কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাইক অতিশয় বিরহ হুতাশ
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-
গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাইক অতিশয় বিরহ হুতাশ।
শুনইতে নাগর গদ গদ ভাষ॥
নয়নক লোরে ভীগল পীতবাস।
ঘন ঘন তেজই দীরঘ নিশ্বাস॥
কহইতে বচন কহই নাহি পার।
অবশ কলেবর পড়ু কত বার॥
ক্ষেণে উঠে ক্ষেণে পড়ে করয়ে বিলাপ।
বাঢ়ল কানুক বিরহ-সন্তাপ॥
রাই রাই করি ভেল উনমাদ।
থির নাহি হোয়ত বিরহ বিষাদ॥
ক্ষণেকে থির হই রহ পুন কান।
তুরিতহিঁ সখি তুহুঁ করহ পয়ান॥
এত শুনি সোই চলু রাইক পাশ।
মিলল কুঞ্জে কহ যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তাপ দূরে গেল সব ভাল হৈল
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তাপ দূরে গেল,                        সব ভাল হৈল,
ইহা উপজিল যথা।
অরুণ উদয়ে,                          ব্রাহ্মণ নিচয়ে,
আইল গোকুল মাঝ।
জরতীর স্থানে,                        করি নিবেদনে,
আপন মনের কাজ॥
গোবর্দ্ধন পাশে,                        আমরা হরিষে,
করিব যজ্ঞের কাম।
যে গোপ যুবতী,                      ঘৃত দিবে তথি,
ইষ্ট-বর পাবে দান॥
জটিলা শুনিয়া,                     আমারে ডাকিয়া,
যতন করিয়া কৈল।
বধূরে সাজাঞা,                        গাবী-ঘৃত লৈয়া,
তুরিতে তাঁহাই চল॥
এ সব বচনে,                            সব সখীগণে,
রাইর আনন্দ হোয়।
সে হেন নাগর,                            গুণের সাগর,
দরশ হইবে মোয়॥
এত মনে করি,                       অতি রসে ভরি,
অঙ্গহি সুবেশ কেল।
ঘৃতের পসার,                          সাজাঞা সত্বর,
সবে মিলি চলি গেল॥
এ কথা জানিয়া,                     সে যে বিনোদিয়া,
ছান্দিয়া ও চূড়া বান্ধে।
সুবলাদি লইয়া,                      আধ পথে যাইয়া,
রহল দানার ছান্দে॥
বেণুর নিশান,                             করয়ে সঘন,
বাজায় ও জয় তুরী।
এ যদুনন্দন                               করে দরশন,
নিবিড় আনন্দে ভরি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর