| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বল্লব বধূর বন্ধু প্রেমরস সুধাসিন্ধু ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ বল্লব বধূর বন্ধু, প্রেম রস সুধাসিন্ধু, আইলা এই নর্ত্তক মণ্ডলে। শুদ্ধ ভক্ত অনুক্ষণ, যাতে ধরে নিজ মন, স্বভাব পল্লব শীলোজ্জ্বলে॥ তণ্ডব বিধানে আসি, বৃন্দাবন পরবেশি, বিদগ্ধশেখর রসধাম। জানিয়া পুণ্য মণ্ডল, পরিপাক নিরমল, হইল করিয়ে অনুমান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রসিক ভকতে সদা এই রস স্ফূরে ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ রসিক ভকতে সদা এই রস স্ফূরে। আনন্দ কদম্বে সদা তনু মন ঝুরে॥ রসানভিজ্ঞ জন হবে উদাসীন। না জানয়ে সেই কভু এ রস প্রবীণ॥ যৈছে রসালের তরু মুকুলে ভরয়। তাহাতে কণ্ঠকলতা বহুত উঠয়॥ উষ্ট্রগণ গিয়া সেই কাঁটা সব খায়। আম্রের মুকুল স্বাদ বিষ লাগে তায়॥ বিদগ্ধ কোকিল তুল মুকুলে ভ্রময়ে। কণ্টক লতিকাগণ নাহি পরশয়ে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সেই সে বসন্ত কাল উদয় হইল ভাল ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ সেই সে বসন্ত কাল, উদয় হইল ভাল, যাতে পূর্ণ তমীশ্বর সঙ্গে। নব অনুরাগে লঞা, নিগূঢ়াগ্রহ করিঞা, রাধাসঙ্গে বিহরয়ে রঙ্গে॥ নিশি পৌর্ণমাসী এই, প্রৌঢ় রুচি বিলসই, সূত্র এই বিচার করিতে। বেশ স্থলে পৌর্ণমাসী, কহয়ে হরিষে আসি, শুন ওহে সূত্র সুচরিতে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এ ভূমি আকাশ ভরল হুতাশ ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ এ ভূমি আকাশ, ভরল হুতাশ, বহয়ে প্রচণ্ড জ্বালা। তার মাঝে যেন, কোমল রঙ্গণ, লতার বসতি ভেলা॥ কি কহিব আমি আর। মনে বিচারিয়া, বুঝ তুমি ইহা, কৈছে হয়ে প্রতিকার॥ ধ্রু॥ মো পুনি বুঝুনু, বুঝিঞা জানিনু, দঢ়াই কহিয়ে সার। শ্যামঘন বিনে, ইহার জীবনে উপায় না দেখি আর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কহে ভগবতী শুনিঞা এমতি ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ কহে ভগবতী, শুনিঞা এমতি, আরতি বচন তার। তুমি সে সুধনি, মুখরা নাতিনী, সে হরি ভুবন সার॥ কমলা লালিত, পদ সুললিত, সুলভ না হয় সে। আমার বচন, শুনহ এখন, হৃদয়ে বান্ধহ থে॥ আকাশের চাঁদে, ধরিবার সাধে, হাত পসারহ কেন। এ সব কৌতুকে, ক্ষমা দেহ বুকে, বিচারিয়া নিজ মনে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এ বচন শুনি কহে সুবয়নী ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ এ বচন শুনি, কহে সুবয়নী, হৃদয়ে পাইয়া ব্যথা। অতি গদগদ, আধ আধ পদ, মুখে না নিকসে কথা॥ শুন ভগবতী, এই মোর মতি, নির্ব্বন্ধ কহিনু তোঁহে। এ মোর পরাণ, ভেল পরাধীন, তা বিনু না রহে দেহে॥ সে হরি বদন, সৌরভ সদন, হরিল সে মতি মোর। সে তনু মাধুরী, বচন চাতুরী, কে কহু তাহার ওর॥ শুন ভগবতী, আশীষহ অতি, করহ চিত্তের সনে। সে হরি গলায়ে, ও নব মালায়ে, মধুকরী হঙ মেনে॥ গোধূলি সময়ে, গোরজ ভরয়ে, গোবিন্দ অলকা কেশে। সে রূপ ভাবিতে, আপনার চিতে, না হয় ধৈরজ লেশে॥ এই সব বাণী, কহিতে সুধনী, আবেশ হইল গায়। আকুল হইয়া, কহয়ে ডাকিয়া, বিশাখা দেখিয়া তায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ ভগবতী ধনি আনমতি ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ দেখ ভগবতী, ধনি আনমতি,লভিল দারুণ দশা। উত্তান নয়ন, হইল এখন, কহয়ে কেমন ভাষা॥ এ দশা হইতে, তরাহ ত্বরিতে, চরণে ধরিয়ে তোর। দেখি পৌর্ণমাসী, অতি বেগে আসি, রাধিকা করিল কোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিপতি দারুণ কাল ভুজঙ্গম ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ বিপতি দারুণ, কাল ভুজঙ্গম, গরলে জারিল তোমা। আমার বচন, শুনিয়া এখন, চিত্তে দেহ তুমি ক্ষমা॥ এ তুয়া ভাবের, জানিতে ব্যভার, পরিহাস কৈল তোরে। সত্য কথা শুন, হরি বিবরণ, যৈছন ভৈগেল ভোরে॥ যে হরি বৈভব, নহে অনুভব, দরশ রসের আশে। করে জপ তপ, ক্ষিতি গুরু ভব, সতত যোগীর বেশে॥ তুমি পূণ্যবতী, কি কহিব অতি, সো হরি তোমার ভাবে। করয়ে অতনু, জাগদিয়া তনু, তোমা দরশনে এবে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তোমার চরিত গায়ে অবিরত ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ তোমার চরিত, গায়ে অবিরত, বেণু করি নিজ মুখে। তোমার সমান, করে বেশ গণ, তোমা মানে আপনাকে॥ ডাকে ধেনুগণে, ভরমে সেখানে, লইয়া তোমার নাম। শয়নে স্বপনে কিবা জাগরণে, তোরে নিরিখয়ে শ্যাম॥ এ ভুমি-গগণ, তরু লতাগণ, তোমায় মানয়ে হরি। এ যদুনন্দন, কহয়ে নবীন, অনুরাগ বলিহারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সতী কুল কাজ দুকুলের লাজ ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ সতী কুল কাজ, দুকুলের লাজ, ধরম দেখিয়া কে বা। ধৈরজ উদয়, হইল হৃদয়, রাধিকা অধিক সে বা॥ কিম্বা গুরু জন, তর্জন বচন, কহিয়া নিবৃত্তি কৈল। কিম্বা অতিশয়, ক্ষীণ তনু হয়, চলিবারে না পারিল॥ নহিলে বা কেনে, সুচন্দ্র গগণে, উদয় হইল অতি। তবু এত ক্ষণে, শঙ্কেত ভবনে না মিলল সখী দূতী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |