| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| অপরূপ ফুল শিঙ্গার ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ফুল-শৃঙ্গার। ॥ মায়ূর - দশকুশী॥ অপরূপ ফুল শিঙ্গার। ফুলের চূড়া, অতি মনোহরা, দেয়ল ফুলের হার॥ ফুলের বাজুবন্ধ, করি নানা ছন্দ ফুলের কুণ্ডল কানে। ফুলের নূপুর, বাজয়ে মধুর, শুনে সব সখীগণে॥ ফুলের নোলক, দামিনী ঝলক হাসির হিল্লোলে দোলে। ফুলের বাঁশরী, কর অম্বুজপরি মধুর মধুর বোলে॥ ফুলের পীতধড়া, কটিতটে বেড়া বিনোদ চরণে দোলে। রাইর শিঙ্গার, করয়ে নাগর দাস যদুনন্দন বোলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অতি যতনেতে রাইক মাথেতে ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ফুল-শৃঙ্গার। ॥ কেদার - একতালা॥ অতি যতনেতে রাইক মাথেতে ফুল সঞে বণী গাঁথি দিল। কানে কর্ণফুল, নাগর পরাইল, ফুলের সিঁথি সামালি দিল॥ মণিবন্ধু কর, কঙ্কণ ফুলের অঙ্গুলে অঙ্গুরী সাজে। নাসিকা উপর ফুলের বেশর হেরি শশী রহিল লাজে॥ কণ্ঠে ফুলহার পরায়ে নাগর আপন মনের সাধে। ফুল গজমতি গলে শোভে অতি নিন্দি গগন চাঁদে॥ কুচযুগ পরি, কাঁচলি ফুলেরি, শোভা করে অদভূত। অলিগণ মেলি, দুই পাখা তুলি বৈসয়ে সযূথে যূথ॥ কটিতটে শাড়ী ক্ষুদ্র ঘন্টি বেড়ি ফুলের বনায়ে দিল। চরণে নূপুর, বাজয়েম ধূর দাস যদুনন্দন শুনিল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঝুলাছলে ধনি চলে বিনোদিনী ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ঝুলন-লীলা। ॥ মল্লার - মধ্যম দশকুশী॥ ঝুলাছলে ধনি, চলে বিনোদিনী, ললিতাদি সখি সঙ্গে। ঝুনুরু ঝুনুরু, বাজে নূপুর, চলত প্রেম-তরঙ্গে॥ প্রবেশি বৃন্দাবনে, ভেটল শ্যাম সনে, কলপতরুর কুঞ্জে। নানা তরুকুল, বিকসিত ফুল, মধুকর তহি গুঞ্জে॥ কানন দেবতি, বৃন্দাসতি তথি, সুখদ যমুনা কূলে। বিচিত্র ঝুলনা, করিয়া রচনা, নীপ কদম্বমূলে॥ ঝুলনা উপরি, নাগর নাগরী, আসিয়া বসিল রঙ্গে। ঝুলায় ঝুলনা, সকল ললনা, মদগদ ভরে অঙ্গে॥ ঝুলনার ঝোঁকে, রাধিকা চমকে, তা দেখি নাগর ডরে। হাসিয়া হাসিয়া, বাহু পসারিয়া, ধনিরে করিল কোরে॥ রসবতী লৈয়া, কোরে আগোরিয়া, ঝুলয়ে রসিক রায়। সব সখীগণ, আনন্দে মগন, সুস্বরে পঞ্চম গায়॥ নব জলধরে, থির বিজুরী কোরে, অধরে মৃদু মৃদু হাস। দোঁহাকার রূপ, হেরত আনন্দে, শ্রীযদুনন্দন দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শেষ রজনী কুসুম শেজে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৩২ সালে প্রকাশিত ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শেষ রজনী, কুসুম শেজে, বৈঠল দুহুঁ জাগি। অলস আবেশে রহল রাই শ্যাম উজর লাগি॥ সহজে চতুরা, সব সখীগণ, মিলল সময় জানি। নিরখি দোঁহার, বদন কমল, দিবস সফল মানি॥ রতন প্রদীপ, ঘৃত সমযুত, ধূপ অগুরু জ্বারি। ললিতা লেওত, স্বর্ণ ঝারি, দেওয়ত নীর ঢারি॥ মঙ্গল আরতি, কুসুম বরিষে, গোকুল সুকুমারী। জয় জয়, বৃষ ভানু নন্দিনী, জয় গিরিবর ধারি॥ শ্রীযদু নন্দনে, ইহরস ভণে, রূপের যাঁউ বলিহারি। শ্রীবৃন্দাবনে, নিকুঞ্জ কাননে, হেরত রাধা মুরারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |