কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
রাই মন্দ গতি চলে পুষ্পশয্যা কুঞ্জস্থলে
ভণিতা যদুনন্দন
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩৩৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৫ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
একটি পদ।

॥ যথারাগ॥

রাই মন্দ গতি চলে                                পুষ্পশয্যা কুঞ্জস্থলে
মঞ্জীর বাজায় মৃদুমন্দ।
কৃষ্ণ সে নূপুর রবে                               আগুয়ান হৈয়া তবে
চরণে মঞ্জীর বায় মন্দ॥
সখি হে কি কহিব কহনে না যায়।
রাধামাধবের কেলি                               ভুবনে অদ্ভূত মেলি
আজি দেখিলাম রঙ্গ বায়॥ ধ্রু॥
নয়নে নয়নে মেলা                                 মরমে মরমে খেলা
অস্থির হৈয়া বাহু মেলি।
দুহু তনু কোলে করি                               হিয়ায় হিয়ায় ধরি
দুহু দুঁহা চুম্বে রস কেলি॥
পিয়য়ে অধরামৃত                                   দুহে যেন উনমত
পানে তৃপ্ত না হয় দুহার।
আঁখি আঁখি দরশনে                              অঙ্গে অঙ্গে পরশনে
তৃপ্ত নহে কি কহিব আর॥
শ্যাম গৌরী প্রেম ভারি                           তনুতে তনুতে জোরি
অভেদ দেখহ দুহু অঙ্গ।
যে হেন অনঙ্গ বাণে                              বিন্ধি মারে দুই জনে
ক্ষীণ ভেল সব প্রতি অঙ্গ॥
দশনে অধর দংশী                                পবিত্র অমিয় রাশি
নখে তনুঘাত করে দুহু।
মদন যুদ্ধের কাজে                                পরিশ্রম হেন রাজে
যাতে অতি শ্বাস বহে মুহু॥
এই মত নানা লীলা                                কতেক কহিব কলা
রতি রণ কেলি মনোরম।
প্রেমময় সব লীলা                                কাম অগোচর কলা
কহে দাস এ যদুনন্দন॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অতনু বিরসি গণে তাতে মোর অনুক্ষণে
ভণিতা হীন পদ
কবি যদুনন্দন দাস
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৩৪৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি রামানন্দ রায় রচিত “জগন্নাথ বল্লভ” নাটকের ৫ম অঙ্কের বঙ্গানুবাদের
অন্তিম পদ।

॥ যথারাগ॥

অতনু বিরসি গণে                                তাতে মোর অনুক্ষণে
তাহাতে তরায় হেন নাঞি।
তাহাতে আনন্দ দিতে                               হরিণী নয়ান যাতে
নয়ান অঞ্চলে শান্তি পাই॥
সে রাধা নয়নাঞ্চল                                  সুধা ধারা রসাঞ্চল
তাহাতে না হই আমার।
ইহা বিনু মোর প্রিয়                                ত্রিভুবনে নাহি কেহ
কহিলাম সাক্ষাতে তোমার॥
পূর্ণিমার শশী মুখী                                কুরঙ্গ জিনিয়া আঁখি
হস্ত তলে মিলিল আসিয়া।
কি মোর অরিষ্ট সার                             ত্রিভুবনে আছে আর
কি বা আমি হইব চাহিয়া॥
কোকিল বসন্ত কালে                              ভৃঙ্গিবলী কাম খেলে
বৃন্দাবনে পুষ্পগন্ধ যত।
সব হৈল সুখদাই                                আর কিছু দুঃখ নাঞি
যারে রাই হৈল অনুগত॥
তথাপি মাগিয়ে এক                                শুন তাহা পরতেক
এই পরকীয়া লীলা মোর।
ইথে শ্রদ্ধা বাঞ্ছে যারা                            এ মান্য মানুষ তারা
সে বা মনে হইল বিভোর॥
পরম রহস্য লীলা                                সুধা হৈতে সুমধুরা
ইহাতে লালস বুদ্ধি যার।
তারে কৃপা কর তুমি                            এই বর মাগি আমি
এই ব্রজে বসতি তাহার॥
ইহা শুনি মদনিকা                                আনন্দ বাড়িলধিকা
এ সমস্ত কহে বার বার।
কহি সবে গেলা ঘর                                হইয়া আনন্দ পর
প়্চমঙ্ক সম্পূর্ণ তাহার॥
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ                              অদ্বৈত করুণা সিন্ধু
স্বরূপ রূপ সনাতন আদি।
শ্রীরঘুনাথ গোপাল ভট্ট                            করুণাতে অদভূত
শ্রীজীব গোসাঞি পদ সাধি॥
রায় রামানন্দ পদে                                প্রণতি করিয়ে সাধে
তার গ্রন্থ মনোরম এই।
করি তার পদে নুতি                               ভূমিষ্ঠ হইয়া ক্ষিতি
তোমা বিনা আর গতি নাঞি॥
তোমার করুণা বলে                               মুঞি মূর্খ কূতুহলে
প্রাকৃতে এসব লীলা পাই।
তুমি মোরে কর দয়া                            দেহ মোরে পদ ছায়া
তোমা বিনে আর গতি নাঞি॥
ইথে অপরাধ মোর                                না লইবে দোষ ওর
পুন করো পাদ পদ্মে নুতি।
আপন অভিষ্ট যেন                               মোরে কৃপা কর তেন
রাধা কৃষ্ণে যেন রহে মতি॥
আচার্য্য ঠাকুর পায়                                দণ্ডবৎ করি তায়
চিত্ত শুদ্ধি পাই প্রেম লোভে।
তাঁহার করুণা পাত্রী                                কেবল প্রেমের গাত্রী
কৈলা তাহা যাতে সর্বভাবে॥
শ্রীহেমলতা খ্যাতা                                আমার অভিষ্ট দাতা
তার পায় মুঞি পাপ ছার।
কভু না সেবিনু তারে                             একথা কহিব কারে
তভু কহো মুঞি দাস যার॥
দারুণ সংসার রসে                              মজিলু আপন দোষে
পাপে চিত্ত হৈল নিমগনে।
ইন্দ্রিয় তৃপ্তাতা নাঞি                              ভুঞ্জিলেহ ভুঞ্জিতাই
পাপমন বসু নাহি জানে॥
শ্রীগুরু বৈষ্ণব পদ                                   সকল সম্পদ সদ্ম
ইহা নাহি ভজে নাহিয় যে।
তবে কি করিব আর                              শ্রীগুরু করুণা সার
সেই করুণা মাগে নিজে॥
মনোভিষ্ট পূর্ণ হবে                                মহানন্দ সুখ পাবে
ব্রজভূমে হউক বসতি।
যাতে রাধাকৃষ্ণ পাই                            তার প্রেম লীলা গাই
তাঁর গণ সঙ্গে হউ স্থিতি॥
মোছার অধমাধম                              মুঞি অতি হীনোত্তম
আমারে দেখিলে পাপ হয়।
হেন ছারে কৃপাকরে                           কে হেন করুণা আরে
সব কৃপা গুণ দয়াময়॥
কৈল আত্মনিবেদন                                   শুনহ বৈষ্ণবগণ
ইথে মোর দোষ না লৈবে।
তোমা সভার শ্রীচরণ                           ধূলি লইতে মোর মন
সাদ করি কৃপা কর সভে॥

.                        *************************                         
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর