| কবি হরেকৃষ্ণ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| প্রভাতে উঠিয়া রাণী কোলেতে যাদব মণি কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৫। শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা ॥ তুড়িরাগ॥ প্রভাতে উঠিয়া রাণী কোলেতে যাদব মণি স্তন্য দেয় মুখচান্দ দেখি। আরে বাছা বলি মোর সব অঙ্গে ফিরায় কর অন্তরে হইয়া বড় সুখি॥ ধরিয়া মায়ের স্তন মুখে করি আরোপণ গোপাল টানিছে ধীরে ধীরে। কতোবা উদরে যায় কতো দুধ বাহিরায় মুখ বায়্যা পড়িছে শরীরে॥ নন্দ আসি হেন কালে শোধাইছে যশোদায়ে দুধ কেন তোলে শ্যাম রায়। রাণী বোলে নাহি ডর পোসাল্যাছে পয়োধর রাত্রে বাছা দুধ নাহি খায়॥ অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড পতি পুত্র ভাবে যশোমতী তাহারে করায় স্তন পান। দাস হরেকৃষ্ণ বোলে ত্রিভূবন মণ্ডলে কার ভাগ্য যশোদা সমান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গোপালের ধরি করে নন্দরাণী লই ফিরে কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৫। শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা ॥ তুড়িরাগ॥ গোপালের ধরি করে নন্দরাণী লই ফিরে আঙ্গিনাতে হাঁটন শিখায়। খেনে খেনে ছাড়ি কর বলে কোলে আস মোর আরে আরে সোনার শ্যাম রায়॥ রাণী দেয় করতালি হাঁটি পদ দুই চারি ধরে আসি মায়ের আঁচল। রাণী ছাড়াইয়া চীর বোলে বাছা হও স্থির গোপাল করিছে টলমল॥ বাহু পশারিয়া রাণী কোলে করি যাদুমণি যায় তরা ভিতর মহলে। মনে পাইয়া বড় সুখ হেরি হেরি চান্দ মুখ চুম্ব দেই বদন কমলে॥ করেতে নবনী করি গোবালের মুখে ধরি খাওয়াইছে মনের আনন্দে। দাস হরেকৃষ্ণ মন দিবা নিশি অনুক্ষণ ভজি রাঙা চরণারবিন্দে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জয় নন্দ নন্দন পরম কারণ কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৬। শ্রীকৃষ্ণের রূপ ॥ মালসীরাগ॥ জয় নন্দ নন্দন পরম কারণ গোপ বধুজন মোহিতে। বরণ চিক্কণ জিনি নবঘন পীত অম্বর শোভিতে॥ চরণ যুগল অরুণ মণ্ডল বাজন নূপুর বাজিতে। যুগ্ম কর পর মুরলী সুন্দর বিম্বাধর পুট রাজিতে॥ চারু কপোল কটিল কুন্তল শ্রবণে কুণ্ডল দোলিতে। লোচন অম্বুজ বাণ মনসিজ চিত্ত কুলবতি লোলিতে॥ ভাঙু ভঙ্গিম চুড়া চন্দ্রিম বদন বিধুবর খণ্ডিতে। দাস হরেকৃষ্ণ পরম আনন্দ ওরূপ মাধুরী মণ্ডিতে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ইন্দ্রনীল মণি মাজিয়া দাপনি কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৬। শ্রীকৃষ্ণের রূপ ॥ কামোদ রাগ॥ ইন্দ্রনীল মণি মাজিয়া দাপনি শ্রীমুখ মণ্ডল শোভা। লোচন কজল ভরমে ভ্রমর উড়ি ফিরে মধু লোভা॥ লোলিত অলক মধুপ দোলক চিকুর মালতী মালে। চূড়া বান্ধে উচ তাহে শিখি পুছ বনমালা দোলে গলে॥ নাসা আগে মোতি বিরাজিত অতি ভ্রূযুগ কাম কামান। ভালে তিলকিত বধিতে ষোষিত বুঝি আধ চাঁদ বাণ॥ শ্রুতি মূলে ভাল মকর কুণ্ডল উজোরিত গণ্ডদেশ। হেরি কুলবতি হইল উমতি না রহিল কুললেশ॥ মরি শ্যাম রূপের বালাই লৈয়া। সুরঙ্গ অধর মুরুলী মধুর শুনি কে ধরিবে হিয়া॥ বাহু করিকর ঊরু পরিসর খীন মাঝ পীত বাস। ও রাঙ্গা চরণ ভজন বিহীন দীন হরেকৃষ্ণ দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জয়তি জয় বৃখভানু নন্দিনী কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৬। শ্রীরাধার রূপ ॥ মালসী রাগ॥ জয়তি জয় বৃখভানু নন্দিনী নন্দনন্দন মোহিতা। রূপ অদভুত বরণ বিদ্যুত নীল অম্বর শোভিতা॥ সিংহ জিনি মাঝ বদন দ্বিজ রাজ দশন মোতিম পাঁতিয়া। জিনি ইন্দিবর নয়ন যুগল বিম্ব অধরক ভাঁতিয়া॥ ভাঙু যুগ জনু পঞ্চশর ধনু নাসা তিলফুল রঞ্জিয়া। অলকা কুন্তল ভ্রমর বেড়ল উড়ি ফিরে যৈছে গঞ্জিয়া॥ অমিয়া ভাষণ অপাঙ্গ ঈক্ষণ নন্দ সুত সুখ কাঞ্চনি। চরণ যুগল ভরোসা কেবল দাস হরেকৃষ্ণ নিছনি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাইর চরণ যাবক মণ্ডন কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৭। শ্রীরাধার রূপ ॥ মালসী রাগ॥ রাইর চরণ যাবক মণ্ডন রতন নূপুর পায়। নীলমণি যুত কনক খচিত নানা আভরণ গায়॥ মাজা অতি খিনী শোভিছে কিঙ্কিণী কঙ্কণ কেয়ূর করে। গলে হেম মাল গজমোতি হার উরস মাঝারে দোলে॥ নাসায় বেশর বদন উজর জিনিয়া শরদ শশি। শ্রবণ গিধিনী নয়ন হরিণী বচন অমিয়া রাশি॥ নীল নিচোলিনি তড়িত বরণী চমরী চামর কেশ। ভাঙু যুগ জনু রতিপতি ধনু শ্যাম বিলাসিনী বেশ॥ করিয়া করুণা দাসীর গণনা যদি কর ব্রজেশ্বরী। হরেকৃষ্ণ মন যুগল চরণ তবে সে সেবিতে পারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কে না কৈল এনা বেশ খানি কবি হরিকৃষ্ণ দাস হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৯৪৭। শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ ॥ সিন্ধুড়া॥ কে না কৈল এনা বেশ খানি। বুঝিলাভ মনে হেন এরূপ দেখিয়া মেন জীবে গো গোকুলের কামিনী॥ ধ্রু॥ নব গুঞ্জা চূড়া বান্ধা তাহে ময়ূরের চান্দা আর তাহে বিনোদ টালনি। ভুরু যুগ ধনু কাম বঙ্কিম নয়ন ঠাম আর তাহে বঙ্কিম চাহনি॥ বদন পুণিম শশি তাহে মৃদু মৃদু হাসি অধর বান্ধুলি ফুল জিনি। মুরলী মধুর স্বরে শুনি কে রহিবে ঘরে গোকুলের যতেক কামিনী॥ বনমালা গলে শোভে অলিকুল মধু লোভে চৌদিকে বেড়িয়া করে ধ্বনি। পরিধান পীত বাস ও রাঙা চরণে আশ হরেকৃষ্ণ সদাই নিছনি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |