কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in
কবি যাদবেন্দ্র - তাঁর পুরো নাম যাদবেন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সদর সিউড়ি থেকে কমবেশী ২ক্রোশ দূরে (৭.৫কিমি) অবস্থিত কচুজোড় গ্রামের জমিদার রাজা রুদ্রচরণ রায়ের গুরু-দেব। পদকর্ত্রী স্বর্ণলালী যাদবেন্দ্রের স্ত্রী।
“ভারতবর্ষ” পত্রিকার ১৩৩৬ বঙ্গাব্দের (অগাস্ট ১৯২৯) শ্রাবণ সংখ্যায় প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধে বীরভূমের পদকর্ত্রী “স্বর্ণলালী”র উপর এক গবেষণামূলক রচনায় তিনি জানান যে কবি স্বর্ণলালীর স্বামীই পদকর্তা যাদবেন্দ্র, যাঁর পুরো নাম যাদবেন্দ্র ভট্টাচার্য। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
মরাঠা বর্গীর আক্রমণ নিয়ে ছড়ায় যাদবিন্দ - পাতার উপরে . . . ১১৪৯বঙ্গাব্দে (১৭৪২) মরাঠা বর্গী আক্রমণ শুরু হয়। তখন নবাব আলিবর্দ্দী খাঁর আমল। ১১৫০ বঙ্গাব্দে (১৭৪৩) বর্গীদের সর্দার বা সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিতের সঙ্গে যুদ্ধে জমিদার রাজা রুদ্রচরণ নিহত হন। হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের লেখায় রয়েছে যে, যুদ্ধের স্থানকে পরবর্তিকালে লোকে “সংগ্রামপুর” বলে উল্লেখ করে। বর্গীর আক্রমণে রাজা রুদ্রচরণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি ছড়া প্রচলিত ছিল . . .
যাদবিন্দ সর্ব্বানন্দ। মল্লশরণ রামভদ্র॥ আর কচ্চিকাচরণ। পাঁচে রুদ্রচরণ॥ বর্গীরে হলেন সদয়া, রুদ্রে হলেন বৈমুখী। ভাস্কর কল্লে ব্রহ্মহত্যা, কাঁদলো গাছপালা পশুপক্ষী॥
যাদবিন্দ বৈষ্ণব ছিলেন না শাক্ত? - পাতার উপরে . . . হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় তাঁর ১৯২৯ সালে “ভারতবর্ষ” পত্রিকায় প্রকাশিত “স্বর্ণলালী” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
"যাদবিন্দের বংশধরগণ সম্প্রতি সংগ্রামপুরে বাস করিতেছেন। এই বংশে শ্রীযুক্ত আশুতোষ ভট্টাচার্য্য ও শ্রীমান ভোলাপাদ কাব্যতীর্থ বর্ত্তমান আছেন। কাব্যতার্থ মহাশয় স্বগ্রামে চতুষ্পাঠী প্রতিষ্ঠা করিয়া অধ্যাপনায় ব্রতী হইয়াছেন।
যাদবিন্দ ধর্ম্মে বৈষ্ণব ছিলেন কি না ঠিক জানা যায় না। তাঁহার বংশধরগণ তো নিজেদের শাক্ত বলিয়া পরিচয় দিয়া থাকেন। যাদবিন্দ যে ধর্ম্মাবলম্বীই হউন তিনি প্রকৃত কবি ছিলেন, তাঁহার পদগুলি বাস্তবিকই বড় সুন্দর। যাদবিনদের গোষ্ঠগানের প্রসিদ্ধি বহুজনবিদিত। তাঁহার মধুররসাত্মক পদগুলিও চমত্কার।"
যাদবেন্দ্রর নামের বানান বিভ্রাট নিয়ে সতীশচন্দ্রের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . কবি যাদবেন্দ্র ভট্টাচার্য্যর নামের বহু বানান পাওয়া গেছে বিভিন্ন প্রকাশিত গ্রন্থে এবং নথিপত্রে। এই নিয়ে সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকার ১৯৬-পৃষ্টায় লিখেছেন . . .
“যাদবেন্দ্র-ভণিতার তিনটী পদ পদকল্পতরুতে সংগৃহীত হইয়াছে। আমরা এই যাদবেন্দ্রের কোন পরিচয় সংগ্রহ করিতে পারি নাই। কিন্তু শ্রীযুক্ত হরেকৃষ্ণ বাবু ১৩৩৬ সালের ভারতবর্ষ পত্রিকার শ্রাবণের সংখ্যায় স্বর্ণলালী শীর্ষক একটা গবেষণাপূর্ণ প্রবন্ধে বীরভূমের কচুজোড়ের রাজা রুদ্রচরণ রায়ের গুরু-দেব ‘যাদবিন্দ’ বা ‘যাদবেন্দ্র’ ভট্টাচার্য্য নামক একজন পদ-কর্ত্তার পরিচয় দিয়াছেন। এই যাদবেন্দ্রই নাকি বীরভূমের মহিলা কবি ‘স্বর্ণলালী’ দেবীর স্বামী ছিলেন। . . . . . . হরেকৃষ্ণবাবু লিখিয়াছেন যে, অনুমান বাং ১১৫০ সালে বর্গী সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিতের সহিত যুদ্ধ করিয়া রাজা রুদ্রচরণ নিহত হন। ঐ যুদ্ধের স্থানকে এখন লোকে সংগ্রামপুর গ্রাম বলিয়া নির্দ্দেশ করে। রুদ্রচরণের পৌত্র প্রেমনারায়ণ যাদবিন্দ ভট্টাচার্য্যের পৌত্র জগদীশ্বর ভট্টাচার্য্যকে বং ১২২৫ সালে একখানা দাতব্য পত্র দ্বারা বৃত্তি ও ভুমি দান করেন। উহা দ্বারাও অনুমিত হয় যে, যাদবিন্দ ও রুদ্রচরণ বাং ১১৫০ সালের কাছাকাছি বর্ত্তমান ছিলেন। এই দাতব্য পত্র খানার নকল হরেকৃষ্ণ বাবু প্রকাশিত করিয়াছেন ; উহাতে শ্রীচরণকমলেযু স্থলে শ্রীচরণকোমলেষু পিতৃ মাতৃ স্থলে পিতিরি মাতৃরি, বৃত্তি স্থলে বিত্রি ইত্যাদি বহু অদভুত বর্ণাশুদ্ধি আছে ; সুতরাং যাদবেন্দ্রই যে, যাদবিন্দ রূপে পরিণত হইয়াছেন, তাহা বেশ বুঝা যায়।”
বর্গীর আক্রমণ ও যাদবিন্দের শেষ জীবন - পাতার উপরে . . . হরেকৃষ্ণ মুখেপাধ্যায় তাঁর স্বর্ণলালী প্রবন্ধে লিখেছেন যে বর্গীর আক্রমণে রাজা রুদ্রচরণের মৃত্যু হয় এবং যাদবিন্দের সর্বস্ব লুঠ করা হয়। তাঁর ওই গবেষণামূলক রচনায় তিনি লিখেছেন . . .
“রুদ্রচরণের পরলোক গমনের অল্প দিন পরেই যাদবিন্দও পরলোকগত হন। বর্গীর হাঙ্গামায় তাঁহারও সর্ব্বস্ব লুণ্ঠিত হইয়াছিল। যাদবিন্দের পুত্র দেবীচরণ লক্ষ্মী-জনার্দ্দন শালগ্রাম শিলা প্রতিষ্ঠা করিয়া সন ১১৬৬ সালে রাজনগর মুসলমান রাজদরবারে সাহায্যপ্রার্থী হইয়াছিলেন। ইহা হইতেই বুঝিতে পারা যায়--- বর্গীর হাঙ্গামায় ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া অথবা রাজা রুদ্রচরণের মৃত্যুতে আশ্রয়হীন হইয়া ইহাঁরা কিরূপ অভাবে পড়িয়াছিলেন। এই সনন্দ হইতে আর একটী বিষয় জানা য়ায় যে, সন ১১৬৬সালের পূর্ব্বে যাদবিন্দ ইহলোক ত্যাগ করিয়াছিলেন। এই সনন্দখানিরও প্রতিলিপি দিলাম।”