কবি যাদবেন্দ্র-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
*
আমার শপতি লাগে
গহন গমন কালে ভাসি নয়নের জলে
ভণিতা যাদবেন্দ্র
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস-গোষ্ঠে গমন,
১১৮৯ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭২১
সংখ্যক পদ। এই পদটি “গহন গমন কালে ভাসি নয়নের জলে” শিরোনামে প্রথমে অতিরিক্ত  দুটি কলি
সহও প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এই দুটি পদকে, দুটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলছি, পাঠকের সুবিধার জন্য।

॥ শ্রী রাগ॥

আমার শপতি লাগে             না ধাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইয়                সঙ্গ ছাড়া না হইয়
মাঠে বড় রিপু-ভয় আছে॥
খুধা হৈলে লইয়া খাইয়             পথ পানে চাহি যাইয়
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু         ফিরাইতে না যাইয় কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                 মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইয়            বাধা পানই হাতে থুইয়
বুঝিয়া যোগাবে রাঙ্গা পায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রী রাগ - মধ্যম দশকুশী॥

আমার শপতি লাগে,             না ধাইও ধেনুর আগে,
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু,                  পুরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসে আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে,                আর শিশু বাম ভাগে,
শ্রীদাম সুদাম তার পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইও,               সঙ্গ ছাড়া না হইও,
মাঠে বড় রিপু ভয় আছে॥
ক্ষুধা হৈলে চেয়ে খাইও,         পথপানে চাইয়া যাইও,
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু,        ফিরাইতে না যাইও কানু,
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিহ তরুর ছায়,                 মিনতি করিছে মায়,
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইও         বাধা১ পানই২ হাতে দিও
বুঝিয়া যোগাবে রাঙ্গা পায়॥

১ বাধা - খড়ম। ২ পানই - উপানহ - চর্ম্মপাদুকা।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
॥ শ্রীরাগ॥

আমার শপতি লাগে             না যাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইয়               সঙ্গ ছাড়া না হইয়
মাঠে বড় রিপু ভয় আছে॥
ক্ষুধা হৈলে লইয়া খাইয়           পথ পানে চাহি যাইয়
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু          ফিরাইতে না যাইয় কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                 মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইয়             বাধা পানই হাতে থুইয়
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


আমার শপতি লাগে             না ধাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইও               সঙ্গ ছাড়া না হইও
মাঠে বড় রিপু-ভয় আছে॥
ক্ষুধা পেলে চাঞা খাইও          পথ-পানে চাহি যাইও
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু         ফিরাইতে না যাইও কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইও            বাধা পানই হাতে থুইও
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

ই পদটি  ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যশোদা-বাত্সল্য॥

আমার শপতি লাগে               না ধাইয় ধেনু আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
--- এখানে একটি কলি বাদ পড়েছে ---
তুমি তার মাঝে ধাইহ            পথ-পানে চাহি যাইহ
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু         ফিরাইতে না যাইহ কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                 মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইহ             বাধা-পানই হাতে থুইহ
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

ই পদটি “ভারতবর্ষ” পত্রিকার ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের (অগাস্ট ১৯২৯) শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায়ের “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধে বীরভূমের পদকর্ত্রী “স্বর্ণলালী”র উপর এক গবেষণামূলক রচনায়,  তাঁর
স্বামী যাদবিন্দ ভট্টাচার্য্যের এই পদটি এইরূপে প্রকাশিত করেন। এই পদটি “আমার শপতি লাগি”
শিরোনামে প্রথম দুটি কলি বাদ দিয়ে পদকল্পতরু সহ অন্যান্য পদ-সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এই
দুটি পদকে, দুটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলছি, পাঠকের সুবিধার জন্য।


গহন-গমন কালে                             ভাসি নয়নের জলে
হরি মুখ করি নিরীক্ষণ
বলরামের করে ধরি                           সমর্পণ করি হরি
পুন রাণী কহেন বচন
আমার শপতি লাগে                        না ধাইহ কারু আগে
তুমি মোর প্রাণ নীলমণি
নিকটে রাখিহ ধেনু                          বাজায়ে মোহন বেণু
ঘরে বসি যেন রব শুনি
বলাই সভার আগে                         আর শিশু পাশ্বভাগে
শ্রীদাম সুদাম যাবে পাছে
তুমি সভার মাঝে যাবে                   কারু আগে না ধাইবে
বনে বড় রিপু ভয় আছে
ধীরে পদ বাড়াইও                         পথ পানে চেয়ে যেও
তৃণাঙ্কুর অতিশয় পথে
কার বোলে বড় ধেনু                   ফিরাইতে না যেও কানু
হাত তুলি দেহ মায়ের মাথে
রোদ্দুর লাগিলে গায়                           বসিও তরুর ছায়
বসন ভিজায়ে দিও গায়
যাদবিন্দ সঙ্গে লেহ                        বাধা পথে হাতে দেহ
সময় বুঝে দিবে রাঙ্গা পায়

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮০৭-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে দুটি অন্য পংক্তি দেওয়া রয়েছে শুরুতে।


গহন গমন কালে ভাসি নয়নের জলে
হরি মুখ করি নিরীক্ষণ।
বলরামের করে ধরি সমর্পিল শ্রীহরি
পুনঃ পুনঃ করি নিবেদন॥
আমার শপতি লাগে না যাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইয় সঙ্গ ছাড়া না হইয়
মাঠে বড় রিপু ভয় আছে॥
ক্ষুধা হৈলে লইয়া খাইয় পথ পানে চাহি যাইয়
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে ধেনু ফিরাইতে না যাইয় কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায় মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইয় বাধা পানই হাতে থুইয়
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
গহন গমন কালে ভাসি নয়নের জলে
আমার শপতি লাগে
ভণিতা যাদবেন্দ্র
কবি যাদবেন্দ্র
“ভারতবর্ষ” পত্রিকার ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের (অগাস্ট ১৯২৯) শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের
“স্বর্ণলালী” প্রবন্ধে বীরভূমের পদকর্ত্রী “স্বর্ণলালী”র উপর এক গবেষণামূলক রচনায়, তাঁর স্বামী যাদবিন্দ
ভট্টাচার্য্যের এই পদটি এইরূপে প্রকাশিত করেন। এই পদটি “আমার শপতি লাগি” শিরোনামে প্রথম দুটি
কলি বাদ দিয়ে পদকল্পতরু সহ অন্যান্য পদ-সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এই দুটি পদকে,
দুটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও তুলছি, পাঠকের সুবিধার জন্য।


গহন-গমন কালে                             ভাসি নয়নের জলে
হরি মুখ করি নিরীক্ষণ
বলরামের করে ধরি                            সমর্পণ করি হরি
পুন রাণী কহেন বচন
আমার শপতি লাগে                        না ধাইহ কারু আগে
তুমি মোর প্রাণ নীলমণি
নিকটে রাখিহ ধেনু                         বাজায়ে মোহন বেণু
ঘরে বসি যেন রব শুনি
বলাই সভার আগে                        আর শিশু পাশ্বভাগে
শ্রীদাম সুদাম যাবে পাছে
তুমি সভার মাঝে যাবে                   কারু আগে না ধাইবে
বনে বড় রিপু ভয় আছে
ধীরে পদ বাড়াইও                          পথ পানে চেয়ে যেও
তৃণাঙ্কুর অতিশয় পথে
কার বোলে বড় ধেনু                    ফিরাইতে না যেও কানু
হাত তুলি দেহ মায়ের মাথে
রোদ্দুর লাগিলে গায়                            বসিও তরুর ছায়
বসন ভিজায়ে দিও গায়
যাদবিন্দ সঙ্গে লেহ                        বাধা পথে হাতে দেহ
সময় বুঝে দিবে রাঙ্গা পায়

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮০৭-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে দুটি অন্য পংক্তি দেওয়া রয়েছে শুরুতে।


গহন গমন কালে ভাসি নয়নের জলে
হরি মুখ করি নিরীক্ষণ।
বলরামের করে ধরি সমর্পিল শ্রীহরি
পুনঃ পুনঃ করি নিবেদন॥
আমার শপতি লাগে না যাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইয় সঙ্গ ছাড়া না হইয়
মাঠে বড় রিপু ভয় আছে॥
ক্ষুধা হৈলে লইয়া খাইয় পথ পানে চাহি যাইয়
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে ধেনু ফিরাইতে না যাইয় কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায় মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইয় বাধা পানই হাতে থুইয়
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস-
গোষ্ঠে গমন, ১১৮৯ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার
পুথির ১৭২১ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রী রাগ॥

আমার শপতি লাগে             না ধাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইয়               সঙ্গ ছাড়া না হইয়
মাঠে বড় রিপু-ভয় আছে॥
খুধা হৈলে লইয়া খাইয়            পথ পানে চাহি যাইয়
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু          ফিরাইতে না যাইয় কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                  মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইয়             বাধা পানই হাতে থুইয়
বুঝিয়া যোগাবে রাঙ্গা পায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রী রাগ - মধ্যম দশকুশী॥

আমার শপতি লাগে,             না ধাইও ধেনুর আগে,
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু,                  পুরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসে আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে,                আর শিশু বাম ভাগে,
শ্রীদাম সুদাম তার পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইও,              সঙ্গ ছাড়া না হইও,
মাঠে বড় রিপু ভয় আছে॥
ক্ষুধা হৈলে চেয়ে খাইও,         পথপানে চাইয়া যাইও,
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু,        ফিরাইতে না যাইও কানু,
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিহ তরুর ছায়,                 মিনতি করিছে মায়,
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইও          বাধা১ পানই২ হাতে দিও
বুঝিয়া যোগাবে রাঙ্গা পায়॥

১ বাধা - খড়ম। ২ পানই - উপানহ - চর্ম্মপাদুকা।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
॥ শ্রীরাগ॥

আমার শপতি লাগে             না যাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইয়                সঙ্গ ছাড়া না হইয়
মাঠে বড় রিপু ভয় আছে॥
ক্ষুধা হৈলে লইয়া খাইয়          পথ পানে চাহি যাইয়
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু          ফিরাইতে না যাইয় কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                 মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইয়            বাধা পানই হাতে থুইয়
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


আমার শপতি লাগে             না ধাইহ ধেনুর আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
তুমি তার মাঝে ধাইও              সঙ্গ ছাড়া না হইও
মাঠে বড় রিপু-ভয় আছে॥
ক্ষুধা পেলে চাঞা খাইও          পথ-পানে চাহি যাইও
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু         ফিরাইতে না যাইও কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                 মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইও            বাধা পানই হাতে থুইও
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

ই পদটি  ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যশোদা-বাত্সল্য॥

আমার শপতি লাগে               না ধাইয় ধেনু আগে
পরাণের পরাণ নীলমণি।
নিকটে রাখিহ ধেনু                  পূরিহ মোহন বেণু
ঘরে বসি আমি যেন শুনি॥
বলাই ধাইবে আগে                আর শিশু বাম ভাগে
শ্রীদাম সুদাম সব পাছে।
--- এখানে একটি কলি বাদ পড়েছে ---
তুমি তার মাঝে ধাইহ            পথ-পানে চাহি যাইহ
অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে।
কারু বোলে বড় ধেনু        ফিরাইতে না যাইহ কানু
হাত তুলি দেহ মোর মাথে॥
থাকিবে তরুর ছায়                 মিনতি করিছে মায়
রবি যেন না লাগয়ে গায়।
যাদবেন্দ্র সঙ্গে লইহ              বাধা-পানই হাতে থুইহ
বুঝিয়া যোগাবে রাঙা পায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোঠেরে সাজল গোপাল
আজ গোঠেরে সাজল গোপাল
আজু গোঠেরে সাজল গোপাল
ভণিতা যাদবেন্দ্র
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস—গোষ্ঠে
গমন, ১১৯২ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
১৭২৪ সংখ্যক পদ।

॥ ভাটিয়ারি। তেরট॥

গোঠেরে সাজল গোপাল।
ধবলি সাঙলি                  পিউলি বলিয়া
হাঁকারে সব রাখাল॥ ধ্রু॥
কারু কান্ধে চেলি               বিনোদ পাগড়ি
কারু গলে গুঞ্জাগাভা।
শ্বেত লোহিত                  কারু নীল পীত
কটি-তটে ভাল শোভা॥
ভাইয়া বলরাম                পূরিছে বিষাণ
কানাই পূরিছে বেণু।
উচ্চ পুচ্ছ করি                 শ্রবণ তুলিয়া
আগে চলে সব ধেনু॥
নাচত গায়ত                   বেণু বাজায়ত
ধেনু চালায়ত রঙ্গে।
ভোজন-সম্ভার                লৈয়া আগুসার
যাদবেন্দ্র চলু সঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৬৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ মিশ্র জয়জয়ন্তী। মধ্যম দোঠুকী॥

আজ গোঠেরে সাজল গোপাল।
ধবলি শাঙলি পিয়লি বলিয়ে হাকারে রাখাল॥
কারু কান্ধে চেলি, বিনোদ পাগড়ি, কারু গলে গুঞ্জা-গাভারে।
শ্বেত লোহিত, কারু নীল পীত, কটিতটে অতি শোভারে॥
ভেইয়া বলরাম, পূরিছে বিষাণ, কানাই পূরিছে বেণু।
উচ্চ পুচ্ছ করি, শ্রবণ তুলিছে, আগে চলে সব ধেনু॥
নাচত গাওত, বেণু বাজাওত, ধেনু চালাওত রঙ্গে।
ভোজন সম্ভার, লৈয়া আগুসার, যাদবেন্দ্র চলু সঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৪২-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তাল দোঠুকি॥

আজু গোঠেরে সাজল গোপাল।
ধবলী শাঙলি, পীয়লী বলিয়া, হাঁকারে সব রাখাল॥
কারু কান্ধে চেলী, বিনোদ পাগড়ি, কারু গলে গুঞ্জা গাভা।
শ্বেত লোহিত, কারু নীল পীত, কটি-তটে ভাল শোভা॥
ভাইয়া বলরাম, পূরিছে বিষাণ, কানাই পূরিছে বেণু।
উচ্চ পুচ্ছ করি, শ্রবণ তুলিয়া, আগে চলে সব ধেনু॥
নাচত গায়ত, বেণু বাজায়ত, ধেনু চালায়ত রঙ্গে।
ভোজন সম্ভার, লয়ে আগুসার, যাদবেন্দ্র চলু সঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠযাত্রা
॥ শ্রীরাগ - তেয়ট॥

গোঠেরে সাজল গোপাল।
ধবলি সাঙলি                  পিউলি বলিয়া
হাঁকারে সব রাখাল॥
কারু মাথে হেরি                বিনোদ পাগড়ি
কারু গলে গুঞ্জাগাভা।
শ্বেত লোহিত                  কারু নীল পীত
কটি-তটে ভাল শোভা॥
ভাইয়া বলরাম                পূরিছে বিষাণ
কানাই পূরিছে বেণু।
উচ্চ পুচ্ছ করি                 শ্রবণ তুলিয়া
আগে চলে সব ধেনু॥
নাচত গায়ত                   বেণু বাজায়ত
ধেনু চালায়ত রঙ্গে।
ভোজন-সম্ভার                লৈয়া আগুসার
যাদবেন্দ্র চলু সঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮০৮-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


গোঠেরে সাজল গোপাল।
ধবলি সাঙলি পিউলি বলিয়া
হাঁকারে সব রাখাল॥
কারু মাথে হেরি বিনোদ পাগড়ি
কারু গলে গুঞ্জাগাভা।
শ্বেত লোহিত কারু নীল পীত
কটি তটে ভাল শোভা॥
ভাইয়া বলরাম পূরিছে বিষাণ
কানাই পূরিছে বেণু।
উচ্চ পুচ্ছ করি শ্রবণ তুলিয়া
আগে চলে সব ধেনু॥
নাচত গায়ত বেণু বাজায়ত
ধেনু চালায়ত রঙ্গে।
ভোজন সম্ভার লৈয়া আগুসার
যাদবেন্দ্র চলু সঙ্গে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বট ভাণ্ডিরে যাবি বলাই আয় রে আয়
ভণিতা যাদবেন্দ্র
কবি যাদবেন্দ্র        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং  
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ২২ পল্লব, প্রকারন্তর সখ্য-বাত্সল্য, ১২২৫ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ১৭৫৮ সংখ্যক পদ।

গোষ্ঠযাত্রা
॥ সারঙ্গ॥

বট ভাণ্ডিরে যাবি কানাই আয় রে আয়।
বরজ-বালক সব তোর মুখ চায়॥
ধেনু তৃণ নাহি খায় তোহারি ধেয়ানে।
উচ্চ-পুচ্ছে ধায় সব ব্রজ-পুর পানে॥
যমুনার তীরে যত রাখালের মেলা।
নাহিক নটন গীত নাহি কারু খেলা॥
তো বিনু নাহিক সুখ গহন কাননে।
যাদবেন্দ্র ডাকে ঝাট দেও দরশনে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

বট ভাণ্ডিরে যাবি বলাই আয় রে আয়।
বরজ-বালক সব তোর মুখ চায়॥
ধেনু তৃণ নাহি খায় তোহারি ধেয়ানে।
উচ্চ-পুচ্ছে ধায় সব ব্রজ-পুর পানে॥
যমুনার তীরে যত রাখালের মেলা।
নাহিক নটন গীত নাহি কারু খেলা॥
তো বিনু নাহিক সুখ গহন কাননে।
যাদবেন্দ্র ডাকে ঝাট দেও দরশনে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৮০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।


বট ভাণ্ডিরে যাবি বলাই আয় রে আয়।
বরজ বালক সব তোর মুখ চায়॥
ধেনু তৃণ নাহি খায় তোহারি ধেয়ানে।
উচ্চ পুচ্ছে ধায় সব ব্রজপুর পানে॥
যমুনার তীরে যত রাখালের মেলা।
নাহিক নটন গীত নাহি কারু খেলা॥
তো বিনু নাহিক সুখ গহন কাননে।
যাদবেন্দ্র ডাকে ঝাট দেও দরশনে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখসিয়া রামের মা গো গোপাল নাচিছে তুড়ি দিয়া
ওগো দেখসিয়া রামের মা গো গোপাল নাচিছে তুড়ি দিয়া
ভণিতা যাদবেন্দু দাস
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১৪-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ টোড়ী॥

দেখসিয়া রামের মাগো গোপাল নাচিছে তুড়ি দিয়া।
কোথা গেল নন্দ রায় আনন্দ বহিয়া যায় নয়ান ভরিয়া দেখসিয়া॥
চিত্র বিচিত্র নাট চরণে চাঁদের হাট চলে যেন খঞ্জনিয়া পাখি।
সাধ করিয়া মায় নূপুর দিছে রাঙ্গা পায় নাচিয়া নাচিয়া আইস দেখি॥
প্রতি পদ চিহ্ন তার পৃথক পড়িয়া যায় ধ্বজ ব্রজাঙ্কুশ তাহে সাজে।
যাদবেন্দু দাসে কয় নাটুয়া গোবিন্দ রায় প্রেমভরে অধিক বিরাজে॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৮০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ টোড়ীবিভাস - একতালা॥

ওগো দেখসিয়া                                  রামের মা গো,
গোপাল নাচিছে তুড়ি দিয়া।
কোথা গেল নন্দরায়,                        আনন্দ বহিয়া যায়,
নয়ান ভরিয়া দেখসিয়া॥
চিত্র বিচিত্র নাট,                             চরণে চাঁদের হাট,
চলে যেন খঞ্জনিয়া পাখী।
সাধ করিয়া মায়                            নূপুর দিয়াছে পায়,
নাচিয়া নাচিয়া আইস দেখি॥
প্রতি পদ চিহ্ন তায়,                        পৃথক পড়িয়া যায়,
ধ্বজ ব্রজাঙ্কুশ তাহে সাজে।
যাদবেন্দ্র দাসে কয়,                        নাটুয়া গোবিন্দ রায়
প্রেমভরে অধিক বিরাজে॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


দেখসিয়া রামের মাগো গোপাল নাচিছে তুড়ি দিয়া।
কোথা গেল নন্দ রায়                        আনন্দ বহিয়া যায়
নয়ান ভরিয়া দেখসিয়া॥
চিত্র বিচিত্র নাট                                চরণে চাঁদের হাট
চলে যেন খঞ্জনিয়া পাখী।
সাধ করিয়া মায়                           নূপুর দেছে রাঙ্গা পায়
নাচিয়া নাচিয়া আইস দেখি॥
প্রতি পদচিহ্ন তায়                             পৃথক পড়িয়া যায়
ধ্বজব্রজাঙ্কুশ তাহে সাজে।
যাদবেন্দু দাসে কয়                           নাটুয়া গোবিন্দ রায়
প্রেমভরে অধিক বিরাজে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবীন তরুর ছায়ায় বসিল রাম কানু
ভণিতা যাদবেন্দু দাস
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৪৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

নবীন তরুর ছায়ায় বসিল রাম কানু। যমুনাতে নীর পান করে সব ধেনু॥
শিঙ্গা বেণু রাব ভাই আন সব গাই। রাখিঞে ধেনুর পাল এসরে খেলাই॥
কেহ বাজায় শিঙ্গা কেহ বাজায় বেণু। হাম্বা হাম্বা রব করি দাঁড়াইল ধেনু॥
শ্রীদাম কহয়ে ভাই ধবলী আইল। যাদবেন্দু দাস কহে আনন্দ বাড়িল॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যমুনাতে রাম কানাই বিহরই রঙ্গে
ভণিতা যাদবেন্দু দাস
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গোষ্ঠ॥

যমুনাতে রাম কানাই বিহরই রঙ্গে। শ্রীদাম সুদাম দাম আদি সখাগণ সঙ্গে॥
কেহ বাজায় শিঙ্গা কেহ বাজায় বেণু। নবীন পল্লব পত্র খায় সব ধেনু॥
শ্রীদাম কহয়ে কথা মধুর বচনে। ধাইলে কুশের কাঁটা বাজিবে চরণে॥
কুশের অঙ্কুর যদি বাজয়ে চরণে। সে কথা শুনিলে রাণী মরিবে পরাণে॥
আসিবার কালে সঁপি দিল মোর হোতে। না যায়ো গহন বনে যায়ে রাজপথে॥
যাদবেন্দ্র দাস কহে শুন শিশুগণে। নবীন তরুর ছায়ায় বৈস এইখানে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুবল কহয়ে ভাই আইল ধেনুগণ
ভণিতা যাদবেন্দু দাস
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

সুবল কহয়ে ভাই আইল ধেনুগণ। সব ধেনু রাখাইঞে খেলিব এখন॥
কানাই কহয়ে শুন সব শিসুগণ। কে কাকে লইবে ভাই কহত এখন॥
হাসিঞে ধবলীর সিনি সুবল আনিল। নবীন তরুর ডালে ঝোল্ না করিল॥
ঝোল্ না রচিয়ে সুবল বলার মুখ চায়। ভাব বুঝ্ বলরাম আগুসারি যায়॥
ঝোল্ নাতে রাম কানাই বসিলা যে রঙ্গে। ঝুলায় শ্রীদাম সুদাম আদি সঙ্গে॥
শ্রীদাম সুবল সে ঝোলায় রাম কানু। হাসি অমশুমান কহে দূরে গেলে ধেনু॥
কানাই বলেন ভাই খেলা না ভাঙ্গিব। মুরলীর রবে সব ধেনু ফিরাইব॥
ঝোল্ না হইতে রাম কানাই নামিল। স্তোককৃষ্ণ ভদ্রসেন দুহুতে চড়িল॥
অর্জ্জুন বিশাল সখা আদি সব ঝোলে। পূরিল মনের সাধ যাদবেন্দু বলে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পরম সাদরে ধনি নন্দের ভবনে
ভণিতা জাদবিন্দু
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৮২-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

পরম সাদরে ধনি নন্দের ভবনে। উছলল তনু মন জাইতে ভবনে॥
বুঝিয়া ধনির মন কুন্দলতা কয়। রাণীরে বলএ রাই মাগএ বিদায়॥
বিচিত্র বসন আর বিচিত্র ভূষণ। পরায় যশোদা রাণী করিয়া জতন॥
বিবিধ মদক দিল রেএর অঞ্জলে। গদগদ স্বরে বোল ভাসে নয়ানজলে॥
ধাতায় মাথায় বাজ কি বলিব তারে। না জানিয়া হেন ঘরে বিয়া দিল তোরে॥
অন্তরে বেদনা মোর অন্তরে নিবারি। দিনেক লাগীয়া তোরে রাখিতে না পারি॥
জাদবিন্দু কহে রাণী না ভাবিহ পর। একুই জানিয় তুমি এই সেই ঘর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কুন্দ সঙ্গে আইল রাই নন্দের ভবন
ভণিতা যাদবেন্দু
কবি যাদবেন্দ্র
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৮০-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

কুন্দ সঙ্গে আইল রাই নন্দের ভবন। রোহিণী যশোদার আসি বন্দিল চরণ॥
রাই মুখ হেরি ভাসে আনন্দ সাগরে। বদন চুম্বিয়া রাই করিলেন কোরে॥
নয়নের জলে ভাসে অঙ্গের বসন। অনিমিখ হেরে রেয়ের সুচান্দ বদন॥
বিধিরে নিন্দিএ কত বলে বার বার। হেন বধু নাহি দিল কি বলিব আর॥
বহু সমাদরে ধনির তুসিলেন মন। নিজজি করিলেন রেয়ে করিতে রন্ধন॥
তোমার হস্তের অন্ন ভুঞ্জাব গোপালে। যাদবেন্দু বলে রাণী কহিলেন ভালে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর