কবি যদু দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
অন্তরে জানেন দেবী সকল বারতা
ভণিতা যদু
দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালায়
সংরক্ষিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

অন্তরে জানেন দেবী সকল বারতা। বান্ধে ছল করি কহে যশোদারে কথা॥
পরাণ বাছুনী মোর শোন নন্দরাণী। নিরাপদে কুশলে থাকিবে নীলমণি॥
ভানুর নন্দিনী রাই গুণে অগণন। জতনে আনিএ গেহে করাহ রন্ধন॥
তাহার হস্তে ওদন অমৃত সমান। ভুঞ্জাহ গোপালে হবে আয়ু যশোবান॥
জটীলের নিকটে পাঠাহ নিজ জনে। নিশ্চয় পাঠাবে বধূ তোমার ভবনে॥
তোমাতে তাহার স্নেহ হয় অতিশয়। যদু কহে কেবল তমার তনয়েরে ভয়॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চাঁদ মোর চাঁদের লাগিয়া কাঁদে
ভণিতা যদু
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী - ছোট একতালা॥

চাঁদ মোর চাঁদের লাগিয়া কাঁদে।
যাদুয়া ফেলিল বিষম ফাঁদে॥
না কাঁদ না কাঁদ শিশু আর।
তুমি মোর চাঁদের পসার॥
দশ চাঁদ তোর পায়ের উপরে।
আর দশ চাঁদ তোর মুরলীর পরে॥
তুমি কাঁদ চাঁদের লাগিয়া।
চাঁদ মলিন ও মুখ হেরিয়া॥
আর না কাঁদহ নীলমণি।
চাঁদ ধরি দিব যে এখনি॥
যত তত বুঝায় জননী।
শুনিয়া না শুনে নীলমণি॥
যদু কহে ও কথা না মানি।
চাঁদ ধরি দেহ যে এখনি॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নীলমণি তুমি না কাঁদ আর
ভণিতা যদু
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - কাটা দশকুশী॥

নীলমণি তুমি না কাঁদ আর।
চাঁদ ধরি দিব কহিনু সার॥
দিশি অবশেষে হইবে নিশি।
তখন উদয় করিবে শশী॥
আকাশের পথে পাতিয়া ফাঁদ।
ধরিব আমরা গগন চাঁদ॥
চাঁদ ধরি আনি দিব যে তোরে।
চাঁদরে লইয়া খেলিহ ওরে॥
এক্ষীর সর মাখন খাও।
সুস্থির হইয়া বসিয়া রও॥
শুনিয়া রাণীর বচন মিঠে।
কাঁদিতে কাঁদিতে হাসিয়া উঠে॥
বসিয়া মায়ের কোলের পরে।
ঘন ঘন হুঙ্কার করে॥
যদু কহে শুন বাপের গুরু।
তুমি না আমার চাঁদের তরু॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্ধুর সঙ্গে আজু যাইতে নারিনু গো
ভণিতাহীন পদ
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫২৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে, “যদুদাস”-এর পদাবলীর মধ্যে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বন্ধুর সঙ্গে আজু,                        যাইতে নারিনু গো,
পাপ ননদিনী হৈল বাধা।
দুখেতে আপন ঘরে,                     শুতিয়া রহিনু গো,
বিধি না পূরল মন সাধা॥
সজনি, সো সুখ কি কহিব অনেক।
পিয়া আসি যেন মোরে,                 নিকুঞ্জ-কানন-ঘরে,
কত না আরতি সে না কথা।
ননদী-জনিত দুখ,                        জাগরণে যত ছিল,
ঘুমাইলে গেল সব ব্যথা॥
কত না যতন করি,                       বেশ বনাইল গো,
এ রস-বিলাস কৈল কত।
এক মুখে তোহে হাম,                   তাহাকি কহিব গো,
রভস কৌতুক যত যত॥
হেন কালে নিঁদ টুটি,                     জাগিয়া বসিনু গো,
স্বপন নারিনু বুঝিবারে।
সেই হইতে প্রাণ মোর,                  আনচান করে গো,
বিন্দু পরবোধে বারে বারে॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অঙ্গে যদি মিশাইত কালিয়ে
ভণিতা যদু
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৩৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অঙ্গে যদি মিশাইত কালিয়ে। রাখিতাম হিয়ার মাঝে লুকায়ে॥
চন্দন হইত শ্যামরায়। মাখিয়া রাখিতাম সব গায়॥
শ্যাম যদি অঞ্জন হইত। আঁখে থুতাম এ জনমের মত॥
শ্যাম যদি বেসর হইত। নাসিকার আগেতে দোলিত॥
অতশী কুসুম হইত শ্যাম। কাল কেশের নোটন বান্ধিতাম॥
যদু কহে চল রূপ দেখি। কেলে চাঁদকে বুকে মুখে অঙ্গে মেখে রাখি॥

.            *************************               
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর