কবি হরিবল্লভের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কেশ কুটিল চঞ্চল অতি লোচন
কবি হরিবল্লভ
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৪৬, পৃষ্ঠা ৮১৬।

॥ কল্যাণ॥

কেশ কুটিল                                   চঞ্চল অতি লোচন
নাসা আঁতর ভিন।
রাগী অধর                                       দশন মলিনান্তর
কুচমণ্ডল সুকঠিন॥
সুন্দরি তুয়া নবযৌবন রাজে।
মঝু মন ধন সব                                        মদন লুঠল
সমুচিত কোই না কাজে॥
ত্রিবলী মধত                                    তাহে নীবি বান্ধল
গভীর নাভি রহু গোই।
ভারি জঘন                                    রসনা রসে দুরমুখ
পর দুখে দুখী নাহি কোই॥
অতি সুকোমল                                     চরণ কমলদল
সুখদ সুরভি নিরমল।
হরিবল্লভ কহ                                  বারেক পরশ দেহ
হৃদয় করহ সিশীতল॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আতুর মাধব পায়ল ধাম
কবি হরিবল্লভ
আনুমানিক ১৭২৫ সালে নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) সংকলিত ও বিরচিত এবং ৪৬২
গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, পৃষ্ঠা ৩৩০।

.        ॥ সৈন্দবী॥

আতুর মাধব পায়ল ধাম।
সম্ভ্রমে জাগল মনমথ গাম॥
ধনী মুখ ঢাকি রহল এক পাশ।
বাদরে শশী জনু করল গরাস॥
চতুর সখীজন ইঙ্গিত জানি।
আরত নাহ ধরল ধনী-পাণি॥
রুঠি বলয় কিয়ে ঝনঝন বাজে।
বালা কছও না কহে ভয়লাজে॥
কত কত সখীজন করয়ে উপায়।
ধনী মুখচন্দ কবহুঁ না দেখায়॥
রতিরস-পণ্ডিত নাগর রঙ্গী।
ছাপি ধরল তব বেণী-ভুজঙ্গী॥
দাহিন হাতে চিবুক গহি রাখে।
সম্ভ্রমে বদন-ইন্দু-রস চাখে॥
নয়ন চকোর অমৃত ভরি পিয়ে।
অপরূপ দুহুঁক জীউ তব জীয়ে॥
ভুজভরি আনল কুসুম-শয়ান।
জনম সফল মানল পাঁচবাণ॥
নখ-খর-অঙ্কুশে কঙ্কুক ফার।
ছটছটি ছোটই মোতিম হার॥
সঘন আলিঙ্গন নির্ভর কেলি।
কহে হরিবল্লভ সব সুখ ভেলি॥


এই পদটি “বল্লভ”-এর ভণিয়ায়ও পাওয়া গিয়েছে, যার প্রথম পংক্তি “আওল মাধব পাওল
ধাম”। আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, ষষ্ঠ ক্ষণদা - কৃষ্ণা ষষ্ঠী, পদসংখ্যা ৮, পৃষ্ঠা ৪৮। পদটি আমরা
বল্লভ ভণিতার পদাবলীর পাতাতেও রেখেছি।

.        ॥ বরাড়ী॥

আওল মাধব পাওল ধাম।
সম্ভ্রমে জাগল মনসিজ-গাম॥
ধনী মুখ ঢাকি রহল এক পাশ।
বাদর-ডরে শশী রহল তরাস॥
চলু সব সখীজন ইঙ্গিত জানি।
আরত নাহ ধয়ল ধনী-পাণি॥
রুঠে বলয়া কিয়ে ঝন ঝন বাজে।
বালা কিছুই না কহু ভয়-লাজে॥
কত কত সখীজন করত উপায়।
ধনী মুখ-চন্দ কবহুঁ না দেখায়॥
রতি-রণ-পণ্ডিত নাগর রঙ্গী।
চাপি ধরল ধনী-বেণী-ভুজঙ্গী॥
ডাহিন হাত চিবুক গহি রাখে।
সম্ভ্রমে বদন-ইন্দু-রস চাখে॥
নয়ন-চকোর অমৃত-রস পিয়ে।
অপরূপ দোহুঁক জীউ তব্ জীয়ে॥
ভুজ ধরি আনল কুসুম শয়ান।
জনম সফল মানল পাঁচ-বাণ॥
সঘনে আলিঙ্গন নির্ভর কেলি।
বল্লভ-বৈদগধি সফলিত ভেলি॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হরি হরি বিহি কি পূরাবে মঝু সাধা
কবি বল্লবি
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ও সংকলিত “পদামৃত লহরী”,
৩৫ পৃষ্ঠা।


.        ॥ ছোট দোঠুকি॥

হরি হরি বিহি কি পূরাবে মঝু সাধা।
হেরব পুনঃ কিয়ে রূপনিধি রাধা॥
যদি মোহে না মিলব সে রব রামা।
তব জীউ ছার ধরব কোন কামা॥
তুহুঁ ভেলি দূতী পাশ ভেল আশা।
জীউ বাঁধব কিয়ে করব উদাসা॥
শুনইতে বচন দূতী অবিলম্বে।
আওলি চলি যাঁহা রমণী কদম্বে॥
কহে হরিবল্লভ শুন ব্রজবালা।
হরি জপতহি তুয়া গুণমণি মালা॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কাহে ডরসি ধনি! চলু হাম সঙ্গ
কবি বল্লভ (হরিবল্লভ)
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।  প্রথম ক্ষণদা - কৃষ্ণা প্রতিপদ, পদসংখ্যা ১০, পৃষ্ঠা ৮। এটি
হরিবল্লভ দাসের নিজের বিরচিত গ্রন্থের কবিতা বলে এটি তাঁর নিজের কবিতাও হতে
পারে। এই ভেবে আমরা এই পদটি এই পাতায় (হরিবল্লভ দাসের পাতায়) অন্তর্ভুক্ত
করলাম। ছন্দের প্রয়োজনে হয়তো ভণিতা সংক্ষেপিত করে থাকতে পারেন।
পদটি কবি “বল্লভ” বা “বল্লভ দাসের” পাতাতেও তোলা হয়েছে

.        ॥ বরাড়ী॥

কাহে ডরসি ধনি! চলু হাম সঙ্গ।
মাধব নহি পরশিব তুয়া অঙ্গ॥
এ রজনী ফুল-কানন মাঝ।
কো এক ফিরত সাজি বহু সাজ॥
কুসুমকো ঘোর ধনুক ধরি পাণি।
মারত শর বালা-জন জানি॥
অতএ চলহ সখি! ভিতর কুঞ্জ।
যঁহি হরি রহত মহাবল-পুঞ্জ॥
এত কহি আনল ধনী হরি পাশ।
পূরল বল্লভ সুখ-অভিলাষ॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু হাম পেখলুঁ কালিন্দী-কুলে
কবি বল্লভ (হরিবল্লভ দাস)
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।  দ্বিতীয় ক্ষণদা - কৃষ্ণা দ্বিতীয়া, পদসংখ্যা ৫, পৃষ্ঠা ১৩। এটি
হরিবল্লভ দাসের নিজের বিরচিত গ্রন্থের কবিতা বলে এটি তাঁর নিজের কবিতাও হতে
পারে। এই ভেবে আমরা এই পদটি এই পাতায় (হরিবল্লভ দাসের পাতায়) অন্তর্ভুক্ত
করলাম। ছন্দের প্রয়োজনে হয়তো ভণিতা সংক্ষেপিত করে থাকতে পারেন।
পদটি কবি “বল্লভ” বা “বল্লভ দাসের” পাতাতেও তোলা হয়েছে

.        ॥ সুহই - দেশাগ॥

আজু হাম পেখলুঁ কালিন্দী-কুলে।
তুয়া বিন মাধব বিলুঠই ধূলে॥
কত শত রমণী মনহিঁ নাহি আনে।
কিয়ে বিখ-দাহ-সময়ে জল দানে॥
মদনভুজঙ্গমে দংশল কান।
বিনহিঁ অমিয়া-রস কি করব আন॥
কুলবতী-ধরম কাচ সমতুল।
মদন দালাল ভেল অনুকুল॥
আনল বেচি নীলমণি-হার।
সো তুম পহিরি করবি অভিসার॥
নীল নিচোলে ঝাঁপহ নিজ দেহ।
জনু ঘন ভিতরে দামিনী-রেহ॥
চৌদিকে চতুরী সখী চলু সঙ্গে।
আজু নিকুঞ্জে করহ রস-রঙ্গে॥
বল্লভ উজ্জ্বল নিকষ সমান।
নিজ তনু-পরীখ হেম দশবাণ॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু সাজলি ধনী অভিসার
কবি বল্লভ (হরিবল্লভ দাস)
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে,
রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।  চতুর্থ
ক্ষণদা - কৃষ্ণা চতুর্থী, পদসংখ্যা ১০, পৃষ্ঠা ৩১। এটি হরিবল্লভ দাসের নিজের বিরচিত গ্রন্থের কবিতা বলে
এটি তাঁর নিজের কবিতাও হতে পারে। এই ভেবে আমরা এই পদটি এই পাতায় (হরিবল্লভ দাসের
পাতায়) অন্তর্ভুক্ত করলাম। ছন্দের প্রয়োজনে হয়তো ভণিতা সংক্ষেপিত করে থাকতে পারেন।
পদটি কবি
“বল্লভ” বা “বল্লভ দাসের” পাতাতেও তোলা হয়েছে


॥ কামোদ॥

আজু সাজলি ধনী অভিসার।
চকিত চকিত                                 কত বেরি বিলোকই
গুরুজন-ভবন-দুয়ার॥
অতি ভয়ে লাজে                                  সঘন তনু কাঁপই
ঝাঁপই নীল নিচোল।
কত কত মনহিঁ                                    মনোরথ উপজত
মনসিজ-সিন্ধু-হিলোল॥
মন্থর-গমনী                                          পন্থ দরশাওলী
চতুর সখি চলু সাথ।
পরিমলে হরিত                                 হরিত করি বাসিত
ভামিনী অবনত মাথ॥
তরুণ তমাল                                        সঙ্গ-সুখ-কারণ
জঙ্গম-কাঞ্চন-বেলী।
কেলি-বিপিন                                    নিপুণ রস অনুসরি
বল্লভ লোচন মেলি॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কহ কহ এ সখি! মরমকি বাত
কবি বল্লভ (হরিবল্লভ দাস)
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।  পঞ্চম ক্ষণদা - কৃষ্ণা পঞ্চমী, পদসংখ্যা ৪, পৃষ্ঠা ৩৬। এটি
হরিবল্লভ দাসের নিজের বিরচিত গ্রন্থের কবিতা বলে এটি তাঁর নিজের কবিতাও হতে
পারে। এই ভেবে আমরা এই পদটি এই পাতায় (হরিবল্লভ দাসের পাতায়) অন্তর্ভুক্ত
করলাম। ছন্দের প্রয়োজনে হয়তো ভণিতা সংক্ষেপিত করে থাকতে পারেন।
পদটি কবি “বল্লভ” বা “বল্লভ দাসের” পাতাতেও তোলা হয়েছে


.        ॥ বালা॥

কহ কহ এ সখি! মরমকি বাত।
সো তোহে কি করল শ্যামর-গাত॥
মনমথ-কোটি-মথন তনু-রেহ।
কৈছে উবরি তুহুঁ আওলি গেহ॥
কুলবতী কোটি হোয়ে যঁহি অন্ধ।
পাওলি কছু কিয়ে সো মুখ-গন্ধ॥
যাকর মুরলী শ্রবণে যহিঁ লাগে।
খসতহিঁ বসন শাশ-পতি-আগে॥
অব নিরধারসি কোন বিচার।
বল্লভ সো রস-সাগর পার॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধনি ধনি রাধা শশি-বদনী
কবি বল্লভ (হরিবল্লভ দাস)
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে,
রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।  পঞ্চম
ক্ষণদা - কৃষ্ণা পঞ্চমী, পদসংখ্যা ৮, পৃষ্ঠা ৩৯। এটি হরিবল্লভ দাসের নিজের বিরচিত গ্রন্থের কবিতা বলে
এটি তাঁর নিজের কবিতাও হতে পারে। এই ভেবে আমরা এই পদটি এই পাতায় (হরিবল্লভ দাসের
পাতায়) অন্তর্ভুক্ত করলাম। ছন্দের প্রয়োজনে হয়তো ভণিতা সংক্ষেপিত করে থাকতে পারেন।
পদটি কবি
“বল্লভ” বা “বল্লভ দাসের” পাতাতেও তোলা হয়েছে

॥ বেলোয়ার॥

ধনি ধনি রাধা শশি-বদনী।
লোচন-অঞ্চল                                চকিত চলত মণি-
কুণ্ডল অলগনি ঝলক বনি॥
মন্দ সুগন্ধ                                      সুশীতল মারুত
ঘুংঘট-অঞ্চল নটত রসে।
নাসা-মোতিম                                   উড়ু জনু খেলত
বিম্বাধর পর হসনি লসে॥
উর-মণিহাক                                     তরঙ্গিণী সঙ্গত
কুচযুগ-কোক সদা হরিষে।
রাজহংস সম                                     গমন মনোরম
বল্লভ-লোচন-সুখ বরিষে॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আওল মাধব পাওল ধাম
কবি বল্লভ (হরিবল্লভ দাস)
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।  ষষ্ঠ ক্ষণদা - কৃষ্ণা ষষ্ঠী, পদসংখ্যা ৮, পৃষ্ঠা ৪৮। এটি
হরিবল্লভ দাসের নিজের বিরচিত গ্রন্থের কবিতা বলে এটি তাঁর নিজের কবিতাও হতে
পারে। এই ভেবে আমরা এই পদটি এই পাতায় (হরিবল্লভ দাসের পাতায়) অন্তর্ভুক্ত
করলাম। ছন্দের প্রয়োজনে হয়তো ভণিতা সংক্ষেপিত করে থাকতে পারেন।
পদটি কবি “বল্লভ” বা “বল্লভ দাসের” পাতাতেও তোলা হয়েছে


.        ॥ বরাড়ী॥

আওল মাধব পাওল ধাম।
সম্ভ্রমে জাগল মনসিজ-গাম॥
ধনী মুখ ঢাকি রহল এক পাশ।
বাদর-ডরে শশী রহল তরাস॥
চলু সব সখীজন ইঙ্গিত জানি।
আরত নাহ ধয়ল ধনী-পাণি॥
রুঠে বলয়া কিয়ে ঝন ঝন বাজে।
বালা কিছুই না কহু ভয়-লাজে॥
কত কত সখীজন করত উপায়।
ধনী মুখ-চন্দ কবহুঁ না দেখায়॥
রতি-রণ-পণ্ডিত নাগর রঙ্গী।
চাপি ধরল ধনী-বেণী-ভুজঙ্গী॥
ডাহিন হাত চিবুক গহি রাখে।
সম্ভ্রমে বদন-ইন্দু-রস চাখে॥
নয়ন-চকোর অমৃত-রস পিয়ে।
অপরূপ দোহুঁক জীউ তব্ জীয়ে॥
ভুজ ধরি আনল কুসুম শয়ান।
জনম সফল মানল পাঁচ-বাণ॥
সঘনে আলিঙ্গন নির্ভর কেলি।
বল্লভ-বৈদগধি সফলিত ভেলি॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রেম-রতন-খনি রমণী-শিরোমণি
কবি বল্লভ (হরিবল্লভ দাস)
আনুমানিক ১৭০০ সালে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৯২৪ সালে,
রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”।  সপ্তম
ক্ষণদা - কৃষ্ণা সপ্তমী, পদসংখ্যা ৬, পৃষ্ঠা ৫৩। এটি হরিবল্লভ দাসের নিজের বিরচিত গ্রন্থের কবিতা বলে
এটি তাঁর নিজের কবিতাও হতে পারে। এই ভেবে আমরা এই পদটি এই পাতায় (হরিবল্লভ
দাসের পাতায়) অন্তর্ভুক্ত করলাম। ছন্দের প্রয়োজনে হয়তো ভণিতা সংক্ষেপিত করে থাকতে পারেন।
পদটি কবি “বল্লভ” বা “বল্লভ দাসের” পাতাতেও তোলা হয়েছে


॥ কামোদ॥

প্রেম-রতন-খনি                                 রমণী-শিরোমণি
পিয়-বিরহানল জানি।
অন্তর জর জর                                 নয়ন নিঝর ঝর
বদনে না নিকসয়ে বাণী॥
আজু কি কহব হরি-অনুরাগ।
তৈখনে কানন                                  চললি বিকল-মন
ধরম-লাজ-ভয় ভাগ॥
মন্থর গতি অতি                                  চলই না পরতি
চলতহিঁ তবহিঁ তুরন্ত।
হিয়া অতি ধসমশি                                শ্বাসই মুখশশী
শ্রম-জল-কণ বরিখন্ত॥
সঙ্গিনী সহচরী                                    দূরহিঁ পরিহরি
রাই একাকিনী কুঞ্জে।
বল্লভ মূরছিত                                    হেরি জিয়াওত
রূপ-সুধারস-পুঞ্জে॥

.        *************************           
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর