| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| কিয়ে সখি চম্পক দাম বনায়সি ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২য় পল্লব, ভাবী-বিরহ, ১৬১২-পদসংখ্যা হিসেবে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৮২৩ সংখ্যক পদ। ॥ তথা রাগ॥ কিয়ে সখি চম্পক-দাম বনায়সি করইতে রভস-বিহার। সো বর নাগর যাওব মধুপুর ব্রজ-পুর করি আন্ধিয়ার॥ প্রিয়তম দাম শ্রীদাম আর হলধর এ সব সহচর সাথ। শুনইতে মুরছি পড়ল সোই কামিনী কুলিশ পড়ল জনু মাথ॥ খেনে খেনে উঠত খেনে খেনে বৈঠত অবশ কলেবর কাঁপি। ভণ যদুনন্দন শুনইতে ঐছন লোরে নয়নযুগ ঝাঁপি॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। কিয়ে সখি চম্পক-দাম বনায়সি, করইতে রভস বিহার। সো বর নাগর, যাওব মধুপুর, ব্রজপুর করি আন্ধিয়ার॥ প্রিয়তম দাম, শ্রীদাম আর হলধর, এ সব সহচর সাথ। শুনইতে মূরছি, পড়ল সোই কামিনী, কুলিশ পড়ল জনু মাথ॥ ক্ষণে ক্ষণে উঠত, ক্ষণে ক্ষণে বৈঠত, অবশ কলেবর কাঁপি। ভণ যদুনন্দন, শুনইতে ঐছন, লোরে নয়নযুগ ঝাঁপি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ কি সখিয়ে চম্পক-, দাম বনায়সি, করইতে রভস-বিহার। সো বর নাগর, যাওব মধুপুর, ব্রজ-পুর করি আন্ধিয়ার॥ প্রিয়তম দাম, শ্রীদাম আর হলধর, এ সব সহচর সাথ। শুনইতে মুরছি, পড়ল সোই কামিনী, কুলিশ পড়ল জনু মাথ॥ ক্ষণে ক্ষণে উঠত, ক্ষণে ক্ষণে বৈঠত, অচল কলেবর কাঁপি। ভণ যদুনন্দন, শুনইতে ঐছন, লোরে নয়নযুগ ঝাঁপি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভাবী বিরহ ॥ তথা রাগ॥ কিয়ে সখি চম্পক-দাম বনায়সি করইতে রভস-বিহার। সো বর নাগর যাওব মধুপুর ব্রজ-পুর করি আন্ধিয়ার॥ প্রিয়তম দাম শ্রীদাম আর হলধর এ সব সহচর সাথ। শুনইতে মুরছি পড়ল সোই কামিনী কুলিশ পড়ল জনু মাথ॥ খেণে খেনে উঠত খেনে খেনে বৈঠত অবশ কলেবর কাঁপি। ভণ যদুনন্দন শুনইতে ঐছন লোরে নয়নযুগ ঝাঁপি॥ এই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর - তেওট॥ কিয়ে সখি চম্পক-দাম বনায়সি করইতে রভস বিহার। সো বর নাগর যাওব মধুপুর ব্রজপুর করি আন্ধিয়ার॥ প্রিয়তম দাম শ্রীদাম আর হলধর এ সব সহচর সাথ। শুনইতে মুরছি পড়ল সোই কামিনি কুলিশ পড়ল জনু মাথ॥ থেণে খেণে উঠত খেণে খেণে বৈঠত অবশ কলেবর কাঁপি। ভণ যদুনন্দন শুনইতে ঐছন লোরে নয়নযুগ ঝাঁপি॥ এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কিয়ে সখি চম্পক দাম বনায়সি করইতে রভস-লিহার। সো বর নাগর যাওব মধুপুর ব্রজপুর করি আন্ধিয়ার॥ প্রিয়তম দাম শ্রীদাম আর হলধর এসব সহচর সাথ। শুনইতে মুরছি পড়ল সোই কামিনী কুলিশ পড়ল জনু মাথ॥ ক্ষণে ক্ষণে উঠত ক্ষণে ক্ষণে বৈঠত অবশ কলেবর কাঁপি। ভণ যদুনন্দন শুনইতে ঐছন লোরে নয়নযুগ ঝাঁপি॥ এই পদটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৪২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। কিয়ে সখি চম্পক দাম বনায়সি করইয়ে রভস বিহার। সো বর নাগর যাওব মধুপুর ব্রজপুর করি আন্ধিয়ার॥ প্রিয়তম দাম শ্রীদাম আর হলধর এ সব সহচর সাথ। শুনইতে মুরছি পড়ল সোই কামিনী কুলিশ পড়ল জনুমাথ॥ খেনে খেনে উঠত খেনে খেনে বৈঠত অবশ কলেবর কাঁপি। ভণ যদুনন্দন শুনইতে ঐছন লোরে নয়ন যুগ-ঝাঁপি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অনুক্ষণ গৌরপ্রেম রসে গরগর ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। অনুক্ষণ গৌরপ্রেম রসে গরগর ঢর ঢর লোচনে লোর। গদগদ ভাষ হাস ক্ষণে রোয়ত আনন্দে মগনঘন হরিবোল॥ পহুঃ মোর শ্রীশ্রীনিবাস। অবিরত রামচন্দ্র পহুঁ বিহরত সঙ্গে নরোত্তম দাস॥ ধ্রু॥ ব্রজপুর চরিত সতত অনুমোদই রসিক ভকতগণ পাশ। ভকতি রতন ধন যাচত জনেজন পুনকি গৌর পরকাশ॥ ঐছে দয়াল কবহু না হেরিয়ে ইহ ভুবন চতুর্দশে। দীনহীন পতিতে পরম পদ দেয়ল বঞ্চিত যদুনন্দন দাসে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩১৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ অনুক্ষণ গৌরপ্রেম রসে গরগর, ঢর ঢর লোচনে লোর। গদগদ ভাষ হাস ক্ষণে রোয়ত আনন্দে মগন ঘন হরিবোল॥ পহুঁ মোর শ্রীশ্রীনিবাস। অবিরত রামচন্দ্র পহুঁ বিহরত সঙ্গে নরোত্তম দাস॥ ধ্রু॥ ব্রজপুরচরিত, সতত অনুমোদই, রসিক ভকতগণ পাশ। ভকতিরতন ধন, যাচত জনে জন, পুন কি গৌর-পরকাশ॥ ঐছে দয়াল কবহুঁ না হেরিয়ে, ইহ ভুবন চতুর্দ্দশে১। দীনহীন পতিতে, পরম পদ দেয়ল, বঞ্চিত যদুনন্দন দাসে॥ ১ - চতুর্দ্দশ ভুবন মাঝে। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ অনুখণ গৌর প্রেমরসে গর গর ঢর ঢর লোচনে লোর। গদগদ ভাষ হাস ক্ষণে রোয়ত আনন্দে মগন ঘন হরিবোল॥ পহুঁ মোর শ্রীশ্রীনিবাস। অবিরত রামচন্দ্র পহুঁ বিহরত সঙ্গে নরোত্তম দাস॥ ব্রজপুরচরিত সতত অনুমোদই রসিক ভকতগণ পাশ। ভকতিরতন ধন যাচত জনে জন পুন কি গৌরপরকাশ॥ ঐছে দয়াল কবহুঁ না হেরিয়ে ইহ ভুবন চতুর্দ্দশে। দীনহীন পতিতে পরম পদ দেয়ল বঞ্চিত যদুনন্দন দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যদি কৃষ্ণ অকরুণ হইলা আমারে ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৮৫-পদসংখ্যা। ॥ সুহই॥ যদি কৃষ্ণ অকরুণ হইলা আমারে। তাহাতে বা কেবা দোষ দিবেক তোমারে॥ না কান্দিহ আরে সখি কহিয়ে নিশ্চয়ে। কৃষ্ণ বিনে প্রাণ মুঞি না রাখিব দেহে॥ উত্তর-কালের এক করিহ সহায়। এই বৃন্দাবনে যেন মোর তনু রয়॥ তমালের কান্ধে মোর ভুজলতা দিয়া। নিশ্চল করিহ তুমি রাখহ বান্ধিয়া॥ কৃষ্ণ কভু দেখিলেই পূরিবেক আশ। শুনিয়া কাতর যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৮পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ সুহই॥ জদি কৃষ্ণ অকরুণ হইলা আমারে। তাহাতে বা কেবা দোষ দিবেক তোমারে॥ ধ্রু॥ না কান্দিহ আরে সখী কহি এ নিশ্চয়ে। কৃষ্ণ বিনে প্রাণ মুঞি না রাখিব দেহে॥ উত্তরকালের এক করিহ সহায়। এই বৃন্দাবনে জেন মোর তনু রয়॥ তমালের স্কন্ধে মোর ভুজলতা দিয়া। নিশ্চল করিহ তুমি রাখিহ বান্ধিয়া॥ কৃষ্ণ কভু দেখিলেই পূরিবেক আশ। শুনিয়া কাতর যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ যদি কৃষ্ণ অকরুণ হইলা আমারে। তাহাতে বা কেবা দোষ দিবেক তোমারে॥ না কান্দিহ আরে সখি কহিয়ে নিশ্চয়ে। কৃষ্ণ বিনে প্রাণ মুঞি না রাখিব দেহে॥ উত্তরকালের এক করিহ সহায়। এই বৃন্দাবনে যেন মোর তনু রয়॥ তমালের কান্ধে মোর ভুজলতা দিয়া। নিশ্চল করিয়া তুমি রাখিহ বান্ধিয়া॥ কৃষ্ণ কভু দেখিলেই পূরিবেক আশ। শুনিয়া কাতর যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীমতীর আক্ষেপ। ॥ সুহই॥ যদি কৃষ্ণ অকরুণ হইলা আমারে। তাহাতে বা কিবা দোষ দিবেক তোমারে॥ না কান্দিও আরে সখি কহিয়ে নিশ্চয়ে। কৃষ্ণ বিনে প্রাণ মুঞি না রাখিব দেহে॥ উত্তর কালের এক করিহ সহায়। এই বৃন্দাবনে যেন মোর তনু রয়॥ তমালের কাঁধে মোর ভুজলতা দিয়া। নিশ্চল করিহ তুমি রাখিও বান্ধিয়া॥ কৃষ্ণ কভু দেখিলেই পূরিবেক আশ। শুনিয়া কাতর যদু নন্দন দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ যদি কৃষ্ণ অকরুণ হইলা আমারে। তাহাতে বা কেবা দোষ দিবেক তোমারে॥ না কান্দিহ আরে সখি কহিয়ে নিশ্চয়ে। কৃষ্ণ বিনে প্রাণ মুঞি না রাখিব দেহে॥ উত্তর কালের এক করিহ যে হয়। এই বৃন্দাবনে যেন মোর তনু রয়॥ তমালের কান্ধে মোর ভুজলতা দিয়া। নিশ্চল করিয়া তুমি রাখিহ বান্ধিয়া॥ কৃষ্ণ কভু দেখিলেই পূরিবেক আশ। শুনিয়া কাতর যদুনন্দন দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখিক বচনে ধনি থির করি চীত ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”, ২৪৬- পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সখিক বচনে ধনী থির করি চিত। করইতে গমন ভেল উপনীত॥ পদ দুই চারি চলয়ে সখী মেলি। ধসধস অন্তর ধাধস ভেলি॥ খেণে খেণে চৌঁকি চরণ পালটায়। খেণে কাতর দিঠে সখীমুখ চায়॥ সখিগণ পুন পুন করে আশোয়াস। রহি রহি ধনি হিয়ে উপজে তরাস॥ আবরি তনু অম্বরে নব গোরী। সখীকর ধরই বদনবিধু মোড়ি॥ ঐছনে কুঞ্জে মিলল পহুঁ পাশ। দূরে হেরই যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৮ম পল্লব, শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - প্রকারান্তর, ২২১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পুনশ্চ। ॥ ভূপালী॥ সখির বচনে ধনি থির করি চীত। করইতে গমন ভেল উপনীত॥ পদ দুই চারি চললি সখি মেলি। ধসধস অন্তর ধাধস ভেলি॥ খেনে খেনে চৌঙকি পাদ পালটায়। খেনে কাতর দিঠে সখিমুখ চায়॥ সখিগণ পুন পুন করে আশোয়াস। রহি রহি ধনি-হিয়ে উপজে তরাস॥ ঐছনে কুঞ্জে মিলল হরি পাশ। দূরে হেরই যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ প্রেমশিক্ষা॥ সখীর বচনে ধনি স্থির করি চিত। করইতে গমন ভেল উপনীত॥ পদ দুই চারি চললই সখী মেলি। ধশ ধশ অন্তর ধাধশ ভেলি॥ খেনে খেনে চঙকি পদ পালটায়। খেনে কাতর দিঠে সখিমুখ চায়॥ সখীগণ পুন পুন করে আশোআস। রহি রহি ধনি হিয়ে উপজে তরাস॥ ঐছনে কুঞ্জে মিলল পরিহাস। দূরে হেরই যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভূপালী॥ সখীর বচনে ধনি থির করি চিত। করইতে গমন ভেল উপনীত॥ পদ দুই চারি চললি সখী মেল। ধস ধস অন্তর ধাঁধস ভেলি॥ ক্ষণে ক্ষণে চমকি পাদ পালটায়। ক্ষণে কাতর দিঠে সখীমুখ চায়॥ সখীগণ পুনঃ পুনঃ করে আশোয়াস। রহি রহি ধনি হিয়ে উপজে তরাস॥ ঐছনে কুঞ্জে মিলল হরি পাশ। দূরে হেরই যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অভিসার (প্রকারান্তর) ॥ ভূপালী॥ সখীর বচনে ধনী থির করি চিত। করইতে গমন ভেল উপনীত॥ পদ দুই চারি চললি সখী মেলি। ধস ধস অন্তর ধাধস ভেলি॥ ক্ষণে ক্ষণে চঙকি পাদ পালটায়। ক্ষণে কাতর দিঠে সখী মুখ চায়॥ সখীগণ পুনঃ পুনঃ করে আশোয়াস। ঐছনে কুঞ্জে মিলল হরি পাশ। দূরে হেরই যদুনন্দন দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভূপালী॥ সখীর বচনে ধনি থির করি চিত। করইতে গমন ভেল উলসিত॥ পদ দুই চারি চললি সখী মেলি। ধস ধস অন্তর ধাধস ভেলি॥ খেনে খেনে চৌঙকি পাদ পালটায়। খেনে কাতর দিঠে সখিমুখ চায়॥ সখিগণ পুন পুন করে আশোয়াস। রহি রহি ধনী হিয়ে উপজে তরাস॥ ঐছনে কুঞ্জে মিলল হরি পাশ। দূরে হেরই যদুনন্দন দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন শুন নাগর সব গুণ আগর ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২য় পল্লব, বাসক-সজ্জা, ২৮৩-পদসংখ্যা। ॥ কামোদ॥ শুন শুন নাগর সব গুণ-আগর তুহুঁ বর চতুর সুজান। একলি সঙ্কেত- নিকেতনে সো ধনি নয়ানে না হেরই আন॥ তোঁহারি গমন-পথ পুন পুন হেরত সো অবিচল কুল-বালা। রতন-প্রদীপ বাসগৃহে সাজই তুয়া লাগই গাঁথই মালা॥ এত কহি সহচরি তুরিতে গমন করি কুঞ্জে ভেল উপনীত। ভণ যদুনন্দন ও নন্দ-নন্দন গমনহি উনমত-চীত॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদা॥ শুন শুন নাগর, সব গুণ আগর তুহুঁ বর চতুর সুজান। একলি সঙ্কেত, নিকেতনে সো ধনী, নয়ানে না হেরই আন॥ তোহারি গমন, পুন পুন হেরত, সো অবিচল কুলবালা। রতন প্রদীপ, বাসগৃহে সাজই, তুয়া লাগি গাঁথই মালা॥ এত কহি সহচরী, তুরিতে গমন করি, কুঞ্জে ভেল উপনীত। ভণ যদুনন্দন, ও নন্দ নন্দন, গমনহি উনমত চিত॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ শুন শুন নাগর সব গুণ আগর তুহু বর চতুর সুজান। একলি সঙ্কেত নিকেতনে সো ধনী নয়ানে না হেরই আন॥ তোঁহারি গমন পুনঃ পুনঃ হেরত সো অবিচল কুলবালা। রতন প্রদীপ বাস গৃহে সাজই তুয়া লাগই গাঁথই মালা॥ এত কহি সহচরী তুরিতে গমন করি কুঞ্জে ভেল উপনীত। ভণ যদুনন্দন ও নন্দনন্দন গমনহি উনমত চিত॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বাসকসজ্জা ॥ কামোদ॥ শুন শুন নাগর সব গুণ আগর তুহুঁ বর চতুর সুজান। একলি সঙ্কেত- নিকেতনে সো ধনি নয়ানে না হেরই আন॥ তোঁহারি গমন-পথ পুন পুন হেরত সো অবিচল কুলবালা। রতন প্রদীপ বাসগৃহে সাজই তুয়া লাগই গাঁথই মালা॥ এত কহি সহচরি তুরিতে গমন করি কুঞ্জে ভেল উপনীত। ভণ যদুনন্দন ও নন্দ-নন্দন গমনহি উনমত-চীত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন শুন নাগর রসিক সুজান ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২য় পল্লব, বাসক-সজ্জা, ২৮৫-পদসংখ্যা। ভণিতাহীন পদ হলেও পদকল্পতরুর পদসংখ্যা ২৮৫ ও ২৮৬ এর পরে লেখা রয়েছে - “এতদ্গীতদ্বয়ং শ্রীযদুনন্দনদাসঠক্কুরস্য বর্ণনম্”। ॥ কেদার বিহগড়া॥ শুন শুন নাগর রসিক সুজান। তুয়া মুখ তিল আধ না দেখিলে হাম কত কোটি কলপ করি মান॥ তুয়া নব অনুরাগে হাম আয়লুঁ আগে পথ হেরি আকুল পরাণ। তোহারি দরশে অব দুরে গেও দুখ সব সফল ভেল পাঁচ বাণ॥ হাম অতি দুখিত তাপিত তাহে পরবশ তাহে গুরু-গঞ্জন বোল। গৃহের মাঝারে থাকি যেমন পঞ্জরে পাখী সদা ভয়ে জিউ উতরোল॥ অনেক পুণ্যের ফলে তোমা বন্ধু পাইয়াছি কত কত করিয়া কামনা। হেন মনে অভিলাষি কহি এবে পরকাশি তুয়া পায়ে নিছয়ে আপনা॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কেদার বিহাগড়া॥ শুন শুন নাগর রসিক সুজান। তুয়া মুখ তিল আধ না দেখিলে হাম, কত কোটি কলপ করি মান॥ তুয়া নব অনুরাগে হাম আয়নু আগে পথ হেরে আকুল পরাণ। তোহারি দরশে অব দূরে গেও দুখ সব সফল ভেল পাঁচ বাণ॥ হাম অতি দুখিত তাপিত, তাহে পরবশ, তাহে গুরুগঞ্জন বোল। গৃহের ভিতরে থাকি যেমন পঞ্জরে পাখী সদা ভয়ে জিউ উতরোল॥ অনেক পুণ্যের ফলে তোমা বন্ধু পাইয়াছি কত কত করিয়া কামনা। হেন মনে অভিলাষী কহি এবে পরকাশি তুয়া পায়ে নিছয়ে আপনা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন শুন প্রাণপ্রিয়ে মোর নিবেদন ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ২য় পল্লব, বাসক-সজ্জা, ২৮৬-পদসংখ্যা। ভণিতাহীন পদ হলেও পদকল্পতরুর পদসংখ্যা ২৮৫ ও ২৮৬ এর পরে লেখা রয়েছে - “এতদ্গীতদ্বয়ং শ্রীযদুনন্দনদাসঠক্কুরস্য বর্ণনম্”। ॥ সুহই॥ শুন শুন প্রাণপ্রিয়ে মোর নিবেদন। তোমার অদ্ভুত গুণে সদা করে আকর্ষণে তুমি মোর জীবনের জীবন॥ তোমার মধুর বাণী সুধাসিন্ধু-তরঙ্গিণী মোর কর্ণ তাহে ডুবি থাকে। তোমার গৌর দেহ পরম সুগন্ধি সহ উনমত করিল আমাকে॥ সখাগণ সঙ্গে থাকি সুবল তাহার সাখী তোমা বিনে আন নাহি ভায়। বিরলে বসিয়ে যবে তোমারে দেখিয়ে তবে কহ তুমি আমার উপায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখী-মুখে শুনইতে সুনয়নি দূখ ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ১৬২-পৃষ্ঠা। ॥ বালা॥ সখি মুখে শুনইতে সুনয়নি দুখ। কি করব কানু কিছু না কহত মুখ॥ নয়নক নীর নয়ন সঞে বারি। চলইতে টল মল চলই না পারি॥ ধাধসে মীলল সুন্দর শ্যাম। সব দুঃখ দূরে গেল পূরল কাম॥ হেরইতে দুহুঁ সুখে দুহুঁ মুখ ইন্ধু। উচ্ছলল দুহুঁ মনে মনোভব সিন্ধু॥ দুহু পরিরম্ভণে দুহুঁ তনু এক। শ্যামর গোরি কিরণে রই রেখ॥ দুহুঁ দুহুঁ জীবন মিলু একু ঠাম। আনন্দ রসে দুহুঁ হরল গেয়ান॥ দুহুঁ দুহুঁ প্রেম পূরল দুহুঁ সাধ। হেরি যদুনন্দন ভেল উনমাদ॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৫ম পল্লব, হিমকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, ৩৩৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৮|২০ সংখ্যক পদ। পদকল্পতরুতে এই ‘সখি মুখে শুনইতে সুনয়নি দুখ’ পদটি দুটি ভাগ করে ‘সখি মুখে শুনইতে সুনয়নি দুখ - পদসংখ্যা ৩৩৮’ এবং ‘হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ-ইন্দু - পদসংখ্যা ৩৪০’ পদরূপে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। বৈষ্ণদাস এই কাজটি কেন করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা, সতীশচন্দ্র রায় তাঁর “পাঠান্তরে” দিয়েছেন যা আমরা এই পদের শেষে তুলে দিয়েছি। ॥ বালা ধানশী॥ সখী-মুখে শুনইতে সুনয়নি দূখ। কি করব কানু কছু না কহত মূখ॥ নয়নক নীর বয়ন সঞে বারি। চলইতে টল মল চলই না পারি॥ ধাঁধসে মীলল সুন্দর শ্যাম। সব দুখ দূরে গেল পূরল কাম॥ পাঠান্তর - অতঃপর প-স (পদামৃত সমুদ্র) গ্রন্থে ও প-র (পদ রত্নাকর) পুথিতে ‘হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ ইন্দু’ ইত্যাদি ৩৪০ সংখ্যক পদের পংক্তিগুলি দ্বারা এই ভণিতাহীন পদটি পূর্ণ করা হইয়াছে ; খ, ঘ, চ পুথিতে (পদকল্পতরু সম্পাদনা করার সময়ে সতীশচন্দ্র রায় যে পুথিগুলোকে আকরগ্রন্থ হিসেবে ব্যবহার করেছেন তাদের নাম) ‘হেরইতে দুহুঁ জন’ ইত্যাদি ৩৪০ সংখ্যক পদের পূর্ব্বে ‘পূর্ব্বপদ’ শব্দ ও গ পুথিতে ‘সখীমুখে শুনইতে ইত্যাদি পূর্ব্বপদ’ লিখিত আছে ; তদ্দ্বারা সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাস যে ‘হেরইতে দুহুঁ জন’ ইত্যাদি পংক্তিগুলিকে ‘সখী-মুখে শুনইতে’ ইত্যাদি পদের শেষাংশ বলিয়া জানিতেন, কিন্তু ‘হিম-ঋতু নিশি দিশি দিশি বহু বাত’ ইত্যাদি গোবিন্দদাসের পদটিকে মাঝে সন্নিবেশিত করা আবশ্যক বিবেচনা করায় ‘সখী-মুখে শুনইতে’ ইত্যাদি যদুনন্দনের পদটিকে দ্বিখণ্ডিত করিয়া ৩৩৮ ও ৩৪০ সংখ্যক পদরূপে সন্নিবেশ করিয়াছেন এবং ঐ দুইটি পদে মিলিয়া যে প্রকৃত পক্ষে একটি পদ হইবে এবং ‘হেরইতে দুহুঁ জন’ ইত্যাদি পংক্তিগুলির পূর্ব্বে ‘সখী-মুখে শুনইতে’ ইত্যাদি পংক্তিগুলি বসিবে, তাহা নিঃসন্দেহে প্রতীত হয়। ---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই সংকলনেও, পদতল্পতরুর মতন, পদটি দুটি ভাগে দেওয়া রয়েছে। আমরাও এখানে সেইভাবেই তুলে দিচ্ছি। একটি ভণিতাহীন ও একটি যদুনন্দন ভণিতাযুক্ত পদ। ॥ বালা ধানসী॥ সখীমুখে সুনইতে সুনঅলি দুখ। কি কহব কাহ্ন কিছু না কহত মূখ॥ নয়নক নীর নয়ন সঙে বারি। চলইতে টলমল চলই না পারি॥ ধাধসে মিলল সুন্দর শ্যাম। সব দুখ দূরে গেল পূরল কাম॥ এই পদটি নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের অভিসার। উত্কণ্ঠিতা-মিলন। ॥ বালা ধানশী - জপতাল॥ সখি মুখে শুনইতে সুনয়নি দুখ। কি করব কানু কছু না কহত মুখ॥ নয়নক নীর নয়ন সঞে বারি। চলইতে টলমল চলই না পারি॥ ধাধসে মীলল সুন্দর শ্যাম। সব দুখ দূরে গেল পূরল কাম॥ হেরইতে দুহুঁ সুখে দুহুঁ মুখ-ইন্ধু। উছলল দুহুঁ মনে মনোভব-সিন্ধু॥ দুহু পরিরম্ভণে দুহু তনু এক। শ্যামর গোরি কিরণে রহ রেখ॥ দুহু দুহু জীবন মিলু একু ঠাম। আনন্দ রসে দুহু হরল গেয়ান॥ দুহুঁ প্রেমে পূরল দুহুঁ মন সাধ। হেরি যদু নন্দন ভেল উনমাদ॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মিলন সখী মুখে শুনইতে সুনয়নী দুখ। কি করব কানু কছু না কহত মুখ॥ নয়নক নীর নয়ন সঞে বারি। চলইতে টল মল চলই না পারি॥ ধাধসে মিলন সুন্দর শ্যাম। সব দুখ দূরে গেল পূরল কাম॥ হেরইতে দুহুঁ সুখে দুহুঁ মুখ ইন্দু। উছলল দুহুঁ মনে মনোভব-সিন্ধু॥ দুহু পরিরম্ভণে দুহুঁ তনু এক। শ্যামর গোরি কিরণে রই রেখ॥ দুহুঁ দুহুঁ জীবন মিলু একঠাম। আনন্দ রসে দুহুঁ হরল গেয়ান॥ দুহুঁ দুহুঁ প্রেম পূরল দুহুঁ সাট। হেরি যদুনন্দন ভেল উনমাদ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ-ইন্দু ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৫ম পল্লব, হিমকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, ৩৪০-পদসংখ্যা। পদকল্পতরুতে এই ‘সখি মুখে শুনইতে সুনয়নি দুখ’ পদটি দুটি ভাগ করে ‘সখি মুখে শুনইতে সুনয়নি দুখ - পদসংখ্যা ৩৩৮’ এবং ‘হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ- ইন্দু - পদসংখ্যা ৩৪০’ পদরূপে স্বতন্ত্র পদ হিসেবে দেওয়া রয়েছে। বৈষ্ণদাস এই কাজটি কেন করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা, সতীশচন্দ্র রায় তাঁর “পাঠান্তরে” দিয়েছেন যা আমরা এই পদের শেষে তুলে দিয়েছি। ॥ তথা রাগ॥ হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ-ইন্দু। উছলল দুহুঁ মন মনভব-সিন্ধু॥ দুহুঁ পরিরম্ভনে দুহুঁ তনু এক। শ্যামর গোরি কিরণ রহ রেখ॥ দুহুঁ দুহুঁ জীবন মিলল একঠাম। আনন্দ সাগরে হরল গেয়ান॥ দুহুঁ প্রেমে পূরল দুহুঁ মনসাধ। হেরি যদুনন্দন ভেল উনমাদ॥ পাঠান্তর - অতঃপর প-স (পদামৃত সমুদ্র) গ্রন্থে ও প-র (পদ রত্নাকর) পুথিতে ‘হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ ইন্দু’ ইত্যাদি ৩৪০ সংখ্যক পদের পংক্তিগুলি দ্বারা এই ভণিতাহীন পদটি পূর্ণ করা হইয়াছে ; খ, ঘ, চ পুথিতে (পদকল্পতরু সম্পাদনা করার সময়ে সতীশচন্দ্র রায় যে পুথিগুলোকে আকরগ্রন্থ হিসেবে ব্যবহার করেছেন তাদের নাম) ‘হেরইতে দুহুঁ জন’ ইত্যাদি ৩৪০ সংখ্যক পদের পূর্ব্বে ‘পূর্ব্বপদ’ শব্দ ও গ পুথিতে ‘সখীমুখে শুনইতে ইত্যাদি পূর্ব্বপদ’ লিখিত আছে ; তদ্দ্বারা সঙ্কলয়িতা বৈষ্ণবদাস যে ‘হেরইতে দুহুঁ জন’ ইত্যাদি পংক্তিগুলিকে ‘সখী-মুখে শুনইতে’ ইত্যাদি পদের শেষাংশ বলিয়া জানিতেন, কিন্তু ‘হিম-ঋতু নিশি দিশি দিশি বহু বাত’ ইত্যাদি গোবিন্দদাসের পদটিকে মাঝে সন্নিবেশিত করা আবশ্যক বিবেচনা করায় ‘সখী-মুখে শুনইতে’ ইত্যাদি যদুনন্দনের পদটিকে দ্বিখণ্ডিত করিয়া ৩৩৮ ও ৩৪০ সংখ্যক পদরূপে সন্নিবেশ করিয়াছেন এবং ঐ দুইটি পদে মিলিয়া যে প্রকৃত পক্ষে একটি পদ হইবে এবং ‘হেরইতে দুহুঁ জন’ ইত্যাদি পংক্তিগুলির পূর্ব্বে ‘সখী-মুখে শুনইতে’ ইত্যাদি পংক্তিগুলি বসিবে, তাহা নিঃসন্দেহে প্রতীত হয়। ---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই সংকলনেও, পদতল্পতরুর মতন, পদটি দুটি ভাগে দেওয়া রয়েছে। আমরাও এখানে সেইভাবেই তুলে দিচ্ছি। একটি ভণিতাহীন ও একটি যদুনন্দন ভণিতাযুক্ত পদ। ॥ বালা ধানসী॥ হেরইতে দুহুঁ সুখে দুহু মুখ ইন্দু। উথলল দুহু মন মনোভবসিন্ধু॥ দোহু পরিরম্ভণে দুহু তনু এক। শ্যামরূ গোরি কিরণে রহু রেখ॥ দুহুঁ জীবন মিলল এক ঠাম। আনন্দসাগরে হরল গেয়ান॥ দুহু দুহু প্রেম পূরল দুহু সাধ। হেরি যদুনন্দন ভেল উনমাদ॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ @@@॥ হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখইন্দু। উছলল দুহুঁ মন মনোভাবসিন্ধু॥ দুহুঁ পরিরম্ভনে দুহুঁ তনু এক। শ্যামর গোরী কিরণ রহ রেখ॥ দুহুঁ দুহুঁ জীবন মিলল একঠাম। আনন্দ সাগরে হরল গেয়ান॥ দুহুঁ প্রেমে পূরল দুহুঁ মনসাধ। হেরি যদুনন্দন ভেল উনমাদ॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ ইন্দু। উছলল দুহুঁ মন মনে ভাব-সিন্ধু॥ দুহুঁ পরিরম্ভনে দুহুঁ তনু এক। শ্যামর গোরী কিরণ রহ রেখ॥ দুহুঁ দুহুঁ জীবন মিলল একঠাম। আনন্দ-সাগরে হরল গেয়ান॥ দুহুঁ প্রেম পূরল দুহুঁ মনসাধ। হেরি যদুনন্দন ভেল উনমাদ॥ এই পদটি নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বেহাগ - জপতাল॥ হেরইতে দুহুঁ জন দুহুঁ মুখ ইন্দু। উছলল দুহুঁ মন মনোভব সিন্ধু॥ দুহুঁ পরিরম্ভনে দুহুঁ তনু এক। শ্যামর গোরী কিরণ রহ রেখ॥ দুহুঁ দুহুঁ জীবন মিলল এক ঠাম। আনন্দ সাগরে রহল অগেয়ান॥ দুহুঁ প্রেমে পূরল দুহুঁ মন সাধ। হেরি যদুনন্দন ভেল উনমাদ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |