| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বকুল কুসুম তুলিয়া সুশম ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ২৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিহগড়া রাগ॥ বকুল কুসুম, তুলিয়া সুশম, কুঞ্জের বাহিরে ধনি। নবীন কমল, অতি পরিমল, রাখহ চৌদিকে ধরি॥ কি ফল চন্দন, হৃদয়ে লেপন, হিয়ার পরশ সাধে। কি কাজ ভুষণ, নূপুর কঙ্কণ, কিঙ্কিনী করয়ে নাদে॥ সে তনু পরসে, অধিক হরিষে, পুলক ভরয়ে জানি। এ লাগি পরাণ, চমকে সঘন, কহিতে রোধয়ে বাণী॥ এ নব মোহন, ভ্রমরা গুঞ্জন, এ নব কোকিলা গান। হরি কোরে সব, রজনী বঞ্চিব, অমৃতে করিয়া স্নান॥ কি লাগি বিলম্ব, করয়ে মাধব, না জানি কি আজি হয়। এ যদুনন্দন, দাস তহি ভণ, দেখিতে লাগয়ে ভয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি দোষ তোমার সুনহ সুন্দর ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ২৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ কি দোষ তোমার, সুনহ সুন্দর, দূর দিনে কিবা নহে। একে করে আন, দুরবিধি কাম, কাহা হৈতে কিবা হয়ে॥ মাধব কি কাজ বিচারে আর। তোমার আমার, এক কলেবর, অভেদ জানিল তার॥ ধ্রু॥ মোর আগমন, পথেতে নয়ন, থুইয়া আছিলে তুমি। তাহাতে পুলক, না ছিল তিলেক, কারণ জানিল আমি॥ কেশর কুসুম, রেণু অনুপম, ভরিল নয়ান যুগে। তেঞি সে নয়ন, ভৈগেল অরুণ, কিম্বা প্রতি অনুরাগে॥ বনের ভিতর, অতি সুশীতল, পবন বহিল জানি। অলসে দশন, লাগে তে কারণ, ক্ষতাধর অনুমানি॥ তোমার নয়ন, কাজর ভরম, অঞ্জন ভাজন লঞা। চুম্ন করিতে, অধরবিম্বেতে রহি গেল সে লিঞা॥ সোনার বরণ, বাসিত কুঙ্কুম, লেপন সুগন্ধ লাগি। আমারে মারিয়া, তারে কোলে লঞা, আছিলা রজনী জাগি॥ সেই যে কুঙ্কুম, হৃদয়ে লেপন, দেখি এই পরতেক। অতেব কি ফল, বিনয়ে কেবল, জীউ তুয়াহাম এক॥ আমার বিরহে, আকুল হৃদয়ে, ধেয়ানে আমারে লঞা। সিন্ধুর রচিলে, আপন কপালে, এ মোর ললাট করিয়া॥ এ মোর অধীন, হইয়া সেবন, করিতে চরণ তলে। ভরমে যাবক, ভরিয়া অলক, আপনা আপনি দিলে॥ বলয় কঙ্কন, চিহ্ন মনোরম, সে যে দেখি কেন পিঠে। সিন্দুর অধর, সুরাগ তাম্বূল, কেন বা যুগল দিঠে॥ নীল উতপল, জিনিঞা সুন্দর, বরণ মাঝার ভেল। এ যদুনন্দন, দাস তহি ভণ, মদনে বেদনা দিল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তোমার অধীন আমি সর্ব্ব ক্ষণ ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৪র্থ অঙ্ক, ৩০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ তোমার অধীন, আমি সর্ব্ব ক্ষণ, এত রোষ কেন মোরে। মোর মুখ হেরি, কুটিলতা ছাড়ি, প্রকাশহ দিঠি জোরে॥ শুনহ সুন্দরী ধনি পাই। তোমার বিরহে হৃদয় বিশেষে, মদন বেদন পাই॥ ধ্রু॥ এ তুয়া নয়ন, খঞ্জন সমান, নাচয়ে আনন্দাবেশে। তারে কি লাগিয়া, রাখিলে বান্ধিয়া, ভুরু ভুজঙ্গিনী পাশে॥ বদন বিমল, জিনিঞা কোমল, তাহা যে মৈলান দেখি। আমার নয়ান, ভ্রমর সমান, পাইয়া ফিরয়ে দুঃখী॥ তোমা বিনু আমি, আর নাহি জানি, এ তনু বচন মনে। তুয়া মধু বাণী, মন্দ হাস্য খানি, আমার জীবন ধনে॥ তোমায় বিরস, দেখিয়া অবশ, হইল আমার তনু। নদী জল বিনে, করয়ে মৈলানে, নীল উতপল জনু॥ হিয়া কুমুদিনী, চান্দের চান্দনী, কেবল আমার তুমি। আমার জীবন, চাতকের ধন, তুমি সে জানিয়ে আমি॥ আমার পরাণ, মহাজন সম, তাহার বিহার কাজে। সুখ সরোবর, তুমি সে সকল, তোহে কি কহিতে লাজে॥ দেখ তুয়া পায়ে, এখন লোটায়, চূড়ায় চন্দ্রক মোর। নয়ন কটাক্ষ, করি মোরে দেখ, পায়ে নিবেদিনু তোর॥ করিয়া প্রণাম, মাগি এই দান, দেখহ প্রসন্ন আঁখি। এ যদুনন্দন, কহে ধনি শুন, কাতরে পীড়ন কি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভগবতী শুনি এ সব কাহিনী ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ ভগবতী শুনি এ সব কাহিনী, ললিতারে কহে পুতা। এখানে তিলেক কথা পরতেক, শুনি পিরিতের কথা॥ পুন রাই হিয়া, চপলা হইয়া, কহয়ে মরম বাণী। এ যদু নন্দন, দাস তহি ভণ, ধৈজ করহ প্রাণী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গগণের চান্দে কি বা কহি ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ৩৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ গগণের চান্দে কি বা কহি। দিবসে বিরূপ হয়ে সেই॥ কমল উপমা কিয়ে দিয়ে। মৈলান রজনী কেনে হয়ে॥ রাধা মুখ সদাই উজোর। তুলনা দিবার নাহি ওর॥ ইহা কহি কৌতুক হৃদয়। এ যদু নন্দন মনে কয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হাহা রাধে তোমার লাগিয়া ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ হাহা রাধে তোমার লাগিয়া। নিরবধি পোড়ে মোর হিয়া॥ ধ্রু॥ নাজানি কি জানি হয়ে আজ। বেকত বা হয় সব কাজ॥ তুয়া সঙ্গে মনোহর লীলা। গোকুলে বেকত ভৈগেলা॥ অভিমন্যু লখিব আশয়। বান্ধিয়া বা রাখে নিজালয়॥ কি বা তোমা লুকাইয়া রাখে। তবে আমি দেখিব কাহাকে॥ কিবা সে মুখরা লইঞা যায়। তবে আমি কি করি উপায়॥ এ যদুনন্দন দাস কহে। না ভাবিহ মঙ্গল আছয়ে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি হে মাধব বিরহে রাধিকা ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ৩৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ সখি হে মাধব বিরহে রাধিকা। তনু মন ক্ষীণ ভেলাধিকা॥ ধ্রু॥ কাঁচা সোনা যাতে করে গিনি। সে বরণ দুপর তরণি॥ যে গণ্ড যুগল শশী শোভা। সে যে হাসে রতি মন লোভা॥ সহজেই কৃশ ধনী মাঝ। ভাঙ্গি পড়ে হেন ভেল লাজ॥ নয়ন কমল যুগ নিদ। পরিমলে ভৈগেল দরিদ॥ এ যদুনন্দন দাস কহে। কি বা নাহি করয়ে বিরহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পরিজন সুধাময় বাণী ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ৩৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ পরিজন সুধাময় বাণী। না শুনি কানে আগেআনি॥ বাঢ়াওসি কাহে অতিরোষ। না শুনসি হরি গুণ দোষ॥ মিছাই মান দহ নাই। কাহে তনু সুতাপসি তাই॥ তোহে লাগি সুতাপিত কান। অতএ তেজহ তুয়া মান॥ হৃদয়ে করুণা উপজাই। দিঠি কোণে নিরখি কানাই॥ অতি কাতর রসরাজ। এ যদু নন্দন কহে কায॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরি সঙ্গে যে করে পীরিতি ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ৩৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ হরি সঙ্গে যে করে পীরিতি। দিঠি জল না হয় বিরতি॥ ইথে নাহি তাহে পুনঃ পুনঃ। নিষেধ করলু হাম দুন॥ ব্রজপতি নন্দনের সাথ। পিরিতি জানিয়ে উপজাত॥ এই সেই প্রেম তরুবরে। সেচয়ে আপন দিঠি জলে॥ এ যদুনন্দন দাস কহে। পিরিতি হইতে কিবা নহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ সখি রসাল মুকুলে ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৫৮৯সম্বৎ অর্থাৎ ১৫৩২ খৃষ্টাব্দে রূপ গোস্বামী দ্বারা বিরচিত “বিদগ্ধমাধব” নাটকের ষোড়শ শতকে যদুনন্দন দাস কৃত উক্ত গ্রন্থের অনুবাদের পদাবলী এবং সপ্তদশ শতকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা সম্বলিত রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা অনূদিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ, ৫ম অঙ্ক, ৩৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ যথা রাগ॥ দেখ সখি রসাল মুকুলে। ঝাঁকে ঝাঁকে মধুকর বুলে॥ কালভুজঙ্গিনী এই ছলে। কবল করিতে ধায় বলে॥ রক্তবর্ণ অশোকের দলে। তাহার কুসুমগণ বুলে॥ শিখা কিবা উঠিল অনলে। যাহাতে জীবন মোর জলে॥ কিংশুকের কালিকার জালে। মদন কি অর্দ্ধচন্দ্র থুইলে॥ দেখি মোরে অর্দ্ধেক নয়নে। বিন্ধিতে আইসে নিজ মনে॥ এ যদুনন্দন দাস বলে। বিরহে নাহিক দুঃখ দিলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |