কবি হরিবল্লভের বৈষ্ণব পদাবলী
*
সজনি! অব কি করব বিচারি
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে,
রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।
ত্রয়োবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা অষ্টমী, পদসংখ্যা ১১, পৃষ্ঠা ১৮৭।


॥ সুহই॥

সজনি! অব কি করব বিচারি।
মনমথ-বধিক                                অধিক অব হানত
চেতন হরল হামারি॥ ধ্রু॥
বরজ-ভুজঙ্গম                                   রঙ্গ করু কাননে
কত কত যুবতীকো কোর।
প্রেম কো আগি                                লাগি অব এ তনু
ভেল ভসম সম মোর॥
নিজ কুল-ধরম                                করম সব তেজলুঁ
পাওলুঁ তাকর সাথি।
অলি-পিক-পুঞ্জ                                কুঞ্জ গিরি কাননে
রোই কহলুঁ মধু-রাতি॥
তোহুঁ বচন মানি                              আন নাহি জানত
মঝু জীবন অব যাত।
সুনি ধনা-ভাষ                                 পাশ হরিকে তব্
হরিবল্লভ করু বাত॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রেমকো সাগর নাগর ধীর
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”। ত্রয়োবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা অষ্টমী, পদসংখ্যা ১৪, পৃষ্ঠা ১৮৯।


.        ॥ বরাড়ী॥

প্রেমকো সাগর নাগর ধীর।
জানল ধনী বিরহানলে পীর॥
লোরহিঁ ভিজল পিয়ল চীর।
বিজুরী বরষি জনু সরসিজ-নীর॥
তরণী-সুতাকো সরণী অবগাহ।
চেতন কেলি-নিকেতন মাহ॥
দরশি কলাবতী হরষিত অঙ্গ।
মাধব সাধ বহুত রতি-রঙ্গ॥
মপখময় মুখ মধুরামৃত-রাশি।
হিমকর-নিকর-বিড়ম্বন হাসি॥
যব্ ধনী লোচন চকিত চকোর।
ঢলঢলি উছলি পড়ল তছি কোর॥
ঝাঁপল তনু পুন ঝাঁপল গাত।
দামিনী জনু ঘনে উগি লুকি যাত॥
ভুজ ধরি যব্ হরি বর তনু রাখি।
কুঞ্চিত তনু তব্ সিঞ্চিত শাখী॥
সুরতরু-কুঞ্জ সুরত-রস-ফুল।
হরিবল্লভ পরিমল ভরিপূর॥

.     *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা গুণমণি-মালা
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”। চতুর্বিংশ ক্ষণদা - শুক্লা নবমী, পদসংখ্যা ৭, পৃষ্ঠা ১৯৫।


.                        ॥ কল্যাণ॥

.                রাধা গুণমণি-মালা।
কলিত-দয়িত-দবথু-ব্রজ-নির্ধূত-মান-বিষম-বিষ-জ্বালা॥
প্রণয়-সুধারস-সার-গঠিত-তনু বিগলিত-গৌরব-ভঙ্গা।
সরসং তমভিসসার রসার্ণবমচিরাদতনু-তরঙ্গা॥
কুঞ্জ-কুটীর-তটাঙ্গন-সঙ্গিনমঙ্গিনমিব রস-রাজং।
কুটিল-দিগন্ত-শরেণ নিতান্তমবিধ্যমিদমং ন্যুতি-ভাজং॥
শাম্যদপি স্ফুট-বাম্য-তিমিরমিয়মপি পুনঃ কৃতমানা।
হরিবল্লভ-সরলালীততি কতি বাস্যতু তদযতমানা॥


অনুবাদ -
শ্রীরাধা অশেষ সদ্গুণের মণিমাল্য। প্রিয় দয়িতের ( বেদনার কথা শুনিয়া তাহার ) বিরহ-
তাপ-নিচয় গ্রহণপূর্ব্বক আপন মানজনিত বিষম বিষজ্বালা নিভাইয়া দিল। শ্রীরাধার দেহ
প্রণয় সুধারসের সার দিয়া গঠিত। তাই প্রেমাবেগের আকুলতায় আপন গৌরব তরঙ্গ
বিগলিত করিয়া ( শ্রীকৃষ্ণ ) রসসমুদ্রে মিলিত হইবার জন্য অভিসারে চলিয়াছেন। কিন্তু
কুঞ্জকুটূরদ্বারে উপনীত হইয়া ( বামাস্বভাবা এই রামা ) অঙ্গনে রসরাজকে দেখিয়া তাহার
স্তুতি উপেক্ষাপূর্ব্বক কুটিল কটাক্ষশরে বিদ্ধ করিতেছেন। যে বামতারূপ অন্ধকার
সম্যকরূপে প্রশমিত হইয়াছিল, পুনরায় সেই বামতানিমগ্না এই মানিনীকে আমরা---
হরিবল্লভা সরলা সখীগণে আর কিরূপে বুঝাইয়া মান উপশম করিব। হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৮১৫।

.     *************************                      
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিষম বিশিখ সম কুটিল কটাখ
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”। চতুর্বিংশ ক্ষণদা - শুক্লা নবমী, পদসংখ্যা ১১, পৃষ্ঠা ১৯৮।


.        ॥ বরাড়ী॥

বিষম বিশিখ সম কুটিল কটাখ।
ভাখই চাহ তবহুঁ নাহি ভাখ॥
শুনি শুনি পিয়-মুখ-মধুরিম বোল।
সঘন হুঁ হুঁ করি শীষহিঁ দোল॥
পুলকে ভরয়ে তনু ঝরয়ে নয়ান।
তবহুঁ না দেই অধর-মধু-পান॥
সখীগণ ইঙ্গিত নয়ন-চকোর।
মাধব ধওল পটাঞ্চল-ওর॥
পালটি বদন ধনী দেওলি পিঠ।
তবহুঁ না তেজই নাগর ঢীঠ॥
লহু লহু ঘোঙ্গট করয়ে উঘার।
তৈখনে হসই রোখই কত বার॥
ভুজ ধরি আনল সুরত-শয়ান।
হরিবল্লভ অলিকুল গুণ গান॥

.     *************************        
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু পেখলুঁ ধনী অভিসার
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে,
রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।
পঞ্চবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা দশমী, পদসংখ্যা ৬, পৃষ্ঠা ২০৩।


॥ কেদার॥

আজু পেখলুঁ ধনী অভিসার।
জানি বিলম্ব                                 তেজি পরিজনগণ
আপহিঁ করল শিঙ্গার॥ ধ্রু॥
মনসিজ অন্তরে                                    মন্তর লেখল
অঞ্জনে তিলকিত ভাল।
মৃগমদে নয়ন-                                কমল-দলে আঁজন
শোভা করে শরজাল॥
যাবক-রসে কুচ-                                 কলস রঙ্গাওল
তাকর অতুল ভাণ্ডার।
কিঙ্কিণী কণ্ঠে                                   হার জঘনে ধরি
তাকর পাশ বিথার॥
সংভ্রম-ভরম-                                     মহোদধি ডুবল
চললি নিতম্বিনী রঙ্গে।
কহে হরিবল্লভ                                মদন করব কিযে
সঙ্গর পশুপতি সঙ্গে॥

.     *************************       
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাধব মনোরথে বাঢ়ল কাম
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”। ষড়্ বিংশ ক্ষণদা - শুক্লা একাদশী, পদসংখ্যা ৭, পৃষ্ঠা ২১২।


.        ॥ বরাড়ী॥

মাধব মনোরথে বাঢ়ল কাম।
দূতী পাঠাওল শশি-মুখী ঠাম॥
সো ধনী-পাশ কহল সব বাতা।
অনুরাগিণি! অনুকুল বিধাতা॥
এ সখি! শ্যাম সুনাগর রায়।
সো অব তো বিনু ধরণী লোটায়॥
সো রূপ-মাধুরী সব ভেল আন।
যামিনী বিনু কি চাঁদ পঁহিছান॥
এ ধনি! অব জনি করহ বিলম্ব।
সো জীয়ে তোহারি আশ-অবলম্ব॥
এত দিনে সংশয় সব ভেল খীণ।
তুহুঁ ভেলি সলিল কানু ভেল মীন॥
কহে হরিবল্লভ শুন সুকুমারি।
তুয়া বিনে বিকাওল লুবধ মুরারি॥

.        *************************       
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সজনি! কি কহব তোহারি সোহাগ
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে,
রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।
সপ্তবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা দ্বাদশী, পদসংখ্যা ৬, পৃষ্ঠা ২১৯।


॥ শ্রীগান্ধার॥

সজনি! কি কহব তোহারি সোহাগ।
সো প্রিয়তম-তন                                   বয়ন নয়ন মন
এক তোহারি অনুরাগ॥ ধ্রু॥
কত কত নাগরী                                সব গুণে আগোরী
করু কত নয়ন-ভঙ্গ।
সো যব্ আওল                                    কছুও না জানল
তুয়া রস-গমন-তরঙ্গ॥
তুয়া গুণ গুণি গুণি                                কুঞ্জ-সদনে পুনি
জর জর বিরহ-হুতাশ।
প্রেম-তরঙ্গিণী                                      তুহুঁ রস-রঙ্গিণী
অব চলু সো পিয়া-পাশ॥
বহু মণি-ভূষণ                                         জানহুঁ দূষণ
যো রহে তনু-রুচি-ছায়।
সো সব পরিহিরি                            অভিসরু রস ভরি
হরিবল্লভ যশ গায়॥

.        *************************       
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পৈঠলি কেলি-নিকেতন মাহ
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”। সপ্তবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা দ্বাদশী, পদসংখ্যা ৮, পৃষ্ঠা ২২১।


.        ॥ শ্রীরাগ॥

পৈঠলি কেলি-নিকেতন মাহ।
পেখলি শ্যাম-বরণ নিজ নাহ॥
সুন্দর বদনে মধুর মৃদু হাস।
চান্দ ঊয়ল কিযে সরসিজ-পাশ॥
নয়ন-যুগল ভরু আনন্দ-লোর।
পিরীতি অমিয়া কিয়ে উগরে চকোর॥
পুলকে ভরল তনু হরল গেয়ান।
অমিয়া সাগরে জনু করল সিনান॥
উপজল কত কত ভাব-কদম্ব।
সহচরী-পাণি-কমল অবলম্ব॥
মন্থর-গমনে চললি প্রিয়-ঠাম।
সো মাধুরী কো কহু অনুপাম॥
হেরি হেরি উছলল মদন-তরঙ্গ।
কমল-নয়ন ডুবল রস-রঙ্গ॥
কলপ-লতা জনু পাওল রঙ্ক।
হরিবল্লভ পরমাণ নিশঙ্ক॥

.        *************************       
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ইহ নব-বঞ্জুল-কুঞ্জে
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (কবি হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”। অশ্টাবিংশ ক্ষণদা - শুক্লা ত্রয়োদশী, পদসংখ্যা ৫, পৃষ্ঠা ২২৬।


.        ॥ তোড়ি॥

ইহ নব-বঞ্জুল-কুঞ্জে                     কুরুবক-কুসুম-সুষম-নব-গুঞ্জে॥
তামভিসারয় ধীরাং                   ত্রিজগদতুল-গুণ-গরিম-গভীরাং॥
গুরুমঙ্গীকুরু ভারং                    বিরচয় মদন-মহোদধি-পারং॥
ভবতীং গতিমবলম্বে                  যদুচিতমিহ কুরু বিগত-বিলম্বে॥
ইতি গদিতা মধুরিপুণা                ত্বরিতমগাদিয়মতি-নিপুণা॥
রহসি-সরস-চটু রাধাং                সমবোধয়দঘহর-পুরু-বাধাং॥
হৃদি সখি বসসি মুরারে-র্জ্বলয়সি তদপি কিমকৃত-বিচারে॥
অধুনা দৃশি চ বসন্তী                 শিশিরয় তদমৃত-রুচিরিব ভান্তি॥
হরিবল্লভ-গিরমমলাং                শ্রবসি রচয় সুমনসমিব মৃদুলাং॥


এই পদটিই হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
১৯৪৬ তে এইভাবে দেওয়া আছে, ৮১৭ পৃষ্ঠায়।

শ্রীষ্ণের উক্তি

ইহ নব বঞ্জুল কুঞ্জে।
কুরুবক কুসুম সুষম নব গুঞ্জে॥
তামভিসারয় ধীরাং।
ত্রিজগদতুল গুণ গরিম গভীরাং॥
গুরুমঙ্গীকুরু ভারং।
বিরচয় মদন মহোদধি পারং॥
ভবতীং গতিমবলম্বে।
যদুচিত মিহ কুরু বিগত বিলম্বে॥
ইতি গদিতা মধুরিপুণা।
ত্বরিত মগাদিয় মতিশয় নিপুণা॥
রহসি সরস চাটু রাধাং।
সমবোধয়দঘহর পুরু বাধাং॥
হৃদি সখি বসসি মুরারে।
জ্বলয়সি তদপি কিমকৃত বিচারে॥
অধুনা দৃশি চ বসন্তী।
শিশিরয় তদমৃত রুচিরিব ভান্তি॥
হরিবল্লভ গিরমমলাং।
শ্রবসি রচয় সুমনস মিব মৃদুলাং॥


অনুবাদ -
ত্রিজগতে অতুলনীয়া গুণ গরিমা গভীরা শ্রীরাধাকে সুন্দর কুরুবক কুসুমে এবং নূতন
গুঞ্জামালায় সাজাইয়া এই নব অশোককুঞ্জে অভিসার করাইয়া আন। এই কার্য্যভার তুমি
গ্রহণ কর, আমাকে মদন মহাসমুদ্রের তীরে তুলিয়া লও। তুমিই আমার একমাত্র অবলম্বন।
অতএব অবিলম্বে যথাকর্ত্তব্য কর। মধুরিপুর এই বাক্যে অতিশয় নিপূণা দূতী অতি সত্বর
শ্রীরাধার নিকট উপস্থিত হইলেন, এবং নির্জ্জনে সরস চাটু বচনে শ্রীকৃষ্ণের বিরহবেদনা
বর্ণনা করিলেন। বলিলেন সখি ( এ জগতে কেহ নিজগৃহে অগ্নিসংযোগ করে না, আর
) তুমি তোমার একমাত্র আবাসস্থল মুরারির হৃদয় অবিচারে দগ্ধ করিতেছ। এখন তাঁহাকে
দেখা দিয়া চন্দের মত অমৃত বর্ষণে ( তাঁহার দগ্ধ ) হৃদয় শীতল কর। ( ভক্তগণ )
হরিবল্লভের এই অমল বচনাবলী সুরতরুর মৃদু কুসুমের মত কর্ণে ধারণ করুন।  হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদাবলী, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৮১৮।

.        *************************       
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্যামের তনু অব গৌরবরণ
কবি হরিবল্লভ
জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪।

॥ সুহই॥

শ্যামের তনু অব গৌরবরণ।
গোকুল ছোড়ি অব                                   নদীয়া আওল
বংশী ছোড়ি কীরতন॥ ধ্রু॥
কালিন্দীতট ছোড়ি                                  সুর-সরিত তটে
অবহুঁ করত বিলাস।
অরুণবরণ                                       ডোরকৌপিন অব
ছোড়ি পীতধড়া বাস॥
বামে নহত অব                                        রাই সুধামুখী
ব্রজবধূ নহত নিয়ড়ে।
গদাধর পণ্ডিত                                    ফিরত বামে অব
সদা সঞে ভকত বিহরে॥
ছোড়ি মোহনচূড়া                                 শিরে শিখা রাখল
মুখে কহত রারা রারা।
কহ হরিবল্লভ                                  তেরছ চাহনি ছোড়ি
দুনয়নে গলত ধারা॥

.        *************************       
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর