কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
মধুর বিরহে ধনি রাই
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৫৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ১ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

মধুর বিরহে ধনি রাই।
কৃষ্ণপাশে চলি যায়                                মন্থর গমন তায়
মণিহার সঘনে দোলাই॥ ধ্রু॥
নবীন যৌবন একে                             গৌর অঙ্গ পরতেকে
বিজুরী ঝলকে যেন ছটা।
নীল পট্ট পরিধান                                মুকুতা ঝালুরী ঠাম
ঝলমলি যেন কান্তি ঘটা॥
চাচর চিকুর কেশ                            তাহাতে চিত্রিত বেশ
বেণী বান্ধে রক্তবর্ণ ছাঁদে।
মল্লিকা মুকুতা তাতে                      শোভা অতি করে যাতে
যমুনা তরঙ্গ যেন চাঁদে॥
নাচয়ে খঞ্জন আঁখি                            তাতে এই মত দেখি
অতনুকে নাচিবারে কয়।
পথে ভৃঙ্গ মধু পিয়া                            আছে শাখা পসারিয়া
উড়ি যায় হেন শোভা হয়॥
লজ্জা শঙ্কাবেশ ভরে                              চঞ্চল সদাই করে
আঁখি অন্ত নব নিহারিণী।
কৃষ্ণ প্রতি যেন কত                               কুবলয় মালা যত
সদা করে সপদ্ম হারিণী॥
ললিতা বিশাখা আদি                             সখীগণ সঙ্গে সাধি
সমান বয়স রূপগুণ।
সুবর্ণ প্রতিমাগণ                                  করি তনু নির্ম্মঞ্চন
চাঁদে কোটি দামিনী শোভন॥
কোটি কাম মূর্চ্ছা পায়                             পদনখ চন্দ্র ছায়
অপাঙ্গ ইঙ্গিতে কৃষ্ণে মোহে।
এমন রূপের ঘটা                            কে বর্ণিতে পারে ছটা
এ যদুনন্দন দাস কহে॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রী গুরু চরণারবিন্দ কল্পতরু মহাকন্দ
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৬৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ১ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

॥ দীর্ঘছন্দ॥
বন্দনা ও নিবেদন

শ্রী গুরু চরণারবিন্দ                              কল্পতরু মহাকন্দ
বন্দ যাতে বাঞ্ছা পূর্ণ হয়।
যে পদ আশ্রয় মাত্র                               হয় কৃষ্ণ কৃপাপাত্র
অনায়াসে ভববন্ধ ক্ষয়॥
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য চন্দ্র                             বন্দ আর নিত্যানন্দ
বন্দ আর আচার্য্য অদ্বৈত।
বন্দ রূপ সনাতন                                করুণা পূর্ণিত মন।
জগতের গতি কৃপান্বিত॥
কন্দ শ্রীগোপাল ভট্ট                                আর রঘুনাথ ভট্ট
বন্দ আর রঘুনাথ দাস।
শ্রীজীব গোসাই বনিদ                             বন্দ আর রামানন্দ
আর বন্দ ব্রজে যার বাস॥
নর হরি সরকার                                  শ্রী রঘুনন্দন আর
বন্দ আর পণ্ডিত গোসাঞি।
গৌর পরিষদ গণ                                  আর যত ভক্তগণ
কৃপা করি পদে দেহ ঠাঞি॥
বন্দিব আচার্য্য প্রভু                                আমার প্রভুর প্রভু
বন্ধ আর তাঁর যত গণ।
দৃশ্যা দৃশ্য ভক্তগণ                                বন্দ সভার শ্রীচরণ
সভে কর কৃপাবলোকন॥
করি এক নিবেদন                               সাধ করে মোর মন
রায়ের নাটক লিখিবারে।
তোমরা করুণা কৈলে                        সে অর্থ অন্তরে স্ফুরে
মূক হয় শুক চরাচরে॥
রায় রামানন্দ পায়                                বহুত বিনতি তায়
অদভুত ভাবোদ্দেশ পাই।
তাঁহার করুণা বলে                             তাঁর গ্রন্থ হিয়া স্ফূরে
যাথে কৃষ্ণলীলা রস গাই॥
জগন্নাথ বল্লভ নাম                               গ্রন্থ অতি অনুপাম
তাঁর মুখোদিত প্রেম কথা।
মোরে কৃপা কর তেন                           সে লীলা স্ফূরয়ে যেন
এ যদুনন্দন গুণ গাথা॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কৃষ্ণ মুখ মনোহর যাতে সর্বচিত হর
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৬৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ১ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

কৃষ্ণ মুখ মনোহর                                যাতে সর্বচিত হর
অপূর্ব বর্ণন যাতে হয়।
সে মুখ দর্শন হৈতে                             গোপাঙ্গণা যুথে যুথে
নানা রীতে বিতর্ক করয়॥
কেহো কহে ছায়া নহে                         এই চন্দ্র জোস্না হরে
দেখিল ভুবন জোস্না যাতে।
প্রেম রস বরষিছে                               সুধাসিন্ধু উগারিছে
শীতল করিছে ত্রিজগতে॥
কোন ব্রজ নিতাম্বিনী                               চঞ্চল লোচন ধনি
কহে এই কৃষ্ণ আঁখি নয়।
চপল অম্বুজ দুই                                    খঞ্জন ভ্রমর যেই
কটাক্ষে অনঙ্গবাণ চয়॥
গোবিন্দের কর্ণদ্বয়ে                            দেখি কার ভ্রম হয়ে
কহে এই কামধনুর্গুণ।
ভ্রুকামান ধনু যনু                                      কর্ণ দুই গুণ
নাসা কাম তিন ফুলবান॥
এইমত নানা ভ্রম                                  করে সব গোপীগণ
কৃষ্ণ মুখ মণ্ডলি দেখিয়া।
দেখি সেই মুখ শশী                              রাখু সদা অহর্নিশি
ফুরে যদুনন্দের হিয়া॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোবিন্দ বদন ছলে চন্দ্রিকা উদয় কৈলে
ভণিতা যদুনন্দন দাস
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ১ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

গোবিন্দ বদন ছলে                          চন্দ্রিকা উদয় কৈলে
যাতে দেখি এই সব চিহ্ন।
হেরি নিতম্বিনীগণ                                হৃদি সিন্ধু উছালন
কাম ভাব যাতে পরধান॥
মৃগ দিশ চিত্ত যত                               কৈরবের বন মত
তারা আছে মঞ্জরী হইয়া।
সে বন প্রফুল্ল করে                              পরম উল্লাস ধরে
হেন মুখ চন্দ্র মোহনিয়া॥
বক্ষজ সমূহজন                                সে যে চক্রবাক গণ
তারা শোক সদা বিস্তারয়।
সেই কৃষ্ণ মুখ শশী                               হর্ষদেই অহর্নিশি
এ যদুনন্দন দাসে কয়॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সুন্দর বদন শোভা কোটি চন্দ্র মন লোভা
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৭২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ১ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

সুন্দর বদন শোভা                         কোটি চন্দ্র মন লোভা
গণ্ড দরপণ দুই তথা।
শ্রবণে মকরমণি                                কুণ্ডল সে সুদোলনি
রূচির রূচির শোভে যথা॥
সূত্র সেই কথা শুনি                               চকিত হইলা ভলী
কহে প্রিয় কনিষ্ঠ আমার।
কৃষ্ণ বৃন্দাবনে গেলা                               সব সহচর মেলা
আমরা হো সেই আনুসার॥
আপন উচিত বেশ                          করি আইসে সেই দেশ
ইহা কহি নাটক সূত্র যায়।
পরম আনন্দ হয়                                কৃষ্ণ অতি রয়ময়
এ যদুনন্দন সুখে গায়॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তোর রূপ পরিচয় নাহি তবু সুখী হয়
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ১ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

তোর রূপ পরিচয়                              নাহি তবু সুখী হয়
বৃন্দাবন দেখি তারা যেন।
ললিত কুসুম চয়                               বিকশিত অতিশয়
হাসে যেন তোমা দেখিতেন॥
মৃদুসুপবন চলে                               তাহাতে পল্লব চালে
যেন সেই হস্তগণ মেলি।
তোমাকে নাচিতে বলে                          রম উপদেশ স্থলে
এ যদুনন্দন বলিহারি॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পুন পুন কৃষ্ণ কহে শুন শুন সখা ওহে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৭৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ১ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

পুন পুন কৃষ্ণ কহে                                শুন শুন সখা ওহে
কোকিলগণের কণ্ঠধ্বনি।
মধুর হৈতে সুমধুর                               বহয়ে আনন্দ সুর
ধ্বনি হয় কর্ণরসায়নি॥
শুনি বিদুষক বলে                            শুন সখা কহি তোরে।
তোমার বংশী ধ্বনি মনোরম।
কোকিলের ধ্বনি জিনি                           সর্বচিত্ত বিমোহিনী
কো বা তার করিবে বর্ণন॥
সেই বংশী ধ্বনি হৈতে                           মোর কণ্ঠ শুনইতে
কি কহিব সে ধ্বনির কথা।
তুমি হ বাজাও বাঁশী                           শুনি সভে মহোল্লাসি
দেখি করে কত মাধুর্য্যতা॥
শুনি কৃষ্ণ চন্দ্র কহে                                শুন সখা এই হয়ে
তোমার যে ইচ্ছা তাহা হউ।
এত কহি যদু রায়                                 মোহন মুরলী বায়
কোকিল নীরব হই রহু॥
বিকশিত বৃন্দাবন                                  নাচে সব শিখিগণ
হইল বেনু শুনি।
শুনি বিদুষক কহে                                   শুনহ রহস্য ওহে
শুনিলাম তোমার বংশী ধ্বনি॥
মোর কণ্ঠ ধ্বনি শুনি                              মোহ হয় সব প্রাণী
কহিয়া চিত্কার করে ধ্বনি।
ধ্বনি করে বিদুষক                              অবলোকিত তবু সব
কহে সখা জিনিলাম আমি॥
মোর কণ্ঠ ধ্বনি হৈতে                            পিক গেল চারিভিতে
প্রাণ লয়া পলাইয়া সেই।
কিবা গর্ব কর সখা                             মোর বাণী শিলা রেখা
তাহা হৈল কহিয়াছে যেই॥
এই মত নানা লীলা                              সখা সঙ্গে নানা খেলা
গোবিন্দের বিলাস মাধুরী।
ভাব নাহি জানি কথা                             কাহাতে কেমন মতা
এ যদু নন্দন বলিহারি॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখিয়া পূর্ণিমা শশী কহে বহ্নি রাশি রাশি
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ২য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

দেখিয়া পূর্ণিমা শশী                           কহে বহ্নি রাশি রাশি
পোড়াইছে মোর তনু মন।
এতেক কহিলে কোপী                            রহে সভে তনু ঝাপি
তেতেঞি কহে মদন বেদন॥
সখিহে এতহু বেদনে ধনি রাই।
অভিনব প্রেমদাহ                                ব্যথা পায় হিয়া মাহ
বেকত করিতে কেহ নাঞি॥
কোকিলের ধ্বনি শুনি                             চমকিয়া হয়া ধ্বনি
কর্ণঝাপে দুই হস্ত দিয়া।
কহে কি যে বজ্রাঘাত                              জমাইছে উত্পাত
প্রাণ রাখি কেমনে করিয়া॥
সথীগণ পুছে যবে                                উত্তর না করে তবে
অবনত মুখী হয়া রহে।
মলয় পবন পাই                                    ঘর্ম পড়ে অঙ্গ মই
কহে কিবা বিষে সরাসয়ে॥
কারণ নাহিক জান                                  জল গলে সে নয়ন
অনুক্ষণ নাহি অবসর।
নিভৃতি সখীর কাণে                              কহে কথা অনুষ্ঠানে
না কহয়ে কি তার অন্তর॥
এই সব অনুষ্ঠানে                                   জানিলুত অনুমানে
যাহারে পীড়য়ে অতিশয়।
যার ব্যথা সেই জানে                               বচন কহয়ে আনে
অতএব কহিল নিশ্চয়॥
তুমি এবে যাবে কোথা                            কহে আপনার কথা
শুনি কহে অশোক মঞ্জরী।
আমিহ রাইর তরে                             যাই অতি ব্যথা ভরে
রাইর আদেশ শিরে ধরি॥
কহিয়াছে সুধামুখী                                 শুন মোর প্রাণ সখু
যাহ তুমি বৃন্দাবন মাঝে।
অভিনব পদ্ম দল                                 শয্যা অতি মনোহর
শুতিব সেই পুষ্প সেজে॥
অতএব তুমি জায়া                                    মৃণাল পদ্ম লয়া
ত্বরিত হি আনিবে এথায়।
সেই অর্থে আমি যাই                            পুষ্প আনি দিতে চাই
এ যদুনন্দন মনে ভায়॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন শ্যাম রায় এ যুক্তি তোমা সভায়
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৮৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ২য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

॥ যথারাগেন॥

শুন শুন শ্যাম রায়                           এ যুক্তি তোমা সভায়
নিবেদন করিয়ে সভায়।
অবলা মুগধী প্রাণ                                লইবার অনুষ্ঠান
করিয়াছ কেমন উপায়॥
তুমিত আমার প্রিয়া                           সুদৃঢ় জানিয়ে ইহা
দর্শন কি পাব এই বনে।
এ সব না দেখি যবে                       তোমার না দেখি তবে
মদন না দেখি কোন স্থানে॥
পত্র পড়্ কায় মনে                            কহে সেই অনুষ্ঠানে
অতি রাগ হইল ইহার।
ইহাতে জানিতে চাই                             উদাসীন প্রায় হই
কেমন হৃদয় রাগ তার॥
একমতে ভাবি শ্যাম                         আকার গোপয়ে কাম
প্রকাশ করিয়া কহে কথা।
সেই কথা শুনি সভে                            অপূর্ব আনন্দ পাবে
এ যদুনন্দন বিরচাতা॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কে বা সে মদন নাম বাড়ী তার কোন স্থান
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ২য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

কে বা সে মদন নাম                         বাড়ী তার কোন স্থান
অবলারে কেনে বিন্ধি মারে।
অবলার কিবা দোষ                         তবে কেনে করে রোষ
বিন্ধয়ে বড়ই দুষ্ট সরে॥
কংস রাজার কোন চর                           আইল ব্রজমণ্ডল
অবলারে বধ করিবারে।
কহিয়া সাটোপ করি                          কহে কৃষ্ণ পুন বেরি
কোথা সেই দেখাহ আমারে॥
আমার বাহুর বলে                          মারিব তাহারে হেলে
রাখিব অবলাগণ তাথে।
করিব নারী                                 আমাতে অবলা হেরি
সে করিব দুঃখ যায় যাতে॥
আমি এথা বিদ্যমানে                         কিবা ত্রাস গোপীগণে
স্বচ্ছন্দে থাকুক গৃহ মাঝে।
এ কথা কহিতে শ্যাম                           অকস্মাৎ সেই স্থান
বিদুষক আইল অব্যাজে॥
আসি কহে কথা শুন                            কংসচর নহে পুন
মদন তাহার নাম হয়।
তত্স্মাৎ ব্রাহ্মণ আমি                       মোর কি করিবা তুমি
বল দেখি করিয়া নিশ্চয়॥
কৃষ্ণ কহে ধিক্ তুমি                         অতি মূর্খ জানি আমি
পরিহাস কি কাজ এথায়।
সময় জানিয়া কথা                            না কহ পাইয়া ব্যথা
দূর কর ভণ্ড ব্যবসায়॥
বিদুষক কহে পুন                               শশীমুখী কহি শুন
আমার অভক্ষ্য শ্যাম রায়।
লড্ ডুকা যুগল আনি                         সখা হস্তে দেই তুমি
তবে সেই করিব সহায়॥
এই সব কথা গণে                           প্রকাশিয়া সেইস্থানে
মদনিকা গুপ্তে থাকি তথা।
শুনে সব বার্তাগণ                         আনন্দে ভরিয়া মনে
এ যদুনন্দন মতিমাতা॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর