| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রাধারূপ গুণ কত সখী কহে যত যত ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৯০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ২য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। রাধারূপ গুণ কত সখী কহে যত যত তাহা শ্যাম শুনে কর্ণ পথে। পদ্ম মধু রাগ প্রায় পীয়ে কর্ণ অলি যায় শির ধুলাইছে মত্ত যাথে॥ গোবিন্দ হৃদয় কাম উদর যে মনোরম গোপন করিয়া কহে দিখি। স্বচ্ছন্দে স্বচ্ছন্দে মনে নহিলে এমন ভণে স্মিত রুচি মুখ প্রফুল্লাখি॥ তস্মাৎ রাধিকা প্রতি দেখি কৃষ্ণ রাগ অতি রাগের মাধুরী যাহে রহে। হউক হউক রাগ রাধার সৌভাগ্য ভাগ এ যদুনন্দন দাসে কহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শশী প্রতি রাগ কিয়েনলিনী অন্তরে রহে ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৯৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ২য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। শশী প্রতি রাগ কিয়ে- নলিনী অন্তরে রহে কভু নাকি শুনিয়াছ ইহা। রজনী কখন নাকি সূর্য্যকে বাচ্ছয়ে রতি অতিশয় বিনতি হইয়া॥ কূলের বণিতা যেই পরপতি ইচ্ছে সেই অতি পাপী বেদ নিরূপণ। অতএব শশীমখী বার গিয়া পদ্ম মুখী অনুচিত সেই কর মন॥ তিহো যদি কুলশীল লজ্জা ভয় না গণিল অন্যের তাহাতে কিবা খেতি। আমরা কি না দেখিব কঙ্কনাদি না শুনিব না লইবকে এত কুরিতে॥ এত শুনি শশীমুখী হৃদয়ে হইলা দুঃখী আইলেন রাধিকার পাশে। অপূর্ব অমৃত কথা পরামৃতা নন্দলতা এই গায় যদুনন্দন দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এ কুল বণিতা গণ কুল রক্ষা সদা মন ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ২৯৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৩য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। এ কুল বণিতা গণ কুল রক্ষা সদা মন এই তার সহজ আচার। তাহা আমি তৃণ প্রায় করিয়া সদাই তায় মনে কৈল গণিয়া বিচার॥ হরি হে হেন অমঙ্গল কার্য্য হৈল। বিধি বিড়ম্বনা করে সকল বিচার হরে বিধি মোরে এত দুঃখ দিল॥ ধ্রু॥ অল্ প্ বত্রশ মোর ইহাতে হৈল ভোর যুবতির হেন নহে ভাল। লজ্জা গেল ধর্ম গেল বিচার আচার গেল মোর দশা হেন কেনে হৈল॥ শশীমুখী কহে তব বৃত্তান্ত কহিয়ে সব আপনি বিচার কর তুমি। সকলি বিচার জান তোহে কি কহিব জ্ঞান সুবিচার করহ আপনি॥ শুনিয়া তাহার বাণী কহিতে লাগিলা ধনি যাতে মন অতি তাপ পায়। কি কহিব প্রেম কথা সকলি অমৃত গাথা এ যদুনন্দন দাসে গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| প্রেমাঙ্কুর হইল তাহারে ভাঙ্গিল ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩০০-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৩য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। প্রেমাঙ্কুর হইল তাহারে ভাঙ্গিল তাথে যত দুঃখ হয়। কৃষ্ণ তাহা জানে শঠতা মরমে বাহিরে না পর রায়॥ সখি হে না বুঝিয়ে বিধির নাট কাজ। সুখের আশয়ে দুঃখ প্রকাশয়ে জগৎ ভরিল লাজ॥ তবে যদি বল কেনে প্রেম কর তাহা কহি শুন এবে। যে পাপ পিরিতি তাহার কুরীতি স্থানাস্থান নাহি ভাবে॥ যে পাপী মদন সেহ আগেয়ান না জানি অবলা বলি। পাঁচ বাণ দিয়া বিন্ধে ক্ষীণ হিয়া প্রাণ করে কলকলি॥ আনের বেদন না জানয়ে সখী কহে ধৈর্য্য কর মতি॥ ধৈরজ করিতে যদি পারি চিতে তবে কি এমন করি॥ হিয়া কাটে যবে ডাকি কহে তবে কহিলে ধৈরজ ধরি॥ জীবন যে হয়ে বচন শুনয়ে কহিল না রহে তেঞি॥ শতবর্ষ সবে কখন কি হবে চপলা অবলা মুঞি॥ এই যে যৌবন দিন দুই তিন কৃষ্ণ ইচ্ছা করে যারে। সে যৌবন গেলে কি বা সে বাচিলে মরণ ভালই তারে॥ বিধি সে দারুণ অতি সকরুণ সকলি উলটা রীতি। কি করিব ইথে না পারি বুঝিতে এ যদুনন্দন রীতি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নিকুঞ্জ কুসুমময় বহয়ে সুগন্ধিচয় ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৩য় অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। নিকুঞ্জ কুসুমময় বহয়ে সুগন্ধিচয় প্রতিফুলে ঝরে মধুকণা। ব্যাকুল ব্রমরাবৃন্দ গুঞ্জরে মধুমন্দ বাড়াইছে মদন বেদনা॥ সকল দেখই দুঃখ দাই। পঞ্চশর অতিশয় পীড়া দেই হিয়াময় জীবন চঞ্চল করে যেই॥ অস্তাচলে গেল রবি চন্দ্রোদয় শৈল সেবি মন্দ মন্দ বহয়ে পবন। মলিনতা মধুকর করে অতি চঞ্চল আর কি বা কহিব বচন॥ অলিকুঞ্জে ভয়ঙ্কর মন্দ বায়ু প্রত্যাকর পুষ্পগন্ধে করে অতি ক্ষীণা। মত্ত পিক পীড়া দেই সুমধুর গান গাই অঙ্গ হৈল তুঙ্গ ভয়ে হীনা॥ মদনিকা কহে বাছা যে কহি সকল সাচা এই যে বকুল তরুবর। এই স্থানে থাক তুমি যাবত না আসি আমি লাগ পাই জানি এই স্থল॥ ইহা কহি সভে গেলা স্থানে স্থানে সভে মেলা যার যেই কর্ম আছে যথা। এ যদুনন্দন কয় গ্রন্থ হয় রসময় অমৃত হইতে পরামৃত গাথা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অনঙ্গ সমুদ্র মাঝে যে জন পড়িয়া আছে ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩১৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৪র্থ অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। ॥ যথারাগ॥ অনঙ্গ সমুদ্র মাঝে যে জন পড়িয়া আছে তারে পার তুমি কর সদা। অবঞ্চনা সদা তুমি সত্সলা তাহা যে গণি ইহাতে নাহিক কোনো দ্বিধা॥ তস্মাৎ কেশব তরু নিকুঞ্জে কুসুম ভরু তথা গিয়া আনহ রাধিকা। সুরিত পণ্ডিতা তুমি ইহা জানিয়াছি আমি আর তোরে কি বলি অধিকা॥ শুন দেবী মদনিকা বাণী। আমরা তোমারে যেন বহিরঙ্গা নাহি হেন বিচারিয়া জানহ আপনি॥ ধ্রু॥ মদনিকা কহে বাছা এই কথা নহে মিছা দেবী কর মোর প্রতিকার। মদনিকা কহে আমি গমন করি এখনি সুমঙ্গল কহিব তোমার॥ এত কহি রাই স্থানে গেলা তিহো একক্ষণে প্রেম পরিপাটি কথা গণে। শুন তাহে একমনে পাবে তুমি কৃষ্ণ ধনে কহে দাস এ যদুনন্দন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুন ধনি কৃষ্ণচন্দ্র তোমার বিহনে ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৪র্থ অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। ॥ যথারাগ॥ শুন ধনি কৃষ্ণচন্দ্র তোমার বিহনে। কিবা এই তাপগণ কাপাইছে তনুমন সর্বত্র দেখয়ে তোমা মানে॥ ইন্দু নিন্দা করে অতি চন্দন লেপয়ে ক্ষিতি পুষ্পহার পেলায় ছিণ্ডিয়া। হেন প্রায় স্নিগ্ধযত পরিজন কথামত না সম্ভাষে তা সভা দেখিয়া॥ সিঙ্গা বেণু মুরলিকা না জানি পড়িলা কোথা শিখী পাখা মহি লোটাইছে। তুয়া ভাবে পীত বাস কেনে করে মহোল্লাস সে সুখ রহিত হইয়াছে॥ মনসিজ তাপে তাপী মহি গড়ি জায় কাঁপি সঘনেই ধরণী লোটায়। ঝমরু হইল তনু নীলোত্পল নীর বিনু যেন হেন তেমন ব্যবসায়॥ তত্স্মাৎ কুঞ্জের মাঝে করহ কুসুম সেজে আরাধনা কর শ্যাম রায়। গোকুল নগরে তুমি ভাগ্যবতী জানি আমি তেঞি যদুনন্দন ধিয়ায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| একে ধনি মাঝা খীন পীনয়ে জঘন স্তন ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৪র্থ অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। ॥ যথারাগ॥ একে ধনি মাঝা খীন পীনয়ে জঘন স্তন ভাব ভরে অলস গমনি। এই যে নিকুঞ্জ ধাম আমার সঙ্কেত ঠাম তাহাতে হরষি আছি আমি॥ তিহো নব বালা হয় সভারেই ভয় পায় তাহাতে নিবিড় বন এই। তাতে মহা অন্ধকার কৈছে করে অভিসার সহায় মদন এক বই॥ ক্ষণেক চিন্তিয়া হরি দীর্ঘ উষ্মশ্বাস ছাড়ি কহিতে লাগিলা মনবাণী। প্রেমের তরঙ্গ উঠে ছুটিলেহ নাহি ছুটে এ যদুনন্দন মনে ভণি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কৃষ্ণ কহে পীড়া পায়া শুন সখা মন দিয়া ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩২১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৪র্থ অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। ॥ যথারাগ॥ কৃষ্ণ কহে পীড়া পায়া শুন সখা মন দিয়া রাধার বিলম্ব হইল কেনে। মোপ সঙ্গে পরিচয় ছিল যেন অতিশয় তাহাতে বা কৈল নিবারণে॥ কিম্বা সখী দূতী বোলে বিশ্বাস না জন্মাইলে তাহাতে বিমুখী হৈলা রাই। কিম্বা ভয় পথে অতি অন্ধকার ভ্রমমতি পথ ভুলি গেলা অন্য ঠাঞি॥ কিম্বা ধনি বিরহিনী তনু হৈল অতিখিনি চলিতে সামর্থ্যহীন হৈলা। এই মত শ্যাম রায় চিত্তে বহু খেদ পায় এ যদু নন্দন প্রকাশিলা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এই তো বিকল্পগণ কম্পিতেই সেই ক্ষণ ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩২৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৪র্থ অঙ্কের বঙ্গানুবাদের একটি পদ। ॥ যথারাগ॥ এই তো বিকল্পগণ কম্পিতেই সেই ক্ষণ সখী হস্ত আলম্বিয়া রাই। গোবিন্দ নিকুঞ্জ কেলি তথাই আইসে চলি ভূষার তোলনা দিতে নাঞি॥ মধুর বিরহে ধনি রাই। কৃষ্ণ পানে চলি যায় মন্থর গমন তায় মণিহার সঘনে দোলই॥ ধ্রু॥ নবীন যৌবন একে গৌর অঙ্গ পরতেকে বিজুরি ঝলকে যেন ছটা। নীলপট্ট পরিধান মুকুতা ঝালুরী ঠাম ঝলমলি যেন কান্তি ঘটা॥ চাচর চিকুর কেশ তাহাতে বিচিত্র বেশ বেণী বান্ধে রত্ন বর্ণ ছাদে। মল্লিকা মুকুতা তাতে শোভা অতি করে যাতে যমুনা তরঙ্গ যেন চাঁদে॥ নাচয়ে খঞ্জন আঁখি তাতে এইমত দেখি অতনুকে নাচিবারে কয়। পথে ভৃগু মধু পিয়া আছে শাখা পসারিয়া উড়ি যায় হেন শোভা হয়॥ শঙ্কা লজ্জা বেশ ভরে চঞ্চল সদাই করে আঁখি অন্ত নবনিহারিণী। কৃষ্ণ প্রতি যেন কত কুবলয় মালা যত সদা করে সপদ্মহারিনী॥ ললিতা বিশাখা আদি সখিগণ সঙ্গে সাধি সমান বয়েস রূপ গুণ। সুবর্ণ প্রতিমাগণ করি তনু নির্মঞ্চন চাঁদে কোটি দামিনী শোভন॥ কোটি কাম মূর্চ্ছা পায় পদনখ চন্দ্র ছায় অপাঙ্গ ইঙ্গিতে কৃষ্ণে মোহে। এমন রূপের ঘটা কে বর্ণিতে পারে ছটা এ যদুনন্দন দাস কহে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |