| কবি হরিদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| ইহ কলিযুগ ধৈন্য নিত্যানন্দ চৈতন্য কবি হরিদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য-নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, পদসংখ্যা ২৩৪২। ॥ কামোদ॥ ইহ কলিযুগ ধৈন্য নিত্যানন্দ চৈতন্য পতিত লাগিয়া অবতার। দেখি জীব বড় দুখী হৈয়া সকরুণ-আঁখি হরি-নাম গাঁথি দিল হার॥ নিজ-গুণ প্রেম-ধন দিলা গোরা জনে জন পতিতেরে আগে দান করে। নিজ-ভক্ত সঙ্গে করি ফিরে পহু গৌরহরি যাচিয়া যাচিয়া ঘরে ঘরে॥ জড় অন্ধ পঙ্গু যত পশু পাখী আদি কত কান্দাইল নিজ প্রেম দিয়া। প্রেম-রসে মত্ত হৈয়া অন্ন জল তেয়াগিয়া ফিরে তারা নাচিয়া গাইয়া॥ হেন পহু না ভজিলুঁ জনমিয়া না মরিলুঁ হাথের ধন হারাইলুঁ নিধি। কহে হরিদাস ছার কোন গতি নাহি আর হেন যুগে বঞ্চিত কৈলা বিধি॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ- তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, তৃতীয় উচ্ছাস, গৌরাবতারের ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্য, পদসংখ্যা ২৪, ২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ ইহ কলিযুগ ধন্য নিত্যানন্দ চৈতন্য পতিত লাগিয়া অবতার। দেখি জীব বড় দুখী হৈয়া সকরুণ আঁখি হরিনাম গাঁথি দিল হার॥ নিজগুণ প্রেমধন দিলা গোরা জনে জন পতিতেরে আগে দান করে। নিজ ভক্ত সঙ্গে করি ফিরে পহু গৌর হরি যাচিয়া যাচিয়া ঘরে ঘরে॥ জড় অন্ধ পঙ্গু যত পশু পাখী আর কত কাঁদায়ল নিজ প্রেম দিয়া। প্রেমে সব মত্ত হৈয়া অন্ন জল তেয়াগিয়া ফিরে তারা নাচিয়া গাইয়া॥ হেন পহু না ভজিনু জনমিয়া না মরিনু হারাইনু নিত্যানন্দ নিধি। কহে হরিদাস ছার কোন গতি নাহি আর হেন যুগে বঞ্চিত কৈলা বিধি॥ এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ৩৪- পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই, সিন্ধুড়া॥ এহ কলিযুগ ধন্য নিত্যানন্দ চৈতন্য পতিত লাগিয়া অবতার। দেখি জীব বড় দুখী হৈয়া সকরুণ আঁখি হরিনাম গাঁথি দিল হার॥ জড় অন্ধ পঙ্গু যত পশু-পাখী আর কত কাঁদাইল নিজ প্রেম দিয়া। প্রেমে সব মত্ত হৈয়া অন্নজল তেয়াগিয়া ফিরে তারা নাচিয়া গাইয়া॥ হেন পহুঁ না ভজিলু জনমিয়া কিবা কৈলু হাত হৈতে হারাইনু নিধি। হরিদাস দাস ছার কোন গতি নাহি আর হেন যুগে বঞ্চিত কৈলা বিধি॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৬৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম পংক্তি এতটাই ভিন্ন যে আমরা পাঠের সুবিধার জন্য এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলে দিচ্ছি। মানান্তে সংকীর্ণ রসোদ্গার। তথা স্বয়ংদৌত্যরূপেণ মিলন মালিনী তদ্ভাবাক্রান্ত শ্রীমহাপ্রভু। তত্র গৌরচন্দ্র। ইহ কলিকাল ধন্য প্রভু মোর চৈতন্য পতিত লাগিএ অবতার। দেখে জীব বড় দুখী হএ সকরুণ আঁখি হরিনামে গাঁথি লএ হার॥ নিজগুণ প্রেমধন দিলা গোরা জগজন পতিতেরে আগে দান করে। নিজ ভক্ত সঙ্গে করি ফিরে পহু গৌর হরি জাচিএ জাচিএ ঘরে ঘরে॥ জড় পঙ্গু অন্ধ জত পশু পাখী আদি কত কান্দাওল নিজপ্রেম দিএ। প্রেমে সব মত্ত হঞা অন্নজল তেয়াগিয়া ফিরে তারা নাচিআ গাইআ॥ হেন প্রভু না জানিনু জনমিয়া কি করিনু হাথের ধন হারাইনু নিধি। কহে হরিদাস ছার কোন গতি নাহি আর হেন যুগে বঞ্চি কৈল বিধি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নাচিতে না জানি তমু নাচিয়ে গৌরাঙ্গ বলি কবি হরিদাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, পদসংখ্যা ৩০১৪। ॥ ডাশ পাহিড়া॥ নাচিতে না জানি তমু নাচিয়ে গৌরাঙ্গ বলি গাইতে না জানি তমু গাই। সুখে বা দুখেতে থাকি গৌরাঙ্গ বলিয়া ডাকি নিরন্তর এই মতি চাই॥ বসুধা জাহ্নবা সহ নিতাইচাঁদেরে ডাকি সীতার সহিতে সীতা-পতি। নরহরি গদাধর শ্রীবাসাদি সহচর ইহা সভার নামে যেন মাতি॥ স্বরূপ রূপ সনাতন রঘুনাথ সকরুণ ভট্ট-যুগ জীব লোকনাথ। ইহা সভার নাম করে দীন প্রায় সদা ফিরে যেন হয় তা সভার সাথ॥ মহান্ত-সন্তান কিবা মহান্তের জন বেবা ইহা সভার স্থানে অপরাধ। না হয় উদগম কভু ভয়ে প্রাণ কাঁপে মুহু এ সাধে না পড়ে যেন বাদ॥ অন্তে শ্রীনিবাস-পদ- সেবাযুক্ত যে সম্পদ সে সম্পদের সম্পদী যে হয়। তার ভুক্ত-গ্রাস-শেষে কিবা গৌড় ব্রজ-বাসে দন্তে তৃণ হরিদাসে কয়॥ এই পদটি, ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপ চন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রের মহাজন পদালী সংকলন “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ৬৯২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেোয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল - ধামালী॥ নাচিতে না জানি তবু, নাচিয়ে গৌরাঙ্গ বলি, গাইতে না জানি তবু গাই। সুখে বা দুখেতে থাকি, হা গৌরাঙ্গ বলি ডাকি, নিরন্তর এই মতি চাই॥ বসুধা জাহ্নবা সহ, নিতাই চাঁদেরে ডাকি, সীতার সহিতে সীতাপতি। নরহরি গদাধর, শ্রীবাস আদি সহচর, ইহা সভার নামে যেন মাতি॥ স্বরূপ রূপ সনাতন, রঘুনাথ সকরুণ, ভট্ট-যুগ জীব লোকনাথ। ইহা সভার নাম করি, দীন প্রায় সদা ফিরি, যেন হয় তাসভার সাথ॥ মহান্ত সন্তান কিবা, মহান্তের জন যেবা, ইহা সভার স্থানে অপরাধ। না হয় উদ্গম কভু, ভয়ে প্রাণ কাঁপে পঁহু, এ সাধে না পড়ে যেন বাদ॥ অন্তে শ্রীবাস পদ, সেবা উক্ত সে সম্পদ সে সম্পদের সম্পদী যে হয়। তার ভুক্ত গ্রাস শেষে, কিবা গৌড় ব্রজবাসে, দন্তে তৃণ হরিদাসে কয়॥ এই পদটি “পরমানন্দ”-এর ভণিতায় রয়েছে ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ষষ্ঠ তরঙ্গ, চতুর্থ উচ্ছাস, ভক্তের দৈন্য ও প্রার্থনা, পদসংখ্যা ২৪, ৩৩৩-পৃষ্ঠায়। ॥ পাহিড়া॥ নাচিতে না জানি তমু নাচিয়ে গৌরাঙ্গ বলি গাইতে না জানি তমু গাই। সুখে বা দুঃখেতে থাকি গৌরাঙ্গ বলিয়া ডাকি নিরন্তর এই মতি চাই॥ বসুধা জাহ্নবী সহ নিতাইচাঁদেরে ডাকি নাম সহিতে সীতাপতি। নরহরি গদাধর শ্রীবাসাদি সহচর ইহা সভার নামে যেন মাতি॥ স্বরূপ রূপ সনাতন রঘুনাথ সকরুণ ভট্টযুগ জীব লোকনাথ। ইহা সবার সহকারে দীনপ্রায় সদা ফিরে যেন হয় তাসভার সাথ॥ মহান্তসন্তান কিবা মহান্তের জন যেবা ইহা সভার স্থানে অপরাধ। না হয় উদ্গম কভু ভয়ে প্রাণ কাঁপে প্রভু এ সাধে না পড়ে যেন বাদ॥ অন্তে শ্রীবাসপদ সেবা উক্ত সে সম্পদ সে সম্পদের সম্পদী যে হয়। তার ভুক্তগ্রাস শেষে কিবা গৌড় ব্রজবাসে পরমানন্দ এই ভিক্ষা চায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিতাইচাঁদের গুণ কি কহব আর কবি হরিদাস ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্রর সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” দ্বিতীয় সংস্করণ, ষষ্ঠ তরঙ্গ, প্রথম উচ্ছাস, নিত্যানন্দ চন্দ্র, পদসংখ্যা ৪৮, ২৮৩-পৃষ্ঠা। ॥ শ্রীরাগ॥ নিতাইচাঁদের গুণ কি কহব আর। এমন দয়ার নিধি কভু নাহি হোয়ল কভু নাহি হোয়ব আর॥ ধ্রু॥ মূঢ় পাষণ্ডী ছিল জগাই মাধাই দুহুঁ কাঁধা ফেলি মারিল কপালে। রুধিরে বহিল নদী দুবাহু পসারি তমু পহুঁ দোহেঁ কয়লহি কোলে॥ গোলোকে দুলহ ধন আচণ্ডালে বিতরণ জাতি কুল না করত বিচার। মুখে হরি হরি বলি নাচিয়া নাচিয়া চলে দুনয়নে বহে জলধার॥ আপহি মাতল জগত মাতাওল খেনে কাঁদে খেনে মৃদু হাস। আপন প্রেমে ভোরা নিতাই মাতোয়ার কি বুঝব পামর হরিদাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ দেখ গোরা নটরাজ কবি হরিদাস ১৮৭০ সাল নাগাদ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সংগৃহীত এবং পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২-পৃষ্ঠা। ॥ গৌরচন্দ্র॥ দেখ দেখ গোরা নটরাজ। কোটিকাম জনু, রূপছটা তনু, হেরিতে লাগয়ে ধন্ধ॥ দেখ শছীর ভাগ্যের নাহি সীমা। কত তপ কৈল, বিধি আনি দিল, আরধিয়ে হরউমা॥ মিশ্রের গৃহিণী, ভাগ্য হেন মানি, পুত্রেরে লইঞে কোরে। গদগদ হ’ঞে, মুখপানে চাঞে, তিতিল নয়ানলোরে॥ মিশ্রপুরন্দর, আনন্দ বিভোর, দেখিয়ে পুত্রের মুখ। পুত্রেরে দেখিঞে, আনন্দিত হ’ঞে, বিসরিল দুখশোক॥ ঢাক ঢোল বাদ্য বাজে কত, মরজু পাখোয়াজ বীণা। শিঙ্গা কেরুয়াল, শঙ্খ করতাল, মৃদঙ্গ মুরজা বীণা॥ হরিদাস কহে, এমন তনয় আর কেহ কোথাউ না দেখি। ধন্য শচীতপ, ধন্য নবদ্বীপ, বিধাতা কেমন লেখি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ইহ কলিকাল ধন্য প্রভু মোর চৈতন্য কবি হরিদাস দ্বিজ মাধব দ্বারা সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৬৬-পৃষ্ঠা। এই পদটির প্রথম পংক্তির ভিন্নতার তাগিদে, পাঠকের সুবিধার জন্য এই পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও এখানে তুলে দিচ্ছি। এর অন্য রূপটি হলো “ইহ কলিযুগ ধৈন্য নিত্যানন্দ চৈতন্য” মানান্তে সংকীর্ণ রসোদ্গার। তথা স্বয়ংদৌত্যরূপেণ মিলন মালিনী তদ্ভাবাক্রান্ত শ্রীমহাপ্রভু। তত্র গৌরচন্দ্র। ইহ কলিকাল ধন্য প্রভু মোর চৈতন্য পতিত লাগিএ অবতার। দেখে জীব বড় দুখী হএ সকরুণ আঁখি হরিনামে গাঁথি লএ হার॥ নিজগুণ প্রেমধন দিলা গোরা জগজন পতিতেরে আগে দান করে। নিজ ভক্ত সঙ্গে করি ফিরে পহু গৌর হরি জাচিএ জাচিএ ঘরে ঘরে॥ জড় পঙ্গু অন্ধ জত পশু পাখী আদি কত কান্দাওল নিজপ্রেম দিএ। প্রেমে সব মত্ত হএা অন্নজল তেয়াগিয়া ফিরে তারা নাচিআ গাইআ॥ হেন প্রভু না জানিনু জনমিয়া কি করিনু হাথের ধন হারাইনু নিধি। কহে হরিদাস ছার কোন গতি নাহি আর হেন যুগে বঞ্চি কৈল বিধি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |