| কবি হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা |
| উজানি পাঠে @ কবি হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২৩বঙ্গাব্দ (১৯১৬ খৃষ্টাব্দ) সংখ্যায় প্রকাশিত। ( ১ ) কুমুদরঞ্জন! তোমার জ্যোছনা রাশি অমরার সুধা হাসি অমিয় কবিত্ব ধারা মধু প্রস্রবন--- ভাসায়ে পল্লীর বুক, হেরিতেও কত সুখ প্লাবিত করিয়া দেহে’ প্রান্তর কানন ; ওগো পল্লীতীর্থযাত্রী! যদিও এ দুখরাত্রী রেখেছে ঘেরিয়া মোর পল্লীনিকেতন, তবু এ দুখের পাছে এই এক সুখ আছে--- তোমার শীতল শান্ত কর পরশন। দিবার ‘রবির’ কর উজল প্রখরতর পশে নাই পল্লীমাঝে, তমো আবরণ--- কি গাঢ় কুহেলিকায় ছেয়ে রেখেছিল তায় নিরাশায় পল্লীভূমি ছিল নিমগন! আজি তুমি এলে কবি করুণার হেমছবি লয়ে শ্রদ্ধা ভক্তি প্রীতি অমরার ধন। দূরে গেছে অন্ধকার হৌক নিশি, তবু আর নাহি দুঃখ, এ নিশির আছে প্রয়োজন। “মঙ্গলার” পদে মোর এ প্রার্থনা যেন ভোর--- না হয় এ নিশি ; পল্লী অদৃষ্ট গগন--- করি চির সমুজ্জ্বল নিষ্কলঙ্ক পূর্ণকল থাকুক পল্লীর হৃদি কুমুদরঞ্জন! ( ২ ) কুমুদরঞ্জন! যেই তুলি করে ধরি “ফুল্লরা” চিত্রিত করি অমর হইল বঙ্গে “কবিকঙ্কণ”। খুল্লনা শ্রীমন্ত কথা আজো আঁকা যথাতথা “চণ্ডীর মঙ্গল গাথা” হৃদি-রসায়ন। উজানি --- অজয়তীরে সেই তুলি ল’য়ে কি রে স্বর্ণ মরালীরে তোর করিলি অঙ্কন ? বড় প্রাণ কাঁদে ভাই শুধাইতে চাহি তাই ফেরে নিকি চন্দ্রকান্ত হেরি বৃন্দাবন ? দুইটি হাঁসের লাগি সেই যে গেছে অভাগী--- আদুরি, আজো কি তোর ফেরেনি এখন ? আঁখি দুটি ছল ছল আজো কিরে ঢালে জল “কাটা তরুমূলে” সেই বালক দুজন ? হৃদয় “কুনুর” কোলে আজিও কি তোর জ্বলে--- সেই আলো---“জননীর উজল নয়ন” ? কোথায় “চণ্ডালী” তোর কোথা “কাপালিক” ঘোর ? আছে কি এখনও সেই মসজেদ ভবন ? শত নয়নের জল কলকলে কি বিকল মাঝে যার নদী হ’য়ে বহিছে বেদন! আমি পল্লীবাসী দীন এ অপরিশোধ্য ঋণ--- চিরদিন মনে মনে রহিবে স্মরণ। স্মরিব এ উপকার দেখা ভাই একবার--- করি পল্লীজননীর স্বরূপ দর্শন। দেরে সেই দিয়া আঁখি একবার মাকে দেখি--- সার্থক জনম---হৌক সফল জীবন। বঙ্গে পল্লী আছে যত সবাই তোর উজানি ত’ তুই যে --- সবার চিত্র কুমুদরঞ্জন। . ************************* @ - উজানির “পল্লীকবি” সোদর প্রতিম সুহৃদয় শ্রীযুক্ত কুমুদরঞ্জন মল্লিক বি.এ. প্রণীত “উজানি” পাঠে লিখিত। . সূচীতে . . . মিলনসাগর |