| কবি যদু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| গৌর গদাধর দুহুঁ তনু সুন্দর ভণিতা যদু আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র-প্রকারান্তর, ২১৮২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২২৯০ সংখ্যক পদ। ॥ কেদার॥ গৌর গদাধর দুহুঁ তনু সুন্দর অপরূপ প্রেম বিথার। দুহুঁ দুহুঁ হরষে পরশে যব বিলসয়ে অমিয়া বরিখে অনিবার॥ দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁ জন-নেহ। কো অছু ভাব প্রেমময় চাতুরি নিমজিয়া পাওব থেহ॥ ধ্রু॥ করে নয়নে নয়নে যোই মাধুরি সো সব কি বুঝব হাম। অপরূপ রূপ হেরি তনু চমকিত অখিল ভুবনে অনুপাম॥ অমিয়া-পুতলি কিয়ে রসময় মূরতি কিয়ে দুহুঁ প্রেম-আকার। হেরইতে জগ-জন তনু মন ভূলয়ে যদু কিয়ে পাওব পার॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ গৌর গদাধর, দুহুঁ তনু সুন্দর, অপরূপ প্রেম বিথার। দুহুঁ দুহুঁ হরষে, পরশে যব বিলসয়ে, অমিয়া বরিখে অনিবার॥ দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁজন লেহ। কো অছু ভাব, প্রেমময় চাতুরালি, মজিয়া পাওব থেহ॥ করে করে নয়নে, নয়নে যোই মাধুরী, সো সব কি বুঝব হাম। অপরূপ রূপ, হেরি তনু চমকিত, অখিল ভুবনে অনুপাম॥ অমিয়া-পুতলী কিয়ে, রসময় মুরতি, কিয়ে দুহুঁ প্রেম আকার। হেরইতে জগজন, তনু মন ভুলয়ে, যদু কিয়ে পাওব পার॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ গৌর গদাধর দুহুঁ তনু সুন্দর অপরূপ প্রেম বিথার। দুহুঁ দুহুঁ হরষে পরশে যব বিলসয়ে অমিঞা বরিখে অনিবার॥ দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁ জন লেহ। কো অছু ভাব প্রেমময় চাতুরালি মজিয়া পাওব সেহ॥ ধ্রু॥ করে করে নয়নে যোই মাধুরী সো সব কি বুঝব হাম। অপরূপ রূপ হেরি তনু চমকাইত অখিল ভুবনে অনুপাম॥ অমিঞা পুতলি কিয়ে রসময় মূরতি কিয়ে দুহুঁ প্রেম আকার। হেরইতে জগজন তনু মন ভুলায় যদু কিয়ে পাওব পার॥ এই পদটি পুনরায় “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার॥ গৌর গদাধর দুহুঁ তনু সুন্দর অপরূপ প্রেমবিথার। দুহু দুহু হরষে পরশে যব বিলসয়ে অমিয়া বরিখে অনিবার॥ দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁ জন লেহ। কো অছু ভাব প্রেমময় চাতুরী নিমজিয়া পাওব থেহ॥ ধ্রু॥ করে করে নয়নে নয়নে যোই মাধুরী সো সব কি বুঝব হাম। অপরূপ রূপ হেরি তনু চমকাইত অখিল ভুবনে অনুপাম॥ অমিয়া পুতলি কিয়ে রসময় মূরতি কিয়ে দুহু প্রেম আকার। হেরইতে জগজন তনু মন ভুলয় যদু কিয়ে পাওব পার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জলের জীব কান্দে ভণিতা যদু ১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পুনঃ - কামোদঃ॥ জলের জীব কাঁদে, দেখিয়া প্রতিবিম্ব, কাননে কাঁদে পশু পাখী। তরুয়া পুলকিত, পাষাণ দরবিত, শুনিয়া অন্ধ কাঁদে ডাকি॥ অপরূপ গোরাচাঁদের দেহ। অসীম অনুভব, এক মুখে কি কব, মনে যে মুখে না আসে সেহ॥ কুলের কুলবধূ, ফুকরি সেহ কাঁদে, বধির জড় কাঁদে ধাঁদে। মায়ের স্তন ছাড়ি, দুধের বালক, না জানি কিবা লাগি কাঁদে॥ এমন অবতার, হবেক নাকি আর, কেবল করুণার সিন্ধু। পতিত মূঢ় জড়, অজড় উদ্ধারল, কেবল বঞ্চিত যদু॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র-প্রকারান্তর, ২২০৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২৩১৭ সংখ্যক পদ। ॥ মঙ্গল॥ জলের জীব কান্দে দেখিয়া প্রতিবিম্ব কাননে কান্দয়ে পশু পাখী। তরুয়া পুলকিত পাষাণ দরবিত শুনিয়া অন্ধ কান্দে ডাকি॥ অপরূপ গোরাচাঁদের দেহ। অসীম অনুভব এক মুখে কি কহব মনে যে মুখে না আইসে সেহ॥ ধ্রু॥ কুলের কুল-বধু ফুকরি সেহ কান্দে বধির জড় কান্দে ধান্দে। মায়ের স্তন ছাড়ি দুধের বালক না জানি কিবা লাগি কান্দে॥ এমন অবতার হবেক নাকি আর কেবল করুণার সিন্ধু। পতিত মূঢ় জড় অজড় উদ্ধারিল কেবল বঞ্চিত ভেল যদু॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ জলের জীব কাঁদয়ে দেখিয়া প্রতিবিম্ব কাননে কাঁদয়ে পশুপাখী। তরুয়া পুলকিত পাষাণ দরবিত শুনিয়া অন্ধ কাঁদে হাকি ডাকি॥ অপরূপ গোরাচাঁদের দেহ। অসীম অনুভব এক মুখে কি কহব মনে বা মুখে না আইসে সেহ॥ ধ্রু॥ কুলের কুলবধূ ফুকরি ফুকরি কাঁদে বধির জড় কাঁদে ধাঁদে। মায়ের স্তন ছাড়ি দুধের বালক না জানি কিবা লাগি কাঁদে॥ এমন অবতার হবেক নাকি আর কেবল করুণার সিন্ধু। পতিত মূঢ় জড় অজড় উদ্ধারিত কেবল বঞ্চিত ভেল যদু॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”। ॥ মঙ্গল॥ জলের জীব কাঁদয়ে দেখিয়া প্রতিবিম্ব কাননে কাঁদয়ে পশুপাখী। তরুয়া পুলকিত পাষাণ দরবিত অন্ধ কান্দয়ে মূক ভাখি॥ অপরূপ গোরাচাঁদের লেহ। অসীম অনুভব এক মুখে কি কহব মনে মুখে না আইসে সেহ॥ ধ্রু॥ কুলের কুলবধূগণে ফুকরি ফুকরি কাঁদে বধির জড় কাঁদে ধাঁদে। মায়ের স্তন ছাড়ি দুধের বালক যেই না জানি কি লাগি সেই কাঁদে॥ এমন অবতার হবেক নাহি আর কেবল করুণার সিন্ধু। পতিত মূঢ় জড় অজড় উদ্ধারিল কেবল বঞ্চিত ভেল যদু॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ দেখ গোরা-রূপ-ছটা ভণিতা যদু আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ২৭শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৪০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ৩৪৬ সংখ্যক পদ। অথ শ্রীকৃষ্ণস্য রূপ-বর্ণনং। আদৌ শ্রীগৌরচন্দ্রস্য যথা॥ ॥ মঙ্গল॥ দেখ দেখ গোরা-রূপ-ছটা। হরিদ্রা-হরিতাল- হেম-কমল-দল কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥ কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া মালতী মল্লিকা বেড়া ভালে ঊর্দ্ধ তিলক সুঠাম। আকর্ণ নয়ান-বাণ ভুরূ-ধনু সন্ধান হেরিয়া মুরছে কোটি কাম॥ হেম-চন্দ্র গণ্ড-স্থল শ্রুতি-মূলে কুণ্ডল দোলে যেন মকর আকারে। বিম্ব-অধর-ভাতি দশন-মুকুতা পাঁতি আধ-হাসি অমিয়া উগারে॥ সিংহ-গ্রীব গজ-স্কন্ধ কণ্ঠে মণি-হার-বন্ধ (এই পংক্তিটি সটীক সংস্করণে প্রমাদ বশত মুদ্রিত হয়নি বা আমাদের কাছে যে কপিটি রয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে না। তাই আমরা ১ম সংস্করণ থেকে পংক্তিটি তুলে দিলাম। ) ভুজযুগ কনক-অর্গল। সুরাতুল করতল জিনি রক্ত উতপল নখ-চন্দ্র করে ঝল মল॥ পরিসর হিয়া মাঝে মালতীর মালা সাজে সূক্ষ্ম যজ্ঞ-সূত্র সুজঠর। নাভি সরোবর জিনি রোমাবলী ভুজঙ্গিনী কাম-দণ্ড কিয়ে মনোহর॥ হরি জিনি কটি-তটে কনক-কিঙ্কিণী রটে রক্ত-প্রান্ত বসনে বেষ্টিত। হেম-রম্ভা জিনি উরু চরণ নাটের গুরু তাহে মণি-মঞ্জীর শোভিত॥ সূক্ষ্ম-রক্ত-পদ্ম-দল- শ্রেণী-অর্দ্ধ মনোহর তাহে জিনি কোঁচার বলনী। চরণ উপরে দোলে হেরি মুণি-মন ভুলে আধ গতি গজ-বর জিনি॥ কিবা তাহে পদাঙ্গুলি কনক-চম্পক-কলি অপরূপ নখ-চন্দ্র-পাঁতি। তার তলে কোকনদ ভুবন-মোহন পদ যদু-চিত অলি রহু মাতি॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে ভণিতার স্থানে “যদু-চিত” এর বদলে “তদুচিত” দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ দেখ দেখ গোরারূপছটা। হরিদ্রা হরিতাল হেম কমলদল কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥ কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া মালতী মল্লিকা বেড়া ভালে ঊর্দ্ধ তিলক সুঠাম। আকর্ণ নয়ান বাণ ভুরূধনু সন্ধান হেরিয়া মুরছে কোটি কাম॥ হেমচন্দ্র গণ্ডস্থল শ্রুতিমূলে কুণ্ডল দোলে যেন মকর আকারে। বিম্ব অধর ভাঁতি দশন মুকুতাপাঁতি আধ হাসি অমিয়া উগারে॥ সিংহগ্রীব গজস্কন্ধ কণ্ঠে মণিহার বন্ধ ভুজযুগ কনক অর্গল। সুরাতুল করতল জিনি রক্ত উত্পল নখচন্দ্র করে ঝলমল॥ পরিসর হিয়া মাঝে মালতীর মালা সাজে সূক্ষ্ম যজ্ঞসূত্র সুজঠর। নাভি সরোবর জিনি রোমাবলী ভুজঙ্গিনী কামদণ্ড কিয়ে মনোহর॥ হরি জিনি কটিতটে কনক কিঙ্কিণী রটে রক্তপ্রান্ত বসনে বেষ্টিত। হেমরম্ভা জিনি উরু চরণ নাটের গুরু তাহে মণিমঞ্জীর শোভিত॥ সূক্ষ্মরক্তপদ্মদল- শ্রেণী অঙ্গ মনোহর তাহে জিনি কোঁচার বলনী। চরণ উপরে দোলে হেরি মুণি-মন ভোলে আধগতি গজবর জিনি॥ কিবা তাহে পদাঙ্গুলি কনক চম্পককলি অপরূপ নখচন্দ্রপাঁতি। তার তলে কোকনদ ভুবনমোহন পদ তদুচিত অলি রহু মাতি॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল - মধ্যম দশকুশী॥ দেখ দেখ গোরা-রূপ ছটা। হরিদ্রা হরিতাল হেম কমলদল কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥ কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া মালতী মল্লিকা বেড়া ভালে ঊর্দ্ধ তিলক সুঠাম। আকর্ণ নয়ান বাণ ভুরূ ধনু সন্ধান হেরিয়া মুরছে কোটী কাম॥ হেম-চন্দ্র-গণ্ড-স্থল শ্রুতিমূলে কুণ্ডল দোলে যেন মকর আকারে। বিম্ব অধর ভাতি দশন মুকুতা পাঁতি আধ-হাসি অমিয়া উগারে॥ সিংহ গ্রীব গজ-স্কন্ধ কণ্ঠে মণি-হার বৃন্দ ভুজযুগ কনক অর্গল। সু-রাতুল করতল জিনি রক্ত উতপল নখচন্দ্র করে ঝলমল॥ পরিসর হিয়া মাঝে মালতীর মালা সাজে সূক্ষ্ম যজ্ঞ-সূত্র সুজঠর। নাভি সরোবর জিনি রোমাবলী ভুজঙ্গিনী কামদণ্ড কিয়ে মনোহর॥ হরি জিনি কটিতটে কনক কিঙ্কিনী রটে রক্ত প্রান্ত বসনে বেষ্টিত। হেম রম্ভা জিনি উরু চরণ নাটের গুরু তাহে মণি-মঞ্জীর শোভিত॥ সূক্ষ্ম রক্ত-পদ্মদল শ্রেণী অর্দ্ধ মনোহর তাহে জিনি কোঁচার বলনী। চরণ উপরে দোলে হেরি মুণি-মন ভুলে আধ গতি গজবর জিনি॥ কিবা তাহে পদাঙ্গুলি কনক চম্পক কলি অপরূপ নখচন্দ্র পাঁতি। তার তলে কোকনদ ভুবন-মোহন পদ যদু-চিত-অলি রহু মাতি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”। গৌরাঙ্গের রূপ ॥ মঙ্গল॥ দেখ দেখ গোরা-রূপ ছটা। হরিদ্রা হরিতাল হেমকমলদল কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥ কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া মালতী মল্লিকাবেড়া ভালে ঊর্দ্ধ্ব তিলক সুঠাম। আকর্ণ নয়ান-বাণ ভুরু-ধনু সন্ধান হেরিয়া মূরছে কোটি কাম॥ হেমচন্দ্র গণ্ডস্থল শ্রুতিমূলে কুণ্ডল দোলে যেন মকর-আকারে। বিম্ব অধরভাতি দশন মুকুতাপাঁতি আধ-হাসি অমিয়া উগারে॥ সিংহগ্রীব গজস্কন্ধ কণ্ঠে মণিহার বৃন্দ ভুজযুগ কনক অর্গল। সুরাতুল করতল জিনি রক্ত উতপল নখ-চন্দ্র করে ঝলমল॥ পরিসর হিয়া মাঝে মালতীর মালা সাজে সূক্ষ্ম যজ্ঞসূত্র সুজঠরে। নাভি-সরোবর জিনি রোমাবলী ভুজঙ্গিনী কামদণ্ড কিয়ে মনোহরে॥ হরি জিনি কটিতটে কনক-কিঙ্কিনী রটে রক্তপ্রান্ত বসনে বেষ্টিত। হেমরম্ভা জিনি উরু চরণ নাটের গুরু তাহে মণি মঞ্জীরশোভিত॥ সূক্ষ্ম রক্তপদ্মদল শ্রেণী অর্দ্ধ মনোহর তাহে জিনি কোঁচার বলনী। চরণ উপরে দোলে হেরি মুনিমন ভুলে আধগতি গজবর জিনি॥ কিবা তাহে পদাঙ্গুলি কনক চম্পককলি অপরূপ নখচন্দ্রপাঁতি। তার তলে কোকনদ ভুবন-মোহন পদ যদুচিত অলি রহু মাতি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |