কবি যদু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
গোরা মোর বড়ই রঙ্গিয়া
ভণিতা যদু
১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত
এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,
৯২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীতে যথা - কামোদঃ॥

গোরা মোর বড়ই রঙ্গিয়া। সুরধুনীতীরে নব রঙ্গিয়া সঙ্গিয়া॥
গায় সহচরগণ মন মোহনিয়া। তার মাঝে নাচত গোরা দ্বিজমণিয়া॥
গদাধর নরহরি ডাহিন বাম। শ্রীনিবাস হরিদাস গায় হরিনাম॥
মুকুন্দ মুরারি বাসু রামাই সংহতি। গায় দামোদর জগদীশ মহামতি॥
চৌদিগে শুনিয়ে যে হরি হরি বোল। উথলিল প্রেমসিন্ধু অমিয়া হিল্লোল॥
দেখিয়া বদনচাঁদ সব তাপ হরে। যদু কহে কেবা হেন এ রূপ পাসরে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২১০১-পদসংখ্যায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২২১০ সংখ্যক পদ।

॥ সুহিনী॥

গোরা মোর বড়ই রঙ্গিয়া।
সুরধুনী-তীরে নব রঙ্গিয়া সঙ্গিয়া॥ ধ্রু॥
গাওত সহচর মন-মোহনিয়া।
মাঝহি নাচত গৌর দ্বিজ-মণিয়া॥
গদাধর নরহরি ডাহিন বাম।
শ্রীনিবাস হরিদাস গায় হরিনাম॥
মুকুন্দ মুরারি বাসু রামাই সঙ্গতি।
গায় দামোদর জগদীশ মহামতি॥
চৌদিগে শুনিয়ে যে হরি হরি বোল।
উথলিল প্রেম-সিন্ধু অমিয়া-হিলোল॥
দেখিয়া বদন-চাঁদ সব তাপ হরে।
যদু কহে কেবা হেন এ রূপ পাসরে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

গোরা মোর বড়ই রঙ্গিয়া।
সুরধুনীতীরে নব রঙ্গিয়া সঙ্গিয়া॥
গাওত সহচর মনোমোহনিয়া।
মাঝহি নাচত গৌর দ্বিজমণিয়া॥
গদাধর নরহরি ডাহিন বাম।
শ্রীনিবাস হরিদাস গায় হরিনাম॥
মুকুন্দ মুরারি বাসু রামাই সংহিত।
গায় দামোদর জগদীশ মহামতি॥
চৌদিগে শুনিয়ে হরি হরি বোল।
উথলিল প্রেমসিন্ধু অমিয়া হিলোল॥
দেখিয়া বদনচাঁদ সব তাপ হরে।
যদু কহে কেবা হেন এ রূপ পাসরে॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌর গদাধর দুহুঁ তনু সুন্দর
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব,
শ্রীগৌরচন্দ্র-প্রকারান্তর, ২১৮২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২২৯০
সংখ্যক পদ।

॥ কেদার॥

গৌর গদাধর দুহুঁ তনু সুন্দর
অপরূপ প্রেম বিথার।
দুহুঁ দুহুঁ হরষে পরশে যব বিলসয়ে
অমিয়া বরিখে অনিবার॥
দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁ জন-নেহ।
কো অছু ভাব প্রেমময় চাতুরি
নিমজিয়া পাওব থেহ॥ ধ্রু॥
করে নয়নে নয়নে যোই মাধুরি
সো সব কি বুঝব হাম।
অপরূপ রূপ হেরি তনু চমকিত
অখিল ভুবনে অনুপাম॥
অমিয়া-পুতলি কিয়ে রসময় মূরতি
কিয়ে দুহুঁ প্রেম-আকার।
হেরইতে জগ-জন তনু মন ভূলয়ে
যদু কিয়ে পাওব পার॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

গৌর গদাধর,                        দুহুঁ তনু সুন্দর,
অপরূপ প্রেম বিথার।
দুহুঁ দুহুঁ হরষে,                  পরশে যব বিলসয়ে,
অমিয়া বরিখে অনিবার॥
দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁজন লেহ।
কো অছু ভাব,                     প্রেমময় চাতুরালি,
মজিয়া পাওব থেহ॥
করে করে নয়নে,                 নয়নে যোই মাধুরী,
সো সব কি বুঝব হাম।
অপরূপ রূপ,                    হেরি তনু চমকিত,
অখিল ভুবনে অনুপাম॥
অমিয়া-পুতলী কিয়ে,                  রসময় মুরতি,
কিয়ে দুহুঁ প্রেম আকার।
হেরইতে জগজন,                     তনু মন ভুলয়ে,
যদু কিয়ে পাওব পার॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

গৌর গদাধর                        দুহুঁ তনু সুন্দর
অপরূপ প্রেম বিথার।
দুহুঁ দুহুঁ হরষে                  পরশে যব বিলসয়ে
অমিঞা বরিখে অনিবার॥
দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁ জন লেহ।
কো অছু ভাব                    প্রেমময় চাতুরালি
মজিয়া পাওব সেহ॥ ধ্রু॥
করে করে নয়নে                        যোই মাধুরী
সো সব কি বুঝব হাম।
অপরূপ রূপ হেরি                   তনু চমকাইত
অখিল ভুবনে অনুপাম॥
অমিঞা পুতলি কিয়ে                 রসময় মূরতি
কিয়ে দুহুঁ প্রেম আকার।
হেরইতে জগজন                      তনু মন ভুলায়
যদু কিয়ে পাওব পার॥

ই পদটি পুনরায় “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

গৌর গদাধর                        দুহুঁ তনু সুন্দর
অপরূপ প্রেমবিথার।
দুহু দুহু হরষে                 পরশে যব বিলসয়ে
অমিয়া বরিখে অনিবার॥
দেখ দেখ অপরূপ দুহুঁ জন লেহ।
কো অছু ভাব                       প্রেমময় চাতুরী
নিমজিয়া পাওব থেহ॥ ধ্রু॥
করে করে নয়নে                নয়নে যোই মাধুরী
সো সব কি বুঝব হাম।
অপরূপ রূপ হেরি                  তনু চমকাইত
অখিল ভুবনে অনুপাম॥
অমিয়া পুতলি কিয়ে                  রসময় মূরতি
কিয়ে দুহু প্রেম আকার।
হেরইতে জগজন                      তনু মন ভুলয়
যদু কিয়ে পাওব পার॥

.                 *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জলের জীব কান্দে
ভণিতা যদু
১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯২২-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ - কামোদঃ॥

জলের জীব কাঁদে, দেখিয়া প্রতিবিম্ব, কাননে কাঁদে পশু পাখী।
তরুয়া পুলকিত, পাষাণ দরবিত, শুনিয়া অন্ধ কাঁদে ডাকি॥
অপরূপ গোরাচাঁদের দেহ।
অসীম অনুভব, এক মুখে কি কব, মনে যে মুখে না আসে সেহ॥
কুলের কুলবধূ, ফুকরি সেহ কাঁদে, বধির জড় কাঁদে ধাঁদে।
মায়ের স্তন ছাড়ি, দুধের বালক, না জানি কিবা লাগি কাঁদে॥
এমন অবতার, হবেক নাকি আর, কেবল করুণার সিন্ধু।
পতিত মূঢ় জড়, অজড় উদ্ধারল, কেবল বঞ্চিত যদু॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব,
শ্রীগৌরচন্দ্র-প্রকারান্তর, ২২০৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২৩১৭
সংখ্যক পদ।

॥ মঙ্গল॥

জলের জীব কান্দে                দেখিয়া প্রতিবিম্ব
কাননে কান্দয়ে পশু পাখী।
তরুয়া পুলকিত                     পাষাণ দরবিত
শুনিয়া অন্ধ কান্দে ডাকি॥
অপরূপ গোরাচাঁদের দেহ।
অসীম অনুভব                   এক মুখে কি কহব
মনে যে মুখে না আইসে সেহ॥ ধ্রু॥
কুলের কুল-বধু                    ফুকরি সেহ কান্দে
বধির জড় কান্দে ধান্দে।
মায়ের স্তন ছাড়ি                      দুধের বালক
না জানি কিবা লাগি কান্দে॥
এমন অবতার                    হবেক নাকি আর
কেবল করুণার সিন্ধু।
পতিত মূঢ় জড়                     অজড় উদ্ধারিল
কেবল বঞ্চিত ভেল যদু॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

জলের জীব কাঁদয়ে                দেখিয়া প্রতিবিম্ব
কাননে কাঁদয়ে পশুপাখী।
তরুয়া পুলকিত                      পাষাণ দরবিত
শুনিয়া অন্ধ কাঁদে হাকি ডাকি॥
অপরূপ গোরাচাঁদের দেহ।
অসীম অনুভব                    এক মুখে কি কহব
মনে বা মুখে না আইসে সেহ॥ ধ্রু॥
কুলের কুলবধূ                   ফুকরি ফুকরি কাঁদে
বধির জড় কাঁদে ধাঁদে।
মায়ের স্তন ছাড়ি                        দুধের বালক
না জানি কিবা লাগি কাঁদে॥
এমন অবতার                      হবেক নাকি আর
কেবল করুণার সিন্ধু।
পতিত মূঢ় জড়                        অজড় উদ্ধারিত
কেবল বঞ্চিত ভেল যদু॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”।

॥ মঙ্গল॥

জলের জীব কাঁদয়ে                দেখিয়া প্রতিবিম্ব
কাননে কাঁদয়ে পশুপাখী।
তরুয়া পুলকিত                      পাষাণ দরবিত
অন্ধ কান্দয়ে মূক ভাখি॥
অপরূপ গোরাচাঁদের লেহ।
অসীম অনুভব                   এক মুখে কি কহব
মনে মুখে না আইসে সেহ॥ ধ্রু॥
কুলের কুলবধূগণে              ফুকরি ফুকরি কাঁদে
বধির জড় কাঁদে ধাঁদে।
মায়ের স্তন ছাড়ি                দুধের বালক যেই
না জানি কি লাগি সেই কাঁদে॥
এমন অবতার                    হবেক নাহি আর
কেবল করুণার সিন্ধু।
পতিত মূঢ় জড়                     অজড় উদ্ধারিল
কেবল বঞ্চিত ভেল যদু॥

.                 *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিতাইচাঁদ দয়াময় নিতাইচাঁদ দয়াময়
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

নিতাইচাঁদ দয়াময়, নিতাইচাঁদ দয়াময়।
কলি জীবে এত দয়া কভু নাহি হয়॥
খেনে কালা খেনে গোরা খেনে অঙ্গ শীত।
খেনে হাসে খেনে কাঁদে না পায় সম্বিত॥
খেনে গো গো করে, গোরা বলিতে না পারে।
গোরা-রাগে রাঙ্গা আঁখি-জলেই সাঁতারে॥
আপনি ভাসিয়া রসে ভাসাইল ক্ষিতি।
এ ভব-অচলে যদু রহল অবধি॥

ই পদটি ১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত
এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,
দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯৬৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ পঠমঞ্জরী॥

নিতাইচাঁদ দয়াময় নিতাইচাঁদ দয়াময়।
কলি জীবে এত দয়া কভু নাই হয়॥
খেনে কালা খেনে গোরা অঙ্গ হয় শীত।
খেনে হাসে খেনে কাঁদে না পায় সম্বিত্॥
খেনে গোঁ গোঁ করে গোরা বলিতে না পারে।
গোরা-রাগে রাঙ্গা আঁখি জলেই সাঁতারে॥
আপনি ভাসিয়া রসে ভাসাইল ক্ষিতি।
এ ভব অচলে যদু রহল অবধি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৩০০-পদসংখ্যায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির ২৪০৫ সংখ্যক পদ।

॥ পঠমঞ্জরী॥

নিতাইচাঁদ দয়াময় নিতাইচাঁদ দয়াময়।
কলি-জীবে এত দয়া কভু নাহি হয়॥
খেনে কালা খেণে গোরা খেণে অঙ্গ পীত।
খেণে হাসে খেণে কান্দে না পায় সম্বিত॥
খেণে গো গো করে গোরা বলিতে না পারে।
গোরা-রাগে রাঙ্গা আঁখি জলেই সাঁতারে॥
আপনি ভাসিয়া জলে ভাসাওল ক্ষিতি।
এ ভব-অচলে যদু রহল অবধি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

নিতাইচাঁদ দয়াময় নিতাইচাঁদ দয়াময়।
কলিজীবে এত দয়া কভু নাহি হয়॥
খেনে কাল, খেনে গোরা, খেনে অঙ্গ পীত।
খেনে হাসে খেনে কাঁদে না পায় সম্বিত॥
খেনে গোঁ গোঁ করে গোরা বলিতে না পারে।
গোরা রাগে রাঙ্গা আঁখি জলেই সাঁতারে॥
আপনি ভাসিয়া জলে ভাসাওল ক্ষিতি।
এ ভব অচলে যদু রহল অবধি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

নিত্যানন্দ গুণ বর্ণন
॥ পঠমঞ্জরী॥

নিতাইচাঁদ দয়াময় নিতাইচাঁদ দয়াময়।
কলিজীবে এত দয়া কারু নাহি হয়॥
খেনে কাল খেনে গোরা খেনে অঙ্গ পীত।
খেনে হাসে খেনে কাঁদে না পায় সম্বিত॥
খেনে গো গো করে গোরা বলিতে না পারে।
গোরা রাগে রাঙ্গা আঁখিজলেই সাঁতারে॥
আপনি ভাসিয়া জলে ভাসাওল ক্ষিতি।
এ ভব অচলে যদু রহল অবধি॥

.                 *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ দেখ গোরা-রূপ-ছটা
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ২৭শ পল্লব,
শ্রীনিত্যানন্দের গুণ-বর্ণন, ২৪০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদরসসার পুথির
৩৪৬ সংখ্যক পদ।

অথ শ্রীকৃষ্ণস্য রূপ-বর্ণনং।
আদৌ শ্রীগৌরচন্দ্রস্য যথা॥
॥ মঙ্গল॥

দেখ দেখ গোরা-রূপ-ছটা।
হরিদ্রা-হরিতাল-                           হেম-কমল-দল
কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥
কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া                  মালতী মল্লিকা বেড়া
ভালে ঊর্দ্ধ তিলক সুঠাম।
আকর্ণ নয়ান-বাণ                          ভুরূ-ধনু সন্ধান
হেরিয়া মুরছে কোটি কাম॥
হেম-চন্দ্র গণ্ড-স্থল                        শ্রুতি-মূলে কুণ্ডল
দোলে যেন মকর আকারে।
বিম্ব-অধর-ভাতি                        দশন-মুকুতা পাঁতি
আধ-হাসি অমিয়া উগারে॥
সিংহ-গ্রীব গজ-স্কন্ধ                     কণ্ঠে মণি-হার-বন্ধ
(
এই পংক্তিটি সটীক সংস্করণে প্রমাদ বশত মুদ্রিত হয়নি বা আমাদের কাছে যে কপিটি রয়েছে
তাতে দেখা যাচ্ছে না। তাই আমরা ১ম সংস্করণ থেকে পংক্তিটি তুলে দিলাম
। )
ভুজযুগ কনক-অর্গল
সুরাতুল করতল                        জিনি রক্ত উতপল
নখ-চন্দ্র করে ঝল মল॥
পরিসর হিয়া মাঝে                    মালতীর মালা সাজে
সূক্ষ্ম যজ্ঞ-সূত্র সুজঠর।
নাভি সরোবর জিনি                     রোমাবলী ভুজঙ্গিনী
কাম-দণ্ড কিয়ে মনোহর॥
হরি জিনি কটি-তটে                      কনক-কিঙ্কিণী রটে
রক্ত-প্রান্ত বসনে বেষ্টিত।
হেম-রম্ভা জিনি উরু                        চরণ নাটের গুরু
তাহে মণি-মঞ্জীর শোভিত॥
সূক্ষ্ম-রক্ত-পদ্ম-দল-                        শ্রেণী-অর্দ্ধ মনোহর
তাহে জিনি কোঁচার বলনী।
চরণ উপরে দোলে                        হেরি মুণি-মন ভুলে
আধ গতি গজ-বর জিনি॥
কিবা তাহে পদাঙ্গুলি                        কনক-চম্পক-কলি
অপরূপ নখ-চন্দ্র-পাঁতি।
তার তলে কোকনদ                          ভুবন-মোহন পদ
যদু-চিত অলি রহু মাতি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
এখানে ভণিতার স্থানে “যদু-চিত” এর বদলে “তদুচিত” দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

দেখ দেখ গোরারূপছটা।
হরিদ্রা হরিতাল                            হেম কমলদল
কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥
কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া                মালতী মল্লিকা বেড়া
ভালে ঊর্দ্ধ তিলক সুঠাম।
আকর্ণ নয়ান বাণ                          ভুরূধনু সন্ধান
হেরিয়া মুরছে কোটি কাম॥
হেমচন্দ্র গণ্ডস্থল                        শ্রুতিমূলে কুণ্ডল
দোলে যেন মকর আকারে।
বিম্ব অধর ভাঁতি                      দশন মুকুতাপাঁতি
আধ হাসি অমিয়া উগারে॥
সিংহগ্রীব গজস্কন্ধ                      কণ্ঠে মণিহার বন্ধ
ভুজযুগ কনক অর্গল।
সুরাতুল করতল                      জিনি রক্ত উত্পল
নখচন্দ্র করে ঝলমল॥
পরিসর হিয়া মাঝে                    মালতীর মালা সাজে
সূক্ষ্ম যজ্ঞসূত্র সুজঠর।
নাভি সরোবর জিনি                   রোমাবলী ভুজঙ্গিনী
কামদণ্ড কিয়ে মনোহর॥
হরি জিনি কটিতটে                    কনক কিঙ্কিণী রটে
রক্তপ্রান্ত বসনে বেষ্টিত।
হেমরম্ভা জিনি উরু                      চরণ নাটের গুরু
তাহে মণিমঞ্জীর শোভিত॥
সূক্ষ্মরক্তপদ্মদল-                         শ্রেণী অঙ্গ মনোহর
তাহে জিনি কোঁচার বলনী।
চরণ উপরে দোলে                    হেরি মুণি-মন ভোলে
আধগতি গজবর জিনি॥
কিবা তাহে পদাঙ্গুলি                      কনক চম্পককলি
অপরূপ নখচন্দ্রপাঁতি।
তার তলে কোকনদ                        ভুবনমোহন পদ
তদুচিত অলি রহু মাতি॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল - মধ্যম দশকুশী॥

দেখ দেখ গোরা-রূপ ছটা।
হরিদ্রা হরিতাল                                হেম কমলদল
কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥
কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া                    মালতী মল্লিকা বেড়া
ভালে ঊর্দ্ধ তিলক সুঠাম।
আকর্ণ নয়ান বাণ                            ভুরূ ধনু সন্ধান
হেরিয়া মুরছে কোটী কাম॥
হেম-চন্দ্র-গণ্ড-স্থল                           শ্রুতিমূলে কুণ্ডল
দোলে যেন মকর আকারে।
বিম্ব অধর ভাতি                        দশন মুকুতা পাঁতি
আধ-হাসি অমিয়া উগারে॥
সিংহ গ্রীব গজ-স্কন্ধ                      কণ্ঠে মণি-হার বৃন্দ
ভুজযুগ কনক অর্গল।
সু-রাতুল করতল                        জিনি রক্ত উতপল
নখচন্দ্র করে ঝলমল॥
পরিসর হিয়া মাঝে                     মালতীর মালা সাজে
সূক্ষ্ম যজ্ঞ-সূত্র সুজঠর।
নাভি সরোবর জিনি                     রোমাবলী ভুজঙ্গিনী
কামদণ্ড কিয়ে মনোহর॥
হরি জিনি কটিতটে                      কনক কিঙ্কিনী রটে
রক্ত প্রান্ত বসনে বেষ্টিত।
হেম রম্ভা জিনি উরু                        চরণ নাটের গুরু
তাহে মণি-মঞ্জীর শোভিত॥
সূক্ষ্ম রক্ত-পদ্মদল                        শ্রেণী অর্দ্ধ মনোহর
তাহে জিনি কোঁচার বলনী।
চরণ উপরে দোলে                      হেরি মুণি-মন ভুলে
আধ গতি গজবর জিনি॥
কিবা তাহে পদাঙ্গুলি                      কনক চম্পক কলি
অপরূপ নখচন্দ্র পাঁতি।
তার তলে কোকনদ                        ভুবন-মোহন পদ
যদু-চিত-অলি রহু মাতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”।

গৌরাঙ্গের রূপ
॥ মঙ্গল॥

দেখ দেখ গোরা-রূপ ছটা।
হরিদ্রা হরিতাল                             হেমকমলদল
কিবা থির বিজুরীর ঘটা॥ ধ্রু॥
কুঞ্চিত কুন্তলে চূড়া                   মালতী মল্লিকাবেড়া
ভালে ঊর্দ্ধ্ব তিলক সুঠাম।
আকর্ণ নয়ান-বাণ                        ভুরু-ধনু সন্ধান
হেরিয়া মূরছে কোটি কাম॥
হেমচন্দ্র গণ্ডস্থল                        শ্রুতিমূলে কুণ্ডল
দোলে যেন মকর-আকারে।
বিম্ব অধরভাতি                        দশন মুকুতাপাঁতি
আধ-হাসি অমিয়া উগারে॥
সিংহগ্রীব গজস্কন্ধ                     কণ্ঠে মণিহার বৃন্দ
ভুজযুগ কনক অর্গল।
সুরাতুল করতল                      জিনি রক্ত উতপল
নখ-চন্দ্র করে ঝলমল॥
পরিসর হিয়া মাঝে                 মালতীর মালা সাজে
সূক্ষ্ম যজ্ঞসূত্র সুজঠরে।
নাভি-সরোবর জিনি                   রোমাবলী ভুজঙ্গিনী
কামদণ্ড কিয়ে মনোহরে॥
হরি জিনি কটিতটে                     কনক-কিঙ্কিনী রটে
রক্তপ্রান্ত বসনে বেষ্টিত।
হেমরম্ভা জিনি উরু                        চরণ নাটের গুরু
তাহে মণি মঞ্জীরশোভিত॥
সূক্ষ্ম রক্তপদ্মদল                         শ্রেণী অর্দ্ধ মনোহর
তাহে জিনি কোঁচার বলনী।
চরণ উপরে দোলে                       হেরি মুনিমন ভুলে
আধগতি গজবর জিনি॥
কিবা তাহে পদাঙ্গুলি                      কনক চম্পককলি
অপরূপ নখচন্দ্রপাঁতি।
তার তলে কোকনদ                        ভুবন-মোহন পদ
যদুচিত অলি রহু মাতি॥

.                 *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একে সে কনয়া-কষিল তনু
ভণিতা যদু
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা - ২য় ভাগ, ২৯শ পল্লব, শ্রীরাধার রূপ, ২৪৫৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

একে সে কনয়া-কষিল তনু।
শশী-নিষ্কলঙ্ক-দমন জনু॥
তাহাতে লোটন চাঁচর কেশে।
মাতায় রঙ্গিণী সুষমা-লেশে॥
কিবা অপরূপ গৌরাঙ্গ শোভা।
এ-তিন-ভুবন-রঙ্গিণী-লোভা॥
অরুণ পাটের বসন ছলে।
তরুণী-হৃদয়-রাগ উছলে॥
বাহু উঠাইয়া মোড়য়ে তনু।
ছটায় বিজুরী ঝলকে জনু॥
পিছলে লোচন চাহিলে অঙ্গ।
তনুতে তনুতে তরঙ্গ-রঙ্গ॥
কেশর-কুসুম-সুষম-দাম।
যদু কহে সব ভাঙ্গল মান॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৮৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগ॥

একে সে কনয়া কষিল তনু। শশিনি কলঙ্ক দমন জনু॥
তাহাতে লোচন চাঁচর কেশে। মাতায়ে রঙ্গিণী সুষমা লেশে॥
কিবা অপরূপ গৌরাঙ্গশোভা। এ তিন ভুবন রঙ্গিণী লোভা॥
অরুণ পাটের বসন ছলে। তরুণী-হৃদয়-রাগ উছলে॥
বাহু উঠাইয়া মোড়য়ে তনু। ছটায় বিজুরী ঝলকে জনু॥
পিছলে লোচন চাহিলে অঙ্গ। তনুতে তনুতে তরঙ্গ রঙ্গ॥
কেশর কুসুম সুষম দাম। যদু কহে সব ভাঙ্গল মান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

॥ যথা রাগ॥

একে সে কনয়া কষিল তনু।
শশিনি কলঙ্কদমন জনু॥
তাহাতে লোটন চাঁচর কেশে।
মাতায়ে রঙ্গিণী সুষমা লেশে॥
কিবা অপরূপ গৌরাঙ্গশোভা।
এ তিন ভুবন রঙ্গিণী লোভা॥
অরুণ পাটের বসন ছলে।
তরুণীহৃদয় রাগ উছলে॥
বাহু উঠাইয়া মোড়য়ে তনু।
ছটায় বিজুরী ঝলকে জনু॥
পিছলে লোচন চাহিলে অঙ্গ।
তনুতে তনুতে তরঙ্গ রঙ্গ॥
কেশর কুসুমে সুষম দাম।
যদু কহে সব ভাঙ্গল মান॥

.                 *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিকচ কনয়া-কমল-কাঁতি
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ দশা দশ [ তত্র লালাসায়াং ]
॥ মল্লার॥

বিকচ কনয়া কমল কাঁতি। বদন পূণিম চাঁদের ভাঁতি॥
দশন শিখর-নিকর পাঁতি। অধর অরুণ বান্ধুলী আতি॥
মধুর মধুর গৌরাঙ্গ শোভা। এ তিন ভুবন নয়ান-লোভা॥
কি জানি কি রসে সঘনে মাতি। গমন মন্থর গজেন্দ্রগতি॥
অরুণ নয়ানে ঝরয়ে লোর। অমিয়া রসে কি চকোর জোর॥
সোঙরি কান্দয়ে কি নব লেহ। গরজে যৈছন নবীন মেহ॥
দাস গদাধর বলিয়া ডাকে। যদু কহে পহুঁ ঠেকিলা পাকে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭),
৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ২৯শ পল্লব, শ্রীরাধার রূপ, ২৪৬০-পদসংখ্যায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বিকচ কনয়া-কমল-কাঁতি।
বদন পূর্ণিমা-চাদের ভাতি॥
দশন-শিখর নিকট পাঁতি।
অধর অরুণ বান্ধুলী আতি॥
মধুর মধুর গৌরাঙ্গশোভা।
এ তিন ভুবননয়নলোভা॥
কি জানি কি রসে সতত মাতি।
গমন মন্থর গজেন্দ্র ভাঁতি॥
অরুণ নয়নে ঝরয়ে লোর।
আসিয়া বসে কি চকোর জোড়॥
সোঙরি কান্দয়ে পূরব লেহ।
যৈছন গরজে নবীন মেহ॥
কোথা বৃন্দাবন বলিয়া ডাকে।
যদু কহে পহুঁ ঠেকিলা পাকে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৮৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বিকচ কনয়া কসল কাঁতি। বদন পূর্ণিমাচাঁদের ভাঁতি॥
দশন শিকর নিকট পাঁতি। অধর অরুণ বান্ধুলী অতি॥
মধুর মধুর গৌরাঙ্গশোভা। এ তিন ভুবনে নয়নে লোভা॥
কি জানি কি রসে সতত মাতি। গমন মন্থর গজেন্দ্র ভাঁতি॥
অরুণ নয়নে ঝরয়ে লোরা। অমিয়া বসে কি চকোর জোরা॥
সোঙরি কান্দয়ে পুরব লেহ। যৈছন গরজে নবীন মেহ॥
কোথা গদাধর বলিয়া ডাকে। যদু কহে পহু ঠেকিলা পাকে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

॥ তথা রাগ॥

বিকচ কনয়া কমল কাঁতি।
বদন পূর্ণিমাচাঁদের ভাঁতি॥
দশন শিখর নিকর পাঁতি।
অধর অরুণ বান্ধুলী মাতি॥
মধুর মধুর গৌরাঙ্গ-শোভা।
এ তিন-ভুবন-নয়ন-লোভা॥
কি জানি কি রসে সতত মাতি।
গমন মন্থর গজেন্দ্র-ভাতি॥
অরুণ নয়নে ঝরয়ে লোর।
অমিয়া বমে কি চকোর জোর॥
সোঙরি কান্দয়ে পুরব-লেহ।
যৈছন গরজে নবীন মেহ॥
কোথা গদাধর বলিয়া ডাকে।
যদু কহে পহু ঠেকিলা পাকে॥

.          *************************          
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গদাইর পরাণ ধন গোরা
দাস গদাধর প্রাণ গোরা
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ সুহই রাগ॥

গদাইর পরাণ ধন গোরা। পুরুব পিরিতরসে ভোরা॥
বিজ্ রি-বরণ-তনু চোরা। কমল নয়ানে বহে লোরা॥
কনক কমল মুখ কাঁতি। হাসিতে খসয়ে মণি মোতি॥
বিপুল পুলক ভরে কম্প। হরি হরি বলি দেই ঝম্প॥
না জানে অহনিশ নিজরসে। সঘনে চিকুর চীর খসে॥
ঘন ঘন মহি গড়ি যায়। হেমগিরি ধরণি লুটায়॥
ভাসল ভুবন প্রেমরসে। যদু এড়াইল দিনবশে॥

ই পদটি ১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত
এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,
৯২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনর্ধানশী॥

দাস গদাধর প্রাণ গোরা। পুরুব চরিতে ভেল ভোরা॥
বিজুরি বরণ তনু চোরা। কমল নয়নে বহে নোরা॥
কনক কমল মুখ কাঁতি। হাসিতে খসয়ে মণি মোতি॥
বিপুল পুলক ভরে কম্প। হরি হরি বুলি দেই ঝম্প॥
না জানে অহর্নিশি নিজ রসে। সঘনে চিকুর চির খসে॥
ঘন ঘন মহি গড়ি যায়। হেমগিরি ধরণি লোটায়॥
ভাসল ভুবন প্রেমরসে। যদু এড়াইল দীন দোষে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দাস গদাধর প্রাণ গোরা। পূরব চরিতে ভেল ভোরা॥
বিজুরী বরণ তনু চোরা। কমল-নয়নে বহে লোরা॥
কনক-কমল মুখকাঁতি। হাসিতে খসয়ে মণি মোতি॥
বিপুল পুলক ভরে কম্প। হরি হরি বলি দেই ঝম্প॥
না জানে অহনিশি নিজ রসে। সঘনে চিকুর চীর খসে॥
ঘন ঘন মহী পড়ি যায়। হেমগিরি ধরণী লোটায়॥
ভাসল ভুবন প্রেমরসে। যদু এড়াইল কর্ম্মদোষে॥

.          *************************          
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ গোরা-রঙ্গ সই দেখ গোরা-রঙ্গ
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কশ্চিচ্চ কামোদঃ॥

দেখ গোরা-রঙ্গ সই দেখ গোরা রঙ্গ।
নদীয়ানগরে যায় কনয়া-অনঙ্গ॥ ধ্রু॥
হেমমণি দরপণ জিনিয়া লাবনি।
অরুণ চরণে আলো করিলে অবনি॥
পুণিম চান্দের ঘটা ধরিয়াছে মুখ।
ছটায় গগন আলো দিশা নারী সুখ॥
ভুরু ধনু আঁখি বাণ বঙ্কিম সন্ধান।
বরজ মদন হেন সকল বন্ধান॥
জানু বিলম্বিত বাহু পরিসর বুক।
দরশনে কে না পায় পরশন সুখ॥
গতি মত্তগজপতি-জিতি কমনিয়া।
মজিল তরুণী ও না না চায় ফিরিয়া॥
যদু কহে ও না সেই গোকুলসুন্দর।
জানিয়া না জান তুমি তেঞি লাগে ডর॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

দেখ গোরা-রঙ্গ সই দেখ গোরা-রঙ্গ।
নদীয়ানগরে যায় কনয়া-অনঙ্গ॥
হেমমণি-দরপণ জিনিয়া লাবণি।
অরুণ চরণে আলো করিল অবণী॥
পূর্ণিমা চাঁদের ঘটা ধরিয়াছে মুখ।
ছটায় গগন আলো দিশা নারীসুখ॥
ভুরু-ধনু আঁখি-বাণ বঙ্কিম সন্ধান।
বরজ-মদন হেন সকল বন্ধান॥
জানুবিলম্বিত বাহু পরিসর বুক।
দরশনে কে না পায় পরশন সুখ॥
গতি মত্ত গজপতি জিনি কমনিয়া।
মজিল তরুণী ও না চায় ফিরিয়া॥
যদু কহে ও না সেই গোকুলসুন্দর।
জানিয়া না জান তুমি তেঞি লাগে ডর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

॥ কামোদ॥

দেখ গোরা-রঙ্গ সই দেখ গোরা-রঙ্গ।
নদীয়ানগরে যায় কনয়া অনঙ্গ॥
হেমমণি দরপণ জিনিয়া লাবণি।
অরুণ চরণে আলো করিলে অবনী॥
পুর্ণিমাচাঁদের ঘটা ধরিয়াছে মুখ।
ছটায় গগন আলো দিয়া নারীসুখ॥
ভুরু ধনু আঁখি বাণ বঙ্কিম সন্ধান।
বরজ মদন হেন সকল বন্ধান॥
জানুবিলম্বিত বাহু পরিসর বুক।
দরশনে কে না পায় পরশন সুখ॥
গতি মত্ত গজপতি জিতি কমনিয়া।
মজিল তরুণী গোরা না চায় ফিরিয়া॥
যদু কহে ও না সেই গোকুলসুন্দর।
জানিয়া না জান তুমি তেঞি লাগে ডর॥

.          *************************          
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচয়ে গৌরাঙ্গ পহুঁ সহচর সঙ্গ
ভণিতা যদু
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নাচয়ে গৌরাঙ্গ পহুঁ সহচর সঙ্গ।
শ্যামতনু গৌর ভেল বসন সুরঙ্গ॥
পূরবে দোহনভাণ্ড অনুভবি শেষে।
করঙ্গ লইল গোরা সোই অভিলাষে॥
ছাড়ি চূড়া শিখিপুচ্ছ কৈল কেশহীন।
পীত বসন ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
হইলেন দণ্ডধারী ছাড়িয়া বাঁশরী।
যদু কহে কৃষ্ণ এবে হৈলা গৌরহরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

গৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ধানশী॥

নাচয়ে গৌরাঙ্গ পহুঁ সহচর সঙ্গ।
শ্যামতনু গৌর ভেল বসন সুরঙ্গ॥
পূরুবে দোহনভাণ্ড অনুভবি শেষে।
করঙ্গ লইল গোরা সোই অভিলাষে॥
ছাড়ি চূড়া শিখিপুচ্ছ কৈল কেশহীন।
পীত বসন ছাড়ি পরিলা কৌপীন॥
হইলেন দণ্ডধারী ছাড়িয়া বাঁশরী।
যদু কহে কৃষ্ণ এবে হৈলা গৌরহরি॥

.          *************************          
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর