| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রাইক ঐছে দশা হেরি এক সখি ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানশী॥ রাইক ঐছে দশা হেরি এক সখী তুরিতহি করল পয়ান। নিরজনে নিজসখী- সঞে যাঁহা মাধব যাই মিলল সোই ঠাম॥ শুন মাধব! অব হাম কি কহব তোয়। সো বৃষভানু- কুমারী বরসুন্দরী অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥ তুয়া অনুরূপ এক পট লিখি পুন দেয়ল তাকর আগে। সো রূপ হেরি মুরুছি পড়ু ভূতলে মানই করম অভাগে॥ অম্বরে নবজল- ধর হেরি সো ধনী কাতরে করু পরলাপ। নীলাম্বর অব সহই না পারই অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥ ঐছে দশা হেরি সকল সখীগণ রোয়ত যামিনী জাগি। কহ যদুনন্দন শুন নন্দনন্দন মিলহ সব জন ভাগি॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ২য় পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ, ৩৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানশী॥ রাইক ঐছে দশা হেরি এক সখি তুরিতহি করল পয়ান। নিরজনে নিজগণ সঞে যাঁহা মাধব যাই মিলল সোই ঠাম॥ শুন মাধব অব হাম কি বোলব তোয়। সো বৃষভানু- কুমারি বর সুন্দরি অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥ তুয়া অনুরূপ এক পট লেখিয়া দেয়ল তাকর আগে। সো রূপ হেরি মুরছি পড়ু ভূতলে মানয়ে করম অভাগে॥ অম্বরে নব-জল- ধর হেরি সো ধনি কাতরে করু পরলাপ। নীলাম্বর অব সহই না পারই অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥ ঐছে দশা হেরি সকল সখীগণ রোয়ত যামিনি জাগি। কহে যদুনন্দন শুন নন্দনন্দন মীলহ সব জন ভাগি॥ টীকা - “মানয়ে” ইত্যাদি। মর্ম্মের অর্থাৎ অদৃষ্টের দুর্ভাগ্য কলিয়া মনে করে। “মীলহ” ইত্যাদি। সকলের ভাগ্য মিলাও অর্থাৎ তুমি শ্রীরাধার কুঞ্জে উপনীত হইয়া তাঁহার সখীগণকে সৌভাগ্যযুক্ত কর। এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানসী॥ রাইক ঐছে দশা হেরি এক সখি তুরিতঁহি করল পয়ান। নিরজনে নিজসখী সঞে জাঁহা মাধব জাই মিলল সোই ঠাম॥ সুন মাধব অব হাম কি বলিব তোয়। সো বৃষভানুকুমারি বরসুন্দরি অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥ তুয়া অনুরূপ এক পটে লেখই দেয়ত তাকর আগে। সো রূপ হেরি মুরছি পড়ু ভূতলে মানহি করম অভাগে॥ অম্বরে নব জলধর হেরি সো ধনি কাতরে করু পরলাপ। নীলাম্বর অবশ হই না পারই অরুণাম্বরে তনু ঝাপ॥ ঐছে দশা হেরি সকল সখীগণ রোয়ত যামিনী জাগি। কহ যদুনন্দন সুনন্দনন্দন মিলহ সবজন ভাগী॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানসী - দশকুশী॥ রাইক ঐছে দশা হেরি, এক সখী তুরিতহি করল পয়াণ। নিরজনে নিজ সখী সঞে, জহা মাধব, যাই মিলল সেই ঠাম॥ শুন মাধব, অবহাম কি কহব তোয়। সো বৃষভানু কুমারীবর সুন্দরী অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥ তুয়া অনুরূপ, এক পটে লিখিয়া, দেয়ল তাকর আগে। সো রূপ হেরি, মুরছি পড়ু ভূতলে, মানল করম অভাগে॥ অম্বরে নবজলধর, হেরি সো ধ্বনি, কাতর করু পরলাপ। নীলাম্বর অবশ হই না পারই, অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥ ঐছে দশা হেরি, সকল সখীগণ, রোয়ত যামিনী জাগি। কহে যদুনন্দন, শুন নন্দনন্দন, মিলহ সবজন ভাগি॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানশী॥ রাইক ঐছে দশা, দেখি এক সখী, তুরিতহি করল পয়াণ। নিরজনে নিজগণ, সঞে যাঁহা মাধব, যাই মিলিল সেই ঠাম॥ শুন মাধব, আর হাম কি বোলব তোয়। সো বৃষভানু কুমারী বর সুন্দরী, অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥ তুয়া অনুরূপ, এক পটে লিখিয়া, দেয়ল তাকর আগে। সোরূপ হেরি, মুরছি পড়ু ভূতলে, মানয়ে করম অভাগে॥ আকাশে নব জল-ধর হেরি সো ধনী, কাতরে করু পরলাপ। নীলাম্বর অব, সহই না পারই, অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥ ঐছে দশা হেরি, সকল সখীগণ, রোয়ত যামিনী জাগি। কহে যদুনন্দন, শুন নন্দনন্দন, মিলাহ সব জন ভাগি॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ রাইক ঐছে, দশা হেরি এক সখী, তুরিতহি করল পয়ান। নিরজনে নিজ সখি সঞে যাঁহা মাধব, যাই মিলিল সোই ঠাম॥ শুন মাধব আর হাম কি বোলব তোয়। সো বৃষভানু কুমারী বর সুন্দরী, অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥ ধ্রু॥ তুয়া অনুরূপ, এক পট লেখিয়া, দেয়ল তাকর আগে। সো রূপ হেরি, মুরছি পড়ু ভূতলে, মানই করম অভাগে॥ অম্বরে নব জলধর, হেরি সো ধনি, কাতরে করু পরলাপ। নীলাম্বর অব, সহই না পারই, অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥ ঐছে দশা হেরি, সকল সখীগণ, রোয়ত যামিনী জাগি। কহ যদুনন্দন, শুন নন্দনন্দন, মিলহ সবজন ভাগী॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ চঞ্চুপুট তাল॥ রাইক ঐছে, দশা হেরি একসখী, তুরিতহি করল পয়ান। নিরজনে নিজগণ, সঙ্গে যাঁহা মাধব, যাই মিলল সোই ঠাম॥ শুন মাধব আর হাম কি বোলিব তোয়। সো বৃষভানু কুমারী বর সুন্দরী, অহর্নিশি তুয়া লাগি রোয়॥ তুয়া অনুরূপ, এক পটে লিখিয়া, দেয়লু তাকর আগে। সে রূপ হেরি, মূরছি পড়ু ভূতলে, মানয়ে করম অভাগে॥ অম্বরে নব জল-ধর হেরি সো ধনি, কাতরে কর পরলাপ। নীলাম্বর অব, সহই না পারই, অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥ ঐছে দশা হেরি, সকল সখীগণ, রোয়ত যামিনী জাগি। কহে যদুনন্দন, শুন নন্দনন্দন, মিলহ সবজন ভাগী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বালা ধানশী॥ রাইক ঐছে দশা হেরি এক সখী তুরিতহি করল পয়ান। নিরজনে নিজগণ সঞে যাহা মাধব যাই মিলল সোই ঠাম॥ (শুন মাধব) অব হাম কি বোলব তোয়। সো বৃষভানু কুমারি বর সুন্দরী অহনিশি তুয়া লাগি রোয়॥ তুয়া অনুরূপ পট এক লেখি আনি দেয়ল তাকর আগে। সো রূপ হেরি মুরছি পড়ু ভূতলে মানয়ে করম অভাগে॥ নবজলধর হেরি অম্বরে সো ধনী কাতরে করু পরলাপ। নীলাম্বর অব সহই না পারই অরুণাম্বরে তনু ঝাঁপ॥ ঐছে দশা হেরি সকল সখীগণ রোয়ত যামিনি জাগি। কহে যদুনন্দন শুন নন্দনন্দন মীলহ সব জন ভাগি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হামারি বচন শুন রাই ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৩য় পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্বরাগ, ৬৫-পদসংখ্যা। সখীর উক্তি ॥ পঠমঞ্জরী॥ হামারি বচন শুন রাই। দূরহিঁ তাক পরশ বিনে অব তুহুঁ মন্দিরে ভয় অবগাই॥ বিদগধ রসিক- শিরোমণি নাগর দরশে বুঝবি ব্যবহার। ঐছন সংশয় আর তুহুঁ না করবি শুভক্ষণে কর অভিসার॥ ঐছন বচন শুনিয়া বর মুগধিনি নিজ প্রিয় সহচরি মেলি। বেশ বনাই কত যে মনে সংশয় কালিন্দি-তীরহিঁ গেলি॥ অপরুপ কুঞ্জ- কুটিরে নব নাগর পথ হেরি আকুল পরাণ। সকল সখী পরবোধি মিলায়ল যদুনন্দন রস গান॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ হামারি বচন শুন রাই। দূরহি তাক পরশ বিনে অব তুহু মন্দিরে ভয় অবগাই॥ বিদগদ রসিক শিরোমণি নাগর দরশে বুঝবি ব্যবহার। ঐছন সংশয় বার তাহে না করবি শুভক্ষণে কর অভিসার॥ ঐছন বচন শুনিয়া বর মুগধিনি নিজ প্রিয় সহচরী মেলি। বেশ বনাই কত এ মনে সংশয় কালিন্দীতীরহি গেলি॥ অপরূপ কুঞ্জ কুটিরে নবনাগর পথ হেরি আকুল পরাণ। সবহু সখী পরবোধি মিলায়ল যদুনন্দন রস গান॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ হামারি বচন শুন রাই। দূরহি তাক পরশ বিনে, অব তুহুঁ মন্দিরে ভয় অবগাই॥ বিদগধ রসিক-শিরোমণি নাগর দরশে বুঝবি ব্যবহার। ঐছন সংশয় আর তুহুঁ না করবি, শুভক্ষণে কর অভিসার॥ ঐছন বচন শুনিয়া বর মুগধিনি, নিজ প্রিয় সহচরী মেলি। বেশ বনাই কত যে মনে সংশয়, কালিন্দী-তীরহি গেলি॥ অপরুপ কুঞ্জ-কুটিরে নব নাগর পথ হেরি আকুল পরাণ। সকল সখী পরবোধি, মিলায়ল যদুনন্দন রস গান॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ হামারি বচন শুন রাই। দূরহিঁ তাক, পরশ বিনে অব তুহুঁ, মন্দিরে ভয় অবগাই॥ বিদগধ রসিক, শিরোমণি নাগর, দরশে বুঝিবি ব্যবহার। ঐছন সংশয়, আর তুহুঁ না করবি, শুভক্ষণে কর অভিসার॥ ঐছন বচন, শুনিয়া বর মুগধিনী, নিজ প্রিয় সহচরী মেলি। বেশ বনাই কত, যে মনে সংশয়, কালিন্দী তীরহিঁ গেলি॥ অপরুপ কুঞ্জ, কুটীরে নব নাগর, পথ হেরি আকুল পরাণ। সকল সখী, পরবোধি মিলায়ল, যদুনন্দন রস গান॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ হামারি বচন শুন রাই। দূরহিঁ তাক পরশ বিনে অব তুহুঁ মন্দিরে ভয় অবগাই॥ বিদগধ রসিক শিরোমণি নাগর দরশে বুঝবি ব্যবহার। ঐছন সংশয় আর তুহুঁ না করবি শুভক্ষণে কর অভিসার॥ ঐছন বচন শুনিয়া ধনী মুগধিনি নিজ প্রিয় সহচরি মেলি। বেশ বনাই কত যে মনে সংশয় কালিন্দি তীরহিঁ গেলি॥ অপরূপ কুঞ্জ- কুটিরে নব নাগর পথ হেরি আকুল পরাণ। সকল সখী পর- বোধি মিলায়ল যদুনন্দন রস-গান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |