কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
শুন হংস রাজ কৃষ্ণে কহ যায়
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৩০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। রূপ গোস্বামী রচিত “হংস দূত” নাটকের, যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত অনুবাদ গ্রন্থের পদ।

মাথুর
প্রোষিত ভর্তৃকা।

শুন হংস রাজ                                কৃষ্ণে কহ যায়
রাইরে দেখিবা যবে।
বিলম্ব ত্যজিয়া                                   চলহ ধাইয়া
তার দাসী সুন এবে॥
আর কি কহিব                                   শুনহ মাধব
শুনিয়া কীচক ধ্বনি।
লোটায় ধরণী                                  স্পন্দন বিহিনী
তোমার মুরলী মানি॥
তাহা দেখি তার                                গুরু পরিবার
আকুল হইয়া ধায়।
কেহ অনুমানি                                দেবাদেশ হৈল
কেহ কহে ফণি রায়॥

*        *        *        *        *        *        *

নব অমঙ্গল                                    লহরি ভরল
সম্প্রতি রাইর চিতে।
চিরদিন তুমি                                গেলা পুর ভূমি
বার্তাও না পায় যাতে॥
এরূপ দেখিয়া                              তোমা নিরখিয়া
কণ্ঠে বাহুলতা দিয়া।
তোমা আলিঙ্গএ                            যেন তোমা পাএ
পৃথিবীতে বৃক্ষ থুঞা॥
বক্ষে বক্ষে দেই                               তো মুখ চুম্বই
তোমা পাইয়াছে যেন।
সখী হিয়া ফাটে                              দেখিয়া নিকটে
জড়াকৃতি অচেতন॥
খেনেক নিবিড়                                ধেয়ানে ধরল
আপনাকে তোমা মানে।
তথাপি তাহার                              দুখ নাহি গেল
রাধার বিরহ তনে॥
রাধা রাধা বলি                            ডাকয়ে ফুকারি
সে ভাবে আপনা ফুরে।
পুন ভেল ধনি                               তুয়া বিরহিনী
খেনে কত বোল করে॥

ব্যাখ্যা -
পদটি মাথুর পদমধ্যে গণ্য। কৃষ্ণ মথুরা নগরে চলিয়া গিয়াছেন। শ্রীরাধা কৃষ্ণ বিরহে প্রায় হতচেতনা।
শ্রীরাধা প্রাণে বাঁচিবেন কিনা এই আশঙ্কায় সখীগণ চিন্তান্বিত। এই অবস্থায় শ্রীকৃষ্ণকে রাধিকা সমীপে
আনায়ন করা প্রয়োজন মনে করিয়া সখী ললিতা হংসরাজকে দূত করিয়া মখুরা নগরে শ্রীকৃষ্ণ সমীপে
প্রেরণ করিতেছেন, তিনি হংসদূতকে বলিয়া দিতেছেন যে কৃষ্ণকে বলিবে যদি রাইকে দেখিতে চাও তবে---
‘বিলম্ব ত্যজিয়া চলহ ধাইয়া’। আরও বলিতে হইবে যে শ্রীরাধা তোমার ধ্যানে মগ্ন হইয়া বিভ্রান্ত হইয়াছে।
বায়ু সংযোগে বাঁশে যে শব্দ হয় সেই শব্দকে তোমার বংশীধ্বনি মনে করিয়া তাহা শ্রবণ করিবার জন্য
স্পন্দন রহিত হইয়া ধরণীতে লুটাইয়া থাকে। গুরুজন তাহার এঅ শোচনীয় অবস্থা দেখিয়া ভাবিয়া আকুল
। ধরণী-বুকে বক্ষ স্থাপন করিয়া মনে করে যেন তোমাকেই বক্ষে ধারণ করিয়াছে। আবার কখন নিজেকে
কৃষ্ণ মনে করিয়া রাধা রাধা বলি ‘ফুকারি’ ডাকিতে থাকে। কিন্তু রাধার বিরহ কাতর দেহের দুঃখ
কিছুতেই দূর হয় না। পতি বা নায়ক দূর দেশে গেলে নায়িকার যে বিরহ বেদনা দেখা দেয় সেই নায়িকাকে
প্রোষ্ত ভর্তৃকা বলে।
---শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন”॥

.       *************************         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর