কবি হরেকৃষ্ণ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
হেদেলো মালিনী স্বপ্ন হইল পরতেক
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা
৯৪৩।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাসের পূর্ব্বাভাষ

.        ॥ বিভাস॥

হেদেলো মালিনী স্বপ্ন হইল পরতেক।
নিশি অবশেষে আমি দেখিলাঙ যতেক॥ ধ্রু॥
কেশব ভারতী আসি কিবা মন্ত্র দিল।
গৃহ ছাড়ি গোরা মোর সন্ন্যাসী হইল॥
কি করিবে বিষ্ণুপ্রিয়া কি করিব আমি।
কেমনে রহিব ঘরে বোলনা মালিনী॥
কে হেন কঠিন আছে কে তোমা বুঝাবে।
দাস হরেকৃষ্ণ প্রাণ কেমনে ধরিবে॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কলি জীব-দেখি দীন সর্ব্ব ধর্ম্ম ক্রিয়াহীন
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৩।

গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস

॥ সুহইরাগ॥

কলি জীব-দেখি দীন                                সর্ব্ব ধর্ম্ম ক্রিয়াহীন
হরি নামে হইল বিমুখ।
সংসার অসার রস                                হইয়া তাহার বশ
না ঘুচিল ভবভয়দুখ॥
যুগে যুগে অবতারি                               ধর্ম্ম সংস্থাপক হরি
কলিযুগে গোরা অবতার।
জীবিরে করিয়া দয়া                              হরি নাম লওয়াইয়া
ভব ভয় দুঃখ কৈলা পার॥
নাহি শুদ্ধি কালাকাল                              পাত্রাপাত্র সুবিচার
সর্ব্ব বর্ণে সমান করুণা।
পরশ পরশ মাত্র                                লৌহ আদি তাম্র পাত্র
যেমন সকল হয় সোনা॥
কে বুঝে তাহার মর্ম্ম                             পালিতে আপন ধর্ম্ম
আশ্রমে হইলা দণ্ডধারী।
গৌরাঙ্গ দাসের দাস                              মনে এছি অভিলাস
হরেকৃষ্ণ বড় সাধ করি॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৃহ ছাড়ি গেলা গোরা সন্ন্যাসী হইয়া
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা
৯৪৩।

গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস

.        ॥ সুহইরাগ॥

গৃহ ছাড়ি গেলা গোরা সন্ন্যাসী হইয়া।
না দেখিলাঙ চাঁদমুখ নয়ান ভরিয়া॥
কান্দে শচী ঠাকুরাণি কান্দে বিষ্ণুপ্রিয়া।
হিয়ার মাঝারে শেল রহিল পশিয়া॥
টানিয়া খসাইতে চাহি বাহির না হয়।
তুষের আনল যেন সদাই জ্বলয়॥
কঠিন হৃদয় মোর না যায় ফাটিয়া।
শূন্য গৃহে কেমনে রহিবে বিষ্ণুপ্রিয়া॥
দাস হরেকৃষ্ণ মন পাষাণ জিনিয়া।
কেমনে ধরিব প্রাণ গোরা না দেখিয়া॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নব অবতারে অবতার চূড়ামণি
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা
৯৪৩।

গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস

.        ॥ তুড়িরাগ॥

নব অবতারে অবতার চূড়ামণি।
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নাম কোথাও না শুনি॥
ভারতীর কর্ণে মন্ত্র কহিয়া আপুনি।
সন্ন্যাসী হইলা পহুঁ সেই মন্ত্র শুনি॥
শিক্ষাগুরু হইয়া হইলা তাঁর শিষ্য।
হেন অদভূত লীলা অশ্রুত অদৃশ্য॥
নিত্যানন্দ অদ্বৈত পণ্ডিত গদাধর।
নরহরি আদি সঙ্গে প্রেমে গরগর॥
প্রকট করিলা কলিযুগ অবতার।
হরি নামে উদ্ধারিলা সকল সংসার॥
দাস হরেকৃষ্ণ মাত্র রহিল পড়িয়া।
কেনেবা গৌরাঙ্গ চাঁদের না হইল দয়া॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরা চাঁদ হারা শুনি গোপীনাথ ঘরে
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা
৯৪৪।

শ্রীগৌরচন্দ্রের অন্তর্দ্ধান

.        ॥ তুড়িরাগ॥

গোরা চাঁদ হারা শুনি গোপীনাথ ঘরে।
দারুঁ বিষের শেল ফুটিল অন্তরে॥
টানিয়া খসায় কেহ হেন নাহি দেখি।
বিষম শেলের বিষ জ্বলে ধ্বকধ্বকি॥
গোরা বিনে দশদিশ সকলি আন্ধার।
গোরা বিনে ধিক ধিক জীবন আমার॥
এ কথা শুনিয়া কেনে না গেল পরাণ।
কেমন কঠিন হিয়া পাষাণ সমান॥
দাস হরেকৃষ্ণ মরে বুক বিদরিয়া।
নিরবধি ঝুরে আঁখি গোরা না দেখিয়া॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌরাঙ্গ বিচ্ছেদ কথা বিষ্ণুপ্রিয়া শুনি
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা
৯৪৪।

শ্রীগৌরচন্দ্রের তিরোধানে শ্রীবিষ্ণপ্রিয়ার খেদ

.        ॥ তুড়িরাগ॥

গৌরাঙ্গ বিচ্ছেদ কথা বিষ্ণুপ্রিয়া শুনি।
বজর পড়িল মাথে লোটায়ে ধরণী॥
সন্ন্যাসী হইয়াছিল শুনিতাম বারতা।
তাহাও বঞ্চিত কৈলে দারুণ বিধাতা॥
বিলাপ শুনিয়া পশুপাখি নহে স্থির।
নরনারীগণ কান্দে বৃক মেলে চির॥
দাস হরেকৃষ্ণ কান্দে কঠিন হৃদয়।
কিবা জল কিবা স্থল দেখি গোরাময়॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঠাকুর নিতাই চাঁদ দয়া কর মোরে
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৪।

শ্রীনিত্যানন্দ

॥ তুড়িরাগ॥

ঠাকুর নিতাই চাঁদ দয়া কর মোরে।
তোমার চরিত্র নাম                                  দিবা নিশি অবিরাম
সদা যেন কণ্ঠে মোর স্ফুরে॥ ধ্রু॥
হাড়াই পণ্ডিত ধাম                                    একচক্কা নামে গ্রাম
অবতার অনন্ত বৈভব।
অগতি জনার বন্ধু                                     নিতাই করুণা সিন্ধু
প্রেম দিছেন হৈয়া অকৈতব॥
চৈতন্যের যাহারে রোষ                              নিত্যানন্দ ক্ষমি দোষ
হেন পাপী নিস্তার করিলা।
নিজ পুরি দেখি শূন্য                                 যম আসি করে দৈন্য
মোরে অধিকার ছাড়াইলা॥
পূর্ব্বে নামাভাসে যেন                                অজামিল ব্রাহ্মণাধম
সব পাপে করিলা উদ্ধার।
হরি নাম শুনি এবে                                     বৈষ্ণব হইল সভে
কেনে মোরে দিলা অধিকার।
নিত্যানন্দ পদে আশ                                   করে হরেকৃষ্ণ দাস
দেহ মোরে নিজ পদছায়া।
যদি জন্ম হয় পুন                                       চৈতন্য নিতাই গুণ
গাই যেন হেন কর দয়া॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাইয়া অভিরাম সঙ্গে প্রভু নিত্যানন্দ রঙ্গে
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৪।

শ্রীনিত্যানন্দ

॥ তুড়িরাগ॥

ভাইয়া অভিরাম সঙ্গে                                প্রভু নিত্যানন্দ রঙ্গে
গরজন নাদ গভীর।
হরি হরি বলি উঠে                                      পড়িয়া ধরণী লুঠে
পুন উঠি বোলে বসুথির॥
ভায়্যার ভাবে তাঁকে                             ভায়্যা ভায়্যা বলি ডাকে
গজগতি জিনি মাতোয়ার।
দীনহীন নাহি মানে                                       হরিনাম বিতরণে
উদ্ধারিলা সকল সংসার॥
এমন করুণা কার                                   হৈয়াছে কি হবে আর
চৈতন্য নিতাই ভাই দুটি।
মহা মহা পাতকীরে                                  প্রেমে আলিঙ্গন করে
নিস্তারিল কত কোটি কোটি॥
প্রভু বংশ অনুপাম                                   শ্রীনন্দকিশোর নাম
গোসাঞির চরণ ধিয়ান।
নিত্যানন্দ প্রেম বিধু                                     তাঁহার চরণ মধু
দাস হরেকৃষ্ণ করে পান॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় সীতানাথ আচার্য্য অদ্বৈত
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৫।

শ্রীঅদ্বৈতাচন্দ্র


জয় সীতানাথ                                 আচার্য্য অদ্বৈত
শান্তিপুর গ্রামে বাস।
স্নান করি নিতি                                তীরে ভাগীরথী
মনে করি অভিলাষ॥
দেই গঙ্গাজল                                      পরম নির্ম্মল
ঝারি ভরি বারে বারে।
করে আকর্ষণ                                    শ্রীনন্দ নন্দন
হবে গোরা অবতার।
তুলসী মঞ্জরী                                    করাঙ্গুলে ধরি
তাঁহে করে সমর্পণ।
পুলকে পূরিত                                   লোচন মুদিত
হৈয়া আনন্দিত মন॥
হরেকৃষ্ণ ভণে                                অদ্বৈত কারণে
চৈতন্য প্রকট লীলা।
দেখ সর্ব্বজন                                   সঙ্গে ভক্তগণ
গৌরাঙ্গ চান্দের মেলা॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় সীতানাথ প্রভু অদ্বৈত আচার্য্য
কবি হরিকৃষ্ণ দাস
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা
৯৪৫।

শ্রীঅদ্বৈতাচন্দ্র

.        ॥ তুড়িরাগ॥

জয় সীতানাথ প্রভু অদ্বৈত আচার্য্য।
পরম মঙ্গল তিন লোকে শিরোধার্য্য॥
চৈতন্য ভকতি দাতা জগতের পতি।
অচিন্ত্য মহিমা প্রভুর অচিন্ত্য শকতি॥
অদ্বৈত জয় জয় প্রভু অদ্বৈত জয় জয়।
যাঁহার কৃপাতে গৌর ভক্তি উদয়॥
যাঁহার হুঙ্কারে গোরা কৈলা আগমন।
ভক্তবৃন্দ সঙ্গে নবদ্বীপ বিলসন॥
চৈতন্য ভকতি জানে প্রভু সীতানাথ।
যাঁর অভিলাসে কৃষ্ণ চৈতন্য সাক্ষাৎ॥
দাস হরেকৃষ্ম কহে অদ্বৈত চরণে।
শরণ লইলাঙ প্রভু জীবনে মরণে॥

.        *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর