কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
অলসে হইল দুহুঁ ভোর
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস।
॥ যথারাগ॥

অলসে হইল দুহুঁ ভোর।
হরি উরে করয়ে বিহার॥
চিবুকেতে মৃগমদ সাজে।
অলি যেন পদ্ম-মধু-লোভে॥
হরি দেখে তাহা হৈতে চায়।
কত কত করয়ে হিয়ায়॥
একে একে সব অঙ্গ দেখি।
চরণে পসারল আঁখি॥
সেই হই যেন দরপণ।
তাহে হেরে আপন বয়ান॥
অরুণ কমল কিয়ে মাঝে।
নীল কমল কিয়ে সাজে॥
শ্রীরূপমঞ্জরী দেখি হাসে।
এ যদু নন্দন রসে ভাসে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অপরূপ ফুল শিঙ্গার
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ফুল-শৃঙ্গার।
॥ মায়ূর - দশকুশী॥

অপরূপ ফুল শিঙ্গার।
ফুলের চূড়া,                          অতি মনোহরা,
দেয়ল ফুলের হার॥
ফুলের বাজুবন্ধ,                        করি নানা ছন্দ
ফুলের কুণ্ডল কানে।
ফুলের নূপুর,                            বাজয়ে মধুর,
শুনে সব সখীগণে॥
ফুলের নোলক,                           দামিনী ঝলক
হাসির হিল্লোলে দোলে।
ফুলের বাঁশরী,                          কর অম্বুজপরি
মধুর মধুর বোলে॥
ফুলের পীতধড়া,                       কটিতটে বেড়া
বিনোদ চরণে দোলে।
রাইর শিঙ্গার,                            করয়ে নাগর
দাস যদুনন্দন বোলে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অতি যতনেতে রাইক মাথেতে
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ফুল-শৃঙ্গার।
॥ কেদার - একতালা॥

অতি যতনেতে                     রাইক মাথেতে
ফুল সঞে বণী গাঁথি দিল।
কানে কর্ণফুল,                        নাগর পরাইল,
ফুলের সিঁথি সামালি দিল॥
মণিবন্ধু কর,                           কঙ্কণ ফুলের
অঙ্গুলে অঙ্গুরী সাজে।
নাসিকা উপর                         ফুলের বেশর
হেরি শশী রহিল লাজে॥
কণ্ঠে ফুলহার                           পরায়ে নাগর
আপন মনের সাধে।
ফুল গজমতি                       গলে শোভে অতি
নিন্দি গগন চাঁদে॥
কুচযুগ পরি,                          কাঁচলি ফুলেরি,
শোভা করে অদভূত।
অলিগণ মেলি,                         দুই পাখা তুলি
বৈসয়ে সযূথে যূথ॥
কটিতটে শাড়ী                        ক্ষুদ্র ঘন্টি বেড়ি
ফুলের বনায়ে দিল।
চরণে নূপুর,                             বাজয়েম ধূর
দাস যদুনন্দন শুনিল॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অপরূপ কুসুম হিন্দোলা
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ফুল-শৃঙ্গার।
॥ সুহিনী - একতালা॥

অপরূপ কুসুম হিন্দোলা।
তাহে বেড়ি নানা ফুলমালা॥
ফুলের রচনা করি তাতে।
ফুলের বাগিচা তাহে শোভিয়াছে॥
তাহে বৈসে কিশোরী কিশোর।
দুহেঁ হেরি দোহেঁ ভেল ভোর॥
ললিতা বিশাখা যাদি সখী।
দোলায়ত দুহুঁ মুখ দেখি॥
কোন সখী যন্ত্র বাজায়।
দুহুঁ লীলা গুণ কোই গায়॥
কোই নাচে মনেরি হরিষে।
কেহু কেহু কুসুম বরিষে॥
কেহু হেরি দোঁহাকার শ্রম।
করতহি চামর বীজন॥
দোঁহাকার চাঁদমুখ দেখি।
তাম্বুল দেই মহাসুখী॥
অপরূপ কুসুম বিলাস।
হেরি যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বড়ই রহস্য কথা কহিতে না জানি
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মধুপান লীলা।
॥ যথা রাগ॥

বড়ই রহস্য কথা কহিতে না জানি।
লজ্জা খাইয়া লোভে তবু করি টানাটানি॥
গোবিন্দ চরিতামৃতে পরামৃত সার।
সদাই করয়ে পান অতি ভাগ্য যার॥
চতুর্দ্দশ সর্গে মধুপান দোল লীলা।
এ যদুনন্দনদাস সংক্ষেপে কহিলা॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুক শারী মুখে রাধা কৃষ্ণগুণমালা
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জল-ক্রীড়া।
॥ বালা ধানশী - জপতাল॥

শুক শারী মুখে রাধা কৃষ্ণগুণমালা।
বর্ণনা শুনিয়া সবে আনন্দে বিভোলা॥
মহানন্দ সিন্ধু মাঝে সবাই ডুবিলা।
বিস্মিত হইয়া মনে ক্ষণেক রহিলা॥
বৃন্দার ইঙ্গিতে পড়ে শুক অগ্রগণ্য।
শুনি সখীগণ সবে করে ধন্য ধন্য॥
গোবিন্দ চরিতামৃত কথা মনোহর।
ভাগ্যবান গণ আস্বাদয়ে নিরন্তর॥
সপ্তদশ সর্গে কৃষ্ণ গুণের বর্ণন।
কহে দীন হীন দাস এ যদুনন্দন॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঝুলাছলে ধনি চলে বিনোদিনী
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঝুলন-লীলা।
॥ মল্লার - মধ্যম দশকুশী॥

ঝুলাছলে ধনি,                        চলে বিনোদিনী,
ললিতাদি সখি সঙ্গে।
ঝুনুরু ঝুনুরু,                            বাজে নূপুর,
চলত প্রেম-তরঙ্গে॥
প্রবেশি বৃন্দাবনে,                  ভেটল শ্যাম সনে,
কলপতরুর কুঞ্জে।
নানা তরুকুল,                        বিকসিত ফুল,
মধুকর তহি গুঞ্জে॥
কানন দেবতি,                        বৃন্দাসতি তথি,
সুখদ যমুনা কূলে।
বিচিত্র ঝুলনা,                          করিয়া রচনা,
নীপ কদম্বমূলে॥
ঝুলনা উপরি,                            নাগর নাগরী,
আসিয়া বসিল রঙ্গে।
ঝুলায় ঝুলনা,                             সকল ললনা,
মদগদ ভরে অঙ্গে॥
ঝুলনার ঝোঁকে,                        রাধিকা চমকে,
তা দেখি নাগর ডরে।
হাসিয়া হাসিয়া,                        বাহু পসারিয়া,
ধনিরে করিল কোরে॥
রসবতী লৈয়া,                     কোরে আগোরিয়া,
ঝুলয়ে রসিক রায়।
সব সখীগণ,                             আনন্দে মগন,
সুস্বরে পঞ্চম গায়॥
নব জলধরে,                      থির বিজুরী কোরে,
অধরে মৃদু মৃদু হাস।
দোঁহাকার রূপ,                        হেরত আনন্দে,
শ্রীযদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁজন বেয়াকুল হেরি সখীগণ
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ূর বা ধানশী - যপতাল॥

দুহুঁজন বেয়াকুল হেরি সখীগণ।
দুহারে কহয়ে কত প্রবোধ বচন॥
ধৈরজ ধরি দুহুঁ কোরে আগোর।
ঢরকত লোচনে আনন্দে লোর॥
যত প্রিয় সহচরী আনন্দ ভেল।
চিরদিনে হেরই দুহুঁ জন কেল॥
কো কহে দুহুঁ জন আরতি ওর।
হৃদি সঞে দুহুঁ জন তিলেক না ছোড়॥
দূরে গেও পূরবক বিরহ হুতাশ।
আনন্দে হেরই যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শেষ রজনী কুসুম শেজে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৩২ সালে প্রকাশিত ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শেষ রজনী,                        কুসুম শেজে,
বৈঠল দুহুঁ জাগি।
অলস আবেশে                        রহল রাই
শ্যাম উজর লাগি॥
সহজে চতুরা,                        সব সখীগণ,
মিলল সময় জানি।
নিরখি দোঁহার,                      বদন কমল,
দিবস সফল মানি॥
রতন প্রদীপ,                        ঘৃত সমযুত,
ধূপ অগুরু জ্বারি।
ললিতা লেওত,                        স্বর্ণ ঝারি,
দেওয়ত নীর ঢারি॥
মঙ্গল আরতি,                    কুসুম বরিষে,
গোকুল সুকুমারী।
জয় জয়,                        বৃষ ভানু নন্দিনী,
জয় গিরিবর ধারি॥
শ্রীযদু নন্দনে,                        ইহরস ভণে,
রূপের যাঁউ বলিহারি।
শ্রীবৃন্দাবনে,                        নিকুঞ্জ কাননে,
হেরত রাধা মুরারি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কব হেন হবে কি আমারে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-
গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

কব হেন হবে কি আমারে।
এ নয়ানে দেখিব রাইয়েরে॥
ললিতা-অঙ্গুলি করে ধরি।
অভিসার করব সুন্দরী॥
সে বদন-চান্দের মাধুরী।
সে হাস্য সে বিনোদ চাতুরী॥
সে নয়ন-কোণের চাহনি।
মৃদু হাস্য মুখ মোড়ায়নি॥
বলয়া-কিঙ্কিণী-ধ্বনি শুনি।
মদনকে জাগায় মোহিনী॥
তাঁহা আমি শুনিব সে কাণে।
চমক পাইয়ে মোর মনে॥
এ যদুনন্দন দাস ভণে।
রাই বিনু না রহে জীবনে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর