| কবি গৌর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| সখি মাধব নিকট গমন করি সখি তুহুঁ মাধব নিকট গমন করি ভণিতা গৌর কবি গৌরদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ১৩শ পল্লব, অভিসারোত্কণ্ঠা, ১০২৫-পদসংখ্যা। অত্র সম্ভোগপদানি গেয়ানি। পুনশ্চ জ্যোত্সাভিসারো যথা। ॥ বেলোয়ার॥ সখি মাধব নিকট গমন করি তুরিতহিঁ এমতি করবি চতুরাই। যদবধি গগনে উদিত নহে হত-বিধু হরি অভিসারবি সময় জানাই॥ মদন-দহনে তনু অবিরত দাহই পরাণক দুখ তুহুঁ জানসি চীত। ইহ তাহে নাহি জানাওবি অন্তর হাম যাহে কুলবতি-পথে উপনীত॥ এত শুনি দূতি চলল অবিলম্বনে আসি ভেল উপনিত কানুক পাশ। নয়ন-তরঙ্গে সকল সমুঝায়ল পুন হেরি কুমুদ কহে পরকাশ॥ কুমুদিনি গুণ পরি- মলে জগ জীতল কাহে বিলমায়ত শ্যামল ভৃঙ্গ। দূতিক বচনে চলল বরনাগর তুরতহি গৌর হৃদয় পরসন্ন॥ টীকা - ৯ - ১৬। “এত” ইত্যাদি। দূতী ঐ কথা শুনিয়া অবিলম্বে চলিলেন এবং শ্রীকৃষ্ণের নিকট আসিয়া উপস্থিত হইলেন ; (তিনি) নয়নের চঞ্চল ইঙ্গিত দ্বারা তাঁহার সকল অভিপ্রায় শ্রীকৃষ্ণকে অবগত করাইলেন ; পুনশ্চ কুমুদের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া স্পষ্টভাবে বলিলেন --- ‘কুমুদিনী তাহার গুণ ও সৌরভ দ্বারা জগৎ জয় করিয়াছে,---(এ অবস্থায়) শ্যামবর্ণ ভৃঙ্গ কেন বিলম্ব করিতেছে ?’ দূতীর এই বাক্যে নাগর-শিরোমণি সত্বর (শ্রীরাধার সঙ্কেত-কুঞ্জে) গমন করিলেন ; (ইহাতে সখী-স্থানীয় পদকর্ত্তা) গৌরের হৃদয় আনন্দিত হইল। ---সতীশচন্দ্র রায়, “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতী প্রেরণ ॥ বেলোয়ার॥ সখি তুঁহু মাধব নিকট গমন করি তুরিতহিঁ এমতি করবি চতুরাই। যদবধি গগনে উদিত নহে সো-বিধু- হরি অভিসারবি সময় জানাই॥ মদন দহনে তনু অবিরত দাহই পরাণক দুখ তুহুঁ জানসি চীত। ইহ তাহে নাহি জানাওবি অন্তর হাস যাহে কুলবতি পথে উপনীত॥ এত শুনি দুতি চলল অবিলম্বনে আসি ভেল উপনিত কানুক পাশ। নয়ন তরঙ্গে সকল সমুঝায়ল কহে পুন হেরি কুমুদ পরকাশ॥ কুমুদিনি গুণ পরি- মলে জগ জীতল কাহে বিলমায়ত শ্যামল ভৃঙ্গ। দূতিক বচনে চলল বরনাগর তুরিতহি গৌর চলল তছু সঙ্গ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ফুলক গেন্দু লেই সব সখিগণ ভণিতা গৌরদাস কবি গৌরদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৭শ পল্লব, ফুল-দোল, ১৫২৭-পদসংখ্যা। ॥ কল্যাণী॥ ফুলক গেন্দু লেই সব সখিগণ ডারয়ে শ্যামক অঙ্গে। আওত শ্যাম সুঘড় রণ-পণ্ডিত বটু সূবল করি সঙ্গে॥ অপরূপ রাইক কেলি। দূরহিঁ তাকি গেন্দু পেলি মারয়ে শ্যাম-অঙ্গে সখি মেলি॥ ধ্রু॥ রোখলি তহিঁ রণ- রসিক-শিরোমণি ফূল ধনুক লেই হাত। শত শত গেন্দু এক বেড়ি ডারয়ে সবহুঁ সখীগণ মাথ॥ যূথহি যূথ রমণি ভেল একযুথ শ্যামক অঙ্গে পড়য়ে ফুলরাশি। ফুল-ধনু ছোড়ি করহিঁ কর বারউ গৌরদাস ইহ রস পরকাশি॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী কল্যাণী॥ তাল দশকোশী॥ ফুল গেন্দু লেই সব সখিগণ ডারত এ শ্যামকো অঙ্গে। আয়ত শ্যাম সুরত রণপণ্ডিত বটু সূবল করি সঙ্গে॥ অপরূপ রাইক কেলি। দূরহি তাকি গেন্দু ফেলি মারয়ে শ্যাম অঙ্গে সখী মেলি॥ ধ্রু॥ রোখলি তহি রণ রসিক শিরোমণি ফুলধনুক লেই হাথে। শত শত গেন্দু এক বারে ডারই সবহুঁ সখীগণ মাথে॥ যূথহি সমূহ রমণী ভেল এক যুথ শ্যামক অঙ্গে পড়এ ফুলরাশি। ফুলধনু ছোড়ি করহি কর বারই গৌরদাস হোই পরকাশি॥ এই পদটি নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণী - জপতাল॥ ফুল গেন্দু লেই সব সখীগণ ডারয়ে শ্যামক অঙ্গে। আওত শ্যাম সুঘড় রস পণ্ডিত বটু সুবল করি সঙ্গে॥ অপরূপ রাইক কেলি। দূরহি তাকি গেন্দু ফেলি মারয়ে শ্যাম অঙ্গে সখী মেলি॥ ধ্রু॥ রোখলি তহি রণ, রসিক শিরোমণি ফুলধনুক লেই হাত। শত শত গেন্দু একবেরি ডারয়ে সবহু সখিগণ সাথ॥ যূথ হি যূথ রমণী ভেল এক যূথ শ্যামক অঙ্গে ফুলরাশি। ফুল ধনু ছাড়ি করহি কর বারঙ গৌর দাস ইহ রস পরকাশি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ফুল দোল ॥ কল্যাণী॥ ফুলক গেন্দু লেই সব সখিগণ ডারয়ে শ্যামক অঙ্গে। আওত শ্যাম সুঘড় রণ-পণ্ডিত বটু সূবল করি সঙ্গে॥ অপরূপ রাইক কেলি। দূরহিঁ তাকি গেন্দু ফেলি মারয়ে শ্যাম-অঙ্গে সখি মেলি॥ ধ্রু॥ রোখলি তহিঁ রণ- রসিক শিরোমণি ফুল ধনুক লেই হাত। শত শত গেন্দু এক বেড়ি ডারয়ে সবহুঁ সখীগণ মাথ॥ যূথহি যূথ রমণি ভেল একযুথ শ্যামক অঙ্গে পড়য়ে ফুলরাশি। ফুল ধনু ছোড়ি করহিঁ কর বারউ গৌরদাস ইহ রস পরকাশি॥ এই পদটি সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী কল্যাণী - তাল তেওট॥ ফুলক গেন্দু লেই, সব সখীগণ, ডারয়ে শ্যামক অঙ্গে। আওল শ্যাম, সুঘড় রণ পণ্ডিত, বটু সুবল করি সঙ্গে॥ অপরূপ রাইক কেলি। দূরহি তাকি, গেন্দু ফেলি মারয়ে, শ্যাম-অঙ্গে সখি মেলি॥ রোখলি তহিঁরণ, রসিক-শিরোমণি, ফুল ধনুক লেই হাত। শত শত গেন্দু, একবেড়ি ডারয়ে, সবহু সখীগণ মাথ॥ যূথহি যূথ রমণী, ভেল এক যূথ, শ্যামক অঙ্গে পড়য়ে ফুল রাশি। ফুল ধনু ছোড়ি, করহি কর বা রঙ্গ, গৌরদাস ইহ রস পরকাশি॥ ভাবার্থ - ফুলের স্তবক প্রস্তুত করিয়া সকল গোপাঙ্গনা শ্যাম অঙ্গেফেলিয়া দিতেছেন। শ্রীমতী রাধারাণী আবার দূর হইতে লক্ষ্য করিয়া শ্যাম অঙ্গে ফেলিতেছেন। রস পণ্ডিত কৃষ্ণচন্দ্র ফুলের ধনুক দ্বারা তাহা রোধ করিতেছেন।---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধরণী-শয়নে ঝরয়ে নয়নে ভণিতা গৌরদাস, গৌরীদাস কবি গৌরদাস দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কবি গৌরীদাসের পাতাতেও দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ ধরণীশয়নে ঝরএ নয়ন সঘনে কাপএ অঙ্গ। চম্পক বরণ তাপে মলিন হৃদয়দহ অনঙ্গ॥ কিছু করুণা করহ কানাই। তোহারি কটাক্ষশরে জর জর অতি খিনতনু রাই॥ ধ্রু॥ এ দিন যামিনী জাগিয়া কামিনী জপিয়া তোঁহারি নাম। না জানিএ কিয়ে ব্যাধি হইল স্বাস বহে অবিরাম॥ সব সখীগণ করয়ে রোদন কারণ কিছু না জানি। গৌরদাস বিধি রচে মহৌষধি দেবের আদেশ জানি॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৬১-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথিতেও সংকলিত হয়েছে। এখানে ভণিতা “গৌরীদাস”। ॥ শ্রীরাগ॥ ধরণী-শয়নে ঝরয়ে নয়নে সঘনে কাঁপয়ে অঙ্গ। চম্পক-বরণ তাপে মলিন হৃদয় দহ অনঙ্গ॥ কিছু করুণা করহ কানাই। তোহারি কটাখ- শরে জর জর অতি ক্ষীণ-তনু রাই॥ এ দিন যামিনী জাগিয়া কামিনী জপিয়া তোহারি নাম। না জানিয়ে কিয়ে বেয়াধি হইল শ্বাস বহে অবিরাম॥ সব সকাগণ করয়ে রোদন কারণ কিছু না জানি। গৌরীদাস বিধি রচে মহৌষধি গেবের আবেশ মানি॥ পাঠান্তর - সতীশচন্দ্র রায়ের দ্বারা সংগৃহীত পদকল্পতরুর ঘ-পুথিতে “গৌরীদাস” স্থলে “গৌরদাস” রয়েছে। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ ॥ শ্রীরাগ॥ ধরণী-শয়নে ঝরয়ে নয়নে সঘনে কাঁপয়ে অঙ্গ। চম্পক-বরণ আতপে মলিন হৃদয় দহ অনঙ্গ॥ কিছু করুণা করহ কানাই। তোহারি কটাখ- শরে জর জর অতি ক্ষীণ-তনু রাই॥ এ দিন যামিনী জাগিয়া কামিনী জপিয়া তোহারি নাম। না জানিয়ে কিয়ে বেয়াধি হইল শ্বাস বহে অবিরাম॥ সব সখীগণ করয়ে রোদন কারণ কিছু না জানি। গৌরীদাস বিধি রচে মহৌষধি দেবের আবেশ মানি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি তুঁহু মাধব নিকট গমন করি ভণিতা গৌর কবি গৌর দাস ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯০-পৃষ্ঠা। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতী প্রেরণ ॥ বেলোয়ার॥ সখি তুঁহু মাধব নিকট গমন করি তুরিতহিঁ এমতি করবি চতুরাই। যদবধি গগনে উদিত নহে সো-বিধু- হরি অভিসারবি সময় জানাই॥ মদন দহনে তনু অবিরত দাহই পরাণক দুখ তুহুঁ জানসি চীত। ইহ তাহে নাহি জানাওবি অন্তর হাস যাহে কুলবতি পথে উপনীত॥ এত শুনি দুতি চলল অবিলম্বনে আসি ভেল উপনিত কানুক পাশ। নয়ন তরঙ্গে সকল সমুঝায়ল কহে পুন হেরি কুমুদ পরকাশ॥ কুমুদিনি গুণ পরি- মলে জগ জীতল কাহে বিলমায়ত শ্যামল ভৃঙ্গ। দূতিক বচনে চলল বরনাগর তুরিতহি গৌর চলল তছু সঙ্গ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |