কবি গোপাল দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
তেজ মন হরি বিমুখনকি সঙ্গ
কবি গোপাল দাস
১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, থেকে নেওয়া।
পরিশিষ্ট, প্রথম উচ্ছ্বাস, পদসংখ্যা ৫৬, পৃষ্ঠা ৩৪৯।


॥ সারঙ্গ॥

তেজ মন হরি বিমুখন্ কি সঙ্গ।
যাক সঙ্গহি                                 কমতি উপজতহি
ভজন কি পড়ত বিহঙ্গ॥ ধ্রু॥
সতত অসত পদ                            লেই যো যায়ত
ঊপজত কামিনী সঙ্গ।
শমন-দূত-পর-                                    মায়ু পরখত
দূর সঞে নেহারই রঙ্গ॥
অতএ সে হরিনাম                             সার পরম মধু
পান করহ ছোড়ি ভঙ্গ।
হরিচরণ-সরো-                                রুহে মাতি রহুঁ
গোপালদাস-মন ভৃঙ্গ॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিকুঞ্জনিবাসে মহারাসরসে, রসিকশেখর যে
কবি গোপাল দাস
১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, থেকে
নেওয়া। পরিশিষ্ট, প্রথম উচ্ছ্বাস, পদসংখ্যা ৫৬, পৃষ্ঠা ৩৫২।


.                ॥ সুহই॥

নিকুঞ্জনিবাসে মহারাসরসে, রসিকশেখর যে।
সো রাধাবল্লভ, জগত-দুর্লভ, আমার বল্লভ সে॥
যার বাঁরা আঁখি, গোপী হিয়া দেখি, হানয়ে তিখিনি শর।
সো গোপিকেশ্বর, বিশ্বের ঈশ্বর, সেই মোর প্রাণেশ্বর॥
গোপীকুচকুম্ভে, যো কর পল্লবে, হোয়ত পরম শোভা।
কাটে ভববন্ধ, তছু পদদ্বন্দ্ব, মুনির মানসলোভা॥
যো পহুঁ গোকুলে গোপীর দুকুলে, চোরাওল হাসি হাসি।
এ গোকুলদাসে, তার পদ আশে, ধ্যায়ায়ে দিবস নিশি॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বড় দয়াল ঠাকুর মোর বৈষ্ণব গোঁসাই
কবি গোপাল দাস
১৯৩৪ সালে জগবন্ধু ভদ্র সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, থেকে
নেওয়া। পরিশিষ্ট, প্রথম উচ্ছ্বাস, পদসংখ্যা ৭১, পৃষ্ঠা ৩৫২।


.        ॥ সুহই॥

বড় দয়াল ঠাকুর মোর বৈষ্ণব গোঁসাই।
কলিভয় তরাইতে আর কেহ নাই॥
গুরু গোসাঞি বৈষ্ণব গোসাঞী ভাল অবতার।
এমন করুণানিধি না হইবে আর॥
বৈষ্ণব গোসাঞীর ভাই অপার মহিমা।
আপনেই প্রভু তারে দিতে নারে সীমা॥
বৈষ্ণব দুয়ারে যদি হইতাম কুকুর।
পাতের এঁঠো দিয়া তরাইত বৈষ্ণব ঠাকুর॥
জাতি কুল অভিমানে হারাইলাম নিধি।
হেন অবতারে মো বঞ্চিত কৈল বিধি॥
গোপালদাসের প্রভু দুকুল পাথার।
চুলে ধরি লাথি মারি মোরে কর পার॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
থির বিজুরী বরণ গোরী
কবি গোপাল দাস
১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৭২। এই জনপ্রিয় পদটি
চণ্ডীদাসের নামে প্রচলিত ছিল।


শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ


থির বিজুরী                                  বরণ গোরী
পেখলুঁ ঘাটের কূলে।
কানড়া ছান্দে                                কবরী বান্ধে
নব মল্লিকার ফুলে॥
সই মরম কহিয়ে তোরে।
আড়নয়নে                                   ঈষৎ হাসনে
ব্যাকুল করিল মোরে॥
ফুলের গেরুয়া                              ধরয়ে লুফিয়া
সঘনে দেখায় পাশ।
উচ যে কুচে                                   বসন ঘুচে
মুচকি মুচকি হাস॥
চরণ যুগল                                   মল্ল তোড়ল
সুন্দর যাবক রেখা।
গোপাল দাস কয়                           পাবে পরিচয়
পালটি হইলে দেখা॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লুনির পুথলি নব বালা
কবি গোপাল দাস
১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৭৩ ।

.      নবোঢ়া মিলন

.     ॥ তিরোতা॥

লুনির পুথলি নব বালা।
কোমল শিরিসকি মালা॥
মাধব নিবেদলুঁ তোয়।
মরিয়াদ রাখবি মোয়॥
ঘুমলে জাগা নাহি যায়।
নিজপতি ছায়া নাহি চায়॥
বলে ছলে আনলুঁ কান।
অলপে দেয়বি সমাধান॥
দুতিক কাতর ভাষ।
কহতহিঁ গোপাল দাস॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবঘন বরণ উজোর
কবি গোপাল দাস
১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৭৭৩ ।


.     ॥ তিরোতা॥

নবঘন বরণ উজোর।
হেরি লুব্ধ মন মোর॥
তুয়া রস পাওব আশে।
মাধবিলতা পরকাশে॥
তোহারি পাণি যব পাব।
গিরি যুগ আনল নিভাব॥
নিতম্বে মিলব যব পাণি।
তব পরকাশই অম্বর জানি॥
গোপাল দাসের চিতে ধন্দ।
ভাবই সামরূচন্দ॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাও গো ভবনে বাণী যাও গো ভবনে
কবি গোপাল দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”  গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ২১।


.        ॥ ভাটিয়ারী॥

যাও গো ভবনে বাণী যাও গো ভবনে।
এনে দিব তোমার গোপাল বেলি অবসানে॥
লইয়া যাইছিতোমার গোপাল রাখিববসাইয়া।
আমরা ফিরাব ধেনু চাঁদমুখ চাইয়া॥
লইয়া যাইতে তোমার গোপাল পাই বড় সুখ।
বেণু রবে ফিরে ধেনু এবড় কৌতুক॥
একদিন দাবানলে মরিতাম পুড়িয়া।
তাহাতে রাখিল ভাইয়া কেমন করিয়া॥
যেদিন যেমত করি গোপালে তাহা জানে।
ক্ষুধা লাগিলে অন্ন কোথা হইতে আনে॥

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কালিয় দমন জগতে তুয়া ঘোষই
কবি গোপাল দাস
( কবি গোবিন্দদাসের নামে ও ভণিতায় প্রচলিত পদ )
১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, পৃষ্ঠা ৫৯০। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়,
সুকুমার সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ-রসকল্পবল্লী” গ্রন্থের
মুখবন্ধে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, “কালিয় দমন জগতে তুয়া ঘোষই সহচরি শুনই কানে---
গোপালদাসের এই পদটি গোবিন্দদাসের নামে চলিতেছে”। এই জনপ্রিয় পদটি গোপাল দাসের রচনা হলেও
গোবিন্দদাসের নামে চলছে। আমরা কবিতাটি আমাদের উত্স-সূচীতে দেওয়া কোনো গ্রন্থে বা সংকলনেই
গোপালদাসের ভণিতায় পাইনি। তাই পদটি আমরা হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন থেকেই মিলনসাগরে তুলে দিচ্ছি। এখানেও গোবিন্দদাসের ভণিতাতেই পদটি দেওয়া হয়েছিল
১৯৪৬ সালে, সেই সংকলনের প্রকাশনার সময়ে।


॥ গান্ধার॥

কালিয় দমন                                 জগতে তুয়া ঘোষই
সহচরি শুনইতে কানে।
তুয়া সঞে বাদ                                করই ধনি আওত
মনমথ চড়ই ঝাঁপানে॥
মাধব অতয়ে কহিয়ে তুয়া লাগি।
ত্রিবলিক মাঝে                                   লোম ভুজঙ্গিনি
হেরইতে তুহুঁ জনি ভাগি॥
নয়ন কমলপর                                   যগল ভুজগবর
কাজল গরল উগারি।
মদন ধন্বন্তরি                                 আপে যব আওব
সো বিখ তবহি না সারি॥
বেণি ভুজগবর                                 পিঠ পর দোলত
চিরদিন ভুখিল পিয়াসে।
শুনইতে নাগদমন                                 তনু কম্পিত
কহকহিঁ গোবিন্দ দাসে॥


ব্যাখ্যা -
কানাই কালিয়নাগ দমনকারী বলিয়া জগতের লোক তোমার নাম ঘোষণা করে। আমাদের সহচরী শ্রীরাধা
তাহা কানে শুনিয়া তোমার সঙ্গে বিবাদ করিবার জন্য আসিতেছে। সখী মদনের ঝাঁপানেচড়িয়াছে (
সর্পবিদ্যাবিশারদ বেদিয়াগণ পরস্পরে সাপের খেলা দেখাইতে যে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়, তাহার নাম ঝাঁপান।
দুইটি মাচার উপর দুই পক্ষ বসিয়া দুই পক্ষ খেলা দেখায় )। মাধব, অতএব তোমার জন্যই বলিতেছি,
সখীর ত্রিবলী মধ্যস্থিত রোম ভুজঙ্গিনী দেখিয়া তুমি যেন পলাইও না। নয়ন-কমলের সে বিষ উপশমিত
করিতে পারিবে না।বেণীরূপ সর্পশ্রেষ্ঠ সখীর পিঠের উপর দুলিতেছে। সে তো বহুদিন হইতেই ক্ষুধায়
আকুল আর পিপাসায় ব্যাকুল হইয়া আছে। গোবিন্দ দাস বলিতেছেন শুনিতেই নাগদমন কৃষ্ণের দেহ
কাঁপিতে লাগিল। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”।

.           *************************            
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর