| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বৃন্দা কহে পঢ় শারি শারী পঢ়ে মনোহারী ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬৬৪-পদসংখ্যা। ॥ ধানশী॥ বৃন্দা কহে পঢ় শারি শারী পঢ়ে মনোহারী জলজ-নয়নী ধনী রাধে। জগন্নারীর গর্ব্ব-হারী জয় রাধে সুকুমারী কৃষ্ণ-প্রিয়া কৃষ্ণ-সর্ব্ব-সাধে॥ সুনাগরী সুসাধিকে কৃষ্ণ-চিত্ত-মরালিকে কহে শারী ধনী অতি ধন্যা। জগত-তরুণী-শ্রেণী- কলা-শিক্ষা-গুরু-মণি ভুবন করিল যশ-বন্যা॥ সর্ব্ব-গুণ-মণি-খনি প্রেম-সুধানিধি ধনী ত্রিভুবন-সাধ্বীগণ-বন্দ্যা। ভুবন পূজিতা ধনী বৃন্দারণ্য-রাজ্য-রাণী লক্ষ্মী জিনি স্বয়ং লক্ষ্মী-ছন্দা॥ সর্ব্ব-সল্লক্ষণময়ী সুসদগুণ-সুসঞ্চরী প্রণম্য-প্রণয়ে নিরমলা। অজিত করল বশ হেন প্রেম-সুধারস বৃন্দারণ্যে স্বয়ং লক্ষ্মী ভেলা॥ রাস-নৃত্য বেশ হাস সত্কলাদি পরকাশ প্রেম-নব্য-রূপ-ভরা ধনী। বল্লবীগণের ঈশ নাগরেন্দ্র অহর্নিশ পূরে বাঞ্ছা রাধা গুণ-মণি॥ রাই কৃষ্ণের দু-নয়ন রাই কৃষ্ণের প্রাণ-ধন রাই কৃষ্ণের গলে চম্প-মালা। এ যদুনন্দন কহে এই কভু আন নহে যাতে রাস তুরঙ্গে ধরিলা॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বৃন্দা কহে পড় শারী, শারী পড়ে মনোহরী, জলজ-নয়নী ধনী রাধে। জগন্নারীর গর্ব্বহারী, জয় রাধে সুকুমারী, কৃষ্ণ-প্রিয়া কৃষ্ণ-সর্ব্ব-সাধে॥ সুনাগরী সাধিকে, কৃষ্ণ-চিত্ত-মরালিকে, কহে শারী ধনী অতি ধন্যা। জগৎ-তরুণী-শ্রেণী, কলা-শিক্ষা-গুরুমণি, ভুবন ভরিল যশ-বন্যা॥ সর্ব্ব-গুণ-মণি-খনি, প্রেম-সুধানিধি ধনী, ত্রিভুবন সাধ্বীগণ-বন্দ্যা। ভুবন-পূজিত ধনী, বৃন্দারণ্য রাজরাণী, লক্ষ্মী জিনি স্বয়ং লক্ষ্মী-ছন্দা॥ সর্ব্ব-সল্লক্ষণময়ী, সুস গুণসঞ্চয়ী, প্রণম্যা প্রণয়ে নিরমলা। অজিত করল বশ, হেন প্রেম-সুধারস, বৃন্দারণ্যে স্বয়ং লক্ষ্মী ভেলা॥ রাস-নৃত্য বেশ হাস, সত্কলাদি পরকাশ, প্রেম নব্য রূপভরা ধনী। বল্লবীগণের ঈশ, নাগরেন্দ্র অহর্নিশ, পূরে বাঞ্ছা রাধা গুণমণি॥ রাই কৃষ্ণের দুনয়ন, রাই কৃষ্ণের প্রাণধন, রাই কৃষ্ণের গলে চম্পকমালা। এ যদুনন্দন কহে, এই কভু আন নহে, যাতে রাস সুরঙ্গে ধরিলা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বৃন্দা কহে পঢ় শারি শারী পঢ়ে মনোহারী জলজনয়নী ধনী রাধে। জগন্নারীর গর্ব্বহারী জয় রাধে সুকুমারী কৃষ্ণপ্রিয়া কৃষ্ণসর্ব্বসাধে॥ সুনাগরী সুসাধিকে কৃষ্ণচিত্তমরালিকে কহে শারী ধনী অতি ধন্যা। জগততরুণীশ্রেণী- কলাশিক্ষাগুরুমণি ভুবন করিল যশবন্যা॥ সর্ব্বগুণ মণি খনি প্রেমসুধানিধি ধনী ত্রিভুবন সাধ্বীগণবন্দ্যা। ভুবনপূজিতা ধনী বৃন্দারণ্যরাজ্যরাণী লক্ষ্মী জিনি স্বয়ং লক্ষ্মীছন্দা॥ সর্ব্বসল্লক্ষণময়ী সুসদগুণ সুসঞ্চয়ী প্রণম্য প্রণয়ে নিরমলা। অজিত করল বশ হেন প্রেমসুধারস বৃন্দারণ্যে স্বয়ং লক্ষ্মী ভেলা॥ রাসনৃত্য বেশ হাস সত্কলাদি পরকাশ প্রেমনব্যরূপভরা ধনী। বল্লবীগণের ঈশা নাগরেন্দ্র অহর্নিশা পূরে বাঞ্ছা রাধা গুণমণি॥ রাই কৃষ্ণের দুনয়ন রাই কৃষ্ণের প্রাণধন রাই কৃষ্ণের গলে চম্পমালা। এ যদুনন্দন কহে এই কভু আন নহে যাতে রাস তুরঙ্গে ধরিলা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জটিলা আসিয়া তবে কহয়ে সভারে এবে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪৪৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী রাগৈক তালি তালাভ্যাং॥ জটিলা আসিয়া এবে কহয়ে সভারে তবে পুরোহিত আনহ যাইয়া। বাণি শুনি কুন্দলতা হৈলা অতি হর্ষচিতা সেক্ষণে চলিলা ধাইয়া॥ দেখ কৃষ্ণের অপরূপ লীলা। ধীর শান্ত কলেবর সাক্ষাৎ বিপ্র বেশধর কেহো নাহি লখিতে পারিলা॥ ধ্রু॥ আসি কুন্দলতা দেবি কহই বৃদ্ধারে ভাবি মাথুর দেশীয় গর্গ ছাত্র। ব্রহ্মচর্য্য সদা ধরে না দেখে অবলা কারে আমার সাধনে আইলা মাত্র॥ শুনি সেই হর্ষ মতি করএ প্রণতি স্তুতি ত্বরান্বিতা কহএ বধূরে। এই বিপ্র বিজ্ঞ বর সুশীল সর্ব্ব গুণাকর পৌরহিত্যে বরহ ইহাঁরে॥ শুনি রাই হর্ষ হৈঞা ধিরে ধিরে কহে যাঞা এই মোর মিত্র পূজিবারে। বিশ্বশর্ম্ম নাম খ্যাত জগত মঙ্গল গোত্র পুরোহিতে বরিলুঁ তোমারে॥ তবে সেই বিপ্রবর কুশাগ্রে কর্ষিয়া কর রাই-হস্তে পুষ্পাঞ্জলি দিল। নমো নমো মিত্রবরে এই মন্ত্র উচ্চারে অর্ঘ্য দিয়া পূজা সমাপিল॥ তবে বৃদ্ধা হর্ষ-ভরে দক্ষিণা লইতে তারে পুন পুন যত্নেতে সাধিল। তেঁহো কহে কার্য্য নাই তোমা সভার প্রীতি চাই এই মোর দক্ষিণা হইল॥ তবে সেই তুষ্ট হৈয়া রতন মুদ্রাদি দিয়া কহে নিত্য করাবে পূজন। দণ্ডবৎ প্রণতি কৈলা রাইকে লইয়া গেলা সঙ্গে চলু এ যদুনন্দন॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৬৭৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ জটিলা আসিয়া তবে কহয়ে সভারে এবে পুরোহিত আনহ যাইয়া। শুনি পুন কুন্দলতা হৈলা অতি হর্ষ-চিতা সেক্ষণে চলিলা ধাইয়া॥ দেখ কৃষ্ণের অপরূপ লীলা। ধীর শান্ত কলেবর সাক্ষাৎ বিপ্র-বেশ-ধর কেহ নাহি লখিতে পারিলা॥ ধ্রু॥ আসি কুন্দলতা দেবী কহয়ে বৃদ্ধারে ভাবি মাথুর-দেশীয় গর্গ-ছাত্র। ব্রহ্মচর্য্য সদা ধরে না দেখি অবলা করে১ আমার সাধনে আইলা মাত্র॥ শুনি সেই হর্ষমতি করয়ে মিনতি স্তুতি ত্বরান্বিতা কহয়ে বধূরে। এই বিপ্র বিজ্ঞবর সুশীল সর্ব্ব-গুণ-ধর পৌরহিত্যে বরহ ইহারে॥ শুনিয়া রাই হর্ষ হৈয়া ধীরে ধীরে কহে যাঞা এই মোর মিত্র পূজিবারে। বিশ্বশর্ম্মা নাম খ্যাত জগত-মঙ্গল গোত্র পুরোহিত বরিলুঁ তোমারে॥ তবে সেই বিপ্রবর কুশাগ্রে কর্ষিয়া কর রাই-হস্তে পুষ্পাঞ্জলি দিল। নমো নমো মিত্রবরে এই মন্ত্র উচ্চারে অর্ঘ্য দিয়া পূজা সমাপিল॥ তবে বৃদ্ধা হর্ষ-ভরে দক্ষিণা লইতে তারে পুন পুন যত্নেতে সাধিল। তেঁহো কহে কার্য্য নাই তোমা সভার প্রীতি চাই এই মোর দক্ষিণা হইল॥ তবে সেই তুষ্ট হৈয়া রতন মুদ্রাদি দিয়া কহে নিত্য করাবে পূজন। দণ্ডবৎ প্রণতি কৈলা রাইকে লইয়া গেলা সঙ্গে চলু এ যদুনন্দন॥ ১। “করে” - সতীশচন্দ্র রায়ের মতে বোধ হয় “কারে” হবে। এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগ তালো যথা॥ জটিলা আসিএ তবে কহএ সভারে এবে পুরোহিত আনহ জাইআ। সুনি পুন কুন্দলতা হইলাও হর্ষচিতা সেইক্ষণে চলিলা ধাইয়া॥ দেখ কৃষ্ণ অপরূপ লীলা। ধীর শান্ত কলেবর সাক্ষাৎ বিপ্র বেশধর কেহো নাহি লখিতে পারিলা॥ আসি কুন্দলতা দেবী কহএ বিদ্ধারে ভাবি মাথুর দেশীয় গর্গ ছাত্র। ব্রহ্মচর্য সদা ধরে না দেখে অবলা করে আমার সাধনে আইলা মাত্র॥ সুনি সেই হর্ষমতি করএ বিবিধ স্তুতি ত্বরান্বিতা কহএ বধূরে। এই বিপ্র বিজ্ঞবর সুশীল সর্ব গুণধর পৌরহিত্যে বরহ ইহারে॥ সুনি রাই হর্ষ হঞা ধীরে ধীরে কহে গিআ এই মোর মিত্র পূজিবারে। বিষ্ণুশর্ম্মা নামখ্যাত জগতমঙ্গল গোত্র পুরোহিত বরিল তোমারে॥ তবে সেই বিপ্রবর কুশাগ্রে স্পর্শিআ কর রাই হস্তে পুষ্পাঞ্জলি দিঞা। নম নম মিত্রবরে এই মন্ত্র উচ্চারে অর্ঘ্য দিয়া পূজা সমর্পিলা॥ তবে বিন্দা হর্ষভরে দক্ষিণা লইতে তারে পুণ পুণ যত্নেত সাধিলা। তিহো কহে কার্য্য নাই তোমা সভার প্রীত পাই এই মোর দক্ষিণা হইলা॥ তবে সেই তুষ্ট হঞা রতন মুদ্রা দিঞা কহে নিত্য করাবে পূজন। দণ্ডবৎ প্রণতি কৈলা রাইকে লইআ গেলা সঙ্গে চলু এ যদুনন্দন॥ এই পদটি পুনর্বার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”-এই, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পট মঞ্জরী রাগৈক তালি তালাভ্যাং॥ জটিলা আসিয়া তবে কহএ সভারে এবে পুরোহিত আনহ জাইয়া। বাণী সুনি কুন্দলতা হৈলা অতি হরষিতা সেই ক্ষণে চলিলা ধাইআ॥ দেখ কৃষ্ণের অপরূপ লীলা। ধীর শান্ত কলেবর সাক্ষাৎ বিপ্রবেশ ধর কেহো নাহি লখিতে পারিলা॥ ধ্রু॥ আসি কুন্দলতা দেবী কহএ বিন্দারে ভাবি মাথুর দেশীয় গর্গ ছাত্র। ব্রহ্মচর্য্য সদা ধরে না দেখে অবলা করে আমার সাধন আইলা মাত্র॥ সুনি সেই হর্ষমতী করএ প্রণতি স্তুতি ত্বরান্বিতা কহএ বধূরে। এই বিপ্র বিজ্ঞবর সুশীল সর্ব্বগুণাকর পৌরহিত্যে বরহ ইহারে॥ সুনি রাই হর্ষ হইয়া ধীরে ধীরে কহে জাইয়া এই মোর মিত্র পূজিবারে। বিষ্ণুশর্ম্মে নামখ্যাত জগৎ মঙ্গল গোত্র পৌরহিত্য বরিনু তোমারে॥ তবে সেই বিপ্রবর কুশাগ্রে স্পর্শিয়া কর রাই হস্তে পুষ্পাঞ্জলি দিল। নমো নমো মিত্রবরে এই মন্ত্র উচ্চারে অর্ঘ্য দিঞা পূজা সমাপিল॥ তবে বিন্দা হর্ষ ভরে দক্ষিণা লইতে তারে পুন পুন যত্নেত সাধিল। তেহো কহে কার্য্য নাই তোমা সভার প্রীত চাই এই মোর দক্ষিণা হইল॥ তবে সেই তুষ্ট হইয়া রতন মুদ্রা দিয়া কহে নিত্য করাবে পূজন। দণ্ডবৎ প্রণিপাত হৈলা রাইএরে লইয়া গেলা সঙ্গে চলু এ যদুনন্দন॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ জটিলা আসিয়া তবে, কহয়ে সবারে এবে, পুরোহিত আনহ যাইয়া। শুনি পুন কুন্দলতা, হৈলা অতি হর্ষ-চিতা, সেই ক্ষণে চলিলা ধাইয়া॥ দেখ কৃষ্ণের অপরূপ লীলা। ধীর শান্ত কলেবর, সাক্ষাৎ বিপ্রবেশ-ধর, কেহ নাহি লখিতে পারিলা॥ আসি কুন্দলতা দেবী, কহয়ে বৃদ্ধারে ভাবি, মাথুর দেশীয় গর্গ-ছাত্র। ব্রহ্মচর্য্য সদা ধরে, না দেখি অবলা কারে, আমার সাধনে আইলা মাত্র॥ শুনি সেই হর্ষমতি, করয়ে প্রণতি স্তুতি, ত্বরান্বিতা কহয়ে বধূরে। এই বিপ্র বিজ্ঞবর, সুশীল সর্ব্ব-গুণকর, পৌরহিত্যে বরহ ইহারে॥ শুনি রাই হর্ষ হৈয়া, ধীরে ধীরে কহে যাঞা, এই মোর মিত্র পূজিবারে। বিশ্বশর্ম্মা নাম খ্যাত, জগত-মঙ্গল গোত্র, পুরোহিতে বরিনু তোমারে॥ তবে সেই বিপ্রবর, কুশাগ্রে কর্ষিয়া কর, রাই হস্তে পুষ্পাঞ্জলি দিল। নমো নমো মিত্রবরে, এই মন্ত্র উচ্চারে, অর্ঘ্য দিয়া পূজা সমর্পিল॥ তবে বৃদ্ধা হর্ষ ভরে, দক্ষিণা লইতে তারে, পুন পুন যত্নেতে সাধিল। তেঁহো কহে কার্য্য নাহি, তোমা সভার প্রীতি চাহি, এই মোর দক্ষিণা হইল॥ তবে সেই তুষ্ট হৈয়া, রতন মুদ্রাদি দিয়া, কহে নিত্য করাবে পূজন। দণ্ডবৎ প্রণতি কৈলা, রাইকে লইয়া গেলা, সঙ্গে চলু এ যদুনন্দন॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ জটিলা আসিয়া তবে কহয়ে সভারে এবে . পুরোহিত আনহ যাইয়া। শুনি পুন কুন্দলতা হৈলা অতি হর্ষচিতা . সেক্ষণে চলিলা ধাইয়া॥ . দেখ কৃষ্ণের অপরূপ লীলা। ধীর শান্ত কলেবর সাক্ষাৎ বিপ্র-বেশ-ধর . কেহ নাহি লখিতে পারিলা॥ ধ্রু॥ কুন্দলতা দেবী আসি কহয়ে বৃদ্ধারে ভাষি . মাথুর-দেশীয় গর্গছাত্র। ব্রহ্মচর্য্য সদা ধরে না দেখে অবলা করে . আমার সাধনে আইলা মাত্র॥ শুনি সেই হর্ষমতি করয়ে মিনতি স্তুতি . ত্বরান্বিতা কহয়ে বধূরে। এই বিপ্র বিজ্ঞবর সুশীল সর্ব্ব-গুণধর . পৌরহিত্যে বরহ ইহারে॥ শুনিয়া রাই হর্ষ হৈয়া ধীরে ধীরে কহে যাঞা . এই মোর মিত্র পূজিবারে। বিশ্বকর্ম্মা নাম খ্যাত জগত মঙ্গল গোত্র . পুরোহিতে বরিলুঁ তোমারে॥ তবে সেই বিপ্রবর কুশাগ্রে কর্ষিয়া কর . রাই-হস্তে পুষ্পাঞ্জলি দিল। নমো নমো মিত্রবরে এই মন্ত্র উচ্চারে . অর্ঘ্য দিয়া পূজা সমাপিল॥ তবে বৃদ্ধা হর্ষভরে দক্ষিণা লইতে তারে . পুন পুন যত্নেতে সাধিল। তেঁহো কহে কার্য্য নাই তোমা সভার প্রীতি চাই . এই মোর দক্ষিণা হইল॥ তবে সেই তুষ্ট হৈয়া রতন মুদ্রাদি দিয়া . কহে নিত্য করাবে পূজন। দণ্ডবৎ প্রণতি কৈলা রাইকে লইয়া গেলা . সঙ্গে চলু এ যদুনন্দন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পূর্ব্বাহ্ণে ধেনু মিত্র সঙ্গে করি নানা চিত্র ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩২শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৫২-পদসংখ্যা। ॥ তথা রাগ॥ পূর্ব্বাহ্ণে ধেনু মিত্র সঙ্গে করি নানা চিত্র বিপিন-গমন কৈলা হরি। ব্রজেশ্বর-ব্রজেশ্বরী অতিস্নেহে হিয়া ভরি ব্রজ-লোক সঙ্গে আগুসরি॥ লালন করিয়া তারা ঘরে আইলা চিত্র পারা কৃষ্ণ প্রবেশিলা বৃন্দাবনে। রাধাময় দেখি বন চঞ্চল হইল মন তেজি সখা-সঙ্গ ক্রীড়া-রণে॥ রাধাকুণ্ড-তীর আইলা মিলিতে উত্কণ্ঠা হৈলা রাই-সঙ্গ চিন্তিতে লাগিলা। রাই আনিবার কাজে কহে নর্ম্ম-সখা মাঝে ধনিষ্টাকে পাঠাইয়া দিলা॥ শ্রীরাধিকা কৃষ্ণে দেখি গৃহে আইলা সঙ্গে সখী বিমনা হইয়া অভিসরি। তাম্বুল চন্দন মালা রাই তাহাঁ পাঠাইলা তুলসীকে বিবরণ বলি॥ মিত্র পূজিবার তরে জটিলা আদেশ করে তাহাতে আনন্দ হইয়া মনে। তভু কৃষ্ণ-অদর্শনে লক্ষ লক্ষ যুগ মানে এ যদুনন্দন দাস ভণে॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ পূর্ব্বাহ্নে ধেনু মিত্র, সঙ্গে করি নানা চিত্র, বিপিন-গমন কৈলা হরি। ব্রজেশ্বর ব্রজেশ্বরী, অতিস্নেহে হিয়া ভরি, ব্রজ-লোক সঙ্গে আগুসরি॥ লালন করিয়া তারা, ঘরে আইলা চিত্র পারা, কৃষ্ণ প্রবেশিলা বৃন্দাবনে। রাধাময় দেখি বন, চঞ্চল হইল মন, তেজি সখা-সঙ্গী ক্রীড়া-রণে॥ রাধাকুণ্ড-তীর আইলা, @লিতে উত্কণ্ঠা হৈলা, রাই-সঙ্গ চিন্তিতে লাগিলা। রাই আনিবার কাজে, কহে নর্ম্ম-সখা মাঝে, ধনিষ্টাকে পাঠাইয়া দিলা॥ শ্রীরাধিকা কৃষ্ণে দেখি, গৃহে আইলা সঙ্গে সখী, বিমনা হইয়া অভিসরি। তাম্বুল চন্দন মালা, রাই তাহা পাঠাইলা, তুলসীকে বিবরণ বলি॥ মিত্র পূজিবার তরে, জটিলা আদেশ করে, তাহাতে আনন্দ হইয়া মনে। তবু কৃষ্ণ দরশনে, লক্ষ লক্ষ যুগ মানে, এ যদুনন্দন দাস ভণে॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ পূর্ব্বাহ্ণে ধেনু মিত্র সঙ্গে করি নানা চিত্র বিপিন গমন কৈলা হরি। ব্রজেশ্বর ব্রজেশ্বরী অতি স্নেহে হিয়া ভরি ব্রজলোক সঙ্গে আগুসরি॥ লালন করিয়া তারা ঘরে আইলা চিত্র পারা কৃষ্ণ প্রবেশিলা বৃন্দাবনে। রাধাময় দেখি বন চঞ্চল হইল মন তেজি সখাসঙ্গ ক্রীড়ারণে॥ রাধাকুণ্ড তীরে আইলা মিলিতে উত্কণ্ঠা হৈলা রাইসঙ্গ চিন্তিতে লাগিলা। রাই আনিবার কাজে কহে নর্ম্মসখা মাঝে ধনিষ্টাকে পাঠাইয়া দিলা॥ শ্রীরাধিকা কৃষ্ণে দেখি গৃহে আইলা সঙ্গে সখী বিমনা হইয়া অভিসরি। তাম্বুল চন্দন মালা রাই তাহাঁ পাঠাইলা তুলসীকে বিবরণ বলি॥ মিত্র পূজিবার তরে জটিলা আদেশ করে তাহাতে আনন্দ হইয়া মনে। তভু কৃষ্ণঅদর্শনে লক্ষ লক্ষ যুগ মানে এ যদুনন্দন দাস ভণে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধাকৃষ্ণ-তনু-মন উত্কণ্ঠাতে নিমগন ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা - ২য় ভাগ, ৩২শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৫৪-পদসংখ্যা। ॥ বরাড়ী॥ রাধাকৃষ্ণ-তনু-মন উত্কণ্ঠাতে নিমগন নানা যত্নে মিলন দোহাঁর। অন্যোন্য-দরশনে বিবিধ বিকারগণে অঙ্গে পরে ভাব-অলঙ্কার॥ বাম্য হর্ষ চপলতা নানা নর্ম্ম-সুখ-কথা অঙ্গ-ভঙ্গী ভ্রু-নেত্র-চালন। বংশী-হৃতি ফাগু-খেলা তবে কৈল দোলা-লীলা তবে মধুপান লীলাগণ॥ তবে হৈল রতি-লীলা তার পাছে অম্বু-লীলা অঙ্গ-বেশ ভোজন শয়ন। শুক-পাঠ পাশা-খেলা সূর্য্য-পূজা-আদি লীলা আনন্দ-সমুদ্রে নিমগন॥ রাধাকৃষ্ণ সখী-সঙ্গে তৃপ্ত হৈলা রস-রঙ্গে সেবা করে সব পরিজন। এই সূত্র-কথাগণ সুবিস্তার বর্ণন কহে দাস এ যদুনন্দন॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ রাধাকৃষ্ণ-তনু মন, উত্কণ্ঠাতে নিমগন, নানা যত্নে মিলন দোহাঁর। অন্যোন্য-দরশনে, বিবিধ বিকারগণে, অঙ্গে পরে ভাব অলঙ্কার॥ বাম্য হর্ষ চপলতা, নানা নর্ম্মসুখকথা, অঙ্গ ভঙ্গী ভ্রু-নেত্র-চালন। বংশী-হৃতি ফাগু খেলা, তবে কৈলা দোলা-লীলা, তবে মধুপান লীলাগণ॥ তবে হৈল রতিলীলা, তার পাছে অম্বুলীলা, অঙ্গবেশ ভোজন শয়ন। শুকপাঠ পাশা খেলা, সূর্য্য-পূজা আদি লীলা, আনন্দ-সমুদ্রে নিমগন॥ রাধাকৃষ্ণ সখী সঙ্গে, তৃপ্ত হৈলা রস রঙ্গে, সেবা করে সব পরিজন। এই সূত্র-কথা-গণ, বিস্তার সুবর্ণন, কহে দাস এ যদুনন্দন॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ রাধাকৃষ্ণতনুমন উত্কণ্ঠাতে নিমগন নানা যত্নে মিলন দোহাঁর। অন্যোন্য দরশনে বিবিধ বিকার গণে অঙ্গে পরে ভাব অলংকার॥ বাম্য হর্ষ চপলতা নানা নর্ম্ম সুখকথা অঙ্গভঙ্গী ভ্রুনেত্র চালন। বংশী হৃতি ফাগু খেলা তবে কৈল দোলালীলা তবে মধুপান লীলাগণ॥ তবে হৈল রতিলীলা তার পাছে অম্বুলীলা অঙ্গ বেশ ভোজন শয়ন। শুকপাঠ পাশা খেলা সূর্য্যপূজা আদি লীলা আনন্দসমুদ্রে নিমগন॥ রাধাকৃষ্ণ সখী সঙ্গে তৃপ্ত হৈলা রসরঙ্গে সেবা করে সব পরিজন। এই সূত্রকথাগণ সুবিস্তার বর্ণন কহে দাস এ যদুনন্দন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সো বর-নাগর-রাজ সজনি সো বর নাগর রাজ ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ সো বর নাগর রাজ। তপন তনয়া১ তটে নিপহি২ নিকটে হিলন নটবর রাজ॥ ধ্রু॥ মরকত মকর রতন জিনি লাবণী প্রতি তনু পিরীতি পসার। শারদ চাঁদ ফাঁদ মুখ মণ্ডল কুণ্ডল শ্রবণে বিহার॥ নাচত ভাঙ মদন ধনু ভঙ্গিম নট খঞ্জন দিঠি জোর। বান্ধুলী অধরে মুরলী রব মাধুরী শ্রুতি মন মাতায়ল মোর॥ উড়েত চূড় চারু শিখি চন্দ্রক মলয় পবন সহ মেল। ভণে যদুনন্দন সবহু রসায়ন মম মন রসায়ন কেল॥ ১ - তপন তনয়া - যমুনা। ২ - নিপহি - কদম্ব তরু। এই পদটি ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন গাড়াদহ ও বাঁকুড়ার পুথি থেকে। ॥ ধানশী॥ সো বর-নাগর-রাজ। তপন-তনয়া-তটে নীপ-তরু নিকটে হীলন নটবর সাজ॥ ধ্রু॥ মরকত-রতন-মুকুর জিনি লাবণি প্রতিতনু পিরিত-পসার। শারদ-চাঁদ ফাঁদ মুখ-মণ্ডল কুণ্ডল শ্রবণে বিহার॥ নাচত ভাঙ মদন ধনু ভঙ্গিম দিঠি-খঞ্জন নট-জোর। বান্ধুলি-অধরে মুরলি-রব মাধুরি উমতায়ল মন মোর॥ ঊড়ত চূড়ে চারু শিখি-চন্দ্রক মন্দ-পবন সঞে মেল। কহে যদুনন্দন শ্রবণ-রসায়ন তনু মন সব হরি নেল॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”. ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর বিভাস কল্যাণ মিশ্র - তেওট॥ সজনি, সো বর নাগর রাজ। তপন-তনয়া-তট নীপহি নিকট হিলন নটবর সাজ॥ ধ্রু॥ মরকত রতন মুকুর বর লাবণি প্রতি তনু পীরিতি পসার। শারদ চান্দ ফান্দ মুখমণ্ডল কুণ্ডল শ্রবণে বিহার॥ নাচত ভাঙ্গ মদন-ধনু ভঙ্গিম নট-খঞ্জন দিঠি জোর। বান্ধুলী-অধরে মুরলীরব মাধুরী উমতায়ল মন মোর॥ উড়ত চূড় চারু শিখি-চন্দ্রক মন্দ মলয় সঞে মেলি। ভণে যদুনন্দন নয়ন রসায়ন মম মন রসায়ন কেলি॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী মিশ্র ভূপালী - তাল তেওট॥ সো বর নাগররাজ। তপনতনয়া তটে, নীপতরু নিকটে, হিলন নটবর সাজ॥ মরকত মুকুর, রতন জিনি লাবণী, প্রতি তনু পীরিতি পশার। শারদ চাঁদ, ফাঁদ মুখমণ্ডল, কুণ্ডল শ্রবণে বিহার॥ নাচত ভাঙ, মদন ধনু ভঙ্গিম, নট খঞ্জন দিঠি জোর। বান্ধুলি অধরে, মুরলীরব মাধুরী, শ্রুতি মন মাতায়ল মোর॥ উড়ত চূড়ে, চারু শিখি চন্দ্রক, মলয় পবন সনে মেল। ভণ যদুনন্দন, সবহু রসায়ন, মম মন রসায়ন কেল॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সো বর নাগর রাজ। তপনতনয়া তটে নিপতরু নিকটে হীলন নটবর সাজ॥ ধ্রু॥ মরকতরতন মুকুর জিনি লাবণি প্রতিতনু পিরিতি পসার। শারদ চাঁদ ফাঁদ মুখমণ্ডল কুণ্ডল শ্রবণে বিথার॥ নাচত ভাঙ মদনধনু ভঙ্গিম দিঠিখঞ্জন নটজোর। বান্ধুলিঅধরে মুরলিরব মাধুরি উমতায়ল মন মোর॥ ঊড়ত চূড়ে চারু শিখিচন্দ্রক মন্দপবন সঞে মেল। কহে যদুনন্দন শ্রুতি আঁখি রসায়ন তনু মন সব হরি নেল॥ ব্যাখ্যা - অই শ্রেষ্ঠ নাগর রাজ কে? তপনতনয়া (যমুনার) তীরে কদম্বতরুতে হিলন দিয়া নটবর সাজে (দাঁড়াইয়া আছেন) মরকত মণির দর্পণ বিজয়ী লাবণ্য। প্রতি অঙ্গে পীরিতির পসার সাজানো। মুখমণ্ডল শারদ চাঁদের ফাঁদ। শ্রবণে কুণ্ডলের শোভা। মদন ধনুর ভঙ্গীযুক্ত ভুরু নাচিতেছে। মুরলী ধ্বনির মাধুরি আমার মন উন্মত্ত করিল। মন্দ বায়ুতে মিলিয়া চূড়ায় সুন্দর শিখিপুচ্ছ উড়িতেছে। যদুনন্দন কহিতেছেন যে শ্রবণ ও নয়নের রসায়ন (বংশীধ্বনিতে ও রূপে) তনুমন সব হরণ করিয়া লইল। ---হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদাবলী”॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যব ধরি পেখলুঁ সো মুখলাবণি যব ধরি পেখলুঁ সো মুখ-মণ্ডল ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ১০৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানসী রাগ যথা সম্ভব তালৌ॥ যব ধরি পেখলুঁ সো মুখলাবণি অপরুব নয়ান সন্ধান। তব ধরি মঝূপরি বরিখে কুসুম শর দিনরজনি নাহি জান॥ সখি সব শুন মোর মরমক বাত। বিরহক ধূমে ছটফট অন্তর জীবন নারহে সোয়াথ॥ ধ্রু॥ সভে যদি সদয় হৃদয়ে তাহে আনহ আরতি কহি তছু পাশ। তব মঝু তনু মন জীবন সঞে পুন কেবল জনু নিজ দাস॥ যদুনন্দন কহ অব দুখবিরমহ সব সখি হোই একুঠাম। চলতহিঁ যৈছনে রাই মানাইয়া পুরায়ব তুয়া নিজ কাম॥ এই পদটি ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথি থেকে। ॥ ধানশী॥ যব ধরি পেখলুঁ সো মুখ-মণ্ডল অপরূপ নয়ন-সন্ধান। তব ধরি মঝু পর বরিখে কুসুম-শর দিন-রজনী নহি জান॥ সখি শুন মরমক বাত। বিরহক ধুমে ছটফট অন্তর জীবনে না রহ সোয়াথ॥ ধ্রু॥ সভে যদি সদয়- হৃদয়ে তাহে আনসি আরতি কহোঁ তছু পাশ। তব মঝু তনু-মন জীবন সঞে পুন কেবল জনু নিজ-দাস॥ যদুনন্দন কহ অব দুখ বিরমহ সব সখি হোই এক ঠাম। চলতহি যৈছনে রাই মানাইয়া পুরাওব তুয়া নিজ কাম॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”. ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীললিত - মধ্যম দশকুসী॥ যব ধরি পেখলুঁ সো মুখ লাবণী অপরূপ নয়ান সন্ধান। তব ধরি মঝু পরি, বরিখে কুসুম-শর দিন-রজনী নহি জান॥ সখি, শুন মোর মরমকি বাত। বিরহক ধূমে ছটফট অন্তর জীবনে না রহে সোয়াথ॥ যদুনন্দন কহ অব দুখ বিরমহ সব সখি হোই এক ঠাম। বলতহিঁ যৈছনে রাই মানাইয়া পুরায়ব তুয়া নিজ কাম॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ ॥ ধানশী॥ যবধরি পেখলুঁ সো মুখ-মণ্ডল অপরূপ নয়ন সন্ধান। তবধরি মঝু পর বরিখে কুসুম-শর দিন-রজনী নহি জান॥ সখি শুন মরমক বাত। বিরহক ধূমে ছটফট অন্তর জীবনে না রহ সোয়াথ॥ ধ্রু॥ সভে যদি সদয় হৃদয়ে তাহে আনসি আরতি কহোঁ তছু পাশ। তব মঝু তনু-মন জীবন সঞে পুন কেবল জনু নিজ দাস॥ যদুনন্দন কহ অব দুখ বিরমহ সব সখি হোই এক ঠাম। চলতহি যৈছনে রাই মানাইয়া পুরাওব তুয়া নিজ-কাম॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাই-বচন শুনি চললহি সহচরি ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন কমলাকান্ত দাসের পদরত্নাকর পুথি থেকে। অভিসার ॥ গান্ধার॥ রাই-বচন শুনি চললহি সহচরি কাননে যাঁহা যদু-বীর। তুরিতহি তাকর দূর সঞে দরশন পাওল কুণ্ডক তীর॥ দেখ সখি অপরুপ কাজ। হেরইতে সমিপহিঁ হোই উলস মতি আওল নাগর-রাজ॥ ধ্রু॥ কহতহি তোহারি সহচরি বিনু মঝু তিল-এক না রহ পরাণ। তুরিতহি যাই তাহে তুহুঁ আনহ হাম রহল ইহ ঠাম॥ শুনইতে সো ধনি ধাই আওল পুনি কহলহি যত কছু বাত। তব অভিসার কয়ল রাই সুবদনি যদুনন্দন করি সাথ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ রাই-বচন শুনি চললহি সহচরি কাননে যাঁহা যদুবীর। তুরিতহি তাকর দূর সঞে দরশন পাওল কুণ্ডক তীর॥ দেখ সখি অপরূপ কাজ। হেরইতে সমিপহিঁ হোই উলস-মতি আওল নাগর-রাজ॥ ধ্রু॥ কহতহি তোহারি সহচরি বিনু মোর তিল এক না রহ পরাণ। তুরিতহি যাই তাহে তুহুঁ আনহ হাম রহল ইহ ঠাম॥ শুনইতে সো ধনি ধাই আওল শুনি কহলহি যত কছু বাত। তব অভিসার কয়ল রাই সুবদনি যদুনন্দন করি সাথ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |