| কবি যদু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| অপরূপ রথ আগে ভণিতা যদু আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৯শ পল্লব, রথযাত্রা, ১৫৪৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২০৯১ সংখ্যক পদ। ॥ ইমন॥ অপরূপ রথ-আগে। নাচে গোরা রায় সভে মেলি গায় যত যত মহাভাগে॥ ধ্রু॥ ভাবেতে অবশ কি রাতি দিবস আবেশে কিছু না জানে। জগন্নাথ-মুখ দেখি মহা সুখ নাচে গর গর মনে॥ খোল করতাল কীর্ত্তন রসাল ঘন ঘন হরিবোল। জয় জয় ধ্বনি সুর নর মুনি গগনে উঠয়ে রোল॥ নীলাচল-বাসী আর নানা দেশী লোকের উথলে হিয়া। প্রেমের পাথারে সভাই সাঁতারে দুখী যদু অভাগিয়া॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন॥ অপরূপ রথ আগে। নাচে গোরা রায়, সবে মেলি গায়, যত যত মহাভাগে॥ ভাবেতে অবশ, কি রাতি দিবস, আবেশে কিছু না জানে। জগন্নাথমুখ, দেখি মহাসুখ, নাচে গর গর মনে॥ খোল্ করতাল, কীর্ত্তন রসাল, ঘন ঘন হরিবোল। জয় জয় ধ্বনি, সুর নর মুনি, গগনে উঠয়ে রোল॥ নীলাচল-বাসী, আর নানা দেশী, লোকের উথলে হিয়া। প্রেমের পাথারে, সবাই সাঁতারে, দুখী যদু অভাগিয়া॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন্॥ অপরূপ রথ আগে। নীচে গোরা রায়, সবে মেলি গায়, যত যত মহাভাগে॥ ভাবেতে অবশ কি রাতি দিবস, আবেশে কিছু না জানে। জগন্নাথ-মুখ, দেখি মহাসুখ, নাচে গর গর মনে॥ খোল করতাল, কীর্ত্তন রসাল, ঘন ঘন হরিবোল। জয় জয় ধ্বনি, সুর নূর মূনি, গগনে উঠয়ে রোল॥ নীলাচলবাসী, আর নানা দেশী, লোকের উথলে হিয়া। প্রেমের পাথারে, সবাই সাঁতারে, দুখী যদু অভাগিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন॥ অপরূপ রথ-আগে। নাচে গোরারায়, সবে মিলি গায়, যত যত মহাভাগে॥ ধ্রু॥ ভাবেতে অবশ, কি রাতি দিবস, আবেশে কিছু না জানে। জগন্নাথমুখ, দেখি মহাসুখ, নাচে গর গর মনে॥ খোল করতাল, কীর্ত্তন রসাল, ঘন ঘন হরিবোল। জয় জয় ধ্বনি, সুর নরমণি, গগনে উঠয়ে রোল॥ নীলাচলবাসী, আর নানা দেশী, লোকের উথলে হিয়া। প্রেমের পাথারে, সদাই সাঁতারে, দুখী যদু অভাগিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”। নীলাচলে রথযাত্রা ॥ ইমন॥ অপরূপ রথ-আগে। নাচে গোরারায় সভে মিলি গায় যত যত মহাভাগে॥ ধ্রু॥ ভাবেতে অবশ কি রাতি দিবস আবেশে কিছু না জানে। জগন্নাথমুখ দেখি মহাসুখ প্রেমেতে মাতিল গানে॥ খোল করতাল কীর্ত্তন রসাল ঘন ঘন হরিবোল। জয় জয় ধ্বনি সুর নরমণি গগনে উঠয়ে রোল॥ নীলাচলবাসী আর নানা দেশী লোকের উথলে হিয়া। প্রেমের পাথারে সবাই সাঁতারে দুখী যদু অভাগিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সই! কি পেখিলু যমুনার তীরে কি পেখলুঁ যমুনার তীরে ভণিতা যদু নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ১৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীমত্যহ ॥ তোড়ী॥ সই! কি পেখিলু যমুনার তীরে। কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো বিকাইলু তার আঁখিঠারে॥ ধ্রু॥ নিতিনিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই কেনে বা বাঢ়লু পা ঘরে। গুরুর গরব কুল নাশাইলে কুলবতীর কলঙ্ক আগে আগে ফিরে॥ কামের কামান জিনি ভুরুর ভঙ্গিমা গো হিঞ্জুল বেড়িয়া দুটি আঁখি। কালিয়া নয়ান বাণ মরমে হানিল গো কালাময় সব আমি দেখি॥ চিক্কণ কালার রূপে আকুল করিল গো ধরণে না যায় মোর হিয়া। কত চাঁদ নিঙাড়িয়া মু’খানি মজিল গো যদু কহে কত সুধা দিয়া॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ততঃ সাক্ষাদ্দর্শনং যথা ॥ তুড়ি॥ কি পেখলুঁ যমুনার তীরে। কালিয়া-বরণ এক মানুষ-আকার গো বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥ নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে। গুরুয়া গরব কুল নাশাইল কুলবতী কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥ কামের কামান জিনি ভুরূর ভঙ্গিমা গো হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি। কালিয়ার নয়ান বাণ মরমে হানিল গো কালাময় আমি সব দেখি॥ চিকণ কালার রূপে আকুল করিল গো ধরণে না যায় মোর হিয়া। কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া মুখানি মজিল গো যদু কহে কত সুধা দিয়া॥ এই পদটি নিমানন্দ দাস বিরচিত “পদরসসার” পুথির ২৬০ সংখ্যক পদ। সেই গ্রন্থে এই পদের শেষে আরও ৮টি পংক্তি বা কলি যুক্ত রয়েছে “জ্ঞানদাস” ভণিতা সহ। আমরা এই পুথিটি হাতে পাইনি। উক্ত শেষ ৮টি পংক্তি বা কলি সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদকল্পতরুতে এই পদের টীকাতে উল্লিখিত রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ কি পেখলুঁ যমুনার তীরে। কালিয়া-বরণ এক মানুষ-আকার গো বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥ নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই কি খেনে লাগিল জঞ্জালে। গুরুয়া গরব কুল নাশাইল কুলবতী কলঙ্ক সে আগে আগে চলে॥ নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথিতে প্রাপ্ত এই স্থানে জ্ঞানদাস ভণিতা সহ অতিরিক্ত ৪টি পংক্তি বা কলি . . . শ্যাম চিকনিয়া দে রসে নিরমিল কে প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি। ভুবন-মোহন ঠাম দেখিয়া কান্দয়ে কাম করুণায় কান্দে কুল-ধনি॥ না জানি না শুনি তায় সে কোন দেবতায় তেঁহ সে তাহার হেন রিত। জ্ঞানদাসেতে কয় না করিলে পরিচয় কে জানিবে তাহার পিরিত॥ এই পদটি কমলাকান্ত দাস বিরচিত “পদরত্নাকর” পুথির ৩|২৯ সংখ্যক পদ। সেই গ্রন্থে এই পদের শেষে আরও ৮টি পংক্তি বা কলি যুক্ত রয়েছে “বংশীবদন” ভণিতা সহ। আমরা এই পুথিটিও হাতে পাইনি। উক্ত শেষ ৮টি পংক্তি বা কলি সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদকল্পতরুতে এই পদের টীকাতে উল্লিখিত রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ কি পেখলুঁ যমুনার তীরে। কালিয়া-বরণ এক মানুষ-আকার গো বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥ নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে। গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতী কলঙ্ক সে আগে আগে ফিরে॥ কামের কামান জিনি ভুরূর ভঙ্গিমা গো হিঙ্গুলে মণ্ডিত দুটি আঁখি। কালিয়ার নয়ান বাণ মরমে হানিল গো কালা কালা সব দিগে দেখি॥ চিকণ কালার রূপে আকুল করিল গো ধরণে না যায় মোর হিয়া। কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া মুখানি মাজ্যাছে গো না জানিয়ে কত সুধা দিয়া॥ কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে প্রাপ্ত এই স্থানে বংশীবদন ভণিতা সহ অতিরিক্ত ৪টি পংক্তি বা কলি . . . অধরের দুটি কুল জিনিয়া বান্ধলি ফুল হাসিখানি মুখেতে মিলায়। নবীন মেঘের যেন বিজুরি সঞ্চরে গো জাতি কুল মজাইলাম তায়॥ কি করিব সখি মুঞি উপায় বলহ গো চলিতে না পারে মোর পা। বংশীবদনে বলে এ রূপ দেখিলে গো কামিনী কেমনে ধরে গা॥ পদের পাঠান্তরের পরে, সতীশচন্দ্র রায়, তাঁর সম্পাদিত পদকল্পতরু গ্রন্থে লিখেছেন . . . “যদু কহে কত সুধা দিয়া” এই ধরণের আকস্মিক (abrupt) ভণিতা বড় অধিক দেখা যায় না ; এই পদের ও প-র-সা (পদরসসার) ও প-র (পদরত্নাকর) পুথির উদ্ধৃত অংশের রচনা জ্ঞানদাস কিংবা বংশীবদনের অযোগ্য নহে ; সুতরাং এই পদটির রচয়িতা কে, সে বিষয়ে আমাদিগের বিশেষ সন্দেহ আছে। ‘যদু’, ‘জ্ঞানদাস’ ও ‘বংশীবদনে’র পদাবলীর স্বহস্ত-লিখিত পুথি আবিষ্কৃত না হইলে, এই সন্দেহের মীমাংসা সুসাধ্য হইবে না।---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ী॥ কি পেখলু যমুনার তীরে। কালিয়া বরণ এক মানুষ আকার গো বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥ নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই কিক্ষণে বাড়াইলাম পা ঘরে। গুরুয়া গরব কুল নাশাইল কুলবতী কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥ কামের কামান জিনি ভুরূর ভঙ্গিমা গো হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি। কালিয়ার নয়ান বাণ মরমে হানিল গো কালাময় আমি সব দেখি॥ চিকণ কালার রূপে আকুল করিল গো ধরণে না যায় মোর হিয়া। কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া মুখানি মাজিল গো যদু কহে কত সুধা দিয়া॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি॥ কি পেখলু যমুনার তীরে। কালিয়া বরণ এক, মানুষ আকার গো, বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥ নিতি নিতি আসি যাই, এমন কভু দেখি নাই, কিক্ষণে বাড়াইলাম পা ঘরে। গুরুয়া গরব কুল, নাশাইল কুলবতী, কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥ কামের কামান জিনি, ভুরূর ভঙ্গিমা গো, হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি। কালিয়ার নয়ান বাণ, মরমে হানিল গো, কালাময় আমি সব দেখি॥ চিকণ কালার রূপে, আকুল করিল গো, ধরণে না যায় মোর হিয়া। কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া, মুখানি মাজিল গো, যদু কহে কত সুধা দিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তুড়ি গৌরী - তেওট॥ কি পেখলুঁ যমুনার তীরে। কালিয়া-বরণ এক মানুষ আকার গো, বিকাইলুঁ তাঁর আঁখি-ঠারে॥ নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই কিক্ষণে বাড়াইলাম পা ঘরে। গুরুয়া গরব কুল নাশাইল কুলবতী কলঙ্ক আগে আগে ফিরে॥ কামের কামান জিনি ভুরূর ভঙ্গিমা গো হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি। কালিয়ার-নয়ান বাণ মরমে হানিল গো কালাময় আমি সব দেখি॥ চিকণ কালিয়া রূপে আকুল করিল গো ধরণে না যায় মোর হিয়া। কত চান্দ নিঙ্গাড়িয়া মুখানি মাজিল গো যদু কহে কত সুধা দিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”। ॥ তুড়ী॥ কি পেখলুঁ যমুনার তীরে। কালিয়া-বরণ এক মানুষ-আকার গো বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥ নিতি নিতি আসি যাই এমন কভু দেখি নাই কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে। গুরুয়া গরব কুল নাশাইতে কুলবতী কলঙ্ক আগে আগে ফিরে॥ কামের কামান জিনি ভুরুর ভঙ্গিমা গো হিঙ্গুলে মণ্ডিত দুটি আঁখি। কালিয়া নয়ান বাণ মরমে হানিল গো কালাময় আমি সব দেখি॥ চিকণ কালার রূপে আকুল করিল গো ধরণে না যায় মোর হিয়া। কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া মুখানি মাজিল গো যদু কহে কত সুধা দিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চৌদিকে মহান্ত মেলি ভণিতা যদু আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৯শ পল্লব, রথযাত্রা, ১৫৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২০৯২ সংখ্যক পদ। ॥ মঙ্গল। কন্দর্পতাল॥ চৌদিকে মহান্ত মেলি করয়ে কীর্ত্তন কেলি সাত সম্প্রদায় গায় গীত। বাজে চতুর্দ্দশ খোল গগন ভেদিল রোল দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥ উনমত নিত্যানন্দ আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস। এ সভারে সঙ্গে করি মাঝে নাচে গৌর হরি ভকত-মণ্ডল চারি পাশ॥ হরি হরি বোলে বোলে পদ-ভরে মহী দোলে নয়ানে বহয়ে জল-ধার। প্রেমের তরঙ্গ-রঙ্গ সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ তাহে অষ্ট সাত্বিক-বিকার॥ ভাবাবেশে গোরা রায় নাচিতে নাচিতে যায় ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ। আনন্দ বিস্ময়-মন দেখি প্রেম-সংকীর্ত্তন নিজ পরিকরগণ সাথ॥ দূরে গেল দুঃখ শোক প্রেমায় ভাসিল লোক স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী। যে প্রেম-বিলাস-ধাম যদু কহে অনুপাম যে দেখিল সেই তার সাখী॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল। কন্দর্প তাল॥ চৌদিকে মহন্ত মেলি, করয়ে কীর্ত্তন-কেলি, সাত সম্প্রদায় গায় গীত। বাজে চতুর্দ্দশ খোল, গগন ভেদিল রোল, দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥ উনমত নিত্যানন্দ, আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র, পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস। এ সবারে সঙ্গে করি, মাঝে নাচে গৌর হরি, ভকতমণ্ডল চারি পাশ॥ হরি হরি বোলে বলে, পদভরে মহী দোলে, নয়নে বহয়ে জলধার। প্রেমের তরঙ্গ রঙ্গ, সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ, তাহে অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার॥ ভাবাবেশে গোরা রায়, নাচিতে নাচিতে যায়, ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ। আনন্দ বিস্ময় মন, দেখি প্রেম-সংকীর্ত্তন, নিজ পরিবারগণ সাথ॥ দূরে গেল দুখ শোক, প্রেমে যে ভাসিল লোক, স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী। যে প্রেম-বিলাস ধাম, যদু কহে অনুপাম, যে দেখিল সেই তার সাখি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কন্দর্পতাল॥ চৌদিকে মহান্ত মেলি, করয়ে কীর্ত্তন কেলি, সাত সম্প্রদায় গায় গীত। বাজে চতুর্দ্দশ খোল, গগন ভেদিল রোল, দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥ উনমত নিত্যানন্দ, আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র, পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস। এ সভারে সঙ্গে করি, মাঝে নাচে গৌর হরি, ভকত-মণ্ডল চারি পাশ॥ হরি হরি বোল বোলে, পদ-ভরে মহী দোলে, নয়ানে বহয়ে জল-ধার। প্রেমের তরঙ্গ-রঙ্গ, সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ, তাহে অষ্ট সাত্বিক-বিকার॥ ভাবাবেশে গোরা রায়, নাচিতে নাচিতে যায়, ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ। আনন্দ বিস্ময় মন, দেখি প্রেম-সংকীর্ত্তন, নিজ পরিচরগণ সাথ॥ দূরে গেল দুখ শোক, প্রেমায় ভাসিল লোক, স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী। যে প্রেম-বিলাস-ধাম, যদু কহে অনুপাম, যে দেখিল সেই তার সাখী॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল। কন্দর্পতাল॥ চৌদিকে মহান্ত মেলি করয়ে কীর্ত্তন কেলি সাত সম্প্রদায় গায় গীত। বাজে চতুর্দ্দশ খোল গগন ভেদিল রোল দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥ উনমত নিত্যানন্দ আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র পণ্ডিত শ্রীনিবাস হরিদাস। এ সভারে সঙ্গে করি মাঝে নাচে গৌরহরি ভকতমণ্ডল চারিপাশ॥ হরি হরি বোলে বলে পদভরে মহী দোলে নয়ানে বহয়ে জলধার। প্রেমের তরঙ্গরঙ্গ সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ তাহে অষ্ট সাত্বিক বিকার॥ ভাবাবেশে গোরারায় নাচিতে নাচিতে যায় ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ। আনন্দ বিস্ময় মন দেখি প্রেমসংকীর্ত্তন নিজ পরিকরগণ সাথ॥ দূরে গেল দুঃখ শোক প্রেমায় ভাসিল লোক স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী। যে প্রেম-বিলাস-ধাম যদু কহে অনুপাম যে দেখিল সেই তার সাখী॥ তথ্য - গৌরপদতরঙ্গিণীতে প্রকাশিত নীলাচলের রথযাত্রার এই পদটিতে একটি তথ্যের ভুল রয়েছে। এই পদের ৬ষ্ঠ পংক্তিতে “পণ্ডিত শ্রীনিবাস হরিদাস” লেখা রয়েছে। “শ্রীনিবাস” হতে পারে না কারণ “গৌরহরি”র সঙ্গে “শ্রীনিবাস আচার্যে”র দেখা হয়নি কোনোদিন। শ্রীচৈতন্যের সঙ্গে দেখা করতে, নীলাচলে যাবার পথেই শ্রীনিবাস খবর পান যে শ্রীচৈতন্য অপ্রকট হয়েছেন। পদকল্পতরুতে প্রকাশিত পদে “শ্রীনিবাসে”র জায়গায় “শ্রীবাস” রয়েছে যা সঠিক তথ্য। অন্য সব গ্রন্থেও "শ্রীবাস" রয়েছে।--মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥ এই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়দয়ন্তী। দোঠুকী॥ চৌদিকে মোহান্ত মেলি, করয়ে কীর্ত্তন কেলি, সাত সম্প্রদায় গায় গীত। বাজে চতুর্দ্দশ খোল, গগন ভেদিল রোল, দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥ উন্মত্ত নিত্যানন্দ, আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র, পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস। এ সভারে সঙ্গে করি, মাঝে নাচে গৌরহরি, ভকত মণ্ডল চারি পাশ॥ হরি হরি বোলে বলে, পদভরে মহী দোলে, নয়ানে বহয়ে জলধার। প্রেমের তরঙ্গ রঙ্গ, সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ, তাহে অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার॥ ভাবাবেশে গোরারায়, নাচিতে নাচিতে যায়, ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ। আনন্দ বিস্ময় মন, দেখি প্রেম সংকীর্ত্তন, নিজ পরিকরগণ সাথ॥ দূরে গেল দুঃখ শোক, প্রেমায় ভাসিল লোক, স্থাবর জঙ্গম পশুপাখী। যে প্রেম বিলাস ধাম, যদু কহে অনুপাম, যে দেখিল সেই তার সাখী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”। ঝুলন লীলা ॥ মঙ্গল - কন্দর্পতাল॥ চৌদিকে মহান্ত মেলি করয়ে কীর্ত্তন কেলি সাত সম্প্রদায় গায় গীত। বাজে চতুর্দ্দশ খোল গগন ভেদিল রোল দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥ উনমত নিত্যানন্দ আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস। এ সভারে সঙ্গে করি মাঝে নাচে গৌর হরি ভকতমণ্ডল চারিপাশ॥ হরি হরি বোল বোলে পদভরে মহী দোলে নয়ানে বহয়ে জলধার। প্রেমের তরঙ্গরঙ্গ সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ তাহে অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার॥ ভাবাবেশে গোরারায় নাচিতে নাচিতে যায় ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ। আনন্দ বিস্ময় মন দেখি প্রেমসংকীর্ত্তন নিজ পরিকরগণ সাথ॥ দূরে গেল দুঃখ শোক প্রেমায় ভাসিল লোক স্থাবর জঙ্গম পশুপাখী। যে প্রেম-বিলাস ধাম যদু কহে অনুপাম যে দেখিল সেই তার সাথী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |