেকে নেওয়া।
পরিশিষ্ট, প্রথম উচ্ছ্বাস, পদসংখ্যা ২৯, পৃষ্ঠা ৩৪৩।


॥ পাহিড়া॥

নিদানের বন্ধু তুমি শুনিয়াছি হরি।
মুঞি পাপী দুরাচার                                     সাধনভজনহীন
পরুণাম ভাবি এবে মরি॥ ধ্রু॥
ঘোর বৃদ্ধকাল আইল                                   অন্তদন্ত সব গেল
দুর্ব্বাসনা গেল না কেবল।
ধবল হইল কেশ                                  তমু অঙ্গের করি বেশ
মুই প্রভু অবুঝ পাগল॥
জানি এ মাটির দেহ                                মাটিতেই ঘুরি ফিরি
অন্তিমেও হৈয়া যাবে মাটি।
কিন্তু কি বিষম ভুল                                    চন্দ্ন সুগন্ধ তৈলে
তাহার করিয়ে পরিপাটী॥
জনম আঁধল যেই                                   সে যদি গর্ত্তেতে পড়ে
ধরি তুলে যে থাকয়ে কাছে।
নয়ান থাকিতে যেই                                    ভবকূপে ডুবে মরে
তার আর কি সহায় আছে॥
কিন্তু হরি ভবরোগে                                     তব নাম-মহৌষধি
শাস্ত্র আর সাধু মুখে শুনি।
দিয়াছি তোমাতে ভার                                গোপালেরে কর পার
দিয়া হরি চরণতরণী॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর