| কবি যাদবেন্দ্র-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| বলরাম করি সঙ্গে সব শিশুগণ রঙ্গে ভণিতা যাদবেন্দ্র কবি যাদবেন্দ্র এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ বলরাম করি সঙ্গে সব শিশুগণ রঙ্গে কর জোড়ি যশোদারে কয়। তোমার গোপাল বিনু রাখিতে নারিব ধেনু এই কথা কহিল নিশ্চয়॥ প্রভাত সময় জানি আস্যাছিল নীলমণি বিদায় হইতে তোর ঠাঞি। তোমার বিতথা দেখি ছল ছল দুটি আঁখি সেই হত্যে মুখে বোল নাঞি॥ জে বল সে বল তুমি কহিলার সরূপ বাণি কানাই বিনে নাহি যাব গোঠে। ক্ষুধাএ আনিঞা ভাত কেবা দিবে হাতে হাত প্রাণদান কে দিবে সঙ্কটে॥ আমা সভার প্রাণ কাহ্ন চরাতে না দিব ধেনু কান্ধে করি নিব শিসুগণে। বস্যাঞা তরুর ছায় বসনে করিব বায় চান্দ মুখ দেখিব নয়নে॥ যদি ভায়্যার সঙ্গে জাই তরাত্যে না হবে গাই বেণুরবে ফিরে সব গাই। বসিঞা কৌতুক দেখি এই সুখে সঙ্গে থাকি যাদবেন্দ্র বলিহারি জাই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বাছা রয়্য রয়্য রয়্য রে রৈয় রৈয় রৈয় রৈয় রে ভণিতা যাদবেন্দ্র কবি যাদবেন্দ্র এই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ৩২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সারঙ্গ॥ বাছা রয়্য রয়্য রয়্য রে। নেহারি বয়ান ভরিঞা নয়ান তবে তুমি ছাড়্যা জায়্য রে॥ খাঞা আগে জাঞা রাণী নেহারিঞা দেখে চান্দ-মুখখানি রে। কাতর অন্তরে আখি-জল ঝরে মুখে না নিঃসরে বাণী রে॥ নিশ্চএ জানিলাম বনে যাবি বাছা শুন এক বোল কই রে। মা বল্যা ডাক জুড়াক মোর বুক তবে ফিব়্যা ঘরে যাই রে॥ কল্যাণ কুশলে গোসাঞি রাখু তোরে তোমার আমায় এই দেখা রে। যাদবেন্দ্র কয় তবে প্রাণ রয় যদি ঘুচে ধেনু রাখা রে॥ এই পদটি ১৯২৩ সালে, সিউড়ী, বীরভূম থেকে প্রকাশিত, কুলদাপ্রসাদ মল্লিক ভাগবতরত্ন সম্পাদিত, বীরভূমি পত্রিকায়, শিবরতন মিত্রের "অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী" প্রবন্ধে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পদটি পেয়েছিলেন রতন-লাইব্রেরীর ২০৮৮ সংখ্যক পুথি থেকে। গোষ্ঠ-লীলা রৈয় রৈয় রৈয় রৈয় রে। নেহারি বয়ান, জুড়াক পরাণ, তবে মা’য়ে ছেড়ে জেও রে॥ আগে ধেঞা রাণী, যশোদা রোহিণী, নেহারে চান্দ মুখ খানি। অন্তরে কাতরে, আঁখি জল ঝরে, মুখে নাহি সরে বাণী॥ শ্রীদাম সুদাম, শোন বলরাম, তোমা সভাদিকে কই। মৃত তনু এই, ঘরে লঞা যাই, পরাণ পুতলি ঐ॥ কল্যাণ কুশলে, গোসাঞি রাখুক তোরে, মায়ের সনে এই দেখা। যাদবেন্দু সুখী, তবে প্রাণ রাখি, নন্দ ঘুচায় ধেনু-রাখা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাণী সচকিত হইয়া গোপালেরে কোলে লইয়া ভণিতা যাদবেন্দ্র কবি যাদবেন্দ্র এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৯৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়জয়ন্তী মল্লার - মধ্যম দুঠুকী॥ রাণী সচকিত হইয়া, গোপালেরে কোলে লইয়া, ইষ্ট মন্ত্র জপে শিশু শিরে। যশোদা বাত্সল্য ভরে, ধান্য দুর্ব্বা দিয়ে শিরে, আশীষ করয়ে গোপালেরে॥ (আমার) অনেক ভাগের ফলে, বিধি হইল অনুকুলে, পুরাইল মনের বাসনা। ব্রহ্মা বিষ্ণ আদি হর, (আমার) গোপালেরে রক্ষা কর, যাদবেন্দ্রের এই ত প্রার্থনা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চপলহি নন্দনন্দন-মতি ভাওয়ে ভণিতা যাদবেন্দ্র কবি যাদবেন্দ্র এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সালের মধ্যে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৯৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কৌবিভাস - বৃহৎ জপতাল॥ চপলহি নন্দনন্দন-মতি ভাওয়ে। রহুবিধ বালক, সঙ্গহি রঙ্গহি, আঙ্গ দোলাইয়া আওয়ে॥ ধ্রু॥ হেরি হরষিত অতি, রাণী যশোমতী, বাহু পসারিয়া ধাওয়ে। কটিতটে কিঙিকুণী, ঘঙ্গুর রণ রণি, অরুণিত চরণ নাচাওয়ে॥ এক করে নবনী, আর করে পায়স, খেলন সঙ্গিয়া যাচাওয়ে। গীরত আধ, আধ কর বদনহিঁ, রহি রহি আধ আধ খাওয়ে॥ মদনমোহন ঠাম, জিনি কত কোটি কাম, ভুবন ভুলায় সেই রূপে। যাদবেন্দ্র দাসে কয়, শুধুই সে সুধাময়, হেরিয়া পড়য়ে রস-কূপে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বসি রাম কানু বাজাইছে বেণু ভণিতা যাদবেন্দ্র কবি যাদবেন্দ্র এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। বসি রাম কানু বাজাইছে বেণু ধবলী বলিয়া পূরে। ধবলী শুনিয়া আইল ধাইয়া পুচ্ছ ফেলাইয়া শিরে॥ ধবলী আসিয়া কানুরে দেখিয়া চঞ্চল নয়নে চায়। দেখিয়া ধবলী সুখ হইল বড়ি আনন্দে অবধি নাই॥ শুনহে শ্রীদাম ভাই বসুদাম ধবলী আইল ধুরে। বেলা অসকাল সভে চালায় পাল শিঙ্গা বেণু লউয়া পূরে॥ কহে যাদবেন্দ্র বড়ই আনন্দ আর কিছু নাহি ডর। নাচিয়া গাইয়া বেণু বাজাইয়া ধেণু লইয়া চল ঘর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |