| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| দেবী ভগবতী পৌর্ণমাসী খ্যাতি ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৫৩৮-পদসংখ্যা। ॥ সিন্ধুড়া॥ দেবী ভগবতী পৌর্ণমাসী খ্যাতি প্রভাতে সিনান করি। কানুর দরশে চলিলা হরষে আইলা নন্দের বাড়ী॥ শিরে শুভ্র কেশ তপসির বেশ অরুণ বসন পরি। বেদময় কথা ঘন হালে মাথা করেত লগুড় ধরি॥ দেখি নন্দরাণী ধাইয়া অমনি পড়িয়া চরণ-তলে। তারে কোলে লৈয়া শির পরশিয়া আশিস-বচন বোলে॥ সতী-শিরোমণী অখিল-জননী পরাণ-বাছনি মোর। পতি পুত্র সহ ধেনু বত্স সব কুশলে থাকুক তোর॥ রাণী তারে লৈয়া তুরিতে আসিয়া দেখয়ে পুত্রের মুখ। গায়ে হাত দিয়া উঠায় ধরিয়া স্নেহে দরদর বুক॥ নয়ানের নীরে স্তন-খির-ধারে ভিগায়ে শয়ন বাস। ধনিষ্ঠার পাশে দেখি মনে হাসে এ যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। দেবী ভগবতী পূর্ণমাসী খ্যাতি প্রভাতে সিনান করি। কানুর দরসে চলিলা হরিসে আইলা নন্দের বাড়ি॥ দেখি নন্দরাণী ধাইয়া অমনি পড়িলা চরণতলে। তারে কোলে লঞা শির পরসিয়া আশিস বচনে বলে॥ সতীশিরোমণি অখিল জননী পরাণ বাছনি মোর। পতিপুত্র সহ ধেনু বছ সব কুশলে থাকুক তোর॥ রাণী তারে লঞা তুরিতে আসিয়া দেখায় পুত্রের মুখ। গাএ হাত দিয়া উঠায় ধরিয়া স্নেহে দরদর বুক॥ নয়নের নীরে স্তনখিরধারে ভিগায় বসন বাস। ধনিষ্ঠার পাসে দেখি মনে হাঁসে এ যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ দেবী ভগবতী, পৌর্ণমাসী খ্যাতি প্রভাতে সিনান করি। কানুর দরশে, চলিলা হরষে আইলা নন্দের বাড়ী॥ শিরে শুভ্র কেশ, তপস্বীর বেশ অরুণ বসন পরি। বেদময় কথা ঘন হালে মাথা করেত লগুড় ধরি॥ দেখি নন্দরাণী, ধাইলা অমনি পড়িলা চরণ তলে। তারে কোলে লৈয়া শির পরশিয়া আশীষ বচন বলে॥ সতী শিরোমণী, অখিল জননী পরাণ বাছনি মোর। পতি পুত্র সহ, ধেনুবত্স সব কুশলে থাকুক তোর॥ রাণী তারে লৈয়া, তুরিতে আসিয়া দেখয়ে পুত্রের মুখ। গায়ে হাত দিয়া উঠায় ধরিয়া স্নেহে দরদর বুক॥ নয়ানের নীরে স্তনক্ষীর ধারে ভিগয়ে বসন বাস। ধনিষ্ঠার পাশে, দেখি মনে হাসে এ যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ দেবী ভগবতী, পৌর্ণমাসী খ্যাতি, প্রভাতে সিনান করি। কানুর দরশে, চলিলা হরষে, আইলা নন্দের বাড়ী॥ শিরে শুভ্র কেশ, তপস্বীর বেশ, অরুণ বসন পরি। বেদময় কথা, ঘন হালে মাথা, করেতে লগুড় ধরি॥ দেখি নন্দরাণী, ধাইয়া অমনি, পড়িলা চরণ-তলে। তারে কোলে লৈয়া, শির পরশিয়া, আশিস-বচন বলে॥ সতী শিরোমণী, অখিল-জননী, পরাণ-বাছনি মোর। পতি পুত্র সহ, ধেনু বত্স সব, কুশলে থাকহু তোর॥ রাণী তারে লৈয়া, তুরিতে আসিয়া, দেখয়ে পুত্রের মুখ। গায়ে হাত দিয়া, উঠায় ধরিয়া, স্নেহে দর দর বুক॥ নয়ানের নীরে, স্তন-ক্ষীর ধারে, ভিগয়ে বসন বাস। ধনিষ্ঠার পাশে, দেখি মনে হাসে, এ যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ দেবী ভগবতী পৌর্ণমাসী খ্যাতি প্রভাতে সিনান করি। কানুর দরশে চলিলা হরষে আইলা নন্দের বাড়ী॥ শিরে শুভ্র কেশ তাপসির বেশ অরুণ বসন পরি। বেদময় কথা ঘন হালে মাথা করেত লগুড় ধরি॥ দেখি নন্দরাণী ধাইয়া অমনি পড়িয়া চরণতলে। তারে কোলে লৈয়া শির পরশিয়া আশিস বচন বোলে॥ সতী শিরোমণি অখিল জননী পরাণ বাছনি মোর। পতি পুত্রসহ ধেনু বত্স সব কুশলে থাকুক তোর॥ রাণী তারে লৈয়া তুরিতে আসিয়া দেখয়ে পুত্রের মুখ। গায়ে হাত দিয়া উঠায় ধরিয়া স্নেহে দরদর বুক॥ নয়ানের নীরে স্তন-খির-ধারে ভিগায়ে শয়ন বাস। ধনিষ্ঠার পাশে দেখি মনে হাসে এ যদুনন্দন দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ঘন ঘন চুম্বন ঘন পরিরম্ভণ ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৭৪-পৃষ্ঠা। ॥ সারঙ্গ রাগ নিঃসারক তালৌ॥ ঘন ঘন চুম্বন ঘন পরিরম্ভণ ভুজে ভুজে সঘন বন্দান। ঘন ঘন নখ শর ঘাতন দুহুঁ জন আনন্দে আপন না জান॥ অপরূপ নিধুবন কেলি। অতিরসে নিমগন দিনহিঁ রাধা মাধব মদন কদন দুর গেলি॥ ধ্রু॥ দুহুঁ দুহাঁ উর পর নিচল কলেবর করত সঘন শিতকার। অভিনব ঘন বর থীর বিজুরী কিয়ে বেঢ়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন কব সোই হেরব হোয়ব বেলি অবসান। শুক যুগ হেরি তবহিঁ নিবেদব করইতে সো সমাধান॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৩১শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ১৩১৩-পদসংখ্যায় একইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটিই শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ২৪শ পল্লব, গোষ্ঠে দিবাভিস, ২৭৮৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সারঙ্গ॥ ঘন ঘন চুম্বন ঘন পরিরম্ভণ ভুজে ভুজে সঘন বন্ধান। ঘন ঘন নখ-শর- ঘাতন দুহুঁ জন আনন্দে আপন না জান॥ অপরূপ নিধুবন-কেলি। অতি রসে নিমগন দিনহিঁ রাধা মাধব মদন-কদন দুরে গেলি॥ ধ্রু॥ দুহুঁ দোহাঁ উর পর নিচল-কলেবর করত সঘন সিতকার। অভিনব ঘনবর থীর বিজুরী কিয়ে বেঢ়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন কব সোই হেরব হোয়ব বেলি অবসান। শুকযুগ হেরি তবহি নিবেদব করইতে সো সমাধান॥ এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৮১৬ সংখ্যক পদ। সেখানে তয় ও ৪র্থ পংক্তি দুটি ভিন্নভাবে দেওয়া রয়েছে। আমরা এই পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদকল্পতরু থেকেই পদটির এইরূপ জানা যায়। ॥ সারঙ্গী॥ ঘন ঘন চুম্বন ঘন পরিরম্ভণ ভুজে ভুজে সঘন বন্ধান। ঘন নখশর ঘাত দুহুঁ জন আনন্দ আপনা আপনা না জান॥ অপরূপ নিধুবন-কেলি। অতি রসে নিমগন দিনহিঁ রাধা মাধব মদন-কদন দুরে গেলি॥ ধ্রু॥ দুহুঁ দোহাঁ উর পর নিচল-কলেবর করত সঘন সিতকার। অভিনব ঘনবর থীর বিজুরী কিয়ে বেঢ়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন কব সোই হেরব হোয়ব বেলি অবসান। শুকযুগ হেরি তবহি নিবেদব করইতে সো সমাধান॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সারঙ্গ॥ ঘন ঘন চুম্বন, ঘন পরিরম্ভণ, ভুজে ভুজে সঘন সন্ধান। ঘন ঘন নখ শরঘাতন দুহুঁ জন, আনন্দে আপন না জান॥ অপরূপ নিধুবন-কেলি। অতি রসে নিমগন, দিনহিঁ রাধা মাধব, মদন-কদন দূরে গেলি॥ দুহুঁ দোহাঁ উর পর, নিচল কলেবর, করত সঘন সীতকার। অভিনব ঘনবর, থীর বিজুরী কিয়ে, বেড়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন, কব সোই হেরব, হোয়ব বেলি অবসান। শুক যুগ হেরি, তবহু নিবেদব, করইতে সো সমাধান॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সারঙ্গ॥ ঘন ঘন চুম্বন, ঘন পরিরম্ভণ, ভুজে ভুজে সঘন সন্ধান। ঘন ঘন নখ-শর, ঘাতন দুহুঁ পর, আনন্দে আপনা না জান॥ অপরূপ নিধুবন-কেলি। অতি রসে নিমগন দিনহি রাধা মাধব, মদন-কদন দূরে গেলি॥ দুহুঁ দোহাঁ উর পর, নিচল-কলেবর, করত সঘন শীতকার। অভিনব ঘনবর, থির বিজুরী কিয়ে, বেঢ়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন, কব সোই হেরব, হোয়ব বেলি অবসান। শুকযুগ হেরি, তবহুঁ নিবেদব, করইতে সো সমাধান॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সারাঙ্গ॥ ঘন ঘন চুম্বন ঘন পরিরম্ভন১ ভুজে ভুজে সঘন সন্ধান। ঘন নখশর ঘাত দুহুঁ জন আনন্দ আপনা আপনা না জান॥ অপরূপ নিধুবন কেলি। অতি রসে নিমগন দিনহি রাধামাধব মদন-কদন দূরে গেলি॥ ধ্রু॥ দুহুঁ দোহাঁ উঠ পর নিচল কলেবর করত সঘন সীতকায়। অভিনব ঘন বর থির বিজুরী কিয়ে বেড়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন কব সোই হেরব হোয়ব বেলি অবসান। শুক যুগ হেরি তবহু নিবেদব করইতে সো সমাধান॥ ১ - পরিরম্ভন - আলিঙ্গন। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মিলন ॥ সারঙ্গ॥ ঘন ঘন চুম্বন ঘন পরিরম্ভণ ভুজে ভুজে সঘন বন্ধান। ঘন ঘন নখ-শর- ঘাতন দুহুঁ জন আনন্দে আপন না জান॥ অপরূপ নিধুবন-কেলি। অতি রসে নিমগন দিনহি রাধা মাধব মদন-কদন দূরে গেলি॥ ধ্রু॥ দুহুঁ দোহাঁ উর পর নিচল-কলেবর করত সঘন সিতকার। অভিনব ঘনবর থীর বিজুরি কিয়ে বেড়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন কব সোই হেরব হোয়ব বেলি অবসান। শুকশারী হেরি তবহি নিবেদব করইতে সো সমাধান॥ এই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। পরিপূর্ণ সম্ভোগ। ঘন ঘন চুম্বন ঘন পরিরম্ভণ ভুজে ভুজে সঘন বন্ধান। ঘন ঘন নখ-শর ঘাতন দুহুঁ জন আনন্দে আপনা না জান॥ অপরূপ নিধুবন কেলি। অতি রসে নিমগন দিনহি রাধামাধব মদন-বেদন দুরে গেলি॥ ধ্রু॥ দুহুঁ দুহা উরপর নিচল কলেবর সঘন করত সিত্কার। অভিনব ঘনবর থীর বিজুরি কিয়ে বেঢ়ি রহল অনিবার॥ দাস যদুনন্দন কব সোই হেরব হোয়ব বেলি অবসান। শুকশারী হেরি তব হি নিবেদন করইতে সো সমাধান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ইন্দীবর বর উদোর সহোদর ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৩৯-পৃষ্ঠা। ॥ গান্ধার রাগ সমতালৌ॥ ইন্দীবর বর উদোর সহোদর মেদুর মদহর দেহ। জাম্বুনদ মদবৃন্দ বিমোহিত অম্বর বর পরিধেয়॥ সজনি কে নবনাগর রাজ। মোহন মুরলি খুরলি রুচিরানন দাহন কলবতী লাজ॥ ধ্রু॥ মোতিমসার হার উর অম্বর নখতর দামক ভান। করি কর গরব কবল কর সুন্দর সুবলন বাহু সুঠাম॥ মদ গজ রাজ লাজ গতি মন্থর জগভরি ভরই অনঙ্গ। যদুনন্দন ভণ সো নন্দনন্দন চন্দন শীতল অঙ্গ॥ এই পদটি ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন গাড়াদহের পুথি থেকে। শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ ॥ ধানশী॥ ইন্দীবর-বর-উদোর সহোদর মেদুর মদহর দেহ। জাম্বুনদ-মদ-বৃন্দ-বিমোহিত অম্বর-বর-পরিধেহ॥ সজনি কো সোই নব-যুবরাজ। মোহন-মুরলি খুরলি-রুচিরানন দাহন-কুলবতি-লাজ॥ ধ্রু॥ মোতিম-সার হার উর-অম্বর নখতর-দামক ভান। করি-কর-গরব-কবল-কর সুন্দর সুবলন বাহু সুঠান॥ মদ-গজ-রাজ লাজ গতি মন্থর জগ ভরি ভরই অনঙ্গ। যদুনন্দন ভণ সো নন্দ-নন্দন চন্দন-শীতল-অঙ্গ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ ইন্দীবর-বর উদোর সহোদর মেদুর মদহর দেহ। জাম্বুনদ মদ বৃন্দবিমোহিত অম্বর বর পরিধেহ॥ সজনী কো সোই নবযুবরাজ। মোহন মুরলি খুরলি রুচিরানন দাহন কুলবতি লাজ॥ ধ্রু॥ মোতিম সার হার উর অম্বর নখতর দামক ভান। করিকরগরব কবলকর সুন্দর সুবলন বাহু সুঠান॥ মদ গজরাজ লাজ গতি মন্থর জগ ভরি ভরই অনঙ্গ। যদুনন্দন ভণ সো নন্দনন্দন চন্দনশীতল অঙ্গ॥ ব্যাখ্যা - সুন্দর নীলকমলের উদর সহোদর অর্থাৎ (কিঞ্জল্ক সদৃশ, এবং স্নিগ্ধতায় এই) কিঞ্জল্কের গর্ব্বহারী দেহ। পরিধানে স্বর্ণ পুঞ্জের গর্ব্ব বিমোহন উত্তম বসন। সখি সে নব যুবরাজ কে? সুন্দর বদনে মোহন মুরলী বাজাইতেছে, কুলবতীর লজ্জা দগ্ধ করিল। বক্ষে উত্তম মুক্তাহার। গগনে যেন নক্ষত্র দাম। করী শুণ্ডের গর্ব্ব গ্রাসকারী সুবলিত সুন্দর সুঠাম বাহু। মন্থর গতিতে মত্ত গজরাজ লজ্জা পায়। অনঙ্গে জগৎ পূর্ণ হইল। যদুনন্দন বলিতেছেন তিনি নন্দনন্দন। তাহার অঙ্গ চন্দন শীতল। ---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”॥ এই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। রূপানুরাগ। ইন্দীবর বর উদোর সহোদর মেদুর মদহর দেহ। জাম্বুনদমদ বৃন্দবিমোহিত অম্বর বর পরিধেয়॥ সজনি কে নবনাগর রাজ। মোহন মুরলি খুরলি রুচিরানন দহন কলাবতী লাজ॥ ধ্রু॥ মোতিম সার হার উর অম্বর নখতর দামরু ভান। করি কর গরব কবল কর সুন্দর সুবলন বাহু সুঠাম॥ মদগজরাজ লাজগতি মন্থর জগভরি ভরই অনঙ্গ। যদুনন্দন ভণ নন্দ নন্দন ছন্দ চন্দন শীতল অঙ্গ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কৃষ্ণ কহে রাই দেখি হইয়া বিস্ময় আঁখি ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ৮ম সর্গের পদ, ৯৫-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”। ॥ যথা রাগঃ॥ কৃষ্ণ কহে রাই দেখি, হইয়া বিস্ময় আঁখি, কি কান্তি কুলের দেবী আইলা। তারুণ্য লখিমী কিবা, মাধুরি মুরতি কিবা, লাবণ্যের বন্যা কি হইলা॥ ধ্রু॥ আনন্দে ভরল মোর আঁখি। হেন বুঝি এই ধ্বনি, রসময় স্বরূপিণী, মোর মন করে যাতে সুখী॥ আনন্দাব্ধি নদী কিবা, অমৃত বাহিনী কিবা, কিবা আইলা রাধা চন্দ্রামুখী। আমার ইন্দ্রিয়গণ, করিবারে আহ্লাদন, সঙ্গে লয়ে আইলা সব সখী॥ চকোর আমার আঁখি, যার সুধাপানে সুখী, আইলা সেই সুচন্দ্রবদনী। মোর নাসা ভৃঙ্গরাজ, মধু পিয়ে যে সমাজ, সে পদ্মিনী আইলা প্রাণধনী॥ মোর জিহ্বা সুকোকিলা, রসাল পল্লব ধারা, কর্ণহরে যার ভূষা ধ্বনি। অনঙ্গ দাহন তনু, দেখি করুণার জানু, সুধানদী আইলা আপনি॥ ভাগ্য কল্পবৃক্ষ মোর, সকল নয়ন জোর, আইলা নিকটে আমার। এবে সে সাফল্য হৈল, মনে যত বিচারিল, এ যদুনন্দন কহে ভাল॥ এই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থ, ২১৩-পৃষ্ঠা থেকে প্রাপ্ত পদ। সাহিত্য পরিষদ ২৯৬-পুথি, কৃষ্ণদাস কবিরাজের মূল সংস্কৃত রচনার, যদুনন্দন দাস কৃত অনুবাদ “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের ৫২খ-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সংক্ষিপ্ত সম্ভোগ। কৃষ্ণ কহে রাই দেখি হইয়া বিস্ময় আঁখি কি কান্তি কুলের বধূ আইলা। তারুণ্য লক্ষ্মী কিবা মাধুরী মূরতি কিবা লাবণ্যের বন্যা কিবা আইলা॥ আনন্দে ভরল মোর আঁখি। হেন বুঝি এই ধ্বনি রসময় স্বরূপিণী মোর মনে করাইতে সুখী॥ ধ্রু॥ আনন্দাব্ধী নদী কিবা অমৃত বাহিনী কিবা কিবা আইলা রাধা চন্দ্রমুখী। আমার ইন্দ্রিয়গণ করাইতে আহ্লাদন সঙ্গে লইয়া আইল্যা সব সখী॥ চকোর আমার আঁখি যার সুধাপানে সুখী আইলা সে সুচন্দ্র বদনী। মোর নাসা ভৃঙ্গরাজ মধু পিয়ে যে সমাজ সে পদ্মিনী আইলা প্রাণধনি॥ মোর জিহ্বা সুকোকিলা রসাল পল্লবাধরা কর্ণ হবে যার ভূষা ধ্বনি। অনঙ্গ দাহন তনু দেখি করুণার জনু সুধানদী আইলা আপনি॥ ভাগ্য কল্পবৃক্ষ মোর সফল নয়ন জোর আইলা নিকটে আমার। এবে সে সফল হইল মনে যত বিচারিল এ যদুনন্দন কহে সার॥ এই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী - লোফা॥ কৃষ্ণ কহে রাই দেখি, হইয়া বিস্ময় আঁখি, কি কান্তি-কুলের বধূ আইলা। তারুণ্য-লক্ষ্মী কিবা, মাধুরি-মূরতি কিবা, লাবণ্যের বন্যা কিবা আইলা॥ আনন্দে ভরল মোর আঁখি। হেন বুঝি এই ধ্বনি, রসময় স্বরূপিণী, মোর মনে করাইতে সুখী॥ ধ্রু॥ আনন্দাব্ধি নদী কিবা, অমৃতবাহিনী কিবা, কিবা আইলা রাধা চন্দ্রমুখী। আমার ইন্দ্রিয়গণ, করাইতে আহ্লাদন, সঙ্গে লইয়া আইলা সব সখী॥ চকোর আমার আঁখি, যার সুধা-পানে সুখী, আইলা সে সুচন্দ্রবদনী। মোর নাসা ভৃঙ্গরাজ, মধু পিয়ে যে সমাজ, সে পদ্মিনী আইলা প্রাণ-ধ্বনি॥ মোর জিহ্বা সু-কোকিলা, রসাল পল্লবাধরা, কর্ণ হবে যার ভূষা ধ্বনি। অনঙ্গ-দাহন তনু, দেখি করুণায় জনু, সুধানদী আইলা আপনি॥ ভাগ্য কল্পবৃক্ষ মোর, সফল নয়ন জোর, আইলা নিকটে আমার। এ বেশে সফল হইল, মনে যত বিচারিল, এ যদুনন্দন কহে সার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কানু অনুরাগ কথা কি কহব আর ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৫০-পৃষ্ঠা। ॥ তোড়ি রাগ মণ্ঠক তালৌ॥ কানু অনুরাগ কথা কি কহব আর। বিন্ধিয়া লাগিল মোর হিয়ার মাঝার॥ এত খন না দেখিয়া সে মুখ মাধুরি। বিদরিছে এই মোর পরাণ পুতলি॥ কহ কহ এ সখি কি করি উপায়। দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥ ধ্রু॥ এ যদুনন্দনে কহে সুন ঠাকুরাণি। তিলেক ধৈরজ কর মিলিবে আপনি॥ এই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২১৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। কৃষ্ণানুরাগ। কানু অনুরাগ কথা কি কহব আর। বিন্ধিয়া লাগিল মোর হিয়ার মাঝার॥ এত খন না দেখিয়া সে মুখ মাধুরী। বিদরিছে এই মোর পরাণ পুতলী॥ কহ কহ এ সখি কি করি উপায়। দরশন বিনু চিত ধরণে না যায়॥ ধ্রু॥ এ যদুনন্দনে কহে সুন ঠাকুরাণি। তিলেক ধৈরজ কর মিলিবে আপনি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চিকুর রঞ্জন ভ্রমর গঞ্জন ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২১৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। রূপ গোস্বামী রচিত “বিদগ্ধ মাধব” নাটকের পদ্যানুবাদ “রসকদম্ব”-এর পদ। শ্রীরাধার অভিসার। চিকুর রঞ্জন ভ্রমর গঞ্জন সহজে তিমির যেন। তাহে নীলমণি রতন গাঁথনি হার রহিয়াছে তেন॥ সখি হে অভিসার কাজে। জানিল সকল ভুবন ভুলল ত্যজিয়া ধরম লাজে॥ নয়ন অঞ্জন তনুতে রঞ্জন কস্তুরী রচিল আঁখি। উল্টা বসন চরণে কঙ্কণ করেতে ম়্জরী দেখি॥ এক সে কুণ্ডল এক শ্রুতি মূল একই কপোলে দোলে। বসন শিথিল রসন শিথিল শিথিল কবরী লোলে॥ দেখ কুবলয় গর্ভক হৃদয় উল্টা সকল সাজে। এ যদুনন্দন কহয়ে এমন অতি হরিষের কাজে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তোহারি সঙ্কেত কুঞ্জে কুসুম শর পুঞ্জে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ১৬২-পৃষ্ঠা। ॥ গান্ধার রাগ তথা তালৌ॥ তোহারি সঙ্কেত কুঞ্জে কুসুম শর পুঞ্জে রহলি একসরিয়া। তনুবন বিরহ দমনে ধনি দগধই প্রাণ হরিণি যাএ জরিয়া॥ মাধব ধৈরজ গমন তোহারি। ও খন লাখ কলপ করি মানই তলপ ভরএ দিঠি বারি॥ তোহাঁরি সন্দেশ আশে ধনি কুলবতি খোয়াল কুল তনু কাঁতি। নিকরুণ মদন বেদন নাহি জানই হানই খর শর পাঁতি॥ পরাণ প্রেম আশু গুণে বান্ধল ভাষ না নিকসই বদনে। ভণএ যদুনন্দন সো যদি টুটএ অতএ চলহ সোই সদনে॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৫ম পল্লব, হিমকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, ৩৩৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৮|১৯ সংখ্যক পদ। ॥ গান্ধার॥ তোহারি সঙ্কেত- কুঞ্জে কুসুমশর- পুঞ্জে রহল একসরিয়া। তনু-বন বিরহ- দমনে ধনি দগধই প্রাণ-হরিণ যায় জরিয়া॥ মাধব ধৈরজ গমন তোহারি। ও খণ লাখ কলপ করি মানই তলপ ভরয়ে দিঠি-বারি॥ ধ্রু॥ তোহারি সন্দেশ- আশে ধনি কুলবতি খোয়ল কুল-তনু-কাঁতি। নিকরুণ মদন বেদন নাহি জানই হানই খরশর-পাঁতি॥ পরাণ প্রেম আশু-গুণে বান্ধল ভাষ না নিকসই বদনে। ভণে যদুনন্দন সো জনি টুটয়ে অতয়ে চলহ সোই সদনে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ তোহারি সঙ্কেতকুঞ্জে কুসুমশরপুঞ্জে রহল একশরিয়া। তনুবন বিরহ দমনে ধনি দগধএ প্রাণহরিণী জায় জরিয়া॥ মাধব ধৈরজ গমন তোঁহারি। তিল এক লাখ কলপ করি মানিএ তলপ ভরএ দিঠি বারি॥ ধ্রু॥ তোঁহারি সন্দেশআশে ধনি কুলবতী খোওনু কুলতনু কাঁতি। নিকরুণ মদনবেদন নাহি জানই হানই খরশর পাঁতি॥ পরাণ প্রেম আশ গুণে বান্ধল ভাষল নিকসই বদনে। ভণএ যদুনন্দন সো জন টুটয়ে অতই চলই সই সদনে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ তোহারি সঙ্কেতে, কুঞ্জে কুসুমশরপুঞ্জে রহল একেশ্বরিয়া। তনুবন বিরহদহনে ধনী দগধই, প্রাণ-হরিণ যায় জরিয়া॥ মাধব ধৈরজ গমন তোহারি। ও খণ লাখ, কলপ করি মানই, তলপ ভরয়ে দিঠবারি॥ তোহারি সন্দেশ, আশে ধনী কুলবতী, খোরল কুলতনু কাঁতি। নিকরুণ মদন, বেদন নাহি জানই, হানই খরশান পাঁতি॥ পরাণ প্রেম-আশুগুণে বান্ধল, ভাষ না নিকসই বদনে। ভণে যদুনন্দন, সো জনি টুটয়ে, অতয়ে চলহ সোই সদনে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীগান্ধার॥ তোহারি সঙ্কেতে, কুঞ্জে কুসুম শর, পুঞ্জে রহল একশ্বরিয়া। তনু বন বিরহ, দমনে ধনি দগধই, প্রাণ হরিণ যায় জরিয়া॥ মাধব, ধৈরজ গমন তোহারি। ওখণ লাখ, কলপ করি মানই, তলপ ভরয়ে দিঠ-বারি॥ তোহারি সন্দেশ-, আশে ধনী কুলবতী, খোলে কুল তনু কাঁতি। নিকরুণ মদন, বেদন নাহি জানই, হানই খরশাণ পাঁতি॥ পরাণ প্রেম- আশ-গুণে বান্ধল ভাস না নিকসই বদনে। ভণে যদুনন্দন, সো জনি টুটয়ে, অতয়ে চলহ সোই সদনে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উত্কণ্ঠিতা ॥ গান্ধার॥ তোহারি সঙ্কেতে- কুঞ্জে কুসুমশর- পুঞ্জে রহল একসরিয়া। তনু-মনে বিরহ দহনে ধনি দগধই প্রাণ-হরিণী যায় জরিয়া॥ মাধব ধৈরজ গমন তোহারি। ও যেন লাখ কলপ করি মানই তলপ ভরয়ে দিঠি বারি॥ তোহারি সন্দেশ- আশে ধনি কুলবতি খোয়ল কুল তনু-কাঁতি। নিকরুণ মদন বেদন নাহি জানই হানই খরশাণ-পাঁতি॥ পরাণ প্রেম আশ-গুণে বান্ধল ভাষ না নিকসই বদনে। ভণে যদুনন্দন সো জনি টূটয়ে অতয়ে চলহ সোই সদনে॥ ব্যাখ্যা - তোমার সঙ্কেত কুঞ্জে পুঞ্জিত মদন বাণের মধ্যে সে একাকিনী রহিয়াছে। দেহে মনে বিরহ জ্বালায় জ্বলিতেছে । তাহার প্রাণ হরিণী জর্জ্জরিত হইতেছে। মাধব, তোমার তো ধীরে ধীরে চলা অথবা তুমি ধৈর্য্য ধরিয়া আছ। এখনো যাইতেছ না। কিন্তু রাধা যেন (এই ক্ষণ কালকে) লাখ কল্প কাল বলিয়া মনে করিতেছে। তাহার নয়নজলে শয্যা ভরিয়া উঠিতেছে। তোমার সংবাদের আশায় সেই কুলবতী ধনী কুল খোয়াইল, দেহ- কান্তিও হারাইল। নিষ্ঠুর মদন বেদনা জানে না। তীক্ষ্ণ শপসমূহ বর্ষণ করিতেছে। তাহার প্রাণ তোমার প্রেমের আশার ডোরে বাঁধিয়াছে। মুখে কথা বাহির হইতেছে না। যদুনন্দন বলিতেছেন, সেই আশা-ডোর যেন ছিন্ন না হয়, অতএব তাহার নিকট চল।---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”॥ এই পদটি ১৯৫১-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার - একতালা॥ তোহারি সঙ্কেত কুঞ্জে কুসুম শর পুঞ্জে রহলি একশরিয়া। তনু বন বিরহ দহনে ধনি দগধই প্রাণ হরিণি যাএ জরিয়া॥ মাধব ধৈরয গমন তোহারি। ও ক্ষণ লাখ কলপ করি মানই তলপ ভরএ দিঠি বারি॥ তোহারি সন্দেশ আশে ধনি কুলবতি খোয়ল কুল-তনু-কাঁতি। নিকরুণ মদন বেদন নাহি জানই হানই খর শর পাঁতি॥ পরাণ প্রেম আশু গুণে বাঁধল ভাষ না নিকসই বদনে। ভনএ যদু নন্দন সো জদি টুটএ অতএ চলহ সোই সদনে॥ এই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২২০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। উত্কণ্ঠিতা। তোহারি সঙ্কেত কুঞ্জে কুসুম শর পুঞ্জে রহলি এক শরিয়া। তনু বন বিরহ দমনে ধনি দগ্ধই প্রাণ হরিণী যাএ জরিয়া॥ মাধব ধৈরজ গমন তোহারি। ও খন লাখ কল্প করি মানই তল্প ভরএ দিঠি বারি॥ তোহারি সন্দেশ আশে ধনি কুলবতী খোয়াল কুলতনু কাঁতি। নিকরুণ মদন বেদন নাহি জানই হানই খর শর পাঁতি॥ পরাণ প্রেম আশু গুণে বান্ধল ভাষ না নিকসই বদনে। শুন এ যদুনন্দন সোজনি টুটয়ে অতয়ে চলই সোই সদনে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নবীন কিশোর বয়স সুকোমল ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৬৫-পৃষ্ঠা। যথাবা। ॥ বরাড়ী রাগ মণ্ঠক তালৌ॥ নবীন কিশোর বয়স সুকোমল সুললিত মুখ অরবিন্দ। বান্ধুলি বন্ধু অধরহি মোহন মরুলি বাওত মন্দ॥ কুঞ্জে নিরমল শ্যামর চন্দ। কত শত কোটি কাম জিনি সুন্দর যৌবত মনস ফন্দ॥ ধ্রু॥ চূড়হি উড়ে চারু চন্দ্রক কুল কুণ্ডল গণ্ড বিরাজ। দিনমণি কিরণ মিলিত মণি অভরণ পীন উর অম্বর সাজ॥ পীতাম্বর ধর নাগর শেখর রাতুল চরণে মঞ্জীর। দাস যদুনন্দন চিতে নিতি ঐছন মুরুতি রহউ সদা থীর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |