কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নিরমল কুল-শিল কাঞ্চন-গোরি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৫৮-পৃষ্ঠা।

অথ ব্যাধিঃ॥
॥ বরাড়ী রাগৈকতালীতালৌ॥

নিরমল কুল শীল কাঞ্চন গোরী।
পাণ্ডর কয়ল বিরহ যব তোরি॥
অনুখন খল খল নিগদই রাই।
নিশি দিশি রোয়ই সখী মুখ চাই॥
শুন শুন গোকুল মঙ্গল শ্যাম।
কথি লাগি তাক মরমে ভেলি বাম॥ ধ্রু॥
তুয়া রূপ জগমন লোচন শোহ।
একল তাক নয়ন মন মোহ॥
রসবতী নিরখয়ে নয়ন পসারি।
সোঙরিতে তাক নয়ন ঝরু বারি॥
আন ধনি বিছুরি করত আন কাম।
তাকর মনহি না ভাওই আন॥
তুহুঁ বর নাগর রসিক সুজান।
যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমত্যহ।
॥ তদ্ যথা॥ (বঙ্গাল)

নিরমল কুলশীল কাঞ্চন গোরী। পাণ্ডুর কয়ল বিরহজ্বর তোরি॥
অনুখন খল খল নিগদই রাই। নিশি দিশি রোয়ই সখীমুখ চাই॥
শুন শুন গোকুল মঙ্গল শ্যাম। কথি লাগি তাক মরমে ভেলি বাম॥ ধ্রু॥
তুয়া রূপ জগজনলোচন শোহ। একল তাহ নয়ন মন মোহ॥
রসবতী নিরিখয়ে নয়ন পসারি। সোঙরিতে তাক নয়ন ঝরু বারি॥
আন ধনী বিছরি করত আন কাম। তাকর মনহি না ভায়ই আন॥
তুহুঁ বর নাগর রসিক সুজান। যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৭০-পদসংখ্যায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস বিরচিত পদরসসার পুথির ৪|২০ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

নিরমল কুল-শিল কাঞ্চন-গোরি।
পাণ্ডুর কয়ল বিরহ-জর তোরি॥
অনুখন খল খল নিগদই রাই।
নিশিদিশি রোয়ই সখি-মুখ চাই॥
শুন শুন গোকুল-মঙ্গল শ্যাম।
কথি লাগি তাক হৃদয় ভেলি বাম॥ ধ্রু॥
তুয়া রূপ জগজন-লোচন শোহ।
একলি তাক নয়ন মন মোহ॥
রসবতি নিরখয়ে নয়ন পসারি।
সোঙরিতে তাক নয়নে ঝরু বারি॥
আন ধনি বিছুরি করত আন কাম।
তাকর মনহি না ভাওত আন॥
তুহুঁ বর-নাগর রসিক সুজান।
যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নিরমল কুলশীল কাঞ্চন গোরি। পাণ্ডুর কয়ল বিরহজ্বর তোরি॥
অনুখন খন খন বিষদই রাই। নিশিদিশি রোয়ই সখীমুখ চাই॥
সুন সুন গোকুলমঙ্গল শ্যাম। কথি লাগি তাক হৃদয় ভেল বাম॥
তুয়া রূপ জগজনলোচন সোই। একল তাক নয়ন মনমোই॥
রসবতী নিরখএ নয়ন পসারি। সঙরি তাক নয়নে ঝরু বারি॥
আন ধনি বিছরি করত আন কাম। তাকর মনহি না ভায়ত আন॥
তুহু বরনাগর রসিক সুজান। যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

নিরমল কুল শীল কাঞ্চন গোরী।
পাণ্ডুর কয়ল বিরহ জ্বর তোরি॥
অনুক্ষণ ক্ষণে ক্ষণে নিগদই রাই।
নিশিদিশি রোই সখী মুখ চাই॥
শুন শুন গোকুল মঙ্গল শ্যাম।
কথি লাগি তাক হৃদয় ভেলি বাম॥
তুয়া রূপ জগজন লোচন শোহ।
একলি তাক নয়ন মন মোহ॥
রসবতী নিরখি নয়ন পসারি।
সোঙরতে তাক নয়নে ঝরু বারি॥
আন ধনী বিছুরী করত আন কাম।
তাকর মনহি না ভাওত আন॥
তুহুঁ বরনাগর রসিক সুজান।
যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

নিরমল কুল কাঞ্চন গোরী।
পাণ্ডুর কয়ল বিরহ জ্বর তোরি॥
অনুখন খল খল নিগদই রাই।
নিশি দিশি রোয়ই সখীমুখ চাই॥
শুন শুন গোকুল-মঙ্গল শ্যাম।
কথি লাগি তাক হৃদয় ভেলি বাম॥ ধ্রু॥
তুয়া রূপ জগজন লোচন শোহ।
একলি তাক নয়ন মন মোহ॥
রসবতী নিরখয়ে নয়ন পসারি।
সোঙরিতে তাক নয়নে ঝরু বারি॥
আন বিছুরি করত আন কাম।
তাকর মনহি না ভাসই আন॥
তুহুঁ বর নাগর রসিক সুজান।
যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নিরমল কুলশীল কাঞ্চন গোরি।
পাণ্ডুর কয়ল বিরহজ্বর তোরি॥
অনুখন খল খল নিগদই রাই।
নিশিদিশি রোয়ই সখিমুখ চাই॥
শুন শুন গোকুলমঙ্গল শ্যাম।
কথি লাগি তাক হৃদয় ভেলি বাম॥
তুয়া রূপ জগজন লোচন শোহ।
একলি তাক নয়নমনমোহ॥
রসবতি নিরখয়ে নয়ন পসারি।
সোঙরিতে তাক নয়ন ঝরু বারি॥
আন ধনি বিছুরি করত আন কাম।
তাকর মনহি না ভাওত আন॥
তুহুঁ বর নাগর রসিক সুজান।
যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

ই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থ,
২২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিরহিনী নায়িকা।

নির্মল কুলশাল কাঞ্চন গোরি।
পাণ্ডুর কয়ল বিরহ যব তোরি॥
অনুখন খলখল নিগদই রাই।
নিশিদিশি রোয়ই সখিমুখ চাই॥
শুন শুন গোকুল মঙ্গল শ্যাম।
কথি লাগি তাক মরমে ভেলি বাম॥ ধ্রু॥
তুয়া রূপ জগমন লোচন শোহ।
একল তাক নয়ন মন মোহ॥
রসবতী নিরখয়ে নয়ন পসারি।
সোঙরিতে তাক নয়ন ঝরু বারি॥
আন ধনি বিছুরি করত জান কাম।
তাকর মন হি না ভাওই আন॥
তুহু কর নাগর রসিক সুজান।
যদুনন্দন তোহে কি কহব আন॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কহ কহ সুবদনি রাধে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী শ্রীরাধাকাং প্রত্যহ।
॥ সোহিনী॥

কহ কহ সুবদনি রাধে! কি তোর হইল বিয়াধে॥
কেনে তোরে আনমন দেখি। কাহে নখে খিতিতল লেখি॥
হেমকান্তি ঝামর হইল। রাঙ্গাবাস খসিয়া পড়িল॥
আখিযুগ অরুণিত ভেল। মুখপদ্ম শুখাইয়া গেল॥
এমন হইলা কি লাগিয়া। না কহিলে ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনী রাই। এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৩১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আড়ান সুহিনি॥

কহ কহ সুবদনি রাধে।
কিবা তোর হইল বিয়াধে॥
কেন তোরে আন-মন দেখি।
কাহে নখে ক্ষিতি-তলে লেখি॥
হেম-কান্তি ঝামর হইল।
রাঙ্গা বাস খসিয়া পড়িল॥
আঁখিযুগ অরুণ হইল।
মুখ-পদ্ম শুখাইয়া গেল॥
কি লাগিয়া এমন হইলা।
না কহিলে ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনি রাই।
এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আড়ানি সুহিনি॥

কহ কহ সুবদনি রাধে। কি তোর হইআছে বেয়াধে॥
কেন তোরে আনমন দেখি। কাহে নখে ক্ষেতিতল লেখি॥
হেমকান্তি ঝামর হইল। রাঙ্গা বাস খসিয়ে পড়িল॥
আখিযুগ অরুণ হইল। মুখপদ্ম সুখাইয়ে গেল॥
কি লাগিয়া এমন হইলা। না কহিলা ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনি রাই। এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দশকুশী আড়ানাগুইনি সুট॥

কহ কহ সুবদনি রাধে। কিবা তোর হইল বিয়াধে॥
কেন তোরে আনমন দেখি। নিঝোরে ঝোরে দুটী আঁখি॥
হেম কান্তি ঝামর হৈল। রাঙ্গা বাস খসিয়া পড়িল॥
আঁখিযুগ অরুণ হইল। মুখপদ্ম শুখাইয়া গেল॥
কি লাগিয়া হেন হইলা। না কহিলে ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনী রাই। যদুনন্দন মুখ চাই॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আড়ানা সুহিনী॥

কহ কহ সুবদনি রাধে।
কি তোর হইল বিয়াধে॥
কেন তোরে আন মন দেখি।
কাহে নখে ক্ষিতিতলে লিখি॥
হেমকান্তি ঝামর হইল।
রাঙ্গা বাস খসিয়া পড়িল॥
আঁখিযুগ অরুণ হইল।
মুখপদ্ম শুখাইয়া গেল॥
এমন হইলা কি লাগিয়া।
না কহিলে ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনী রাই।
এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আড়ানা-সুহিনী॥

কহ কহ সুবদনি রাধে।
কিবা তোর হইল বিয়াধে॥
কেন তোরে আন মন দেখি।
কাহে নখে ক্ষিতি তলে লেখি॥
হেমকান্তি ঝামর হইল।
রাঙ্গাবাস খসিঞা পড়িল॥
আঁখি যুগ অরুণ হইল।
মুখপদ্ম শুখাইয়া গেল॥
এমন হইলা কি লাগিয়া।
না কহিলে ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনি রাই।
এ যদু-নন্দন মুখ চাই॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কাটাদশকুশি তাল॥

কহ কহ সুবদনি রাধে। কিবা তোর হইল বিয়াধে॥
কেনে তোরে আনমন দেখি। কাহেঁ নখে ক্ষিতি তলে লেখি॥
হেম কান্তি ঝামর হইল। রাঙ্গা বাস খসিয়া পড়িল॥
আঁখি যুগ অরুণ হইল। মুখ পদ্ম শুখাইয়া গেল॥
কি লাগিয়া এমন হইলা। না কহিলে ফাটি মায়১ হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনি রাই। এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

১ - মায় - যায় হবে সম্ভবত। মুদ্রণ প্রমাদ।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আড়ানা সুহিনি॥

কহ কহ সুবদনি রাধে।
কিবা তোর হইল বিয়াধে॥
কেন তোরে আন মন দেখি।
কাহে নখে ক্ষিতি তলে লেখি॥
হেম কান্তি ঝামর হইল।
রাঙ্গা বাস খসিয়া পড়িল॥
আঁখিযুগ অরুণিম ভেল।
মুখ-পদ্ম শুখাইয়া গেল॥
এমন হইলা কি লাগিয়া।
না কহিলে ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনি রাই।
এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কহ কহ সুবদনি রাধে।
কিবা তোর হইল বিআধে॥
কেনে তোরে আন মন দেখি।
কাহে নখে ক্ষিতিতলে লেখি॥
হেমকান্তি ঝামর হইল।
রাঙ্গাবাস খসিঞা পড়িল॥
আঁখিযুগ অরুণ হইল।
মুখপদ্ম শুখাইয়া গেল॥
কি লাগিয়া এমন হইলা।
না কহিলে ফাটি যায় হিয়া॥
এত শুনি কহে ধনি রাই।
এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাইক ঐছে দশা হেরি এক সখি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

রাইক ঐছে দশা        হেরি এক সখী        তুরিতহি করল পয়ান।
নিরজনে নিজসখী-        সঞে যাঁহা মাধব        যাই মিলল সোই ঠাম॥
শুন মাধব! অব হাম কি কহব তোয়।
সো বৃষভানু-        কুমারী বরসুন্দরী        অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥
তুয়া অনুরূপ        এক পট লিখি পুন        দেয়ল তাকর আগে।
সো রূপ হেরি        মুরুছি পড়ু ভূতলে        মানই করম অভাগে॥
অম্বরে নবজল-        ধর হেরি সো ধনী        কাতরে করু পরলাপ।
নীলাম্বর অব        সহই না পারই        অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥
ঐছে দশা হেরি        সকল সখীগণ        রোয়ত যামিনী জাগি।
কহ যদুনন্দন        শুন নন্দনন্দন        মিলহ সব জন ভাগি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব,
শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৩৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

রাইক ঐছে দশা                        হেরি এক সখি
তুরিতহি করল পয়ান।
নিরজনে নিজগণ                     সঞে যাঁহা মাধব
যাই মিলল সোই ঠাম॥
শুন মাধব অব  হাম কি বোলব তোয়।
সো বৃষভানু-                        কুমারি বর সুন্দরি
অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥
তুয়া অনুরূপ                          এক পট লেখিয়া
দেয়ল তাকর আগে।
সো রূপ হেরি                        মুরছি পড়ু ভূতলে
মানয়ে করম অভাগে॥
অম্বরে নব-জল-                       ধর হেরি সো ধনি
কাতরে করু পরলাপ।
নীলাম্বর অব                              সহই না পারই
অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥
ঐছে দশা হেরি                            সকল সখীগণ
রোয়ত যামিনি জাগি।
কহে যদুনন্দন                             শুন নন্দনন্দন
মীলহ সব জন ভাগি॥

টীকা -
“মানয়ে” ইত্যাদি। মর্ম্মের অর্থাৎ অদৃষ্টের দুর্ভাগ্য কলিয়া মনে করে।
“মীলহ” ইত্যাদি। সকলের ভাগ্য মিলাও অর্থাৎ তুমি শ্রীরাধার কুঞ্জে উপনীত হইয়া তাঁহার সখীগণকে
সৌভাগ্যযুক্ত কর।

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানসী॥

রাইক ঐছে দশা    হেরি এক সখি    তুরিতঁহি করল পয়ান।
নিরজনে নিজসখী    সঞে জাঁহা মাধব    জাই মিলল সোই ঠাম॥
সুন মাধব অব হাম কি বলিব তোয়।
সো বৃষভানুকুমারি    বরসুন্দরি    অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥
তুয়া অনুরূপ    এক পটে লেখই    দেয়ত তাকর আগে।
সো রূপ হেরি    মুরছি পড়ু ভূতলে    মানহি করম অভাগে॥
অম্বরে নব জলধর    হেরি সো ধনি    কাতরে করু পরলাপ।
নীলাম্বর অবশ    হই না পারই    অরুণাম্বরে তনু ঝাপ॥
ঐছে দশা হেরি    সকল সখীগণ    রোয়ত যামিনী জাগি।
কহ যদুনন্দন    সুনন্দনন্দন    মিলহ সবজন ভাগী॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বালা ধানসী - দশকুশী॥

রাইক ঐছে দশা হেরি, এক সখী তুরিতহি করল পয়াণ।
নিরজনে নিজ সখী সঞে, জহা মাধব, যাই মিলল সেই ঠাম॥
শুন মাধব, অবহাম কি কহব তোয়।
সো বৃষভানু কুমারীবর সুন্দরী অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥
তুয়া অনুরূপ, এক পটে লিখিয়া, দেয়ল তাকর আগে।
সো রূপ হেরি, মুরছি পড়ু ভূতলে, মানল করম অভাগে॥
অম্বরে নবজলধর, হেরি সো ধ্বনি, কাতর করু পরলাপ।
নীলাম্বর অবশ হই না পারই, অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥
ঐছে দশা হেরি, সকল সখীগণ, রোয়ত যামিনী জাগি।
কহে যদুনন্দন, শুন নন্দনন্দন, মিলহ সবজন ভাগি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

রাইক ঐছে দশা, দেখি এক সখী,
তুরিতহি করল পয়াণ।
নিরজনে নিজগণ, সঞে যাঁহা মাধব,
যাই মিলিল সেই ঠাম॥
শুন মাধব, আর হাম কি বোলব তোয়।
সো বৃষভানু কুমারী বর সুন্দরী,
অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥
তুয়া অনুরূপ, এক পটে লিখিয়া,
দেয়ল তাকর আগে।
সোরূপ হেরি, মুরছি পড়ু ভূতলে,
মানয়ে করম অভাগে॥
আকাশে নব জল-ধর হেরি সো ধনী,
কাতরে করু পরলাপ।
নীলাম্বর অব, সহই না পারই,
অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥
ঐছে দশা হেরি, সকল সখীগণ,
রোয়ত যামিনী জাগি।
কহে যদুনন্দন, শুন নন্দনন্দন,
মিলাহ সব জন ভাগি॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাইক ঐছে,                        দশা হেরি এক সখী,
তুরিতহি করল পয়ান।
নিরজনে নিজ সখি                     সঞে যাঁহা মাধব,
যাই মিলিল সোই ঠাম॥
শুন মাধব আর হাম কি বোলব তোয়।
সো বৃষভানু                          কুমারী বর সুন্দরী,
অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥
তুয়া অনুরূপ,                          এক পট লেখিয়া,
দেয়ল তাকর আগে।
সো রূপ হেরি,                        মুরছি পড়ু ভূতলে,
মানই করম অভাগে॥
অম্বরে নব জলধর,                       হেরি সো ধনি,
কাতরে করু পরলাপ।
নীলাম্বর অব,                             সহই না পারই,
অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥
ঐছে দশা হেরি,                           সকল সখীগণ,
রোয়ত যামিনী জাগি।
কহ যদুনন্দন,                             শুন নন্দনন্দন,
মিলহ সবজন ভাগী॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ চঞ্চুপুট তাল॥

রাইক ঐছে, দশা হেরি একসখী, তুরিতহি করল পয়ান।
নিরজনে নিজগণ, সঙ্গে যাঁহা মাধব, যাই মিলল সোই ঠাম॥
শুন মাধব আর হাম কি বোলিব তোয়।
সো বৃষভানু কুমারী বর সুন্দরী, অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥
তুয়া অনুরূপ, এক পটে লিখিয়া, দেয়লু তাকর আগে।
সে রূপ হেরি, মূরছি পড়ু ভূতলে, মানয়ে করম অভাগে॥
অম্বরে নব জল-ধর হেরি সো ধনি, কাতরে কর পরলাপ।
নীলাম্বর অব, সহই না পারই, অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥
ঐছে দশা হেরি, সকল সখীগণ, রোয়ত যামিনী জাগি।
কহে যদুনন্দন, শুন নন্দনন্দন, মিলহ সবজন ভাগী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

রাইক ঐছে দশা                           হেরি এক সখী
তুরিতহি করল পয়ান।
নিরজনে নিজগণ                        সঞে যাহা মাধব
যাই মিলল সোই ঠাম॥
(শুন মাধব) অব  হাম কি বোলব তোয়।
সো বৃষভানু                           কুমারি বর সুন্দরী
অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥
তুয়া অনুরূপ                         পট এক লেখি আনি
দেয়ল তাকর আগে।
সো রূপ হেরি                           মুরছি পড়ু ভূতলে
মানয়ে করম অভাগে॥
নবজলধর হেরি                            অম্বরে সো ধনী
কাতরে করু পরলাপ।
নীলাম্বর অব                                সহই না পারই
অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥
ঐছে দশা হেরি                               সকল সখীগণ
রোয়ত যামিনি জাগি।
কহে যদুনন্দন                                শুন নন্দনন্দন
মীলহ সব জন ভাগি॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাহা বিলপয়ে বর কান
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যাহা বিলপয়ে বর কান। তাহা সখী করল পয়ান॥
মিলল নাগর-পাশ। তেজই দীঘ নিশ্বাস॥
নাগর হেরি বিভোর। নয়নহি আনন্দ লোর॥
কানু কহই মৃদুভাষ। পূরবি মঝু অভিলাষ॥
কৈছে আছয়ে ধনী রাই। শুনইতে মঝু নিঠুরাই॥
হাম কয়ল পরিহাস। তাকর বিরহ হুতাশ॥
অতএ গমন করু তাই। তুরিতহি আনবি রাই॥
এত শুনি সো সখী গেল। রাইক সমুখহি ভেল॥
কানু কহই রসভাষ। সবহু কহল ধনীপাশ॥
সচকিত সো বরনারী। তবহি কয়ল অভিসারী॥
শুভখণে আয়ল কুঞ্জ। সখীগণ আনন্দপুঞ্জ॥
ইহ যদুনন্দন দাস। ধায়ল কানুক পাশ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৪৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যাঁহা বিলপয়ে বর কান।
তাঁহা সখি করল পয়ান॥
মীলল নাগর পাশ।
দীঘল তেজই নিশাস॥
নাগর হেরি বিভোর।
নয়নহি আনন্দ-লোর॥
কানু কহই মৃদুভাষ।
পূরবি মঝু অভিলাষ॥
কৈছে আছয়ে ধনি রাই।
শুনইতে মঝু নিঠুরাই॥
হাম কয়লুঁ পরিহাস।
তাকর বিরহ-হুতাশ॥
অতয়ে গমনে করু তাই।
তুরিতহি আনবি রাই॥
এত শুনি সো সখি গেল।
রাইক সমুখহি ভেল॥
কানুক ইহ রস-ভাস।
সবহুঁ কহল ধনি পাশ॥
সচকিত সো বরনারী।
তবহুঁ কয়ল অভিসারি॥
শুভ খনে আয়ল কুঞ্জ।
সখিগণ আনন্দ-পুঞ্জ॥
ইহ যদুনন্দন দাস।
ধায়ল কানুক পাশ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীকৃষ্ণ সন্তাপ গোপীগমনান্তে॥

জাহা বিলপএ বর কান। তাহা সখী করল পয়ান॥
মিলল নাগর পাশ। দীঘল তেজই নিশ্বাস॥
নাগর হেরি বিভোর। নয়নহি আনন্দলোর॥
কানু ইহ মৃদুভাষ। পূরবি মঝু অভিলাষ॥
কৈছে আছএ ধনি রাই। সুন এতে মঝু নিঠুরাই॥
হাম কয়লু পরিহাস। তাকর বিরহ হুতাশ॥
অতএ গমন করি তাই। তুরিতহি আনবি রাই॥
এত শুনি সো সখী গেল। রাইক সমূখল ভেল॥
কানুক ইহ রসভাষ। সবহু কহল ধনি পাশ॥
সচকিত সো বরনারী। তবহি কয়ল অভিসারি॥
শুভক্ষণে আওল কুঞ্জে। সখীগণ আনন্দপুঞ্জে॥
ইহ যদুনন্দন দাস। ধায়ল কানুক পাশ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যাহা বিলপয়ে বর কান।
তাহা সখী করল পয়ান॥
মিলল নাগর পাশ।
দীঘল তেজই নিশ্বাস॥
নাগর হেরি বিভোর।
নয়নহি আনন্দ লোর॥
কানু কহই মৃদুভাষ।
পূরব কি মঝু অভিলাষ॥
কৈছে আছয়ে ধনী রাই।
শুনইতে মঝু নিঠুরাই॥
হাম কয়ল পরিহাস।
তাকর বিরহ হুতাশ॥
অতয়ে গমনে করু তাই।
তুরিতহিঁ আনবি রাই॥
এত শুনি সো সখী গেল।
রাইক সমুখহি ভেল॥
কানুক ইহ রস ভাষ।
সবহুঁ কহল ধনী পাশ॥
সচকিত সো বরনারী।
তবহুঁ কয়ল অভিসারি॥
শুভক্ষণে আওল কুঞ্জ।
সখীগণ আনন্দ পুঞ্জ॥
ইহ যদুনন্দনদাস।
ধায়ল কানুক পাশ॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

যাহা বিলপয়ে কান। তাঁহা সখী করল পয়াণ॥
মিলল নাগর পাশ। দীঘল তেজই নিশ্বাস॥
নাগর হেরি বিভোর। নয়নহি আনন্দ নোর॥
কানুক ইহ মৃদুভাষ। পূরবি মঝু অভিলাষ॥
কৈছে আছয়ে ধনি রাই। শুনইতে মঝু নিঠুরাই॥
হাম কয়লু পরিহাস। তাকর বিরহ হুতাশ॥
অতএব গমন করু তাই। তুরিতহি আনবি রাই॥
এত শুনি সো সখী গেল। রাইক সমুপহি ভেল॥
কানু কহই রসভাষ। সবহু রহল ধনী পাশ॥
চঙকিত সো বর নারী। তবহি করল অভিসারি॥
শুভক্ষণে আওল কুঞ্জ। সখীগণ আনন্দ পুঞ্জ॥
ইহ যদু নন্দন দাস। ধাওল কানুক পাশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার আপ্তদূতী
॥ সুহই॥

যাঁহা বিলপয়ে বর কান।
তাঁহা সখি করল পয়ান॥
মীলল নাগর পাশ।
দীঘল তেজই নিশাস॥
নাগর হেরি বিভোর।
নয়নহি আনন্দ-লোর॥
কানু কহই মৃদুভাষ।
পূরবি মঝু অভিলাষ॥
কৈছে আছয়ে ধনি রাই।
শুনইতে মঝু নিঠুরাই॥
হাম করলুঁ পরিহাস।
তাকর বিরহ-হুতাশ॥
অতয়ে গমনে করু তাই।
তুরিতহি আনবি রাই॥
এত শুনি সো সখি গেল।
রাইক সমুখহি ভেল॥
কানুক ইহ রস-ভাষ।
সবহুঁ কহল ধনি পাশ॥
সচকিত সো বরনারী।
তবহুঁ করল অভিসারি॥
শুভ খনে আয়ল কুঞ্জ।
সখিগণ আনন্দ-পুঞ্জ॥
ইহ যদুনন্দন দাস।
ধায়ল কানুক পাশ॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হামারি বচন শুন রাই
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৩য় পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের
পূর্ব্বরাগ, ৬৫-পদসংখ্যা।

সখীর উক্তি
॥ পঠমঞ্জরী॥

হামারি বচন শুন রাই।
দূরহিঁ তাক                            পরশ বিনে অব তুহুঁ
মন্দিরে ভয় অবগাই॥
বিদগধ রসিক-                             শিরোমণি নাগর
দরশে বুঝবি ব্যবহার।
ঐছন সংশয়                            আর তুহুঁ না করবি
শুভক্ষণে কর অভিসার॥
ঐছন বচন                               শুনিয়া বর মুগধিনি
নিজ প্রিয় সহচরি মেলি।
বেশ বনাই                              কত যে মনে সংশয়
কালিন্দি-তীরহিঁ গেলি॥
অপরুপ কুঞ্জ-                              কুটিরে নব নাগর
পথ হেরি আকুল পরাণ।
সকল সখী                                পরবোধি মিলায়ল
যদুনন্দন রস গান॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

হামারি বচন শুন রাই।
দূরহি তাক    পরশ বিনে অব তুহু    মন্দিরে ভয় অবগাই॥
বিদগদ রসিক    শিরোমণি নাগর    দরশে বুঝবি ব্যবহার।
ঐছন সংশয়    বার তাহে না করবি    শুভক্ষণে কর অভিসার॥
ঐছন বচন    শুনিয়া বর মুগধিনি    নিজ প্রিয় সহচরী মেলি।
বেশ বনাই কত    এ মনে সংশয়    কালিন্দীতীরহি গেলি॥
অপরূপ কুঞ্জ    কুটিরে নবনাগর    পথ হেরি আকুল পরাণ।
সবহু সখী    পরবোধি মিলায়ল    যদুনন্দন রস গান॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

হামারি বচন শুন রাই।
দূরহি তাক পরশ বিনে, অব তুহুঁ মন্দিরে ভয় অবগাই॥
বিদগধ রসিক-শিরোমণি নাগর দরশে বুঝবি ব্যবহার।
ঐছন সংশয় আর তুহুঁ না করবি, শুভক্ষণে কর অভিসার॥
ঐছন বচন শুনিয়া বর মুগধিনি, নিজ প্রিয় সহচরী মেলি।
বেশ বনাই কত যে মনে সংশয়, কালিন্দী-তীরহি গেলি॥
অপরুপ কুঞ্জ-কুটিরে নব নাগর পথ হেরি আকুল পরাণ।
সকল সখী পরবোধি, মিলায়ল যদুনন্দন রস গান॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

হামারি বচন শুন রাই।
দূরহিঁ তাক, পরশ বিনে অব তুহুঁ,
মন্দিরে ভয় অবগাই॥
বিদগধ রসিক, শিরোমণি নাগর,
দরশে বুঝিবি ব্যবহার।
ঐছন সংশয়, আর তুহুঁ না করবি,
শুভক্ষণে কর অভিসার॥
ঐছন বচন, শুনিয়া বর মুগধিনী,
নিজ প্রিয় সহচরী মেলি।
বেশ বনাই কত, যে মনে সংশয়,
কালিন্দী তীরহিঁ গেলি॥
অপরুপ কুঞ্জ, কুটীরে নব নাগর,
পথ হেরি আকুল পরাণ।
সকল সখী, পরবোধি মিলায়ল,
যদুনন্দন রস গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

হামারি বচন শুন রাই।
দূরহিঁ তাক                              পরশ বিনে অব তুহুঁ
মন্দিরে ভয় অবগাই॥
বিদগধ রসিক                                শিরোমণি নাগর
দরশে বুঝবি ব্যবহার।
ঐছন সংশয়                               আর তুহুঁ না করবি
শুভক্ষণে কর অভিসার॥
ঐছন বচন                                শুনিয়া ধনী মুগধিনি
নিজ প্রিয় সহচরি মেলি।
বেশ বনাই                                কত যে মনে সংশয়
কালিন্দি তীরহিঁ গেলি॥
অপরূপ কুঞ্জ-                                কুটিরে নব নাগর
পথ হেরি আকুল পরাণ।
সকল সখী পর-                                 বোধি মিলায়ল
যদুনন্দন রস-গান॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখি রাধা নাম কি কহিলে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৮১-পৃষ্ঠা।

অথ শ্রীকৃষ্ণস্য পূর্ব্বরাগঃ॥
নায়িকানাং বিষয়ালম্বনত্বেন নায়কচূড়ামণেঃ শ্রীকৃষ্ণস্যাশ্রয়ালম্বনত্বং পূর্ব্বাচার্য্যৈর্লিখিতমতঃ
কথ্যতে তৎ॥
তত্র শ্রীমত্যা নাম স্রবণং যথা॥

॥ বালায়তি তালৌ॥

সখি রাধা নাম কি কহিলে।
শুনি কান মন জুড়াইলে॥ ধ্রু॥
কত নাম আছয়ে গোকুলে।
হেন হিয়া না করে আকুলে॥
ঐ নামে কি আছে মাধুরি।
শ্রবণে রহল সুধা ভরি॥
চিতে নিতে মুরতি বিকাশ।
অমিয়া সাগরে যেন বাস॥
আঁখিতে দেখিতে করে সাধ।
এ যদুনন্দন মন কাঁদ॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

সখি! রাধানাম কি কহিল। শুনি মন কাণ জুড়াইল॥
কত নাম আছয়ে গোকুলে। হেন হিয়া না করে আকুলে॥
ও নামে আছে কি মাধুরী। শ্রবণে রহল সুধা পূরি॥
চিতে নিতে মুরুতি বিকাশ। অমিয়া-সায়রে যেন বাস॥
আঁখিতে দেখিতে করে সাধ। এ যদুনন্দন মন-ফান্দ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৪র্থ পল্লব, শ্রীরাধাকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ৭৭-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

আদৌ নামশ্রবণে যথা।
॥ সুহিনী॥

সখি রাধা নাম কি কহিলে।
শুনি কাণ মন জুড়াইলে॥
কত নাম আছয়ে গোকুলে।
হেন হিয়া না করে আকুলে॥
ওই নামে আছে কি মাধুরী।
শ্রবণে রহল সুধা ভরি॥
চিতে নিতি মূরতি বিকাশ।
অমিয়া-সায়রে যেন বাস॥
আঁখিতে দেখিতে করে সাধ।
এ যদুনন্দন মন কান্দ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

সখি রাধা নাম কি কহিলে।
শুনি মন কান জুড়াইলে॥
কত নাম আছয়ে গোকুলে।
হেন হিয়া না করে আকুলে॥
ঐ নামে আছে কি মাধুরী।
শ্রবণে রহল সুধা ভরি॥
চিতে নিতি মূরতি বিকাশ।
অমিয়া সায়রে যেন বাস॥
আঁখিতে দেখিতে করে সাধ।
এ যদুনন্দন মন কাঁন্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ
॥ সোহিনী॥

সখি রাধা নাম কি কহিলে।
শুনি কান মন জুড়াইলে॥
কত নাম আছয়ে গোকুলে।
হেন হিয়া না করে আকুলে॥
ওই নামে আছে কি মাধুরী।
শ্রবণে রহল সুধা ভরি॥
চিতে নিতি মূরতি বিকাশ।
অমিয়া সায়রে যেন বাস॥
আঁখিতে দেখিতে করে সাধ।
এ যদুনন্দন মন কাঁদ॥

ই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে,
২০৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্বরাগ।

সখি রাধা নাম কি কহিলে।
শুনি কান মন জুড়াইলে॥ ধ্রু॥
কত নাম আছয়ে গোকুলে।
হেন হিয়া না করে আকুলে॥
ঐ নামে কি আছে মাধুরী।
শ্রবণে রহল সুধা ভরি॥
চিতে নিতে মুরতি বিকাশ।
অমিয়া সাগরে যেন বাস॥
আঁখিতে দেখিতে করে সাধ।
এ যদুনন্দন মন কাঁদ॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন এ সখি কর অবধান
শুন শুন এ ধনি কর অবধান
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ৪র্থ পল্লব, শ্রীরাধাকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ৮৭-পদসংখ্যা।

॥ তথা॥

শুন শুন এ সখি কর অবধান।
সে যে রমণী নিল হামারি পরাণ॥
যব ধরি না দেখিয়ে সো চাঁদ-মুখ।
তব ধরি মদন দ্বিগুণ দেই দূখ॥
ঝর-ঝর অনুখন এ দুই নয়ান।
জর-জর অন্তর না যায়ে পরাণ॥
তা সঞে রভস-রস যদি নাহি হোয়।
নিচয় না জীয়ব কহলম তোয়॥
দুই এক পলকে মিলব বরনারী।
যদুনন্দন তব যাঙ বলিহারি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন এ ধনি কর অবধান। সে জে রমণী নিল হামারি পরাণ॥
জব ধনি না দেখিএ সো চান্দমুখ। তব ধরি মদন দ্বিগুণ দেই দুখ॥
ঝরঝর অনুক্ষণ এ দুই নয়ান। জর জর অন্তর না জাএ পরাণ॥
তা সঞে রভসরস যদি নাহি হোয়। নিশ্চয় না জিয়ই কহলম তোয়॥
দুই এক পলখে মিলিব বরনারী। যদুনন্দন তব জাউ বলিহারি॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

শুন শুন এ সখি কর অবধান।
সে যে রমণী নিল হামারি পরাণ॥
যব ধরি না দেখিয়ে সো চাঁদ মুখ।
তব ধরি মদন দ্বিগুণ দেই দুখ॥
ঝর ঝর অনুক্ষণ এ দুই নয়ান।
জর জর অন্তর না যায় পরাণ॥
তা সঞে রভস রস যদি নাহি হোয়।
নিচয় না জীয়ব কহলমো তোয়॥
দুই এক পলকে মিলব বরনারী।
যদুনন্দন তব যাঙ বলিহারি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

শুন শুন এ সখি কর অবধান।
সে যে রমণী নিল হামারি পরাণ॥
যবধরি না দেখিয়ে সো চাঁদ মুখ।
তব ধরি মদন দ্বিগুণ দেই দূখ॥
ঝর ঝর অনুখন এ দুই নয়ান।
জরজর অন্তর না যায়ে পরাণ॥
তা সঞে রভস-রস যদি নাহি হোয়।
নিচয় না জীয়ব কহলম তোয়॥
দুই এক পলকে মিলব বরনারী।
যদুনন্দন তব যাঙ বলিহারি॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এত শুনি দোতি চলল ধনি পাশ
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ৪র্থ পল্লব, শ্রীরাধাকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ৮৮-পদসংখ্যা।

॥ তথা॥

এত শুনি দোতি চলল ধনি পাশ।
যৈছনে নাহক পূরয়ে আশ॥
বচনক ভাতি আপন হিয়ে সাঁচি।
মিললি মুগধি সঞে গুরুজনে বাঁচি॥
হেরি সুধামুখি হরিন-নয়ানী।
পুছইতে না পুছয়ে তা সঞে বাণী॥
কহ যদুনন্দন কর অবধান।
তোহারি নিয়ড়ে মুঝে ভেজল কান॥

টীকা -
৩ - ৪। “বচনক ভাতি” ইত্যাদি। (শ্রীরাধার নিকটে যাইয়া য়ে ভাবে কথা পাড়িতে হইবে)
কথার প্রণালী নিজের হৃদয়ে সঞ্চিত করিয়া অর্থাৎ যুটাইয়া লইয়া. (দূতী) স্রীরাধার শাশুড়ী,
ননদ প্রভৃতি গুরুজনদিগকে বঞ্চনা করিয়া অর্থাৎ তাহাদিগের দৃষ্টিপথ এড়াইয়া
মুগ্ধা নায়িকা শ্রীরাধার সহিত মিলিত হইল।

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

এত শুনি দোতী চলিল ধনী পাশ।
যৈছনে নাহক পূরয়ে আশ॥
বচনক ভাতি আপন হিয়ে সাঁচি।
মিললি মুগধি সঞে গুরুজনে বাঁচি॥
হেরি সুধামুখী হরিণী নয়ানী।
পুছইতে না পুছয়ে তা সঞে বাণী॥
কহ যদুনন্দন কর অবধান।
তোহারি নিয়ড়ে মুঝে ভেজল কান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের আপ্ত দূতী
॥ ভূপালী॥

এত শুনি দোতি চলল ধনি পাশ।
যৈছনে নাহক পূরয়ে আশ॥
বচনক ভাতি আপন হিয়ে সাঁচি।
মিললি মুগধি-সঞে গুরুজনে বাঁচি॥
হেরি সুধামুখি হরিণ-নয়ানী।
পুছইতে না পুছয়ে তা সঞে বাণী॥
কহ যদুনন্দন কর অবধান।
তোহারি নিয়ড়ে মুঝে ভেজল কান॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
খণে হাসয়ে খণে রোয়
ক্ষণে হাসয়ে ক্ষণে রোয়
খেনে হাসয়ে খেনে রোয়
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমত্যহ।
॥ শ্রীরাগ॥

খণে হাসয়ে খণে রোয়। দিশি দিশি হেরই তোয়॥
খেণে আকুল খেনে থির। খেনে ধায়ই খেণে গির॥
খেণে খেণে হরি হরি বোল। সহচরী ধরি করু কোল॥
ঐছন হেরি অগেয়ান। সবহু দগধ করু প্রাণ॥
গুরুজন ভয়ে সখী মেলি। মন্দির মাঝহি নেল॥
তাহি সোয়াথ নাহি পায়। যদুনন্দন মুখ চায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫),
১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ১৭৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

খেনে হাসয়ে খেনে রোয়।
দিশি দিশি হেরই তোয়॥
খেনে আকুল খেনে থীর।
খেনে ধাবই খেনে গীর॥
খেনে খেনে হরি হরি বোল।
সহচরি ধরি করু কোর॥
ঐছন হেরি অগেয়ান।
সবহুঁ দগধ করু প্রাণ॥
গুরুজন-ভয়ে সখি মেল।
মন্দির মাঝহিঁ নেল॥
তাহি সোয়াথ নাহি পায়।
যদুনন্দন মুখ চায়॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনি॥

খেনে হাসই খেনে রোয়। দিশি দিশি হেরই তোয়॥
খেনে আকুল খেনে থির। খেনে ধাবই খেনে গীর॥
খেনে খেনে হরি হরি বোল। সহচরী ধরি করু কোর॥
ঐছন হেরি অগেআন। সবহু দগধ করু প্রাণ॥
গুরুজনভয়ে সখী মেল। মন্দির মাঝহি লেল॥
তাহি সোআথ নাহি পায়। যদুনন্দন মুখ চায়॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

ক্ষণে হাসয়ে ক্ষণে রোয়।
দিশি দিশি হেরই তোয়॥
ক্ষণে আকুল ক্ষণে থীর।
ক্ষণে ধাবই ক্ষণে গির॥
ক্ষণে ক্ষণে হরি হরি বোল।
সহচরী ধরি করু কোল॥
ঐছন হেরি অগেয়ান।
সবহুঁ দগধ করু প্রাণ॥
গুরুজন ভয়ে সখী মেল।
মন্দির মাঝহি নেল॥
তাহি সোয়াথ নাহি পায়।
যদুনন্দন মুখ চায়॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমতীর উন্মাদ দশা।
॥ সুহই॥

ক্ষণে হাসয়ে রোয়।
দিশি হেরই তোয়॥
ক্ষণে আকুল ক্ষণে থির।
ক্ষণে ধাবই ক্ষণে গির॥
ক্ষণে ক্ষণে হরি হরি বোল।
সহচরী ধরি করু কোল॥
ঐছন হেরি অগেয়ান।
সবহুঁ দগধ করু প্রাণ॥
গুরু জন ভয়ে সখী মেল।
মন্দির মাঝহি নেল॥
তাহি সোয়াথ নাহি পায়।
যদুনন্দন মুখ চায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

খেনে হাসয়ে খেনে রোয়।
দিশি দিশি হেরই তোয়॥
খেনে আকুল খেনে ধীর।
খেনে ধাবই খেনে গীর॥
খেনে খেনে হরি হরি বোল।
সহচরি ধরি করু কোর॥
ঐছন হেরি আগেয়ান।
সবহুঁ দগধ করু প্রাণ॥
তাহি সোয়াথ নাহি পায়।
যদুনন্দন মুখ চায়॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখি কাহে কহ বিপরীত
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড,
১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৮২-পদসংখ্যা।

॥ সুহিনী॥

সখি কাহে কহ বিপরীত।
হাম নহ চপল-চরীত॥
জগতে বিদিত মঝু নাম।
মদন-পরাজয়ি শ্যাম॥
কৈছন রাধা নাম।
কভু নাহি শুনি গুণগাম॥
পরনারি নয়নে না হেরি।
ঐছন না বোলহ ফেরি॥
না করহ ও পরসঙ্গ।
শুনইতে দগধয়ে অঙ্গ॥
পুন যদি কহ অনুচিত।
ব্রজমাহা করব বিদিত॥
এত কহি পদ দুই যাই।
বটু পরবোধল তাই॥
যদুনন্দন দাসক দাস।
শুনইতে ভেল নৈরাশ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখি কাহে কহ বিপরিতি। হাম নহ চপলচরিতি॥
জগতে বিদিত মঝু নাম। মদন পরাজই শ্যাম॥
কৈছন রাধানাম। কভু নাহি সুনি গুণগান॥
পরনারী নয়ানে না হেরি। ঐছন না বোলবি ফেরি॥
না করহ ও পরসঙ্গ। সুনইতে দগধয়ে অঙ্গ॥
পুন যদি কহ অনুচিত। ব্রজমাহা করব বিদিত॥
এত কহি পদ দুই জাই। বটু পরবোধলী তাই॥
যদুনন্দন দাসক দাস। শুনইতে ভেল নৈরাশ॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী কাহে কহ বিপরীত। হাম নহ চপল চরিত॥
জগতে বিদিত মঝু নাম। মদন পরাজয়ি শ্যাম॥
কৈছন রাধা নাম। কভু নাহি শুনি গুণগাম॥
পরনারী নয়নে না হেরি। ঐছন না বোলহ ফেরি॥
না করহ ও পরসঙ্গ। শুনইতে দগধ যেন অঙ্গ॥
পুন যদি কহ অনুচিত। ব্রজমাহা করব বিদিত॥
এত কহি পদ দুই যাই। বটু পরবোধল তাই॥
যদুনন্দন দাসক দাস। শুনইতে ভেল নৈরাশ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

সখি কাহে কহ বিপরীত।
হাম নহ চপল-চরিত॥
জগতে বিদিত মঝু নাম।
মদন-পরাজয়ী শ্যাম॥
কৈছন রাধা নাম।
কভু নাহি শুনি গুণগাম॥
পরনারী নয়নে না হেরি।
ঐছন না বোলহ ফেরি॥
না করহ ও পরসঙ্গ।
শুনইতে দগধয়ে অঙ্গ॥
পুন যদি কহ অনুচিত।
ব্রজমাহা করব বিদিত॥
এত কহি পদ দুই যাই।
বটু পরবোধল তাই॥
যদুনন্দন দাসক দাস।
শুনইতে ভেল নৈরাশ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”
সংকলনের ৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখি কাহে কহ বিপরীত।
হাম নহ চপল-চরিত॥
জগতে বিদিত মঝু নাম।
মদন পরাজয়ী শ্যাম॥
কৈছন রাধা নাম।
কভু নাহি শুনি গুণগাম॥
পরনারী নয়নে না হেরি।
ঐছন না বোলহ ফেরি॥
না করহ ও পরসঙ্গ।
শুনইতে দগধয়ে অঙ্গ॥
পুন যদি কহ অনুচিত।
ব্রজমাহা করব বিদিত॥
এত কহি পদ দুই যাই।
বটু পরবোধল তাই॥
যদুনন্দন দাসক দাস।
শুনইতে ভেল নৈরাশ॥

ব্যাখ্যা -
রাধার সহচরী এসেছেন কৃষ্ণের কাছে। জানিয়েছেন রাধার মনোবেদনার কথা। তরুণ
নায়কের মাথায় কী দুর্মতি ভর করল কে জানে তিনি পরুষ বাক্যে ফিরিয়ে দিলেন রাধার
সখীকে। বললেন---সখি, এ সব কথা তোমার আমাকে বলা উচিত নয়। আমি চপল-চরিত্র
ব্যক্তি নই। আর কে বা রাধা, তার নাম কিংবা গুণগ্রাম কিছুই আমার জানা নেই।
ও প্রসঙ্গ তুমি আমার কাছে উত্থাপন কোরো না। গা জ্বলে যায় এ-সব অনুচিত কথা শুনলে
। তুমি যদি পুনরায় এ-সব কথা বলো তাহলে ব্রজবাসী সমাজে এ-কথা আমি রাষ্ট্র করে দেব
। শুনে নিরাশ চিত্তে সখী ফিরে গেলেন।
---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”॥

.        *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর