কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
মোরে উপেখিল শ্যাম সুনাগর
ভণিতা যদুনন্দন দাস / যদুনাথ দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনুদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
পদটি যদুনাথ ও যদুনন্দন, দুটি ভণিতাতেই পাওয়া গিয়েছে বলে দুই পাতাতেই রাখা হোলো।

॥ যথারাগ॥

মোরে তেয়াগিল, শ্যামল সুন্দর, শুনিব এসব কাণে।
দুরাশা বিরোধি, হঞা নিরবধি, তথাপি দগধে মনে॥
সই দঢ়াইলু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ, না হয় সুলভ, মরণে সে প্রতিকার॥ ধ্রু॥
কালিন্দী গভীর, জলের ভিতর, প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি, রহয়ে কি রীতি, নিশ্চয় জানিহ তুমি॥
বিশাখা শুনিয়া, দুঃখি ভেল হিয়া, বুঝিয়া ধৈরজ রহ।
(এই পংক্তিটি দেওয়া নেই)
এমতে রাধিকা, ব্যাকুলা অধিকা, ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগে মন, ধৈর্য্য নহে পুন, ভণে যদুনাথ দাসে॥

ই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  
গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”,
২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

মোরে উপেখিল    শ্যাম সুনাগর    এ সব সুনিলু কাণে।
দুরাশা বিরোধী    হইয়া নিরবধি    তথাপি দগধে প্রানে॥
সখি হে দড়াইলু এই সার।
সে অতি দুর্ল্লভ    না হয় সুলভ    মরণ সে প্রতিকার॥ ধ্রু॥
কালিন্দী গভীর    জলের ভিতর    প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরীতি    রহয়ে কিরীতি    নিচয় জানিহ তুমি॥
এতেক কহিয়া    গরগর হিয়া    প্রেমের তরঙ্গে ভাসে।
নারে থির হৈতে    সে দশা দেখিতে    কান্দে যদুনাথ দাসে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা, ৭ম পল্লব,
শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ - সবিস্তার, ১৮৪-পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

মোরে উপেখিল                              শ্যাম সুনাগর
এ সব শুনিলুঁ কাণে।
দুরাশা বিরোধী                              হৈয়া নিরবধি
তথাপি দগধে মনে॥
সখি হে দঢ়াইলু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ                                না হয় সুলভ
মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গম্ভীর                                জলের ভিতর
প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি                            রহয়ে কি রিতি
নিচয়ে জানিহ তুমি॥
এমতে রাধিকা                             ব্যাকুল অধিকা
ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন                                ধৈর্য্য গেল ভণ
এ যদুনন্দন দাসে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

মোরে উপেখিল    শ্যাম সুনাগর    ও সব সুনিনু কানে।
দুরাশা বিরোধী    হইয়া নিরবধি    তথাপি দগধে মনে॥
সখী হে দড়াইলু এই সার।
সে হরিবল্লভ    না হএ সুলভ    মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গভীর    জলের ভিতর    প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি    রহএ কি রিতি    নিচয়ে জানিহ তুমি॥
এমতে রাধিকা    ব্যাকুল অধিকা    ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন    ধৈর্য গেল . . . ভনুএ যদুনন্দন দাসে॥

ই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

মোরে উপেখিল, শ্যামসুনাগর, এ সব শুনিনু কাণে।
দুরাশ বিরোধী, হৈয়া নিরবধি, তথাপি দগধে মনে॥
সখি হে দঢ়াইনু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ, না হয় সুলভ, মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গম্ভীর, জলের ভিতর, প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরীতি, রহয়ে কি রীতি, নিচয় জানিহ তুমি॥
এমতে রাধিকা, ব্যাকুল অধিকা, ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন, ধৈর্য্য গেল ভণ, এ যদুনন্দন দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ তথা রাগ॥

মোরে উপেখিল                               শ্যাম সুনাগর
এ সব শুনিলুঁ কাণে।
দুরাশা বিরোধী                              হৈয়া নিরবধি
তথাপি দগধে মনে॥
সখি হে দঢ়াইলু এই সার।
সে হরি দুর্ল্লভ                                না হয় সুলভ
মরণ সে প্রতিকার॥
কালিন্দী গম্ভীর                                জলের ভিতর
প্রবেশ করিব আমি।
তবে সে পিরিতি                             রহয়ে কিরিতি
নিচয়ে জানিহ তুমি॥
এ মতে রাধিকা                             ব্যাকুল অধিকা
ভাবের তরঙ্গে ভাসে।
অনুরাগী মন                                ধৈর্য্য গেল ভণ
এ যদুনন্দন দাসে॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কৃষ্ণ দু আঁখর অতি মনোহর
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনুদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

কৃষ্ণ দু আঁখর, অতি মনোহর, পহিলে শুনিল কার।
তাহা গরাসল, মতি যে সকল, ধরম করম আর॥
সই গো কহিল এ তোহে সার।
এ তিন পুরুষে চিত্তের আরতি, কি কাজ জীবনে আর॥ ধ্রু॥
আন পুরুষের, বংশী মনোহর, শুনিল মধুর গান।
তাহে পরমাদ, চিত্ত উনমাদ, আননা শুনয়ে কান॥
এ চিত্রপটেতে, নবীন মুরত, নব ঘন জিনি তনু।
ইহার দরশে, পরম হরিষে, মগ্ন ভেল মন জনু॥
এ সব শুনিয়া, সখীগণ হিয়া, হরিষ পায়ল অতি।
এ যদুনন্দন, দাস তহি ভণ, ভালে সে চিন্তিত মতি॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

কৃষ্ণ দুআঁখর, অতি মনোহর, পহিলে শুনিলু কার।
তাহা গরাসিল, সুমতি সকল, ধরম করম আর॥
আন পুরুষের, বংশী সুমধুর, শুনিনু মধুর গান।
তাহে পরমাদ, চিত উনমাদ, আন না শুনয়ে কাণ॥
এ চিত্র পটেতে, নবীন মূরতি, নবঘন জিনি তনু।
ইহার দরশে, আমার মানসে, লাগিয়া রহল জনু॥
এতেক শুনিয়া, আনন্দ পাওল, হৃদের উল্লাস অতি।
এ যদুনন্দন দাস, তহি ভেল ভালে, সে চিন্তিত মতি॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথি থেকে।


॥ ধানশী॥

কৃষ্ণ দু-আখর                            অতি মনোহর
শুনিলু মধুর গান।
তাথে পরমাদ                              চিতে উনমাদ
আন না শুনয়ে কাণ॥
এ চিত্র-পটেতে                              নবীন মূরতি
নব ঘন জিনি তনু।
ইহার দরশে                                পরম হরিষে
মগ্ন ভেল মন জনু॥
এ সব শুনিয়া                                সখীগণ-হিয়া
আনন্দ পায়ল অতি।
এ যদুনন্দন                                দাস @হিঁ ভণ
ভালে সে চিন্তিত মতি॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
২১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি এই গ্রন্থে ভণিতাহীন।

॥ ধানশী॥

কৃষ্ণ দু-আখর                             অতি মনোহর
শুনিলুঁ মধুর গান।
তাথে পরমাদ                              চিতে উনমাদ
আন না শুনয়ে কান॥
এ চিত্রপটেতে                                নবীন মূরতি
নব ঘন জিনি তনু।
ইহার দরশে                                পরম হরিষে
মগ্ন ভেল মন জনু॥
এ সব শুনিয়া                                সখীগণ-হিয়া
আনন্দ পায়ল অতি।
এ যদুনন্দন                                দাস এই ভণে
ভালে সে চিন্তিত মতি॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মুখে লইতে কৃষ্ণনাম
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

মুখে লইতে কৃষ্ণনাম, নাচে তুণ্ড অবিরাম, আরতি বাড়ায় অতিশয়।
নাম সুমাধুরী পাঞা, ধরিবারে নারে হিয়া, অনেক তুণ্ডের বাঞ্ছা হয়॥
কি কহিব নামের মাধুরী।
কেমন অমিয়া দিয়া কে জানি গঢ়িল ইহা কৃষ্ণ এই দু আঁখর করি॥ ধ্রু॥
আপন মাধুরি গুণে, আনন্দ বাঢ়ায় কাণে, তাতে কালে অঙ্কুর জনমে।
বাঞ্ছা হয় লক্ষ কাণ, যবে হয় তবে নাম, মাধুরী করিয়ে আস্বাদনে॥
কৃষ্ণ দু আঁখর দেখি, যুড়ায় তপত আঁখি, অঙ্গ দেখিবারে আঁখি চায়।
যদি হয় কোটি আঁখি, তবে কৃষ্ণ রূপ দেখি, নাম তার তনু ভিন্ন নয়॥
চিত্তে কৃষ্ণনাম যবে, প্রবেশ করয়ে তবে, বিস্তারিত হৈতে হয় সাধ।
সকল ইন্দ্রিয় গণ, করে অতি আহ্লাদন, নামে করে প্রেম উনমাদ॥
যে কাণে পরশে নাম, সে তেজয়ে আন্ কাম, সব ভাব করয়ে উদয়।
সকল মাধুর্য্যস্থান, সব রস কৃষ্ণনাম এ যদুনন্দন দাস কয়॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

মুখে হইতে কৃষ্ণনাম, নাচে তুণ্ড অবিরাম, আরতি বাড়য়ে আতিশয়।
নাম সুমাধুরী পাঞা, ধরিবারে নারে হিয়া, অনেক তুণ্ডের বাঞ্ছা হয়॥
কি কহিব নামের মাধুরী।
কেমন অমিয়া দিয়া, কে জানে গঠিল ইহা, কৃষ্ণ এই দু আঁখর করি॥ ধ্রু॥
আপন মাধুরী গুণে, আনন্দ বাড়য়ে কাণে, তাতে কাণে অঙ্কুর জনমে।
বাঞ্ছা লয় নাক কাণ, যবে হয় তার নাম, মাধুরী করিয়ে আস্বাদনে॥
কৃষ্ণ দুই আঁখর দেখি, জুড়ায় তপত আঁখি, অঙ্গ দেখিবারে আঁখি চায়।
যদি হয় কোটি আঁখি, তবে কৃষ্ণ রূপ দেখি, নাম আর তনু ভিন্ন নয়॥
চিত্তে কৃষ্ণ নাম যার, প্রবেশ করয়ে তার, বিস্তারিত হইতে হয় সাধ।
সকল ইন্দ্রিয়গণ, করে অতি আহ্লাদন, নামে করে প্রেমে উনমাদ॥
যে কাণে পরশে নাম, সে তেজয়ে আন কাম, সব ভাব করয়ে উদয়।
সকল মাধুর্য্য স্থান, সব রস কৃষ্ণ নাম, এ যদুনন্দন দাস কয়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
১৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পূর্বরাগ

মুখে লৈতে কৃষ্ণনাম                        নাচে তুণ্ড অবিরাম
আরতি বাড়ায় আতিশয়।
নাম সুমাধুরী পাঞা                        ধরিবারে নারে হিয়া
অনেক তুণ্ডের বাঞ্ছা হয়॥
কি কহিব নামের মাধুরী।
কেমন অমিয়া দিয়া                        কে জানি গঢ়িল হিয়া
কৃষ্ণ এই দু আখর করি॥
আপন মাধুরি গুণে                          আনন্দ বাঢ়ায় কাণে
তাতে কালে অঙ্কুর জনমে।
বাঞ্ছা হয় লক্ষ কাণ                           যবে হয় তার নাম
মাধুরী করিয়ে আস্বাদনে॥
কৃষ্ণ দুই আখর দেখি                        জুড়ায় তপত আঁখি
অঙ্গ দেখিবারে আঁখি চায়।
যদি হয় কোটি আঁখি                        তবে কৃষ্ণ রূপ দেখি
নাম আর তনু ভিন্ন নয়॥
চিত্তে কৃষ্ণ নাম যবে                          প্রবেশ করয়ে তবে
বিস্তারিত হৈতে হয় সাধ।
সকল ইন্দ্রিয়গণ                             করে অতি আহ্লাদন
নামে করে প্রেম-উনমাদ॥
যে কাণে পরশে নাম                        সে তেজয়ে আন কাম
সব ভাব করয়ে উদয়।
সকল মাধুর্য স্থান                                 সব রস কৃষ্ণ নাম
এ যদুনন্দন দাস কয়॥

রসকদম্ব, বিদগ্ধমাধব ১|৩৩-এর অনুবাদ
স্রীরূপ গোস্বামীর মূল শ্লোক এই---
তুণ্ডে তাণ্ডবিনী রতিং বিতুনুতে তুণ্ডাবলীলব্ধয়ে
কর্ণকোড় কড়ম্বিনী ঘটয়তে কর্ণার্ব্বুদেত্যঃ স্পৃহাং।
চেতঃ প্রাঙ্গণসঙ্গিনী বিজয়তে সর্ব্বেন্দ্রিয়াণাং কৃতিং
নো জানে জনিতা কিয়দ্ভিরমৃতৈঃ কৃষ্ণেতি বর্ণদ্বয়ী


ইহার অর্থ : “কৃষ্ণ” এই বর্ণ দুইটি যদি মুখে নটীর ন্যায় নৃত্যশীলা হয়, তাহা হইতে অনেকসংখ্যক মুখ
পাইতে ইচ্ছা হয়, যদি কর্ণক্রোড়ে অঙ্কুরবতী হয় তাহা হইলে দশকোঠি কাণ পাইতে স্পৃহা জাগে, আর যদি
চিত্তের প্রাঙ্গণে অর্থাৎ মনের মধ্যে আবির্ভূত হয়, তাহা হইলে সকল ইন্দ্রিয়ব্যাপারকে পরাজিত কর,
সুতরাং জানি না কত অমৃত দিয়া ইহা তৈয়ারি হইয়াছে। মন্তব্য : যদুনন্দন “নাম আর তনু ভিন্ন নয়”
স্বাধীনভাবে যোগ করিয়াছেন।---বিমান বিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ছিদ্র-জালে পূর্ণা তুমি শুনহ মুরলী
ভণিতা যদুনাথ দাস / যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩২৫ বঙ্গাব্দ (১৯১৮), ২ম খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ পল্লব,
আক্ষেপানুরাগ, ৮২৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস বিরচিত পদরসসার
পুথির ১৩১৩ সংখ্যক পদ। এই পদটি আমরা উভয়ে যদুনাথ দাস ও যদুনন্দন দাসের পাতায় রাখছি।

॥ আড়ানা॥

ছিদ্র-জালে পূর্ণা তুমি শুনহ মুরলী।
অতি লঘু সুকঠিন অন্তর তোহারি॥
নীরস তোহার তনু গ্রন্থি তাহে হয়।
কৃষ্ণ-করে থাক তুমি কোন শুভোদয়॥
কৃষ্ণের অধরে তুমি রহ অনুক্ষণ।
তাহাতে পাইলা তার নিবিড় চুম্বন॥
যদুনাথ দাসে বোলে শুনহ মুরলী।
নারী-প্রাণ লওয়া হেন কোথায় পাইলি॥

পাঠান্তর -
‘যদুনাথ’ ইত্যাদি ভণিতার কলি প-র-সা (পদরসসার) ব্যতীত অন্যান্য পুথিতে নাই। এই পদটি নিম্নলিখিত
বিদগ্ধমাধবীর শ্লোকের মর্ম্মানুবাদ, যথা (বিদগ্ধমাধব নাটকের ৪র্থ অঙ্কের শ্লোক। চন্দ্রাবলীর সংলাপ।) ---
সখি মুরলি বিশালচ্ছিদ্রজালেন পূর্ণা, লঘুরতি কঠিনা ত্বং গ্রন্থিলা নীরসাসি।
তদপি তজসি শশ্বচ্চুস্বনানন্দসান্দ্রং, হরিকরপরিরম্ভং কেন পুণ্যোদয়েন॥
---সতীশচন্দ্র রায়, “পদকল্পতরু”॥

রূপ গোস্বামীর সংস্কৃতে রচিত বিদগ্ধমাধব নাটকটির বঙ্গানুবাদ করেছিলেন যদুনন্দন দাস, আনুমানিক
ষোড়শ শতকে। সেই গ্রন্থে তিনি বিভিন্ন শ্লোকের ভাবানুবাদ করে পদ রচনা করেছিলেন। তার
অনেকগুলিই আমরা এখানে সংগ্রহ করে তুলতে পেরেছি---মিলনসাগর॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৪২-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কড়খা ধানশী - আড়াকাওয়ালী॥

ছিদ্র জালে পূর্ণা তুমি শুনহে মুরলী।
অতি লঘু সুকঠিনা হৃদয় তোহারি॥
নীরস তোহারি তনু গ্রন্থি তাহে হয়।
কৃষ্ণ করে থাক তুমি কেমন হৃদয়॥
কৃষ্ণের অধরে তুমি রহি অনুক্ষণ।
তাহাতে পাইলে তার নিবিড় চুম্বন॥
এ যদুনাথ দাসে বলে শুনহ মুরলী।
নারীপ্রাণ লওয়া হেন কোথায় পাইলি॥১

১ - এই কলিটি অনেক পুথিতে নাই।
এই পদটি বিদগ্ধ মাধবের একটি শ্লোকের ভাব অবলম্বনে রচিত :
সখি! মুরলি বিশালচ্ছিদ্রজালেন পূর্ণা
লঘুরতিকঠিনা ত্বং গ্রন্থিলা নীরসাসি॥
তদপি ভজসি শশ্বচ্চুম্বনানন্দ-সান্দ্রম্।
হরিকর-পরিরম্ভং কেন পুণ্যোদয়েন

---নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড॥

এ ক্ষেত্রে আমরা ধরে নিতে পারি যে এই যদুনাথ দাস বিদগ্ধমাধবের অনুবাদক ও হেমলতা দেবীর শিষ্য
যদুনন্দন ছাড়া আর কেউ নন।---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥

ই পদটি “যদুনন্দন” ভণিতায়, ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আপেক্ষানুরাগ
॥ আড়ানা॥

ছিদ্র জালে পূর্ণা তুমি শুনহ মুরলী।
অতি লঘু সুকঠিন অন্তর তোহারি॥
নীরস তোহার তনু গ্রন্থি তাহে হয়।
কৃষ্ণ করে থাক তুমি কোন পুণ্যোদয়॥
কৃষ্ণের অধরে তুমি রহ অনুক্ষণ।
তাহাতে পাইলা তার নিবিড় চুম্বন॥
এ যদুনন্দন বোলে শুনহ মুরলী।
নারীপ্রাণ লওয়া হেন কোথায় শিখিলি॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কৃষ্ণলীলা শিখরিণী চন্দ্রসুধা উন্মাদিনী
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

কৃষ্ণলীলা শিখরিণী, চন্দ্রসুধা উন্মাদিনী, তাহাকে দমন করে যেবা।
রাধাদি প্রণয় তাতে, ঘনসার সুরভিতে, সে মাধুরী অন্ত করে কেবা॥
বিষম সংসার পথ, তপোদ্গম অবিরত, তৃষ্ণায় পীড়িত জল মনে।
তাতে তৃষ্ণা হয় যত, এই কৃষ্ণলীলামৃত, শিখরিণী সংহারে সঘনে॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হেন বর্ণ ধরি হরি
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

হেন বর্ণ ধরি হরি, জগতে করুণা করি, অবতীর্ণ হইলা কলি যুগে।
উন্নত উজ্জ্বল রস, যেই প্রেম ভক্তিরস, সে ভক্তি বিলায় ক্ষিতি তলে॥
বহুকালে অনর্পিতা, যেই নিজ ভক্তি নীতা, প্রকাশিলা করুণা করিয়া।
শচীসুত গৌরচন্দ্র, সকল আনন্দ সান্দ্র, সদা স্ফূর্ত্তি হউ মোর হিয়া॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যদ্যপিহ এই গ্রন্থে আমার কবিত্ব বন্ধে
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

যদ্যপিহ এই গ্রন্থে, আমার কবিত্ব বন্ধে, অত্যন্ত ললিত নহে বাণী।
তথাপিহ বুধগণে, সুখ পাবে কৃষ্ণ গুণে, মনে এই দৃঢ় অনুমানি॥
কূপোদকে শালগ্রাম, হয়ে যেন স্নান কাম, চরণ উদক তাহে কহি।
সুপণ্ডিত জন যেঁহো, বন্দনা করিয়া তেঁহো কেবা নাহি পিয়ে সুখ পাই॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সাধুজন এই রীতি আত্ম দুঃখে দুঃখ অতি
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

সাধুজন এই রীতি, আত্ম দুঃখে দুঃখ অতি, না গণয়ে স্বভাব তাহার।
পর দুঃখে দুঃখী হয়, নিজস্তবে লজ্জা পায়, মানে যেন দুরিত বিচার॥
বিদ্যা বিত্ত কুল হয়, তথাপি নম্রতা ময়, সাধুগণ স্বভাব আচার।
এই গুণ শুনি মনে, লজ্জা ভয় নাহি গণে, ভাল মন্দ বিচার আমার॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমি অতি লঘুমতি প্রকৃতি চঞ্চল অতি
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগঃ॥

আমি অতি লঘুমতি, প্রকৃতি চঞ্চল অতি, হরিগুণ সিদ্ধ অর্থ ময়।
কহি শুন সাধুগণ, ইহাতে করিহ মন, সর্ব্বতাপ করিবেক ক্ষয়॥
পুলিন্দের গণ যত, কাষ্ঠ কাষ্ঠে ঘরষিত, অগ্নি জন্মে তাহার দহনে।
হিরণ্যের মলাগণ, দূর করে অনুক্ষণ, অইছন কৃষ্ণলীলাগুণো॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যাহাতে প্রপন্ন হইতে মাধুর্য্য উদয় চিতে
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

যাহাতে প্রপন্ন হইতে, মাধুর্য্য উদয় চিতে, হয় কত লীলার উদয়।
বৃন্দাবন কুঞ্জধাম, প্রকর মণ্ডপ স্থান, যেই তাঁহা সদা নিবসয়॥
নিরঙ্কুশ কৃপাম্বুধি, ব্রজেত বিহার বিধি, সনাতন ,নু রসময়।
অনুক্ষণ তুষ্টি মোরে, করু সেই সুবিস্তারে, প্রভু মোর সদয় হৃদয়॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর