| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| গোধূলি ধূষর গায় বন্য গুঞ্জামালা তায় ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ১৯শ সর্গের পদ, ২৩৪-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”। ॥ যথা রাগঃ॥ গোধূলি ধূষর গায়, বন্য গুঞ্জামালা তায়, চঞ্চল অলকা পিচ্ছ কেশ। দল যষ্টি শৃঙ্গ বেণু, সর্ব্বত্র লাগিল রেণু, অদভুত সবে গোপ বেশ॥ আইসে কৃষ্ণ গোকুল ভুবনে। সখাগণ করি সঙ্গে, অনেক করিলা রঙ্গে, আগে করি সব ধেনু গণে॥ ধ্রু॥ কৃষ্ণের নয়ন জোর, বিপুল শ্রবণ ওর, তাহাতে চাপল্য অরুণিমা। মনোহর পদ্ম তাতে, যাহাতে যুবতী মাতে, সে শোভার নাহিক উপমা॥ ভ্রমণ করিতে বন, তাতে হইয়াছে শ্রম, অঙ্গ কান্ত্যামৃত বরিষণে। সিক্ত কৈলা সর্ব্ব জন, নয়ন চকোরগণ, তৃপ্ত হৈয়া তাহা করে পানে॥ মুখাব্জ মাধুরী সীমা, তাতে শ্রম জলকণা, গণ্ডে নাচে মকর কুণ্ডল। মুখে হাস্যমৃত লেশ, ভুলায় গোকুল দেশ, কুন্দফুলে ভরে ব্রজস্থল॥ বংশীধ্বনী সুমাধুরী, ঘুরায়ে গোকুল নারী, ব্রজ সিঞ্চে অমৃতের কণা। আপন বিচ্ছেদানলে, পোড়াইলা ব্রজস্থলে, দেখি হৈল অনেক করুণা॥ কৃষ্ণ জলধর মালা, বরিষয়ে সুধাধারা, দশদিশে মুরলীর গান। শুনি সব ব্রজবাসী, আনন্দ সাগরে ভাসি, সুধারসে করিলা সিনান॥ কৃষ্ণ আগমন রাজ, সখা সেনাপতি সাজ, শৃঙ্গ বংশী কোলাহল হৈল। সরভীগণের রেণু, ধ্বজচয় সঙ্গে জনু, আসি যবে দূরে দেখা দিল॥ ব্রজের বিরহরাজ, দস্যুসম যার কায, দেখি শুনি বহু শঙ্কা পাইল। তানব দীনতা চিন্তা, ভয়োদ্বেগ সুজড়তা, সেনাপতি লঞা পলাইল॥ মেঘমালা ধূলি জাল, বংশী গানামৃত সার, হম্বা রব শব্দগণ তার। বর্ষা কৃষ্ণ আগমন, দেখি যত ব্রজ জন, ধায়ে সব চাতকের জাল॥ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তার দাস দাস প্রভু, তাঁর কন্যা শ্রীল হেমলতা। তাঁর পাদপদ্ম আশ, এ যদুনন্দন দাস, গায় কৃষ্ণ আগমন গাঁথা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সায়ংকালে সুধামুখী অন্তরে হইলা সুখী ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ২০শ সর্গের পদ, ২৩৯-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”। ॥ যথা রাগঃ॥ সায়ংকালে সুধামুখী, অন্তরে হইলা সুখী, আপনার সখীগণ লৈয়া। গোবিন্দের কারণ, নানা উপহারগণ, পাঠাইলা যতন করিয়া॥ তারা ব্রজেশ্বরীকে দিয়া, গোবিন্দেরে খাওয়াইয়া, শেষ লৈঞা আইলা রাই স্থানে। রাই কৃষ্ণ শেষ পাইয়া, নিজ সখীগণ লৈয়া, সুখে কৈল অমৃত ভোজনে॥ কৃষ্ণ করে সায়ংসিনান, রম্য বেশ মনোরম, ব্রজেশ্বরী করেন লালন। আম্র নারিকেল যত, আর পক্কান্নাদি কত, ভুঞ্জি কৈল গোষ্ঠেরে গমন॥ করে গো দোহন লীলা, নানান কৌতুক খেলা, পুনঃ আইলা আপনার গৃহে। পরমান্ন ব্যঞ্জন ভুঞ্জে, পিতা মাতা মনোরঞ্জে, সায়ং লীলা স্মরয়ে হিয়ায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সন্ধ্যার সময়ে রাই সখীগণ এক ঠাঞি ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ২১শ সর্গের পদ, ২৪৮-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”। ॥ যথা রাগঃ॥ সন্ধ্যার সময়ে রাই, সখীগণ এক ঠাঞি, বেশ করে অভিসার কাযে। সিত আর অসিত নিশা, যোগ্য বেশ রচে দিশা, সাজে ধনী মনোহর নিজে॥ বৃন্দাদেবী উপদেশে, চলিলা মোহন বেশে, যমুনার তীরে সখী সঙ্গে। কল্পবক্ষ কুঞ্জবন, স্থান অতি মনোরম, পাইলা ধনী কৃষ্ণ সঙ্গ রঙ্গে॥ গোবিন্দ প্রদোষ কালে, গোপ সভা আসি মিলে, গুণি কলা কৌতুক দেখিলা। নানান কৌতুক দেখি, কৃষ্ণ হৈল মহাসুখী, তা সবারে বহু দান দিলা॥ মাতা অতি যত্ন করি, সভা হৈতে আনে হরি, দুগ্ধ ভুঞ্জাইয়া শোয়াইলা। ক্ষণেক সুতিয়া কৃষ্ণ, অন্তরে বাঢ়িল তৃষ্ণ, অলক্ষিতে সেই কুঞ্জে গেলা॥ রাধাকৃষ্ণ দরশন, আনন্দে ভরল মন, নানা ভাব ভরে দুহুঁ গায়। সখী সঙ্গে পরিহাস, রসময় সুবিলাস, স্মরে সেই আপন হিয়ায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখিয়া উজোর রাতি চিত্ত মনোমথ মাতি ভণিতা যদু কবি যদুনন্দন দাস পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ২১শ সর্গের পদ, ২৫১-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”। ॥ যথা রাগঃ॥ দেখিয়া উজোর রাতি, চিত্ত মনোমথ মাতি, সঙ্গে সমবয়াঃসখীগণে। কৃষ্ণ অভিসার কাযে, চলিলা সঙ্কেত কুঞ্জে, রাধা সুধামুখী বৃন্দাবনে॥ সখী হে দেখ দেখ রাই অভিসার। চান্দের কিরণ তনু, ডুবিয়া চলিলা জনু, চিনিতে শকতি হয় কার॥ ধ্রু॥ বয়স কিশোরী ধনী, তপত কাঞ্চন জিনি, বরণ বসন সিত সাজে। কৃষ্ণ প্রেম ভরে ধনী, মন্থর গমন জানি, তাহা গেরি গজ পায়ে লাজে॥ প্রতি অঙ্গে প্রতি ক্ষণ, প্রতিবিম্ব অনুপম, ঝলকয়ে যেন সৌদামিনী। পদযুগ যাহা ধরে, কত কত রুহ ভরে, হাসিতে খসয়ে মণি জানি॥ কঙ্কণ ঝঙ্কণ কাযে, মনোমথ পায়ে লাজে, নয়ন ধুনন মনোহরে। যেখানে নয়ন পড়ে, কুবলয় বন ভরে, কটাক্ষে বরিষে কামশরে॥ তরু ছায়া যাঁহা হেরে, লোক অনুমান করে, ভীত হৈয়া মন্দ মন্দ যায়। বংশীবট তটস্থলে, সখী সব আসি মিলে, ব্রজভূমি সেবন করয়॥ হৃদয় কমলোপরি, রাইর চরণ ধরি, যমুনার তটে লৈয়া গেলা। জানুদঘ্ন জল তার, হর্ষে ধনী হৈলা পার, পার হঞা সঙ্কেত পাইলা॥ জয় প্রভু শ্রীচৈতন্য, শ্রীগোপাল ভট্ট ধন্য, জয় জয় আচার্য্য ঠাকুর। মোর প্রভু জয় জয়, স্রী ঠাকুজ্ঝি মহাশয়, যদু যার উচ্ছিষ্ট কুক্কুর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| উদয় করিলা শশী শোভে অতি জ্যোত্স্না রাশি ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ২২শ সর্গের পদ, ২৬৬-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”। ॥ যথা রাগঃ॥ উদয় করিলা শশী, শোভে অতি জ্যোত্স্না রাশি, জগত আহ্লাদশীল সার। প্রেমোদা হৃদয়ে কাম, বাঢ়ইতে সুধা ধাম, রাধা অনুরাধা সুধাসার॥ সখীহে রাই কানু বিলসয়ে রাসে। প্রতি তরুলতা তলে, রাসের হিল্লেলে বুলে, গান নৃত্য পরিহাস রসে॥ ধ্রু॥ গোবিন্দ সুশীল অতি, আহ্লাদেও বন ততি, বাঢ়য়ে যুবতী হৃদি কাম। রাধিকা ললিতা সঙ্গে, বিলাস করয়ে রঙ্গে, সুশোভা অধিক কান্তি ধাম॥ প্রফুল্ল মাধবীলতা, পুন্নাগেন সুবেষ্টিতা, বিরাজয়ে গহনের মাঝে। সজ্যোত্স্না রজনী অতি, বিরাজয়ে কান্তি ততি, তাতে বৃক্ষলতা পুষ্প সাজে॥ বন মাঝে কৃষ্ণচন্দ্র, সঙ্গে নিতম্বিনী বৃন্দ, বিলসয়ে সজ্যোত্স্না রজনী। বসন্ত মাধবীলতা, সঙ্গে হৈল প্রফুল্লিতা, বিশ্ব চিত্তে আনন্দ বর্দ্ধিনী॥ মাধবের আলিঙ্গনে, মাধবী আনন্দ মনে, তাহাতে মাধব হরষিত। দেখিয়া দোহাঁর শোভা, মদন অন্তরে লোভা, বিশ্ব নেত্র করে আনন্দিত॥ প্রফুল্ল মাধবী মাল, কাঞ্চন যূথিকা ভাল, প্রফুল্ল হইয়া বেঢ়ে তায়। দেখিয়া সুন্দর শোভা, পরিমলে হৈয়া লোভা, ব্রমরী ঝঙ্কৃতি হঞা ধায়॥ প্রফুল্ল গোবিন্দ অঙ্গ, রাধিকা প্রফুল্ল সঙ্গ, শোভা দেখি সব সখীগণ। আনন্দে মগন মন, গুণ গায় সখীগণ, সমর্পণ করে কায় মন॥ নব পদ্মগণ সঙ্গে, ভ্রমরা বিলাসে রঙ্গে, গান করে মদন নিদেশে। মধুপানে মত্ত হঞা, হৃদয় মদন লৈয়া, এইরূপে রজনী বিলাসে॥ গোবিন্দ পদ্মিনী লৈয়া, মদন পূরিত হিয়া, রঙ্গে বিলসয়ে সব রাতি। করে নানাবিধ গান, মনমথ মুরছান, আনন্দে ভরয়ে সব মতি॥ রজনী রমণী বর, সব অন্ধকার হর, দেখি পদ্ম কুমুদ বিকাশে। গগণ অসিত ঘন, সিত জ্যোত্স্না সপূরণ, পরিমলে ভরি অলি ভাসে॥ দেখি বন শোভা ছন্দ, সঙ্গে করি কান্তা বৃন্দ, ভ্রমরা বেষ্টিত চারিপাশে। নানামত গান করি, এরূপে বিহরে হরি, আনন্দ সমুদ্রে সদা ভাসে॥ প্রতি বৃক্ষতলে তলে, ভ্রমণ করিয়া বুলে, তবে কৃষ্ণ যমুনার তীরে। গেলা বংশীবট তলে, মণির কুট্টিমান্তরে, গায় যদুনন্দন বিরলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বৃন্দাবনে রাধা সঙ্গে গোবিন্দ বিলাসে রঙ্গে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস পঞ্চদশ শতকে, কৃষ্ণদাস কবিরাজের সংস্কৃতে রচিত “গোবিন্দ লীলামৃত” গ্রন্থের, ষোড়শ শতকে, যদুনন্দন দাস কৃত বঙ্গানুবাদের ২৩শ সর্গের পদ, ২৮৪-পৃষ্ঠা। কলকাতা থেকে ১৭৭৪ শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৫২ খৃষ্টাব্দে মুদ্রিত গ্রন্থ থেকে আমরা এই পদটি পেয়েছি। প্রকাশকের নাম জানা যায় না, কিন্তু গ্রন্থের শেষে প্রাপ্তি স্থানের উল্লেখে রয়েছে - “বটতলার উত্তরাংশে ৯নং দোকান অথবা আহিরীটোলা ৯নং বাটী”। ॥ যথা রাগঃ॥ বৃন্দাবনে রাধা সঙ্গে, গোবিন্দ বিলাসে রঙ্গে, মধুর অনন্ত লীলা গণে। নব নব ক্ষণে ক্ষণে, সু@@ল নেত্র মনে, কৈল মাত্র দিগ দরশনে॥ শ্রীরূপ লিখিত দিশা, দশ শ্লোকে অহর্নিশা, রাধাকৃষ্ণ কেলি মনোহর। তাহা আমি বিস্তারিল, চিত্তে যাহা উপজিল, বিস্তারিতে লীলা বহুতর॥ রাগাধ্বসাধকজনে, সেবাযোগ্য বপু মনে, শুনি ইহা করিবে স্মরণে। স্মরণে আনন্দ মনে, বপু কর্ণ রসায়নে, অতি লোভে মিলয়ে সেবনে॥ শ্রীরূপ শ্রীরঘুনাথ, পাদপদ্ম ভৃঙ্গনাথ, কৃষ্ণদাস সেই মধু আশ। গোবিন্দ লীলামৃত সার, গ্রন্থ কৈল সবিস্তার, সুমাধুর্য্য অমৃত নিরাশ॥ এসুধা যে করে পান, হৃদি তৃষা অবিরাম, পুনঃ পুনঃ বাড়য়ে আরতি। ব্রহ্মাদি দুর্লভ ভজে, রাধাকৃষ্ণ লীলা সে যে, দরশনে ধরিবে শকতি॥ বৃন্দাবন বিলাসিনী, কুমদিনী বৃন্দমণি, বন্ধু তারে করুণা করিয়া। তার মন বাঞ্ছা যত, পূর্ণকরু অবিরত, এ লীলা যে কান্দয়ে শুনিয়া॥ শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য পদ, অরবৃন্দ মধুমদ, স্রীরূপ মধুপ সেবা ফলে। শ্রীরঘুনাথ দাস, আদেশের পরকাশ, শ্রীজীব গোস্বামী সঙ্গবলে॥ শ্রীরঘুনাথ ভট্টবরে, গ্রন্থঃ ভেল সবিস্তারে, গোবিন্দ লীলামৃত কাব্য সার। ত্রয়োবিংশতি স্বর্গে, সম্পূর্ণ হৈল পরে, বিস্তরিতে অনন্ত অপার॥ কবি নহোঁ পণ্ডিত নহোঁ, তবু কৃষ্ণলীলা গাঙ, হাসিবেন বৈষ্ণব ঠাকুর। সেই হাস্যে মোর ত্রাণ। যাতে সপিয়াছঁ প্রাণ, ভয় লজ্জা সব গেল দূর॥ শ্রীগোবিন্দ সীসামৃত, অমৃত হৈতে পরামৃত, যেঁহ ইহা সদা করে পান। তাহার চরণ ধূলী, আপন মস্তকে করি, তার পদজল করি পান॥ চৈতন্য দাসের দাস, ঠাকুর শ্রীশ্রীনিবাস, আচার্য্যজা স্রীল হেমলতা। তাঁর পাদপদ্ম আঁশ, এ যদুনন্দন দাস, অম্বুষ্ঠ প্রাকৃতে কহে কথা॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |