কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কি হেরিলাম কদম্ব-তলাতে
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি হেরিলাম কদম্ব-তলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর, পারণ কেমন করে, জীতে কিবা পারি পাসরিতে॥
ভালে সে চন্দন চাঁদ, কামিনীমোহন ফাঁদ, আন্ধারেতে করিয়াছি আলা।
কালা মেঘের উপরে, চাঁদ সদাই উদয় করে, নিশি দিশি শশী-ষোলকলা॥
কিশোর বয়স বেশ, তাহে কত রসলেশ, আর কত ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিল্লোলে, মোর পরাণ পুতুলি দোলে, দিতে চাহে যৌবন নিছনি॥
রসের পরাণ যার, সেকি দেখি জিয়ে আর, শুধুই সুধার তনুখানি।
যদুনন্দন দাস বলে, রূপ দেখি কে না ভুলে, জগতে আছয়ে হেন প্রাণী॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রীমতী করল অভিসারে
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

শ্রীমতী করল অভিসারে। শ্যামচাঁদ ভেটিবার তরে॥
নিকুঞ্জে চলিলা কমলিনী। সঙ্গে নব বরজ-রমণী॥
গজেন্দ্র গমনে ধনী যায়। সোণার নূপুর বাজে রাঙা পায়॥
নীল বসন মন হরে। রূপের ছটায় তিমির গেল দূরে॥
কুঞ্জে প্রবেশ করিলা যে ধনী। মুখ চেঞে চান্দ কলঙ্কিনী॥
শ্যাম নব কুঞ্জররাজে। কুঞ্জরী রাধিকা সুসাজে॥
রাই করে ধরি লেই হরি। আবেশে বসাইল ঊরুপরি॥
নয়নে নয়ন দুহু দিতে। মদন জাগিল আচম্বিতে॥
অধরে অধর রস পানে। জুজনে মাতিল রতি রণে॥
আর দোহার যে আছিল মনে। সে সব মাধুরী কেবা জানে॥
রতিশ্রমে কপাল ঘামিল। অলকা তিলক দূরে গেল॥
শ্রমজলে বসন ভিজিল। সেবাপরা সখীগণ এল॥
দুজনে বসিলা সিংহাসনে। কেহ করে চামর বীজনে॥
কেহ দেহ সুবাসিত জলে। কেহ দেই কর্পূর তাম্বুলে॥
কোন সখী করে পরিহাসে। এ যদুনন্দন তার পাশে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুই বাহু উভ করি দেখাল্যা কনয়া গিরি
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২১-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানসী॥

দুই বাহু উভ করি    দেখাল্যা কনয়া গিরি    মনোহস্তী তাহাতে বান্ধিল।
পুন নয়ানসন্ধানে    হানিলে আমার প্রাণে    শুধু তনু কেবল রহিল॥
দশন মুকুতাপাতি    জিনিয়া মানিখজ্যোতি    ভুরুযুগ মনমথ বাণ।
হাঁসিতে বিজুরী খেলে    নাসার বেসর দোলে    নিরখি মোহিত পাঁচবাণ॥
এতেক কহিতে শ্যাম    মুরছিত সেই ঠাম    সুবল ধাইয়া কৈল কোলে।
বয়ানে তেজিল ভাষা    শ্বাসহীন হইল নাসা    হৃদয়ে নয়নধারা দোলে॥
নীল মরকত কাঁতি    জিনি ইন্দ্রনীল ভাঁতি    ধূলায় লোটায় শ্যামতনু।
রাই রাই নাম নিতে    সম্বিৎ পাইল চিতে    মৃত সঞ্চারিএ জেন তনু॥
জেমতি জাহার ব্যথা    কি কহিব তার কথা    মদন কদনে প্রাণ দহে।
এ যদুনন্দনে কয়    হিয়া কি পাষাণ হয়    পাপ প্রাণ কি লাগিয়া রহে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন সুন অহে হরি বেশ করহ মোর
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৭৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ স্বাধীনভর্তৃকা॥

সুন সুন অহে হরি বেশ করহ মোর। সব বিঘটন একলা রহল চপল চরিত তোর॥
এ মোর শ্রবণে করহ রচনে নব কুবলয় জোড়। দলিত অঞ্জন নয়নে রঞ্জন করহ জতনে মোর॥
বিগলিত কেশ করহ সুবেশ চিরূনি লইয়া করে। সিন্দুরের রেহ তার মাঝে দেহ জৈছন না হয় টেরে॥
মৃগমদ চিত্র ভৈ গেল লুপুত কপোলে রচত মোর। তার বিন্দু দিয়া শ্রীবুক রচিয়া রচহ এ কুচজোড়॥
মল্লিমালা উড়ে রচহ সুন্দরে জঘনে কিঙ্কিণীদাম। অরুণ বসন আছিল জেমন রচহ তেমন ঠাম॥
আলিপন কর হার হিয়ে ধর বলয়া রচহ করে। চরণে মঞ্জীর রচহ জাবক এ দুই চরণতলে॥
প্রতি তনু মোর সব বেশ কর সূনহ নাগর রাজ। এ যদুনন্দন দরসএ জেন নাহি হএ বহু লাজ॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখ সখি অপরূপ কাজ
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”,
২৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত রাগিণী স্মারক তালো॥

দেখ সখি অপরূপ কাজ।
বিছরল গেহ গমন সব বুড়ল মোহ সরোবরমাঝ॥ ধ্রু॥
বৃন্দাদেবী সঙ্কেত বচনহি  কক্খটী হোই উন্মাদ।
জটিলা শবদ শুনাওত উচ্চস্বরে সুনতহি ভেল পরমাদ॥
সচকিত লোচনে আন আন মূখ হেরি কুঞ্জসে নিকসে বাহার।
দাস যদুনন্দন তুরিতহি লেওল তহি জত ছিল উপহার॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন বিনোদিনী রাধে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড,
৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - কাটা দশকুশী॥

শুন শুন বিনোদিনী রাধে।
কাহে তেজলি তুহুঁ সো ব্রজরাজে॥
রোই রোই করত পয়ান।
সো জীবন নাহি রাখব কান॥
ভাঙ্গলি প্রেমক হাট।
বজর পড়ল আজু সব জন মাথ॥
তুহুঁ অতি কলহে বিরাজ।
কানু মুখ না হেরব আর॥
কাঁহা গেও মঝু প্রাণনাথ।
হাম যায়ব তছু ঠাম॥
দুনয়নে বহে জলধার।
সখী মুখ চাহে বার বার॥
থাকি থাকি চমকিত রাই।
এ যদুনন্দন মুখ চাই॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দূতীরে দেখিয়া শ্যাম বলেন বচন
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - লোফা॥

দূতীরে দেখিয়া শ্যাম বলেন বচন।
রাইয়ের কুশল বল করি হে শ্রবণ॥
বারে বারে তাহারে জিজ্ঞাসয়ে বাণী।
আমারে কি লইতে পাঠাইল রাই ধনি॥
এত বলি দূতী-করে ধরি কহে শ্যাম।
লইয়া চলহ দূতী শ্রীরাধার ধাম॥
রাধা রাধা বলি মোর প্রাণ ফাটি বাহিরায়।
কেমন করয়ে মন কহিব কাহায়॥
মান-গরবিনী রাই তেজিল আমারে।
তাহারে না দেখি মোর পরাণ বিদরে॥
কান্দিয়া কহয়ে শ্যাম কি করি উপায়।
রাধার লাগিয়া প্রাণ ত্যজিব হেথায়॥
রাই তেজলি প্রাণ কি লাগি রাখিব।
রাধাকুণ্ড জলে প্রাণ শীতল করিব॥
কথোপকথনে আইল কুঞ্জের নিকটে।
দূতী তখন নাগরে কহয়ে করপুটে॥
হেথা রাধা আনিয়া মিলাব তব সনে।
কুঞ্জের ভিতরে তুমি করহ গমনে॥
কুঞ্জের ভিতর নাগর প্রবেশ করিল।
দূতী শীঘ্রগতি আসি রাইয়েরে মিলিল॥
কর জোড়ে কহে দূতী শুন ধনি রাই।
তোমার লাগিয়া শ্যাম ধরণী লোটায়॥
রাধা নাম জপি জপি রেখেছে জীবন।
তুমি দেখা না দিলে শ্যাম তেজিবে পরাণ॥
দূতী মুখে কথা শুনি অস্থির হইলা।
কৃষ্ণ মিলিবারে রাই তুরিতে উঠিলা॥
শ্যাম সঙ্গে রাই মিলাইতে লইয়া চলে।
নিভৃত নিকুঞ্জ মাঝে আসি কুতূহলে॥
শ্যাম সঙ্গে রাই লইয়ে করাইল মিলন।
মনের আনন্দ হেরে এ যদুনন্দন॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যশোদা নন্দন দেখি আনন্দে পূর্ণিত আঁখি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”. ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত - ছোট দশকুসী॥

যশোদা নন্দন দেখি,                   আনন্দে পূর্ণিত আঁখি
কৌতুকে নাচয়ে গোপরাণী।
তৈল হরিদ্রা লয়                       সবে সবার অঙ্গে দেয়
হুলাহুলি দিয়া জয়ধ্বনি॥
কেহ নাচে কেহ গায়                    কেহ নানা বাদ্য বায়
নন্দের আনন্দে নাহি সীমা।
উত্সব করয়ে রোলে                      ঘন ঘন হরি বোলে
কি কহিব যশোদার মহিমা॥
অখিল ভুবনপতি                          অনাথ জনার গতি
সকল দেবের শিরোমণি।
আজু শুভদিন মোরে                       হৈলা প্রভু নন্দঘরে
বড় ভাগ্যবতী নন্দরাণী॥
তহি এক ধনি আসি                       কহে যশোমতী প্রতি
কৈছন বালক দেখি।
কি কহব ভাগ্য                            যোগ্য নহে ত্রিভুবনে
পুণ্যপুঞ্জ তব লেখি॥
শুনইতে ঐছন                                    বচন রসায়ন
ভাসই আনন্দ হিল্লোলে।
আপন হৃদয় সঞে                           করে ধরি বালক
দেয়ল তাকর কোলে॥
গদ গদ যশোমতী                            কহই সকল প্রতি
মঝু নহে তোহাঁ সবাকার।
কহে যদু নন্দন                            একে একে সব জন
পরশিয়া আনন্দ অপার॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী - মধ্যম একতালা॥

যশোদা নন্দন দেখি,                         আনন্দে পূর্ণিত আঁখি,
কৌতুকে নাচয়ে গোপরাণী।
তৈল হরিদ্রা পায়,                           সবে সবার অঙ্গে দেয়,
হুলাহুলি দিয়া জয়ধ্বনি॥
কেহ নাচে কেহ গায়,                           কেহ নানা বাদ্যবায়,
নন্দের আনন্দে নাহি সীমা।
উত্সব করয়ে রোলে,                           ঘন ঘন হরিবোলে,
কি কহিব যশোদার মহিমা॥
অখিল ভুবন-পতি,                              অনাথ জনার গতি,
সকল দেবের শিরোমণি।
আজু শুভদিন মোরে,                            হৈলা প্রভু নন্দ ঘরে,
বড় ভাগ্যবতী নন্দরাণী॥
তহি এক ধনি আসি,                           কহে যশোমতী প্রতি,
কৈছন বালক দেখি।
কি কহব ভাগ্য,                                যোগ্য নহে ত্রিভুবনে,
পুণ্য পুঞ্জ তব লেখি॥
শুনইতে ঐছন,                                        বচন রসায়ন,
ভাসই আনন্দ হিল্লোলে।
আপন হৃদয় সঞে,                                করে ধরি বালক,
দেয়ল তাকর কোলে॥
গদগদ যশোমতী,                                  কহই সকল প্রতি,
মঝু নহে তোহাঁ সবাকার।
কহে যদু নন্দন,                                   একে একে সবজন,
পরশিয়া আনন্দ অপার॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জটিলা কহত পুন যশোমতি নন্দন
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥

জটিলা কহত পুন,                            যশোমতি নন্দন,
প্রাণ করিলি তুহুঁ দান।
বিবিধ মিঠাই,                                বহুত করি ভুঞ্জহ,
তবে গোঠে করহ পয়ান॥
শুনি ধনি রাই,                             আই কোরি বোলত,
কৈছে করবি পরবেশ।
ললিতা ফুকারি,                          জটিলা পায়ে বোলত,
শুনি সোই করল আদেশ॥
তব সখী মণ্ডলী,                                দুহুঁজনে লেয়লি,
নিরজন মন্দির মাহ।
দুহুঁজনে একাসনে,                              যব তঁহি বৈঠল,
টুটল হৃদয়ক দাহ॥
বিলম্ব হইবে যবে,                             সুবল মঙ্গল তবে,
কি জানি আইবে হেথায়।
করে কর যোড়ি,                                কহত যদুনন্দন,
ইঙ্গিতে সখি মুখ চাই॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই নিয়ড় সঞে চলু বর কান
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-
গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাই নিয়ড় সঞে চলু বর কান।
সখীগণ মাঝহি করল পয়ান॥
দূরহি নেহারি ধেনুগণ ধায়।
সহচরগণ সব মিলল তায়॥
ধেনুগণ অঙ্গহি দেওত হাত।
ঊর্দ্ধ পুচ্ছ করি ধুনায়ত মাথ॥
সবহু সখাগণ পুছত তাই।
কোন কাননে ছিলা ভাই কানাই॥
কাহে মলিন ভেল তোহারি বয়ান।
যদুনন্দন হরি আকুল পরাণ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাই নিয়ড় সঞে চলু যব কান।
সখাগণ মাঝহি করল পয়াণ॥
দূরেহি নেহারি ধেনুগণ ধায়।
সহচরগণ সব মিলল তায়॥
ধেনুগণ অঙ্গহি দেওত হাত।
ঊর্দ্ধ পুচ্ছ করি ধুনায়ত মাথ॥
সবহু সখাগণ পুছত তাই।
কোন কাননে ছিলা ভাই কানাই॥
কাহে মলিন ভেল তোহারি বয়ান।
যদুনন্দন হেরি আকুল পরাণ॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - জপতাল॥

রাই নিয়ড় সঞে চলু বর কান।
সখাগণ মাঝে করল পয়ান॥
দুরহিঁ নেহরই ধেনুগণ ধায়।
সহচরগণ সব মীলল তায়॥
ধেনুগণ অঙ্গহি দেওল হাত।
উচ্চপুচ্ছ করি ধুনায়ত মাথ॥
সবহু সখাগণ পুছত তাই।
কাহাপর গিয়েছিলা ভাই কানাই॥
কাহে মলিন ভেল তোহারি বয়ান।
যদুনন্দন হেরি আকুল পরাণ॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর