কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
আনন্দে মুরলী ধ্বনি কৈলা যবে ব্রজমণি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১২শ সর্গের পদ, ১৪৫-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগঃ॥

আনন্দে মুরলী ধ্বনি, কৈলা যবে ব্রজমণি, প্রাণী মাত্র ধর্ম্ম হৈল আন।
ত্রিভুবনে বৈসে যত, সুন্দরী তরুণী কত, বংশী কাষ্ঠকৈল তার প্রাণ॥
সে ধ্বনি অনঙ্গ ঘুণ, তাহাতে লাগিল দুন, নাশ কৈলা নারী মন বাস।
যত স্থিরচরগণ, উলটা ধরম বন, ছয় ঋতু বৈভব প্রকাশ॥
অমৃতের কণা গণ, শ্রবণ মুরলী গান, স্থিরচর প্রাণী সিঞ্চে তায়।
বংশী ধ্বনি বাণ ধায়্যা, অবলা হৃদয়ে যায়্যা, মাতাইয়া ধৈর্য্যতা ছাড়ায়॥
যতেক পুরুষ গণে, কামপীড়া হৈল মনে, কে তাতে অবলা জড়কামা।
পর্ব্বত হৈল পানী, শুনিয়া বেণুর ধ্বনী, দশদিগে ঝরে তেজাগমা॥
পশু পক্ষ আদি গণ, তৃষ্ণায় পীড়িত মন, যায়্যা জল খাইতে না পারে।
নিকটে আইল জল, তাহে পি@@ নাহি বল, জড় হৈয়া আছয়ে নিচলে॥
যতেক নদীর নীর, স্রোত গণ হৈল স্থির, পাষাণ সমান ভেল তায়।
হংস হংসীগণ তাতে, না পারে মৃণাল খাইতে, শিকলি লাগিল তার পায়॥
স্থগিত হৈল বাত, ঘুরে সব বৃক্ষ মাথ, পুষ্পছলে হাসে বৃন্দাবন।
এ যদুনন্দন কহে, কেমনে ধৈরজ রহে, গান করে মদনমোহন॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোবিন্দের বাম অংশে পুষ্প ধনু অবতংসে
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৪শ সর্গের পদ, ১৬৮-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগঃ॥

গোবিন্দের বাম অংশে, পুষ্প ধনু অবতংসে, তাহাতে ঘটনা পুষ্পবাণ।
বামহস্ত পদ্মতলে, মণি পিচকাই ধরে, ভূষা পরে সোনা দশবাণ॥
সূক্ষ্ম শুক্ল বাস পরে, তুন্দ বন্দে বংশীধরে, পটিকা অঞ্চলে গন্ধচূর্ণ।
পিচকাই গন্ধ জল, উভারয়ে কান্তাপর, সবা সিক্ত কৈল যাঞা পূর্ণ॥
আশ্চর্য্য যন্ত্রের কথা, শুন রসময় গাঁথা, এক মুখে নিকসয়ে ধারা।
বাহ্যে একশত ধারা, আকাশে সহস্র ধারা, পড়িবার কালে লক্ষ ধারা॥
কোটি ধারা হয়ে পড়ে, সব কান্তাগণোপরে, সিঞ্চে সব প্রিয়া এই মতে।
যত শিশি ভরা গন্ধ, চূর্ণ বহু পর বন্দ, তাহা কৃষ্ণ ডারে পৃথিবীতে॥
কূপ ভাঙ্গি গোলি পড়ে, গোপাঙ্গনা অঙ্গ ভরে, সোই গোলি হয় লক্ষগুণ।
কুঙ্কুমের কণা মাঝে, মৃগমদ বিন্দু সাজে, তাঁ সবার অঙ্গে নহে ঊন॥
সুবর্ণ লতাতে যেন, ফুটিয়াছে পুষ্পগণ, তাতে সুতিয়াছে অলিগণ।
গোপাঙ্গনা প্রতি অঙ্গে, এইমত শোভা রঙ্গে, বিশেষিয়া না যায় বর্ণন॥
কুঙ্কুমের পিচকাই, করতলে লয়ে রাই, কৃষ্ণ অঙ্গে দিল গন্ধ ধারা।
ব্যাপ্ত হৈল কৃষ্ণ অঙ্গ, সেউ জলবিন্দু বৃন্দ, মভস্থলে চন্দ্রবিম্ব পারা॥
রাই মৃদু মন্দ হাসি, গন্ধ চূর্ণ যতশিসি, নিক্ষেপ করিল পৃথিবীতে।
ঢাকনি ঘুচিল তার, কৃষ্ণ অঙ্গে সেইকাল, ভরি গেল গন্ধ পঙ্করিতে॥
নানা বর্ণ গন্ধ চূর্ণ, পৃথিবীতে হৈল পূর্ণ, আকাশ ভরিল অষ্টদিশা।
গন্ধ জল বৃষ্টি তাতে, চিত্র চন্দ্রাতপ মতে, খেলে কৃষ্ণচন্দ্র মৃগীদৃশা॥
কৃষ্ণ গন্ধ পঙ্ক লয়ে, রাই অঙ্গে দিল ধায়ে, স্পর্শে কুট্টমিত ভেল অঙ্গ।
প্রেমের কন্দল হয়, কিছুই নিশ্চয় নয়, কৃষ্ণ সঙ্গে রাইর এ রঙ্গ॥
হেনকালে সখী আসি, ডালে গন্ধ জলরাশি, তাতে কৃষ্ণ অঙ্গ পূর্ণ হৈল।
এইরূপে সব সখী, গোবিন্দের অঙ্গ তাকি, গন্ধজলে তনু পূরাইল॥
তাতে কৃষ্ণ ব্যাপ্ত হয়ে, কুচ স্পর্শে কারো যায়ে, কারো মুখে চুম্ব দেই বলে।
রাই ক্ষেপে গন্ধচূর্ণ, কৃষ্ণের উপরে পূর্ণ, পুনঃ পুনঃ ধৈরজ না ধরে॥
দেখি কৃষ্ণ তারে ধরি, হিয়ার উপরে করি, বাহু পাশে সে তনু বান্ধিল।
তা দেখিয়া সখী যত, হৈলা কাণ্ড পটাবৃত, কৃষ্ণচন্দ্র বাঞ্ছিত পূরিল॥
কন্দর্পের পরিহাস, মন্ত্রবাণ পরকাশ, কটাক্ষে বিন্ধয়ে কৃষ্ণপ্রিয়া।
সেই বাণে বিদ্ধ হিয়া, যত যত কৃষ্ণপ্রিয়া, রহে কাম বিবশ হইয়া॥
তবে তারা কৃষ্ণ প্রতি, মৃদু মন্দ হাসি অতি, অপাঙ্গ ইঙ্গিত বাণ কৈল।
সে বাণে ব্যাকুল হরি, পুনঃ বাণ করে ধরি, এইরূপে দুহুঁ বিদ্ধ হৈল॥
পৃথিবীতে জলধর, ধরি নব কলেবর, সৌদামিনী সেচে গন্ধজলে।
বিজুরী মহিতে ফিরে, গন্ধজল বৃষ্টি করে, অতি চিত্র মেঘের উপরে॥
বৃন্দা আদি সখীগণ, নেত্র নদী অনুক্ষণ, এই লীলামৃতে পূর্ণ হয়ে।
এই মতে নানা লীলা, করে কৃষ্ণ সখী মেলা, এ যদুনন্দন দায় গায়ে॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কেলী যুক্ত মঞ্জু কেশ লোটনিগ্রীবান্ত দেশ
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৫শ সর্গের পদ, ১৮০-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগ॥

কেলী যুক্ত মঞ্জু কেশ, লোটনি গ্রীবান্ত দেশ, বান্ধে বাস অতি দৃঢ় করি।
নব সূক্ষ্ম শুক্লবাস, পরে সবে মনোল্লাস, ভূযা রাখে সখীস্থানে ধরি॥
শ্রীকৃষ্ণের অঙ্গ কান্তি, নব ঘন পুঞ্জ ভাঁতি, উদায় চন্দ্রাংশু জিনি ছটা।
নয়ন প্রভাত পদ্ম, সকল আনন্দ সদ্ম, সে কটাক্ষ কামবাণ ঘটা॥
কেলি শ্রম শান্তিকাযে, জললীলা রঙ্গে সাজে, লোল হৈল কৃষ্ণচন্দ্র মন।
রাই কর পদ্ম ধরি, কুণ্ডজলে নাম্বে হরি, সঙ্গে নাম্বে সব সখীগণ॥
যেন মত্ত হস্তি বনে, সঙ্গেত করিণীগণে, বহু শ্রমে নাম্বে নদীজলে।
নিজ সুখে খেলা করে, যাতে শ্রম যায় দূরে, কৃষ্ণ গোপাঙ্গনা তেন চলে॥
গোপী নেত্র উত্পল, মুখ পদ্ম নিরমল, কুচ চক্রবাক মনোহর।
তনু বাহু মৃণালিকা, অলকা মধুপধিকা, হাস্য কুমদিনী মনচোর॥
কৃষ্ণ চক্ষু মত্তগজ, দেখি গোপাঙ্গনা ব্রজ, প্রতি তনু নদী করি মানে।
কেহ তটে তীরে থাকি, জল দেন কৃষ্ণ তাকি, বলে কৃষ্ণ ধরি তারে আনে॥
সেখানে লইয়া হাসে, তবে কত সুধা খসে, থরহকি কাঁপে তার অঙ্গ।
জানুজলে কেহ স্থিতি, কেহ উরু জলে রতি, নাভিসম জলে কেহ রঙ্গ॥
কৃষ্ণে দেই জল রাশি, সবার বদনে হাসি, সূক্ষ্ম বস্ত্র তিতি লাগে গায়।
অঙ্গের সৌষ্টব ধূলি, লাবণ্য তরঙ্গ শালী, কৃষ্ণ মত্ত হস্তি বদ্ধ তায়॥
তৈছে কৃষ্ণ তনুশোভা, সুধা ধর তনু লোভা, লাবণ্য তরঙ্গ গণ বহে।
গোপাঙ্গনা চক্ষু যত, করিণীর ঘটা কত, নিমগন হইয়া রহয়ে॥
কৃষ্ণ নাভি জলে থাকি, গোপাঙ্গনা তাকি তাকি, আকর্ষয়ে অতি হর্ষভরে।
তারা কৃষ্ণে হর্ষ করে, শীতে আর্ত্তিকম্প ছলে, রোদন মিশালে হাস্য করে॥
শ্বেতপদ্ম রক্তপদ্ম, নীলপদ্ম হেমপদ্ম, রক্ত উত্পল গণ আর।
কুমদিনী নীলোত্পল, মধুরজ পরিমল, তুণ্ড জলে কৃষ্ণের বিহার॥
বৃন্দা আর নান্দীমুখী, ধনিষ্ঠাদি হয়ে সুখি, দেখি রহে ঘাটের কুট্টিমে।
রাই জয় জয় বোলে, নানা পুষ্প বৃষ্টি করে, পরম আনন্দ পায় মনে॥
বটু আর কুন্দলতা, সুবল সংহতি তথা, তীরে রহে অন্য কুট্টিমাতে।
পুষ্পবৃষ্টি সদা করে, কৃষ্ণ জয় জয় বোলে, চিত্তে অতি হয়ে হরষিতে॥
তবে কৃষ্ণ জলকেলি, আরম্ভিলা প্রিয়া মেলি, সবে জল দেই কৃষ্ণ গায়।
প্রথমে অলপজল, কৃষ্ণ দেই প্রিয়াপর, তাসবার আরতি বাড়ায়॥
তবে গোপাঙ্গনা অঙ্গ, দেখিতে সৌন্দর্য্য রঙ্গ, সহস্রাক্ষ প্রায় হৈলা হরি।
সবার নিকট যাইতে, সহস্র চরণ রীতে, সহস্র বাহু আলিঙ্গনে ধরি॥
উদর সমান জলে, মৃগীদৃশা গণ খেলে, জলদিয়া হাসে পঞ্চমুখে।
কুচ চক্রবাক তার, না নিবারে সবাকার, সহস্র কর হয়ে কৃষ্ণ সুখে॥
বটু দেখি কৃষ্ণ রীত, আনন্দিত হয়ে চিত, শ্রুতিবাণী পড়য়ে হরিষে।
সহস্রপক্ষ সিংহাক্ষ, সহস্র বাহু করে লক্ষ, স্নানমন্ত্র পড়য়ে বিশেষে॥
স্মৃতিবাণী নান্দীমুখী, পড়ে কৃষ্ণ রীত দেখি, অতিশয় করিয়া বিস্তার।
সর্ব্বত্রেই হস্ত পদ, নখ মুখ শির কত, হাসি হাসি কহে বার বার॥
জলবৃষ্টি করে হরি, এদিগ বিদিগ ভরি, ব্রজাঙ্গনা লতা হৈল লোল।
কৃষ্ণমূর্ত্তি জলধর, মালা হৈয়া অবিরল, ঘনবর্ষে প্রিয়ার উপর॥
কৃষ্ণ হস্ত জল পায়্যা, সখী ভেল সখী হিয়া, অতিবৃষ্টি ভয়ে পলাইলা।
আউলাইল ভুজ লতা, কেশ বস্ত্র শ্লথ মতা, পুষ্পমাল্য ছিড়ি দূরে গেলা॥
বিমুখী হৈলা রণে, সব গোপাঙ্গনাগণে, নিরমল জলে ভাসাইলা।
কৃষ্ণ বহু রূপ ধরি, সর্ব্ব বস্ত্র নিল হরি, ব্যস্ত প্রায় সবেই হইলা॥
দেখি কৃষ্ণ শীঘ্রহৈয়া, তরঙ্গ হস্তেত দিয়া, পত্রে আচ্ছাদয়ে অধস্থান।
হস্ত কঞ্চুলিকা করি, রহে সব গোপনারী, দীর্ঘ কেশ ঝাঁপিয়া বয়ান॥
কৃষ্ণস্থানে সব সখী, পরাভব হৈলা দেখি, রাই ভেলা সখী দুঃখে দুঃখী।
কৃষ্ণে জিনিবার করে, কহে কথা মধুঝরে, যুদ্ধকরে হাসি সুধামুখী॥
রাধাকৃষ্ণ জল রণ, পাছে কৈল সখীগণ, বাড়ি গেল জলযুদ্ধ রঙ্গ।
এককালে সবা সনে, কৃষ্ণ করে বহু রণে, আনন্দে দ্রবিল সব অঙ্গ॥
করাকরি যুদ্ধ এবে, ভুজা ভুজি হৈল তবে, তার পাছে যুদ্ধ নখানখি।
অঙ্গাঅঙ্গি যুদ্ধ হৈল, তবে রদারদি কৈল, তবে হৈল যুদ্ধ মখামুখি॥
রাই অঙ্গ পরশনে, হর্ষ হৈল কৃষ্ণ মনে, যদ্ধ ভেল আনন্দ মন্থর।
দেখিয়া ললিতা হাসে, কহয়ে মধুর ভাষে, না পীড়হ গোবিন্দ কাতর॥
কেশ চূড়া ভঙ্গ দিল, পুষ্পমালা ছিন্ন ভেল, ললাটে তিলক লুকাইল।
কাঁপয়ে কুন্তল রাজ, কৌস্তুভ পাইল লাজ, গণ্ডে তুয়া শরণ লইল॥
জলযুদ্ধে জয়াজয়, যেমত যাহার হয়, দেখি তীরে সব সখীগণ।
তৈছে করে পরিহাস, কহে রসময় ভাষ, যাহা শুনি যুড়ায় শ্রবণ॥
তবে কৃষ্ণ রাধা ধরি, বলে আকর্ষণ করি, লয়ে গেলা কণ্ঠ সম জলে।
কভু জলে মগ্ন করে, কভু বা উপরে ধরে, হেমপদ্ম যেন করি করে॥
সুবাহু মৃণাল দিয়া, ধনী আনন্দিত হিয়া, কৃষ্ণ কণ্ঠ যতনে ধরয়।
মুখ পদ্ম কাঁপে কেশে, রাধিকা পদ্মিনী ভাসে, হরি করে ধরে উত্কণ্ঠায়॥
অথা সব সখীগণে, লুকায়ে হে মাব্জবনে, মুখপদ্মে মিশাইয় রহে।
তাহা দেখি কহে ধনী, অন্য সহ ব্রদমণি, সখীগণ কোন স্থানে হয়ে॥
শুনি কৃষ্ণ কণ্ঠজলে, রাইরে থুইয়া চলে, অন্বেষয়ে সখী পদ্মবনে।
এই কালে লুকায় রাই, হেমাম্বুজ বনে যাই, মিশাইল মুখপদ্ম সনে॥
অথা কৃষ্ণ সখীগণ, করি ফিরে অন্বেষণ, যাহা দেখি হেমাম্বুজ বন।
হেম পদ্মগণ পাশে, নীল উত্পল ভাসে, তার পাশে শৈবালফ গণ॥
শশীমুখ নেত্র কেশ, মানি তারে সেই দেশ, যাই কৃষ্ণ চুম্বে পদ্মগণে।
তৃষ্ণার্ত্ত ভ্রমরগণ, অতি উত্কণ্ঠিত মন, মধুপান লালসার মনে॥
গোপী মুখ কাছে যবে, কৃষ্ণ মুখ যায় তবে, মুখপদ্ম জুড়ি রহে তারা।
এককালে সবাসনে, হয়ে নানা কাম রণে, বহে কত প্রেমরস ধারা॥
কভু কৃষ্ণ রাইমুখে, মুখ দেন নিজ সুখে, চুম্ব দেই রস মধুলোলে।
গোপী কুচ আস্ফালনে, লোল জল পদ্মগণে, উড়ে কত ষট্ পদ বিভোরে॥
গোপী শ্রমে কৃষ্ণ অঙ্গ, তাহা দেখি কৃষ্ণচন্দ্র, কঙ্কণ বলয়া খসে জানি।
মৃণাস কঙ্কণ গণ হয়ে হরষিত মন, দিল গোপাঙ্গনা প্রতি পাণি॥
কুণ্ডেত কুমুদ বন, মৃণালিকা অনুপম, হংসগণ পদ্মবন ভরে।
চক্রবাক নীলেত্পল, ভরিয়াছে কুণ্ডজল, অনুপম শোভা মনোহরে॥
গোপী হাস্য বাহুগতি, বদন নয়ন সতি, উরোজ উন্নত মনোরম।
কুণ্ড সম দেখি শোভা, কৃষ্ণচক্ষু বাড়ে লোভা, বিহরয়ে মত্ত হস্তি সম॥
নিতম্ব উরুজ গণ, করয়ে যে আস্ফালন, তাহাতে কাঁপয়ে কুণ্ড জল।
বায়ুর তরঙ্গ তাতে, জল পদ্মগণ রীতে, রহিতে যাইতে নাহি বল॥
গোপাঙ্গনা মুখামৃত, রুচিকুণ্ডে সুখোদিত, স্তন চক্রবাক খেলে কাছে।
যাহা দেখি কোকগণ, সবিশ্বাস হৈলা মন, ক্ষণে ভয় মনে নাহি বাসে॥
রাই মুখচন্দ্র যবে, উয়ল কুণ্ডেতে তবে, নীলোত্পল কৈরব বিকাশ।
সকল ষট্ পদ গণে, নিশি দিশি নাহি জানে, সমকালে সমান বিলাস॥
সে কৌতুকে গোপীগণ, তুলনা না হয় মন, দেখি মধুকর গণ রঙ্গ।
উত্পল কুমদ গণ, প্রবেশে যে পদ্ম বন, মধুপানে মত্ত হৈল ভৃঙ্গ॥
অলক্ষিতে এইকালে, কৃষ্ণ লুকাইলা জলে, নীলপদ্ম বনের ভিতরে।
তা দেখিয়া গোপীগণ, গেল নীলপদ্ম বন, অন্বেষয়ে শ্যাম সুনাগরে॥
নীলাম্বুজে জ্ঞানকরে, এই কৃষ্ণ মুখ বরে, তাহা যায়্যা চুম্বয়ে তাহারে।
লাজ পায়্যা অন্যোন্য, হেরিয়া হাসয়ে ঘন, কহে হের নীলাম্বুজ বরে॥
হেনকালে চিত্রা কহে, দেখ দেখ সখী ওহে, নীলাম্বুজ বনে অদভুতে।
রাই সঙ্গে কৃষ্ণ মিলে, দেখি আন ছলে বলে, নীলাম্বুজ বনে আনন্দিতে॥
হেমাব্জে নীলাম্বুজ, একত্র মিলন বুঝ, তাতে লোল অলি মালা সাজে।
তাহাতে খঞ্জন দুই, প্রতি পদ্মে নাচি রই, শৈবালক গণে তাহাঁ রাজে॥
হেমাম্বুজ নীলাম্বুজ, অতনু তরঙ্গে যুঝ, সঘনে চালয়ে তেই চলে।
ক্ষণেক বিরল হয়ে, ক্ষণে বা সংযোগময়ে, অনঙ্গ প্রেরিত কুতূহলে॥
জলে হৈতে চক্রবাক, যুগল উঠিল তাক, নীলপদ্ম যুগ উঠি ধরে।
হেমাম্বুজ যুগ তবে, জলে হইতে উঠে এবে, চক্রবাক ধরি রাখে বলে॥
দুই চক্রবাক লাগি, তারিপদ্মে লাগালাগি, যুদ্ধ করে অতি বিপরীত।
লুটে নীলপদ্ম আসি, রাখি হেমপদ্ম রাশি, দেখ চারি পদ্মের চরিত॥
নীলাম্বুজ যুগকায, দেখি পরতেক ব্যাজ, দূরেকের হেমপদ্ম জোর।
লুটে চক্রবাক তবে, দেখি অবিচার এবে, অচেতন সচেতন চোর॥
কৃষ্ণ কৃষ্ণকান্তা গণে, অঙ্গ সত্য আলাপনে, কুণ্ডজল শ্বেতারুণ শ্যাম।
নিরমল গুণী সঙ্গে, নির্ম্মল করয়ে রঙ্গে, স্নিগ্ধজল ভেল অনুপাম॥
এইরূপে নানারঙ্গে, কৃষ্ণ খেলে প্রিয়া সঙ্গে, জললীলা করি উঠে তীরে।
এ যদুনন্দন কহে, জলকেলি সুধাময়ে, শুনইতে কর্ণ লোভভরে॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কৃষ্ণ পদতল কথা শ্রবণ পরশ মতা
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৬শ সর্গের পদ, ১৯২-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগঃ॥

কৃষ্ণ পদতল কথা, শ্রবণ পরশ মতা, অন্য অন্য তৃষ্ণা সব নাশে।
কৃষ্ণ পদ ধ্যান কৈলে, সকল সম্পদ মিলে, না রাখয়ে বিপদের লেশে॥
কৃষ্ণ পদ দরশনে, চমক লাগয়ে মনে, দেখিয়াও মাধুর্য্য সুসমা।
সর্ব্বেন্দ্রিয় আহ্লাদয়ে, সর্ব্বাঙ্গ শীতল হয়ে, ঐছে কৃষ্ণ পদ মধুরিমা॥
কৃষ্ণ পদ পরশিলে, সব দুঃখ যায় দূরে, সুখসিন্ধু করয়ে উদয়।
এই কৃষ্ণ পদতল, কোটি চন্দ্র সুশীতল, প্রাপ্তি লাগি মোর বাঞ্ছা হয়॥
কৃষ্ণ পদযুগ হয়, সৌভাগ্য মন্দিরময়, সদ্গুণ সম্পত্তি যত আর।
প্রাকৃতা প্রাকৃতে হয়, কৃষ্ণপদ লীলাময়, ধ্যান মাত্রে মিলে সব সার॥
কৃষ্ণপদ উপাসনা, করি করি কতজনা, শীলা চিন্তা মণি সম ভেল।
ধবলা হইল কাম, ধেনুবর অনুপাম, বৃক্ষগণ কল্পবৃক্ষ হৈল॥
তারা সব প্রাণী জনে, অভীষ্ট করয়ে দানে, হেন পদ কেবা না বাঞ্ছয়।
এই কৃষ্ণ পদতল, শ্লথ অতি সুশীতল, পাইতে মোর মন বাঞ্ছা হয়॥
কৃষ্ণের চরণ শোভা, পদ্মগণ করে লোভা, মধু হয় লাবণ্য তাহার।
যত পদাঙ্গুলী গণ, হয় পদ্মপত্র সম, গোপীচক্ষু ভৃঙ্গ সুধাপার॥
নখর নিকর যত, পদ্মের কেশর মত, সৌরভ তরঙ্গ সদা বহে।
এই কৃষ্ণচন্দ্র পায়ে, সদা যেন মতি রয়ে, কখন বিচ্ছেদ যেন নহে॥
কৃষ্ণ গুণ পদতলে, পঞ্চেন্দ্রিয়াহ্লাদ করে, রক্তোত্পল পদ্ম নহে সমা।
পদ নখাঞ্চল গুণে, দাতা কল্পবৃক্ষ জিনে, অতএব নাহি পদোপমা॥
সকল অভীষ্ট দেই, আছয়ে ত্রিবেণী যেই, সে বৈসয়ে কৃষ্ণের চরণে।
পদ প্রয়াগের তলে, অরুণবরণ ছলে, সরস্বতী করয়ে স্তবনে॥
পদ নখ শ্বেত কাঁতি, নিরমল গঙ্গা ভাঁতি, তাহার উপরে শ্যামরুচি।
সেই যে যমুনা হয়ে, অতি সুখে নিবসয়ে, সর্ব্বক্ষণ সর্ব্বমতে শুচি॥
গোবিন্দ তরণে রহি, অন্ধকার গর্ব্বময়ী, সে ভয়ে অরুণ পলাইয়া।
পদতলে রহে দেখি, অতি ভয় পাইলা শশী, নখে পড়ে দশ খান হঞা॥
কলোক্তিশারিকা তবে, বৃন্দা আজ্ঞা পাইয়া এবে, জিহ্বা রঙ্গ ভূমি বাসাইতে।
কৃষ্ণের চরণ গুণ, হয়ে আনন্দিত মনঃ, বিশেষিয়া লাগিলা বণিতে॥
গোপাঙ্গনা হস্তে যবে, কৃষ্ণ পদ রহে তবে, শোভা হয় নীলপদ্ম সম।
যবে কুচকুম্ভে ধরে, অশোক পল্লব বরে, দেখি শোভা অতি অনুপম॥
হৃদয়ে ধরয়ে যবে, রক্তোত্পল হয় তবে, সেই কৃষ্ণ পদ অরবিন্দ।
কমল নয়ন পায়ে, দেখিত যুড়ায় গায়ে, নয়নে লাগিয়া রহে ধন্দ॥
চন্দ্র ইন্দীবর আর, চন্দন কর্পূর সার, নালন চন্দ্ন সিত গন্ধ।
কৃষ্ণের চরণ তলে, এই সব গুণ ধরে, কহনে না হয় পরবন্ধ॥
রাই কুচ অঙ্গ হৈলে, কৃষ্ণ পাদপদ্ম মিলে, অতিশয় হয়েত চঞ্চল।
রাই কর সুললিত, রাই কুচ সুমিলিত, কুঙ্কুম চর্চ্চিত ঘনতর॥
শোভার সমূহ বৈসে, কৃষ্ণ পাদপদ্ম দেশে, সুমঙ্গল সুন্দর আলয়।
এই পদ্ম সম্বাহন, সদা বাঞ্ছে মোর মন, এ যদুনন্দন দাস কয়॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নবাম্বুদ জিনি দ্যুতি দলিত অঞ্জন কাতি
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৭শ সর্গের পদ, ২১১-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগঃ॥

নবাম্বুদ জিনি দ্যুতি, দলিত অঞ্জন কাতি, ইন্দ্রনীলমণি জিনি তনু।
পীতাম্বর পরিধান, বিজুরী কুঙ্কুমছাম, সূর্যেযোদয় যেন প্রাতে জনু॥
সখী হে সুমধুর মূরতি গোবিন্দ।
সদা মন্দ মন্দ হাসি, উগরে অমিয়া রাশি, সুশীতল জিনি কত চন্দ্র॥ ধ্রু॥
কর্পূর চন্দন গণ,মৃগমদ বিলেপন, প্রতি তনু শোভয়ে মপরারি।
কৃষ্ণের বদন ছান্দ, গর্ব্ব হরে পদ্ম চান্দ, বহে কত মাধুর্য্য মাধুরি॥
মকর কুণ্ডল গণ্ডে, তাণ্ডব করায়ে রঙ্গে, বাঢ়ায়ে বল্লরি গূঢ়ভাব।
প্রেম রত্ন অভরণ, বন্ধতায় সখীগণ, তাহাতে মানয়ে বহু লাভ॥
লোকপাল সুবন্দিত, কাল সৃষ্টি অবিরত, গৌরব রাখয়ে বিপ্রগণে।
নিত্যনব্যরূপ বেশ, মনেহর কলি দেশ, নর্ম্ম কেলি মিত্র বৃন্দ সনে॥
ইন্দ্রের নন্দন বন, গুণ জিনি বৃন্দাবন, সদা কৃষ্ণ য়াতে বিলসয়ে।
ইন্দ্রের নাশিলা গর্ব্ব, কালিমদ কৈল খর্ব্ব, বলে কংস সবংশে ঘাতয়ে॥
আত্ম কেলি বৃষ্টি করি, ভকত চাতকাবলি, পুষ্ট করে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।
বীর্য্য শীলা লীলা যত, আত্ম ঘোষ বাসী কত, আনন্দিত করে জনে জনে॥
কুঞ্জবাস কেলিগণ, সুধা করি নির্মঞ্ছন, রাধিকা তোষণ করে যাতে।
করে নানা পরিহাস, রাধা সহচরী পাশ, সখীগণ সন্তোষ করিতে॥
কৃষ্ণ প্রেম শীল কেলি, সুকীর্ত্তি মোহন মেলি, বিশ্ব চিত্ত চন্দন সমানে।
করি রাস কেলি খেলা, নিজ শুদ্ধ ভক্তি মেলা, দেখাইল শুদ্ধ বক্তগণে॥
রূপ বেশ চিত্র ঠাম, মন্মথ মন্মথ নাম, বহয়ে লাবণ্য রূপ রাশি।
আপন নয়ন কোণে, যত ব্রজাঙ্গনা গণে, ভাব বৃন্দ হৃদি পরকাশি॥
রাই পুষ্প উঠাইতে, কৃষ্ণ তারে পরশিতে, তৃষিত হৃদয় হয়ে যায়।
রাই প্রেম বাম্যমুখ, সুরম্য নয়ন সুখ, দেখি কৃষ্ণ কোটি সুখ পায়॥
রাই বক্ষ সুচন্দনে, কৃষ্ণ অঙ্গ বিলেপনে, যে আনন্দ তার নাহি ওরে।
বল্লবেশ সুচন্দন, চরণ কমল ধন, দাস্য দান করহ আমারে॥
শ্রীরাধিকা সুবল্লভ, লক্ষ্মী আদি সুদুর্ল্লভ, যেই ইহা সদা পান করে।
রাধা কৃষ্ণ সঙ্গানন্দ, বৃন্দাবনে সখীবৃন্দ, সঙ্গে দোঁহা পদ সেবাচরে॥
অনন্ত মহিমা গুণ, রূপেত না হয় ঊন, কেবা পারে করিতে বর্ণন।
দিগ মাত্র দেখাইতে, কিছু প্রকাশিল ইথে, কহে দাস এ যদুনন্দন॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
স্বর্ণপদ্ম কুঙ্কুমাক্ত গর্ব্বহারী গৌরদীপ্ত
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৭শ সর্গের পদ, ২১৩-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ পুনর্যথা রাগঃ॥

স্বর্ণপদ্ম কুঙ্কুমাক্ত, গর্ব্বহারী গৌরদীপ্ত, গোরোচনা গঞ্জন রাধিকা।
কর্পূরাব্জ গন্ধ বৃন্দ, কীর্ত্তি নিন্দি অঙ্গ গন্ধ, গোবিন্দ বাঞ্ছিত সুরাধিকা॥
বন্দো রাধা রূপ গুণ গণে।
অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড মাঝে, যত লক্ষ্মাগণ আছে, মাগে যার পদ গুণ কণে॥ ধ্রু॥
চন্দন উত্পল চন্দ্র, করে শীতল ছন্দ, জিনি স্নিগ্ধ রাধা নিতম্বিনী।
কৃষ্ণ আত্মস্পর্শ দেই, কামতাপ বিনাশই, কৃষ্ণ সূখী করে সুবদনী॥
বিশ্ব সতী বনিদিযারমা, সে নহে যাহার সমা, রূপ নব্য যৌবন সম্পদা।
শীল অতি মনোহরা, সুশীল অধিক তরা, নাশে কৃষ্ণ কামতাপ সদা॥
রাসে নৃত্য সুসঙ্গতা, নর্ম্ম কলা সুপণ্ডিতা, প্রেমরস রূপ যে অধিকা।
সদ্গুণাদি সুমণ্ডিতা, বিশ্ব নব্য সুযোজিতা, গোপী বৃন্দ নিযোজে অধিকা॥
স্বেদ কম্প কণ্টকাদি, অস্রু হর্ষ গদ্গদাদি, হর্ষ বাম্য বাব বিভূষিতা।
নানা রত্ন অঙরণ, প্রতি অঙ্গে বিধারণ, কৃষ্ণ নেত্র করয়ে তুষ্টিতা॥
কৃষ্ণবৃত্তি সর্দ্ধক্ষণে১, দৈন্য সচাপল্য গণে, ভাব বৃন্দ রহয়ে মোহিতা।
যত্ন লব্ধ কৃষ্ণ সঙ্গ, নানান বিলাস রঙ্গ, করি শীঘ্র না হয় নির্গতা॥
এইত রাধিকা গুণ, যেবা গায় অনুক্ষণ, সেই জন পায় সে চরণ।
শৈলজাদি নারীগণ, দুর্ল্লভ যে সব ধন, রাধাকৃষ্ণ চরণ সেবন॥
সঙ্গে সব সখীগণ, রাধাকৃষ্ণ সুসেবন, করয়ে বা করয়ে শ্রবন।
বৃন্দাবন মাঝে রহে, এ যদুনন্দন কহে, হয়ে দোঁহা দাসের ভজন॥

১ - “সর্দ্ধক্ষণে”-ই দেওয়া রয়েছে।

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পঢ কীরাভীর বীর নীরদাভ তনু ধীর
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৮শ সর্গের পদ, ২১৪-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগঃ॥

পঢ কীরাভীর বীর, নীরদাভ তনু ধীর, গিরীন্দ্র ধরিল রসরাজে।
সদা যেই কুণ্ড তীরে, মনোহর সুকুটিরে, বিলসয়ে সুমোহন রাজে॥
কহ রস কল্পতরু শ্যাম।
অপাঙ্গ ইঙ্গিতে কহ, কুলবতী উনমত, ব্রজনারী কলঙ্কের ঠাম॥ ধ্রু॥
সুসদ্গণ মণি মূল, তরুণী মাদক পূর, সুমধুর মধুর অধরে।
সুন্দর শেখরবর, শুচি রস সুসাগর, ব্রজকুল নন্দন নাগরে॥
অঘ বক শকটক, ভব ভয় বিনাশক, কমলজ পদ হর পদে।
চরণ কমল দল, প্রণত শরণ ফল, রঢ় খগ জয় জয় নাদে॥
সুন্দর নূপুর ধ্বনি, কলহংস ধ্বনি জিনি, সর্ব্বগুণ গম্ভীর মুরারি।
সুরারি গণের বীর, পর্ব্বত ধারণ ধীর, হীরা হারে কণ্ঠের মাধুরি॥
বিহরে কালিন্দী জলে, অতি রস সুকল্লোলে, সুমত্তবারণ রসরাজে।
রমণী করিণী সঙ্গে, মোহন বিলাস রঙ্গে, গিরি কুঞ্জ মন্দিরে বিরাজে॥
বিলাস অমৃত সিন্ধু, তরঙ্গের এক বিন্দু, ত্রিভুবন পরশে মাতায়।
চঞ্চল কুণ্ডল যুগ, সে গোবিন্দ পদযুগ, চিন্ত কীর দীপ্ত রসকায়॥
কহ কৃষ্ণ সুধাসার, সর্ব্ব সুখ মায়াগার, ব্রজ নারীগণ প্রাণ সম।
এ যদুনন্দন মনে, বিচার করিয়া গণে, তেঞি লাগি তুয়া এত ভ্রম॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কৃষ্ণ কহে শুন শারী স্তব কর মনোহারী
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৮শ সর্গের পদ, ২১৬-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ পুনর্যথা রাগঃ॥

কৃষ্ণ কহে শুন শারী, স্তব কর মনোহারী, বারিজ বয়নি ধনী রাধে।
জগন্নারী গর্ব্বহারী, গুণদাত্রী সুকুমারী, কৃষ্ণপ্রিয়া সাধে কৃষ্ণ সাধে॥
সখি হে সকল রমণী মণি রাই।
প্রিয়াগণ কত মোর, তাহাতে নাহিল ওর, সবা হৈতে যেহ অধিকাই॥ ধ্রু॥
সুনাগরী সুরাধিকে, কৃষ্ণ চিত্ত মরালিকে, কহ শারী ধনী তুহুঁ ধন্যা।
ত্রিজগত্তরুণী শ্রেণী, কলা শিক্ষা শিষ্যমানি, ভুবন ভরিল যশবন্যা॥
সব গুণমণি খনি, প্রেমসুধামণি ধনী, ত্রিভুবন মধ্যে সাধ্বীবন্দ্যা।
ভুবন পূজিতা ধনী, বৃন্দাবন রাজরাণী, লক্ষ্মী জিতি স্বয়ং লক্ষ্মী ছন্দা॥
সর্ব্ব সল্লক্ষণময়ী, সুসদ্গুণ সুসঞ্চয়ী, অন্যে প্রণয়ী নিরমলা।
অজিত কমল বশ, হেন প্রেম সুধারস, স্বয়ং লক্ষ্মী আর সব কলা॥
রাসে নৃত্য বেশ হাস, সত্কলাদি গুণারাস, প্রেম নব্য রূপ ভব্য ধনি।
বল্লবী গণের ঈশ, নাগরেন্দ্র অহর্নিশ, পুরে বাঞ্ছা রাধা গুণমণি॥
ধরাধর ধারী ধর, ধুরন্ধর বর বর, ধরি ধরি রাধার অধরে।
নিজাধর ধরি ধরি, নিজ বাঞ্ছা পূর্ণ করি, অনুক্ষণ ভাবয়ে অন্তরে॥
কুণ্ডতীরে তীরে নীতি, করিতে একত্র স্থিতি, ভ্রমে কৃষ্ণ রাইর লাগিয়া।
তীরে তীরে গান করে, না পাইলে প্রাণ পুড়ে, পঢ় শারী এসব কহিয়া॥
কহ রাই কৃষ্ণ প্রাণ, রাই কৃষ্ণের দুনয়ন, রাই কৃষ্ণ গলে চম্পুমালা।
এ যদুনন্দন মনে, কহে এই নহে আনে, যাতে রস সুরঙ্গ ধরিলা॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধাকৃষ্ণ পাশা খেলে নিজ চিত্ত কুতূহলে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৮শ সর্গের পদ, ২১৭-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগঃ॥

রাধাকৃষ্ণ পাশা খেলে, নিজ চিত্ত কুতূহলে, পণ কৈল সুরহ্গ হরিণী।
পহিলে গোবিন্দ জিনে, বটু আনন্দিত মনে, বান্ধি লৈয়া রাখে সে হরিণী॥
সখিহে দেখ দেখ রাধাকৃষ্ণ রঙ্গে।
পাশাটি ধরিয়া করে, নিজ জয় বাঞ্ছি ডারে, তনু ভরে আনন্দ অন্তরে॥ ধ্রু॥
রাধাকৃষ্ণ খেলে পুনঃ, মুরলী পাশক পণ, দ্বিতীয়া জিনিলা সুবদনী।
আনন্দে ললিতা যাঞা, কৃষ্ণ হাতে হতে লৈয়া, লুকাইয়া রাখে বংশী আনি॥
কৃষ্ণ রাধা পুনর্ব্বার, খেলে পুনঃ দুহুঁ হার, হেন কালে বটু মথ্যা করি।
কৃষ্ণ উপদেশে দানে, জিনিবার অনুষ্ঠানে, কহে কৃষ্ণ মার এক শারী॥
কলোক্তি শারিকা শুনি, ভয়ে কহে ঠাকুরাণী, বৃক্ষ শাখা আগে উড়ি যায়।
রাধাকৃষ্ণ তাহা দেখি, কৌতুকে মিলিয়া আঁখি, হাসে সবে আনন্দ হিয়ায়॥
হাসে কোলাহল রসে, সব সখীগণ হাসে, হেনকালে কৈতবী স্রীহরি।
হীন দানে পাশা মারে, হাসি কৃষ্ণ ডাকি বলে, জিনিলাম দেখহ বিচারি॥
তাহা শুনি সুনয়নী, দান পেলে মনোমানি, কৃষ্ণ পাশা সে দানে বান্ধিলা।
পাশা বান্ধি হাসে ধনী, কহয়ে জিনিল আমি, দেখিয়া ললিতা সুখী হৈলা॥
কৃষ্ণ হার লৈতে ধনী, পসারয়ে নিজ পাণি, কৃষ্ণ কর বারে নিজ করে।
বটু কুন্দলতা সনে, সুবল আর সখীগণে, হাস্য সহ বদাবদি করে॥
বৃন্দা নান্দীমুখী মাঝে, কহে মধ্যস্থের কাজে, অন্য চিতে কিছু দেখি নাই।
সাম্য হও দুই জনে, হার রহু দুহুঁ স্থানে, পুনঃ খেল কলহ ঘুচাই॥
চতুর্থে রাখিলা পণ, নিজ সহচরী গণ, রাধিকার জয় অনুমানি।
বটি শশঙ্কিত হিয়া, চালে পাশা শঙ্কা পাঞা, দোবিন্দের হীন দান জানি॥
জিনিল জিনিল কহি, এক কৈল পাশা দুই, দেখি রোষ কৈলা সখীগণে।
বটুকে বন্ধন কাযে, সব সখীগণ সাজে, অত্যন্ত কলহ বটি সনে॥
পাশা রহু কৃষ্ণ কহে, চালিতে কলহ হয়ে, প্রবর্ত্ত হওত খেলা দায়।
কিবা পেল তুমি দান, আমি পেলি মনোমান, দান মধ্যে জয় পরাজয়॥
বিত্তি বিদু দুই চারি, দশ বামঞ্চাদি করি, এই পঞ্চ দান যে তোমার।
পাচতি চৌপঞ্চ আর, সদা দোয়া চারি সার, দূতী আদি বিষমা আমার॥
যে দান পড়য়ে এবে, যেই জন জিনে তবে, তত অঙ্গ সেই জন লইবে।
এই সব পণ করি, খেলা আরম্ভিলা হরি, ব্রমে এই পণ কৈলা সবে॥
রাই ফেলাইয়া দান, পড়িল সে দশ নাম, দেখি হাসে সব সখীগণ।
বিষণ্ণের প্রায় হরি, কহে রাই মুখ হেরি, জিনিলেত লও নিজ পণ॥
বাহু বাহু কর এক, বুকে বুকে পরতেক, করে কর অধরে অধর।
গণ্ডে গণ্ডে এক কর, মোর ওষ্ঠে এষ্ঠ ধর, মুখে মুখ কর আপনার॥
এতশুনি হাসি ধনী, কুন্দলতা প্রতিবাণী, কহে শুন সখী কুন্দলতা।
খেলিতে জিনিল আমি, জিত দ্রব্য লও তুমি, করি নিজ সঙ্গের সঙ্গতা॥
তবে কৃষ্ণ পেলে দান,পড়িল চৌপঞ্চ নাম, হরষিতা কুন্দলতা কহে।
কৃষ্ণ জয় লেশ পায়ে, মহা মহৌত্সুক হৈয়ে, অতি গর্ব্ব বাণী প্রকাশয়॥
নয়ন যুগল আর, কপোল যুগলে ভাল, কুচযুগ দন্ত বাস মুখে।
নিজাধর ওষ্ঠ দিয়া, এই অঙ্গ পরশিয়া, নিজ পণ লও তুমি সুখে॥
রাধিকার দশ দান, আছে কুন্দলতা স্থান, ললিতা ক হয়ে তাহা জানি।
চৌরঞ্চ তোমার দান, শুন কৃষ্ণ মনোমান, কুন্দলতা স্থানে লও তুমি॥
তবে যে রহিল এক, পাছে হবে পরতেক, কোন দানে শোধ দিবে তায়।
শুনি হাসে সখীগণ, কুন্দলতা আনমন, এইমত নানা রঙ্গ হয়॥
শুনি কুন্দলতা বলে, ললিতা কপোল মূলে, সে দান রাখিয়া আছি আমি।
শুন কৃষ্ণ যত্ন করি, আপন অধর ধরি, নিজ পণ লও বলে তুমি॥
শুনি কুন্দলতা বাণী, হরষিত ব্রজমণি, ললিতা চুম্বন মুখী হৈলা।
হেনকালে আসি ধনী, সুদর্শ বামঞ্চ বাণী, কহিয়া পাশাটী পেলাইলা॥
শুনি কৃষ্ণ ছল করি, যে আজ্ঞা তোমার বলি, বাম গণ্ডেললিতা দংশয়।
বিমুখী ললিতা অতি, সেই কুন্দলতা প্রতি, ক্রোধিত হইয়া অতিশয়॥
তবে কৃষ্ণ রাই প্রতি, কহেন আনন্দ মতি, খেলাতে জিনিল দেও পণ।
এত কহি নিজ মুখে, ধরি রাই মুখ সুখে, অতিশয় করেন চুম্বন॥
চঞ্চল নয়ন ধনী, ভর্ৎসে গদ গদ বাণী, সস্মিত রোদন মিশ্র তাতে।
কুটিল ভুরুর ভঙ্গী, কৃষ্ণ তাহা দেখি রহ্গী, নিবারে ধনী কৃষ্ণ কর হাতে॥
নানান প্রবন্ধ করি, পাশা খেলি শ্রীহরি, পরম প্রেয়সী করি সঙ্গে।
হাস পরিহাস রসে, অমৃত সাগরে ভাসে, এ যদুনন্দন কহে রঙ্গে॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রণমহো যশোদা সুত হার গলে অদভুত
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন
দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৯শ সর্গের পদ, ২২৯-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে
মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি
স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”।

॥ যথা রাগঃ॥

প্রণমহো যশোদা সুত, হার গলে অদভুত, গুণ গণ উত্তম আলয়।
অপার করুণাসিন্ধু, অতিশয় দীনবন্ধু, বিহর করয়ে রসময়॥
দাতা কল্পতরুবর, খলশ্রেণী প্রাণ হর, নির্ব্বিকার সুন্দর শরীরে।
অনন্ত নিকুঞ্জ স্থানে, প্রকাশয়ে সুখ ধামে, নিতুই বসন্ত সেবা করে॥
সখা সনে প্রীতকর, কুন্দসম দন্তধর, মখাম্বুজে সুধাময় হাস।
আমারে করুণা কর, শুন অয়ে মুর হর, কৃপাদৃষ্টে কর পরকাশ॥
দিনান্তে নিশান্ত বনে, কর গমনাগমনে, বিভাবয়ে মহান্তের গণে।
দুষ্টে কালরূপ তুমি, শিষ্ট শান্ত শীত ভূমি, স্তুতি করি তোমার চরণে॥
সুধেনু সুবেণু শীল, সুশান্ত সুকান্ত নীল, সুকেশ সুবেশ মনোহরে।
সুবেশ সুচিত্র নাট, সুমিত্র সহিতে ঠাট, প্রণাম করিয়ে মহীতলে॥
অঘারি মুরারি ধীর, বক অরি মহাবীর, ইন্দ্র গর্ব্ব কৈলে তুমি চূর।
গিরিধর বরষায়ে, নিদানে শঙ্কর তারে, অপার বিহারে নাহি ওর॥
প্রবীণ অসুর মার, গষ্ঠী মহিমাধর, প্রতিষ্ঠাতে ভরল ভুবন।
দেবগণে সৃষ্টি সার, বলিষ্ঠ ধনিষ্ঠ আর, গুণগণেকে করু গণন॥
গিরীষ্ঠে সুমেরু সম, পটু হৈতে পটু তম, সুচরিত্র তীর্থ পবিত্রায়।
খলারি ছেদক হরি, ভবাব্ধি তারণ তরী, সজ্জন হৃদয় সুখময়॥
নাশ সব দ্বেষীগণ, সুমিত্র প্রণত জন, বিচিত্র প্রভাব কেবা জানে।
গোধন চারণ রঙ্গী, সুমিত্র করিয়া সঙ্গী, নানা লীলা করহ সৃজনে॥
ত্রৈলোক্য রাখিতে মন, খল কৈলা বিধ্বংসন, কৃপাদৃষ্টি কর আমা প্রতি।
এইরূপে দেবগণ, করে নানা স্তবন, শুনি কৃষ্ণ সুখ পাইল অতি॥
কৃপাদৃষ্টি কৈলা তারে, দেখি সবে ভূমে পড়ে, প্রণাম করিয়া দেবগণ।
এ যদুনন্দন ভণি, লীলার সঙ্কোচ জানি, লুকাইয়া করে দরশন॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর