| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| প্রফুল্লিত কনক-কমল মুখ-মণ্ডল ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ- তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৯৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ প্রফুল্লিত কনক-কমল মুখ মণ্ডল, নয়ন খঞ্জন তাহে সাজে। দীর্ঘ ললাট মাঝে হরিমন্দির সাজে করঙ্গ-কৌপীন কটি মাজে॥ জয় জয় গোরাচাঁদ কলুষ-বিনাশ। পতিতপাবন জগ-তারণ-কারণ সংকীর্ত্তন পরকাশ॥ ধ্রু॥ আজানুলম্বিত ভুজদণ্ড বিরাজিত গলে দোলে মালতী-দাম। ভুবনমনোহর দীর্ঘ কলেবর, পুলক কদম্ব অনুপাম॥ প্রাতর-অরুণ রুচি, শ্রীপাদপল্লব, অভেদ অদ্বৈত-নিত্যানন্দ। এ যদুননন্দ দাসে আনন্দ-সায়রে ভাসে, চরণ-কমল-মকরন্দ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ প্রফুল্লিত কনক কমল মুখমণ্ডল নয়নখঞ্জন তাহে রাজে। ললাট মাঝে মাঝে শোভে হরিমন্দির পরিধানে পট্টাম্বর সাজে॥ জয় জয় গোরাচাঁদ কলুষবিনাশ। পতিতপাবন জন- তারণকারণ সংকীর্ত্তন পরকাশ॥ ধ্রু॥ আজানুলম্বিত ভুজদণ্ড বিরাজিত গলে দোলে মালতীদাম। ভুবনমনোহর দীর্ঘ কলেবর পুলক কদম্ব অনুপাম॥ প্রাতরঅরুণ রুচি শ্রীপাদপল্লব শুচি অভেদ অদ্বৈতনিত্যানন্দ। এ যদুননন্দ দাসে আনন্দসায়রে ভাসে চরণকমলমকরন্দ॥ এই পদটি বিজয়ানন্দ দাসের ভণিতায়, আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৪২। ॥ মঙ্গল॥ প্রফুল্লিত কনক- কমল মুখ-মণ্ডল নয়ন-খঞ্জন তাহে সাজে। দিঘল ললাট মাঝে হরি-মন্দির সাজে করঙ্গ কৌপিন কটি মাঝে॥ জয় জয় গোরাচাঁদ কলুষ-বিনাশ। পতিত-পাবন জন- তারণ-কারণ সংকীর্ত্তন-পরকাশ॥ ধ্রু॥ জানুলম্বিত ভুজ দণ্ড-বিরাজিত গলে দোলে মালতি-দাম। ভুবন-মনোহর দীঘ কলেবর পুলক-কদম্ব অনুপাম॥ প্রাতর-অরুণ-রুচি শ্রীপাদ-পল্লব অভেদ অদ্বৈত নিত্যানন্দ। বিজয়ানন্দ দাসে আনন্দ-সায়রে ভাসে চরণ-কমল-মকরন্দ॥ এই পদটি বিজয়ানন্দ দাসের ভণিতায়, ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”-তেই, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ প্রফুল্লিত কনক- কমল মুখ মণ্ডল নয়ন খঞ্জন তাহে সাজে। দিঘল ললাট মাঝে শ্রীহরিমন্দির সাজে করঙ্গ কৌপীন কটিমাঝে॥ জয় জয় গোরাচাঁদ কলুষ-বিনাশ। পতিতপাবন জগ- তারণ-কারণ সংকীর্ত্তন পরকাশ॥ ধ্রু॥ জানুলম্বিত ভুজ- দণ্ড বিরাজিত গলে দোলে মালতী দাম। ভুবনমনোহর দীর্ঘ কলেবর পুলক কদম্ব অনুপাম॥ প্রাতর-অরুণরুচি শ্রীপদপল্লব অভেদ অদ্বৈত নিত্যানন্দ। বিজয়ানন্দ দাসে আনন্দসায়রে ভাসে চরণকমল-মকরন্দ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধৈর্য্যং কুরু ধৈর্য্যং রাধে মম গচ্ছং মথুরায়ে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগ তালো যথা॥ ধৈর্য্যং করু ধৈর্য্যং করু গচ্ছয়ে মথুরায়ে। ঢুড়ব আমি প্রতি ঘরে ঘরে। জাহা দরশন পায়ে॥ অতি ভদ্রং অতি ভদ্রং শীঘ্রং গতি গমনা। অবিলম্বনে মথুরাভুবনে প্রতি ঘরে করি ভ্রমণা॥ মথুরাবাসী এক রমণী দূতী তাকে পোছে। নন্দসুত কৃষ্ণখ্যাত কাহার ভবনে আছে॥ সুনি সুনি বাণী কহে সো ধনি সো কাঁহা হিয়া আওব। বসুদেবকি সুত কৃষ্ণ খ্যাত কংসবাদী মাধব॥ দূতী কহে সোই কোই দরশন মম আশা। যদুনন্দন কহে জাও ঐ উচ্চবাসা॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহিনি॥ ধৈর্য্যং কুরু ধৈর্য্যং রাধে মম গচ্ছং মথুরায়ে। ঢুরব পুরী প্রতি প্রতক্ষে যাহা দরশন পাওয়ে॥ ভদ্রং অতি ভদ্রং শীঘ্রং কুরু গমনা। অবিলম্বনে মথুরাপুরে প্রবেশি করল ভ্রমণা॥ মথুরাবাসিনী এক রমণী দূতি তাকর পুছে। নন্দাত্মজ কৃষ্ণ খ্যাত কাহার ভবনে আছে॥ শুনি কহে ধনি তাহে নাহি চিনি সো কাহে হিয়া আওব। মোরা জানি বসু দেবকি সুত রামানুজ মাধব॥ সোই সোই কোই কোই দরশনে মম আশা। যদুনন্দন (১) কহে যাও যাও ঐছে উচ্চ বাসা॥ ১ - পাঠন্তর গোকুলানন্দ। পদটি গোকুলানন্দ ভণিতাতেও পাওয়া গিয়েছে। এই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধৈর্য্যং রহু ধৈর্য্যং রাই গচ্ছং মথুরায়ে। ঢুঁরব পুরী প্রতি প্রতক্ষে যাঁহা দরশন পাওয়ে॥ ভদ্রং অতি ভদ্রং শীঘ্রং কুরু গমনা। অবিলম্বনে মথুরাপুর আওল ব্রজরমণা॥ মথুরাবাসিনী এক রমণী তাকর দূতী পুছে। নন্দ-নন্দন কৃষ্ণখ্যাত কাহার ভবনে আছে॥ শুনি তার বাড়ী কহয়ে সো ধনি সো কাহে ইহ আওয়ব। দেবকীসুত কৃষ্ণখ্যাত কংসঘাতী মাধব॥ সোই সোই কোই কোই (তারি) দরশনে মোর আশা। যদুনন্দন দাসে কহে ঐ যে উচ্চ বাসা॥ অনুবাদ ও ব্যাখ্যা - প্রত্যক্ষে --- প্রত্যক্ষভাবে। “ধৈর্য্যং রহু . . . প্রত্যক্ষে” - বিরহাকাতরা শ্রীরাধাকে সখী বলিতেছে---রাই, ধৈর্য্য ধর, আমি (শ্রীকৃষ্ণকে ফিরাইয়া আনিবার জন্য) মথুরায় যাইতেছি। সেখানে গিয়া আমি প্রত্যেক গৃহে নিজে গিয়া প্রত্যক্ষভাবে তন্ন তন্ন করিয়া খুঁজব। ভদ্র . . . গমনা - উত্তরে শ্রীরাধা বলিলেন---তোমার যাত্রা শুভ হৌক, অবিলম্বে তুমি বাহির হইয়া পড়। অবিলম্বনে . . . আছে - অতঃপর সেই ব্রজরমণী অর্থাৎ রাধার সেই দূতীটি অবিলম্বে মথুরায় আসিয়া উপস্থিত হইল। সেখানে এক মথুরা বাসিনী রমণীর সহিত তাহার পথে দেখা। দূতী তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল---হ্যাঁ গা, নন্দ-নন্দন কৃষ্ণ বলিয়া খ্যাত মানুষটি কাহার বাড়ীতে আছে বলিতে পার ? শুনি . . . মাধব - তাহার কথা শুনিয়া সেই মথুরাবাসিনীটি বলিল--- সে এখানে আসিতে যাইবে কেন ? এখানে কৃষ্ণ নামে খ্যাত এক ব্যক্তি আছেন বটে, কিন্তু তিনি ত নন্দ-নন্দন নন, তিনি দেবকী নন্দন তাঁহার আর একটি নাম কংসাঘাতী মাধব। সোই সোই . . . বাসা - উল্লসিত হইয়া দূতী বলিয়া উঠিল --- হ্যাঁ হ্যাঁ, সেই বটে, সেই বটে, কোথায় গেলে তাঁহাকে পাইব বলিতে পার ? ---তাঁহার সঙ্গে দেখা করিতেই ত আমার এতটা পথ আসা। দূতীর আগ্রহাতিশয্য দেখিয়া পদকর্ত্তা বলিতেছেন --- ঐ যে উচ্চ প্রাসাদ দেখিতেছ, ঐখানে তাঁহার দেখা পাইবে। ----খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী, শ্যামাপদ চৌধুরী, “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধৈর্য্যং রহু ধৈর্য্যং রাই গচ্ছং মথুরাওয়ে। ঢুঁড়ব পুরী প্রতি প্রতক্ষে যাঁহা দরশন পাওয়ে॥ ভদ্রং অতি ভদ্রং অতি শীঘ্রং কুরু গমনা। অবিলম্বনে মথুরাপুর আওল ব্রজরমণা॥ মথুরাবাসিনী এক রমণী তাকর দূতি পুছে। নন্দ নন্দন কৃষ্ণ খ্যাত কাহার ভবনে আছে॥ শুনি তার বাণী কহয়ে সো ধনি সো কাহে ইহ আওব। দেবকি সুত কৃষ্ণখ্যাত কংশঘাতী মাধব॥ সোই সোই কোই কোই দরশনে মোর আশা। যদুনন্দন (১) দাসে কহে ঐযে উচ্চ বাসা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৌর বরণ সোনা ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কাচিচ্চ আশাবরী॥ গৌরবরণ সোনা, ছটক চাঁদের জোনা। তরুণ অরুণ, চরণে থির, ভাবে বিয়াকুল মনা॥ অরুণনয়নে ধারা, যনু সুরধনী ধারা। পুলক গহন, সিচয়ে সঘন, মহি জিনি ভার ভরা॥ বদনে ঈষত হাসি, তরুণি ধৈরয নাশী। খেনে খেনে গদ,-গদ হরি বোলে, কান্দনে ভুবন ভাসি॥ গদাই ধরিয়া কোলে, মধুর মধুর বোলে। আর কি আর কি, করিয়া কান্দয়ে, না জানি কি রসে ভোলে॥ যে জানে সে যানে হিয়া, সে রসে মজিল ধিয়া। এ যদুনন্দন, ভনয়ে আজুলি, ওই না গোকুল পিয়া॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ আশাবরী॥ গৌর বরণ সোনা, ছটক চাঁদের জোনা। তরুণ অরুণ, চরণে থির, ভাবে বিয়াকুলমনা॥ অরুণ নয়ানে ধারা, জনুসুরধুনী পারা। পুলক গহন, সিঁচয়ে সঘন, মহী জিনি ভার ভরা॥ বদনে ঈষৎ হাসি, তরুণী ধৈরজ নাশি। খেনে খেনে, গদ গদ হরি বোলে, কাঁদনে ভুবন ভাসি॥ গদাই ধরিয়া কোলে, মধুর মধুর বোলে। আর কি আর কি, করিয়া কাঁদয়ে, না জানি কি রসে ভুলে॥ যে জানে সে যানে হিয়া, সে রসে মজিল ধিয়া। এ যদুনন্দন ভণয়ে আজুলি, ওই না গোকুলপিয়া॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ আশাবরী॥ গৌরবরণ সোনা ছটক চাঁদের জোনা। তরুণ অরুণ চরণে থির ভাবে বিয়াকুল মনা॥ অরুণ নয়নে ধারা জনু সুরধুনী পারা। পুলকে গহন সিচয়ে সঘন মহী জিনি ভার ভরা॥ বদনে ঈষৎ হাসি তরুণি ধৈরয নাশী। খেনে খেনে গদ গদ হরি বোল কাঁদনে ভুবন ভাসি॥ গদাই ধরিয়া কোলে মধুর মধুর বোলে। আর কি আর কি করিয়া কাঁদয়ে না জানি কি রসে ভুলে॥ যে জানে সে যানে হিয়া সে রসে মজিল ধিয়া। এ যদুনন্দন ভনয়ে আজুলি ওই না গোকুলপিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সই গো নদীয়া জাহ্নবীকূলে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯০৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কাচিচ্চ মল্লারিকা॥ সই গো নদীয়া-জাহ্নবী কূলে। কো বিহি কেমনে, গঢ়ল ও তনু, কনয়া সিরিষ ফুলে॥ কেন না পরতীত যায়। বদন কমল, বাঁধূলি অধর, দশন কুন্দ কি তায়॥ কাহারে কহিব কথা। কিংসুক কোরক, নাসিকা সুভাগা, আঁখি উতপল রাতা॥ কহিতে না জানি মূখে। বাহু হেমলতা, উপরে পদুম, মল্লিকা ফুটল নখে॥ নয়ান আনন্দ সিন্ধু। পদতল থল, রাতা উতপল, নখে মোতি ফল নিন্দূ॥ পিরিতি সৌরভ ধরে। ত্রিভুবন জন, মাতল তা হেরি, পালটি না যায় ঘরে॥ হরি হরি হরি বোলে। না জানি কি লাগি, কান্দয়ে গৌরাঙ্গ, দাস গদাধর কোলে॥ অত যে লাগয়ে ধন্দ। এ যদুনন্দন, কহে কি না জানো, ওই না গোকুল চন্দ॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লারিকা॥ সোই লো নদীয়া জাহ্নবীকূলে। কো বিহি কেমনে গড়ল ও তনু কনয়া শিরীষ ফুলে॥ ধ্রু॥ কেন না পরতীত যায়। বদন কমল, বাঁধুলি অধর, দশন কুনকি তায়॥ কাহারে কহিব কথা। কিংশুক কোরক, নাসিকা সুভাগা আঁখি উতপল রাতা॥ কহিতে না জানি মুখে। বাহু হেমলতা, উপরে পদুম, মল্লিকা ফুটল নখে॥ নয়ান আনন্দসিন্ধু। পদতল থল, রাতা উতপল, নখে মোতিফল নিন্দু॥ পীরিতি সৌরভ ধরে। ত্রিভুবন জন, মাতল তা হেরি, পালটি না যায় ঘরে॥ হরি হরি হরি বোলে। না জানি কি লাগি, কাঁদায়ে গৌরাঙ্গ, দাস গদাধর কোলে॥ অতএ লাগয়ে ধন্দ। এ যদুনন্দন, কহে কি না জানো, ওই না গোকুলচন্দ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মল্লারিকা॥ সই লো নদীয়া জাহ্নবীকূলে। কো বিহি কেমনে গঢ়ল ও তনু কনয়া শিরীষ ফুলে॥ ধ্রু॥ কেন না পরতীত যায়। বদন কমল বাঁধুলি অধর দশন কুন্দকি তায়॥ কাহারে কহিব কথা। কিংশুক কোরক নাসিকা সুভগ আঁখি উতপল রাতা॥ কহিতে না জানি মুখে। বাহু হেমলতা উপরে পদুম মল্লিকা ফুটল নখে॥ নয়ান আনন্দসিন্ধু। পদতল থল রাতা উতপল নখে মোতিফল নিন্দু॥ পীরিতি সৌরভ ধরে। ত্রিভুবন জন মাতল তা হেরি পালটি না যায় ঘরে॥ হরি হরি হরি বোলে। না জানি কি লাগি কাঁদয়ে গৌরাঙ্গ দাস গদাধর কোলে॥ অতএ লাগয়ে ধন্দ। এ যদুনন্দন কহে কি না জানো ওই না গোকুলচন্দ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সজনি সই শুন গোরা-অপরূপ গাথা ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে । ॥ পুনঃ কাচিৎ কর্ণাটিকা॥ সজনি সই! শুন গোরা-অপরূপ গাথা। বরজ বধুর সঙ্গে, বিলাস গোপন রঙ্গে, ভুবন ভাসিল সেই কথা॥ ধ্রু॥ অঙ্গের সৌরভে কত, মনমথ উনমত, মধুকর ছলে উড়ি ধায়। রঙ্গণ১ ফুলের মালা, হিয়ার উপরে খেলা, কুলবতীমতি মূরছায়॥ গৌরবরণ দেখি, আর সব সেই সখি!, বলন গমন অঙ্গ ছটা। গোকুল চান্দের ছাঁদ, পয়তেক ভুরু ফাঁদ, কুলবতী দুই কুল কাটা॥ কে আছে এমন নারী, নয়ন-সন্ধান হেরি, মুখ-চান্দে হাসির মাধুরী। দেখিয়া ধৈরজ ধরে, তবে সে যাইবে ঘরে, মনমথে না করে বাউরি॥ খেনে রাধা বলি ডাকে, নয়ন মুদিয়া থাকে, খেনে হাসে ভাবের আবেশে। খেনে কাঁদে উভরায়, পুলকিত সর্ব্ব গায়, এ যদুনন্দন ভালবাসে॥ ১ - পাঠান্তর, “বকুল ফুলের মালা”। এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কর্ণাটিকা॥ সজনি সই শুন গোরা-অপরূপ গাথা। বরজবধুর সঙ্গে বিলাস গোপনরঙ্গে ভুবন ভাসিল সেই কথা॥ ধ্রু॥ অঙ্গের সৌরভে কত মনমথ উনমত মধুকর ছলে উড়ি ধায়। রঙ্গণ ফুলের মালা হিয়ার উপরে খেলা কুলবতী মতি মূরছায়॥ গৌরবরণ দেখি আর সব সেই শাখী বলন গমন অঙ্গছটা। গোকুলচাঁদের ছাঁদ পরতেকে ভুরুফাঁদ কুলবতী দুই কুলে কাঁটা॥ কে আছে এমন নারী নয়ান-সন্ধান হেরি মুখচাঁদে হাসির মাধুরী। দেখিয়া ধৈরজ ধরে তবে সে যাইবে ঘরে মনমথে না করে বাউরী॥ খেনে রাধা বলি ডাকে নয়ান মুদিয়া থাকে খেনে হাসে ভাবের আবেশে। খেনে কাঁদে উভরায় পুলকিত সর্ব্বকায় এ যদুনন্দন ভালবাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কর্ণাটিকা॥ সজনি সই শুন গোরাঅপরূপ গাথা। বরজবধূর সঙ্গে বিলাস গোপনরঙ্গে ভুবন ভাসিল সেই কথা॥ ধ্রু॥ অঙ্গের সৌরভে কত মনমথ উনমত মধুকর ছলে উড়ি ধায়। রঙ্গণ ফুলের মালা হিয়ার উপরে খেলা কুলবতী মতি মূরছায়॥ গৌরবরণ দেখি আর সব সেই সাখী বলন গমন অঙ্গছটা। গোকুলচাঁদের ছাঁদ পরতেকে ভুরুফাঁদ কুলবতী দুই কুলে কাঁটা॥ কে আছে এমন নারী নয়ান-সন্ধান হেরি মুখচাঁদে হাসির মাধুরী। দেখিয়া ধৈরজ ধরে তবে সে যাইবে ঘরে মনমথে না করে বাউরী॥ খেনে রাধা বলি ডাকে নয়ান মুদিয়া থাকে খেনে হাসে ভাবের আবেশে। খেনে কাঁদে উভরায় পুলকিত সর্ব্বকায় এ যদুনন্দন ভালবাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ দেখ গোরাচাঁদে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং ৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, দ্বাদশ তরঙ্গ, ৯০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে । ॥ কাচিচ্চ ভূপালিঃ॥ দেখ দেখ গোরাচাঁদে। কাঞ্চন রঞ্জন, বরণ মদন, মোহন নটন ছান্দে॥ ধ্রু॥ পূরব পীরিতি কহে। কিশোর বয়সে, ভাবের আবেশে, পুলক পুরল দেহে॥ কে জানে মরম বেথা। যমুনা পুলিন, বন বিহরণ, কহয়ে সে সব কথা॥ নীরজ নয়নে নীর। রাধার কাহিনী, কহয়ে আপুনি, তিলেক না রহে থির॥ গদাধর করে ধরি। কাঁদন মাখন, কহিতে বচন, বোলে হরি হরি হরি॥ ভাবে জর জর তনু। ছুটল মাতল, কুঞ্জর গমনে, বনের দলনু যনু॥ খেনে হাসে কান্দে নাচে। অধর কম্পিত, রহয়ে চকিত, খেনে প্রেমধন যাচে॥ এ যদুনন্দন কহে। তুমি কি না জান, গোকুলমোহন, গৌরাঙ্গ ভুবন মোহে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ( প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভূপালী॥ দেখ দেখ গোরাচাঁদে। কাঞ্চন রঞ্জন বরণ মদন- মোহন নটনছাঁদে॥ ধ্রু॥ পূরব পীরিতি কহে। কিশোর বয়সে ভাবের আবেশে পুলক পূরল দেহে॥ কে জানে মরম ব্যথা। যমুনা পুলিন বন বিহরণ কহয়ে সে সব কথা॥ নীরজনয়নে নীর। রাধার কাহিনী কহয়ে আপনি তিলেক না রহে থির॥ গদাধর করে ধরি। কাঁদন মাখন কহিতে বচন বোলে হরি হরি হরি॥ ভাবে জর জর তনু। ছুটল মাতল কুঞ্জরগমনে বারণ দলন জনু॥ ক্ষণে হাসে কাঁদে নাচে। অধর কম্পিত রহয়ে চকিত খেনে প্রেমধন যাচে॥ এ যদুনন্দন কহে। তুমি কি না জান গোকুল মোহন গৌরাঙ্গ ভুবন মোহে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভূপালী॥ দেখ দেখ গোরাচাঁদে। কাঞ্চন রঞ্জন বরণ মদন- মোহন নটনছাঁদে॥ ধ্রু॥ পূরব পীরিতি কহে। কিশোর বয়সে ভাবের আবেশে পুলক পূরল দেহে॥ কে জানে মরম ব্যথা। যমুনা পুলিন বন বিহরণ কহয়ে সে সব কথা॥ নীরজনয়নে নীর। রাধার কাহিনী কহয়ে আপনি তিলেক না রহে থির॥ গদাধর করে ধরি। কাঁদন মাখন কহিতে বচন বোলে হরি হরি হরি॥ ভাবে জর জর তনু। ছুটল মাতল কুঞ্জরগমনে কাননদলন-জনু॥ ক্ষণে হাসে কাঁদে নাচে। অধর কম্পিত রহয়ে চকিত খেনে প্রেমধন যাচে॥ এ যদুনন্দন কহে। তুমি কি না জান গোকুল মোহন গৌরাঙ্গ ভুবন মোহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কানুক সঙ্কেত বচনে সুধামুখী ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৫৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল রাগ দশকোষী তালৌ॥ কানুক সঙ্কেত বচনে সুধামুখী উছলিত অন্তর হোয়। তৈখনে মনমাহা করতঁহি সংশয় সুদিবস কিয়ে হব মোয়॥ দেখ সখি প্রমক কীত। অকুশল বিনহি কবহু নিজ অন্তরে কুশল না হয়ে উপনীত॥ ধ্রু॥ পুন আশ আসে চলল বর রঙ্গিণী কত শত ভাবে বিভোর। বেশ পশাহন সবহুঁ বিছুরল রাওল সঙ্কেত ওর॥ তাঁহি যাই পুন কুঞ্জ হেরি শুন অতি উতকণ্ঠিত ভেল। আনন্দ অন্তরে নায়র আনিতে যদুনন্দন চলি গেল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| প্রিয় সহচরি বচন শুনি সুন্দরি ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪২৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ীরাগ সমতালাভ্যাং॥ প্রিয় সহচরি বচন শুনি সুন্দরি চললহি যাঁহা যদুবীর। তুরিতহি তাক সুবল সঞে দরশন পাওল কুণ্ক তীর॥ দেখ সখি অপরূব কাজ। হেরইতে সখি গতি হোই উলস মতি আওল নাগর রাজ॥ ধ্রু॥ কহ তহি তোঁহারি সহচরি বিনু মঝু তিল একু নারহে পরাণ। তুরিতহিঁ যাই তাহে তুহুঁ আনহ হাম রহল ইহ ঠাম॥ শুনইতে শোধনি ধাই আওলি পুনি কহলহি যত কিছু বাত। দিন অভিসার করণ রাই করু যদুনন্দন করু সাঁথ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |