কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
দোতি-বচন শুনি রসিক-শিরোমণি
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১৫শ পল্লব,
কলহান্তরিতা, ৪৬০-পদসংখ্যা।

॥ শ্রীরাগ॥

দোতি-বচন শুনি                        রসিক-শিরোমণি
আয়ল তাকর সাথ।
দুর সঞে হেরিয়া                        সো বর-নাগরি
অবনত করি রহু মাথ॥
কর যোড়ি সাধয়ে কান।
হাম তুয়া কিঙ্কর                      পড়িয়ে চরণ-তল
তেজ ধনি দারুণ মান॥ ধ্রু॥
এত কহি নাগর                          অন্তর গর গর
ঢরকি ঢরকি পড়ু লোর।
হেরি সুধা-মুখি                      আকুল ভেল অতি
সো মুখ হেরি বিভোর॥
ছল ছল নয়ন                         শ্যাম-কর-কিশলয়
ধরি কহে গদ গদ ভাষ।
জলদে গোপন বিধু                     যৈছে উদয় ভেল
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শোহিনী॥

দূতীক বচন শুনি রসিক শিরোমণি আওল তাকর সাথ।
দূর সঞে হেরি সোবর নাগরী অবনত করি রহু মাথ॥
কর যোড়ি সাধই কান।
হাম তুয়া কিঙ্কর পড়ি চরণ তল তেজ ধনী দারুণ মান॥ ধ্রু॥
এত কহি নাগর অন্তর গর গর ঢরকি ঢরকি পড়ু নোর।
হেরি সূধামুখী আকুল অতি সোমুখ হেরি বিভোর॥
ছল ছল নয়ান শ্যাম কর কিশলয় ধরি কহে গদ গদ ভাষ।
জলদ গোপাল বিধু তৈছে উদয় ভেল কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

দোতী বচন শুনি, রসিক শিরোমণি, আওল তাকর সাথ।
দূর সঞে হেরি, সোই বরনাগরী, অবনত করি রহু মাথ॥
কর যোড়ি সাধয়ে কান।
হাম তুয়া কিঙ্কর, পড়িয়ে চরণতল, তেজ ধনি নিদারুণ মান॥
এত কহি নাগর, অন্তর গর গর, ঢরকি ঢরকি পড়ু লোর।
হেরি সুধামুখী, আকুল ভেল অতি, সো মুখ হেরি বিভোর॥
ছল ছল নয়ানে, শ্যামকরকিশলয়, ধরি কহে গদ গদ ভাষ।
জলদে গোপন বিধু, যৈছে উদয় ভেল, কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

দোতি বচন শুনি,                        রসিকশিরোমণি,
আওল তাকর সাথ।
দুর সঞে হেরি,                          সো বর-নাগরী,
অবনত করি রহু মাথ॥
কর যোড়ি সাধয়ে কান।
হাম তুয়া কিঙ্কর,                     পড়িয়ে চরণ তল,
তেজ ধনি দারুণ মান॥ ধ্রু
এত কহি নাগর,                          অন্তর গর গর,
ঢরকি ঢরকি পড়ু লোর।
হেরি সুধামুখী,                       আকুল ভেল অতি,
সো মুখ হেরি বিভোর॥
ছল ছল নয়ানে,                      শ্যাম কর কিশলয়,
ধরি কহে গদ গদ ভাষ।
জলদে গোপন বিধু,                    যৈছে উদয় ভেল,
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

দূতিক বচন শুনি                        রসিক শিরোমণি
আওল তাকর সাথ।
দূতী সঞে হেরি                           সো বর নাগরী
অবনত করি রহু মাথ॥
করজোড়ে সাধয়ে কান।
হাম তুয়া কিঙ্কর                        পড়িয়ে চরণতল
তেজ ধনী দারুণ মান॥ ধ্রু॥
এত কহি নাগর                            অন্তর গর গর
ঢরকি ঢরকি পড়ু লোর।
হেরি সুধামুখী                        আকুল ভেল অতি
সো মুখ হেরি বিভোর॥
ছল ছল নয়ান                         শ্যাম কর কিশলয়
ধরি কহে গদ গদ ভাষ।
জলদে গোপত বিধু                     তৈছে উদয় ভেল
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানভঞ্জন
॥ শ্রীরাগ॥

দোতি বচন শুনি                        রসিক শিরোমণি
আয়ল তাকর সাথ।
দুর সঞে হেরিয়া                        সো বর-নাগরি
অবনত করি রহু মাথ॥
কর জোড়ি সাধয়ে কান।
হাম তুয়া কিঙ্কর                        পড়িয়ে চরণতল
তেজ ধনি দারুণ মান॥
এত কহি নাগর                           অন্তর গর গর
ঢরকি ঢরকি পড়ু লোর।
হেরি সুধা-মুখি                       আকুল ভেল অতি
সো মুখ হেরি বিভোর॥
ছল ছল নয়ন                        শ্যাম কর কিশলয়
ধরি কহে গদ্গদভাষ।
জলদে গোপন বিধু                     যৈছে উদয় ভেল
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুশী॥

দোতী-বচন শুনি,                         রসিক শিরোমণি,
আওল তাকর সাথ।
দূর সঞে হেরি,                              সো বর নাগরী,
অবনত করি রহু মাথ॥
কর যোড়ি সাধয়ে কান।
হাম তুয়া কিঙ্কর,                         পড়িয়ে চরণ-তল,
তেজ ধনী দারুণ মান॥ ধ্রু॥
এত কহি নাগর,                             অন্তর গর গর,
ঢরকি ঢরকি পড়ু লোর।
আকুল ভেল অতি,                         হেরি সুধামুখী,
সো মুখ হেরি বিভোর॥
ছল ছল নয়ানে,                         শ্যাম কর-কিশলয়,
ধরি কহে গদ গদ ভাষ।
জলদে গোপন বিধু,                        যৈছে উদয় ভেল,
কহ যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অধরে অধর দুহুঁ ধরি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ৪র্থ পল্লব, স্বয়ং-দৌত্য-সম্ভোগ, ৬৫৪-পদসংখ্যা।

॥ শ্রীরাগ॥

অধরে অধর দুহুঁ ধরি।
শুতিয়াছে কিশোর কিশোরী॥
ভুজে ভুজে দোঁহে দোঁহা বান্ধি।
পবন পশিতে নাহি সান্ধি॥
চিকুরে চিকুরে এক করি।
শুতিয়াছে তাহারি উপরি॥
রাই কুচ হিয়ার মাঝারে।
পশিয়াছে শ্যাম-কলেবরে॥
হিয়ার মাঝারে রৈল পশি।
নীল-হেমগিরি মাঝে শশী॥
বলয়া কিঙ্কিণী তাহে লাগে।
দুহুঁ তনু এক অনুরাগে॥
চরণে চরণে একাকারে।
কেবা তাহা ছাড়াবারে পারে॥
এক তনু ধরি যদি টানে।
দুহুঁ তনু চলে তার সনে॥
শ্রীরূপমঞ্জরী দেখি হাসে।
শ্রীগুণমঞ্জরী তার পাশে॥
অপরূপ দুহুঁক বিলাসে।
এ যদুনন্দন রসে ভাসে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অধরে অধর দুহু ধরি। সুতিআছে কিশোর কিশোরী॥
ভুজে ভুজে দোহে দোহা বান্ধি। পবন পসিতে নাহি সন্ধি॥
চিবুকে চিবুকে এক করি। সুতিআছে তাহারি উপরি॥
রাইকুচ হিয়ার মাঝারে। পসিআছে শ্যামকলেবরে॥
হিয়ার মাঝারে রহিল পসি। নীল হেমগিরিমাঝে শশী॥
বলয়া কিঙ্কিণী তাহা লাগে। দুহু তনু এক অনুরাগে॥
চরণে চরণে একাকারে। কেবা তাহা ছাড়াইতে পারে॥
এক তনু ধরি যদি টানে। দুহু তনু চলে তার সনে॥
শ্রীরূপমঞ্জরী দেখি হাসে। শ্রীগুণমঞ্জরী তার পাসে॥
অপরূপ দুহুক বিলাস। এ যদুনন্দন রসভাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

অধরে অধর দুহুঁ ধরি।
শুতিয়াছে কিশোর কিশোরী॥
ভুজে ভুজে দোঁহে দোঁহা বান্ধি।
পবন পশিতে নাহি সন্ধি॥
চিকুরে চিকুরে এক করি।
শুতিয়াছে তাহারি উপরি॥
রাই কুচ হিয়ার মাঝারে।
পশিয়াছে শ্যাম কলেবরে॥
হিয়ার মাঝারে রৈল পশি।
নীল হেমগিরি মাঝে শশী॥
বলয়া কিঙ্কিণী তাহে লাগে।
দুহুঁ তনু এক অনুরাগে॥
চরণে চরণে একাকারে।
কেবা তাহা ছাড়াবারে পারে॥
এক তনু ধরি যদি টানে।
দুহুঁ তনু চলে তার সনে॥
শ্রীরূপমঞ্জরী দেখি হাসে।
শ্রীগুণমঞ্জরী তার পাশে॥
অপরূপ দুহুঁক বিলাসে।
এ যদুনন্দন রসে ভাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ
॥ সুহিনী॥

অধরে অধর দুহুঁ ধরি।
শুতিয়াছে কিশোর কিশোরী॥
ভুজে ভুজে দোহেঁ দোহাঁ বান্ধি।
পবন পশিতে নাহি সান্ধি॥
চিকুরে চিকুরে এক করি।
শুতিয়াছে তাহারি উপরি॥
রাই কুচ হিয়ার মাঝারে।
পশিয়াছে শ্যাম-কলেবরে॥
হিয়ার মাঝারে রৈল পশি।
নীল-হেমগিরি মাঝে শশী॥
বলয়া কিঙ্কিণী তাহে লাগে।
দুহুঁ তনু এক অনুরাগে॥
চরণে চরণে একাকারে।
কেবা তাহা ছাড়াবারে পারে॥
এক তনু ধরি যদি টানে।
দুহুঁ তনু চলে তার সনে॥
শ্রীরূপমঞ্জরী দেখি হাসে।
শ্রীগুণমঞ্জরী তার পাশে॥
অপরূপ দুহুঁক বিলাসে।
এ যদুনন্দন রসে ভাসে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাই কানু নিকুঞ্জ-মন্দিরে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ৭ম পল্লব, অভিসারানুরাগ, ৭৪৬-পদসংখ্যা। এটি নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথির ১২৩৫ সংখ্যক পদ।

॥ বড়ারী॥

রাই কানু নিকুঞ্জ-মন্দিরে।
বসিয়াছে বেদীর উপরে॥
হেমমণি-খচিত তাহাতে।
বিবিধ কুসুম চারি ভিতে॥
সখীগণ চৌদিকে বেড়িয়া।
বসিয়াছে দুহুঁ মুখ চাঞা॥
কুণ্ডের পুরুবে সেই কুঞ্জ।
যাহা বেড়ি মধুকর গুঞ্জ॥
মলয়-পবন বহে তায়।
তরু পর শারী শুক গায়॥
রাই কানু সে শোভা দেখয়ে।
এ যদুনন্দন নিরখয়ে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারী॥

রাই কানু নিকুঞ্জ মন্দিরে।
বসিয়াছে বেদীর উপরে॥
হেমমণি রচিত তাহাতে।
বিবিধ কুসুম চারি ভিতে॥
সখীগণ চৌদিকে বেড়িয়া।
বসিয়াছে দুহুঁ মুখ চাঞা॥
কুণ্ডের পুরুবে সেই কুঞ্জ।
যাহা বেড়ি মধুকর গুঞ্জ॥
মলয় পবন বহে তায়।
তরু পর শারী শুক গায়॥
রাই কানু সে শোভা দেখয়ে।
এ যদুনন্দন নিরখয়ে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারী॥

রাই কানু নিকুঞ্জ মন্দিরে।
বসিয়াছে বেদীর উপরে॥
হেমমণি রচিত তাহাতে।
বিবিধ কুসুম চারিভিতে॥
সমীরণ চৌদিকে বেড়িয়া।
বসিয়াছে দুহুঁ মুখ চাঞা॥
কুণ্ডের পুরুবে সেই কুঞ্জর।
যাহা বেড়ি মধুকর গুঞ্জ॥
মলয় পবন বহে তায়।
তরু পর সারী শুক গায়॥
রাই কানু সে শোভা দেখয়ে।
এ যদুনন্দন নিরখয়ে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিকুঞ্জে মিলন
॥ বড়ারী॥

রাই কানু নিকুঞ্জ-মন্দিরে।
বসিয়াছে বেদীর উপরে॥
হেমমণি-খচিত তাহাতে।
বিবিধ কুসুম চারি ভিতে॥
সখীগণ চৌদিকে বেড়িয়া।
বসিয়াছে দুহুঁ মুখ চাঞা॥
কুণ্ডের পুরুবে সেই কুঞ্জ।
যাহা বেঢ়ি মধুকর গুঞ্জ॥
মলয়-পবন বহে তায়।
তরুপর শারী শুক গায়॥
রাই কানু সে শোভা দেখয়ে।
এ যদুনন্দন নিরখয়ে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভাগ্যবতী যমুনা মাই
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস-গোষ্ঠে গমন, ১১৯৮-পদসংখ্যা।

॥ সারঙ্গ॥

ভাগ্যবতী যমুনা মাই।
যার এ কূলে ও কূলে ধাওয়া ধাই॥
শ্বেত শাঙল দোন ভাই।
যার জলে দেখে আপন ছাই॥
যমুনার জলে কিবা শোভা।
এ যদুনন্দন-মনলোভা॥

ই পদটি বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কালের নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ১৭৩০ সংখ্যক
পদ হিসেবে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পুথিটি আমরা হাতে পাইনি। পদকল্পতরু গ্রন্থে,
সতীশচন্দ্র রায়ের দেওয়া টিকা-টিপ্পনী থেকেই এখানে পদটি সম্বন্ধে লেখা সম্ভব হচ্ছে।
এখানে শেষে আবার নিমানন্দ দাসের ভণিতা দেওয়া রয়েছে।

ভাগ্যবতী যমুনা মাই।
যার এ কূলে ও কূলে ধাওয়া ধাই॥
শ্বেত শাঙল দোন ভাই।
যার জলে দেখে আপন ছাই॥
যমুনার জলে কিবা শোভা।
এ যদুনন্দন-মনলোভা॥
নিমানন্দ দাসের হয় তথি।
জলে দেখি কতেক মুরতি॥

পাঠান্তর -
নিমানন্দ দাস বৈষ্ণবদাসের পরবর্ত্তী সময়ের ব্যক্তি ; সুতরাং বৈষ্ণবদাসের
পদকল্পতরু গ্রন্থে নিমানন্দ দাসের ভণিতাযুক্ত রচনা সন্নিবেশ হওয়া অসম্ভব। প-র-সা
পুথিতে (পদরসসার) এই পদে যদুনন্দন দাসের ভণিতা আছে ; তত্পরে আবার নিমানন্দ
দাসের ভণিতার কোন সার্থকতা দেখা য়ায় না। নিমানন্দ দাস এই পদের লুপ্ত-প্রায়
ভণিতাটি উদ্ধার করিয়াছেন বলিয়া এই পদের শেষে নিজ-নামাঙ্কিত অপর ভণিতা
সংযোজন করিয়াছেন কি ?
---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠলীলা
॥ সারঙ্গ॥

ভাগ্যবতী যমুনা মাঈ।
যার এ কূলে ও কূলে ধাওয়া ধাই॥
শ্বেত শাঙল দোন ভাই।
যার জলে দেখে আপন ছাই॥
যমুনার জলে কিবা শোভা।
এ যদুনন্দন-মনলোভা॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সহচরি সঙ্গে রঙ্গে চলু কামিনি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮
সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ১৬২-পৃষ্ঠা।

॥ বরাড়ী রাগ মণ্ঠক তালৌ॥

সহচরি সঙ্গে রঙ্গে চলু কামিনি দামিনি যৈছে উজোর।
গোবর্দ্ধন তট নিকট বাটহি লেই যজ্ঞ ঘৃত থোর॥
দেখ সখি অপরুব রঙ্গ।
নিরুপম প্রেম বিলাস রসায়ন পিবইতে পুলকিত অঙ্গ॥ ধ্রু॥
দুর সঞে দরশনে অনিমিখ লোচন বহতহিঁ আনন্দ নীর।
আনন্দ সায়রে ডূবল দুহুঁ মন বহু ক্ষণে ভৈগেল থীর॥
অতি রস আদর বিদগধ নাগর রাই নিয়ড়ে উপনীত।
ইহ যদুনন্দন নিরখই দুহু জন অতি সুখে নিমগন চীত॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব,
দান-লীলা, ১৩৩৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার
পুথির ১৮৪৫ সংখ্যক পদ।

॥ বরাড়ী॥

সহচরি সঙ্গে                           রঙ্গে চলু কামিনি
দামিনি যৈছে উজোর।
গোবর্দ্ধন-তট                               নিকট বাটহি
লেই যজ্ঞ-ঘৃত ঘোর॥
দেখ সখি অপরূপ রঙ্গ।
নিরুপম বিলাস                       রসায়ন পিবইতে
দুহুঁ জন পুলকিত অঙ্গ॥
দুর সঞে দরশন                       অনিমিখ লোচন
বহতহিঁ আনন্দ-নীর।
আনন্দ-সায়রে                             ডূবল দুহুঁ জন
বহু খণে ভৈ গেল থীর॥ ধ্রু॥
অতিশয় আদর                           বিদগধ নাগর
রাই নিয়ড়ে উপনীত।
ইহ যদুনন্দন                            নিরখই দুহুঁ জন
অতিসুখে নিমগন-চীত॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

সহচরি সঙ্গে, রঙ্গে চলু কামিনি, দামিনী যৈছে উজোর।
গোবর্দ্ধন তট, নিকটহি বাট, লেই যজ্ঞ ঘৃত থোর॥
দেখ সখি অপরূপ রঙ্গ।
নিরুপম প্রেম-বিলাস রসায়ন, পিবইতে পুলকিত অঙ্গ॥
দূর সঞে দরশন, অনিমিখ লোচন, বহতহিঁ আনন্দ নীর।
আনন্দ-সায়রে ডুবল দুহুঁ জন, বহু ক্ষণে ভৈ গেল থির॥
অতিশয় আদর, বিদগধ নাগর, রাই নিয়ড়ে উপনীত।
ইহ যদুনন্দন, নিরখই দুহুঁ জন, অতিসুখে নিমগন চিত॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

সহচরী সঙ্গে,                            রঙ্গে চলু কামিনী,
দামিনী যৈহে উজোর।
গোবর্দ্ধন তট,                                নিকটহি বাট,
লেই যজ্ঞ ঘৃত থোর॥
দেখ সখী অপরূপ রঙ্গ।
নিরুপম, প্রেম                             বিলাস রসায়ন,
পিবইতে পুলকিত অঙ্গ॥
দুর সঞে দরশন,                       অনিমিখ লোচনে,
বহতঁহি আনন্দ নীর।
আনন্দ-সায়রে,                              ডূবল দুহুঁজন,
বহুক্ষণে ভৈ গেল থির॥
অতিশয় আদর,                             বিদগধ নাগর,
রাই নিয়ড়ে উপনীত।
ইহ যদুনন্দন,                              নিরখই দুহুঁ জন,
অতিসুখে নিমগন চিত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

সহচরি সঙ্গে                            রঙ্গে চলু কামিনি
দামিনি যৈছে উজোর।
গোবর্দ্ধন-তট                                নিকট বাটহি
যজ্ঞ-ঘৃত লেই ভোর॥
দেখ সখি অপরূপ রঙ্গ।
নিরূপম বিলাস                         রসায়ন পিবইতে
দুহুঁ জন পুলকিত অঙ্গ॥
দুর সঞে দরশন                        অনিমিখ লোচন
বহতহিঁ আনন্দ-নীর।
আনন্দ-সায়রে                             ডূবল দুহুঁ জন
বহু খণে ভৈ গেল থীর॥ ধ্রু॥
অতিশয় আদর                            বিদগধ নাগর
রাই নিয়ড়ে উপনীত।
ইহ যদুনন্দন                            নিরখই দুহুঁ জন
অতিসুখে নিমগন-চীত॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

সহচরী সঙ্গে                             রঙ্গে চলু কামিনী
দামিনী যৈছে উজোর।
গোবর্দ্ধন তট                                নিকট বাট হি
লেই যজ্ঞ-ঘৃত থোর॥
দেখ সখি অপরূপ রঙ্গ।
নিরুপম বিলাস                         রসায়ন পিবইতে
দুহুঁজন পুলকিত অঙ্গ॥
দুরসঞে দরশন,                        অনিমিখ লোচন
বহত হি আনন্দ নীর।
আনন্দ-সাগরে                                ডুবল দুহুঁজন
বহুক্ষণে ভৈগেল থীর॥
অতিশয় আদর                            বিদগধ নাগর
রাই নিয়ড়ে উপনীত।
ইহ যদুনন্দন                             নিরখই দুহুঁজন
অতিসুখে নিমগন চিত॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন্দরি শুনহ আজুক কথা
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮
সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ১৬২-পৃষ্ঠা।

অভিসারানুবন্ধ॥
॥ ধানসী রাগ চুঞ্চুপুট তালাভ্যাং॥

সুন্দরি শুনহ আজুক কথা।
তাপ দূরে গেল সব ভাল হৈল ইহা উপজিল যথা॥ ধ্রু॥
অরুণ উদয়ে ব্রাহ্মণ নিচয়ে আইল গোকুল মাঝ।
জরতীর স্থানে করি নিবেদনে আপন মনের কাজ॥
গোবর্দ্ধন পাশে আমরা হরিষে করিএ যজ্ঞের কাম।
যে গোপ যুবতি ঘৃত দিবে তথি ইষ্ট বর পাবে দান॥
জটিলা শুনিয়া আমারে ডাকিয়া যতন করিয়া বৈল।
বধূরে সাজাইয়া গব্য-ঘৃত লইয়া তুরিতে তাহাঁই চল॥
এসব বচনে সব সখি গণে রাইক আনন্দ হোয়।
সে হেন নাগর গুণের আগর দরশ হইবে মোয়॥
এত মনে করি অতি রসে ভরি অঙ্গহি সুবেশ কেল।
ঘৃতের পশার সাজাইয়া সত্বর সভে মেলি চলি গেল॥
এ কথা জানিয়া সে যে বিনোদিয়া বান্ধিয়া ও চূড়া ছান্দে।
সুবল আদি লইয়া আধ পথে যাইয়া রহল দানির ছান্দে॥
বেণুর নিশান করয়ে সঘন বাজাএ ও জয় তুরি।
এ যদুনন্দন করে দরশন নিবিড় আনন্দে ভরি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব,
দান-লীলা, ১৩৩২-পদসংখ্যায় এঅরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার
পুথির ১৮৪২ সংখ্যক পদ।

অথ অভিসারানুবন্ধঃ।
॥ ধানশী॥

সুন্দরি শুনহ আজুক কথা।
তাপ দূরে গেল                             সব ভাল হৈল
ইহা উপজিল যথা॥ ধ্রু॥
অরুণ উদয়ে                                ব্রাহ্মণ-নিচয়ে
আইল গোকুল মাঝ।
জরতীর স্থানে                             করি নিবেদনে
আপন মনের কাজ॥
গোবর্দ্ধন পাশে                             আমরা হরিষে
করিব যজ্ঞের কাম।
যে গোপ-যুবতি                            ঘৃত দিবে তথি
ইষ্ট-বর পাবে দান॥
জটিলা শুনিয়া                          আমারে ডাকিয়া
যতন করিয়া বৈল।
বধুরে সাজাঞা                            গাবী-ঘৃত লৈয়া
তুরিতে তাহাঁই চৈল॥
এ সব বচনে                                 সব সখীগণে
রাইয়ের আনন্দ হোয়।
সে হেন নাগর                                গুণের সাগর
দরশ হইবে মোয়॥
এত মনে করি                             অতিরসে ভরি
অঙ্গহি সুবেশ কেল।
ঘৃতের পসার                              সাজাঞা সত্বর
সভে মেলি চলি গেল॥
এ কথা জানিয়া                         সে যে বিনোদিয়া
বান্ধিয়া ও চূড়া-চান্দে।
সুবলাদি লইয়া                         আধ পথে যাইয়া
রহল দানীর ছান্দে॥
বেণুর নিসান                                  করয়ে সঘন
বাজায় ও জয়-তুরী।
এ যদুনন্দন                                    করে দরশন
নিবিড় আনন্দে ভরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ ধানশী॥

সুন্দরি শুনহ আজুক কথা।
তাপ দূরে গেল                             সব ভাল হৈল
ইহা উপজিল যথা॥ ধ্রু॥
অরুণ উদয়ে                                ব্রাহ্মণ-নিচয়ে
আইল গোকুল মাঝ।
জরতীর স্থানে                              করি নিবেদনে
আপন মনের কাজ॥
গোবর্দ্ধন পাশে                             আমরা হরিষে
করিব যজ্ঞের কাম।
যে গোপ-যুবতি                            ঘৃত দিবে তথি
ইষ্ট বর পাবে দান॥
জটিলা শুনিয়া                            আমারে ডাকিয়া
যতন করিয়া বৈল।
বধুরে সাজাঞা                            গাবী-ঘৃত লৈয়া
তুরিতে তাহাঁই চৈল॥
এ সব বচনে                                 সব সখীগণে
রাইয়ের আনন্দ হোয়।
সে হেন নাগর                                গুণের সাগর
দরশ হইবে মোয়॥
এত মনে করি                             অতিরসে ভরি
অঙ্গহি সুবেশ কেল।
ঘৃতের পসার                              সাজাঞা সত্বর
সভে মেলি চলি গেল॥
এ কথা জানিয়া                          সে যে বিনোদিয়া
বান্ধিয়া ও চূড়া-চান্দে।
সুবলাদি লইয়া                          আধ পথে যাইয়া
রহল দানীর ছান্দে॥
বেণুর নিসান                                  করয়ে সঘন
বাজায় ও জয়-তুরী।
এ যদুনন্দন                                    করে দরশন
নিবিড় আনন্দে ভরি॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - তেওট॥

সুন্দরী শুনহ আজুক কথা।
তাপ দূরে গেল,                              সব ভাল হৈল,
ইহা উপজিল যথা॥ ধ্রু॥
অরুণ উদয়ে,                                ব্রাহ্মণ নিচয়ে,
আইল গোকুল মাঝ।
জরতির স্থানে,                              করি নিবেদনে,
আপন মনের কাজ॥
গোবর্দ্ধন পাশে                               আমরা হরিষে
করিব যজ্ঞের কাম।
যে গোপ-যুবতী                              ঘৃত দিবে তথি
ইষ্টবর পাবে দান॥
জটিলা শুনিয়া                             আমারে ডাকিয়া
যতন করিয়া কৈল।
বধুরে সাজাইয়া                             গব্য ঘৃত লইয়া
তুরিতে তাহাই চৈল॥
এ সব বচনে                                    সব সখীগণে
রাইয়ের আনন্দ হোয়।
সে হেন নাগর                                  গুণের সাগর
দরশ হইবে মোয়॥
এত মনে করি                              অতি রসে ভরি
অঙ্গহি সুবেশ কৈল।
ঘৃতের পসার                                সাজাঞা সত্বর
সভে মেলি চলি গেল॥
এ কথা জানিয়া                           সে যে বিনোদিয়া
বান্ধিয়া ও চূড়া-চান্দে।
সুবলাদি লৈয়া                            আধ পথে যাইয়া
রহল দানির ছান্দে॥
বেণুর নিসান                                    করয়ে সঘন
বাজায় ও জয়তুরী।
এ যদু নন্দন                                    করে দরশন
নিবিড় আনন্দে ভোরি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানুক মধুর বচন রচনগণ
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮
সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ রাগ নিঃসারক তালৌ॥

কানুক মধুর বচন রচন গণ সুনইতে নায়রি ভোর।
মধুরিম হাস মিলিত নয়নে থোর চাহনি তাকর ওর॥
সজনি কো কহু প্রেম বিলাস।
হেরইতে ঐছন নিজ নিজ জীবন নিছন করু অভিলাষ॥ ধ্র॥
দুহুঁ জন নয়ন নয়ন বাণ বরিষণে হানল দুহুঁ কর চীত।
রস আকুতে ভরি আন ছলে নাগরি অনতহি ভেল উপনীত॥
নাহ রসিক বর পন্থ আগোরল কহ তঁহি চতুরিম বাত।
আনন্দে নিমগন দাস যদুনন্দন শুন তঁহি পুলকিত গাত॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব,
দান-লীলা, ১৩৩৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার
পুথির ১৮৪৭ সংখ্যক পদ।

অথ অভিসারানুবন্ধঃ।
॥ বরাড়ী॥

কানুক মধুর                                বচন রচনগণ
সুনইতে নায়রি ভোর।
মধুরিম-হাস-                         মিলিত নয়নে থোর
চাহনি তাকর ওর॥
সজনী কো কহ প্রেম-বিলাস।
হেরইতে ঐছন                           নিজ নিজ জীবন
নীছন করু অভিলাষ॥ ধ্র॥
দুহুঁ জন নয়ন                          নয়ন-শর বরিষণে
হানল দুহুঁকর চীত।
রস-আকুতে ভরি                        আন ছলে নাগরি
অনতহিঁ ভেল উপনীত॥
নাহ রসিক বর                             পন্থ আগোরল
কহতহি চতুরিম বাত।
আনন্দে নিমগন                              দাস যদুনন্দন
শুনতহি পুলকিত গাত॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কানুক মধুর, বচন রচনগণ, সুনইতে নায়রী ভোর।
মধুরিম-হাস-মিলিত নয়নে থোর, চাহনি তাকর ওর॥
সজনি কো কহু প্রেম বিলাস।
হেরইতে ঐছন, নিজ নিজ জীবন, নিছন করু অভিলাষ॥
দুহুঁ জন নয়নে, নয়ন শর বরিষণে, হানল দুহুঁ কর চিত।
রস-আকুতে ভরি, আন ছলে নাগরী, অনতহিঁ ভেল উপনীত॥
নাহ রসিক বর, পন্থ আগোরল, কহতহি চতুরিম বাত।
আনন্দে নিমগন, দাস যদুনন্দন, শুনতহিঁ পুলকিত গাত॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

কানুক মধুর,                                বচন রচনগণ,
শুনইতে নায়রী ভোর।
মধুরিম-হাস-                        মিলিত নয়নে থোর,
চাহনি তাকর ওর॥
সজনি, কো কহ প্রেম-বিলাস।
হেরইতে ঐছন,                         নিজ নিজ জীবন,
নিছন করু অভিলাষ॥
দুহুঁ জন নয়নে,                        নয়ন শর বরিষণে
হানল দুহুঁ কর চিত।
রস-আকুতে ভরি,                      আন ছলে নাগরী,
অনতহিঁ ভেল উপনীত॥
নাহ রসিক বর,                           পন্থ আগোরল,
কহতহিঁ চতুরিম বাত।
আনন্দে নিমগন,                           দাস যদুনন্দন,
শুনতহিঁ পুলকিত গাত॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দান-লীলা।
॥ কামোদ - দশকুশী॥

কানুক মধুর                                বচন রচনগণ
শুনইতে নাগরী ভোর।
মধুরিম হাস                          মিলিত নয়নে থোর
চাহনি তাকর ওর॥
সজনি কো কহ প্রেম বিলাস।
হেরইতে ঐছন                           নিজ নিজ জীবন
নীছন করু অভিলাষ॥
দুহুজন নয়নে                         নয়ন বাণ বরিষণে
হানল দুহুঁ কর চিত।
রস-আকুতে ভরি                        আন ছলে নাগরী
আনতহি ভেল উপনীত॥
নাহ রসিকবর                              পন্থ আগোরল
কহতহি চতুরিম বাত।
আনন্দে নিমগন                             দাস যদুনন্দন
শুনতহি পুলকিত গাত॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানুক গোঠ-গমনে ধনি রাই
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৫শ পল্লব, দান-লীলা, ১৩৫২-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ১৮৬২ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

কানুক গোঠ-গমনে ধনি রাই।
বিরহে বেয়াকুল থীর না পাই॥
সখিগণে কহে হই বিরহে বিভোর।
কৈছে মিলব আজু নন্দ-কিশোর॥
হৃদয়ক তাপ তব মিটব হামার।
গোগণে কানন ভেল বিথার॥
গোপ সখাগণ তাহে অপার।
আজু কি করব মিলন বিচার॥
কৈছনে যাওব ইহ দিন মাঝ।
যদুনন্দন তুয়া সঙ্গহি সাজ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কানুক গোঠ গমনে ধনী রাই।
বিরহে বেয়াকুল থির না পাই॥
সখীগণে কহে ইহ বিরহে বিভোর।
কৈছে মিলব আজু নন্দ-কিশোর॥
গোগণে কানন ভেল বিথার॥
গোপ সখাগণ তাহে অপার।
কৈছনে যাওব ইহ দিন মাঝ।
যদুনন্দন তুয়া সঙ্গেহি সাজ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কানুক গোঠ-গমনে ধনী রাই।
বিরহে বেয়াকুল থির না পাই॥
সখীগণে কহে হই বিরহে বিভোর।
কৈছে মিলব আজু নন্দ কিশোর॥
গোগণে কানন ভেল বিথার।
গোপসখাগণ তাহে অপার॥
কৈছনে যাওব ইহ দিন মাঝ।
যদুনন্দন তুয়া সঙ্গেহি সাজ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কানুক গোঠ-গমনে ধনী রাই।
বিরহে বেয়াকুল থীর না পাই॥
সখিগণে কহে হই বিরহে বিভোর।
কৈছে মিলব আজু নন্দকিশোর॥
হৃদয়ক তাপ তব মিটব হামার।
গো গণে কানন ভেল বিথার॥
গোপ সখাগণ তাহে অপার।
আজু কি করব মিলন বিচার॥
কৈছনে যাওব ইহ দিন মাঝ।
যদুনন্দন তুয়া সঙ্গহি সাজ॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কৌ-ললিতমিশ্র ধানশী - ছোট দোঠুকী॥

কানুক গোঠ গমনে ধনি রাই।
বিরহে বেয়াকুল থীর না পাই॥
সখিগণ কহে ইহ বিরহে বিভোর।
কৈছে মিলব আজু নন্দকিশোর॥
হৃদয়ক তাপ তব মিটব হামার।
গোগণে কানন ভেল বিথার॥
গোপ সখাগণ তাহে অপার।
আজু কি করব হাম মিলন বিচার॥
কৈছনে যাওব ইহদিন মাঝ।
যদুনন্দন তুয়া সঙ্গহি সাজ॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ফুয়ল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতী
ফুয়ল অশোক নাগকেশর রঙ্গণ
ফুটল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতী
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৭শ পল্লব, বসন্ত-লীলা, ১৪৩০-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ১৯৮৩ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

ফুয়ল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতী।
পরিমলে ভরল মাধবী রঙ্গলতী॥
পাটল কিংশুক শোভা কাঞ্চন কেশর।
করুণ কমল কুন্দ করবীর-বর॥
মুকুলিত রসাল বকুল গন্ধরাজ।
ললিত লবঙ্গলতা বন্ধুজীব সাজ॥
সরোবরে সরসিজগণ দিল দেখা।
হংস সারস পড়ে মেলি দুই পাখা॥
ঝাঁকে ঝাঁকে অলিকুল গুণ গুণ স্বরে।
মধুমদে মাতি পড়ে ফুলের উপরে॥
কোকিল পঞ্চম গায় শিখিকুল নাচে।
মলয়-পবন বহে গন্ধ পাছে পাছে॥
নির্ম্মল যযুনা-জল১ পুলিনের শোভা।
এ যদুনন্দন-পহুঁ ভেল মনোলোভা॥

১ - যযুনা-জল - যমুনা-জল হবে। নিশ্চিত মুদ্রণ প্রমাদ।

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ফুয়ল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতি।
পরিমলে ভরল মাধবী রঙ্গলতি॥
পাটল কিংশুক শোভা কাঞ্চনকেশর।
করুণকমল কুন্দ করবী টগর॥
মুকুলিত রসাল বকুল গন্ধরাজ।
ললিত লবঙ্গলতা বন্ধুজীব সাজ॥
সরোবরে সরসিজগণ দিল দেখা।
হংস সারস পড়ে মেলি দুই পাখা॥
ঝাঁকে ঝাঁকে অলিকুল গুণ্ গুণ্ স্বরে।
মধুমদে মাতি পড়ে ফুলের উপরে॥
কোকিল পঞ্চম গায় শিখিকুল নাচে।
মলয় পবন বহে গন্ধ পাছে পাছে॥
নির্ম্মল যমুনাজল পুলিনের শোভা।
এ যদুনন্দন পহু ভেল মনোলোভা॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত॥

ফুটল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতী।
পরিমলে ভরল মাধবী রঙ্গলতী॥
পাটল কিংশুক শোভা কাঞ্চন কেশর।
করুণ কমল কুন্দ করবীর বর॥
মুকুলিত রসাল বকুল গন্ধরাজ।
ললিত লবঙ্গলতা বন্ধুজীব সাজ॥
সরোবরে সরসিজগণ দিল দেখা।
হংস সারস পড়ে মেলি দুই পাখা॥
ঝাঁকে ঝাঁকে অলিকুল গুণ গুণ স্বরে।
মধুমদে মাতি পড়ে ফুলের উপরে॥
কোকিল পঞ্চম গায় শিখিকুল নাচে।
মলয় পবন বহে গন্ধ পাছে পাছে॥
নির্ম্মল যমুনা-জল পুলিনের শোভা।
এ যদুনন্দন পহুঁ ভেল মনোলোভা॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ফুটল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতী।
পরিমলে ভরল মাধবী রঙ্গবতী॥
পাটল কিংশুক শোভা কাঞ্চন কেশর।
করুণ কমল কুন্দ করবীর বর॥
মুকুলিত রসাল বকুল গন্ধরাজ।
ললিত লবঙ্গলতা বন্ধুজীব সাজ॥
সরোবরে সরসিজগণ দিল দেখা।
হংস সারস পড়ে মেলি দুই পাখা॥
ঝাঁকে ঝাঁকে অলিকুল গুণ গুণ স্বরে।
মধুমদে মাতি পড়ে ফুলের উপরে॥
কোকিল পঞ্চম গায় শিখিকুল নাচে।
মলয়-পবন বহে গন্ধ পাছে পাছে॥
নির্ম্মল যযুনা-জল পুলিনের শোভা।
এ যদুনন্দন পহুঁ ভেল মনোলোভা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী বাহার মিশ্র - তাল দাশপাহিড়া॥

ফুয়ল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতী।
পরিমলে ভরল মাধবী রঙ্গলতি॥
পাটল কিংশুক শোভা কাঞ্চন কেশর।
করুণ কমল কুন্দ করবীর বর॥
মুকুলিত রসাল বকুল গন্ধরাজ।
ললিত লবঙ্গল তা বন্ধুজীব সাজ॥
সরোবরে সরসিজগণ দিল দেখা।
হংস সারস পড়ে মিলি দুই পাখা॥
ঝাঁকে ঝাঁকে অলিকুল গুণ গুণ স্বরে।
মধুমদে মাতি পড়ে ফুলের উপরে॥
কোকিল পঞ্চম গায় শিখিকুল নাচে।
মলয় পবন বহে গন্ধ পাছে পাছে॥
নির্ম্মল যমুনা জল পুলিনের শোভা।
এ যদুনন্দন পহুঁ ভেল মনোলোভা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত-লীলা
॥ তথা রাগ॥

ফুয়ল অশোক নাগকেশর রঙ্গণ।
মাধবী রঙ্গলতী পরিমলে ভরু বন॥
পাটল কিংশুক কাঞ্চনের শোভা অতি।
করুণ কমল কুন্দ করবীর যূথী॥
মুকুলিত রসাল বকুল গন্ধরাজ।
ললিত লবঙ্গলতা বন্ধুজীব সাজ॥
সরোবরে সরসিজগণ দিল দেখা।
হংস সারস পড়ে মেলি দুই পাখা॥
ঝাঁকে ঝাঁকে অলিকুল গুণ গুণ স্বরে।
মধুমদে মাতি পড়ে ফুলের উপরে॥
কোকিল পঞ্চম গায় শিখিকুল নাচে।
মলয়পবন বহে গন্ধ পাছে পাছে॥
নির্ম্মল যযুনাজল পুলিনের শোভা।
এ যদুনন্দন পহুঁ ভেল মনোলোভা॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিতকৌবিভাস - দুঠুকী॥

ফুয়ল অশোক নাগ রঙ্গণ মালতী।
পরিমলে ভরল মাধবী রঙ্গলতী॥
পাটল কিংশুক শোভা কাঞ্চন কেশর।
করুণ কমল কুন্দ করবীর-বর॥
মুকুলিত রসাল বকুল গন্ধরাজ।
ললিত লবঙ্গলতা বন্ধুজীব সাজ॥
সরোবরে সরসিজগণ দিল দেখা।
হংস সারস পড়ে মেলি দুই পাখা॥
ঝাঁকে ঝাঁকে অলিকুল গুণ গুণ স্বরে।
মধুমদে মাতি পড়ে ফুলের উপরে॥
কোকিল পঞ্চম গায় শিখিকুল নাচে।
মলয়-পবন বহে গন্ধ পাছে পাছে॥
নির্ম্মল যমুনা-জল পুলিনের শোভা।
এ যদুনন্দন-পহুঁ ভেল মনোলোভা॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিদগধ নাগর কাতর দেখিয়া
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৬শ পল্লব,
বসন্তকালোচিত মান, ২০৫০-পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

বিদগধ নাগর কাতর দেখিয়া।
চমকিত দোতিক চীত।
ঐছে বিলাপ শুনিতে তনু পুলকিত
অন্তরে ভেল বহু ভীত॥
মাধব থীর কর নিজ প্রাণ।
তোহে উপেখি সোই কুল-কামিনি
কা সঞে সাধব মান॥ ধ্রু॥
তুয়া লাগি হাম তাহে বহু সাধব
তোহে লেয়ব তছু ঠাম।
মানিনি-মান মানাই তোহারি সনে
পুরায়ব সব মনকাম॥
এতহুঁ নিদেশ কহল যব সো সখি
কহ পুন ছোড়ি নিশাস।
সো সব শুনইতে হৃদয় বিদারয়ে
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

বিদগধ নাগর, কাতর দেখিয়া, চমকিত দোতীক চিত।
ঐছে বিলাপ, শুনিতে তনু পুলকিত, অন্তরে ভেল বহু ভীত॥
মাধব থির করহ নিজ প্রাণ।
তোহে উপেখি, সোই কুল-কামিনী, কা সঞে সাধব মান॥
তুয়া লাগি হাম, তাহে বহু সাধব, তোহে লেয়ব তছু ঠাম।
মানিনী মান, মানাই তোহারি সনে, পূরায়ব সহ মনকাম॥
এতহুঁ নিদেশ, কহল যব সো সখী, কহ পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
সে সব শুনইতে, হৃদয় বিদারয়ে, কহ যদুনন্দনদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বিদগধ নাগর,                        কাতর দেখিয়া,
চমকিত দোতীক চিত।
ঐছে বিলাপ,                  শুনিতে তনু পুলকিত,
অন্তরে ভেল বহু ভীত॥
মাধব, থির করহ নিজ প্রাণ।
তোহে উপেখি,                    সোই কুল কামিনী,
কা সঞে সাধব মান॥
তুয়া লাগি হাম,                      তাহে বহু সাধব,
তোহে লেয়ব তছু ঠাম।
মানিনী মান,                     মানাই তোহারি সনে,
পূরায়ব সব মনকাম॥
এতহুঁ নিদেশ                       কহল যব সো সখী
কহ পুন ছোড়ি নিশ্বাস।
সো সব শুনইতে,                      হৃদয় বিদারয়ে,
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বিদগধ নাগর কাতর দেখিয়া অতি
চমকিত দোতিক চীত।
ঐছে বিলাপ শুনিতে তনু পুলকিত
অন্তরে ভেল বহু ভীত॥
মাধব থীর করহ নিজপ্রাণ।
তোহে উপেখি সোই কুল কামিনি
কা সঞে সাধব মান॥
তুয়া লাগি হাম তাহে বহু সাধব
তোহে লেয়ব তছু ঠাম।
মানিনি-মান মানাই তোহারি সনে
পুরায়ব সব মনকাম॥
এতহুঁ নিদেশ কহল যব সো সখি
কহ পুন ছোড়ি নিশাস।
সো সব শুনইতে হৃদয় বিদারয়ে
কহ যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর