কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
হাসিতে হাসয়ে কত চাঁদকলা অবিরত
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৮৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ দর্শনে।
॥ তোড়ী বরাড়ী॥

হাসিতে হাসয়ে কত        চাঁদকলা অবিরত        দশন মুকুতা কুন্দফুলে।
নাচিতে চরণতলে        অরুণ কমল পড়ে        কত চাঁদ নাচে নখছলে॥
কি পেখলু গোরা নটবরে।
প্রতিবিম্ব প্রতিগায়ে        সৌদামিনী ঝলকয়ে        হেম মণি দীপ যেন জ্বলে॥ ধ্রু॥
কার ভাবে কান্দে জানি                নয়ানে গলয়ে পানি        যেন মন্দাকিনী বহি যায়।
পুলকে পূরল তনু        কনয়া কদম্ব জনু        স্বেদ মকরন্দ বহে তায়॥
দাস গদাধর হেরি        কাঁপে থরহরি                হেমরম্ভা যেন রহু বায়॥
প্রেমসিন্ধু মাঝে রহি        প্রেমে ভাসায়ল মহী        সবে যদুনন্দন এড়ায়॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিরবধি নয়নে স জল নাহি তেজ
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

অথ জড়িমায়াং।
॥ বালা ধানশী॥

নিরবধি নয়নে স জল নাহি তেজ। ভাবভরে অবনি সাধ করু সেজ॥
হেরইতে গৌরকিশোর। চমক লাগল হিয় অন্তরে মোর॥
পুলকিত তনু থরহরি কম্প। কিশোর-কেশরী জনু রহি রহি ঝম্প॥
ক্ষণে রহু জন কনকাচল থির। আকুল চিকুর না সম্বরে চীর॥
গোরা প্রেমে অখিল ভুবনজন ভাস। বঞ্চিত সবে যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখা কাহে কহ বিপরীত
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৪৬-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণঃ দূতীং প্রত্যহ।
॥ গুজ্জরী॥

সখা কাহে কহ বিপরীত। হাম নহ চপল চরিত॥
জগতে বিদিত মঝু নাম। মদন পরাজই শ্যাম॥
কৈছন রাধা নাম। কবহি না শুনি গুণগ্রাম॥
পরনারী নয়নে না হেরি। ঐছন না বোলহ ফেরি॥
না করহ ও পরসঙ্গ। শুনইতে দগধয়ে অঙ্গ॥
পুন যদি কহ অনুচিত। ব্রজমাহা করব বিদিত॥
এত কহি পদ দুই যাই। বটু পরবোধল তাই॥
কহ যদুনন্দন দাস। শুনইতে ভেল নৈরাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুবলে নাগরে কহিছে কথা
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”,
১২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

সুবলে নাগরে কহিছে কথা।
বিশাখা সুন্দরী আইল তথা॥
কি কথা কহিছ সুবল সনে।
কহিতে কহিতে কান্দিছ কেনে॥
কি কথা কহিছ নাগর রাজ।
আমাদের কহনা মনের কাজ॥
মনের মরম কহিবা যবে।
বেদনা বাঁটিয়া লইব তবে॥
শুণি দূতি মুখে ধরয়ে পাণি।
এ যদু নন্দন কহয়ে জানি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুবলে নাগরে কহিছে কথা। বিশাখা সুন্দরী আইল তথা॥
কি কথা কহিছ সুবল সনে। কহিতে কহিতে কান্দিচ কেনে॥
কি কথা কহিচ নাগররাজ। আমারে কহ না মনের কাজ॥
মনের মরম কহিবে জবে। বেদনা বাটিয়া লইব তবে॥
শুণি দূতীমুখে হরসপ্রাণ। এ যদুনন্দন কহিছে জান॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন সুখ যামিনী ইহ কুল কামিনী
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”,
২৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগ॥

শুন সুখ যামিনী,                           ইহ কুল কামিনী
দুঃখিনী করিয়া কোথা যাও।
চাহ ফিরে রাখ কথা                  দিওনা মরমে ব্যাথা
অবলা নারীর মাথা খাও॥
কান্দায়েছ নিজপতি                     জগত যুবতি সতি
দয়া নাহি উপজিল মনে।
বিরহিনী দিবে শাপ,                   সদাই ভুঞ্জিবে তাপ
তার সাক্ষী দেখহ অরুণে॥
অরুণে করেছ ভয়                        ইহাত উচিত নয়
জগত ব্যাপিত তুয়া দেহ।
আমরা সঙ্গিনী হই                        সমর করিব জয়ী
এহ নিজ চিত ধরি থেহ॥
যদি কর পলায়ন                        হাসিবে জগত জন
লাজে মুখ দেখাবে কেমনে।
এ যদু নন্দনে বলে                        থাক থাক যামিনী
রাখ রাখ কামিনীগণে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উঠিয়া সে বিনোদিনী হেরি শেষ রজনী
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৪৩-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত বিভাস॥

উঠিয়া সে বিনোদিনী                        হেরি শেষ রজনী
চমকিয়া চারি পাশ চায়।
প্রভাত জানিয়া ধনী                        মনেতে সঙ্কেত মানি
পদ চাপি১ বঁধুরে জাগায়॥
উঠহে নাগর বর                                আলিস পরিহর
ঘুমে না হইও অচেতন।
দারুণ গোকুলের লোকে                    হেন বেলা যদি দেখে
কি বলিয়া বলিবে বচন॥
বাপ শ্বশুর কুল                                দুই উচ্চ সমতুল,
তাহে আমি কুলের কামিনী।
এই মনে হয় ভয়                        পাছে কুলে কালি রয়
লোকে পাছে বলে কলঙ্কিণী॥
তোমারে বলিব কি                        সাধে কি বিদায় দিই
সকল গোচর তুয়া পায়।
এ যদুনন্দন বলে                          দুহুঁ ভাসে প্রেমজলে
দুঃখে হিয়া বিদরিয়া যায়॥

১ - পদ চাপি - পা টিপিয়া।

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উঠিয়া সে বিনোদিনী, হেরি শেষ রজনী,
চমকিয়া চারি পাশ চায়।
প্রভাত জানিয়া ধনি, মনে সশঙ্কিত মানি,
পদচাপি বঁধুরে জাগায়॥
উঠহে নাগর বর, আলিস পরিহর,
ঘুমে না হইও অচেতন।
বিষম গোকুলের লোকে, হেন বেলে যদি দেখে,
কি বলিয়া বলিব বচন॥
বাপ-শ্বশুর কুলে, উচ্চ দুই সমতুলে-
তাহে বোলাই কুলের কামিনী।
এই মনে করি ভয়, পাছে কুলে কালি রয়,
লোকে পাছে বলে কলঙ্কিণী॥
এইত গোকুলের লোকে, কত কথা বলে মোকে,
ননদিনী পরমাদ করে।
যদি দেখে তুয়া সঙ্গে, হইবে কেমন রঙ্গে,
তবে কি রহিতে দিবে ঘরে॥
আমি আর বলিব কি, না পারিয়া বিদায় নি,
সকলি গোচর রাঙ্গা পায়।
এ যদুনন্দন বলে, দুহুঁ ভাসে প্রেম জলে,
লোরে দুহুঁ দেখিতে না পায়॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিদ্রালীলা
॥ ললিতকৌবিভাস - দুঠুকী॥

উঠিয়া বিনোদিনী,                             হেরি শেষ রজনী,
চমকিত চারি পানে চায়।
প্রভাত জানিয়া ধনি,                        মনে সশঙ্কিত মানি,
পদ চাপি বন্ধুরে জাগায়॥
উঠ হে নাগরবর,                              আলিস পরিহর,
ঘুমে না হইও অচেতন।
বিষম-গোকুলের লোকে,                  হেন বেলে যদি দেখে,
কি বলিয়া বলিব বচন॥
বাপ-শ্বশুরকুল,                                উচ্চ দুই সমতুল,
তাহে বোলাই কুলের কামিনী।
হেন মনে করি ভয়,                       পাছে কুলে কালি রয়,
লোকে পাছে বলে কলঙ্কিণী॥
এইত গোকুলের লোকে                   কত কথা বলে মোকে
ননদিনী পরমাদ করে।
যদি দেখে তুয়া সঙ্গে                        হইবে কেমন রঙ্গে,
তবে কি রহিতে দিবে ঘরে॥
আমি আর বলিব কি,                   না পারিয়া বিদায় নি,
সকলি গোচর রাঙ্গা পায়।
এ যদুনন্দন বলে,                           দুহুঁভাসে প্রেমজলে
লোরে দুহুঁ দেখিতে না পায়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ললিত বিভাষ - তাল দোঠুকি॥

উঠিয়া সে বিনোদিনী, হেরি শেষ রজনী, চমকিত চারিদিকে চায়।
প্রভাত জানিয়া ধনী, মনে সশঙ্কিত মানি, পদ চাপি বঁধুরে জাগায়॥
উঠহে নাগর বর, আলিস পরিহর, ঘুমে না হইও অচেতন।
বিষম গোকুলের লোকে, হেন বেলে যদি দেখে, কি বলিয়া বলিব বচন॥
বাপ শ্বশুর কুল, উচ্চ দুই সমতুল, তাহে বোলাই কুলের কামিনী।
হেন মনে করি ভয়, পাছে কুলে কালি রয়, লোকে পাছে বলে কলঙ্কিণী॥
এইত গোকুলের লোকে, কত কথা বোলে মোকে, ননদিনী পরমাদ করে।
যদি দেখে তুয়া সঙ্গে, হইবে কেমন রঙ্গে, তবে কি রহিতে দিবে ঘরে॥
আমি আর বলিব কি, না পারিয়া বিদায় নি, সকলই গোচর তুয়া পায়।
এ যদু নন্দন বোলে, দুহুঁ ভাসে প্রেমজলে, লোরে দুহুঁ দেখিতে না পায়॥

ভাবার্থ -
পাখী কুলের কলরব শুনিয়া প্রভাত জানিয়া বিনোদিনী পায়ে হাত দিয়া নাগরকে জাগাইয়া বলিতেছেন, শীঘ্র
উঠ, এখানে আর থাকিবার সময় নাই। কারণ, সকল লোক জাগিয়াছে, এখানে যদি কেউ আমাকে তোমার
সঙ্গে দেখিতে পায় তবে ননদিনী আর ঘরে থাকিতে দিবে না। বাপের কুল, শ্বশুরের কুল, দুই
সম্মানিত কুলে যেন কলঙ্ক না হয় এই নিবেদন।
---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঘরে গিয়ে যশোমতী অতি ব্যস্ত হয়ে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”,
২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

ঘরে গিয়ে যশোমতী অতি ব্যস্ত হয়ে।
রাধারে করিল কোলে কৃষ্ণকে ছাড়িয়ে॥
ক্ষীর সর নবনী নানাবিধ আনি।
যতনে রাধার করে দেয় নন্দরাণী॥
খাও খাও বলে দ্রব্য দেয শ্রীরাধায়।
রাধা ভাবে এ আবার ঘটিল কি দায়॥
কৃষ্ণের প্রসাদ নহে এই নবনীত।
আহার করিতে আগে না হয় উচিত॥
রাধার জানিয়া মন শ্রীহরি তখন।
পাতিল বিচিত্র মায়া অপূর্ব্ব কথন॥
মায়ের কোলেতে দেখি অন্যের সন্তান।
রোদন করিয়া কৃষ্ণ ভূমে গড়ি যান॥
তাহা দেখি নন্দরাণী আসিয়া ত্বরায়।
দক্ষিণ কোলেতে নিল আপন তনয়॥
বামকক্ষে রাধা শোভে দক্ষিণে শ্রীহরি।
যশোদার কোলে আজ যুগল মাধুরী॥
বুঝিল ভাবের গতি যশোদা নন্দন।
রাধা করে নবনী ক্ষীর করে দরশন॥
ক্রোধ ভরে থাবা দিয়া কাড়িয়া লইল।
আপনার বদনেতে দুটি হাত দিল॥
কি কর কি কর কৃষ্ণ বলে নন্দরাণী।
কাড়িয়া খাইলা কেন রাধার নবনী॥
কিছু খাও কিছু দাও রাধারে আমার।
তোমারে নবনী আনি দিব রে আবার॥
মায়ের বচনে কৃষ্ণ ঈষৎ হাসিয়া।
মুখ হতে দিল কিছু বাহির করিয়া॥
আপনি রাধার করে দিল নারায়ণ।
হাত পাতি রাধারাণী লইয়া তখন॥
কৃষ্ণের প্রসাদ দ্রব্য আনন্দিত মনে।
হেট মুখে কললিনী দিলেন বদনে॥
যশোদার কোলে রাধা কৃষ্ণের ভোজন।
দেখিতে বাসনা করে এ যদুনন্দন॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নাচত ঘন নন্দলাল রসবতী করি সঙ্গে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪১৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

নাচত ঘন, নন্দলাল, রসবতী করি সঙ্গে।
রবাব খমক পীনাক বীণা, বাজত কত রঙ্গে॥
কোই গায়ত, কোই বায়ত, কোই ধরত তান।
সখীগণ মেলি নাচিছে গাইছে মোহিত নন্দলাল॥
শুক নাচিছে শারী নাচিছে বসিয়া তরুর ডালে।
কপোত কপোতী দুহুঁ জন মেলি ধরিছে কতেক তানে॥
কুরঙ্গ নাচিছে ময়ূর নাচিছে নাচিছে কোকিল পাখী।
বায়স নাচিছে ক্রোঞ্চ নাচিছে নাচিছে কপোত হেরি।
তরুলতা যত আনন্দে নাচিছে ফল ফুল সারি সারি॥
ফুলের উপর ভ্রমরা নাচিছে ভ্রমরী নাচিছে রঙ্গে।
মধুকর যত নাচে শত শত, মধু পিয়ে তার সঙ্গে॥
ব্রহ্মা নাচিছে সাবিত্রী সহিতে পুলকে পূরিত অঙ্গে।
বৃষের উপর মহেশ নাচিছে পার্ব্বতী করি সঙ্গে॥
মিহির নাচিছে স্বপত্নী সহিতে রোহিণী সহিত চাঁদে।
যত দেবগণ আনন্দে নাচিছে হিয়া থির নাহি বাঁধে॥
সুরাসুরগণ আনন্দে নাচিছে পাতালে নাগের সনে।
কূর্ম্ম সহিতে অনন্ত নাচিছে অতি আনন্দিত মনে॥
সুমেরু সহিতে পৃথিবী নাচিছে বলিয়ে ভালিরে ভালি।
গোবর্দ্ধন গিরি আনন্দে নাচিছে যার তটে রাস কেলি॥
যমুনা নাচিছে তরঙ্গের ছলে নাচিছে মকর মীনে।
এ যদুনন্দন হেরিয়া বিভোর যুগল উজ্জ্বল গানে॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেহাগ - জপতাল॥

নাচত ঘন নন্দলাল রসবতী করি সঙ্গে।
রবাব খমক পিণাক বীণা বাজত কত রঙ্গে॥
কোই গায়ত কোই নাচত কোই ধরত তাল।
সখিগণ মেলি নাচিছে গাইছে মোহিত নন্দ লাল॥
শুক নাচিছে সারি নাচিছে বসিয়া তরুর ডালে।
কপোত কপোতী নাচিছে গাইছে নব নব ঘন তালে॥
ব্রহ্মা নাচিছে সাবিত্রী সহিতে পুলকে পুরিত অঙ্গ।
বৃষভ উপরে মহেশ নাচিছে পার্ব্বতী করি সঙ্গ॥
কূর্ম্ম সহিতে পৃথিবী নাচিছে বলিছে ভালিরে ভালি।
গোবর্দ্ধন গিরি আনন্দে নাচিছে যার তটে রাস কেলি॥
যমুনা নাচিছে তরঙ্গের ছলে নাচিছে মকর মীনে।
এ যদুনন্দন হেরিয়ে মোহন যুগল উজ্জ্বল গানে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আবেশে সখীর গলে ধরি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

মিলন
॥ তাল দাশপাহিড়া - রাগিণী কেদার॥

আবেশে সখীর গলে ধরি। চললহি বৃন্দাবনে রসের আগোরী॥
পদ দুই চলি ধনী রাই। সখীরে পুছই ধনী কাঁহা মাধাই॥
চকিত নয়নে ঘন চায়। মাধবীর তরুর তলে দেখে শ্যাম রায়॥
পুলকে পূরিল সব দেহা। বিথার বেশভূষা নাহি মানে থেহা॥
ধাই চলিল বিনোদিনী। মধুর শবদ করে নূপুর কিঙ্কিণী॥
রাধা ধ্যানে নিমগন শ্যাম। নিঃশবদে ধনী যাই বৈঠল বাম॥
কণ্ঠ ধরি কহে মিঠি বোল। চমকি উঠিয়া শ্যাম ধনী করে কোল॥
সখীগণ ঘন করতালি। এ যদুনন্দন দূরে করে ভালি ভালি॥

ভাবার্থ -
রাই ধনী সখীর কণ্ঠ ধরিয়া বৃন্দাবনে প্রবেশ করিয়া দেখিতে পাইলেন যে, শ্যামনাগর ধ্যানমগ্ন যোগীর মত
মাধবীতলে বসিয়া আছেন। বিনোদিনী কোন শব্দ না করিয়া শ্যামের বামদিকে বসিয়া কণ্ঠ আবেষ্টন করিয়া
অতি মধুর স্বরে কথা কহিলেন। তাহাতে রাধা-ধ্যান-নিমগ্ন শ্রীকৃষ্ণ চমকিয়া উঠিয়া রাই ধনীকে বাহুদ্বারা
বেষ্টন করিলেন, তাই দেখিয়া সখীগণ করতালি দিয়া হাসিয়া উঠিলেন। পদকর্ত্তা দূরে দাঁড়াইয়া ই মিলন
দেখিতেছেন। ---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত লহরী”॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এমন মুরতি কেমন করি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এমন মুরতি কেমন করি। লিখিলি বিশাখা ধৈরয ধরি॥
সত্য বল বিশাখা আমার কাছে। এমন রূপের কি মানুষ আছে॥
চিত্রপট করে লয়ে রসবতী রাই। মিলিয়া দেখিল ধনি অনিমিখে চাই॥
দেখেন অপূর্ব্ব রূপ পটের উপর। জগতমোহন বেশ অতি মনোহর॥
চরণে চাহিয়ে দেখে সোণার নূপুর। নখচন্দ্র শোভা করে অতি সুমধুর॥
কটিতটে পীতবাস মেঘেতে বিজুরী। নিতম্বে কিঙ্কিণী কিবা আছে সারি সারি॥
দেখিয়া রাধার আঁখি ডুবিয়া রহিল। চিত্রপট পানে ধনি চাহিয়া রহিল॥
আপনা পাসরে রাধা দেখিয়া মাধুরী। এ যদুনন্দন কহে আকুল কিশোরী॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর