| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রাই ভ্রূ ভঙ্গিমা ঠাম ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ রাই ভ্রূ ভঙ্গিমা ঠাম, কামের সমান ভান, নাচয়ে সঘন অনুপাম। অপূর্ব্ব নয়ন ভঙ্গী, শিখায়ে কুরঙ্গ রঙ্গী, অপাঙ্গ কাছনী যেন বাণ॥ সখা হে হেরইতে ব্রজন নারী। সেই কালে ক্রোধে কাম, সাজে ধনু অনুপাম, বরিষে কুসুম সরাসরি॥ ধ্রু॥ বটু কহে দোঁহ দোঁহা, দরশনে দোঁহ হিয়া, দংশন হইল অনুমানি। কৃষ্ণ কহে নহি নহি, শুনহ নিশ্চয় কহি, যে রূপে দেখিল তারে আমি॥ চন্দ্র বিম্ব সুশীতলা, মুখচন্দ্র মনোহরা, দূর হইতে দেখিতে তাঁহারে। মাতা কহে হেন কালে, মোর দিব্য দিঞা বলে, নঞা গেল অন্ন খাইবারে॥ বটু কহে ব্রজস্থানে, আছয়ে সুন্দরীগণে, চাতুর্য্য বৈদগ্ধী নাহি ওর। তবে কেন একা রাধা, লাগিয়া পাইছ বাধা, নির্ভরানুরাগে চিত্ত তোর॥ কৃষ্ণ কহে রাধিকার, মাধুর্য্যের নাহি পার, রূপের তুলনা নহি আনে। সে সুন্দর মুখ বাম, সমঞ্জুল দুনয়ান, দেখি কাম হরয়ে গেয়ানে॥ যে হৈতে দেখিল তাঁরে, চন্দ্র আর ইন্দীবরে, অতি তুচ্ছ করি হয় জ্ঞান। সে মুখ নয়ন যুগে, দিতে উপমার যোগে, কুটিলতা লজ্জা পায় মন॥ সে রহে অন্তরে পশি, না জানয়ে নিশি দিশি, সমাধি লাগিল আঁখি মোর। দাস যদুনন্দন, চিত্তে করে এই মন, নব লেহ রসে ভেল ভোর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যার সঙ্গসুখ আশে কৈনু ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ যার সঙ্গসুখ আশে, কৈনু ধর্ম্ম কর্ম্ম নাশে, তেয়াগিনু গুরু লজ্জা গণ। যত সখীগণ তোরা, প্রাণ হইতে অধিক মোরা, দুঃখ দিল যাহার কারণ॥ সখি হে রহু ধৈরজ আমার। সে কৃষ্ণ উপেক্ষা শুনি, তুভু রহে পাপপ্রাণী, কিবা চাহে করিবারে আর॥ ধ্রু॥ যাহার লাগিয়া সতী, ধর্ম্ম তেয়াগিনু অতি, না গণিনু দুর্জন বচন। দুকুলে কলঙ্ক হইল, তাহা নাহি মনে কৈল, সে রূপে মগন কৈনু মন॥ যাহার লাগিয়া কত, গুরুর গঞ্জনা যত, করিয়া লইনু হিয়া হার। এতেক কহিতে রাই, মূর্চ্ছা পাইঞা সেই ঠাঞি, পড়ি রহে জ্ঞান নাহি আর॥ বিশাখা সম্ভ্রমে যাইঞা, তাঁরে কহে ধরি লঞা, ধৈর্য্য হো না ভাব অসার। ইহা শুনি পোড়ে মনে, দাস যদু নন্দন, মুখে বাক্য না হয় সঞ্চার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যার পরিসর বুক জাগায়ে সকল সুখ ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথারাগ॥ যার পরিসর বুক, জাগায়ে সকল সুখ, হরে কুলনারীগণ চিত। তাহার মাধুরী ভাল, যত কুলাঙ্গনা জাল, ধৈর্য্য নদী ধোরণ পণ্ডিত॥ সখি হে কহ এবে কি করিব আমি। সুন্দর মধুর নাম, মাধুর্য্য মুরলী গান, তাতে ধৈর্য্য ধরে কেবা প্রাণী॥ ধ্রু॥ বদন চান্দের ছান্দ, মদন দেখিয়া ধান্দ, অখণ্ড নলিনী নিশি দিনে। কুলাঙ্গনা ধর্ম্ম যত, পঙ্কজ বনের মত, তাহা সঙ্কোচিত করে হিমে॥ কৃষ্ণ বাহু দুই নহে, কন্দর্পের স্রুব বহে, সতী লজ্জা হরি করে জাগে। নয়ন ভঙ্গিম ঠাম, শীতল ভুজঙ্গ ভান, দেখি ধর্ম্ম ভেক গণ ভাগে॥ তাঁহা প্রতি অঙ্গতাক, মদন বাণের জাল, অলখিতে কুলবতী চিত। বিন্ধিয়া বিকল করে, প্রাণ নাহি রহে ধরে, কহে যদুনন্দন এ রীত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৃহের ভিতরে হরিষ অন্তরে ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ গৃহের ভিতরে হরিষ অন্তরে খেলিয়ে বিবিধ খেলা। সহজে আপন, বয়স যেমন, নবীন কুলের বালা॥ হরি হরি হেন না বুঝিয়ে। গৃহ ছাড়াইয়া কুপথে ফেলিয়া উদাসীন হৈলা মোরে॥ ধ্রু॥ ভাল মন্দ আমি, কিছু নাহি জানি, হেন দশা কৈলে কেনে। অতি অবিচার, দেখিয়া ব্যভার, চমক লাগয়ে মনে॥ উদাসীন কৈলে, পুন তেয়াগিলে, তুমি নিদারুণ রাজ। তোহে নাহি দুঃখ, মোর ফাটে বুক, জীবনে লাগয়ে লাজ॥ শয়ন ভোজনে, তনু বেশ গণে, তিলেক না লয়ে চিত। এ যদুনন্দন, দাস তহি ভণ, নবীন লেহক রীত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দীঘল নয়ন ভঙ্গী করে শর বররঙ্গী ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ দীঘল নয়ন ভঙ্গী, করে শর বররঙ্গী, অঙ্গীকার করয়ে সৃজন। মন্থর গমনী ধনী রমণীর শিরোমণি, গজপতি করয়ে দমন॥ ধনি ধনি এই রূপ অতি নিরুপমা। বিজুরী ঝলকে অঙ্গ, লাবণি অমিয়া ভঙ্গ, যে কহয়ে নহে কেহো সমা॥ ধ্রু॥ রাম রম্ভাগণ জিনি, উরুযুগ সুবলনী, উন্নত নিতম্ব মনোহরা। উচ্চ কুচ যুগশোভা, মাজা হীন কেশরি লোভা, তাতে নব যৌবনের ভরা॥ বদন কমল বন, দমন মাধুরীগণ, তাহাতে মধুর মৃদু হাস। শোভা দেখি স্তব্ধ মন, হৈল কৃষ্ণ সেই ক্ষণ, দেখি যদুনন্দন উল্লাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অমৃত বচন মধুর বচন ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ২য় অঙ্ক, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ অমৃত বচন, মধুর বচন, শ্রবণ জুড়ায় যাতে। হেন বাণীগণ, ভরিয়া শ্রবণ, না শুনিল ভাল রীতে॥ সই গো চিরদিন অবসরে। এ হরি মিলিল, বিধি বৈরি ভেল, দারুণ জরতী ছলে॥ ধ্রু॥ মুখ নিরমল, জিনিঞা কমল, হাসির অঙ্কুর তায়। এ মোর নয়ান, হইতে বয়ান, বিধি কৈল অন্তরায়॥ মরকত মণি, দরপণ জিনি, ও গণ্ড যুগল শোভা। তাহাতে সুন্দর, মকর কুণ্ডল, দোলে মনমথ লোভা॥ ও ভাঙ ভঙ্গিম, নয়ান বঙ্কিম, তেরছ সন্ধানে চায়। এ যদুনন্দন, কহে ধনী পুন, মিলায়ব শ্যাম রায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অনুসঙ্গ দূর হইতে তুয়া নাম শুনাইতে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ অনুসঙ্গ দূর হইতে, তুয়া নাম শুনাইতে, খঞ্জন নয়নী ধনি রাই। অতি উন্মত্ত হইয়া, কান্দে বহু বিলপিয়া, পুন পুন কাঁপে ক্ষমা নাই॥ শুন কৃষ্ণ ভাল তুয়া রীতে। অখণ্ড কুলের নারী, কৈলে তুমি সুবাউরী, যেন ভেল কুলটা চরিতে॥ ধ্রু॥ বহু কি কহিব আর, দেখিয়া মেঘের জাল, উড়িবারে চাহে পাখা করি। দলিত অঞ্জন দেখি, সঘনে ঝড়য়ে আঁখি, শ্যামা সখী নিজ কোড়ে করি॥ গহন বনেতে যাঞা, তমালেরে কোলে লঞা, মনে মানে তোমা কৈল কোর। অতিষয় হরষিতে, গাঢ় আলিঙ্গন রসে, ধনী রহে হইয়া বিভোর॥ সুনীল বসন পড়ে, নীল মণি হার ধরে, নেহারয়ে কালিন্দীর নীর। এই রূপে অনুক্ষণ, নাহি হয়ে অন্য মন, তনা রহে গৃহে স্থির॥ সদাই কদম্ব বন, করাইতে নিরীক্ষণ, পুলক ভরয়ে প্রতি অঙ্গে। বদন না তেজে হাত, সঘন অবনী মাথ, অকারণে হাসে কত ভঙ্গে॥ অঙ্গে অতিশয় তাপ, পরশিল নহে তাত, বরণ হইল যেন আন। কেহ লখিবারে নারে, কি ব্যাধি হইল বোলে, কেবা জানে নিগূঢ় বিধান॥ কি গুণ করিলে তুমি, জানি লাঙ এবে আমি, তেঞিসে তাহার হেন কায। কতেক কহিব আর, যতেক দেখিল তার, দুকুলে হইয়া গেল লাজ॥ না করে ভোজন পান, নিন্দ গেল অন্যস্থান, না শুনয়ে বচন কাহার। এ যদুনন্দন ভণে, না জীনিয়ে এতক্ষণে, কি জানি হইয়া রহে আর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হেন নয় মন সখীর গমন ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ১৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ হেন নয় মন, সখীর গমন, বিঘ্নিল নহিল তথা। কিম্বা নিবেদন, শুনি হরিমন, বিশ্বাস নহিল কথা॥ হাহা প্রিয় সখি কি করি বিচার আর। ধৈরজ ধরিতে, নাহি পারি চিতে, না হয়ে দুঃখের পার॥ ধ্রু॥ কিম্বা প্রতি কূল, দূর বিধি হৈল, আসিতে নারিল হরি। সে বনমালার, অঙ্গ পরিমল, না পাইল নাশা ভরি॥ সে দিঠি চাতিরী, সে মুখ মাধুরী, হাসির হিল্লোল তায়। নয়ান আরতি, বাঢ়িল যে মতি, সদা দেখি বারে যায়॥ বান্ধুলী অধর, আন পরিমল, কহে সুমধুর বাণী। এ যদুনন্দন, কহে সে বচন, শুনিতে যুড়ায় প্রাণী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুনিয়া কোকিল গান কুণ্ঠিত হৈল কান ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৩য় অঙ্ক, ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ শুনিয়া কোকিল গান, কুণ্ঠিত হৈল কান, শুন রাধে সুমধুর ভাস। কোমল বচনগণ, কহ শুনি এই ক্ষণ, যাতে হয় কর্ণের উল্লাস॥ শুনহ সুন্দরী ধনী রাধে। সরস পরস রস, রূপ গন্ধাধর রস, লাগি পঞ্চেন্দ্রিয় ভেল সাধে॥ চন্দ্র উতপল মোর, তপ্ত কৈল দিঠী জোর, এবে তুয়া বদন নয়ান। দরশন দিঞা আঁখি, যুড়াও আমার সখী, তেজি নিজ কৈতব বিধান॥ পুষ্পবৃন্দ পরিমলে, নাশার ঘূর্ণন কৈলে, নিজ সুখ সাজ দেহ হরে। যাতে সুখী হয় নাশা, সেই গন্ধ তাপনাশা, বহু কি কহিব আর তোরে॥ গম্ভীর মদনানলে, সুতাপ লহরী চলে, তাপ পায়ে এ শরীর মোর। নিজ তনু সঙ্গ রঙ্গ, সুগন্ধ চন্দন পঙ্ক, দেহ এবে সুশীতল করে॥ মোর জিহ্বা পিকরাজ, রসাল পল্লব সাজ, তৃষ্ণা বাঢ়াইলে অতিশয়। তুয়া নিজাধর রসে, কত তার তৃষ্ণা নাশে, তবে সে রসনা সুখী হয়॥ এ কথা শুনিঞা রাই, লজ্জা পাইল অধিকাই, ঝাপা তনু সংভ্রমে ঝাপয়ে। বিদগ্ধ শেখর বাণী, সকল রসের খনী, এ যদুনন্দন মনে কহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কেশের বরণ ভ্রমর গঞ্জন ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ২৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ কেশের বরণ, ভ্রমর গঞ্জন, সহজে তিমির যেন। তাহে নীলমণি, রতন গাথনী, হার রচিয়াছ কেন॥ সখি হে হরি অভিসার কাযে। জানিল সকল, ভুবন ভূলল, তেজিয়া ধরম লাজে॥ ধ্রু॥ নয়ান অঞ্জন, শরীরে রঞ্জন, কুস্তুরী রচিলা আঁখি। উলটা বসন, চরণে কঙ্কণ, করেতে মঞ্জীর দেখি॥ দেখ কুবলয়, দোলয়ে হৃদয়ে, উলটা অকল সাজে। এ যদু নন্দন, কহয়ে এমন, অতি হরিষের কাজে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |