কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
বেলি অবসান বচন শুনি দৌ
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদামৃত সমুদ্র”, ২৭৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী রাগ মণ্ঠক তালাভ্যাং॥

বেলি অবসান বচন শুনি দৌ জন সচকিত লোচন ভেল।
চৌদিশ চাহি উঠি বৈঠল দুহুঁ সখিগণ তৈখনে গেল॥
অদভুত প্রম পরকার।
সেবন পরজন কয়লহি সেবন শ্রম দূর কয়ল দুঁহার॥
নিদহিঁ নিজহিঁ ঠামে যাইতে তৈখনে মন উতকণ্ঠিত কেল।
সকরুণ বচন সজলহি লোচন বিদায় সময়ে দুহুঁ ভেল॥
অতিশয় কাতর হৃদয় বয়নে দুহুঁ কুঞ্জসে ভেলি বাহার।
দাস যদুনন্দন রাই লেই মন্দিরে তুরিতহি ভেল আগুসার॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মরকত রতন মুকুর বর লাবণি
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত
এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদামৃত সমুদ্র”, ৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী রাগ যতি তালৌ॥

মরকত রতন মুকুর বর লাবণি প্রতিতনু পিরিতি পসার।
শারজ চান্দ ফান্দ মুখ মণ্ডল কুণ্ডল শ্রবণ বিহার॥
সজনি কে নব নাগররাজ।
তরণিতনয়াতট নিকট নীপতরু হেলন নটবর রাজ॥ ধ্রু॥
নাচত ভাঙু মদনধনু ভঙ্গিম নট খঞ্জন দিঠি জোর।
বান্ধুলি অধরে মুরলি রব মাধুরী উমতায়ন মনমোর॥
ঊড়ত চূড় চারু শিখিচন্দ্রক মলয় পবন সঞে মেলি।
যদুনন্দন ভণ নয়ন রসায়ন মম ন রসায়ন কেলি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আঁখি রহ অনুখন সুরধনী ধার
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সংক্ষিপ্ত সম্ভোগে।
॥ ধানসী॥

আঁখি রহ অনুখন সুরধনী ধার। মুখবিধু হাসনি অমিয়-সঞ্চার॥
সুমেরু জিনিয়া গোরা অঙ্গ। পদতল অখিল সঘন নটরঙ্গ॥ ধ্রু॥
ভাব কলপতরু তহি হিয়মাহ। বাহিরে ফুটল পুসকফুল ছাহ॥
কত কত রসিক ভকতদিঠিভৃঙ্গ। যামিনী দিবস ন ছোড়ই সঙ্গ॥
পাওল প্রেমরতন নরনারী। তহি যদুনন্দন কথি লাগি ছাড়ি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একে সে কনয়া কসিল তনু
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ তোড়ি॥

একে সে কনয়া কসিল তনু। শশী নিকলঙ্ক বদন জনু॥
তাহাতে লোটন চাঁচর কেশে। মাতায় রঙ্গিণী সুষমা-লেশে॥
কিবা অপরূপ গৌরাঙ্গ শোভা। এ তিন ভুবন রঙ্গিণী লোভা॥
অরুণ পাটের বসন ছলে। তরুণী হৃদয় রাগ উছলে॥
বাহি উঠাইয়া মোড়য়ে তনু। ছটায়ে বিজুরি ঝলকে জনু॥
পিছলে লোচন চাহিতে অঙ্গ। তনুতে তনুতে রঙ্গ তরঙ্গ॥
কিশোর-কেশরি-সোসর মাঝ। এ যদুনন্দন ভাঙ্গল লাজ॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কান্দে পঁহু হরি হরি বলিয়া
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ বৈয়গ্র্যে।
॥ করুণ ভাটিয়ারী॥

কান্দে পঁহু হরি হরি বলিয়া। গোরা গায়ে লাগিয়াছে ধূলুয়া॥ ধ্রু॥
আদরশে আপনা দেখিয়া। আঁখিজলে ভাসি গেল হিয়া॥
হেন তনু পুলক ভরিয়া। গড়ি যায় ধরণি ধরিয়া॥
উমড়ি উমড়ি উঠে হিয়া। কান্দনাতে ভাসিল নদিয়া॥
রাখিল রাখিল নহে চিত। ফুকরিয়া কান্দে লোটাইয়া॥
কহিতে কহিতে নারে ভাষ। এ যদুনন্দন করু আশ॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি জানি বিয়াধি মোর
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমত্যহ।
॥ শ্রীরাগ॥

কি জানি বিয়াধি মোর                হতচিতে উপজল        কিছুই না পাইয়ে থেহ।
বুঝিতে না পারি হাম                কিবা হয় পরিণামে        কৈছনে হোয়ল এহ॥
ইহ মঝু বেদন                হিয়ে হয় যৈছন                সাধি নহে কহিয়ে বিশেষ।
উপশম লাগি যদি        করি তছু ঔষধি                নিন্দব দেশ বিদেশ॥
সই ঘুচয়ে মরমক দাহ।
যাহাতে নাহিক লাজ        যদি হয় অছু কাজ        ঐছে উপায় হাম চাহ॥ ধ্রু॥
যদুনন্দনে কহে                শুনিলে সে ভাব নহে        না করো মরমে তুহুঁ আন।
তোমার অন্তরে যাহা                তেজি লাজ কহ তাহা        তবহুঁ সে করিয়ে বিধান॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পুরুবে আছিল যত সাধ
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ ধানসী॥

পুরুবে আছিল যত সাধ। এবে সেই ভেল পরমাদ॥
গৌরকিশোর রসরাজ। অনুভব অলখিত কাজ॥
গোরাতনু ধরণি লোটায়। মহী ভেল কনক ছটায়॥
কমল নয়ানে ঝরু বারি। মধু পিয়ে ভ্রমরা উগারি॥
সুবদনে হরি হরি বোল। চান্দে বহে অমিয়া-কলোল॥
চলিতে না পারে পদ আধ। পুরুব পিরিতি উনমাদ॥
ভাসল ও রসে নরনারী। এ যদুনন্দন বলিহারি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বকুল তরুতলে বিরলে বৈঠল
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ বিহাগড়া॥

বকুল তরুতলে                বিরলে বৈঠল                কি রসে মজাওল চিত।
নয়নে ঢরঢর                বহয়ে ঝরঝর                কাঁপয়ে থরহরি শীত॥
কি পেখলু দ্বিজবর ধীর।
উঠত বৈঠত                ছুটত খেনে খেনে                লুঠত পরি পরি চীর॥ ধ্রু॥
কাঁচা কাঞ্চন-                কিরণ কলেবর                কি লাগি মহি গড়ি যাতি।
কণ্ঠ গরগর                কান্দয়ে উচ্চৈস্বর                বিদরে কুলবতী ছাতি॥
অন্তর সুখভরে                পুলক কলেবরে                তিলেক নাহি রহে থির।
এ যদুনন্দন                ভণয়ে অনুভব                ভাবিতে হিয়া মেনে চির॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাইতে দেখিয়া সোণার গোরা
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ ধানশী॥

যাইতে দেখিয়া সোণার গোরা। নয়ানে অঝর ঝরয়ে লোরা॥
সুরধুনীকূলে নাহিয়া উঠে। অঙ্গের ছটায় তরুণী লুঠে॥
একে সে দীঘন চাঁচর কেশ। অধিক ঝাঁপল নিতম্বদেশ॥
আধের বাঁধল মোহন চূড়া। সে কুলকামিনী দু-কুল বুড়া॥
গজেন্দ্রদমন গমন হেরি। তরুণী দু-কুল না চায় ফিরি॥
হিয়ার দোলনি বাহুর শোভা। এ যদুনন্দন নয়ানলোভা॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রসভরে জগমন পগ নাহি চলই
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  গৌরাব্দে
(১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ সুহইরাগ॥

রসভরে জগমন পগ নাহি চলই। দিঠি জলপিছল মহি মাহা খলই॥
গৌর কলানিধি বিধি আনি দেল। তপত জগতজন শীতল ভেল॥ ধ্রু॥
জাগল তনুরূহ তিলহ ন নিদই। অন্তর গরগর তকল কি বিধঁই॥
থরহরি কম্পই চম্পক দেহা। যদুনন্দন ভণ ধনী-নবলেহা॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর