কবি গৌরদাস - তাঁর জন্ম-মৃত্যু সম্বন্ধে সঠিক কোনো তথ্য জানা নেই। কিন্তু শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ৩৭৭-পদসংখ্যার “এতহুঁ বচন কহ মানিনি রাই” ভণিতায় রয়েছে যে তিনি যদুনন্দনের ভক্ত বা শিষ্য ছিলেন।
কহে যদুনন্দন দাসক দাস। গৌরদাস তহিঁ করু আশোয়াস॥
যদুনন্দন ছিলেন শ্রীনিবাস আচার্য্যের কন্যা হেমলতা ঠাকুরাণীর শিষ্য। কৃষ্ণদাস কবিরাজের গোবিন্দ লীলামৃত গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেছিলেন যদুনন্দন দাস। গ্রন্থের শেষে তাঁর পরিচয়ে লিখেছেন . . .
অর্থাৎ শ্রীনিবাস আচার্যের কন্যা শ্রীল হেমলতার শ্রীচরণের আশায়, যদুনন্দন দাস, যিনি অম্বুষ্ঠ অর্থাৎ ব্রাহ্মণ পতি ও বৈশ্য পত্নীর বংশজ অর্থাৎ বৈদ্যকুলজাত, প্রাকৃতে, এক্ষেত্রে বাংলা ভাষায়, বলছেল।
যদুনন্দন ১৬০৭ খৃষ্টাব্দে কর্ণানন্দ গ্রন্থ রচনা সমাপন করেন। সেই সূত্রে এই গৌরদাসও সেই সময়কার কবি বলে মেনে নেওয়া যায়।
গৌরদাস ও গৌরমোহন - পাতার উপরে . . . সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরুতে গৌরদাসের পদের সঙ্গে “সখি মাধব নিকট গমন করি” ১০২৫ সংখ্যক পদটির রচনাশৈলীর সঙ্গে গৌরমোহনের “সুন্দরি মাধব তুয়া পথ হেরই”, ১০২৬ সংখ্যক পদটির প্রভূত মিল রয়েছে।
তাই তিনি তাঁর পদকল্পতরু গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ভূমিকায়, এই বিষয়ে সতীশচন্দ্র রায় লিখেছেন . . .
“তাঁহার (গৌর দাসের) ২০১৫ সংখ্যক জ্যোত্স্না অভিসারের সঙ্কেতসূচক --- এত শুনি দূতি চলল অবিলম্বনে . আসি ভেল উপনিত কানুক পাশ। নয়ন-তরঙ্গে সকল সমুঝায়ল . পুন হেরি কুমুদ কহে পরকাশ॥ কুমুদিনি গুণ পরি- মলে জগ জীতল . কাহে বিলমায়ত শ্যামল ভৃঙ্গ। দূতিক বচনে চলল বরনাগর . তুরতহি গৌর হৃদয় পরসন্ন॥ পঙ্কতিগুলিতে কবি সুন্দর কৌশলে দূতীর সঙ্কেত ব্যক্ত করিয়াছেন। শ্রীকৃষ্ণের এই বৃন্দাবনে অভিসার যাত্রার পরেই শ্রীরাধাকে অভিসারে গমনের জন্য দূতীর প্রণোদনা ও তদনুসারে শ্রীরাধারও বৃন্দাবনে অভিসারের বর্ণনাত্মক গৌরমোহনের ভণিতাযুক্ত ১০২৬ সংখ্যক পদটী পাওয়া যায়। উভয় পদই একজনের রচনা বলিয়া বিবেচনা হয়। সুতরাং গৌরমোহন গৌরদাসেরই পূর্ণ নাম বলিয়া অনুমান হইতেছে।”
আমরা মিলনসাগরে কবি গৌর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in
বিভিন্ন রূপে গৌর ভণিতার কবিদের পাতার লিঙ্ক - পাতার উপরে . . . মিলনসাগরে প্রকাশিত "গৌর" সম্বলিত বিভিন্ন ভণিতায় ক্লিক করলেই সেই পাতায় চলে যেতে পারবেন।