কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
হেনই সময়ে এক সখী
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৭শ পল্লব, বাসন্তী-রাস-লীলা, ১৫০৬-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ২০৫৫ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

হেনই সময়ে এক সখী।
নিকুঞ্জ-মন্দিরে রাই দেখি॥
কহে আসি বিনোদ নাগরে।
দেখ রাই কুঞ্জের ভিতরে॥
শুনিয়া চমকি উঠে কান।
সখী সঞে করল পয়ান॥
যাহাঁ বসি রাধা সুন্দরী।
সমুখে কহয়ে কর যোড়ি॥
ক্ষেম ধনি মঝু অপরাধ।
হেন প্রেমে না করহ বাদ॥
হাম তুয়া অনুগত কান।
কাহে করসি মোহে মান॥
এত কহি চরণে ধরিয়া।
সাধয়ে অবনী লোটাইয়া॥
কাতর দেখিয়া ধনী রাই।
করে কর ধরে মুখ চাই॥
দূরে গেও মানিনী-মান।
এ যদুনন্দন গুণ গান॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

হেনই সমএ এক সখী। নিকুঞ্জ মন্দিরে রাই দেখি॥
কহে হাসি বিনোদ নাগরে। দেখ রাই কুঞ্জের ভিতরে॥
সুনিয়া চমকি উঠি কান। সখী সঞে করল পয়ান॥
জাহা বসি রাধিকা সুন্দরী। সম্মুখে কহএ কর জোড়ি॥
খেম ধনি মঝু অপরাধ। হেন প্রেমে না করহ বাদ॥
হাম তুয়া অনুগত কান। কাহে করসি মুঝে মান॥
এত কহি চরণে ধরিএ। সাধএ অবনী লোটাইএ॥
কাতর দেখিএ ধনি রাই। করে কর ধরে মুখ চাই॥
দূরে গেও মানিনী মান। এ যদুনন্দন গুণ গান॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

হেনই সময়ে এক সাথী।
নিকুঞ্জ-মন্দিরে রাই দেখি॥
কহে আসি বিনোদ নাগরে।
দেখ রাই কুঞ্জের ভিতরে॥
শুনিয়া চমকি উঠে কান।
সখী সঞে করল পয়ান॥
যাঁহা বসি রাধিকা সুন্দরী।
সমুখে কহয়ে কর যোড়ি॥
ক্ষম ধনি মঝু অপরাধ।
হেন প্রেমে না করহ বাদ॥
হাম তুয়া অনুগত কান।
কাঁহে করসি মোহে মান॥
এত কহি চরণে ধরিয়া।
সাধয়ে অবনী লোটাইয়া॥
কাতর দেখিয়া ধনী রাই।
করে কর ধরি মুখ চাই॥
দূরে গেও মানিনী মান।
এ যদুনন্দন গুণ গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

হেনই সময়ে এক সখী।
নিকুঞ্জ-মন্দিরে রাই দেখি॥
কহে আসি বিনোদ নাগরে।
দেখ রাই কুঞ্জের ভিতরে॥
শুনিয়া চমকি উঠে কান।
সখী সঞে করল পয়ান॥
যাহাঁ বসি রাধা সুন্দরী।
সমুখে কহয়ে কর যোড়ি॥
ক্ষেম ধনি মঝু অপরাধ।
হেন প্রেমে না করহ বাদ॥
হাম তুয়া অনুগত কান।
কাহে করসি মোহে মান॥
এত কহি চরণে ধরিয়া।
সাধয়ে অবনী লোটাইয়া॥
কাতর দেখিয়া ধনী রাই।
করে কর ধরে মুখ চাই॥
দূরে গেও মানিনী-মান।
এ যদুনন্দন গুণ গান॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিধুবনে রাধামোহন-কেলি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৭শ পল্লব, মাধবী-বিলাস, ১৫২৮-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ২০৭৩ সংখ্যক পদ।

॥ ভূপালী॥

নিধুবনে রাধামোহন-কেলি।
কুসুম-সমর করু সহচরি মেলি॥
বৃন্দা দেবী যোগাওত ফুল।
বহুবিধ তোড়ক রচিত বকুল॥
সহচরি কুসুম বরিখে শ্যাম অঙ্গ।
তোড়ল পিঞ্ছমুকুট বহু রঙ্গ॥
লাখে লাখে গেন্দু পড়য়ে শ্যাম-গায়।
মধুমঙ্গল সহ সুবল পলায়॥
সখিগণ মেলি দেই করতালী।
ফুল-ধনু লেই ফিরয়ে বনমালী॥
রাইক সঙ্গে করয়ে ফুল-রণ।
কোই না জীতয়ে সম দুই জন॥
অদভুত দুহুঁ জন কুসুম-বিলাস।
হেরি যদুনন্দন আনন্দে ভাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ভূপালী॥ তাল পরিমিত॥

নিধুবনে রাধামোহন কেলি। কুসুম সমর করু সহচরী মেলি॥
বিন্দাদেবী জোগাওত ফুল। বহুবিধ তোড়ক রচিত বকুল॥
সহচরী কুসুম বরিখে শ্যামঅঙ্গ। তোড়ল পিঙ্ক মুকুট বহুরঙ্গ॥
লাখ লাখ গেন্দু পড়এ শ্যামগায়। মধুমঙ্গল সহ সুবল পলায়॥
সখীগণ মেলি দেই করতালি। ফুলধনুক লেই ফেরই বনমালী॥
রাইক সঙ্গে করএ ফুলরণ। কোই না জিতিএ সমান দুই জন॥
অদভুত দুহুঁ জন কুসুমবিলাস। হেরি যদুনন্দন আনন্দে ভাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

নিধুবনে রাধামোহন কেলি।
কুসুম-সমর করু সহচরী মেলি॥
বৃন্দাদেবী যোগাওত ফুল।
বহুবিধ তোড়ক রচিত বকুল॥
সহচরী কুসুম বরিখে শ্যাম অঙ্গে।
তোড়ল পিঞ্ছমুকুট বহু রঙ্গে॥
লাখে লাখে গেন্দু পড়য়ে শ্যাম গায়।
মধুমঙ্গল সহ সুবল পলায়॥
সখীগণ মেলি দেই করতালী।
ফুল-ধনু লেই ফিরয়ে বনমালী॥
রাইক সঙ্গে করয়ে ফুল-রণ।
কোই না জীতয়ে সম দুই জন॥
অদভুত দুহুঁ জন কুসুম-বিলাস।
হেরি যদুনন্দন আনন্দে ভাস॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ফুলদোল।
॥ ভূপালী - দুঠুকী॥

নিধুবনে রাধামোহন কেলি।
কুসুম সমর করু সহচরী মেলি॥
বৃন্দাদেবী যোগাওত ফুল।
বহুবিধ তোড়ক রচিত বকুল॥
সহচরী কুসুম বরিখে শ্যাম অঙ্গে।
তোড়ল পিঞ্ছ মুকুট বহুরঙ্গে॥
লাখে লাখে গেন্দু পড়য়ে শ্যামগায়।
মধু মঙ্গল সহ সুবল পলায়॥
সখীগণ মেলি দেই করতালী।
ফুলধনু লেই ফিরয়ে বনমালী॥
রাইক সঙ্গে করয়ে ফুলরণ।
কোই না জীতয়ে সম দুইজন॥
অদভূত দুহুঁজন কুসুমবিলাস।
হেরি যদুনন্দন আনন্দে ভাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ভূপালী - তাল দাশপাহিড়া॥

নিধুবনে রাধামোহন কেলি। কুসুম সমর করু সহচরী মেলি॥
বৃন্দা দেবী যোগায়ত ফুল। বহুবিধ তোড়ক রচিত বকুল॥
সহচরী কুসুম বরিখে শ্যাম অঙ্গে। তোড়ল পিঞ্ছ মুকুট বহু রঙ্গে॥
লাখে লাখে গেন্দু পড়ে শ্যাম গায়। মধুমঙ্গল সহ সুবল পালায়॥
সখীগণ মেলি দেই করতালি। ফুল ধনু লেই ঘেরয়ে বনমালী॥
রাইক সঙ্গে করাই ফুল রণ। কোই না জীতয়ে সম দুই জন॥
অদভুত দুহুঁজন কুসুম বিলাস। হেরি যদুনন্দন আনন্দে ভাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাধবীবিলাস
॥ ভূপালী॥

নিধুবনে রাধামোহন কেলি।
কুসুমসমর করু সহচরি মেলি॥
বৃন্দা দেবী যোগাওত ফুল।
বহুবিধ তোড়ক রচিত বকুল॥
সহচরি কুসুম বরিখে শ্যামঅঙ্গ।
তোড়ল পিঞ্ছমুকুট বহু রঙ্গ॥
লাখে লাখে গেন্দু পড়য়ে শ্যামগায়।
মধুমঙ্গল সহ সুবল পলায়॥
সখীগণ মেলি দেই করতালী।
ফুল-ধনু লেই ফিরয়ে বনমালী॥
রাইক সঙ্গে করয়ে ফুলরণ।
কোই না জীতয়ে সম দুই জন॥
অদভুত দুহুঁ জন কুসুমবিলাস।
হেরি যদুনন্দন আনন্দে ভাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সমর সমাধিয়া যুগল কিশোর
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৭শ পল্লব, মাধবী-বিলাস, ১৫২৯-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ২০৭৪ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

সমর সমাধিয়া যুগল কিশোর।
আওল দুহুঁ যাহাঁ কুসুম-হিণ্ডোর॥
বৃন্দা দেবি-রচিত ফুল-দোলা।
ঝুলয়ে দুহুঁ জন আনন্দে বিভোলা॥
কুসুম বরিখে সব সহচরি মেলি।
গাওত বহুবিধ মনসিজ-কেলি॥
কত কত যন্ত্র সুমেলি করি।
নাচত গাওত তাল ধরি॥
দোলত দুহুঁ জন কুসুম-হিণ্ডোরে।
দুই দিগে দুই সখি দেই ঝকোরে॥
তড়িতে জড়িত জনু জলধর-কাঁতি।
পরিমলে ধাওল মধুকর-পাঁতি॥
অপরূপ দোলত কেলি-নিকুঞ্জে।
দুহুঁ পর কুসুম পড়ই কুঞ্জে কুঞ্জে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুহুঁ মৃদু মৃদু হাস।
হেরি মুগধ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

সমর সমাধিএ যুগল কিশোর। আওল দুহুঁ জাহা কুসুম হিণ্ডোর॥
বিন্দা দেবী রচিত ফুলদোলা। ঝুলএ দুহুঁ জন আনন্দে বিভোলা॥
কুসুম বরিখে সব সহচরী মেলি। গাওত বহুবিধ মনসিজ কেলি॥
কত কত জন্ত সুমেলি করি। নাচত গাওত তাল ধরি॥
দোলত দুহুঁজন কুসুম হিণ্ডোর। দুইদিকে দুই সখী দেই ঝকোর॥
তড়িতে জড়িত জেন জলধর কাঁতি। পরিমলে ধাওত মধুকরপাঁতি॥
অপরূপ দোলত কেলিনিকুঞ্জে। দুহুঁ পর কুসুম পড়ই পুন কুঞ্জে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুহুঁ মৃদুমৃদু হাস। হেরি মুগধ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

সমর সমাধিয়া যুগলকিশোর।
আওল দুঁহু যাঁহা কুসুমক ডোর॥
বৃন্দাদেবি রচিত ফুলদোলা।
ঝুলয়ে দুঁহুজন আনন্দে বিভোলা॥
কুসুম বরিখে সব সহচরী মেলি।
গাওত বহুবিধ মনসিজ কেলি॥
কত কত যন্ত্র সুমেলি করি।
নাচত গাওত তাল ধরি॥
দোলত দুহুঁজন কুসুমহি ডোরে।
দুই দিকে দুই সখী দেই ঝকোরে॥
তড়িতে জড়িত জনু জলধর কাঁতি।
পরিমলে ধাওল মধুকর পাঁতি॥
অপরূপ দোলত কেলি নিকুঞ্জে।
দুহুঁপর কুসুম পড়ে পুঞ্জে পুঞ্জে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুঁহু মৃদুমৃদু হাস।
হেরি মুগধ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

সমর সমাধিয়া যুগল কিশোর।
আওল দুহুঁ যাহা কুসুমক ডোর॥
বৃন্দাদেবী-রচিত ফুল-দোলা।
ঝুলয়ে দুহুঁ জন আনন্দে বিভোলা॥
কুসুম বরিখে সব সহচরী মেলি।
গাওত বহুবিধ মনসিজ-কেলি॥
কত কত যন্ত্র সুমেলি করি।
নাচত গাওত তাল ধরি॥
দোলত দুহু জন কুসুম-হিণ্ডোরে।
দুই দিগে দুই সখী দেই ঝকোরে॥
তড়িতে জড়িত জনু জলধর-কাঁতি।
পরিমলে ধাওল মধুকর পাঁতি॥
অপরূপ দোলত কেলি নিকুঞ্জে।
দুহুঁ পর কুসুম পড়য়ে পুঞ্জে পুঞ্জে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুহুঁ মৃদু মৃদু হাস।
হেরি মুগধ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী - তাল দাশপাহিড়া॥

সমর সমাধিয়া যুগল কিশোর। আওল দুহুঁ যাহাঁ কুসুম হিঁডোর॥
বৃন্দাদেবী রচিত ফুল দোলা। ঝুলয়ে দুহুঁ জন আনন্দে বিভোলা॥
কুসুম বরিখে সব সহচরী মেলি। গাওত বহুবিধ মনসিজ কেলি॥
কত কত যন্ত্র সুমেলি করি। নাচত গাওত তাল ধরি॥
দোলত দুহুঁ জন কুসুম হিণ্ডোরে। দুই দিকে দুই সখী দেই ঝকোরে॥
তড়িতে তড়িত জনু জলধর কাঁতি। পরিমলে ধাওল মধুকর পাঁতি॥
অপরূপ দোলত কেলি নিকুঞ্জে। দুহুঁ পর কুসুম পড়য়ে পুঞ্জে পুঞ্জে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুহুঁ মৃদু মৃদু হাস। হেরি মুগধ যদুনন্দন দাস॥

ভাবার্থ -
ফুলের রণ শেষ করিয়া বৃন্দাদেবীর বিরচিত ফুল দোলাতে দুইজন উঠিয়া বসিলেন।
দুইদিক হইতে দুই সখী দোলা ঝুলাইতে লাগিলেন।---সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “পদামৃত
লহরী”॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ফুলদোল
॥ তথা রাগ॥

সমর সমাধিয়া যুগল কিশোর।
আওল দুহুঁ যাহাঁ কুসুমহিণ্ডোর॥
বৃন্দা দেবীরচিত ফুলদোলা।
ঝূলয়ে দুহুঁ জন আনন্দে বিভোলা॥
কুসুম বরিখে সব সহচরি মেলি।
গাওত বহুবিধ মনসিজকেলি॥
সুমেলি করিয়া কত কত যন্ত্র।
নাচত গাওত তাল স্বতন্ত্র॥
দোলত দুহুঁ জন কুসুমহিণ্ডোরে।
দুইদিগে দুই সখী দেই ঝকোরে॥
তড়িত জড়িত জনু জলধর-কাঁতি।
পরিমলে ধাওল মধুকর-পাঁতি॥
অপরূপ দোলত কেলি-নিকুঞ্জে।
দুহুঁ পর কুসুম পড়ই কুঞ্জে কুঞ্জে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুহুঁ মৃদু মৃদু হাস।
হেরি মুগধ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ফুলদোল।
॥ তথা রাগ॥

সমর সমাধিয়া যুগল কিশোর।
আওল দুহুঁ যাঁহা কুসুমক ডোর॥
বৃন্দাদেবি রচিত ফুল-দোলা।
ঝূলয়ে দুহুঁ জন আনন্দে বিভোলা॥
কুসুম বরিখে সব সহচরী মেলি।
গাওত বহুবিধ মনসিজ কেলি॥
কত কত যন্ত্র সুমেলি করি।
নাচত গাওত তাল ধরি॥
দোলত দুহুঁ জন কুসুম হিণ্ডোরে।
দুই দিগে দুই সখী দেই ঝকোরে॥
তড়িতে জড়িত জনু জলধর কাঁতি।
পরিমলে ধায়ত মধুকর পাঁতি॥
অপরূপ দোলত কেলি নিকুঞ্জে।
দুহুঁ পর কুসুম পড়য়ে পুঞ্জে পুঞ্জে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুহুঁ মৃদু মৃদু হাস।
হেরি মুগধ যদু নন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ফুল-বনে দোলয়ে ফুলময় তনু
ফুল বনে দেখিয়ে ফুলময় তনু
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২য় খণ্ড, ৩য়
শাখা, ২৭শ পল্লব, মাধবী-বিলাস, ১৫৩০-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ২০৭৫ সংখ্যক পদ।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ফুল-বনে দোলয়ে ফুলময় তনু।
ফুলময় অভরণ করে ফুল-ধনু॥
ফুলময় খিতিতল ফুলময় কুঞ্জ।
ফুলময় সখি বরিখয়ে ফুল-পুঞ্জ॥
ফুল-তনু হেরি মুগধ ফুল-বাণ।
ফুল-শরে হানল ফুলময় কান॥
ফুলে উয়ল বন ফুল-বায়ু মন্দ।
ফুল-রসে গুঞ্জয়ে মধুকর-বৃন্দ॥
অপরূপ ফুল-দোল ফুল-বিলাস।
ফুল করে রহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী পটমঞ্জরী তালোচিত॥

ফুলবনে দোলত ফুলময় তনু। ফুলময় অভরণ করে ফুলধনু॥
ফুলময় ক্ষিতিতল ফুলময় কুঞ্জ। ফুলময় সখী বরিখএ ফুলপুঞ্জ॥
ফুলতনু হেরি মুগদ ফুলবাণ। ফুলশরে হানল ফুলময় কান॥
ফুলে উঅল বনফুল বায়ু মন্দ। ফুলশরে গুঞ্জএ মধুকরবৃন্দ॥
অপরূপ ফূলদোল ফুলবিলাস। ফুল করে রহএ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ফুল বনে দেখিয়া ফুলময়-তনু।
ফুলময় আভরণ করে ফুল-ধনু॥
ফুলময় ক্ষিতিতল ফুলময় কুঞ্জ।
ফুলময় সখী বরিখে ফুল-পুঞ্জ॥
ফুল-তনু হেরি মুগধ ফুল-বাণ।
ফুল-শরে হানল ফুলময় কান॥
ফুলে উয়ল বন ফুল-বায়ু মন্দ।
ফুল-রসে গুঞ্জরে মধুকরবৃন্দ॥
অপরূপ ফুল-দোল ফুল বিলাস।
ফুল করে রহ যদুনন্দনদাস॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ফুলদোল।
॥ পঠমঞ্জরী - একতালা॥

ফুল বনে দেখিয়ে ফুলময় তনু।
ফুল সম অভরণ করে ফুল ধনু॥
ফুল ময় ক্ষিতিতল ফুলময় কুঞ্জ।
ফুলময় সখী বরিখে ফুল পুঞ্জ॥
ফুলতনু হেরি মুগধ ফুলবাণ।
ফুল পরে হানল ফুলময় কান॥
ফুলে উয়ল বনফুল বায়ু মন্দ।
ফুল রসে গুঞ্জরে মধুকর বৃন্দ॥
অপরূপ ফুলদোল ফূল বিলাস।
ফুল করে রহু যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী পঠমঞ্জরী - তাল একতালী॥

ফুলবনে দোলয়ে ফুলময় তনু। ফুলময় অভরণ করে ফুল ধনু॥
ফুলময় ক্ষিতিতল ফুলময় কুঞ্জ। ফুলময় সখী বরিখে ফুল পুঞ্জ॥
ফুলতনু হেরি মুগধ ফুলবাণ। ফুল শরে হানল ফুলময় কান॥
ফুলে উয়ল বন ফুল বায়ু মন্দ। ফুলরসে গুঞ্জরে মধুকর বৃন্দ॥
অপরূপ ফুল দোল ফুল বিলাস। ফুল করে রহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

ফুল-বনে দোলয়ে ফুলময়-তনু।
ফুলময় অভরণ করে ফুল-ধনু॥
ফুলময় খিতিতল ফুলময় কুঞ্জ।
ফুলময় সখি বরিখয়ে ফুল-পুঞ্জ॥
ফুল-তনু হেরি মুগধ ফুল-বাণ।
ফুল-শরে হানল ফুলময় কান॥
ফুলে ঊয়ল বন ফুলবায়ু মন্দ।
ফুল-রসে গুঞ্জয়ে মধুকর-বৃন্দ॥
অপরুপ ফুল-দোল ফুল-বিলাস।
ফুল করে রহ যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুরছিত রাই হেরি সব সখিগণ
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৮২-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী রাগ ধ্রুব তালৌ॥

মুরছিত রাই হেরি সব সখিগণ হোয়ল বিকল পরাণ।
উর পর কত শত করঘাত হানই নীঝরে ঝরএ নয়ান॥
হরি কী আজু দৈবক খেলি।
রাইক শ্রবণে শ্যাম দু আখর উচ সরে সব জন কেলি॥ ধ্রু॥
বহু খেনে চেতন পাই সুধামুখি কাতরে চৌদিশ চাহ।
বেঢ়ি সব সহচরি করয়ে অশ্বাসন কানু কাহে যাবে পুর মাহ॥
তুরিতহি সঙ্কেত কুঞ্জে তোহে মীলব হোয়ব অধিক উলাস।
তাক সম্বাদ জানাইতে তৈখন চলু যদু নন্দন দাস॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২য় পল্লব,
ভাবী-বিরহ, ১৬১৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার
পুথির ৮২৬ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

মুরছিত রাই হেরি সব সখিগণ
হোয়ল বিকল পরাণ।
উর পর কত শত কর-ঘাত হানই
নীঝরে ঝরয়ে নয়ান॥
হরি হরি কিয়ে আজু দৈবক খেলি।
রাইক শ্রবণে শ্যাম দুই আখর
উচ-সরে সব জন কেলি॥ ধ্রু॥
বহুখণে চেতন পাই সুধামুখি
কাতরে চৌদিশে চাহ।
বেঢ়ি সব সহচরি করয়ে আশ্বাসন
কানু কাহে যাবে পুর মাহ॥
তুরিতহিঁ সঙ্কেত-কুঞ্জে তোহে মীলব
হোয়ব অধিক উলাস।
তাক সম্বাদ জানাইতে তৈখনে
চলু যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশ্রী॥ তাল সমোচিত॥

মুরূছিত রাই হেরি সব সখীগণ হোওল বিকল পরাণ।
উরূ পর কতশত করাঘাত হানই নিঝরে ঝরএ নআন॥
হরি হরি কি আজু দৈবকি খেলি।
রাইক শ্রবণে শ্যাম দুই আখর উচ্চস্বরে সব জন কেলি॥
বহুক্ষণে চেতন পাই সুধামুখি কাতরে চৌদিগে চাহ।
বেরি সব সহচরী করে আশ্বাসল কানু কাহে জাবে পুরমাহ॥
তুরিতহি সঙ্কেত কুঞ্জে তুহি মিলব হোঅব অধিক উল্লাস।
তাক সম্বাদ জানাইতে তৈখনে চলু যদুনন্দনদাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

মুরছিত রাই, হেরি সব সখীগণ, হোয়ল বিকল পরাণ।
উর পর কত শত, করাঘাত হানই, নিঝরে ঝরয়ে নয়ান॥
হরি হরি কি আজু দৈবক খেলি।
রাইক শ্রবণে, শ্যাম দুই আখর, উচসরে সব জন কেলি॥
বহুক্ষণ চেতন, পাই সুধামুখী, কাতরে চৌদিশে চাহ।
বেড়ি সব সহচরী, করে আশ্বাসন কানু কাঁহে যাবে পুরমাহ॥
তুরিতহি সঙ্কেত কুঞ্জে তুহি মিলব হোঅব অধিক উল্লাস।
তাক সম্বাদ জানাইতে তৈখনে চলু যদুনন্দনদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

মুরছিত রাই,                   হেরি সব সখীগণ,
হোয়ল বিকল পরাণ।
উর পর কত শত,                করাঘাত হানই,
নিঝরে ঝরয়ে নয়ান॥
হরি হরি, কিয়ে আজু দৈবক খেলি।
রাইক শ্রবণে,                     শ্যাম দুই আখর,
উচ-সরে সব জন কেলি॥ ধ্রু॥
বহুক্ষণে চেতন,                     পাই সুধামুখী,
কাতরে চৌদিকে চাহ।
বেড়ি সব সহচরী,                করয়ে আশ্বাসন,
কানু কাঁহে যারে পুর মাহ॥
তুরিতহিঁ সঙ্কেত-,              কুঞ্জে তোহে মিলব,
হোয়ব অধিক উলাস।
তাক সম্বাদ,                    জানাইতে তৈখনে,
চলু যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

মুরছিত রাই হেরি সব সখিগণ
হোয়ল বিকল পরাণ।
উর পর কত শত কর-ঘাত হানই
নীঝরে ঝরয়ে নয়ান॥
হরি হরি কিয়ে আজু দৈবক খেলি।
রাইক শ্রবণে শ্যাম দুই আখর
উচ-সরে সব জন কেলি॥
বহুখণে চেতন পাই সুধামুখি
কাতরে চৌদিশে চাহ।
বেঢ়ি সব সহচরি করয়ে আশ্বাসন
কানু কাহে যাবে পুর মাহ॥
তুরিতহিঁ সঙ্কেত-কুঞ্জে তোহে মীলব
হোয়ব অধিক উলাস।
তাক সম্বাদ জানাইতে তৈখনে
চলু যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালা॥

মুরছিত রাই,                    হেরি সব সখীগণ,
হোয়ল বিকল পরাণ।
উর পর কত শত,                  করাঘাত হানই,
নীঝরে ঝরয়ে নয়ান॥
হরি হরি কি আজু দৈবক খেলি।
রাইক শ্রবণে,                      শ্যাম দুই আখর,
উচ্চ স্বরে সব জন কেলি॥
বহুখনে চেতন,                        পাই সুধামুখী
কাতরে চৌদিশে চাহ।
বেঢ়ি সব সহচরী,                  করয়ে আশ্বাসন,
কানু কাহে যাবে পুর মাহ॥
তুরিত হি সঙ্কেত                কুঞ্জে তোহে মিলব,
হোয়ব অধিক উল্লাস।
তাক সম্বাদ                       জানাইতে তৈখনে
চলু যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি পুনঃ “শ্রীপদামৃতমাধুরী” গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের, ২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - কাটা দশকুশী॥

মুরছিত রাই হেরি সব সখিগণ
হোয়ল বিকল পরাণ।
উর পর কত শত কর-ঘাত হানই
নীঝরে ঝরয়ে নয়ান॥
হরি হরি কিয়ে আজু দৈবক খেলি।
রাইক শ্রবণে শ্যাম দুই আখর
উচসরে সব জন কেলি॥
বহুখণে চেতন                        পাই সুধামুখি
কাতরে চৌদিশে চাহ।
বেঢ়ি সব সহচরি                   করয়ে আশ্বাসন
কানু কাহে যাবে পুরমাহ॥
তুরিতহিঁ সঙ্কেত                কুঞ্জে তোহে মীলব
হোয়ব অধিক উল্লাস।
তাক সম্বাদ                      জানাইতে তৈখনে
চলু যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুরছল সহচরি মুরছল গোরি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, বাহ্য-দশায় প্রলাপ, ১৬৬৮-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ৮৯১ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

মুরছল সহচরি মুরছল গোরি।
কো পরবোধব সবহুঁ বিভোরি॥
তুরিতে মিলল তাহাঁ নন্দ-কুমার।
সবহুঁ গোপিগণ নয়নে নেহার॥
চেতন পাই উঠয়ে সচকিত।
পাওল জীবন ভেল সম্বিত॥
পুন না দেখিয়া রাই আকুল ভেল।
ইহ যদুনন্দন হৃদি মাহা শেল॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগ তালো যথা॥

মুরছল সহচরী মুরছল গোরি। কো পরবোধব সবহু বিভোরি॥
তুরিতে মিলল তাহা নন্দকুমার। সবহু গোপীগণ নয়নে নেহার॥
চেতন পাই উঠয়ে সচকিত। পাওল জীবন ভেল সংবিত॥
পুনু না দেখিআ রাই আকুল ভেল। ইহ যদুনন্দন হৃদি মাহা শেল॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

মুরছল সহচরী মুরছল গোরী।
কো পরবোধব সবহুঁ বিভোরী॥
তুরিতে মিলল তাঁহা নন্দকুমার।
সবহুঁ গোপীগণ নয়ন নেহার॥
চেতন পাই উঠয়ে সচকিত।
পাওল জীবন ভেল সম্বিত॥
পুন না দেখিয়া রাই আকুল ভেল।
ইহ যদুনন্দন হৃদি মাহা শেল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

মুরছল সহচরি মুরছল গোরি।
কো পরবোধব সবহুঁ বিভোরি॥
তুরিতে মিলল তাহাঁ নন্দকুমার।
সবহুঁ গোপীগণ নয়নে নেহার॥
চেতন পাই উঠয়ে সচকীত।
পাওল জীবন ভেল সম্বিত॥
পুন না দেখিয়া রাই আকুল ভেল।
ইহ যদুনন্দন হৃদি মাহা শেল॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী - ডাঁসপাহিড়া॥

মুরছল সহচরী মুরছল গোরী।
কো পরবোধব সবহুঁ বিভোরি॥
তুরিতে মিলল তাহাঁ নন্দকুমার।
সবহুঁ গোপীগণ নয়নে নেহার॥
চেতন পাই উঠয়ে সচকিত।
পাইল জীবন ভেল সম্বিত॥
পুন না দেখিয়া রাই আকুল ভেল।
ইহ যদুনন্দন হৃদি মহাশেল॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যব ধনি মুরছি পড়য়ে        
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, দূতী-সংবাদ, ১৬৯২-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত
পদরসসার পুথির ৯১৫ সংখ্যক পদ।

॥ দেবগিরি॥

যব ধনি মুরছি পড়য়ে।
নাসায় শোয়াস না বহয়ে॥
তব সব সখি এক ঠাম।
শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম॥
শুনইতে চেতন পাই।
যতহুঁ প্রলাপই রাই॥
সো কি কহব তুয়া পাশ।
সহচরি জিবন-নৈরাশ॥
অতয়ে চলহ ব্রজপূর।
কহ যদুনন্দন ফূর॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দেবগিরি॥

যব ধনী মূরছি পড়য়ে।
নাসায় শোয়াস না বহয়ে॥
তবু সব সখী এক ঠাম।
শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম॥
শুনইতে চেতন পাই।
যতহুঁ প্রলাপই রাই॥
সো কি কহব তুয়া পাশ।
সহচরী জীবন নৈরাশ॥
অতয়ে চলহ ব্রজপূর।
কহ যদুনন্দন ফুর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দেবগিরি॥

যব ধনী মুরছি পড়য়ে।
নাসায় শোয়াস না বহয়ে॥
তব সব সখী একঠাম।
শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম॥
শুনইতে চেতন পাই।
যতহুঁ প্রলাপই রাই॥
সো কি কহব তুয়া পাশ।
সহচরী জীবন নৈরাশ॥
অতএ চলহ ব্রজপূর, কহ যদুনন্দন ফুর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দেবগিরি॥

যব ধনি মুরছি পড়য়ে।
নাসায় শোয়াস না বহয়ে॥
তব সব সখি এক ঠাম।
শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম॥
শুনইতে চেতন পাই।
যতহুঁ প্রলাপই রাই॥
সো কি কহব তুয়া পাশ।
সহচরি জিবন-নৈরাশ॥
অতয়ে চলহ ব্রজপূর।
কহ যদুনন্দন ফূর॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দেবগিরি - লোফা॥

যব ধনি মুরছি পড়য়ে।
নাসায় শোয়াস না বহয়ে॥
তব সব সখি এক ঠাম।
শ্রবণে কহয়ে তুয়া নাম॥
শুনইতে চেতন পাই।
যতহুঁ প্রলাপই রাই॥
সো কি কহব তুয়া পাশ।
সহচরি জিবন নৈরাশ॥
অতয়ে চলহ ব্রজপূর।
কহ যদুনন্দন ফূর॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাইক শেষ দশা শুনি গদগদ
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব,
দূতী-সংবাদ, ১৭০৩-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ৯২৬ সংখ্যক পদ।

শ্রীকৃষ্ণস্যোক্তির্যথা।
॥ ধানশী॥

রাইক শেষ                               দশা শুনি গদগদ
নাগর ভেল বিভোর।
কহইতে কণ্ঠ-                         শবদ নাহি নিকসই
ঝর ঝর লোচন-লোর॥
সজনি তুরিতহি করহ পয়াণ।
কাতরে নাগর                             এতহিঁ নিদেশল
সঘনে ঝরয়ে দুনয়ান॥ ধ্রু॥
এতহুঁ বচন যব                            সো সখি শূনল
তৈখনে করল পয়াণ।
মুরছিত রাই                           কুঞ্জে যাহাঁ লুঠয়ে
যাই মিলল সোই ঠাম॥
উঠ উঠ সুন্দরি                         বিরহ দূরে করি
কানু মিলত তুয়া পাশ।
শুনইতে তবহিঁ                        চেতন পাই বৈঠল
ভণ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাইক শেষ দশা শুনি গদগদ, নাগর ভেল বিভোর।
কহইতে কণ্ঠশবদ নাহি নিকসই, ঝর ঝর লোচন লোর॥
সজনি তুরিতহি করহ পয়াণ।
কাতরে নাগর, এতহিঁ নিদেশল, সঘনে ঝরয়ে দু নয়ান॥
এতহুঁ বচন যব, সো সখী শুনল, তৈখনে করল পয়াণ।
মূরছিত রাই, কুঞ্জে যাহা লুঠয়ে, যাঁই মিলল সোই ঠাম॥
উঠ উঠ সুন্দরি, বিরহ দূরে করি, কানু মিলল তুয়া পাশ।
শুনইতে তবহিঁ, চেতন পাই বৈঠল, ভণ যদুনন্দনদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাইক শেষ,                                দশা শুনি গদগদ,
নাগর ভেল বিভোর।
কহইতে কণ্ঠ,                            শবদ নাহি নিকসই,
ঝর ঝর লোচনলোর॥
সজনি, তুরিতহি করহ পয়াণ।
কাতরে নাগর,                                এতহিঁ নিদেশল,
সঙনে ঝরয়ে দুনয়ান॥ ধ্রু
এতহুঁ বচন যব,                              সো সখী শুনল,
তৈখনে করল পয়ান।
মূরছিত রাই,                              কুঞ্জে যাহাঁ লুঠয়ে,
যাই মিলল সোই ঠাম॥
উঠ উঠ সুন্দরি,                            বিরহ দূরে করি,
কানু মিলল তুয়া পাশ।
শুনইতে তবহিঁ,                                    চেতন পাই,
বৈঠল ভণ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাইক শেষ                        দশা শুনি গদ গদ
নাগর ভেল বিভোর।
কহইতে কণ্ঠ                      শবদ নাহি নিকশই
ঝর ঝর লোচন লোর॥
সজনি! তুরিতহি করহ পয়ান।
কাতরে নাগর                        এতহু নিদেশল
সঘনে ঝরয়ে দুনয়ান॥ ধ্রু॥
এতহু বচন যব                      সো সখী শুনল
তৈখনে করল পয়ান।
মুরছিত রাই                      কুঞ্জে যাহা লুটয়ে
যাই মিলল সোই ঠাম॥
উঠ উঠ সুন্দরি                     বিরহ দূর করি
কানু মিলল তুয়া পাশ।
শুনইতে তবহি                    চেতন পাই বৈঠল
ভণ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

রাইক শেষ                                দশা শুনি গদগদ
নাগর ভেল বিভোর।
কহইতে কণ্ঠ-                            শবদ নাহি নিকসই
ঝর ঝর লোচনলোর॥
সজনি তুরিতহি করহ পয়াণ।
কাতরে নাগর                                এতহিঁ নিদেশল
সঘনে ঝরয়ে দুনয়ান॥
এতহুঁ বচন যব                               সো সখি শূনল
তৈখনে করল পয়াণ।
মুরছিত রাই                              কুঞ্জে যাহাঁ লুঠয়ে
যাই মিলল সোই ঠাম॥
উঠ উঠ সুন্দরি                             বিরহ দূরে করি
কানু মিলত তুয়া পাশ।
শুনাইতে তবহিঁ                            চেতন পাই বৈঠল
ভণ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - ছোট দশকুশী॥

রাইক শেষ                        দশা শুনি গদ গদ
নাগর ভেল বিভোর।
কহইতে কণ্ঠ-                    শবদ নাহি নিকসই
ঝর ঝর লোচন-লোর॥
সজনি তুরিতহি করহ পয়ান।
কাতরে নাগর                       এতহিঁ নিদেশল
সঘনে ঝরয়ে দুনয়ান॥
এতহুঁ বচন যব                       সো সখী শূনল
তৈখনে করল পয়ান।
মুরছিত রাই                      কুঞ্জে যাহাঁ লুঠয়ে
যাই মিলল সোই ঠাম॥
উঠ উঠ সুন্দরি                     বিরহ দূরে করি
কানু মিলত তুয়া পাশ।
শুনইতে তবহিঁ                    চেতন পাই বৈঠল
ভণ যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাইক দশা শুনি কান
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১১শ পল্লব, দশ দশা, ১৯৪১-পদসংখ্যা।

শ্রীকৃষ্ণস্য দশা।
॥ মল্লার রাগ॥

রাইক দশা শুনি কান।
মুরছিত হরল গেয়ান॥
দোতি করল নিজ কোর।
লোচনে ঝরঝর লোর॥
বহুখণে চেতন ভেল।
কহে মঝু রাই কাহাঁ গেল॥
পুন কিয়ে পায়ল পরাণ।
কহ সখি তুহুঁ কিয়ে জান॥
শুনি কহে চেতনা-বাণি।
যদুনন্দন অনুমানি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে
অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ শ্রীমুখবিলাপ॥ ॥ রাগিণী বড়ারি॥ তালোচিত॥

রাইক দশমী দশা শুনি কান। মুরছিত হরল গেয়ান॥
দূতী করল নিজ কোর। লোচনে ঝরঝর লোর॥
বহুখনে চেতন ভেল। কহে মঝু রাই কাহা গেল॥
পুন কিয়ে পাওব পরান। কহ সখি তুহু কিয়ে জান॥
সুনি কহে চেতনবাণী। যদুনন্দন অনুমানী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দশম দশা।
॥ বরাড়ী রাগ॥

রাইক দশা শুনি কান।
মুরছিত হরল গেয়ান॥
দোতি করল নিজ কোর।
লোচনে ঝরঝর লোর॥
বহুখণে চেতন ভেল।
কহে মঝু রাই কাহাঁ গেল॥
পুন কিয়ে পায়ল পরাণ।
কহ সখি তুহুঁ কিয়ে জান॥
শুনি কহে চেতনা-বাণি।
যদুনন্দন অনুমানি॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ২৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী - যপতাল॥

রাইক দশা শুনি কান।
মুরছিত হরল গেয়ান॥
দূতী করল নিজ কোর।
লোচনে ঝর ঝর লোর॥
বহুক্ষণে চেতন ভেল।
কহে মঝু রাই কাহাঁ গেল॥
পুন কিয়ে পায়ল পরাণ।
কহ সখী তুহুঁ কিয়ে জান॥
শুনি কহে চেতনাবাণি।
যদুনন্দন অনুমানি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাইক উহ উতকণ্ঠিত বচনহি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৪শ পল্লব, প্রকারান্তর
সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ২০০১-পদসংখ্যা।

॥ কামোদ॥

রাইক উহ উত                                কণ্ঠিত বচনহি
সো সখি দ্রুত চলি গেল।
নিজ গৃহে নাগর                             রতন মন্দির পর
গোপতে যাই তহিঁ মেল॥
ইঙ্গিতে রাইক                                আরতি জানাওল
বুঝইতে নাগর-রাজ।
কালিন্দি-তীরে                                  নিকুঞ্জ মনোহর
জানাওল সঙ্কেত-কাজ॥
শুনি দোতি ধাই                            আওল যাহাঁ সুন্দরি
কহতহি মধুরিম ভাষ।
তুয়া লাগি যমুনা-                             তীরে গেও নাগর
পূরব চির অভিলাষ॥
এতহু বচন শুনি                                সো ধনি সুবদনি
করত গমন-উপচার।
কানুক নিকটে                                 দূতি আওল পুন
কহ যদুনন্দন সার॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী কামোদ॥ তালোচিত॥

রাইক ইহ উতকণ্ঠিত বচনহি সো সখী দ্রুত চলি গেলি।
নিজ গৃহে নাগর রতন মন্দির পর গোপতে জাই তহি মেলী॥
ইঙ্গিত রাইক আরতি জানাওল বুঝইতে নাগররাজ।
কালিন্দীতীর নিকুঞ্জ মনোহর জানায়ল সঙ্কেতকাজ॥
সুনি দূতী ধাই আওল জাহা সুন্দরী কহতহি মধুরিম ভাষ।
তুয়া লাগী যমুনাতীর গেও নাগর পূরব চির অভিলাষ॥
এতহু বচন সুনি সো ধনি সুবদনী করত গমন উপচার।
কানুক নিকটে দূতী আওল পুন কহো যদুনন্দন সার॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

রাইক উহ উত,                                কণ্ঠিত বচনহি,
সো সখি দ্রুত চলি গেল।
নিজ গৃহে নাগর,                              রতন মন্দিরপর,
গোপতে যাই তঁহি মেল॥
ইঙ্গিতে রাইক,                                আরতি জানাওল,
বুঝাইতে নাগর রাজ।
কালিন্দীতীরে                                    নিকুঞ্জ মনোহর,
জানাওল সঙ্কেত কাজ॥
শুনি দোতি ধাই,                           আওল যাহাঁ সুন্দরী,
কহতহি মধুরিম ভাষ।
তুয়া লাগি যমুনা-                            তীরে গেও নাগর,
পূরব চির অভিলাষ॥
এতহুঁ বচন শুনি,                              সো ধনী সুবদনী,
করত গমন উপচার।
কানুক নিকটে দূতা,                               আওল পুন,
কহ যদু নন্দন সার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পরস্পরের নিকট দূতী গমন
॥ কামোদ॥

রাইক উহ উৎ-                                কণ্ঠিত বচনহি
সো সখি দ্রুত চলি গেল।
নিজ গৃহে নাগর                              রতন-মন্দির পর
গোপতে যাই তহিঁ মেল॥
ইঙ্গিতে রাইক                                আরতি জানাওল
বুঝইতে নাগর-রাজ।
কালিন্দি-তীরে                                  নিকুঞ্জ মনোহর
জানাওল সঙ্কেত-কাজ॥
শুনি দোতি ধাই                            আওল যাহাঁ সুন্দরি
কহতহি মধুরিম ভাষ।
তুয়া লাগি যমুনা-                              তীরে গেও নাগর
পূরব চির অভিলাষ॥
এতহু বচন শুনি                                সো ধনি সুবদনি
করত গমন উপচার।
কানুক নিকটে                                 দূতি আওল পুন
কহ যদুনন্দন সার॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ - ছোট দশকুশী॥

রাইক উহ                        উত্কণ্ঠিত বচনহি
সো সখী দ্রুত চলি গেল।
নিজ গৃহে নাগর                    রতন মন্দির পর
গুপতে যাই তঁহি মিল॥
ইঙ্গিতে রাইক                      আরতি জানাওল
বুঝইতে নাগর-রাজ।
কালিন্দী-তীরে                        নিকুঞ্জ মনোহর
জানাইল সঙ্কেত কাজ॥
শুনি দূতী ধাই                   আওল যাহাঁ সুন্দরী
কহতহি মধুরিম ভাষ।
তুয়া লাগি যমুনা-                   তীরে গেও নাগর
পূরব চির অভিলাষ॥
এতহু বচন শুনি                     সো ধনী সুবদনী
করত গমন উপচার।
কানুক নিকট                        দূতী আইল পুন
কহ যদুনন্দন সার॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর