| কবি যদনন্দন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| কোটি কাম জিনি তনু জ্যোতি কোটি চন্দ্র জনু ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ কোটি কাম জিনি তনু জ্যোতি কোটি চন্দ্র জনু ইন্দীবরনিন্দিকান্তিতর। জগত মোহন করে হেন লীলা যেই ধরে বন্দোনন্দ নন্দন সুন্দর॥ ভূমৌত পাওমুক্তামালা তার ক্রয় বিক্রয় মেলা। সমুদ্রে মজ্জিত যার মন। দোহেঁ জয় বাঞ্ছা যার বন্দিয়ে চরণ তার শ্রীরাধা মাধব যার নাম॥ আপন উজ্জ্বল ভক্তি সুধা সমর্পিত ক্ষিতি উদয় হইল আচম্বিতে। শচীগর্ভ ব্যোমমাঝে পূর্ণ চন্দ্র জ্যোত্স্না সাজে বন্দো মুঞি সেই শচীসূতে॥ শচীপুত্র যার নাম আর স্বরূপ আখ্যান আর দুই রূপ সনাতন। শ্রীমতী মথুরা পুরী আর শ্রীল গোষ্ঠ পুরী রাধা কুণ্ড গিরি গোবর্দ্ধন॥ রাধিকা মাধব আদি পাইনু যার কৃপা সৌধি বন্দ সেই শ্রী ঠাকুর গোসাঞি। তার কৃপা সব এই এই সব যেই দেই সেই কৃপা অনুক্ষণ চাই॥ শ্রী হরি চরণামৃত লহরি পরমাদ্ভুত বন্দাবনে জনে জন্মে যেই। রাধাকৃষ্ণ ভক্ত যত পিয়ে তারা অবিরত বিস্তারি এতদ আনন্দ পাই॥ এবে গুরু বৈষ্ণবগণ স্তুতি করি নিজমন করি যার চরণ বন্দন। যাহাতে অভিষ্ট পাই কৃষ্ণ লীলা গুণ গাই কহে দাস এ যদুনন্দন॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দুর্ল্লভ মনুষ্য দেহ নৌকাকৃষ্ণ সেবা গেহ ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ দুর্ল্লভ মনুষ্য দেহ নৌকাকৃষ্ণ সেবা গেহ যাতে হৈতে ভবসিন্ধু তরি। সে দেহ পাইয়া এথা গেল সদা বৃথা কথা এ তাপে জীবন জায় জরি॥ শ্রীগুরু গোসাঞি যাতে নৌকার কাণ্ডারী তাতে কোন চিন্তা আছে কোন ঠাই। যে জন কাণ্ডারী ছাড়ে দৈবে সেই ডুবি মরে কাণ্ডারীতে দৃঢ় চিত্ত চাই॥ কৃষ্ণ নাম গুণ যশ কীর্তন নর্তনোল্লাস আনুকুল্য বাতাস সে হয়। ইহাতে ভাবাম্বুধি না তরিল হীনবুদ্ধি আত্ম ঘাতি পাপী সেই হয়॥ না পাউ শুদ্ধ সুসঙ্গ জর্জুর হইল অঙ্গ নানা অসৎ কথা সঙ্গে। এ যদুনন্দন দাস মোর মনে হা হুতাশ প্রভু কৃপা কর দীন অঙ্গে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এইত সময়ে তথা নান্দীমুখী উপস্থিতা ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ এইত সময়ে তথা নান্দীমুখী উপস্থিতা ভগবতী পৌণ মাসী শিষ্যা। তা সভায় গমন কথা শুনিল বিশেষ মতা শুনিঞা তেজিয়া কহে হাস্যা॥ হে সখী ললিতা শুন ব্রজরাজ নন্দন পরিহাস যুক্ত সদা হয়। তার পরিহাস বাক্য মাত্র কৈলে হঞা ঐক্য স্বকার্য্য উপেক্ষা যুক্ত নয়॥ ক্ষণেক আমার সনে ফিরি সেই সখিগণে অপমান সম্মুখে করিয়া। মানকর পৃষ্ঠ দেশে প্রবেশহ কৃষ্ণ পাশে নিজ কার্য্য উদ্ধার লাগিয়া॥ পরিহাস বিড়ম্বনা করি মনে সহিষ্ণু না ধৈর্য্য হঞা স্বকার্য্য উদ্ধার। শপথ করিয়া আমি ফিরাইয়াছি চল তুমি এই বাক্য মোর তুমি ধর॥ কৃষ্ণের যে নম্র কথা সেহ প্রতি ভ্রমতা মুক্তা দেওয়াইবে সেই ধনি। ইহাতে অন্যতা নাই চল সভে কৃষ্ণ ঠাঞি আমি তবে এই মর্ম্ম জানি॥ মো অতি অধমাধম বিষয়া বিষ্ঠাকৃমি সম মো সম পাতকী আর নাই। আপনা অকার্য্য যত কহি লজ্জা নিন্দাপথ মহতের স্থানে লজ্জা পাই॥ না ভজিনু গুরু পদ না সেবি ভক্ত পদ না কইনু গোবিন্দ সেবন। আপন উদর ভরি স্ত্রী পুত্রাদি মোর করি বৈষ্ণবতায় না কৈনু ভরণ॥ পরমার্থের দ্রব্য লঞা ব্যবহারে ভুঞ্জাইয়া আর মোর নাহিক নিস্তার। পাইয়া মনুষ্য জন্মে বৃথা গেল তববন্ধে সংসার বাসনা মনে ছার॥ দুর্ব্বাসনা নাহি ছাড়ে ভববন্ধে লঞা পাড়ে হেন মোর কুবুদ্ধি দুষ্ট মন। সদা মোরে তাপ দেই সে তাপে জর্জ্জর হই কোথা হবে কৃষ্ণের স্মরণ॥ শ্রী গুরু বৈষ্ণব প্রভু তোমা না ভজিনু কভু তুমি মোরে না ছাড়িবা কভু। পতিত পাবন নাম রাখ নিজ পুণ ধাম শরণ লইনু পদে প্রভু॥ আমারে উদ্ধার করে হেন কেবা শক্তি ধরে বিনা গুরু বৈষ্ণ গোসাঞি। তারিলা কতেক পাপী হেন যশপরতাপি অতএব তোর গুণ গাই॥ অশুদ্ধ হৃদয় মোর কপটের নাহি ওর অকপটে না ভজিনু তোমা। অপরাধ ক্ষোমা করি নিজগুণে দয়া ভরি দেও রাধা কৃষ্ণ প্রেম সেবা। ব্রজ গোপী ভাব যেন কর কৃপা তেন মন মাগে যদুনন্দন করি সেবা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সুর্বন্নবরণি সুচন্দ্র বয়নি হরিনী নয়নি আঁখি ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের অন্তর্ভুক্ত পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ সুর্বন্নবরণি সুচন্দ্র বয়নি হরিনী নয়নি আঁখি জোড় ভ্রুবলি মধুর হাসনি মধুর মধুর ভঙ্গি হা হা কোথা মোর জীবনেশ্বরী। শ্রীল হেমলতা ভূবনের মাতা না দেখিয়া পরাণে মরি॥ তোমার করুণা কল্পতরুনা উত্তম মধ্যম নাই। সমদয়া জীবে পাই সব জীবে কান্দে যে দরশ পাই॥ আর কি দেখিব সেই চান্দবদন মৃদুল চরণ দুই আর কি দেখিব মকর কুণ্ডল গণ্ডে দোলই যেই তোমা বিনু মোর জীবনে কি কাজ প্রাণহীন যেন তনু মো ছার পাপিয়া নামে বিলওয়া মিছায়ে গেল যে জনু করুণা করিয়া দেহ পদ ছায়া সোবন করিব তোমা ও যদুনন্দন যাচয়ে সঘন গোরাদাস দাস নামা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাধা প্রেমে মনে করি ব্যাকুল হইয়া হরি ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের অন্তর্ভুক্ত পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ রাধা প্রেমে মনে করি ব্যাকুল হইয়া হরি অধৈর্য্য হৈল অতিশয়। মনে যত ধৈর্য্য করে ধৈর্য্য করিবারে নারে সত্যভামা আগে বিলসয়॥ মোর কণ্ঠস্বর মাণি মালা রাধা সুনয়নি। মোর কর্ণদ্বয় অবতংশ। সুবর্ণ কুণ্ডল রাধা তোমা বিনু পাই বাধা এ দুঃখের কে জানিবে অংশ॥ মোর এই শ্যাম অঙ্গে সুগন্ধী কুঙ্কুম পঙ্কে চর্চ্চা তুমি শীতল সুগন্ধ। কবে মোর অগণ্যপুণ্যে দেখাইবে রাধা ধন্যে নেত্র যেন পাইবেক আন্ধ॥ এত কহি শ্যাম রায় ক্ষণ মৌন আলম্বয় পুন আসি উত্সুক্য হইল। উত্সুকের বল হৈতে লাগে পুন বিলাপিতে মনে ধৈর্য্য দিতে না পারিল॥ রাধা মোর বক্ষস্থলে সুগন্ধি চম্পকমালে রাধা মোর নেত্র পদ্ম দুই। অমৃত শীতলময়ী রাধা মোর তনুময়ী শোভা পূর্ণ তাতে হউ মুঞি॥ মোর প্রাণ পক্ষরাজ রাধা তার লতা সাজ মোর বাঞ্ছা পুরে শোভাময়ী। আমার জীবন রাধা রাধা বিনু পাই বাধা হা হা পুন কবে পাব তাই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শুনহ ভকত গোবিন্দ লীলা যাতে পানি হয় কঠিন শিলা ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের অন্তর্ভুক্ত পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। পদটি ত্রিপদী ছন্দের রূপে দেওয়া ছিল। আমরা পয়ারে দিলাম। ॥ যথারাগ লঘু ছন্দ॥ শুনহ ভকত গোবিন্দ লীলা। যাতে পানি হয় কঠিন শিলা॥ মুকুতা চরিত অমৃত গাথা। সত্যাশুনে কৃষ্ণ কহয়ে কথা॥ পূর্ব্ব কথা মনে বিচার করি। শুনহ বচন চাতুরী ধুরি॥ কৃষ্ণ কহে শুন সত্যভামা। আমার বচন শুনহ ক্রমা॥ নন্দীমুখী কহে সুমধুর হাসি। অপূর্ব্ব চাতুরী মধুর ভাসি। স্বধর্ম্ম সুনিষ্ঠ হে যুব রাজ। এ কৃষি বাণিজ্য গোররক্ষা কাজ॥ এই তিন বৃত্তি স্পষ্টতাতোর। সদা দেখা শুনা আছয়ে মোর॥ কার্য্য দানে বৃদ্ধি জীবিকা কাজ। কভু নাহি দেখি গোকুল মাঝ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সাধ্বী বৃন্দাধর পানে বপুবৃদ্ধি ক্ষণে ক্ষণে ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের অন্তর্ভুক্ত পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ সাধ্বী বৃন্দাধর পানে বপুবৃদ্ধি ক্ষণে ক্ষণে তনুতে কহিছে সেই কথা। মহা রসায়ণ পানে বপুবৃদ্ধি ক্ষণে ক্ষণে গ্রন্থাদি রহিত সৌষ্ঠবতা॥ ইন্দ্রনীলার্গলদর্প তারে কহি কতি খর্ব্ব সুবলন বাহু মনোহর। জিনিয়া গজেন্দ্র শুণ্ড জিনি ভুজ গজেন্দ্র দণ্ড উপামা দিবার নাহি স্থল॥ মনোহর বক্ষস্থল পরিসর অবিরল মরকত কপাট গর্ব্ব জিনি। লাবণ্য লহরী ভার কোমল কুসুম সার পীন স্তনি হৃদয় মর্দ্দনি॥ উরু দুই মহা রম্ভ মর কর রত্নাস্তম্ভ গর্ব খর্বক সসৌষ্ঠবে। তাহার লাবণ্য ভোরি ব্রজ বধু চিত্ত করি বন্ধন করিয়া রাখে সবে॥ মুখ চন্দ্র সুমধুর শরত কোটি শশধর মাধুর্য্য সঙ্কোচে হেন শোভা। প্রফুল্ল কোমল বন শোভা লঙ্ঘে দ্বিনয়ন যাতে ব্রজ বধূ মন লোভা॥ ভুরূ যুগ মনোরম কামের কামান ভান নাসা তিল ফুলকাম বান। অধোরষ্ঠ রক্তোত্পল তাতে হাস্য সুধাকর প্রফুল্ল আছয়ে অনুক্ষণ॥ গণ্ড যুগ সুদর্শন মকর কুণ্ডল নর্তন করে তার হয় রজস্থল। ললাট অষ্টমী ইন্দু তাহাতে চন্দন বিন্দু অর্ধচান্দে পূর্ণ সুধাকর॥ চঞ্চল অলকা ভাল যেন মত্ত ভৃঙ্গ জাল আশা করে মুখ পদ্ম মধু। চিক্কণ চাঁচর বেশে হইল চূড়ার বেশে উড়ে তাতে শিখি পাখা বিধু॥ ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা করি অধরে মুরলী ধরি করাঙ্গুলী শিরে নাচে চান্দে। সতির অধর পানে মাতিয়া করয়ে গানে যাতে ত্রিভুবন হয় ধান্ধ॥ সিংহ গ্রীব কণ্ঠ মাঝে কঠিন কৌস্তুভ সাজে বনমালা তাহার উপরে। মধ্যদেশ কৃশ অতি যেন সিংহ মধ্যভাতি উন্নত নিতম্ব মনোহর॥ পরিধান পীতবাস যে হেন চঞ্চল ভাষ ত্রিবলী লাবণ্য সে শোহয়। গভীর নাভির শোভা ব্রজবধু মনোলোভা মনভৃঙ্গ সদাই রহয়॥ কিঙ্কিনী বাজয়ে সদা কনক কঙ্কন মুদা চরণ যুগল শোভা অতি। তলেত অরুণ কাঁতি উপরে চান্দের পাঁতি নূপুর শবদে গান ততি॥ পদ তল সুকোমল নব রসালের দল ত্রাস পায় হেন যে মাধুরী। উপরে তিমির শ্যাম তলেত অরুণ ধাম তারপর শশী ঘটা সারি॥ সর্বাঙ্গে মাধুরী ধারা মাধুর্য্য মাধুর্য্য পারা শীতল সুগন্ধী অতিশয়। তনু নব নব ঘন নীল মতি সুকিরণ কিবা ইন্দীবর বৃন্দময়॥ অতসী কুসুম সম কিয়ে দলিতাঞ্জন কুন্দন কুসুম এ সুসমা। জিনিঞা উপমা গণ তনু অতি অনুপম গেন সাক্ষী উচ্ছিষ্ট মহিমা॥ প্রকট উজ্জল তনু কোটি কোটি চন্দ্র জনু ছটাতে ভুবন কৈল আল। সর্ব অন্তর ব্যাপি রহে এ যদুনন্দন কহে কোহো শুনে পাছে এই ভাল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মো অতি অধমাধম ভণিতা যদুনন্দন দাস কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮৩-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ মো অতি অধমাধম বিষয়া বিষ্ঠাকৃমি সম মো সম পাতকী আর নাই। আপনা অকার্য্য যত কহি লজ্জা নিন্দাপথ মহতের স্থানে লজ্জা পাই॥ না ভজিনু গুরু পদ না সেবি ভক্ত পদ না কইনু গোবিন্দ সেবন। আপন উদর ভরি স্ত্রী পুত্রাদি মোর করি বৈষ্ণবতায় না কৈনু ভরণ॥ পরমার্থের দ্রব্য লঞা ব্যবহারে ভুঞ্জাইয়া আর মোর নাহিক নিস্তার। পাইয়া মনুষ্য জন্মে বৃথা গেল তববন্ধে সংসার বাসনা মনে ছার॥ দুর্ব্বাসনা নাহি ছাড়ে ভববন্ধে লঞা পাড়ে হেন মোর কুবুদ্ধি দুষ্ট মন। সদা মোরে তাপ দেই সে তাপে জর্জ্জর হই কোথা হবে কৃষ্ণের স্মরণ॥ শ্রী গুরু বৈষ্ণব প্রভু তোমা না ভজিনু কভু তুমি মোরে না ছাড়িবা কভু। পতিত পাবন নাম রাখ নিজ পুণ ধাম শরণ লইনু পদে প্রভু॥ আমারে উদ্ধার করে হেন কেবা শক্তি ধরে বিনা গুরু বৈষ্ণ গোসাঞি। তারিলা কতেক পাপী হেন যশপরতাপি অতএব তোর গুণ গাই॥ অশুদ্ধ হৃদয় মোর কপটের নাহি ওর অকপটে না ভজিনু তোমা। অপরাধ ক্ষোমা করি নিজগুণে দয়া ভরি দেও রাধা কৃষ্ণ প্রেম সেবা। ব্রজ গোপী ভাব যেন কর কৃপা তেন মন মাগে যদুনন্দন করি সেবা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কাল দেশ পাত্র মুক্তা হয় ভণিতাহীন পদ কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থে, ৫৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। চৈতন্য সমকালীন কবি, বৃন্দাবনের ষট্ গোসাঞিদের অন্যতম রঘুনাথ দাস রচিত “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের যদুনন্দন দাস দ্বারা কৃত বঙ্গানুবাদের অন্তর্ভুক্ত পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দির পুঁথি সংখ্যা ২২৭৫ থেকে প্রাপ্ত। ॥ যথারাগ॥ কাল দেশ পাত্র মুক্তা হয়। সেই কাল নহে অসময়॥ দেশ সেই নহে এই সিন্ধু। পাত্র নহে তারা ব্রজ বধু॥ সম্প্রতি মুকুতা জনমে। সুক্তি সম্পুটে নহে শমে॥ সে অপূর্ব শুনি সত্যভামা। বিশেষ শুনিতে অনুপমা॥ উত্কণ্ঠা বাড়িল অতিশয়। পুন পুন কহিবারে কয়॥ শুনি শ্যাম কহিতে লাগিলা। মনে সেই লীলা দেখা দিলা॥ গোকুল বিলাস সুধা রসে। ডুবি রহে পরম হরিষে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| গৌরাঙ্গ চান্দের গুণে পাষাণ মিলাঞা যায় ভণিতা যদুনন্দন কবি যদুনন্দন দাস ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, শান্তিলতা রায়ের “বৈষ্ণব সাহিত্য ও যদুনন্দন” গ্রন্থ, ২০৭-পৃষ্ঠা থেকে প্রাপ্ত পদ। বরাহ নগর গ্রন্থ মন্দিরে সংরক্ষিত রঘুনাথ গোস্বামীর মূল সংস্কৃত রচনার, যদুনন্দন দাস কৃত অনুবাদ “মুক্তাচরিত” গ্রন্থের ২৭ক-পৃষ্ঠা এবং ৫৮৫-পৃষ্ঠা। গৌরাঙ্গবন্দনা। ॥ যথারাগ॥ গৌরাঙ্গ চান্দের গুণে পাষাণ মিলাঞা যায় সুখরুখ ভরয়ে অঙ্কুর। দয়ানিধি গৌরাঙ্গ ঠাকুর॥ ধ্রু॥ গৌরাঙ্গের দয়া শুনি গুণ ছাড়ে গুণমণি জ্ঞান ছাড়ে জ্ঞানী গুণীজন। কর্ম ছাড়ে কর্মীগণে বিপ্র ছাড়ে বেদগণে গৃহবাসী ছাড়য়ে ভবন॥ শুনিয়া গৌরাঙ্গ দয়া মায়িগণ ছাড়ে মায়া ধনজন নারী তেয়াগিয়া। ভ্রমে বৃন্দাবনে বনে গায়ে গোরা দয়াগণে হেন সে করুণা অমায়য়া॥ সতি ছাড়ে পতিমতি করিল বৈষ্ণব গতি পাইতে গৌরাঙ্গ পদছায়া। হেন দয়াময় প্রভু না ভজিনু মুঞি তভু এ যদুনন্দন অভাগিয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |