কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রজনিক শেষ সময় অরুণোদয়
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৫শ পল্লব, সমৃদ্ধিমান্
সম্ভোগের রসোদ্গার, ২০১৬-পদসংখ্যা।

॥ ললিত ভৈরবী॥

রজনিক শেষ                      সময় অরুণোদয়
ঘূমল সহচরি দেখি।
কত পরকারে                    জাগায়ল দুহুঁ জনে
বৈঠল শয়ন উপেখি॥
রাধা-মাধব-কেলি।
কৃপণ হেম জনু                   তিলেক না ছোড়ই
ঐছন দুহুঁ জন মেলি॥ ধ্রু॥
রজনি প্রভাত                     হেরি ভেল আকুল
সহচরিগণ কহে ভাষ।
নিজ গৃহে গমন                   করণ অব সমুচিত
পুন পূরব অভিলাষ॥
এত শুনি দুহুঁ জন                  অতিশয় কাতর
কি করব কছু নাহি থেহ।
কহ যদুনন্দন                           হোয়ল মীলন
এক জীবন ভিন দেহ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অথ উত্থান॥ রাগিণী ললিত ভৈরবী॥ তালোচিত॥

রজনীক শেষ সময় অরুণোদয় ঘুমল সহচরী দেখি।
কত পরকারে জাগাওলু দুহুজন বৈঠল সময় উপেখি॥
কুপল হেম জনু রাধামাধব কেলি।
তিলেক না ছোড়ই ঐছন দুহুজন মেলী॥
রজনী প্রভাত হেরি ভেল আকুল সহচরীগণ কহে ভাষ।
নিজগৃহে গমন করহু অব সমুচিত পুন পূরব অভিলাষ॥
এত শুনি দুহুজন অতিশয় কাতর কি করব কছু নাহি থেহ।
কহো যদুনন্দন হোয়ব মিলন এক জীবন ভিন দেহ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত-ভৈরবী॥

রজনীক শেষ,                        সময় অরুণোদয়,
( এই পংক্তিটি মুদ্রিত হয় নি। )
কত পরকারে,                      জাগায়ল দুহু জনে,
বৈঠল শয়ন উপেখি॥
রাধা মাধব কেলি।
কৃপণ হেম জনু,                    তিলেক না ছোড়ই,
ঐছন দুহু জন মেলি॥ ধ্রু॥
রজনী প্রভাত                      হেরি ভেল আকুল,
সহচরীগণ কহে ভাষ।
নিজ গৃহে গমন,                   করণ অব সমুচিত,
পুন পূরব অভিলাষ॥
এত শুনি দুহুঁ জন,                   অতিশয় কাতর,
কি করব কছু নাহি থেহ।
কহ যদুনন্দন,                           হোয়ল মিলন,
এক জীবন ভিন দেহ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত ভৈরবী॥

রজনিক শেষ                        সময় অরুণোদয়
ঘূমল সহচরি দেখি।
কত পরকারে                        জাগায়ল দুহুঁজনে
বৈঠল শয়ন উপেখি॥
রাধা-মাধব-কেলি।
কৃপণ হেম জনু                     তিলেক না ছোড়ই
ঐছন দুহুঁজন মেলি॥
রজনি প্রভাত                        হেরি ভেল আকুল
সহচরিগণ কহে ভাষ।
নিজ গৃহে গমন                      করণ অব সমুচিত
পুন পূরব অভিলাষ॥
এত শুনি দুহুঁজন                      অতিশয় কাতর
কি করব কছু নাহি থেহ।
কহ যদুনন্দন                             হোয়ল মীলন
এক জীবন ভিন দেহ॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত ভৈরবী - তেওট॥

রজনীক শেষ                      সময় অরুণোদয়
ঘূমল সহচরি দেখি।
কত পরকারে                    জাগায়ল দুহুঁ জনে
বৈঠল শয়ন উপেখি॥
রাধা মাধব কেলি।
কৃপণ হেম জনু                   তিলেক না ছোড়ই
ঐছন দুহুঁ জন মেলি॥ ধ্রু॥
রজনি প্রভাত                     হেরি ভেল আকুল
সহচরিগণে কহে ভাষ।
নিজ গৃহে গমন                   করণ অব সমুচিত
পুন পুরব অভিলাষ॥
এত শুনি দুহুঁ জন                   অতিশয় কাতর
কি করব কিছু নাহি থেহ।
কহ যদুনন্দন                            হোয়ল মীলন
এক জীবন ভিন দেহ॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চন্দ্রাবলি সঞে বিলসই মাধব
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৬শ পল্লব, সমৃদ্ধিমান্
সম্ভোগের রসোদ্গার, ২০৩৩-পদসংখ্যা।

॥ বিহগড়া॥

চন্দ্রাবলি সঞে বিলসই মাধব
হেরি চলু রাইক পাশ।
মলিন বয়ান নয়নযুগ ছল-ছল
তেজই দীঘ নিশ্বাস॥
সুন্দরি কি কহব কপটক নেহ।
যাক নাম তুহুঁ শুনই না পারসি
তা সঞে বিলসয়ে সেহ॥ ধ্রু॥
অতিরসে মগন সঘন তাহে চুম্বই
চৌদিশে সহচরিবৃন্দ।
সুখময় যামিনি তুহুঁ ভেল তাপিনি
বিগলিত লোচন-নিন্দ॥
কি কহব তাক চরিত অতি শঠপন
কামি সে কামিনি পাশ।
কহলুঁ এতহুঁ নিদেশ তোহে সুন্দরি
এ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া॥

চন্দ্রাবলী সঞে, বিলসই মাধব, হেরি চলু রাইক পাশ।
মলিন বয়ান, নয়ানযুগ ছল ছল, তেজই দীঘ নিশ্বাস॥
সুন্দরি কি কহব কপটক লেহ।
যাক নাম তুহুঁ, শুনই না পারসি, তা সঞে বিলসয়ে সেহ॥
অতিরসে মগন, সঘন তাহে চুম্বই, চৌদিশে সহচরীবৃন্দ।
সুখময় যামিনী, তুহুঁ ভেল তাপিনী, বিগলিত লোচন-নিন্দ॥
কি কহব তাক, চরিত অতি শঠপন, কামী সে কামিনী পাশ।
কহলু এতহুঁ, নিদেশ তোহে সুন্দরি, এ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া॥

চন্দ্রাবলি সঞে,                                বিলসই মাধব,
হেরি চলু রাইক পাশ।
মলিন বয়ান,                                নয়ানযুগ ছল ছল,
তেজই দীঘ নিশ্বাস॥
সুন্দরি, কি কহব কপটক লেহ।
যাক নাম তুহুঁ,                                  শুননা পারসি,
তা সঞে বিলসয়ে সেহ॥
অতিরসে মগন,                             সঘন তাহে চুম্বই,
চৌদিশে সহচরা বৃন্দ।
সুখময় যামিনী,                           তুহুঁ ভেল তাপিনী,
বিগলিত লোচন নিন্দ॥
কি কহব তাক,                         চরিত অতি শঠপ্রন,
কামী সো কামিনী পাশ।
কহলু এতহুঁ,                           নিদেশ তোহে সুন্দরি,
এ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি দূতীর উক্তি
॥ বিহগড়া॥

চন্দ্রাবলি সঞে বিলসই মাধব
হেরি চলু রাই পাশ।
মলিন বয়ান নয়নযুগ ছল-ছল
তেজই দীঘ নিশ্বাস॥
সুন্দরি কি কহব কপটক নেহ।
যাক নাম তুহুঁ শুনই না পারসি
তা সঞে বিলসয়ে সেহ॥
অতিরসে মগন সঘন তাহে চুম্বই
চৌদিশে সহচরিবৃন্দ।
সুখময় যামিনি তুহুঁ ভেলি তাপিনি
বিগলিত লোচন-নিন্দ॥
কি কহব তাক চরিত অতি শঠপন
কামী সে কামিনি পাশ।
কহলুঁ এতহুঁ নিদেশ তোহে সুন্দরি
এ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া - যপতাল॥

চন্দ্রাবলী সঞে বিলসই মাধব
.                        হেরি চলু রাইক পাশ।
মলিন বয়ান নয়নযুগ ছল ছল
.                        তেজই দীঘ নিশ্বাস॥
সুন্দরি কি কহব কপটক নেহ।
যাক নাম তুহুঁ শুনই না পারসি
.                        তা সঞে বিলসয়ে সেহ॥ ধ্রু॥
অতিরসে মগন সঘন তাহে চুম্বই
.                        চৌদিশে সহচরিবৃন্দ।
সুখময় যামিনি তুহুঁ ভেল তাপিনি
.                        বিগলিত লোচন-নিন্দ॥
কি কহব তাক চরিত অতি শঠপন
.                        কামি সে কামিনি পাশ।
কহলুঁ এতহুঁ নিদেশ তোহে সুন্দরি
.                        এ যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নয়ন পুতলী রাধা মোর। হৃদি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৬শ পল্লব, বসন্তকালোচিত মান, ২০৪৯-পদসংখ্যা।

॥ সুহিনী॥

নয়ন-পুতলী রাধা মোর।
হৃদি মাঝে রাধিকা উজোর॥
মোর সরবস সুবদনী।
অব কাহে হইল মানিনী॥
আমাকে তেজিল কি লাগিয়া।
না দেখিয়া ফাটি যায় হিয়া॥
যে মোরে তিলেক না দেখিলে।
কত যুগ না দেখিলুঁ বোলে॥
যে মোর হিয়ার মাঝে থাকি।
সদা উঠে চমকি চমকি॥
সে ধনী কি মোরে উপেখিল।
সে কেমনে পরাণ ধরিল॥
এত বিলপয়ে যব কান।
ঝরঝর ঝরয়ে নয়ান॥
আকুল দেখি শ্যাম-চাঁদ।
এ যদুনন্দন মন কান্দ॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

নয়ন পুতলী রাধা মোর।
হৃদি মাঝে রাধিকা উজোর॥
মোর সরবস সুবদনী।
অব কাঁহে হইল মানিনী॥
আমাকে তেজিল কি লাগিয়া।
না দেখিয়া ফাটি যায় হিয়া॥
যে মোরে তিলেক না দেখিলে।
কত যুগ না দেখিনু বোলে॥
যে মোর হিয়ার মাঝে থাকি।
সদা উঠে চমকি চমকি॥
সে ধনী কি মোরে উপেখিল।
সে কেমনে পরাণ ধরিল॥
এত বিলপয়ে যব কান।
ঝরঝর ঝরয়ে নয়ান॥
আকুল দেখি শ্যামচাঁদ।
এ যদুনন্দন মন কান্দ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

নয়ন পুতলি রাধা মোর।
হৃদি মাঝে রাধিকা উজোর॥
মোর সরবস সুবদনী।
অব কাঁহে হইল মানিনী॥
আমাকে তেজিল কি লাগিয়া।
না দেখিয়া ফাটি যায় হিয়া॥
যে মোরে তিলেক না দেখিলে।
কত যুগ না দেখিনু বোলে॥
যে মোর হিয়ার মাঝে থাকি।
সদা উঠে চমকি চমকি॥
সে ধনী কি মোরে উপেখিল।
সে কেমনে পরাণ ধরিল॥
এত বিলপয়ে যব কান।
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান॥
আকুল দেখি শ্যাম-চাঁদ।
এ যদুনন্দন মন কান্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তকালোচিত মান
॥ সুহিনী॥

নয়ন-পুতলী রাধা মোর।
হৃদি মাঝে রাধিকা উজোর॥
মোর সরবস সুবদনী।
অব কাহে হইল মানিনী॥
আমারে তেজিল কি লাগিয়া।
না দেখিয়া ফাটি যায় হিয়া॥
যে মোরে তিলেক না দেখিলে।
কত যুগ না দেখিলুঁ বোলে॥
যে মোর হিয়ার মাঝে থাকি।
সদা উঠে চমকি চমকি॥
সে ধনী কি মোরে উপেখিল।
সে কেমনে পরাণ ধরিল॥
এত বিলপয়ে যব কান।
ঝর ঝর ঝরয়ে নয়ান॥
আকুল দেখি শ্যাম-চাঁদ।
এ যদুনন্দন মন কাঁদ॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী - লোফা॥

নয়নপুতলী রাধা মোর।
হৃদি মাঝে রাধিকা উজোর॥
মোর সরবস সুবদনী।
অব কাহে হইল মানিনী॥
আমারে তেজিল কি লাগিয়া।
না দেখিয়া ফাটি যায় হিয়া॥
যে মোরে তিলেক না দেখিলে।
কতযুগ না দেখিলুঁ বোলে॥
যে মোর হিয়ার মাঝে থাকি।
সদা উঠে চমকি চমকি॥
সে ধনী কি মোরে উপেখিল।
সে কেমনে পরাণ ধরিল॥
এত বিলপয়ে যব কান।
ঝরঝর ঝরয়ে নয়ান॥
আকুল দেখি শ্যাম-চাঁদ।
এ যদুনন্দন মন কান্দ॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সখীর বদন হেরিতে নাগর
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৬শ পল্লব,
বসন্তকালোচিত মান, ২০৫১-পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

সখীর বদন                                হেরিতে নাগর
নিঝরে নয়ান ঝরে।
শয়নে স্বপনে                            না যানি যা বিনে
সে কেনে এমন করে॥
শুন লো মরমি সখি।
সে ধনী-নিয়ড়ে                              যাইব কেমনে
সদয় হইবে নাকি॥
যদি পুন ধনী                             আমারে দেখিয়া
ফিরিয়া বৈসয়ে রোখে।
আমার কারণ                                বিনয়-বচন
কহিতে হইবে তোকে॥
হেন মনে করি                                ধীর পদ ধরি
চলিলা দূতীর সনে।
দূতীরে মোহন                                সাধে পুন পুন
এ যদুনন্দন ভণে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

সখীর বদন, হেরিতে নাগর, নিঝরে নয়ান ঝরে।
শয়নে স্বপনে, না জানি যা বিনে, সে কেনে এমন করে॥
শুন লো মরমি সখি।
সে ধনী নিয়ড়ে, যাইব কেমনে, সদয় হইবে নাকি॥
যদি পুনধনী, আমারে দেখিয়া, ফিরিয়া বৈসয়ে রোখে।
আমার কারণ, বিনয় বচন, কহিতে হইবে তোকে॥
হেন মনে করি, ধীরে পদ ধরি, চলিলা দোতীর সনে।
দোতীরে মোহন, সাধে পুন পুন, এ যদুনন্দন ভণে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

সখীর বদন,                                হেরিতে নাগর,
নিঝরে নয়ান ঝরে।
শয়নে স্বপনে,                           না জানি যা বিনে,
সে কেনে এমন করে॥
শুন লো মরম সখী।
সে ধনী নিয়ড়ে,                             যাইব কেমনে,
সদয় হইবে নাকি॥
যদি পুন ধনী,                             আমারে দেখিয়া,
ফিরিয়া বৈসয়ে রোখে।
আমার কারণ,                                বিনয় বচন,
কহিতে হইবে তোকে॥
হেন মনে করি,                             ধীরে পদ ধরি,
চলিলা দোতীর সনে।
দোতীরে মোহন,                            সাধে পুন পুন,
এ যদুনন্দন ভণে॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - যপতাল॥

সখীর বদন                          হেরিতে নাগর
নিঝরে নয়ান ঝরে।
শয়নে স্বপনে                     না জানি যা বিনে
সে কেনে এমন করে॥
শুন লো মরম সখী।
সে ধনী-নিয়ড়ে                       যাইব কেমনে
সদয় হইবে নাকি॥
যদি পুন ধনী                       আমারে দেখিয়া
ফিরিয়া বৈসয়ে রোখে।
আমার কারণ                           বিনয় বচন
কহিতে হইবে তোকে॥
হেন মনে করি                        ধীপ পদ ধরি
চলিলা দূতীর সনে।
দূতীরে মোহন                        সাধে পুন পুন
এ যদুনন্দন ভণে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

সখীর বদন                                হেরিতে নাগর
নিঝরে নয়ান ঝরে।
শয়নে স্বপনে                          না জানি যা বিনে
সে কেনে এমন করে॥
শুন লো মরমি সখি।
সে ধনী-নিয়ড়ে                              যাইব কেমনে
সদয় হইবে নাকি॥
যদি পুন ধনী                             আমারে দেখিয়া
ফিরিয়া বৈসয়ে রোখে।
আমার কারণ                                বিনয়-বচন
কহিতে হইবে তোকে॥
হেন মনে করি                              ধীর পদ ধরি
চলিলা দূতীর সনে।
দূতীরে মোহন                                সাধে পুনপুন
এ যদুনন্দন ভণে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চলল সুনাগর অন্তর গরগর
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৬শ পল্লব,
বসন্তকালোচিত মান, ২০৫২-পদসংখ্যা।

॥ মঙ্গল॥

চলল সুনাগর অন্তর গরগর
ঝরঝর লোচনে পানি।
আগে করি দোতি মোতি করি হাতহি
বোলত গদগদ বাণি॥
এ সখি ধনি কি করব পরসাদ।
এহ নিজ দাসে দাস করি লেয়ব
পূরব মঝু মন-সাধ॥
এত কহি কুঞ্জ-সমীপহি আওল
দোতিক সঙ্গহি সঙ্গে।
তুহুঁ আগে যাই রাই সনে মীলহ
তাহিঁ বৈঠল করি ভঙ্গে॥
কানুক অঙ্গ-গন্ধে বন বাসল
রাই কহত কিয়ে বাস।
আওব জানি ফেরি ধনি বৈঠল
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

চলল সুনাগর, অন্তর গর গর, ঝর ঝর লোচনে পানী।
আগে করি দোতী, মোতি করি হাতহি, বোলত গদ গদ বাণী॥
এ সখি ধনী কি করব পরসাদ।
এহ নিজ দাসে, দাস করি লেয়ব, পূরব মঝু মনসাধ॥
এত কহি কুঞ্জ-সমীপহি আওল, দোতীক সঙ্গহি সঙ্গে।
তুহুঁ আগে যাই, রাই সনে মিলহ, তাহে বৈঠল করি ভঙ্গে॥
কানুক অঙ্গ-গন্ধে বন ভাসল, রাই কহত কিয়ে বাস।
আওব জানি, ফেরি ধনী বৈঠল, কহ যদুনন্দনদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

চলল সুনাগর,                                অন্তর গর গর,
ঝর ঝর লোচনে পানী।
আগে করি দোতী,                       মোতি করি হাতহি,
বোলত গদ গদ বাণী॥
এ সখি, ধনী কি করব পরমাদ।
এহ নিজ দাসে,                             দাস করি লেবর,
পূরব মঝুঁ মন-সাধ॥
এত কহি কুঞ্জ,                               সমীপহি আওল,
দোতীক সঙ্গহি সঙ্গে।
তুহুঁ আগে যাই,                              রাই সনে মিলহ,
তাহে বৈঠল করি ভঙ্গে॥
কানুক অঙ্গ,                                গন্ধে বন ভাসল,
রাই কহত কিয়ে বাস।
আওব জানি,                               ফেরি ধনী বৈঠল,
কহে যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

চলল সুনাগর                                অন্তর গরগর
ঝরঝর লোচনে পানি।
আগে করি দোতি                      জোড় করি হাতহি
বোলত গদগদ বাণি॥
এ সখি ধনি কি করব পরসাদ।
এহ নিজ দাসে                             দাস করি লেয়ব
পূরব মঝু মনসাধ॥
এত কহি কুঞ্জ                             সমীপহি আওল
দোতিক সঙ্গহি সঙ্গে।
তুহুঁ আগে যাই                             রাই সনে মীলহ
তাহিঁ বৈঠল করি ভঙ্গে॥
কানুক অঙ্গগন্ধে                                বন সুবাসল
রাই কহত কিয়ে বাস।
আওব জানি                               ফেরি ধনি বৈঠল
কহ যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - তেওট॥

চলল সুনাগর                        অন্তর গর গর
ঝরঝর লোচনে পানি।
আগে করি দোতি                মোতি করি হাতহি
বোলত গদগদ বাণি॥
এ সখি ধনি কি করব পরসাদ।
এহ নিজ দাসে                        দাস করি লেয়ব
পূরব মঝু মন-সাধ॥
এত কহি কুঞ্জ                        সমীপহি আওল
দোতিক সঙ্গহি সঙ্গে।
তুহুঁ আগে যাই                        রাই সনে মীলহ
তাহিঁ বৈঠল করি ভঙ্গে॥
কানুক অঙ্গ-                        গন্ধে বন বাসল
রাই কহত কিয়ে বাস।
আওব জানি                        ফেরি ধনি বৈঠল
কহ যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখি সব সখিগণ দুহুঁজন-প্রেম
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৬শ পল্লব, বসন্তকালোচিত মান, ২০৫৮-পদসংখ্যা।

॥ ভূপালী॥

দেখি সব সখিগণ দুহুঁজন-প্রেম।
কহ ইহ যৈছন লাখবান হেম॥
বাহু পসারি রাই করু কোর।
নাগর নিজ করে মোছই লোর॥
দুরে গেও মান-জনিত দুখ-পূর।
আনন্দ-সাগরে দুহুঁজন বূর॥
সুবদনি মরমহি পাওল লাজ।
নাহক পূরল মনরথ-কাজ॥
চুম্বনে ইষত বয়ান ধনি ফেরি।
ভরমহি সরম আলিঙ্গন বেরি॥
যব পরিরম্ভনে গদগদ নারী।
যৈছন চরবণ তপত কুশারি॥
ইহ সংকীরণ দুহুঁক বিলাস।
জল সেবই যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

দেখি সব সখীগণ দুহুঁজন প্রেম।
কহ ইহ যৈছন লাখবাণ হেম॥
বাহু পসারি রাই করু কোর।
নাগর নিজ করে মোছই লোর॥
দুরে গেও মান-জনিত দুখ পূর।
আনন্দ-সাগরে দুহুঁজন বূর॥
সুবদনী মরমহি পাওল লাজ।
নাহক পূরল মনরথ কাজ॥
চুম্বনে ইষৎ বয়ান ধনী ফেরি।
ভরমহি সরম আলিঙ্গন বেরি॥
যব পরিরম্ভনে গদ গদ নারী।
ঐছন বচন তৃপত মুরারি॥
ইহ সংকীরণ দুহুঁক বিলাস।
জল সেবই যদুনন্দনদাস॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দেখি সব সখীগণ দুহুঁজন প্রেম।
কহ ইহ যৈছন লাখবান হেম॥
বাহু পসারি রাই করু কোর।
নাগর নিজ করে মোছই লোর॥
দুরে গেও মান জনিত দুঃখ পুর।
আনন্দ সায়রে দুহুঁজন বুর॥
সুবদনী মরমহি পাওল লাজ।
নাহক পূরল মনরথ কাজ॥
চুম্বনে ইষত বয়ন ধনী ফেরি।
ভরমহি সরম আলিঙ্গন বেরি॥
যব পরিরম্ভণে গদ গদ নারী।
যৈছন চরবণ তপত কুশারী॥
ইহ সঙ্কীরণ দুহুঁক বিলাস।
জল সেবই যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সঙ্কীর্ণ সম্ভোগ
॥ ভূপালী॥

দেখি সব সখিগণ দুহুঁজন-প্রেম।
কহ ইহ যৈছন লাখবান হেম॥
বাহু পসারি রাই করু কোর।
নাগর নিজ করে মোছই লোর॥
দুরে গেও মান-জনিত দুখ-পূর।
আনন্দ-সাগরে দুহুঁ জন বূর॥
সুবদনি মরমহি পাওল লাজ।
নাহক পূরল মনরথ-কাজ॥
চুম্বনে ইষত বয়ান ধনি ফেরি।
ভরমহি সরম আলিঙ্গন বেরি॥
যৈছন চরবণ তপত কুশারি।
যব পরিরম্ভনে গদগদ নারী॥
ইহ সংকীরণ দুহুঁক বিলাস।
বীজন করই যদুনন্দন দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী - একতালা॥

দেখি সব সখিগণ দুহুঁজন-প্রেম।
কহ ইহ যৈছন লাখবান হেম॥
বাহু পসারি রাই করু কোর।
নাগর নিজ করে মোছই লোর॥
দুরে গেও মান-জনিত দুখ-পূর।
আনন্দ সাগরে দুহুঁজন বূর॥
সুবদনি মরমহি পাওল লাজ।
নাহক পূরল মনরথ-কাজ॥
চুম্বনে ইষত বয়ান ধনি ফেরি।
ভরমহি সরম আলিঙ্গন বেরি॥
যব পরিরম্ভনে গদগদ নারী।
যৈছন চরবণ তপত কুশারি॥
ইহ সংকীরণ দুহুঁক বিলাস।
জল সেবই যদুনন্দন দাস॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিশি-অবশেষে সকল সখীগণ
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮
সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪০৬-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত রাগ নিঃসাকরতালৌ॥

নিশি-অবশেষে সকল সখীগণ রাই কাহ্ণু সঞে ভোর।
নিরমল নয়ন কমলহি অবিরত গলয়ে আনন্দ লোর॥
দেখ সখি অপরূব কাজ।
বিছুরল গেহ গমন সব বূরল মোহ সরোবর মাঝ॥
বৃন্দাদেবি সঙ্কেত বচনহি কক্খটি হোই উনমাদ।
জটিলা শবদ শুনায়ত উচ সরে শুন তহি ভেল পরমাদ॥
সচকিত লোচনে অনো অনো মুখ হেরি কুঞ্জসে নিকসে বাহার।
দাস যদুনন্দন তুরি তহিঁ লেয়ল তহিঁ যত ছিল উপহার॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ,
৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৫০৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নিশি-অবশেষে সকল সখীগণ
রাই কানু সঞে ভোর।
নিরমল নয়ন-কমল বহি অবিরত
গলতহি আনন্দ-লোর॥
দেখ দেখ অপরূপ কাজ।
বিছুরল গেহ-গমন সভে বূরল
মোহ-সরোবর মাঝ॥ ধ্রু॥
বৃন্দা-দেবি সঙ্কেত-বচন জানি
কক্খটি হই উনমাদ।
জটিলা-শবদ শুনায়ত উচ-স্বরে
শুনইতে ভেল পরমাদ॥
সচকিত-লোচনে আন আন মুখ হেরি
কুঞ্জসেঁ নিকসে বহার।
দাস যদুনন্দন তুরিতহি লেয়ল
তহিঁ যত ছিল উপহার॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গান্ধার॥

নিশি অবশেষে, সকল সখীগণ, রাই কানু সঞে ভোর।
নিরমল নয়ন-কমল বহি অবিরত, গলতহি আনন্দ লোর॥
দেখ দেখ অপরূপ কাজ।
বিছুরল গেহ-গমন সবে বূড়ল, মোহ সরোবর মাঝ॥
বৃন্দাদেবী, সঙ্কেতবচন জানি, কক্খটী হই উনমাদ।
জটিলা-শবদ, শুনায়ত উচ্চস্বরে, শুনইতে ভেল পরমাদ॥
সচকিত-লোচনে, আন মুখ হেরি, কুঞ্জসেঁ নিকসে বাহার।
দাস যদুনন্দন, তুরিতহি লেয়ল, তহিঁ যত ছিল উপহার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নিশি অবশেষে সকল সখীগণ
রাই কানু সঞে ভোর।
নিরমল নয়ন-কমল বহি অবিরত
গলতহি আনন্দ লোর॥
দেখ দেখ অপরূপ কাজ।
বিছুরল গেহ-গমন সভে বূরল
মোহ-সরোবর মাঝ॥ ধ্রু॥
বৃন্দা-দেবি সঙ্কেত-বচন জানি
কক্খটি হই উনমাদ।
জটিলা-শবদ শুনায়ত উভরোলে
শুনইতে ভেল পরমাদ॥
সচকিত-লোচনে আন আন মুখ হেরি
কুঞ্জসেঁ নিকসে বহার।
দাস যদুনন্দন তুরিতহি লেয়ল
তহিঁ যত ছিল উপচার॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিজ গৃহে সখী সঙ্গে রসবতী রাই
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা - ২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৫৯০-পদসংখ্যা।

নিজ গৃহে সখী সঙ্গে রসবতী রাই।
কানু-অনুরাগ বাঢ়য়ে অধিকাই॥
সখী-পথ নিরখিতে আকুল ভেল।
বিরহক তাপে তাপিত ভৈ গেল॥
অতি উতকণ্ঠিত গদগদ বোল।
বিশাখারে আবেশে করয়ে নিজ কোর॥
সকল ইন্দ্রিয় ক্ষোভি কহে বিশাখারে।
এ যদুনন্দন কহে অনুরাগ-ভরে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নিজ-গৃহে সখী সঙ্গে রসবতী রাই।
কানু-অনুরাগ বাড়য়ে অধিকাই॥
সখীপথ নিরাখিতে আকুল ভেল।
বিরহক তাপে তাপিত ভৈ গেল॥
অতি উতকণ্ঠিত গদ গদ বোল।
বিশাখারে আবেশে করে নিজ কোর॥
সকল ইন্দ্রিয় ক্ষোভি কহে বিশাখারে।
এ যদুনন্দন কহে অনুরাগ ভরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

নিজগৃহে সখী সঙ্গে রসবতী রাই।
কানু অনুরাগ বাঢ়য়ে অধিকাই॥
সখীপথ নিরখিতে আকুল ভেল।
বিরহক তাপে তাপিত ভৈ গেল॥
অতি উতকণ্ঠিত গদগদ বোল।
বিশাখারে আবেশে করয়ে নিজ কোল॥
সকল ইন্দ্রিয় ক্ষোভি কহে বিশাখারে।
এ যদুনন্দন কহে অনুরাগভরে॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ - তেওট॥

নিজ গৃহে সখী সঙ্গে রসবতী রাই।
কানু অনুরাগ বাঢ়য়ে অধিকাই॥
সখী-পথ নিরখিতে আকুল ভেল।
বিরহক তাপে তাপিত ভৈগেল॥
অতি উতকণ্ঠিত গদ গদ বোল।
বিশাখারে আবেশে করয়ে নিজ কোর॥
সকল ইন্দ্রিয় ক্ষোভি কহে বিশাখারে।
এ যদু নন্দন কহে অনুরাগ ভরে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দুহুঁ-প্রেম গুরু ভেল শিষ্য তনু মন
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩০শ
পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬০৬-পদসংখ্যা।

॥ তুড়ী॥

দুহুঁ-প্রেম গুরু ভেল শিষ্য তনু মন।
শিখায় দোঁহারে নৃত্য অতি মনোরম॥
চাপল্য ঔত্সুক্য হর্ষ ভাব-অলঙ্কার।
দুহুঁ-মন শিষ্য পরে ভূষণের ভার॥
সুজৃম্ভাদি উদ্ভাব সুদীপ্ত সাত্বিক।
এই সব ভাব ভূষা রাধার অধিক॥
অযত্নজ শোভা আদি সপ্ত অলঙ্কার।
স্বভাব বিলাসাদি দশ পরকার॥
ভাবাদি অঙ্গজা তিন মৌগ্ধ্য চকিত।
দ্বাবিংশতি অলঙ্কারে রাধাঙ্গ ভূষিত॥
নানা ভাবে বিভূষিত কহনে না যায়।
এ যদুনন্দন দাস বিস্তারিয়া গায়॥

টীকা -
৭ - ১০। “অযত্নজ” ইত্যাদি। নায়িকাদিগের অযত্নজ সপ্ত অলঙ্কার, যথা---
শোভা কান্তিশ্চ দীপ্তশ্চ মাধুর্য্যঞ্চ প্রগল্ ভতা।
ঔদার্য্যং ধৈর্য্যমিত্যেতে সপ্তৈব সু রযত্নজাঃ॥---উজ্জ্বল-নীল-মণি, রূপ গোস্বামী॥

নায়িকাদিগের স্বভাবজ দশ অলঙ্কার, যথা---
লীলা বিলাসো বিচ্ছিত্তির্বিভ্রমঃ কিলকিঞিচুতং।
মোট্টায়িতং কুট্টমিতং বিব্বোকো ললিতং তথা।
বিকৃতং চেতি বিজ্ঞেয়া দশ তাসাং স্বভাবজাঃ।---উজ্জ্বল-নীল-মণি, রূপ গোস্বামী॥

নায়িকাদিগের ভাবাদি অঙ্গজ তিনটি অলঙ্কার, যথা---
ভাবো হাবশ্চ হেলা চ প্রোক্তাস্তত্র ত্রয়োহঙ্গজাঃ।---উজ্জ্বল-নীল-মণি, রূপ গোস্বামী॥

পুনশ্চ---
অলঙ্কারা নিগদিতা বিংশতির্গাত্রচিত্তজাঃ।
অমী যথোচিতং জ্ঞেয়া মাধবেহপি মনীষিতিঃ॥
কৈশ্চিদন্যেহপালঙ্কারাঃ প্রোক্তা নাত্র ময়োদিতাঃ।
মুনেরসম্মতত্বেন কিন্তু দ্বিতয়মুচ্যতে।
মৌগ্ধঞ্চ চকিতঞ্চেতি কিঞ্চিন্মাধুর্য্যপোষণাৎ॥---উজ্জ্বল-নীল-মণি, রূপ গোস্বামী॥

পূর্ব্বোক্ত দ্বাবিংশতি অলঙ্কারের লক্ষণ ও উদাহরণ উজ্জ্বল-নীল-মণি গ্রন্থে অনুভাব প্রকরণে দ্রষ্টব্য।
---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
পদলহরী”, ৪২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

দুহুঁ প্রেম-গুরু ভেল শিষ্য তনু মন।
শিখায় দোঁহারে নৃত্য অতি মনোরম॥
চাপল্য ঔসুক্য হর্ষ ভাব-অলঙ্কার।
দুহুঁ মন শিষ্য পরে ভূষণের ভার॥
সুজৃম্ভাদি উদ্ভাব সুদীপ্ত সাত্বিক।
এই সব ভাবভূষা রাধার অধিক॥
অযত্নজ শোভা আদি সপ্ত অলঙ্কার।
স্বভাবজ বিলাসাদি দশ পরকার॥
ভাবাদি অঙ্গজ তিন সৌজন্য চকিত।
দ্বাবিংশতি অলঙ্কারে রাধাঙ্গ ভূষিত॥
নানা ভাবে বিভূষিত কহনে না যায়।
এ যদুনন্দন দাস বিস্তারিয়া গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

দুহুঁপ্রেম গুরু ভেল শিষ্য তনুমন।
শিখায় দোঁহারে নৃত্য অতি মনোরম॥
চাপল্য ঔত্সুক্য হর্ষ ভাব অলঙ্কার।
দুহুঁমন শিষ্য পরে ভূষণের ভার॥
সুজৃম্ভাদি উদ্ভাস্বর সুদীপ্ত সাত্বিক।
এই সব ভাব ভূষা রাধার অধিক॥
অযত্নজ শোভা আদি সপ্ত অলঙ্কার।
স্বভাবজ বিলাসাদি দশ পরকার॥
ভাবাদি অঙ্গজা তিন মৌগ্ধ্য চকিত।
দ্বাবিংশতি অলঙ্কারে রাধাঙ্গ ভূষিত॥
নানা ভাবে বিভূষিত কহনে না যায়।
এ যদুনন্দনদাস বিস্তারিয়া গায়॥

ই পদটি ১৯৩১-১৯৫৫ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীরাধাকুণ্ড মিলন।
॥ তুড়ি ধানশী - জপতাল॥

দুহুঁ-প্রেম গুরু ভেল শিষ্য তনু মন।
শিখায়ে দোঁহারে নৃত্য অতি মনোরম॥
চাপল্য ঔত্সুক্য হর্ষভাব অলঙ্কার১।
দুহুঁ মন শিষ্য পরে ভূষণের ভার॥
সুজৃম্ভাদি উদ্ভাস্বর সুদ্দীপ্ত সাত্ত্বিক।
এই সব ভাব-ভূষা রাধার অধিক॥
অযত্নজ শোভা আদি সপ্ত অলঙ্কার।
স্বভাব বিলাসা আদি দশ পরকার॥
ভাবাদি অঙ্গজা তিন মৌগ্ধ্য চকিত।
দ্বাবিংশতি অলঙ্কারে রাধাঙ্গ ভূষিত॥
নানা ভাবে বিভূষিত কহনে না যায়।
এ যদুনন্দন দাস বিস্তারিয়া গায়॥

টীকা -
১। উজ্জ্বলনীলমণি অনুসারে স্ত্রীলোকের অযত্নসঞ্জাত সাত প্রকার ভাব আছে :---
শোভা, কানিতু, দীপ্তি, মাধুর্য্য, প্রগল্ ভতা, ঔদার্য্য, ও ধৈর্য্য।--- উজ্জ্বলনীলমণি ৪৯৭ পৃষ্ঠা।
২। নায়িকাদের স্বভাবজাত অলঙ্কার দশপ্রকার :---
লীলা, বিলাস, বিচ্ছিত্তি, বিভ্রম, কিলকিঞ্চিত, মোট্টায়িত, কুট্টমিত, বিব্বোক, ললিত ও বিকৃত।
বিচ্ছিত্তি---অল্পবেশাদি ধারণেও শোভার বৃদ্ধি হয়।
বিভ্রম---প্রিয়দর্শন-লালসার ব্যস্ততাক্রমে অলঙ্কারের স্থান বিপর্য্যয়।
কিলকিঞ্চিত---গর্ব্ব, অভিলাষ, রোদন, হাস্য, অসূয়া, ভয়, ক্রোধ,---অকস্মাৎ অঙ্গস্পর্শাদিজনিত হর্ষ
উপস্থিত হইলে যুগপৎ যে সাতটি ভাবের উদয় হয়, ইহাকে কিলকিঞ্চিত বলে।
মোট্টায়িত---প্রিয়ের স্মরণে ও বার্ত্তা-শ্রবণে স্থায়ীপ্রেম-ভাবনা নিবন্ধন হৃদয়ে যে অভিলাষের উদয়
হয়, তাহাকে মোট্টায়িত বলে।
কুট্টমিত---প্রিয়ের আচরণে হৃদয়ের একান্ত প্রীতি হইলেও বাহিরে যে ক্রোধভাব প্রকটিত হয়,
তাহাকে কুট্টমিত বলে।
বিব্বোক---গর্ব্ব মান হেতু প্রিয়ের প্রতি যে অনাদর, তাহার নাম বিব্বোক।
---নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তোড়ইতে কুসুম চলল যব রাই
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা - ২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬০৭-পদসংখ্যা।

॥ সুরট॥

তোড়ইতে কুসুম চলল যব রাই।
নাগর বাহু পসারল যাই॥
সুবদনি গরবিনি হিয়ে অভিলাষ।
ঝূটহি কান্দল তাহে মৃদু হাস॥
অসুয়াদি ভাবে ভরল সব অঙ্গ।
জলদ অরুণ দিঠি কতহুঁ বিভঙ্গ॥
হেরয়ে কোই জানি ভয় ভেল তায়।
ভাঙ-বিভঙ্গ রোখে পুন চায়॥
ইহ কিলকিঞ্চিত-ভূষিত গোরি।
কানু পটাঞ্চলে ধরই বিভোরি॥
পদ আধ চলই চলই নাহি পার।
ইহ যদুনন্দন কহ রস সার॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুরট॥

তোড়ইতে কুসুম চলল যব রাই।
নাগর বাহু পসারল যাই॥
সুবদনী গরবিণী হিয়ে অভিলাষ।
ঝূটহি কান্দল তাহে মৃদু হাস॥
অসূয়াদি ভাবে ভরল সব অঙ্গ।
জলদ অরুণ দিঠি কতহুঁ বিভঙ্গ॥
হেরয়ে কোই জানি ভয় ভেল তায়।
ভাঙ্গ-বিভঙ্গ রোখে পুন চায়॥
ইহ কিলকিঞ্চিত-ভূষিত গোরী।
কানু পটাঞ্চলে ধরই বিভোরি॥
পদ আধ চলই চলই নাহি পার।
ইহ যদুনন্দন কহ রস সার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুরট॥

তোড়ইতে কুসুম চলল যব রাই।
নাগর বাহু পসারল তথি যাই॥
সুবদনি গরবিনি হিয়ে অভিলাষ।
ঝূটহি কাঁদল তাহে মৃদু হাস॥
অসূয়াদি ভাবে ভরল সব অঙ্গ।
জলদ অরুণ দিঠি কতহুঁ বিভঙ্গ॥
হেরয়ে কোই জানি ভয় ভেল তায়।
ভাঙ-বিভঙ্গ রোখে পুন চায়॥
ইহ কিলকিঞ্চিত-ভূষিত গোরি।
কানু পটাঞ্চলে ধরই বিভোরি॥
পদ আধ চলই চলই নাহি পার।
ইহ যদুনন্দন কহ রস সার॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর