| কবি গৌরী দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| ধরণী-শয়নে ঝরয়ে নয়নে ভণিতা গৌরীদাস, গৌরদাস কবি গৌরীদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৬১-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথিতেও সংকলিত হয়েছে। এই পদটি কবি গৌরদাসের পাতাতেও দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ ধরণী-শয়নে ঝরয়ে নয়নে সঘনে কাঁপয়ে অঙ্গ। চম্পক-বরণ তাপে মলিন হৃদয় দহ অনঙ্গ॥ কিছু করুণা করহ কানাই। তোহারি কটাখ- শরে জর জর অতি ক্ষীণ-তনু রাই॥ এ দিন যামিনী জাগিয়া কামিনী জপিয়া তোহারি নাম। না জানিয়ে কিয়ে বেয়াধি হইল শ্বাস বহে অবিরাম॥ সব সখাগণ করয়ে রোদন কারণ কিছু না জানি। গৌরীদাস বিধি রচে মহৌষধি দেবের আবেশ মানি॥ পাঠান্তর - সতীশচন্দ্র রায়ের দ্বারা সংগৃহীত পদকল্পতরুর ঘ-পুথিতে “গৌরীদাস” স্থলে “গৌরদাস” রয়েছে। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ ॥ শ্রীরাগ॥ ধরণী-শয়নে ঝরয়ে নয়নে সঘনে কাঁপয়ে অঙ্গ। চম্পক-বরণ আতপে মলিন হৃদয় দহ অনঙ্গ॥ কিছু করুণা করহ কানাই। তোহারি কটাখ- শরে জর জর অতি ক্ষীণ-তনু রাই॥ এ দিন যামিনী জাগিয়া কামিনী জপিয়া তোহারি নাম। না জানিয়ে কিয়ে বেয়াধি হইল শ্বাস বহে অবিরাম॥ সব সখীগণ করয়ে রোদন কারণ কিছু না জানি। গৌরীদাস বিধি রচে মহৌষধি দেবের আবেশ মানি॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে ভণিতা “গৌরদাস”। ॥ শ্রীরাগ॥ ধরণীশয়নে ঝরএ নয়ন সঘনে কাপএ অঙ্গ। চম্পক বরণ তাপে মলিন হৃদয়দহ অনঙ্গ॥ কিছু করুণা করহ কানাই। তোহারি কটাক্ষশরে জর জর অতি খিনতনু রাই॥ ধ্রু॥ এ দিন যামিনী জাগিয়া কামিনী জপিয়া তোঁহারি নাম। না জানিএ কিয়ে ব্যাধি হইল স্বাস বহে অবিরাম॥ সব সখীগণ করয়ে রোদন কারণ কিছু না জানি। গৌরদাস বিধি রচে মহৌষধি দেবের আদেশ জানি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পহু মোর নিত্যানন্দ রায় ভণিতা গৌরীদাস কবি গৌরীদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ- বর্ণন, ২৩১৩-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথিতেও সংকলিত হয়েছে। এই পদটি বলরাম দাসের ভণিতায় আরও দীর্ঘ রূপে প্রচলিত রয়েছে। মিলনসাগরে বলরাম দাসের পদাবলীর পাতায় দৃষ্টব্য। ॥ শ্রীরাগ॥ পহু মোর নিত্যানন্দ রায়। মথিয়া সকল তন্ত্র হরি-নাম মহামন্ত্র করে ধরি জীবেরে বুঝায়॥ ধ্রু॥ চৈতন্য-অগ্রজ নাম ত্রিভূবন-অনুপাম সুরধুনী-তীরে করি থানা। হাট করি পরবন্ধ রাজা হৈলা নিত্যানন্দ পাষণ্ডী-দলন বীর-বানা॥ রামাই সুপাত্র হৈয়া রাজ-আজ্ঞা চালাইয়া কোতয়াল হৈলা হরিদাস। কৃষ্ণদাস হৈলা দাড়্যা কেহো যাইতে নারে ভাঁড়্যা লিখন পড়ন শ্রীনিবাস॥ পসারিয়া বিশ্বম্ভর আর প্রিয় গদাধর আচার্য্য-চত্বরে বিকি কিনি। গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনি॥ এই পদটি নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৮৪- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ - কাওয়ালী॥ পহু মোর নিত্যানন্দ রায়। মথিয়া সকল তন্ত্র হরি নাম মহামন্ত্র করে ধরি জীবেরে বুঝায়॥ ধ্রু॥ চৈতন্য-অগ্রজ নাম ত্রিভূবন-অনুপাম সুরধনী-তীরে করি থানা। হাট করি পরবন্ধ রাজা হৈলা নিত্যানন্দ পাষণ্ডী-দলন বীর-বানা॥ রামাই সুপাত্র হৈয়া রাজ-আজ্ঞা চালাইয়া কোতয়াল হৈলা হরিদাস। কৃষ্ণদাস হৈলা দাড়্যা কেহো যাইতে নারে ভাঁড়্যা লিখন পড়ন শ্রীনিবাস॥ পসারিয়া বিশ্বম্ভর আর প্রিয় গদাধর আচার্য্য-চত্বরে বিকি কিনি। গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। হাটপত্তন ॥ শ্রীরাগ॥ পহু মোর নিত্যানন্দ রায়। মথিয়া সকল তন্ত্র হরি-নাম মহামন্ত্র করে ধরি জীবেরে বুঝায়॥ ধ্রু॥ চৈতন্য-অগ্রজ নাম ত্রিভূবন-অনুপাম সুরধুনী-তীরে করি থানা। হাট করি পরবন্ধ রাজা হৈলা নিত্যানন্দ পাষণ্ডী-দলন বীর-বানা॥ রামাই সুপাত্র হৈলা রাজ-আজ্ঞা চালাইয়া কোতোয়াল হৈলা হরিদাস। কৃষ্ণদাস হৈলা দাড়্যা কেহো যাইতে নারে ভাঁড়্যা লিখন পড়ন শ্রীনিবাস॥ পসারিয়া বিশ্বম্ভর আর প্রিয় গদাধর আচার্য্য-চত্বরে বিকি কিনি। গৌরীদাস হাসি হাসি রাজার নিকটে বসি হাটের মহিমা কিছু শুনি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |