কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
মলয় পবন এ নব কুসুম
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগ॥

মলয় পবন, এ নব কুসুম, বহয়ে সৌরভ যত।
সুখ দিয়াছিল, দুঃখদায়ি ভেল, এ দুঃখ সহিব কত॥
সখি হে কি আর কহিব তোরে।
সে বাধা বিহনে, আমার জীবনে, শরীরে না রহে জোরে॥ ধ্রু॥
চন্দ্রের কীরণ, কৈল প্রসারণ, দেখিতে জ্বলয়ে তনু।
আমারে দহন, করিতে মদন, তুষানল জালে তনু॥
দারুণ মদনে, করে তরজনে, ভ্রমর ঝঙ্কার করি।
কহত কেমতে, তিলেক ইহাতে, রহিয়ে ধৈরজ ধরি॥
এতেক কহিতে,  হঞা মুরছিতে, পড়িল সেখানে হরি।
বিশাখা দেখিয়া, সংভ্রম হইয়া, কহয়ে আশ্বাস করি॥
শুনহ গোবিন্দ গোকুল আনন্দ ধৈরজ ধরহ চিত।
পরিহাস তোহে, কৈল কেন তাহে, মরমে বাসহ ভীত॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিন্দের আবেশে রহয়ে হরিষে
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ২৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

নিন্দের আবেশে, রহয়ে হরিষে, বেণু করে ধরি হরি।
গোপাঙ্গণা গণে, কতেক সন্ধানে, না পারে করিতে চুরি॥
ধনি ধনি দেখ রাধিকা কটাক্ষ খেলা।
সে বেণু হরিলা, গোবিন্দ মোহিলা, কি জানি মোহিনী দিলা॥ ধ্রু॥

এখানে শ্রীরাধার একটি সংলাপের পরে, পদের নীচের অংশটি রয়েছে। সেখানে স্বতন্ত্র পদের
মতো রাগিণী পুনরায় উল্লখে করা হয়েছে। তাই নীচের অংশটি একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও
আমরা, এর পরবর্তী পদ হিসেবে তুলে দিচ্ছি . . .

॥ বিভাষ॥
ব্রজনারী কর, যেই করে জড়, করিতে গৃহের কাজ।
আগে গুরুজন, এ নিবী বন্ধন, ছিড়িয়া যে দেয় লাজ॥
রজনী সময়ে, আপন আলয়ে, পতি কোলে থাকে নারী।
তারে যে হরিল, সে বেণু পাইল, যতনে রাখহ ধরি॥
যে বেণু সঘন, করে বিড়ম্বন, খসায় কুন্তল পাশ।
হরয়ে যুবতি, গণের যে মতি, পাশরায়ে গৃহ বাস॥
হরিণী সকল, মুখের কবল, খাইতে না দেয় যেই।
নদীগণ জল, যে করে পাথর, শীলা করে জলমই॥
যাহার ধ্বনিতে, নারীগণ চিতে, করয়ে মদন জ্বালা।
ধৈরজ ধরম, করিয়া ভরম, হরয়ে কুলের বালা॥
সে বেণু পাইলা, মঙ্গল হইলা, অমঙ্গল দূরে গেলা।
এ যদু নন্দন দাস তহি ভণ, সতী কুল বহি গেলা॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ব্রজনারী কর যেই করে জড়
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ২৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

ব্রজনারী কর, যেই করে জড়, করিতে গৃহের কাজ।
আগে গুরুজন, এ নিবী বন্ধন, ছিড়িয়া যে দেয় লাজ॥
রজনী সময়ে, আপন আলয়ে, পতি কোলে থাকে নারী।
তারে যে হরিল, সে বেণু পাইল, যতনে রাখহ ধরি॥
যে বেণু সঘন, করে বিড়ম্বন, খসায় কুন্তল পাশ।
হরয়ে যুবতি, গণের যে মতি, পাশরায়ে গৃহ বাস॥
হরিণী সকল, মুখের কবল, খাইতে না দেয় যেই।
নদীগণ জল, যে করে পাথর, শীলা করে জলমই॥
যাহার ধ্বনিতে, নারীগণ চিতে, করয়ে মদন জ্বালা।
ধৈরজ ধরম, করিয়া ভরম, হরয়ে কুলের বালা॥
সে বেণু পাইলা, মঙ্গল হইলা, অমঙ্গল দূরে গেলা।
এ যদু নন্দন দাস তহি ভণ, সতী কুল বহি গেলা॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সকল কুসুম দল আগে
ভণিতাহীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৬ষ্ঠ অঙ্ক, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

সকল কুসুম দল আগে। মধুকর বসিয়াছে যোগে॥
মধুরস গলিয়া পড়য়ে। মধুকর তাহা নাহি ছোয়ে॥
জানি এই পথ গেল হরি। গজেন্দ্র গমন মনোহারি॥ ধ্রু॥
ফুটিল করক ফল পাকি। না ছোয় জড়িমা শুক পাখি॥
নবীন নবীন তৃণগণে। না পরশে হরিণী বিমনে॥
এত কহি আগে গেলা চলি। দেখে কাল তমাল সকলি॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যিনি পদ্মগণ এ তুয়া
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

যিনি পদ্মগণ এ তুয়া নয়ন মাধুরী মোহন জাতি।
তাহাতে নির্ঝর, ঝরে বসুন্ধর, কর্দম কঅল অতি॥
সখি হে বুঝিলুঁ এ তুয়া রীত।
মাধবমাধুরী, শ্রুতিযুগভরি, তওল কওল চিত॥ ধ্রু॥
ঘন শ্বাসভরে, কুচকুম্ভ পরে, সঘনে নাচয়ে বাস।
প্রভাত কমল, জিনিয়া বিমল, বদন পাণ্ডরা ভাস॥
পুলকে ভরিল, সব কলেবর, তাহাতে দ্বিগুণ দেহ।
এ যদুনন্দন, কহয়ে ঐছন, চরিত নবীন লেহ॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যুবতি ধরম ধৈর্য্য ভুজঙ্গম
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ১ম অঙ্ক, ৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

যুবতি ধরম, ধৈর্য্য ভুজঙ্গম, দমন কারণ কাজে।
এই ধ্বনি ছলে, সদা ফিরি বুলে, গরুড় জগত মাঝে॥
সই এ তোহে কহিল সার।
কুলযুবতীর, ধরম করম, ভ্রমর না রহে আর॥ ধ্রু॥
মাজা ক্ষীণ নারী, ব্যাধি লজ্জাবলী, তাহার নাশের আশে।
জিনি ধন্বন্তরি, সর্ব্বক্ষণ ফিরি, শ্রুতিপথে হৃদি পৈশে॥
সতী যুবতির, সাধ্বী গর্ব্বভর, সে যে সরোবর অতি।
এ ধ্বনি সন্ধান, কুম্ভের নন্দন, হণ্ডূষে পিবয়ে মতি॥
এইত কারণ, মুরলী বদন, পন্থেত হইতে ধায়।
আইসে কালিন্দী, কিনার হইতে, দেখ পরতেক তায়॥
শুনিয়া ললিতা, বাণী সুললিতা, ধরিতে নাপারে অঙ্গ।
এ যদুনন্দন, দাস পুন ভণ, ভালে বলে এই রঙ্গ॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উপজিল চিন্তা অতি
ভণিতা শ্রীযদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

উপজিল চিন্তা অতি, তোমার অন্তর মতি, ধৃতিচ্ছেদ কর কেন নিতি।
কেনে বা অরুণ চির, সঞ্চিয়া পড়য়ে নীর, ঘর্ম্মে ভল শরীর পূরিতি॥
সখি হে সত্য কহ আমা সবাকারে।
নিজ পরিজন গণে, করিছ যে সঙ্গেপনে, শুন সখি সব অমঙ্গলে॥ ধ্রু॥
চম্পক বরণ দেহ, তিলেক না পায় থেহ, অতিকম্পে করয়ে গরাস।
দেখি তুয়া এই রীতে, সব সখীগণ চিতে, অতিশয় লাগয়ে তরাস॥
বিশাখা বচন শুনি, কহিতে লাগিল ধনি, অসূয়া বাঢ়িল অতিশয়।
শুনহ নিঠুরা আরে, এসব কহিতে তোরে, লজ্জা কিছু নাহি উপজয়॥
বিশাখা সশঙ্ক হইয়া, কহে কেন কহ ইহা, কোন্ কাজে অবরুদ্ধ চিত।
স্মৃতি কিছু নাহি হয়, তটস্থ হইয়া রয়, বুঝিতে নারিয়ে কোন রীত॥
রাই কহে নিষ্ঠুরা হে, ঐছন কহিছ কাহে, সঙরিয়া জানহ অন্তরে।
বিশাখা শুনিয়া কহে, গুরুপ্রণিধান মোহে, স্মৃতি নহে কিবা সে বিচারে॥
শুনি সুধামুখী কহে, শুনহ উমতি ওহে, এই যে ঘেরল বলে মোরে।
মহা অগ্নি কুণ্ডমাঝে, ডারিলে ঔষধ কাজে, অতিশয় কি বলিব তোরে॥
পুন বিশাখিকা বোলে, কেমনে অনলে তোরে, ডারিলাঙ কহত নিশ্চয়।
রাই কহে ঈর্ষা করি, চিত্রপট সহচরী, থাক থাক কৈতবী আশয়॥
এতেক কহিতে রাই, বিবশিত দশাপাই, রহে নিজ তনু মনে নাই।
শুনি দুঃখে ভরে মন, দাস শ্রীযদুনন্দন, কি কহিব ওর নাহি পাই॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মলয় পর্ব্বত বাসী শুনহ
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৮৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

মলয় পর্ব্বত বাসী, শুনহ অনিল রাশি, মন্দ মন্দ করহ গমনে।
পুরুষ কোকিল বর, সুমাধুরী গান কর, আনন্দে খেলহ এইখানে॥
শুনহ বিরহি বধূ গণে।
সবে আসি এক ঠাঞি, প্রকাশ করহ তাই, দুঃখের সহায় কর মেনে॥ ধ্রু॥
শুনহ ভ্রমর গণ, গান কর অনুক্ষণ, ঝঙ্কার করিয়া অতিশয়।
বিদ্ধ কর মোর মনঃ, হরে যাতে সুচেতন, চেতনে পাইয়ে দুঃখ চয়॥
বিশাখা ললিতা দোঁহে, শুনিয়া রাইরে কহে, ঘোর চিন্তা কেন কর তুমি।
কেনে দুঃখী কর মন, যাতে তুয়া চেষ্টাগণ, সে তত্ত্ব জানিল সব আমি॥
তুয়া যে হৃদয়ে হয়, অত্যন্ত দুর্ল্লভ নয়, সুলভ জানিহ সেই জনে।
এই যে বচন গণে, প্রতীত করহ মনে, কহে দাস এ যদুনন্দনে॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমার হৃদয় ব্যথা অতিশয়
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

আমার হৃদয়, ব্যথা অতিশয়, দুঃসাধ্য কহিল তোয়।
ইহা উপশম, হৈতে পরিণাম, কুচ্ছা নিরমিত মোয়॥
সই কহিএ মরম কথা।
উপায় আছয়ে, লজ্জা যাতে নহে, ঘুচয়ে মরম ব্যথা॥ ধ্রু॥
এই অবসরে, দুঃখের মন্দিরে, দৃঢ় লতা পাশ লঞা।
পিরিতি কারণ, তেজিব পরাণ, এই সে লইছে হিয়া॥
এই সব কথা, বিশাখা ললিতা, শুনিয়া মানয়ে দুখ।
কহে কেনে হেন, কহিছ দারুণ, যাতে বিদরয়ে বুক॥
আমার জীবন, থাকিতে এমন, কেমনে হইবা তুমি।
আমার হৃদয়, বাঞ্ছিত যে হয়, মিলিব কহিল আমি॥
তুয়াভীষ্ট সিদ্ধি, প্রত্যাসন্ন বিধি, দেখি মোর মনে লয়।
এ যদুনন্দন, দাস তহি ভণ, এ বচন আন নয়॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিতি মুনিগণ আপনার মন
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে
যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত
রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথারাগ॥

নিতি মুনিগণ, আপনার মন, বিষয় হইতে আনি।
তিলেক গোবিন্দ, পাদ অরবিন্দ, স্মরণে বাঞ্ছয়ে জানি॥
হের অদভুত, দেখহ বিদিত, রাধিকা কুলের বালা।
সে কৃষ্ণ হইতে, চিত ছাড়াইতে, ইচ্ছয়ে বিষয় জ্বালা॥
স্ফূর্ত্তি লব লাগি, কত কত যোগী, করয়ে কামনা যায়।
মুগধি তাঁহার, হৃদয় মন্দির, যত্নে চাহে ত্যজিবার॥
যাহার চরণ, দরশ কারণ, তপস্যা করয়ে রমা।
এ যদুনন্দন, কহয়ে সে জন, যাচিতে করয়ে ঘৃণা॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর