| কবি হরেকৃষ্ণ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| এমনে কেমনে যাব পথে শ্যাম দানী কবি হরেকৃষ্ণ দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৩য় পল্লব, দান-লীলা, পদসংখ্যা ১৩৭০। এই পদটিই হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৫০-এ দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ এমনে কেমনে যাব পথে শ্যাম দানী। আপনা খাইয়া কেনে আইলাম তোমার সনে জাতি জীবনে টানাটানি॥ ধ্রু॥ ঘরে কৈতে বারাইয়ে কত না বিপদ পথে সাপিনী চলিয়া গেল বামে। তখনি বলিলাম আমি হাস্যা না শুনিলা তুমি না জানি কি হয় পরিণামে॥ নীপ-মুলে করি থানা ঘাটি করিয়াছে মানা কানাই হৈয়াছে মহাদানী। আমরা সে কুলবতী তাহে নব যুবতী কি করিলে কিবা হয় জানি॥ হাতে বাঁশী মুখে হাসি পথের নিকটে বসি আঁখি-ঠারে ত্রিভুবন ভুলে। ডারি দিব ছেনা দধি পসার পরশে যদি ঝাঁপ দিব যমুনার জলে॥ মনে না করিহ ভয় গো-রসের দানী নয় শুন শুন রাই বিনোদিনী। হরেকৃষ্ণ দাসে বোলে ঝাট আইস তরুতলে আনন্দে করহ বিকিকিনি॥ এই পদটিই ১৮৭০ সাল নাগাদ, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত, তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” সংকলনের ৭৪ পৃষ্ঠায় এই ভাবে রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ এমনে কেমনে যাব পথে শ্যাম দানী। আপনা খাইয়া কেনে, আইলাম তোমার সনে, জাতি জীবনে টানাটানি॥ ধ্রু॥ ঘরে হইতে বারাইয়ে কত না বিপদ পথে সাপিনী চলিয়া গেল বামে। তখনি বলিল আমি, হাস্যা না শুনিলা তুমি, না জানি কি হবে পরিণামে॥ নীপমূলে করি থানা, ঘাটি করেছে মানা, কানাই হ’য়েছে মহাদানী। আমরা সে কুলবতী, তাহে নব যুবতী, কি কহিলে কিবা হয় জানি॥ হাতে বাঁশী মুখে হাসি, পথের নিকটে বসি, আঁখি-ঠারে ত্রিভুবন ভুলে। যাচি দিব ছানা দধি, পসার পরশে যদি, ঝাঁপ দিব যমুনার জলে॥ মনে না করিহ ভয়, গোরসের দানী নয়, শুন শুন রাই বিনোদিনী। হরেকৃষ্ণ দাসে বোলে, ঝ ট আইস তরুতলে, আনন্দে করহ বিকিকিনি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি মধুর মধুর বয়স নব কৈশোর কবি হরেকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪২। এই পদটিই আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৩য় পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, পদসংখ্যা ৬০-এ কবি “হরিকৃষ্ণ” দাসের ভণিতায় প্রকাশিত হয়। অথ শ্রীকৃষ্ণস্যাপ্তদূতী। তদুচিতশ্রীগৌরচন্দ্র ॥ পাহিড়া॥ কি মধুর-মধুর বয়স নব কৈশোর মূরতি জগ-মন-হারী। কি দিয়া কেমনে বিধি নিরমিল গোরা-তনু আকুল কুলবতি নারী॥ ধ্রু॥ বিফলে উদয় করে গগনে সে শশধরে গোরা-রূপে আলা তিন লোকে। তাহে এক অপরূপ যেবা দেখে চাঁদমুখ মনের আঁধার নাহি থাকে॥ ঢল ঢল প্রেমমণি কিয়ে থির দামিনি ঐছন বরণক আভা। তাহে নগরালি-বেশ ভুলাইল সব দেশ মদন-মনোহর শোভা॥ যতি-সতি-মতি হত গেল যেন কুলব্রত আইল ভুবন-চিত-চোর। হরেকৃষ্ণ দাস কয় গোরা না ভজিলে নয় এ ঘর-করণে দেহ ডোর॥ এই পদটিই জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ- তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪, পৃষ্ঠা ১৯১-এভাবে, কয়েকটি শব্দ ও বানান বদলে এভাবে রয়েছে । ॥ পাহিড়া॥ কি মধুর-মধুর বয়স নব কৈশোর মূরতি জগমনহারী। কি দিয়া কেমনে বিধি নিরমিল গোরা-তনু আকুল কুলবতী নারী॥ ধ্রু॥ বিফলে উদয় করে গগনে সে শশধরে গোরা-রূপে আলা তিন লোকে। তাহে এক অপরূপ যেবা দেখে চাঁদমুখ মনের আঁধার নাহি থাকে॥ ঢল ঢল প্রেমমণি কিয়ে থির দামিনী ঐছন বরণক আভা। তাহে নগরালী বেশ ভুলাইল সব দেশ মদনমনোহর শোভা॥ যতী সতী মতিহত শেষ যেন কুলব্রত আইল ভুবন-চিত-চোর। হরেকৃষ্ণ দাসে কয় গোরা না ভজিলে নয় এ ঘর-করণে দেহ ডোর॥ এই পদটির শেষ দুলি কলিতে দেহ ডোর কথাটির অর্থ বোঝাতে, পদকল্পতরুর ৬০সংখ্যক, হরিকৃষ্ণ দাসের “কি মধুর মধুর বয়স নব কৈশোর” (একই পদ অন্য কবির নামে) পদটির টীকায় লিখেছেন --- পদকর্ত্তা হরিকৃষ্ণ দাস বলিতেছেন যে, এরূপ অপূর্ব্ব (গৌরাঙ্গকে) ভজন না করিলে চলিবে না ; (অতএব) এই ঘরকন্নার কাজে ডোর দেও অর্থাৎ ডোর দিয়া ঘর-কন্নার পাঠ তুলিয়া রাখ। প্রাচীন কালে তুলট কাগজে পুথি লিখিয়া উহা বস্ত্রখণ্ড ও ডোর দিয়া বান্ধা হইত এবং গ্রন্থ পাঠ অন্তেও উহা ডোর দিয়া বান্ধিয়া রাখা হইত ; উহা হইতেই “কোন কাজে ডোর দেওয়া” বলিলে সেই কার্য্যটি বন্ধ করা বুঝা যায়। --- সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীরাধা রমণ চরণ অনুক্ষণ কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪১। মঙ্গলাচরণ ॥ ধানশী॥ শ্রীরাধা রমণ চরণ অনুক্ষণ মন যাহা করিয়ে ধিয়ানে। নিগূঢ় নিরমল বীজ রসময় কৃপায় কৈল আরোপণে॥ তছু পদ পঙ্কজ হোই অতি সঙ্কোচ প্রণিপাত করিয়ে অষ্টাঙ্গে। ঠাকুর পিতামহ শ্রীঠাকুর কালিদাস পূজারি গোসাঞি তছু সঙ্গে॥ গোসাঞি শ্রীভূগর্ভ শাখাময় সর্ব্ব লোকনাথ প্রভু পরমাণ। দয়িত শ্রীগৌরবর পণ্ডিত শ্রীগদাধর লীসা বিলসন স্থান॥ এ দাস হরেকৃষ্ণ ভাবত অবিরত শ্রীগদাধর পদ দ্বন্দ্ব। আন অভিলাষত বিষয় বিষ পাশ ছেদ কবহ ভববন্ধ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রীচৈতন্য শচীসূত নিত্যানন্দ অবধূত কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪১। ॥ পাহিড়া॥ শ্রীচৈতন্য শচীসূত নিত্যানন্দ অবধূত অদ্বৈত আচার্য্য প্রভু জয়। পণ্ডিত শ্রীগদাধর স্বরূপ শ্রীদামোদর জগদানন্দ রসময়॥ নরহরি ঠাকুর শ্রীবাস পণ্ডিত আর মুকুন্দ মুরারি হরিদাস। গৌরহরি করি দয়া পারিষদগণ লৈয়া নবদ্বীপে করিলা বিলাস॥ গোসাঞি সনাতন রূপ গৌর প্রেম রসভূপ অবনিতে করিলা বিস্তার। আনন্ত আচার্য্য যাইয়া গদিতে গোসাঞি হৈয়া গোবিন্দ সেবার অধিকার॥ ভূগর্ভ গোসাঞি জীব ভট্ট রঘুনাথ যুগ আর যত বৈষ্ণব ঠাকুর। কাতর হৈয়া অতি হরেকৃষ্ণ করে নতি দেহ মোরে চরণের ধূর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জানি ঘোর কলিকাল অবনিতে অবতার কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪১। ॥ কামোদ॥ জানি ঘোর কলিকাল অবনিতে অবতার জীব সব মলিন দেখিয়া। দয়া করি গৌরহরি শচীগর্ভে অবতরি সঙ্গে পারিষদগণ লৈয়া॥ গোলোকের প্রেমধন করে গোরা বিতরণ অধম পতিত নাই মানে। চার বেদের পার হরিনাম মন্ত্র সার দিলা গোরা সভাকার স্থানে॥ যতেক পতিত ছিল সকলে উদ্ধার হৈল জগাই মাধাই তার সাখি। শুনি সব নরনারী ধায় উভবাহু করি চল যাই গোরা চাঁদে দেখি॥ শিব বিহি পুরন্দর সব দেব অগোচর গোলোকে যতেক সুখ ছিল। হরি হরি বোল শুনি খোল করতাল ধ্বনি নবদ্বীপে আনি প্রকাশিল॥ হেন গোরা অবতার কোন যুগে নাহি আর কভু নাহি শুনি দুই কানে। হরেকৃষ্ণ করে নতি শ্রীগুরু বৈষ্ণবের রতি মন রহু গৌরাঙ্গ চরণে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কলিকাল করি ধন্য অবতারি শ্রীচৈতন্য কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪২। ॥ কামোদ॥ কলিকাল করি ধন্য অবতারি শ্রীচৈতন্য নবদ্বীপে করিলা বিহার। গোলক গোকুল ধাম ধন্য নবদ্বীপ গ্রাম যাহে পূর্ণ পূর্ণ অবতার॥ স্বয়ং কৃষ্ণ ভগবান নিত্যানন্দ বলরাম অদ্বৈত আচার্য্য সদাশিব। পণ্ডিত গদাধর প্রভুশক্তিগণ বর উদ্ধারিতে কলি ঘোর জীব॥ শচী মাতা অগ্রগণ্যা যশোদা রোহিণী ধন্যা ধন্য ধন্য মিশ্র জগন্নাথ। জন্মিয়া যাহার ঘরে সন্ন্যাসী হইয়া ফিরে কৃষ্ণ চন্দ্র আপনি সাক্ষাৎ॥ করিয়া পরম দয়া পারিষদগণ লইয়া হরি নামে জীব তরাইল। যতেক পতিত ছিল সকলে উদ্ধার হৈল হরেকৃষ্ম পড়িয়া রহিল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভকত সঙ্গ নাচত রঙ্গ প্রেমে পূরল গৌর অঙ্গ কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪২। ॥ তুড়িরাগ॥ ভকত সঙ্গ নাচত রঙ্গ প্রেমে পূরল গৌর অঙ্গ প্রিয় গদাধর হেরিয়া। বাজত তাল মৃদঙ্গ ভাল মনহি গাঢ় ভাব বাঢ় হরি হরি বোল বলিয়া॥ চরণ তাল অতি রসাল আধ আধ ভাসত ভাল অপরূপ গোরা নাচিয়া। লোচন লোর ঢরকে জোর দেখি ভকত বৃন্দ ভোর সুরধুনি পড়ে বাহিয়া॥ বধির অন্ধ পরমানন্দ ধায় অধম অগতি মন্দ প্রেম দিছে গোরা যাচিয়া। নটন নাট বিনোদ ঠাট শুনি হরিনাম মন্ত্র পাঠ তরিল ত্রিবিধ তাপিয়া॥ না জানি ছন্দ বিষয় অন্ধ ভাগ্য নহিল সাধু সঙ্গ দাস হরেকৃষ্ণ পাপিয়া। নাহি ভজন ধ্যান মনন পাপী তরাও গৌর তারণ করুণ নয়নে হেরিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |