কবি গতিগোবিন্দ বা গোবিন্দগতি-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
নাচে নিত্যানন্দ ভুবন-আনন্দ
কবি গতি গোবিন্দ
আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-
বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩১৮।

॥ মল্লার॥

নাচে নিত্যানন্দ                                  ভুবন-আনন্দ
বৃন্দাবন-গুণ শুনিয়া রে।
বাহু-যুগ তুলি                                  বলে হরি হরি
চলত মন্থর ভাতিয়া রে॥
কিবা সে মাধুরি                                বচন-চাতুরি
গদাধর-মুখ হেরিয়া রে।
মাধব গোবিন্দ                                 শ্রীবাস মুকুন্দ
গাওত ও রস ভাবিয়া’ রে॥
নাচে নিত্যানন্দচাঁদ রে।
কহে গদগদ                                    চলে পদ আধ
পাতিয়া প্রেমের ফাঁদ রে॥ ধ্রু॥
ও চাঁদ-বদনে                                      হাস সঘনে
অরুণ লোচন-ভঙ্গিয়া রে।
কুসুম-হার                                      হিয়ার উপর
সুঘড় রঙ্গিয়া সঙ্গিয়া রে॥
রাতুল চরণে                                      রতন নূপুর
রঙ্গের নাহিক ওর রে।
মনের আনন্দে                                শ্রীনিবাস-সুত
গতিগোবিন্দ-চিত ভোর রে॥

ই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”-এর ১৫৩-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য।

॥ পাহিড়া॥

নাচে নিত্যানন্দ                                ভুবন-আনন্দ
বৃন্দাবন-গুণ শুনিয়া।
বাহু-যুগ তুলি                                  ঘনে বলে হরি
চলত মোহন ভাতিয়া॥
কিবা সে মাধুরী                                   বচন-চাতুরী
রহ গদাধর হেরিয়া।
মাধব গৌরীদাস                              মুকুন্দ শ্রীনিবাস
গাওত সময় বুঝিয়া॥
নাচে নিত্যানন্দচাঁদ রে।
কহে গদ গদ                                   চলে আধ পদ
ধরি গদাধর-হাত রে॥ ধ্রু॥
ও চান্দ-বদনে                                 হাস ঘনে ঘনে
অরুণ-লোচন-ভঙ্গিয়া।
কুসুম-হার                                      হৃদি দোলত
সুঘড় সহচর রঙ্গিয়া॥
রাতুল চরণে                                  মঞ্জীর বাজত
রঙ্গের নাহিক ওর।
মনের আনন্দে                                শ্রীনিবাস-সুত
এ গতিগোবিন্দ ভোর॥

ই পদটি ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নাচে নিত্যানন্দ                                ভুবন আনন্দ
বৃন্দাবন গুণ শুনিয়া রে।
বাহুযুগ তুলি                                  বলে হরি হরি
চলন মন্থর ভাতিয়া রে॥
কিবা সে মাধুরী                                বচন চাতুরী
গদাধর মুখ হেরিয়া রে।
মাধব গোবিন্দ                                শ্রীবাস মুকুন্দ
গাওত ও রস ভাবিয়া রে॥
নাচে নিত্যানন্দ চাঁদরে।
কহে গদগদ                                    চলে আধপদ
পাতিয়া প্রেমের ফাঁদ রে॥ ধ্রু॥
ও চাঁদবদনে                                     হাস সঘনে
অরুণ লোচন ভঙ্গিয়া রে।
কুসুমহার                                      হিয়ার উপর
সুঘড় রঙ্গিয়া সঙ্গিয়া রে॥
রাতুল চরণে                                    রতন নূপুর
রঙ্গের নাহিক ওর রে।
মনের আনন্দে                                শ্রীনিবাসসুত
গতিগোবিন্দ ভোর রে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৬৬-পৃষ্ঠায় এই রুপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিন্ত্যানন্দচন্দ্র

॥ পাহিড়া॥

নাচে পহুঁ নিত্যানন্দ                        ভুবন-আনন্দ-কন্দ
বৃন্দাবন গুণ শুনিয়া।
বাহু-যুগ তুলি                                 সঘনে বলে হরি
চলত মন্থর ভাতিয়া॥
কিবা সে মাধুরী                                  বচন-চাতুরী
রহত গদাধর হেরিয়া।
মাধব গৌরীদাস                                মুকুন্দ শ্রীবাস
গাওত সময় বুঝিয়া॥
নাচে নিত্যানন্দ চান্দ রে।
প্রেমে গদগদ                                   চলে আধ পদ
ধরিয়া গদাধর হাত রে॥ ধ্রু॥
ও চান্দ বদনে                                 হাস ঘনে ঘনে
অরুণ লোচন-ভঙ্গিয়া।
কুসুম-হার                                        হৃদি দোলত
সুঘড় সহচর সঙ্গিয়া॥
রাতুল চরণে                                    মঞ্জীর বাজত
রঙ্গের নাহিক ওর।
মনের আনন্দে                                শ্রীনিবাস সুত
এ গতি গোবিন্দ ভোর॥

.                       *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই-তনু শোভার ভাণ্ডার
কবি গতিগোবিন্দ
১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১৩৭-
পৃষ্ঠা। পদটি তিনি পেয়েছিলেন গাঁড়াদহের পুথি থেকে।

[ মাথুর-সখী-সংবাদ ]

॥ বরাড়ী॥

রাই-তনু শোভার ভাণ্ডার।
তোহারি শরণ-জনে                                      লূটল জগ-জনে
এ তো নহে ধরম-বিচার॥ ধ্রু॥
কপিলা লইল কেশ                                   বিদ্যাধরী নিল বেশ
মুখ-শোভা নিল শশি-কলা।
মৃগী নিল দুটি আঁখি                                ভুরু নিল খঞ্জন-পাখী
মৃদু হাসি লইল চপলা॥
বিম্ব লইল অধর                                        নাসা নিল খগ-বর
দন্ত জ্যোতি লইল মুকুতা।
কাঞ্চনে হরিল বর্ণ                                        গৃহিণী লইল কর্ণ
তোমার রাইয়ের এতেক বিতথা॥
শ্রীকটি লইল সিংহ                                    কুচ নিল গজ কুম্ভ
ভুজ নিল পদ্মের মৃণালে।
রাম-রম্ভা নিল উরু                                       চলন-মাধুরী চারু
রাজ-হংসে চুরি কৈল ভালে॥
রাধা ব্রজে একা ছিল                               সভে মিলি লুটি নিল
শুন শুন নিঠুর মাধাই।
শ্রীগতিগোবিন্দ ভণে                              ধরি তোমার শ্রীচরণে
একবার চল ব্রজে যাই॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৬৬-পৃষ্ঠায় এই রুপে দেওয়া রয়েছে। এই পদের প্রথম পংক্তিটি এতটাই ভিন্ন, যে আমরা এই
পদটিকে আলাদা একটি পদ হিসেবেও রাখছি, এই পদের সঙ্গে পরিচিত পাঠকদের সুবিধার্থে।

মাথুর

॥ তথারাগ॥ ( গান্ধার )

মাধব তোঁহে কি বোলব আর।
জগতে লোটায়লি                                             ধনিক কলেবর
শোভা রতন ভাণ্ডার॥
চমরি লইল কেশ                                         বিদ্যাধরী নিল বেশ
অঙ্গ শোভা নিল শশিকলা।
মৃগী নিলে দুটি আঁখি                                ভুরু নিলে খঞ্জন পাখি
মৃদু হাসে লইল চপলা॥
বিম্ব নিল ওষ্ঠাধর                                         নাসা নিল খগবর
দশন জ্যোতি লইল মুকুতা।
গৃধিনী লইল কর্ণ                                            চম্পক লইল বর্ণ
তোমার রাধার এতেক বিতথা॥
কুচ যে কনয়া গিরি                                      শ্রীফল করিল চুরি
ভুজ নিল পঙ্কজ মৃণালে।
রামরম্ভা জিনি ঊরু                                        চলন মাধুরী চারু
রাজহংস চুরি করিল ভালে॥
ব্রজে রাধা একা পাইলা                              সবে মেলি লুটি লইলা
শুন শুন নিঠুর মাধাই।
এ গতিগোবিন্দ ভণে                                 ধরি তোমার শ্রীচরণে
একবার চল ব্রজে যাই॥

.                       *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাধব তোঁহে কি বোলব আর
কবি গতিগোবিন্দ
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৬৬-
পৃষ্ঠায় এই রুপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর

॥ তথারাগ॥ ( গান্ধার )

মাধব তোঁহে কি বোলব আর।
জগতে লোটায়লি                                          ধনিক কলেবর
শোভা রতন ভাণ্ডার॥
চমরি লইল কেশ                                      বিদ্যাধরী নিল বেশ
অঙ্গ শোভা নিল শশিকলা।
মৃগী নিলে দুটি আঁখি                                ভুরু নিলে খঞ্জন পাখি
মৃদু হাসে লইল চপলা॥
বিম্ব নিল ওষ্ঠাধর                                         নাসা নিল খগবর
দশন জ্যোতি লইল মুকুতা।
গৃধিনী লইল কর্ণ                                           চম্পক লইল বর্ণ
তোমার রাধার এতেক বিতথা॥
কুচ যে কনয়া গিরি                                     শ্রীফল করিল চুরি
ভুজ নিল পঙ্কজ মৃণালে।
রামরম্ভা জিনি ঊরু                                      চলন মাধুরী চারু
রাজহংস চুরি করিল ভালে॥
ব্রজে রাধা একা পাইলা                             সবে মেলি লুটি লইলা
শুন শুন নিঠুর মাধাই।
এ গতিগোবিন্দ ভণে                                 ধরি তোমার শ্রীচরণে
একবার চল ব্রজে যাই॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১৩৭-পৃষ্ঠা। পদটি তিনি পেয়েছিলেন গাঁড়াদহের পুথি থেকে। এই পদের প্রথম পংক্তিটি
এতটাই ভিন্ন, যে আমরা এই পদটিকে আলাদা একটি পদ হিসেবেও রাখছি, এই পদের সঙ্গে পরিচিত
পাঠকদের সুবিধার্থে।

[ মাথুর-সখী-সংবাদ ]

॥ বরাড়ী॥

রাই-তনু শোভার ভাণ্ডার।
তোহারি শরণ-জনে                                       লূটল জগ-জনে
এ তো নহে ধরম-বিচার॥ ধ্রু॥
কপিলা লইল কেশ                                   বিদ্যাধরী নিল বেশ
মুখ-শোভা নিল শশি-কলা।
মৃগী নিল দুটি আঁখি                                ভুরু নিল খঞ্জন-পাখী
মৃদু হাসি লইল চপলা॥
বিম্ব লইল অধর                                      নাসা নিল খগ-বর
দন্ত জ্যোতি লইল মুকুতা।
কাঞ্চনে হরিল বর্ণ                                      গৃহিণী লইল কর্ণ
তোমার রাইয়ের এতেক বিতথা॥
শ্রীকটি লইল সিংহ                                   কুচ নিল গজ কুম্ভ
ভুজ নিল পদ্মের মৃণালে।
রাম-রম্ভা নিল উরু                                     চলন-মাধুরী চারু
রাজ-হংসে চুরি কৈল ভালে॥
রাধা ব্রজে একা ছিল                                সভে মিলি লুটি নিল
শুন শুন নিঠুর মাধাই।
শ্রীগতিগোবিন্দ ভণে                              ধরি তোমার শ্রীচরণে
একবার চল ব্রজে যাই॥

.                       *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিতাই-সুন্দর অবনী-উজোর
কবি গতিগোবিন্দ
১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৬৬-
পৃষ্ঠা। এই পদের শেষ চার পংক্তি “নিতাইর নিছনি লইয়া মরি” পদের শেষ চার পংক্তির সঙ্গে মিলে যায়।

॥ গান্ধার॥

নিতাই-সুন্দর                                    অবনী-উজোর
চরণে নূপুর বাজে।
গৌর-অঙ্গ হেরি                                   পূরব স্মওরি
যেন বৃন্দাবন মাঝে॥
নিতাইর নিছনি লইয়া মরি।
ছাড়ি বৃন্দাবন                                     নিকুঞ্জ-ভবন
অতি-দুরাচার-তারী॥ ধ্রু॥
বসুধা জাহ্নবা                                   সঙ্গেতে লইয়া
শীতল-চরণ-রাজে।
হেলায় তারিলা                                এ গতি গোবিন্দে
এ তিন লোকের মাঝে॥

.                       *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিতাইর নিছনি লইয়া মরি
কবি গতিগোবিন্দ
১৯৪৩ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-
তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৭৮-পৃষ্ঠা। এই পদের শেষ চার পংক্তি “নিতাই-সুন্দর অবনী-উজোর”
পদের শেষ চার পংক্তির সঙ্গে মিলে যায়।

॥ ধানশী॥

নিতাইর নিছনি লইয়া মরি।
ছাড়ি বৃন্দাবন                                      নিকুঞ্জভবন
অতি দুরাচার তারি॥ ধ্রু॥
ব্রজগোপীরসে                                   মত্ত যেই রাসে
ছিলেন রসিক রাম।
নিতাই এবে সে                                 ভিখারীর বেশে
যাচে সভে হরিনাম॥
বসুধা জাহ্নবী                                     সঙ্গেতে লইয়া
শীতর চরণ রাজে।
হেলায় তারিলা                                এ গোতিগোবিন্দ
এ তিনলোকের মাঝে॥

.                       *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর