কবি যদু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নিত্যানন্দ সঙ্গে নাচে প্রভু গৌরচন্দ্র
ভণিতা যদু
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

নিত্যানন্দ সঙ্গে নাচে প্রভু গৌরচন্দ্র।
সঙ্গে সঙ্গে নাচে পারিষদ ভক্তবৃন্দ॥
অবনী ভাসিয়া যায় নয়নের জলে।
দুবাহু তুলিয়া সভে হরি হরি বোলে॥
ভাবে গরগর অঙ্গ কত ধারা বয়।
পতিতের গলে ধরি রোদন করয়॥
আপনার ভক্তগণে ডাকয়ে আপনে।
গদাইর গলা ধরি কাঁদে ক্ষণে ক্ষণে॥
গোবিন্দ মাধব বাসু হের আইস বলি।
যদু কহে কাঁদে প্রভুর পরাণ-পুতলী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

॥ সুহই॥

নিত্যানন্দ সঙ্গে নাচে প্রভু গৌরচন্দ্র।
সঙ্গে সঙ্গে নাচে পারিষদ ভক্তবৃন্দ॥
অবনী ভাসিয়া যায় নয়নের জলে।
দুবাহু তুলিয়া সভে হরি হরি বোলে॥
ভাবে গর গর অঙ্গ কত ধারা বয়।
পতিতের গলে ধরি রোদন করয়॥
আপনার ভক্তগণে ডাকয়ে আপনে।
হাসে কাঁদে নাচে গায় আপনা না জানে॥
গোবিন্দ মাধব বাসু হের আইস বলি।
যদু কহে কাঁদে প্রভুর পরাণ-পুতলী॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ছল ছল চারু নয়ানযুগল
ভণিতা যদু
১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত
এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,
দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯২২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ - কামোদঃ॥

ছল ছল চারু, নয়ন যুগল, কত নদী বহে ধারে।
পুলকে পূরল, গোরা-কলেবর, ধরণি ধরিতে নারে॥
পহুঁ করুণাসাগর গোরা।
ভাবেতে ভরেতে, অঙ্গ টলমল, গমনে ভুবন ভোরা॥
খেনে খেনে কত, করুণা করয়ে, গরজে গভীর নাদে।
অধম দেখিয়া, আকুল হৃদয়, ধরিয়া ধরিয়া কাঁদে॥
চরণকমল, অতি সুচঞ্চল, অথির তাহার রীত।
বদনকমলে, গদ গদ সুরে, গায় রাসকেলি-গীত॥
আহা আহা করি, ভুজ যুগ তুলি, বোলে হরি হরি বোল।
রাধা রাধা বলি, ডাকে উচ্চ করি, দেই গদাধরে কোল॥
মুরলী মুরলী খেনে খেনে বুলি, স্বরূপ-মুখ নেহারে।
শিখিপুচ্ছ বুলি, উঠে ফুলি ফুলি, যদু কি বুঝিতে পারে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ছল ছল চারু নয়ানযুগল কত নদী বহে ধারে।
পুলকে পূরল, গোরা কলেবর ধরণী ধরিতে নারে॥
পহুঁ করুণাসাগর গোরা।
ভাবেতে ভবেতে, অঙ্গ টলমল, গমনে ভুবন ভোরা॥ ধ্রু॥
ক্ষণে ক্ষণে কত করুণা করিয়া গরজে গভীর নাদে।
অধম দেখিয়া আকুল হৃদয়, ধরিয়া ধরিয়া কাঁদে॥
@রণকমল, অতি সুচঞ্চল, অথির তাহার রীত।
বদনকমলে, গদ গদ সুরে, গায় রাসকেলি গীত॥
আহা আহা করি ভুজযুগ তুলি, বোলে হরি হরি বোল।
রাধা রাধা বলি, ডাকে উচ্চ করি, দেই গদাধরে কোল॥
মুরলী মুরলী খেনে খেনে বুলি স্বরূপ মুখ নেহারে।
শিখিপুচ্ছ বলি, উঠে ফুলি ফুলি, যদু কি বুঝিতে পারে॥

২ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কীর্ত্তনলম্পট ঘন ঘন নাট
ভণিতা যদু
১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত
এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,
৯২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীতে যথা - আভীরী॥

কীর্ত্তন লম্পট ঘন ঘন নাট। চলইতে আঁখিজলে না হেরই বাট॥
সুন্দর গৌর কিশোর।
পুরুব পিরিতি রসে ভৈ গেল ভোর॥ ধ্রু॥
বলিতে না পারে মুখে আধেক বাণী।
চলিতে ধরয়ে দাস গদাধর পাণি॥
অরুণ চরণ তল না বাঁধয়ে থেহ।
কিবা জল কিবা থল কিবা বন গেহ॥
জপে হরি হরি নাম আলাপে আভীরী।
সুমাধুরী করযুগে কিবা ভঙ্গি করি॥
@@ লাগি কিবা করে কেবা জানে ওর।
পতিত দুর্গত দেখি ধরি করে কোর॥
অজ ভব আদি দেব পদে করে নতি।
যদু কহে কৃপা বিনে কে জানিবে মতি॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর। এক্ষেত্রে সম্ভবত “হিয়া”।

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ আভিরী॥

কীর্ত্তনলম্পট ঘন ঘন নাট।
চলইতে আঁখিজলে না হেরই বাট॥
সুন্দর গৌরকিশোর।
পূরব পীরিতি রসে ভৈগেল ভোর॥
বলিতে না পারে মুখে অধিক বাণী।
চলিতে ধরয়ে দাস গদাধরপাণি॥
অরুণ চরণতল না বাঁধয়ে থেহ।
কিবা জল কিবা থল কিবা বন গেহ॥
জপে হরি হরি নাম আলাপে আভিরী।
সুমাধুরী করযুগে কিবা ভঙ্গী করি॥
কি লাগিয়া কিবা করে কেবা জানে ওর।
পতিত দুর্গত দেখি ধরি দেয় কোর॥
অজ ভব আদি দেব পদে করি নতি।
যদু কহে কৃপা বিনে কে জানিবে মতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম
“যদুকবিচন্দ্র”।

॥ আভিরী॥

কীর্ত্তনলম্পট ঘন ঘন নাট।
চলইতে আঁখি জলে না হেরই বাট॥
সুন্দর গৌরকিশোর।
পূরুব পীরিতি রসে ভৈগেল ভোর॥
বলিতে না পারে মুখে অধিকাই বাণী।
চলিতে চলিতে ঢলি পড়য়ে অবনী॥
অরুণ চরণতল না বাঁধয়ে থেহ।
কিবা জল কিবা থল কিবা বন গেহ॥
জপে হরি হরি নাম আলাপে আভীরী।
সুমাধুরী করযুগে কিবা ভঙ্গী করি॥
কি লাগিয়া কিবা করে কেবা জানে ওর।
পতিত দুর্গত দেখি ধরি দেয় কোর॥
অজভব আদিদেব পদে করে নতি।
যদু কহে কৃপা বিনে কে জানিবে মতি॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লীলাকারী জগন্নাথ
ভণিতা যদু
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ইমন॥

লীলাকারী জগন্নাথ।
চলিতে চলিতে, যেয়ে অর্দ্ধ পথে, রথ থামে অকস্মাৎ॥ ধ্রু॥
সুরাসুর নরে, টানিল রথেরে, তবু না চলয়ে রথ।
পরিছা পূজারি, বেত্র হস্তে করি, গালি পাড়ে কত মত॥
রাজার আদেশে, জোড়ে দুই পাশে, শত শত করিবর।
টানে রথ বলে, তথাপি না চলে, এ পদ রথবর॥
তবে গোরারায়, রথ পাছে যায়, শিরেতে ঠেলিছে রথ।
বায়ুর বেগেতে, নিমেষে মাঝেতে, চলিল যোজন শত॥
জয় গৌর বলি, দুই বাহু তুলি, করে রোল যাত্রিগণ।
দুঁহার প্রভাব, করি অনুভব, যদুর বিস্মিত মন॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কিশোর বয়েস বয়েসবেশ
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ৬৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ সুহই॥

কিশোর বয়েস বয়েসবেশ। রতন ভূষণ ভূষণলেশ॥
ললাটে তিলক চন্দন ঠাট। মুকুল তরুণী লাজের বাট॥
কি খেণে সিনানে বাড়ালু পা। গৌরাঙ্গ দেখিয়া কি করে গা॥ ধ্রু॥
অধর মধুর দশন জ্যোতি। বাঁধুলি ভিতরে যেহেন মোতি॥
তাহাতে সঘন হাসির লেশ। জীয়ে কি রঙ্গিণী দেখিয়া কেশ॥
পরিসর বুকে মালতী মালা। যুবতীহিয়ায় মদনজ্বালা॥
উন্নত নিতম্ব মাঝারি খীণ। যদু কহে কুলহরণ চিন্॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ হেমকিশোর দ্বিজরাজ
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ ব্যাধৌ
॥ বরাড়ি॥

দেখ হেমকিশোর দ্বিজরাজ। প্রেম মূরতি নট সাজ॥ ধ্রু॥
সঘনে পুলক ভরু অঙ্গ। ফুটল কি কনয়া কদম্ব॥
নয়ানে বহয়ে জলধার। সুরনদী ভেল অবতার॥
কাঁপি কাঁপি ক্ষণে দেই ঝম্প। হেমগিরি জনু মহি কম্প॥
গদ গদ হরি হরি ভাষ। ক্ষণে তনু মল্লিকা-আভাস॥
ক্ষণে আধপদ নাহি যায়। ক্ষণে ক্ষণে ধরণি লোটায়॥
শ্রমজলে সিনাওল অঙ্গ। যদু কহে কে জানে এ রঙ্গ॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধুর মধুর মধুর মুখ
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ শ্রবণে
॥ মায়ূর॥

মধুর মধুর মধুর মুখ। সুমধুর হাসি মধুর সুখ॥
সুন্দর সুন্দর গৌরাঙ্গ অঙ্গ। মধু মধুর রস-তরঙ্গ॥ ধ্রু॥
মধুর মধুর বচনকলা। কঠিন হৃদয় পাষাণ-গলা॥
অতি সুমধুর নয়ানকোণে। হেরি কুলবতী কুল কি গণে॥
মধুর লোটন লোটনি কেশে। রসবতীকুল রাখে কি দেশে॥
কে জানে কি লাগি পুন কি কাঁপে। গগনে উঠয়ে সে জোড়া লাফে॥
কি ভাবে কান্দয়ে কে জানে খেলা। যদু কহে রস বরজ মেলা॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুরধুনী জলে সিনায় গোরা
ভণিতা যদু
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ ভূপালি॥

সুরধুনী জলে সিনায় গোরা। বিজুরী তরঙ্গ বহে উজোরা॥
লাবণি চাঁদের ছটার ঘটা। যাতে কুলবতী হয় কুলটা॥
শচীর কুমার দেখিলু জলে। তিলাঞ্জলি দিলু সকল কুলে॥
আর অপরূপ চরণ-তলে। রাতাউতপল বন সে জলে॥
যখন সাঁতারে দু’বাহু মেলি। হেমনালে বিধু-কমলকলি॥
নাহিয়া উঠয়ে সুন্দর তনু। কনকমদন বেকত জনু॥
মনে সে উপজে কহিতে নারি। যদু কহে ভাল নয়ানে বারি॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দাস গদাধর বদন হেরি
ভণিতা যদু
১৯৩৪ নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত
এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ,
দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯০৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ। কশ্চিৎ কামোদঃ॥

দাস গদাধর বদন হেরি। আঁখি-কোণে কহে ইঙ্গিতে করি॥
কে জানে কি লাগি পুলকে তনু। হাসিতে অমিয়া বরিষে যনু॥
সুরনদী-তীরে দেখিলু গোরা। অখিল তরুণী নয়ন চোরা॥
সহজ ভাঙর ভঙ্গিমা কাজে। পরাণে আঁজুলি কি আর লাজে॥
গ্রীবার ভঙ্গিমা কহিল নয়। আঁখি পাখি পাখা পসারি রয়॥
আজানু লম্বিত বাহুর শোভা। যুবতি মরম বা হেরি লোভা॥
অরুণ কমল চরণ তলে। যদু মন রহু মধুপ ছলে॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অলপ বয়সে মোর শ্যাম রসে জর জর
ভণিতা যদু
১৯১৬ সালে প্রকাশিত হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”,
১৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর॥

অলপ বয়সে মোর                        শ্যাম রসে জর জর
না জানি কি হবে পরিণামে।
যদি নয়ন মুদে থাকি                      হৃদয়ে গোবিন্দ দেখি
নয়ন মেলিয়া দেখি শ্যামে॥
যদি চলি যাই পথে                       শ্যাম যায় সাথে সাথে
চরণে চরণ ঠেকাইয়ে।
ভ্রমেতে ফিরাই আঁখি                    কেহ সঙ্গে নাহি দেখি
মরে থাকি মন মুরছিয়ে॥
কহিলাম তোদের আগে,               দাগা পেলাম শ্যামদাগে,
এছার জীবনে কিবা দায়।
তিল তুলসী দিয়া                          সমর্পণ করিনু হিয়া
জনমের মত রাঙ্গা পায়॥
দুকাণে কুণ্ডল দিব                        যোগিনী হইয়া যাব
এছার কুল পরিহরি।
কৃষ্ণনাম লব মুখে                         জনম গোয়াব সুখে
যদু কহে এই বাঞ্ছা করি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী মাথুর - তাল তেওট॥

অলপ বয়সে মোর, শ্যাম-রসে জরজর, না জানি কি হবে পরিণামে।
যদি নয়ন মুদে থাকি, অন্তরে গোবিন্দ দেখি, নয়ন মেলিলে দেখি শ্যামে॥
যদি চলি যাই পথে, শ্যাম যায় সাথে সাথে, চরণে চরণ ঠেকাইয়া।
ভ্রমেতে ফিরাই আঁখি, কোথা কিছু নাহি দেখি, মনে থাকি যেন মূরছিয়া॥
কহিলাম তব আগে, দাগা পেলাম শ্যাম দাগে, এছার জীবনে কিবা দায়।
তিল তুলসী দিয়া, সমর্পণ কৈলু হিয়া, জনমের মত রাঙ্গা পায়॥
কানেতে কুণ্ডল লব, যোগিনী হইয়া যাব, এ ছার গৃহ পরিহরি।
কৃষ্ণ নাম লব মুখে, যাইবে জনম সুখে, যদু কহে এই বাঞ্ছা করি॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”. ৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর - তেওট॥

অলপ বয়স মোর                        শ্যামরসে জর জর
না জানি কি হবে পরিণামে।
যদি নয়ন মুদে থাকি                   হৃদয়ে গোবিন্দ দেখি
নয়ন মেলিয়া দেখি শ্যামে॥
যদি চলি যাই পথে                   শ্যাম যায় সাথে সাথে
চরণে চরণ ঠেকাইয়া।
ভ্রমেতে ফিরাই আঁখি              কেউ ত সঙ্গে নাহি দেখি
মরে থাকি মন মূরছিয়া॥
কহিনু তোমার আগে               দাগা পাইলাম শ্যাম দাগে
এ ছার জীবনে নাহি দায়।
তিল তুলসী দিয়া                           সমর্পণ কৈলুঁ হিয়া
জনমের মত রাঙ্গা পায়॥
যোগিনী হইয়া যাব                        শ্রবণে কুণ্ডল নিব
এই ছার গৃহ পরিহরি।
কৃষ্ণ নাম লব মুখে                        জনম গোঙাব সুখে
যদু কহে এই বাঞ্ছা করি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এই কবির নাম “যদুকবিচন্দ্র”।

রূপানুরাগ
॥ তথা রাগ॥

অলপ বয়স মোর                        শ্যামরসে জর জর
না জানি কি হবে পরিণামে।
যদি নয়ন মুদে থাকি                   হৃদয়ে গোবিন্দ দেখি
নয়ন মেলিয়া দেখি শ্যামে॥
যদি চলি যাই পথে                    শ্যাম যায় সাথে সাথে
চরণে চরণ ঠেকাইয়ে।
ভ্রমেতে ফিরাই আঁখি                  কেহ সঙ্গে নাহি দেখি
মরে থাকি মন মুরছিয়ে॥
কহি গো তোমাদের আগে              বড় দাগা শ্যাম দাগে
এ ছার জীবনে নাহি দায়।
দেই তুলসী তিল                               এ দেহ সমর্পিলুঁ
জনমের মত রাঙ্গা পায়॥
যোগিনী হইয়া যাব                        দুকানে কুণ্ডল নিব
এই ছার গৃহ পরিহরি।
কৃষ্ণ নাম লব মুখে                        জনম গোঁয়াব সুখে
যদু কহে এই বাঞ্ছা করি॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর