| কবি গৌরসুন্দর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রাইক জীবনশেষ শুনি সহচরি ভণিতা গৌরসুন্দর দাস কবি গৌরসুন্দর দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৮৮-পদসংখ্যা। পুনঃ দূত্যাগমনং যথা। ॥ তথা রাগ॥ রাইক জীবন- শেষ শুনি সহচরি বহু পরবোধল তায়। ধৈরজ ধরি পুন কানু নিয়ড়ে চলু না দেখিয়া আনহি উপায়॥ মাধব নিলজহিঁ কহি পুন বেরি। সো কুল-কামিনি নিচয় মরণ জানি কহইতে আয়লুঁ ফেরি॥ ধ্রু॥ শুনইতে কানু নয়ন-যুগ ঝর ঝর আকুল তনু মন প্রাণ। গুণি গুণি কাতর ধৈরজ পরিহরি বোলত নাগর কান॥ সজনি, তোহে হাম কি কহব আর। মঝু লাগি সো ধনি ভেলহি যৈছন ঐছন সবহু আমার॥ ভাবিনি-ভাব মনহিঁ মন গণইতে ধনি ধনি আপনাকে মানি। সহচরি সঙ্গে চলল বর-নাগর কহইতে গদ গদ বাণী॥ কত কত ভাব- বিভাবিত অন্তর সোঙরিতে সো গুণগাম। যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনি আকুল যাই মিলল সোই ঠাম॥ কুঞ্জক দ্বারে রাখি বর-নাগর সখি কহে মুগধিনি পাশ। চেতন করহ তুরিতে উঠি বৈঠহ কহ গৌরসুন্দর দাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, ১৯৮২ সালে বিশ্বভারতী বাংলা বিভাগ থেকে ভূদেব চৌধুরী, সুখময় মুখোপাধ্যায়, পঞ্চানন মণ্ডল ও সুমঙ্গল রাণা দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পুনশ্চ দূত্যাগমনং যথা॥ রাইক জীবন শেষ সুনি সহচরি বহু পরবোধল তায়। ধৈরজ করি পুন কানু নিয়ড়ে চলু না দেখিএ আন উপায়॥ মাধব নিলজহি কহি পুন বেরি। সো কুলকামিনী নিচএ মরণ জানি কহইতে আওল পুন ফেরি॥ ধ্রু॥ সুনইতে কানু নয়নযুগ ঝরঝর আকুল তনুমনপ্রাণ। গুণি গুণি কাতর ধৈরজ পরিহর বোলত নাগর কান॥ সজনি তোহে হাম কি কহব আর। মঝু লাগি সো ধনি ভেলহি যৈছন ঐছন সবহু আমার॥ ধ্রু॥ ভাবিনী ভাব মনহি মনে গণইতে ধনি ধনি আপনাকে মানি। সহচরী সঙ্গে চলল বরনাগর কহইতে গদগদ বাণী॥ কত কত ভাব বিভাবিত অন্তর সোঙরিতে সো গুণগাম। জোই নিকুঞ্জে আছএ ধনি আকুল জোই মিলল সোই ঠাম॥ কুঞ্জক দ্বারে রাখি বরনাগর সখী কহে মুগধিনী পাস। চেতন করহ তুরিতে উঠি বৈঠহ কহ গৌরসুন্দর দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ ॥ তথা রাগ॥ রাইক জীবন- শেষ শুনি সহচরি বহু পরবোধল তায়। ধৈরজ ধরি পুন কানু নীয়ড়ে চলু না দেখিয়া আনহি উপায়॥ মাধব নিলজহিঁ কহি পুন বেরি। সো কুল-কামিনি নিচয় মরণ জানি কহইতে আয়লুঁ ফেরি॥ ধ্রু॥ শুনইতে কানু নয়ন-যুগ ঝরঝর আকুল তনু মন প্রাণ। গুণি গুণি কাতর ধৈরজ পরিহরি বোলত নাগর কান॥ সজনি তোহে হাম কি কহব আর। মঝু লাগি সো ধনি ভেলহি যৈছন ঐছন সবহু আমার॥ ভাবিনি-ভাব মনহিঁ মন গণইতে ধনি ধনি আপনাকে মানি। সহচরি সঙ্গে চলল বর-নাগর কহইতে গদগদ বাণী॥ কত কত ভাব- বিভাবিত অন্তর সোঙরিতে সো গুণগাম। যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনি আকুল যাই মিলন সোই ঠাম॥ কুঞ্জক দ্বারে রাখি বর-নাগর সখি কহে মুগধিনি পাশ। চেতন করহ তুরিতে উঠি বৈঠহ কহ গৌরসুন্দর দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধানাথ বড় অপরূপ লীলা ভণিতা গৌরসুন্দর দাস কবি গৌরসুন্দর দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৭ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্খ শাখা - ২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০২৫-পদসংখ্যা। ॥ শ্রীরাগ॥ রাধানাথ বড় অপরূপ লীলা। কিশোর কিশোরী দুহুঁ এক-মেলি নবদ্বীপে প্রকটিলা॥ ধ্রু॥ রাধানাথ বড় অপরূপ সে। শ্রীচৈতন্য নামে দয়া দীন হীনে তপত-কাঞ্চন দে॥ রাধানাথ সঙ্গী অপরূপ তার। নিতাই অদ্বৈত শ্রীনিবাস আদি স্বরূপ রামানন্দ আর॥ রাধানাথ কি কহিব সব রঙ্গ। সনাতন রূপ রঘুনাথ লোক- নাথ ভট্ট-যুগ সঙ্গ॥ রাধানাথ এ সব ভকত মেলি। যেঁ কৈলা কীর্ত্তন আবেশে নর্ত্তন প্রেম-দান-কুতূহলী॥ রাধানাথ বড় অভাগিয়া মুঞি। সে কালে থাকিতু প্রেম-দান পাইতু কেনে না করিলা তুঞি॥ রাধানাথ বড়ই রহিল দুখ। জনম হইল তখন নইল দেখিতে না পাইলুঁ মুখ॥ রাধানাথ কি জানি কহিতে আমি। গৌরসুন্দর দাসের ভরসা উদ্ধার করিবে তুমি॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রাধানাথ বড় অপরূপ লীলা। কিশোর কিশোরী দুই এক মিলে নবদ্বীপে প্রকটিলা॥ রাধানাথ বড় অপরূপ সে। শ্রীচৈতন্য নামে হীনজনে দয়া তপতকাঞ্চন দে॥ রাধানাথ সঙ্গী অপরূপ তার। নিতাই অদ্বৈত শ্রীবাস স্বরূপ রামানন্দ আর॥ রাধানাথ কি কহিব সব রঙ্গ। সনাতন রূপ রঘুনাথ লোকনাথ ভট্টযুগ সঙ্গ॥ রাধানাথ এ সব ভকত মেলি। না কৈলা কীর্ত্তন আবেশে নর্ত্তন প্রেমদান কুতূহলি॥ রাধানাথ বড় অভাগিয়া মুই। সে কালে থাকিতু প্রেমদান পাইতু কেনে না করিলা তুই॥ রাধানাথ বড়ই রহিল দুঃখ। জনম হইল তখন নহিল দেখিতে না পাইনু সুখ॥ রাধানাথ কি জানি কহিতে আমি। গৌরসুন্দরদাসের ভরসা উদ্ধার করিবা তুমি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। প্রার্থনা ॥ শ্রীরাগ॥ রাধানাথ বড় অপরূপ লীলা। কিশোর কিশোরী দুহুঁ এক-মেলি নবদ্বীপে প্রকটিলা॥ ধ্রু॥ রাধানাথ বড় অপরূপ সে। শ্রীচৈতন্য নামে দয়া দীন হীনে তপত কাঞ্চন দে॥ রাধানাথ সঙ্গী অপরূপ তার। নিতাই অদ্বৈত শ্রীবাসাদি যত স্বরূপ রামানন্দ আর॥ রাধানাথ কি কহিব সব রঙ্গ। সনাতন রূপ রঘুনাথ লোক- নাথ ভট্টযুগ সঙ্গ॥ রাধানাথ এ সব ভকত মেলি। যে কৈলা কীর্ত্তন আবেশে নর্ত্তন প্রেমদান কুতূহলী॥ রাধানাথ বড় অভাগিয়া মুঞি। সে কালে থাকিতু প্রেমদান পাইতু কেনে না করিলা তুঞি॥ রাধানাথ বড়ই রহিল দুখ। জনম হইল তখন নইল দেখিতে না পাইলুঁ মুখ॥ রাধানাথ কি জানি কহিতে আমি। গৌরসুন্দর দাসের ভরসা উদ্ধার করিবে তুমি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধানাথ মো বড় অধম পাপী ভণিতা গৌরসুন্দর কবি গৌরসুন্দর দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৭ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্খ শাখা - ২য় ভাগ, ৭ম পল্লব, প্রার্থনা, ৩০২৭-পদসংখ্যা। ॥ তথা রাগ॥ রাধানাথ মো বড় অধম পাপী। প্রেম-সুখ নাই কিসে জুড়াইব অশেষ-তাপের তাপী॥ রাধানাথ নিবেদিয়ে আমি তোমা। দন্তে তৃণ করি মিনতি করিয়ে উদ্ধার করিবে আমা॥ রাধানাথ কি গতি হইবে মোর। বিষম সংসার- সাগরে পড়িয়া মজিয়া হইলুঁ ভোর॥ রাধানাথ কেমনে হইব পার। এ কূল ও কূল কিছু না দেখিয়ে নাহি তার পারাবার॥ রাধানাথ তুমি সে করুণাময়। তোমার চরণ- প্রবল-নৌকাতে উদ্ধার করিলে হয়॥ রাধানাথ এমন হইবে দিন। রাই সহ মোরে সেবাতে ডাকিবে কিছু না বাসিবে ভিন॥ রাধানাথ ব্রজে যেন তোমা পাই। গৌরসুন্দরে নিজ দাসী করি রাখিতে হবে তথাই॥ এই পদটি নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ - জবতাল॥ রাধানাথ মো বড় অধম পাপী। প্রেম সুখ নাই কিসে জুড়াইব অশেষ তাপের তাপী॥ রাধানাথ নিবেদিয়ে আমি তোমা। দন্তে তৃণ করি মিনতি করিয়ে উদ্ধার করিবে আমা॥ রাধানাথ কি গতি হইবে মোর। বিষম সংসার সাগরে পড়িয়া মজিয়া হইনু ভোর॥ রাধানাথ কেমনে হইব পার। একুল ওকুল কিছু না দেখিয়ে নাহি তার পারাবার॥ রাধানাথ তুমি সে করুণাময়। তোমার চরণ প্রবল নৌকাতে উদ্ধার করিলে হয়॥ রাধানাথ এমন হইবে দিন। রাই সহ মোরে সেবাতে ডাকিবে কিছু না বাসিবে ভিন॥ রাধানাথ ব্রজে বা তোমায় পাই। গৌর-সুন্দরে নিজ দাসী করি রাখিতে হবে তথাই॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ রাধানাথ মো বড় অধম পাপী। প্রেমসুখ নাই কিসে জুড়াইব অশেষ তাপের তাপী॥ রাধানাথ নিবেদিয়ে আমি তোমা। দন্তে তৃণ করি মিনতি করিয়ে উদ্ধার করিবে আমা॥ রাধানাথ কি গতি হইবে মোর। বিষম সংসার- সাগরে পড়িয়া মজিয়া হইলুঁ ভোর॥ রাধানাথ কেমনে হইব পার। এ কূল ও কূল কিছু না দেখিয়ে নাহি তার পারাবার॥ রাধানাথ তুমি সে করুণাময়। তোমার চরণ প্রবল নৌকাতে উদ্ধার করিলে হয়॥ রাধানাথ এমন হইবে দিন। রাই সহ মোরে সেবাতে ডাকিবে কিছু না বাসিবে ভিন॥ রাধানাথ ব্রজে যেন তোমা পাই। গৌরসুন্দরে নিজ দাসী করি রাখিতে হবে তথাই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধানাথ দেখিতে হইছে ভয় ভণিতা গৌরসুন্দর দাস কবি গৌরসুন্দর দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৭ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্খ শাখা - ২য় ভাগ, ৭ম পল্লব, প্রার্থনা, ৩০২৮-পদসংখ্যা। ॥ তথা রাগ॥ রাধানাথ দেখিতে হইছে ভয়। তনু-বল-হ্রাস আর বুদ্ধি-নাশ কখন কি জানি হয়॥ রাধানাথ সকলি ছাড়িয়া গেল। দাঁত আঁত গেল বধির হইল নয়নে না দেখি ভাল॥ রাধানাথ তুমি সে করুণা-সিন্ধু। তোমা বিনে আর কেবা উদ্ধারিবে তুমি সব-লোক-বন্ধু॥ রাধানাথ আগে সব নিবেদয়। মরণ সময় ব্যধিগ্রস্ত হয় স্মরণ নাহিক রয়॥ রাধানাথ আর কিছু নাহি ভয়। বৃষভানু-সুতা- চরণ-সেবনে পাছে কৃপা নাহি হয়॥ রাধানাথ সেই সে সকলি সিধি। সেই কৃপা বিনে ব্রহ্ম-পদ আদি সকল সুখ উপেখি॥ রাধানাথ এই নিবেদিয়ে আমি। বৃষভানু-সুতা- পদে দাসী করি অঙ্গীকার কর তুমি॥ রাধানাথ এই মোর অভিলাষ। নিভৃত-নিকুঞ্জে নিজ পদে লেহ গৌরসুন্দর দাস॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রাধানাথ দেখিতে লাগিছে ভয়। তনুবল হ্রাস আর বুদ্ধিনাশ কখন কি জানি হয়॥ রাধানাথ সকলি ছাড়িয়া গেল। দাঁত আঁত গেল বধির হইল নয়নে না দেখি ভাল॥ রাধানাথ তুমি সে করুণাসিন্ধু। তোমা বিনে আর কেবা উদ্ধারিবে তুমি সকলের বন্ধু॥ রাধানাথ আগে সব নিবেদয়। মরণসময় ব্যধিগ্রস্ত হয় স্মরণ নাহিক রয়॥ রাধানাথ আর কিছু নাহি ভয়। বৃষভানুসুতাচরণ-সেবনে পাছে কৃপা নাহি হয়॥ রাধানাথ এই নিবেদিয়ে আমি। বৃষভানুসুতাপদে দাসী করি অঙ্গীকার কর তুমি॥ রাধানাথ এই মোর অভিলাষ। নিভৃত নিকুঞ্জে নিজ পদে লেহ এ গৌরসুন্দরদাস॥ এই পদটি নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূরমিশ্র জয়জয়ন্তী - দুঠুকী॥ রাধানাথ দেখিতে হইছে ভয়। তনু বল হ্রাস, আর বুদ্ধি নাশ, কখন কি জানি হয়॥ রাধানাথ সকলি ছাড়িয়া গেল। দাঁত আঁত গেল, বধির হইল, নয়নে না দেখি ভাল॥ রাধানাথ তুমি সে করুণা-সিন্ধু। তোমা বিনে আর, কেবা উদ্ধারিবে, তুমি সবলোক-বন্ধু॥ রাধানাথ আগে সব নিবেদয়। মরণ সময়, ব্যধিগ্রস্ত হয়, স্মরণ নাহিক রয়॥ রাধানাথ আর কিছু নাহি ভয়। বৃষভানু-সুতা চরণ সেবনে পাছে কৃপা নাহি হয়॥ রাধানাথ সেই সে সকলি সিদ্ধি। সেই কৃপা বিনে ব্রহ্মপদ আদি সকল সুখ উপেখি॥ রাধানাথ এই নিবেদিয়ে আমি। বৃষভানু সুতা পদে দাসী করি অঙ্গীকার কর তুমি॥ রাধানাথ এই মোর অভিলাষ। নিভৃত নি- কুঞ্জে নিজপদে দেহ গৌর সুন্দর দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ রাধানাথ দেখিতে হইছে ভয়। হইল বল হ্রাস আর বুদ্ধি নাশ কখন কি জানি হয়॥ রাধানাথ সকলি ছাড়িয়া গেল। দাঁত আঁত গেল বধির হইল নয়নে না দেখি ভাল॥ রাধানাথ তুমি সে করুণা সিন্ধু। তোমা বিনে আর কেবা উদ্ধারিবে তুমি সব-লোকসিন্ধু॥ রাধানাথ আগে সব নিবেদয়। মরণ সময় ব্যধিগ্রস্ত হয় স্মরণ নাহিক রয়॥ রাধানাথ আর কিছু নাহি ভয়। বৃষভানুসুতা- চরণ সেবনে পাছে কৃপা নাহি হয়॥ রাধানাথ সেই সে সকলি সিধি। সেই কৃপা বিনে ব্রহ্মপদ আদি সকল সুখ উপেখি॥ রাধানাথ এই নিবেদিয়ে আমি। বৃষভানুসুতা পদে দাসী করি অঙ্গীকার কর তুমি॥ রাধানাথ এই মোর অভিলাষ। নিভৃত নিকুঞ্জে নিজ পদে লেহ গৌরসুন্দর দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধানাথ করুণা করহ আমা ভণিতা গৌরসুন্দর দাস কবি গৌরসুন্দর দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৭ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্খ শাখা - ২য় ভাগ, ৭ম পল্লব, প্রার্থনা, ৩০২৯-পদসংখ্যা। ॥ তথা রাগ॥ রাধানাথ করুণা করহ আমা। সাধন ভজন কিছু না করিলুঁ ব্রজে বা না পাই তোমা॥ রাধানাথ এ লাগি আকুল চিত। রহি রহি মোর সংশয় হইছে ভাবিতে হইলুঁ ভীত॥ রাধানাথ সময় হইল শেষ। তব দয়া মোরে নিচয় হইবে কিছু না দেখিয়ে লেশ॥ রাধানাথ তোমায় সোঁপিত কায়। রমণী যদি বা কুপথে চলয়ে পতি-নামে সে বিকায়॥ রাধানাথ লোকে বা হাসয়ে তোমা। যে কহে তোমার তারে না তরাইলে অযশ রবে ঘোষণা॥ রাধানাথ এড়াইতে নারিবে তুমি। তুয়া পদে যদি রতি থাকুক সভে জানে তোমার আমি॥ রাধানাথ এ কথার করিবা কি। পতিত-পাবন তুয়া এক নাম সাধু-মুখে শুনিয়াছি॥ রাধানাথ অতয়ে কব়্যাছি আশ। ব্রজে তোমা দোহাঁ- পদে দাসী কর গৌরসুন্দর দাস॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রাধানাথ করুণা করহ আমা। সাধন ভজন কিছু না করিনু ব্রজে বা না পাই তোমা॥ রাধানাথ এ লাগি আঁধল চিত। রহি রহি মোর সংশয় হইছে ভাবিতে না হই ভীত॥ রাধানাথ সময় হইল শেষ। তব দয়া মোরে নিশ্চয় হইবে কিছু না দেখিয়ে লেশ॥ রাধানাথ তোমারে সঁপিত কায়। রমণী যদি বা কুপথে চলয়ে পতিনামে সে বিকায়॥ রাধানাথ লোকেরা হাসয়ে তোমা। যে কহে তোমার তারে না তারিলে অযশ রবে ঘোষণা॥ রাধানাথ এড়াতে নারিবে তুমি। তুয়া পদে রতি না থাকিলে তমি সবে জানে তব আমি॥ রাধানাথ এ কথার করিব কি। পতিতপাবন তুয়া এক নাম সাধু মুখে শুনিয়াছি॥ রাধানাথ অতএ কৈরাছি আশ। ব্রজে তোমা দোহা পদে দাসী কর এ গৌরসুন্দরদাস॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী”, ১৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ খাম্বাজ মিশ্র ধানসী - জপতাল॥ রাধানাথ করুণা করহ আমা। সাধন ভজন কিছু না করিলুঁ ব্রজে বা না পাই তোমা॥ রাধানাথ, এ লাগি আকুল চিত। রহি রহি মোর সংশয় হইছে ভাবিতে হইলুঁ ভীত॥ রাধানাথ, সময় হইল শেষ। তব দয়া মোরে নিচয় হইবে কিছু না দেখিয়ে লেশ॥ রাধানাথ তোমায় সোঁপিত কায়। রমণী যদি বা কুপথে চলয়ে পতিনামে সে বিকায়॥ রাধানাথ, লোকে বা হাসয়ে তোমা। যে কহে তোমার তারে না তারিলে অযশ রবে ঘোষণা॥ রাধানাথ, এড়াইতে নারিবে তুমি। তুয়া পদে যদি রতি না থাকয়ে সবে জানে তোমার আমি॥ রাধানাথ, এ কথার করিবে কি। পতিত-পাবন তুয়া এক নাম সাধুমুখে শুনেছি॥ রাধানাথ, অতয়ে করেছি আশ। ব্রজে তোমা দোঁহা পদে দাসী কর গৌরসুন্দর দাস॥ এই পদটি নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়জয়ন্তী - দুঠুকী॥ রাধানাথ করুণা করহ আমা। সাধন ভজন কিছু না করিনু, ব্রজে বা না পাই তোমা॥ রাধানাথ এ লাগি আকুল চিত। রহি রহি মোর সংশয় হইছে, ভাবিতে হইনু ভীত॥ রাধানাথ সময় হইল শেষ। তব দয়া মোরে নিশ্চয় হইবে, কিছু না দেখিয়ে লেশ॥ রাধানাথ তোমায় সঁপিত কায়। রমণী যদি বা কুপথে চলয়ে পতি নামে সে বিকায়॥ রাধানাথ লোকে বা হাসয়ে তোমা। যে ডাকয়ে তোমা তারে না তারিলে অযশ রবে ঘোষণা॥ রাধানাথ এড়াইতে নারিবে তুমি। তুয়াপদে যদি রতি না থাকুক, সবে জানে তোমার আমি॥ রাধানাথ এ কথার করিবা কি। পতিত পাবন তুয়া এক নাম সাধুমুখে শুনিয়াছি॥ রাধানাথ অতয়ে করেছি আশ। ব্রজে তোমা দোহাঁ পদে দাসী কর গৌর সুন্দর দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ রাধানাথ করুণা করহ আমা। সাধন ভজন কিছু না করিলুঁ ব্রজে বা না পাই তোমা॥ রাধানাথ করুণা করহ চিতে। রহি রহি মোর সংশয় হইছে ভাবিতে হইলুঁ ভীতে॥ রাধানাথ সময় হইল শেষ। তব দয়া মোরে নিচয় হইবে কিছু না দেখিয়ে লেশ॥ রাধানাথ তোমায় সোঁপিত কায়। রমণী যদি বা কুপথে চলয়ে পতি-নামে সে বিকায়॥ রাধানাথ লোকে বা হাসয়ে তোমা। যে কহে তোমার তারে না তরাইলে অযশ রবে ঘোষণা॥ রাধানাথ এড়াইতে নারিবে তুমি। তুয়া পদে মোর রতি না থাকুক সভে জানে তোমার আমি॥ রাধানাথ এ কথার করিবা কি। পতিত পাবন তুয়া এক নাম সাধু মুখে শুনিয়াছি॥ রাধানাথ অতয়ে কব়্যাছি আশ। ব্রজে তোমা দোহাঁ পদে দাসী কর গৌরসুন্দর দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিদ্যাপতি কবি-রাজ গোবিন্দ দাস ভণিতা গৌরসুন্দর দাস কবি গৌরসুন্দর দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৩৮। গৌরসুন্দর দাস বিরচিত ও সংকলিত “কীর্ত্তনানন্দ” গ্রন্থের পদ। পূর্ব্ব-পদকর্ত্তৃ-গণের বন্দনা ॥ কামোদ মল্লার॥ বিদ্যাপতি কবি-রাজ গোবিন্দ দাস করলহি বহুবিধ গীত। যুগল-কিশোর-কেলি-রস-মাধুরি অপরূপ প্রেম-চরীত॥ শ্রীজয়দেব কয়ল গীতগোবিন্দ অপরূপ-বর্ণন-বন্ধ। সাধু রসিক-জন সো রস পিবি পিবি পাওই বড়ই আনন্দ॥ গোসাঞি সনাতন কয়ল গীতাবলি গুণইতে উনমত-চীত। শ্যামর-গোরি বিবিধ-রস-কৌতুক নির্ম্মল-গীতি-চরিত॥ বাসুদেব ঘোষ অপরুপ বর্ণন গৌর চাঁদ অনুপাম। মাধব ঘোষ গীত বহু-বর্ণন বিরহ বিষম খরশান॥ কয়ল রায় রামানন্দ নাটক চণ্ডীদাস অনুরাগ। বলরাম দাস বড়ই প্রেম-বর্ণন গোপীরমণ তহিঁ ভাগ॥ নরহরি দাস জ্ঞান যদুনন্দন গোবিন্দ ঘোষ ঠাকুর নব কবিশেখর রাধাবল্লভ এ সব রসে পরচুর॥ দাস নরোত্তম কয়লহি বর্ণন প্রার্থন অতি-অপরূপ। দাস ঘনশ্যাম কয়লহি বর্ণন গোবিন্দ-দাস স্বরূপ॥ এ সব কবি কবি-রাজ মহোত্তম যুগল প্রেম-রস-কূপ। যছু সব গীতে অখিল বৈষ্ণব-জন অহনিশি রহতহি ডুব॥ যুগল-প্রেম-রস গীতে পরকাশল ত্রিভুবন ভরল তরঙ্গে। পাষাণ-হৃদয় কোনে নিরমায়ল গৌরসুন্দর দাস মন্দে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পূর্ব্ব-পদকর্ত্তৃগণের বন্দনা ॥ কামোদ মল্লার॥ বিদ্যাপতি কবি-রাজ গোবিন্দ-দাস কয়লহি বহুবিধ গীত। যুগল-কিশোর-কেলি-রস-মাধুরি অপরূপ প্রেম-চরীত॥ শ্রীজয়দেব কয়ল গীতগোবিন্দ অপরূপ-বর্ণন-বন্ধ। সাধু রসিক-জন সো রস পিবি পিবি পায়ই বড়ই আনন্দ॥ গোসাঞি সনাতন কয়ল গীতাবলি গুণইতে উনমত-চীত। শ্যামর-গোরি বিবিধ-রস-কৌতুক নির্ম্মল-গীত-চরিত॥ বাসুদেব ঘোষ অপরুপ বর্ণন গৌর চাঁদ অনুপাম। মাধব ঘোষ গীত বহু-বর্ণন বিরহ বিষম খরশান॥ কয়ল রায় রামানন্দ নাটক চণ্ডীদাস অনুরাগ। বলরাম দাস বড়ই প্রেম-বর্ণন গোপীরমণ সুভাগ॥ নরহরি দাস জ্ঞান যদুনন্দন গোবিন্দ ঘোষ ঠাকুর নব-কবিশেখর রাধাবল্লভ এ সব রসে পরচুর॥ দাস নরোত্তম কয়লহি বর্ণন প্রার্থন অতি-অপরূপ। দাস ঘনশ্যাম কয়লহি বর্ণন গোবিন্দ-দাস স্বরূপ॥ এ সব কবি কবি-রাজ মহোত্তম যুগল প্রেম-রস-কূপ। যছু সব গীতে অখিল বৈষ্ণব-জন অহনিশি রহতহি ডুব॥ যুগল-প্রেম-রস গীতে পরকাশল ত্রিভুবন ভরল তরঙ্গে। পাষাণ-হৃদয় কোনে নিরমায়ল গৌরসুন্দর দাস মন্দে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন শুন বৈষ্ণব-ঠাকুর ভণিতা গৌরসুন্দর দাস কবি গৌরসুন্দর দাস ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী” নামের বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, পৃষ্ঠা ১৩৯। গৌরসুন্দর দাস বিরচিত ও সংকলিত “কীর্ত্তনানন্দ” গ্রন্থের পদ। এই পদটি সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকাতেও সম্পূর্ণ রূপে খেরেছেন। এর কারণ এই পদটি থেকেই জানা যায় যে গৌরসুন্দর দাস, কীর্ত্তন আনন্দ নামের রাধাকৃষ্ণ লীলা সমুদ্র সংকলন প্রকাশিত করেন। প্রার্থনা ॥ বরাড়ী॥ শুন শুন বৈষ্ণব-ঠাকুর। দোষ পরিহরি শুন শ্রবণ মধুর॥ ধ্রু॥ বড় অভিলাষে রাধাকৃষ্ণ-লীলা গীতহি সঙ্গতি করি। হয় নাহি হয় বুঝিতে না পারি সবে মাত্র আশা ধরি॥ তোমরা বৈষ্ণব সব শ্রোতাগণ চরণ ভরসা করি। আপন ইচ্ছায়ে আমি নাহি লেখি লেখায়ে সে গৌরহরি॥ মোর অপরাধ ঠাকুর বৈষ্ণব ক্ষেমিয়া করহ পান। শ্রীরাধাকৃষ্ণ- লীলাসমুদ্র কীর্ত্তনানন্দ-নাম॥ তোমরা বৈষ্ণব পরম বান্ধব পূর মোর অভিলাস। গৌরাঙ্গ-চরণ- মধুকর গৌর- সুন্দরদাস আশ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। কীর্ত্তনানন্দ গ্রন্থ সঙ্কলনের অনুমতি প্রার্থনা ॥ বরাড়ী॥ শুন শুন বৈষ্ণব ঠাকুর। দোষ পরিহরি কহ শ্রবণ মধুর॥ ধ্রু॥ বড় অভিলাষে রাধাকৃষ্ণ লীলা গীতহি সঙ্গতি করি। হয় নাহি হয় বুঝিতে না পারি সবে মাত্র আশা ধরি॥ তোমরা বৈষ্ণব সব শ্রোতাগণ চরণ ভরসা করি। আপন ইচ্ছায়ে আমি নাহি লেখি লেখায়ে সে গৌরহরি॥ মোর অপরাধ ঠাকুর বৈষ্ণব ক্ষেমিয়া করহ পান। শ্রীরাধাকৃষ্ণ- লীলাসমুদ্র কীর্ত্তনানন্দ নাম॥ তোমরা বৈষ্ণব পরম বান্ধব পূর মোর অভিলাস। গৌরাঙ্গ চরণ মধুকর গৌর- সুন্দরদাস আশ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধানাথ সকলি ভোজের বাজি ভণিতা গৌরসুন্দর কবি গৌরসুন্দর দাস ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, ৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রাধানাথ সকলি ভোজের বাজি। এই আছে এই নাই সব দেখি নাহি বুঝে মন পাজি॥ রাধানাথ সকলি আমের খুয়া। ঘর বাড়ী আর টাকা কড়ি সবে ভাবে যেন আচাভুয়া॥ রাধানাথ সকলি গোলোকধাঁধা। পুত্র পরিবার আমার আমার করি লোক পড়ে বাঁধা॥ রাধানাথ জীবন খড়ের আগি। ধপ্ করি জ্বলি উঠে নিভে যায় না হয় সুখের ভাগী॥ রাধানাথ প্রাণ পদ্মপত্রের জল। সদাই চঞ্চল বাহির হইতে সদা করে টলমল॥ রাধানাথ কিছু ভাব নহে খাটি। মাণিক ভাবিয়া যা লই অঞ্চলে, তাহা হৈয়া যায় মাটী॥ রাধানাথ জীবন মনুয়া পাখী। রাধাকৃষ্ণ নাম পড়ালে না পড়ে শুধু দিতে চায় ফাঁকি॥ রাধানাথ এ গৌরসুন্দর কাণী। কৃষ্ণনাম বুলি কেমনে শিখিবে না বুঝে পৈরান টানা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনি, তোহে হাম কি কহব আর ভণিতা গৌরসুন্দর দাস কবি গৌরসুন্দর দাস ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী”, ১৭৩-পৃষ্ঠা। এই পদটি “রাইক জীবনশেষ শুনি সহচরি” পদটির দ্বিতীয়ার্ধ। ॥ তথা রাগ॥ সজনি, তোহে হাম কি কহব আর। মঝু লাগি সো ধনি ভেলহি যৈছন ঐছন সবহুঁ আমার॥ ভাবিনি-ভাব মনহি মন গণইতে ধনি ধনি আপনাকে মানি। সহচরি সঙ্গে চলল বর নাগর কহইতে গদ গদ বাণী॥ কত কত ভাব বিভাবিত অন্তর সোঙরিতে সো গুণগাম। যোই নিকুঞ্জে আছয়ে ধনি আকুল যাই মিলল সোই ঠাম॥ কুঞ্জক দ্বারে রাখি বর-নাগর সখি কহে মুগধিনি পাশ। চেতন করহ তুরিতে উঠি বৈঠহ কহ গৌরসুন্দর দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধানাথ কি তব বিচিত্র মায়া ভণিতা গৌর কবি গৌরসুন্দর দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০২৬-পদসংখ্যা। ॥ তথা রাগ॥ রাধানাথ কি তব বিচিত্র মায়া। একলা আইসে একলা যায় পড়িয়া রহয়ে কায়া॥ রাধানাথ সকলি এমনি প্রায়। ভাই বন্ধু আদি পুত্র কলত্রাদি সঙ্গে কেহ নাহি যায়॥ রাধানাথ সকলি এমনি দেখি। তথাপিহ মনে খেদ নাহি হয়ে মোর মোর করি জপি॥ রাধানাথ মরিলে সকলি পারা। শরীর লইয়া জলে ফেলাইবে উলটি না চাবে তারা॥ রাধানাথ কেহ কার কিছু নহে। বিচারিয়া দেখি সব মিছা মায়া এ বোধ স্থির না রহে॥ রাধানাথ শত বর্ষ সবে আই। সেহঁ স্থির নহে দুই চারি দিশে মরিছে দেখিতে পাই॥ রাধানাথ দেখিয়াও ভ্রম হয়। বহুকাল জীব কতেক করিব ক্ষেমা নাহি মনে লয়॥ রাধানাথ না দেখি ভকতি সার। কহয়ে গৌর তোমারে না ভজি কে কোথা হৈয়াছে পার॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ রাধানাথ কি তব বিচিত্র মায়া। একলা আইসে একলা যায় পড়িয়া রহে কায়া॥ রাধানাথ সকলি এমনি প্রায়। ভাই বন্ধু পুত্র কন্যা কলত্রাদি সঙ্গে কেহ নাহি যায়॥ রাধানাথ সকলি অমনি দেখি। তথাপিহ মনে খেদ নাহি হয় আমার বলিয়া লেখি॥ রাধানাথ সকলি ফেলিয়া যাবে। শরীর লইয়া জলে ফেলাইয়া উলটি ফিরি না চাবে॥ রাধানাথ কেহ কার কিছু নহে। বিচারিয়া দেখি সব মিছা মায়া এ বোধ স্থির না রহে॥ রাধানাথ শুনি শতবর্ষ আই। সেই স্থির নহে দুই চারি দিনে মরিছে দেখিতে পাই॥ রাধানাথ দেখিয়াও ভ্রম হয়। বহুকাল জীব কতেক করিব ক্ষমা নাহি মনে লয়॥ রাধানাথ ভুবনে ভকতি সার। কহয়ে গৌর তোমারে না ভজি কে কোথা হৈয়াছে পার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |