কবি যদু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাধে সাধে শ্যাম-কোরে শুতি ঘুমাইল
ভণিতা যদু
কবি যদুনন্দন দাস
১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের পদরসসার
পুথি থেকে।

রসাল
॥ ভূপালী॥

রাধে সাধে শ্যাম-কোরে শুতি ঘুমাইল।
শ্যাম-গোরী অঙ্গ জড়ি অঙ্গে মিশাইল॥
দুহু-বাহু জনু রাহু চান্দে আগোরল।
নব-জলধর কিয়ে বিজুরী ঝাঁপল॥
কি নীল কমলে হেম-কমল উজ্জবল।
ঘন শশী মিশামিশি খসিয়া পড়ল॥
কিয়ে হেম যুথি তরু-তমালে বেড়ল।
যদু ভণ ঘন যেন চাঁদে মিশায়ল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

রসালস
॥ ভূপালী॥

রাধে রাধে শ্যামকোরে শুতি ঘুমাইল।
শ্যাম-গোরী অঙ্গ জড়ি অঙ্গে মিশাইল॥
দুহু-বাহু জনু রাহু চান্দে আগোরল।
নব-জলধর কিয়ে বিজুরী ঝাঁপল॥
কি নীল কমলে হেম-কমল উজ্জ্বল।
ঘন শশী মিশামিশি খসিয়া পড়ল॥
কিয়ে হেম যুথী তরু-তমালে বেড়ল।
যদু ভণে ঘন যেন চাঁদে মিশায়ল॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হামারি বচন শুনি বিনোদিনি সতি
ভণিতা যদু দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন কমলাকান্ত
দাসের পদরত্নাকর পুথি থেকে।

কুঞ্জ-ভঙ্গ
॥ বিভাস॥

হামারি বচন শুনি বিনোদিনি সতি।
এখনো না পথে লোক করে গতাগতি॥
যাবত তিমির পথ না ছাড়য়ে ঘোরে।
তাবত চলহ ঘরে ভয় নাহি কারে॥
সুললিত নীল-বাসে ঝাঁপ সব অঙ্গ।
বেকত না হয় যেন তব মুখ-চন্দ॥
রাই যাবে জানিয়া নাগর ঘন শ্বাস।
ধনী লই গমন করল যদু দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

কুঞ্জ-ভঙ্গ
॥ বিভাস॥

হামারি বচন শুন বিনোদিনি সতি।
এখনো না পথে লোক করে গতাগতি॥
যাবত তিমির পথ না ছাড়য়ে ঘোরে।
তাবত চলহ ঘরে ভয় নাহি কারে॥
সুললিত নীল-বাসে ঝাঁপ সব অঙ্গ।
বেকত না হয় যেন তব মুখ-চন্দ॥
রাই যাবে জানিয়া নাগর ঘন শ্বাস।
ধনী লই গমন করল যদু দাস॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অপরূপ রথ আগে
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৯শ পল্লব, রথযাত্রা,
১৫৪৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২০৯১ সংখ্যক পদ।

॥ ইমন॥

অপরূপ রথ-আগে।
নাচে গোরা রায়                        সভে মেলি গায়
যত যত মহাভাগে॥ ধ্রু॥
ভাবেতে অবশ                          কি রাতি দিবস
আবেশে কিছু না জানে।
জগন্নাথ-মুখ                               দেখি মহা সুখ
নাচে গর গর মনে॥
খোল করতাল                               কীর্ত্তন রসাল
ঘন ঘন হরিবোল।
জয় জয় ধ্বনি                              সুর নর মুনি
গগনে উঠয়ে রোল॥
নীলাচল-বাসী                            আর নানা দেশী
লোকের উথলে হিয়া।
প্রেমের পাথারে                           সভাই সাঁতারে
দুখী যদু অভাগিয়া॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ইমন॥

অপরূপ রথ আগে।
নাচে গোরা রায়, সবে মেলি গায়, যত যত মহাভাগে॥
ভাবেতে অবশ, কি রাতি দিবস, আবেশে কিছু না জানে।
জগন্নাথমুখ, দেখি মহাসুখ, নাচে গর গর মনে॥
খোল্ করতাল, কীর্ত্তন রসাল, ঘন ঘন হরিবোল।
জয় জয় ধ্বনি, সুর নর মুনি, গগনে উঠয়ে রোল॥
নীলাচল-বাসী, আর নানা দেশী, লোকের উথলে হিয়া।
প্রেমের পাথারে, সবাই সাঁতারে, দুখী যদু অভাগিয়া॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৬১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন্॥

অপরূপ রথ আগে।
নীচে গোরা রায়, সবে মেলি গায়, যত যত মহাভাগে॥
ভাবেতে অবশ কি রাতি দিবস, আবেশে কিছু না জানে।
জগন্নাথ-মুখ, দেখি মহাসুখ, নাচে গর গর মনে॥
খোল করতাল, কীর্ত্তন রসাল, ঘন ঘন হরিবোল।
জয় জয় ধ্বনি, সুর নূর মূনি, গগনে উঠয়ে রোল॥
নীলাচলবাসী, আর নানা দেশী, লোকের উথলে হিয়া।
প্রেমের পাথারে, সবাই সাঁতারে, দুখী যদু অভাগিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২),
২০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন॥

অপরূপ রথ-আগে।
নাচে গোরারায়, সবে মিলি গায়, যত যত মহাভাগে॥ ধ্রু॥
ভাবেতে অবশ, কি রাতি দিবস, আবেশে কিছু না জানে।
জগন্নাথমুখ, দেখি মহাসুখ, নাচে গর গর মনে॥
খোল করতাল, কীর্ত্তন রসাল, ঘন ঘন হরিবোল।
জয় জয় ধ্বনি, সুর নরমণি, গগনে উঠয়ে রোল॥
নীলাচলবাসী, আর নানা দেশী, লোকের উথলে হিয়া।
প্রেমের পাথারে, সদাই সাঁতারে, দুখী যদু অভাগিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”।

নীলাচলে রথযাত্রা
॥ ইমন॥

অপরূপ রথ-আগে।
নাচে গোরারায়                          সভে মিলি গায়
যত যত মহাভাগে॥ ধ্রু॥
ভাবেতে অবশ                           কি রাতি দিবস
আবেশে কিছু না জানে।
জগন্নাথমুখ                                 দেখি মহাসুখ
প্রেমেতে মাতিল গানে॥
খোল করতাল                              কীর্ত্তন রসাল
ঘন ঘন হরিবোল।
জয় জয় ধ্বনি                              সুর নরমণি
গগনে উঠয়ে রোল॥
নীলাচলবাসী                             আর নানা দেশী
লোকের উথলে হিয়া।
প্রেমের পাথারে                          সবাই সাঁতারে
দুখী যদু অভাগিয়া॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সই! কি পেখিলু যমুনার তীরে
কি পেখলুঁ যমুনার তীরে
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১৪২-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমত্যহ
॥ তোড়ী॥

সই! কি পেখিলু যমুনার তীরে।
কালিয়া বরণ এক    মানুষ আকার গো    বিকাইলু তার আঁখিঠারে॥ ধ্রু॥
নিতিনিতি আসি যাই    এমন কভু দেখি নাই    কেনে বা বাঢ়লু পা ঘরে।
গুরুর গরব কুল    নাশাইলে কুলবতীর    কলঙ্ক আগে আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি    ভুরুর ভঙ্গিমা গো    হিঞ্জুল বেড়িয়া দুটি আঁখি।
কালিয়া নয়ান বাণ    মরমে হানিল গো    কালাময় সব আমি দেখি॥
চিক্কণ কালার রূপে    আকুল করিল গো    ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙাড়িয়া    মু’খানি মজিল গো    যদু কহে কত সুধা দিয়া॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব,
শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ততঃ সাক্ষাদ্দর্শনং যথা
॥ তুড়ি॥

কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া-বরণ এক                        মানুষ-আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই                  এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল                            নাশাইল কুলবতী
কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি                      ভুরূর ভঙ্গিমা গো
হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি।
কালিয়ার নয়ান বাণ                        মরমে হানিল গো
কালাময় আমি সব দেখি॥
চিকণ কালার রূপে                        আকুল করিল গো
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া                        মুখানি মজিল গো
যদু কহে কত সুধা দিয়া॥

ই পদটি নিমানন্দ দাস বিরচিত “পদরসসার” পুথির ২৬০ সংখ্যক পদ। সেই গ্রন্থে এই পদের শেষে
আরও ৮টি পংক্তি বা কলি যুক্ত রয়েছে “জ্ঞানদাস” ভণিতা সহ। আমরা এই পুথিটি হাতে পাইনি। উক্ত
শেষ ৮টি পংক্তি বা কলি সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদকল্পতরুতে এই পদের টীকাতে উল্লিখিত রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া-বরণ এক                        মানুষ-আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই                 এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে লাগিল জঞ্জালে।
গুরুয়া গরব কুল                           নাশাইল কুলবতী
কলঙ্ক সে আগে আগে চলে॥
নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথিতে প্রাপ্ত এই স্থানে জ্ঞানদাস ভণিতা সহ অতিরিক্ত ৪টি
পংক্তি বা কলি . . .
শ্যাম চিকনিয়া দে                          রসে নিরমিল কে
প্রতি অঙ্গে ঝলকে দাপনি।
ভুবন-মোহন ঠাম                      দেখিয়া কান্দয়ে কাম
করুণায় কান্দে কুল-ধনি॥
না জানি না শুনি তায়                     সে কোন দেবতায়
তেঁহ সে তাহার হেন রিত।
জ্ঞানদাসেতে কয়                        না করিলে পরিচয়
কে জানিবে তাহার পিরিত॥

ই পদটি কমলাকান্ত দাস বিরচিত “পদরত্নাকর” পুথির ৩|২৯ সংখ্যক পদ। সেই গ্রন্থে এই পদের শেষে
আরও ৮টি পংক্তি বা কলি যুক্ত রয়েছে “বংশীবদন” ভণিতা সহ। আমরা এই পুথিটিও হাতে পাইনি। উক্ত
শেষ ৮টি পংক্তি বা কলি সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদকল্পতরুতে এই পদের টীকাতে উল্লিখিত রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া-বরণ এক                        মানুষ-আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই                  এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল                          নাশাইতে কুলবতী
কলঙ্ক সে আগে আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি                      ভুরূর ভঙ্গিমা গো
হিঙ্গুলে মণ্ডিত দুটি আঁখি।
কালিয়ার নয়ান বাণ                        মরমে হানিল গো
কালা কালা সব দিগে দেখি॥
চিকণ কালার রূপে                        আকুল করিল গো
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া                      মুখানি মাজ্যাছে গো
না জানিয়ে কত সুধা দিয়া॥
কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথিতে প্রাপ্ত এই স্থানে বংশীবদন ভণিতা সহ অতিরিক্ত ৪টি
পংক্তি বা কলি . . .
অধরের দুটি কুল                        জিনিয়া বান্ধলি ফুল
হাসিখানি মুখেতে মিলায়।
নবীন মেঘের যেন                        বিজুরি সঞ্চরে গো
জাতি কুল মজাইলাম তায়॥
কি করিব সখি মুঞি                        উপায় বলহ গো
চলিতে না পারে মোর পা।
বংশীবদনে বলে                        এ রূপ দেখিলে গো
কামিনী কেমনে ধরে গা॥

পদের পাঠান্তরের পরে, সতীশচন্দ্র রায়, তাঁর সম্পাদিত পদকল্পতরু গ্রন্থে লিখেছেন . . .
“যদু কহে কত সুধা দিয়া” এই ধরণের আকস্মিক
(abrupt) ভণিতা বড় অধিক দেখা যায় না ; এই পদের ও
প-র-সা (পদরসসার) ও প-র (পদরত্নাকর) পুথির উদ্ধৃত অংশের রচনা জ্ঞানদাস কিংবা বংশীবদনের
অযোগ্য নহে ; সুতরাং এই পদটির রচয়িতা কে, সে বিষয়ে আমাদিগের বিশেষ সন্দেহ আছে। ‘যদু’,
‘জ্ঞানদাস’ ও ‘বংশীবদনে’র পদাবলীর স্বহস্ত-লিখিত পুথি আবিষ্কৃত না হইলে, এই সন্দেহের মীমাংসা সুসাধ্য
হইবে না।---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

কি পেখলু যমুনার তীরে।
কালিয়া বরণ এক                        মানুষ আকার গো
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই                  এমন কভু দেখি নাই
কিক্ষণে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল                           নাশাইল কুলবতী
কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি                      ভুরূর ভঙ্গিমা গো
হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি।
কালিয়ার নয়ান বাণ                        মরমে হানিল গো
কালাময় আমি সব দেখি॥
চিকণ কালার রূপে                        আকুল করিল গো
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া                        মুখানি মাজিল গো
যদু কহে কত সুধা দিয়া॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

কি পেখলু যমুনার তীরে।
কালিয়া বরণ এক,                        মানুষ আকার গো,
বিকাইনু তার আঁখি ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই,                  এমন কভু দেখি নাই,
কিক্ষণে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল,                            নাশাইল কুলবতী,
কলঙ্ক চলিয়া আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি,                       ভুরূর ভঙ্গিমা গো,
হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি।
কালিয়ার নয়ান বাণ,                        মরমে হানিল গো,
কালাময় আমি সব দেখি॥
চিকণ কালার রূপে,                        আকুল করিল গো,
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া,                        মুখানি মাজিল গো,
যদু কহে কত সুধা দিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি গৌরী - তেওট॥

কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া-বরণ এক                        মানুষ আকার গো,
বিকাইলুঁ তাঁর আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই                   এমন কভু দেখি নাই
কিক্ষণে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল                             নাশাইল কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি                        ভুরূর ভঙ্গিমা গো
হিঙ্গুলে বেড়িয়া দুটি আঁখি।
কালিয়ার-নয়ান বাণ                        মরমে হানিল গো
কালাময় আমি সব দেখি॥
চিকণ কালিয়া রূপে                        আকুল করিল গো
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চান্দ নিঙ্গাড়িয়া                        মুখানি মাজিল গো
যদু কহে কত সুধা দিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”।

॥ তুড়ী॥

কি পেখলুঁ যমুনার তীরে।
কালিয়া-বরণ এক                        মানুষ-আকার গো
বিকাইলুঁ তার আঁখি-ঠারে॥
নিতি নিতি আসি যাই                এমন কভু দেখি নাই
কি খেনে বাড়াইলাম পা ঘরে।
গুরুয়া গরব কুল                        নাশাইতে কুলবতী
কলঙ্ক আগে আগে ফিরে॥
কামের কামান জিনি                     ভুরুর ভঙ্গিমা গো
হিঙ্গুলে মণ্ডিত দুটি আঁখি।
কালিয়া নয়ান বাণ                        মরমে হানিল গো
কালাময় আমি সব দেখি॥
চিকণ কালার রূপে                      আকুল করিল গো
ধরণে না যায় মোর হিয়া।
কত চাঁদ নিঙ্গাড়িয়া                     মুখানি মাজিল গো
যদু কহে কত সুধা দিয়া॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কহ না উপায় সখি কহ না উপায়
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, রসোদ্গার, ৭০৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
পদরসসার পুথির ১১৭৬ সংখ্যক পদ।

রসোদ্গারানুরাগঃ। প্রকারান্তরং।
তত্র গৌরচন্দ্রঃ।
॥ সুহই॥

কহ না উপায় সখি কহ না উপায়।
নিরবধি হৃদয়ে জাগায়ে গোরা রায়॥
পাসরা না যায় গোরাচাঁদের পিরিতি।
কি করিব বিধি সে করিল কুলবতী॥
কিবা সে মধুর বাণী অমিয়ার ধারা।
কিবা সে মোহন রূপ সতী-মন-চোরা॥
যদু কহে কি কহিব গোরা-গুণ যত।
বিকাইলুঁ গোরা-প্রেমে এ জনমের মত॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কহ না উপায় সখি কহ না উপায়।
নিরবধি হৃদয়ে জাগয়ে গোরারায়॥
পাসরা না যায় গোরাচাঁদের পিরীতি।
কি করিব বিধি সে করিল কুলবতী॥
কিবা সে মধুর বাণী অমিয়ার ধারা।
কিবা সে মোহন রূপ সতী-মন-চোরা॥
যদু কহে কি কহিব গোরা-গুণ যত।
বিকাইনু গোরা-প্রেমে এ জনমের মত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

রসোদ্গার
॥ সুহই॥

কহ না উপায় সখি কহ না উপায়।
নিরবধি হৃদয়ে জাগয়ে গোরা রায়॥
পাসরা না যায় গোরাচাঁদের পিরীতি।
কি করিব বিধি সে করিল কুলবতী॥
কিবা সে মধুর বাণী অমিয়ার ধারা।
কিবা সে মোহন রূপ সতী-মন-চোরা॥
যদু কহে কি কহিব গোরা-গুণ যত।
বিকাইলুঁ গোরা-প্রেমে এ জনমের মত॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তোমার লাগিয়া বন্ধু যত দুখ পাই
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮১৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
পদরসসার পুথির ১৩০৯ সংখ্যক পদ। এই পদটি এবং “কি মোহিনী জান বঁধু কি মোহিনী
জান” পদের প্রথম দু-পংক্তি বাদ দিলে বাকি পুরোটাই একই পদ। তবু আমরা পদ দুটিকে
আলাদা স্বতন্ত্র পদ হিসেবেই রাখছি।

॥ তথা রাগ॥

তোমার লাগিয়া বন্ধু যত দুখ পাই।
তাহা কি কহিতে পারি তোমার যে ঠাঞি॥
একে প্রেম-জ্বালা তাহে গুরুর গঞ্জন।
নিরবধি প্রাণ মোর করে উচাটন॥
পতি দুরমতি তাহে সদা দেয় গালি।
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ অতি কালী॥
এ সব দুখেতে আমি দুখ নাহি গণি।
তোমা না দেখিতে পাই বিদরে পরাণি॥
শুনিয়া নাগর কহে করি নিজ কোরে।
বুক ভাসিয়া গেল নয়ানের লোরে॥
গদগদ কহে নাগর কাতর-বয়ানে।
পরাণ নিছিলুঁ রাই তোমার চরণে॥
তুয়া গুণে বিকাইয়াছি কিনিয়াছ মোরে।
অধীন জনেরে কেন কহ পুনবারে॥
যে কহ তাহাই করি নাহি কিছু ভয়।
যদু কহে এই ভাল আর কিছু নয়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২০৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

তোমার লাগিএ বন্ধু জত দুখ পাই। তাহা কি কহিতে পারি এ তোমারি ঠাই॥
একে প্রেমজ্বালা তাহে গুরুর গঞ্জন। নিরবধি প্রাণ মোরে করে উচাটন॥
পতি দুরমতি তাহে সদা দেয় গালি। ভাবিতে ভাবিতে খিণ অতি কালী॥
এ সব দুখেতে আমি দুখ নাহি গুনি। তোমা না দেখিতে পাই বিদরে পরানি॥
সুনিএ নাগর কহে করি নিজ করে। বুক ভাসিয়া গেল নআনের লোরে॥
গদগদ কহে নাগর কাতর বয়ানে। পরাণ নিছুনু রাই তোমার চরণে॥
তুয়া বিকাইছি কিনিয়াছ মোরে। অধীন জনেরে কেন কহ পুনুর্বারে॥
যে কহ তাহাই করি নাহি কিছু ভয়। যদু কহে এই ভাল আর কিছু নয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

পরস্পরের অনুরাগ
॥ তথা রাগ॥

তোমার লাগিয়া বন্ধু যত দুখ পাই।
তাহা কি কহিতে আমি পারি তব ঠাঞি॥
একে প্রেম-জ্বালা তাহে গুরুর গঞ্জন।
নিরবধি প্রাণ মোর করে উচাটন॥
পতি দুরমতি তাহে সদা দেয় গালি।
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ অতিকালী॥
এ সব দুখেতে আমি দুখ নাহি গণি।
তোমা না দেখিতে পাই বিদরে পরাণি॥
শুনিয়া নাগর কহে করি নিজ কোরে।
বুক ভাসিয়া গেল নয়ানের লোরে॥
গদগদ কহে নাগর কাতর-বয়ানে।
পরাণ নিছিলুঁ রাই তোমার চরণে॥
তুয়া গুণে বিকাইয়াছি কিনিয়াছ মোরে।
অধীন জনেরে কেন কহ পুনবারে॥
যে কহ তাহাই করি নাহি কিছু ভয়।
যদু কহে এই ভাল আর কিছু নয়॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৭০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীভূপালী - মধ্যম একতালা॥

তোমার লাগিয়া বন্ধু যত দুখ পাই।
তাহা কি কহিতে পারি তোমার যে ঠাঞি॥
একে প্রেম-জ্বালা তাহে গুরুর গঞ্জন।
নিরবধি প্রাণ মোর করে উচাটন॥
পতি দুরমতি তাহে সদা দেয় গালি।
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ অতি কালী॥
এসব দুখেতে আমি দুখ নাহি গণি।
তোমা না দেখিতে পাই বিদরে পরাণি॥
শুনিয়া নাগর কহে করি নিজ কোরে।
বুক ভাসিয়া গেল নয়ানের লোরে॥
গদগদ কহে নাগর কাতর বয়ানে।
পরাণ নিছিলুঁ রাই তোমার চরণে॥
তুয়া গুণে বিকাইয়াছি কিনিয়াছ মোরে।
অধীন জনেরে কেন কহ পুনবারে॥
যে কহ তাহাই করি নাহি কিছু ভয়।
যদু কহে এই ভাল আর কিছু নয়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

তোমার লাগিয়া বন্ধু যত দুখ পাই।
তাহা কি কহিতে পারি তোমার যে ঠাঞি॥
একে প্রেম-জ্বালা তাহে গুরুর গঞ্জন।
নিরবধি প্রাণ মোর করে উচাটন॥
পতি দুরমতি তাহে সদা দেয় গালি।
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ অতি কালি॥
এ সব দুখেতে আমি দুখ নাহি গণি।
তোমা না দেখিতে পাই বিদরে পরানি॥
শুনিয়া নাগর কহে করি নিজ কোরে।
বুক ভাসিয়া গেল নয়ানের লোরে॥
গদগদ কহে নাগর কাতর বয়ানে।
পরান নিছিলুঁ রাই তোমার চরণে॥
তুয়া গুণে বিকাইয়াছি কিনিয়াছ মোরে।
অধীন জনেরে কেন কহ পুনবারে॥
যে কহ তাহাই করি নাহি কিছু ভয়।
যদু কহে এই ভাল, আর কিছু নয়॥

ব্যাখ্যা -
হে বন্ধু, তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না যে শুধু তোমার জন্য কত দুঃখ। একদিকে
তোমার প্রেমের যন্ত্রণা, আর-একদিকে সমস্ত সংসারের গঞ্জনা। উদ্বেগে দিনে দিনে ক্ষীণ
হচ্ছে আমার তনুলতা। কিন্তু  তুমি  জানো না,  এসব  দুঃখকে আমি দুঃখ বলে
গণনা করি না। দুঃখ শুধু এই যে তোমাকে দেখতে, না পেলে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হয়। এ-
কথা শুনে কৃষ্ণ রাধাকে আলিঙ্গন করে বললেন---তুমি তো জানে আমি তেমার চরণে
আমার প্রাণ নিবেদন করেছি। তুমি যা বলো আমি তাই করব। অতএব কেন ভয় করছ।
---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি মোহিনী জান বঁধু কি মোহিনী জান
ভণিতা যদু
কবি যদুদাস
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
পদলহরী”, ৫২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি এবং “তোমার লাগিয়া বন্ধু যত
দুখ পাই” পদের প্রথম দু-পংক্তি বাদ দিলে বাকি পুরোটাই একই পদ। তবু আমরা পদ
দুটিকে আলাদা স্বতন্ত্র পদ হিসেবেই রাখছি।

॥ সুহই॥

কি মোহিনী জান বঁধু কি মোহিনী জান।
অবলার প্রাণ নিতে নাহি তোমা হেন॥
একে প্রেম-জ্বালা তাহে গুরুর গঞ্জন।
নিরবধি প্রাণ মোর করে উচাটন॥
পতি দুরমতি তাহে সদা দেয় গালি।
ভাবিতে ভাবিতে তনু ক্ষীণ অতি কালী॥
এ সব দুখেতে আমি দুখ নাহি গণি।
তোমা না দেখিতে পাই বিদরে পরাণী॥
শুনিয়া নাগর কহে করি নিজ কোরে।
বুক ভাসিয়া গেল নয়ানের লোরে॥
গদগদ কহে নাগর কাতর বয়ানে।
পরাণনিছুনি রাই তোমার চরণে॥
তুয়া গুণে বিকায়েছি কিনিয়াছ মোরে।
অধীন জনেরে কেন কহ পুনর্ব্বারে॥
যে কহ তাহাই করি নাহি কিছু ভয়।
যদু কহে এই ভাল আর কিছু নয়॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোরাচাঁদে দেখিয়া কি হৈলুঁ
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮৫৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
পদরসসার পুথির ১৩৪৯ সংখ্যক পদ।

গুরুগণাদীন্ প্রতি আক্ষেপো যথা।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বরাড়ী॥

গোরাচাঁদে দেখিয়া কি হৈলুঁ।
গোপত পিরিতি-ফাঁদে মুঞি সে ঠেকিলুঁ॥
ঘরে গুরুজন-জ্বালা সহিতে না পারি।
অবলা করিল বিহি তাহে কুলনারী॥
গোরা-রূপ মনে হৈলে হইয়ে পাগলী।
দেখিয়া শাশুড়ী মোর সদা পাড়ে গালি॥
রহিতে নারিলুঁ ঘরে কি করি উপায়।
যদু কহে ছাড়িলে না ছাড়ে গোরারায়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ তত্র গুরুজনার প্রতি গৌরচন্দ্র॥

গোরাচাঁদে দেখিআ কি হইনু। গোপত পিরিতি ফান্দে আমি সে ঠেকিনু॥
ঘরে গুরুজন জ্বালা সহিতে না পারি। অবলা কহিলে বিহি তাহে কুলনারী॥
গোরারূপে মনে হইলে হইএ পাগলি। দেখিয়া সাসুরি মোর সদা দেয় গালি॥
রহিতে নারিনু ঘরে কি করি উপায়। যদু কহে ছাড়িতে না ছাড়ে গোরারায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

গোরাচাঁদে দেখিয়া কি হৈনু।
গোপত পিরীতি ফাঁদে মুঞি সে ঠেকিনু॥
ঘরে গুরুজনজ্বালা সহিতে না পারি।
অবলা করিল বিহি তাহে কুলনারী॥
গোরারূপ মনে হৈলে হই যে পাগলী।
দেখিয়া শাশুড়ী মোর সদা পাড়ে গালি॥
রহিতে নারিনু ঘরে কি করি উপায়।
যদু কহে ছাড়িলে না ছাড়ে গোরারায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

গোরাচাঁদে দেখিয়া কি হৈনু।
গোপত পীরিতি-ফাঁদে মুই সে ঠেকিনু॥
ঘরে গুরুজন-জ্বালা সহিতে না পারি।
অবলা করিল বিহি তাহে কুলনারী॥
গোরারূপ মনে হৈলে হইবে পাগলী।
দেখিয়া শাশুড়ী মোর সদা পাড়ে গালি॥
রহিতে নারিনু ঘরে কি করি উপায়।
যদু কহে ছাড়িলে না ছাড়ে গোরারায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

॥ বরাড়ী॥

গোরাচাঁদে দেখিয়া কি হৈনু।
গোপত পিরীতি ফাঁদে মুই সে ঠেকিনু॥
ঘরে গুরুজন-জ্বালা সহিতে না পারি।
অবলা করিল বিহি তাহে কুলনারী॥
গোরারূপ মনে হৈলে হইবে পাগলী।
দেখিয়া শাশুড়ী মোর সদা পাড়ে গালি॥
রহিতে নারিনু ঘরে কি করি উপায়।
যদু কহে ছাড়িলে না ছাড়ে গোরারায়॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গুরুজনের প্রতি আক্ষেপ।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - বড় দশকুশী॥

গোরাচাঁদে দেখিয়া কি হৈলুঁ।
গোপত পিরিতি ফাঁদে মুঞি ত ঠেকিলুঁ॥
ঘরে গুরুজন-জ্বালা সহিতে না পারি।
অবলা করিল বিহি তাহে কুলনারী॥
গোরারূপ মনে হইলে হইয়ে পাগলী।
দেখিয়া শাশুড়ী মোর সদা পাড়ে গালি॥
রহিতে নারিনু ঘরে কি করি উপায়।
যদু কহে ছাড়িতে না ছাড়ে গোরা রায়॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেরি দুহুঁ নিশি অবসান
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ১৫শ পল্লব, রসালস, ১০৮৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি
পদরসসার পুথির ১৪৯৭ সংখ্যক পদ।

॥ বিভাষ॥

হেরি দুহুঁ নিশি অবসান
তৈখনে তেজল শয়ান।
সব সহচরিগণ মেলি
করি কত কৌতুক কেলি॥
মন্দিরে করত পয়ান
করে কর ধরি ধনি কান।
হেরি যদু দুহুঁক বয়ান
কি করব তাক বাখান॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালায় সংরক্ষিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বিভাষ একতালি॥

হেরি দোহে নিশি অবসান। তৈখনে তেজল সয়ান।
সব সহচরীগণ মেলি। কর কত কৌতুক কেলি॥
মন্দিরে করত পয়ান। করে কর ধরি ধনি কান।
হেরি যদু দোহক বয়ান। কি করব তাক বাখান॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ - জপতাল॥

হেরি দুহুঁ নিশি অবসান।
তৈখনে তেজল শয়ান॥
সব সহচরিগণ মেলি।
করি কত কৌতুক কেলি॥
মন্দিরে করত পয়ান।
করে কর ধরি ধনি কান॥
হেরি যদু দুহুঁক বয়ান।
কি করব তাক বাখান॥

.            *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চৌদিকে মহান্ত মেলি
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৯শ পল্লব, রথযাত্রা,
১৫৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২০৯২ সংখ্যক পদ।

॥ মঙ্গল। কন্দর্পতাল॥

চৌদিকে মহান্ত মেলি                     করয়ে কীর্ত্তন কেলি
সাত সম্প্রদায় গায় গীত।
বাজে চতুর্দ্দশ খোল                        গগন ভেদিল রোল
দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥
উনমত নিত্যানন্দ                        আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র
পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস।
এ সভারে সঙ্গে করি                    মাঝে নাচে গৌর হরি
ভকত-মণ্ডল চারি পাশ॥
হরি হরি বোলে বোলে                    পদ-ভরে মহী দোলে
নয়ানে বহয়ে জল-ধার।
প্রেমের তরঙ্গ-রঙ্গ                        সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ
তাহে অষ্ট সাত্বিক-বিকার॥
ভাবাবেশে গোরা রায়                   নাচিতে নাচিতে যায়
ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ।
আনন্দ বিস্ময়-মন                        দেখি প্রেম-সংকীর্ত্তন
নিজ পরিকরগণ সাথ॥
দূরে গেল দুঃখ শোক                    প্রেমায় ভাসিল লোক
স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী।
যে প্রেম-বিলাস-ধাম                        যদু কহে অনুপাম
যে দেখিল সেই তার সাখী॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ মঙ্গল। কন্দর্প তাল॥

চৌদিকে মহন্ত মেলি, করয়ে কীর্ত্তন-কেলি, সাত সম্প্রদায় গায় গীত।
বাজে চতুর্দ্দশ খোল, গগন ভেদিল রোল, দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥
উনমত নিত্যানন্দ, আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র, পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস।
এ সবারে সঙ্গে করি, মাঝে নাচে গৌর হরি, ভকতমণ্ডল চারি পাশ॥
হরি হরি বোলে বলে, পদভরে মহী দোলে, নয়নে বহয়ে জলধার।
প্রেমের তরঙ্গ রঙ্গ, সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ, তাহে অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার॥
ভাবাবেশে গোরা রায়, নাচিতে নাচিতে যায়, ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ।
আনন্দ বিস্ময় মন, দেখি প্রেম-সংকীর্ত্তন, নিজ পরিবারগণ সাথ॥
দূরে গেল দুখ শোক, প্রেমে যে ভাসিল লোক, স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী।
যে প্রেম-বিলাস ধাম, যদু কহে অনুপাম, যে দেখিল সেই তার সাখি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কন্দর্পতাল॥

চৌদিকে মহান্ত মেলি,                     করয়ে কীর্ত্তন কেলি,
সাত সম্প্রদায় গায় গীত।
বাজে চতুর্দ্দশ খোল,                        গগন ভেদিল রোল,
দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥
উনমত নিত্যানন্দ,                        আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র,
পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস।
এ সভারে সঙ্গে করি,                     মাঝে নাচে গৌর হরি,
ভকত-মণ্ডল চারি পাশ॥
হরি হরি বোল বোলে,                     পদ-ভরে মহী দোলে,
নয়ানে বহয়ে জল-ধার।
প্রেমের তরঙ্গ-রঙ্গ,                        সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ,
তাহে অষ্ট সাত্বিক-বিকার॥
ভাবাবেশে গোরা রায়,                    নাচিতে নাচিতে যায়,
ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ।
আনন্দ বিস্ময় মন,                        দেখি প্রেম-সংকীর্ত্তন,
নিজ পরিচরগণ সাথ॥
দূরে গেল দুখ শোক,                     প্রেমায় ভাসিল লোক,
স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী।
যে প্রেম-বিলাস-ধাম,                        যদু কহে অনুপাম,
যে দেখিল সেই তার সাখী॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল। কন্দর্পতাল॥

চৌদিকে মহান্ত মেলি                     করয়ে কীর্ত্তন কেলি
সাত সম্প্রদায় গায় গীত।
বাজে চতুর্দ্দশ খোল                        গগন ভেদিল রোল
দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥
উনমত নিত্যানন্দ                        আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র
পণ্ডিত শ্রীনিবাস হরিদাস।
এ সভারে সঙ্গে করি                     মাঝে নাচে গৌরহরি
ভকতমণ্ডল চারিপাশ॥
হরি হরি বোলে বলে                      পদভরে মহী দোলে
নয়ানে বহয়ে জলধার।
প্রেমের তরঙ্গরঙ্গ                        সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ
তাহে অষ্ট সাত্বিক বিকার॥
ভাবাবেশে গোরারায়                    নাচিতে নাচিতে যায়
ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ।
আনন্দ বিস্ময় মন                        দেখি প্রেমসংকীর্ত্তন
নিজ পরিকরগণ সাথ॥
দূরে গেল দুঃখ শোক                    প্রেমায় ভাসিল লোক
স্থাবর জঙ্গম পশু পাখী।
যে প্রেম-বিলাস-ধাম                        যদু কহে অনুপাম
যে দেখিল সেই তার সাখী॥

তথ্য -
গৌরপদতরঙ্গিণীতে প্রকাশিত নীলাচলের রথযাত্রার এই পদটিতে একটি তথ্যের ভুল রয়েছে। এই পদের
৬ষ্ঠ পংক্তিতে “পণ্ডিত শ্রীনিবাস হরিদাস” লেখা রয়েছে। “শ্রীনিবাস” হতে পারে না কারণ “গৌরহরি”র সঙ্গে
“শ্রীনিবাস আচার্যে”র দেখা হয়নি কোনোদিন। শ্রীচৈতন্যের সঙ্গে দেখা করতে, নীলাচলে যাবার পথেই
শ্রীনিবাস খবর পান যে শ্রীচৈতন্য অপ্রকট হয়েছেন। পদকল্পতরুতে প্রকাশিত পদে “শ্রীনিবাসে”র জায়গায়
“শ্রীবাস” রয়েছে যা সঠিক তথ্য। অন্য সব গ্রন্থেও "শ্রীবাস" রয়েছে।--মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়দয়ন্তী। দোঠুকী॥

চৌদিকে মোহান্ত মেলি,                   করয়ে কীর্ত্তন কেলি,
সাত সম্প্রদায় গায় গীত।
বাজে চতুর্দ্দশ খোল,                        গগন ভেদিল রোল,
দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥
উন্মত্ত নিত্যানন্দ,                         আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র,
পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস।
এ সভারে সঙ্গে করি,                     মাঝে নাচে গৌরহরি,
ভকত মণ্ডল চারি পাশ॥
হরি হরি বোলে বলে,                      পদভরে মহী দোলে,
নয়ানে বহয়ে জলধার।
প্রেমের তরঙ্গ রঙ্গ,                        সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ,
তাহে অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার॥
ভাবাবেশে গোরারায়,                    নাচিতে নাচিতে যায়,
ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ।
আনন্দ বিস্ময় মন,                       দেখি প্রেম সংকীর্ত্তন,
নিজ পরিকরগণ সাথ॥
দূরে গেল দুঃখ শোক,                    প্রেমায় ভাসিল লোক,
স্থাবর জঙ্গম পশুপাখী।
যে প্রেম বিলাস ধাম,                        যদু কহে অনুপাম,
যে দেখিল সেই তার সাখী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”।

ঝুলন লীলা
॥ মঙ্গল - কন্দর্পতাল॥

চৌদিকে মহান্ত মেলি                     করয়ে কীর্ত্তন কেলি
সাত সম্প্রদায় গায় গীত।
বাজে চতুর্দ্দশ খোল                        গগন ভেদিল রোল
দেখি জগন্নাথ আনন্দিত॥
উনমত নিত্যানন্দ                        আচার্য্য অদ্বৈতচন্দ্র
পণ্ডিত শ্রীবাস হরিদাস।
এ সভারে সঙ্গে করি                    মাঝে নাচে গৌর হরি
ভকতমণ্ডল চারিপাশ॥
হরি হরি বোল বোলে                     পদভরে মহী দোলে
নয়ানে বহয়ে জলধার।
প্রেমের তরঙ্গরঙ্গ                        সুমেরু জিনিয়া অঙ্গ
তাহে অষ্ট সাত্ত্বিক বিকার॥
ভাবাবেশে গোরারায়                   নাচিতে নাচিতে যায়
ধীরে ধীরে চলে জগন্নাথ।
আনন্দ বিস্ময় মন                        দেখি প্রেমসংকীর্ত্তন
নিজ পরিকরগণ সাথ॥
দূরে গেল দুঃখ শোক                    প্রেমায় ভাসিল লোক
স্থাবর জঙ্গম পশুপাখী।
যে প্রেম-বিলাস ধাম                        যদু কহে অনুপাম
যে দেখিল সেই তার সাথী॥

.            *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর