কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
জননী কোরে বিলসিত নন্দদুলাল
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ২২৩-
পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

বাল্যখণ্ড
॥ খাম্বাজ মিশ্র ভূপালী - আড়া কয়ালী॥

জননী কোরে বিলসিত নন্দদুলাল।
আধহি আধ                                 বোলত দোলত
মুখমে চুয়ায়ত লাল॥
ক্ষণে উঠত ক্ষণে                              বৈঠত মোহন
ক্ষণে ক্ষণে দেওত গারি।
যশোমতী সুন্দরী                           কর অঙ্গুলি ধরি
শিশুকে শিখাওত চারী॥
কবহি যশোমতী                            মুখ হেরি রোয়ত
পুন পুন মাগই কোর।
কোরহি বৈঠই                                পয়োধর পিয়ই
চরণ নাচাওত থোর॥
কটিতে ঘুঙ্গুরু কর-                        বলয়া বিরাজিত
হৃদয়ে দোলত মণিহার।
যদুনাথ দাস কহ,                         ও মুখ-শশি সঞে
দূর করত আন্ধিয়ার॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৮৮-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাত্সল্য রস
॥ বিভাস - মধ্যম একতালা॥

জননী কোরে বিলসিত নন্দদুলাল।
আধ হি আধ,                                বোলত দোলত,
মুখমে চোয়ায়ত লাল॥ ধ্রু॥
ক্ষণে ক্ষণে উঠত,                        ক্ষণে বৈঠত মোহন,
ক্ষণে ক্ষণে দেয়ত হারি।
যশোমতী সুন্দরী,                          কর অঙ্গুলি ধরি,
শিশুকে শিখায়ত ঠারি॥
কবহি যশোমতি,                          মুখ হেরি রোয়ত,
পুন পুন মাগই কোর।
কোরহি বৈঠই,                                পয়োধর পিবই,
চরণ নাচায়ত থোর॥
কটিতে ঘুঙ্গুরু কর-                        বলয়া বিরাজিত,
হৃদয়ে দোলয়ে মণিহার।
যদুনাথ দাস কহে,                        ও মুখ শশি সঞে,
দূরে করত আঁধিয়ার॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কেনগো কান্দিছে নীলমণি
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১১৭-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা
॥ ভৈরবী - ছোট ডাঁশপাহিড়া॥

কেনগো কান্দিছে নীলমণি।
আমরা পরের নারী,                        ক্ন্দন সহিতে নারি,
কোন প্রাণে সহিছ গো তুমি॥
যাদুয়া মাগয়ে যাহা,                     আগে আনি দেহ তাহা,
তবে গোপাল স্থির বান্ধে।
যশোদা বলে গো মাই,                       শুন তার কথা কই,
গোপাল মোর চাঁদের লাগি কান্দে॥
অবোধ শিশুর মতি,                        দিনে চাঁদ পাব কতি,
এ বড় বিষম হইল দায়।
কি দিয়া তুষিব যাদু,                        কোথায় পাইব বিধু,
জান যদি কহনা উপায়॥
এ ক্ষীর মাখন ননী,                          কতনা দিয়াছি আনি,
আর তাহা কিছু নাহি খায়।
যদুনাথের শুন বাণী,                        আমার যে নীলমণি,
চাঁদ বলি ভূমে গড়ি যায়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যশোদা কহয়ে বাণী
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১১৯-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা
॥ মায়ূর ধানশী - দশকুশী॥

যশোদা কহয়ে বাণী,                        শুন ওলো রোহিণী,
যাদু মোর চাঁদের লাগি কাঁদে।
নিবারিতে নারি আমি,                     তরিতে আইস তুমি,
তবে ত গোপাল স্থির বাঁধে॥
শুনিয়া রোহিণী ধাঞা,                গোপালেরে কোলে লৈঞা,
কত মত বুঝায়ে আপনি।
ক্ষির সব নবনী দেয়,                        তাহা কিছু নাহি লয়,
চাঁদ বলি কান্দে যাদুমণি॥
ব্রজের রমণী আসি,                        চতুর্দ্দিকে ঘেরি বসি,
তারা সবে গান আরম্ভিল।
বাদ্যযন্ত্র যত যত,                          গোপালের অভিমত,
তাহা শুনি আন নাহি ভেল॥
তবে স্থির হইয়া রাণী,                     কোলে করে নীলমণি,
সর্ব্বাঙ্গেতে বুলাইল হাত।
যাদুয়া সদাই কাঁদে,                        সুস্থির নাহিক বান্ধে,
চাঁদ চাঁদ করে যদুনাথ॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তবে ত যশোদা রাণী
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২১-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা
॥ ললিত - গড়খেমটা॥

তবে ত যশোদা রাণী,                  কোলে লইয়া নীলমণি,
আঙ্গিনাতে বসিয়া কৌতুকে।
আন কথা নানা ছলে,                  গোপালে ভুলাইতে বলে,
ঘন চুম্ব দিয়া চাঁদ মুখে॥
চাঁদ মুখে চুম্ব দিতে,                        রাই এল আচম্বিতে,
সঙ্গে করি সঙ্গিনী বালিকা।
তপত কাঞ্চন আভা,                        প্রফুল্ল বদন শোভা,
যেন কত চাঁদের মালিকা॥
রাণী বলে মা আইস,                       মুখখানি ঝাঁপি বইস,
মুখ দেখি যাদুয়া মাঙিবে॥
চাঁ মোর চাঁদের লাগি কাঁদে।
চাতুরী করিয়া কত,                        বুঝাইলাম শতশত,
তবেত গোপাল স্থির বান্ধে॥
অবোধ শিশুর মন,                           যদি হয় উদ্দীপন,
তবে আর কিসে বা বুঝাব।
হাসি কহে যদুনাথ,                          পুরিল মনের সাধ,
চাঁদ বলি আর কিসে বা বুঝাব।

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধিকা রাণীর পাশে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২৩-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা
॥ শ্রীরাগ মিশ্র মায়ূর - দশকুশী॥

রাধিকা রাণীর পাশে,                    প্রণাম করিয়া বসে,
তাহা দেখি হাসয়ে গোপাল।
জননীর কোলে হৈতে,                   রাই আসি পরশিতে,
এইত সময় দেখি ভাল॥
জগত ঈশ্বর হরি,                          জননীর ভয় করি,
ভাবনা করিছে মনে মনে।
বালক স্বভাব আছে,                    দোসর দেখিলে কাছে,
হামাগুড়ি যায় তার স্থানে॥
রাণী কহে রাধিকায়,               গোপাল তোমা পানে চায়,
ডাক দিয়া লহ নিজ কাছে।
পসারিয়া দুই পাণি,                        এস এস বলে ধনি,
আনি বসাইল সভা মাঝে॥
রাণী নিজে কাছে গেলা,                আনন্দে করিছে খেলা,
বালক বালিকাগণ সনে।
যত ছিল মন কাজ,                          পুরাইল যদুরাজ,
যদুনাথ দাস রসগানে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
খেলা সম্বরিয়া সঙ্গিনী লইয়া
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২৪-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা
॥ সুহই - একতালা॥

খেলা সম্বরিয়া,                         সঙ্গিনী লইয়া,
আপন ভবনে যায়।
যশোদা ধরিয়া,                        যতন করিয়া,
শিঙ্গার বনায়ে দেয়॥
রাধিকা বয়ন,                          করি নিরাক্ষণ
গদ গদ যশোমতী।
মলিন বয়ানে,                            সজল নয়নে,
হলে কমলিনী প্রতি॥
নিতুই সকালে,                        আসিয়া সকলে,
খালাইহ হেথা বসি।
গোপাল আমার,                     আর না কাঁদিবে,
হেরি তুয়া মুখশশী॥
এবোল শুনিয়া,                        মুচকি হাসিয়া,
সবে চলে ধীরে ধীরে।
যদুনাথ কয়,                          প্রবেশ করিল,
আপন আপন ঘরে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাণী ভাসে আনন্দ সায়রে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২৫-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা
॥ ঝুমুর - কাটা দশকুশী॥

রাণী ভাসে আনন্দ সায়রে।
কোলে লৈয়া নীলমণি বদন নেহারে।
খিরসর ননী দিল চাঁদ মুখে।
খায় গোপাল কত মনের সুখে॥
(রাণী) বদন মোছাইল নিজ বাসে।
যদুনাথ দাস দেখি আনন্দেতে ভাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানুতে শ্রীদামে কথা
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৪৫-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা
॥ কল্যাণ মিশ্রিত ধানশী - ডাঁশপাহিড়া॥

কানুতে শ্রীদামে কথা,                     বলরাম আসি তথা,
যুগল বিষাণে সান দিল।
শুনিয়া রাখাল সব,                      দিয়া আবা আবা রব,
রাম কানুর দুই দিগে দাঁড়াইল॥
গেল সভে যশোদা নিকটে।
প্রণতি করিয়া মায়,                        কহিছে রাখাল রায়,
কানুরে লইয়া যাব গোঠে॥ ধ্রু॥
শুনি বলরামের বাণী,                        মুরছিত নন্দরাণী,
লোটাইয়া পড়িল ভূমিতলে।
কি বোল বলিলে রাম,                      বনে যাবে ঘনশ্যাম,
ভাসে রাণী নয়নের জলে॥
রাণী কহে বলরাম,                        বুঝি যশোদার প্রাণ,
বধিতে আইলি সবে তোরা।
যাউক প্রাণ বাহির হইয়া,              তবে তোরা যাস লৈয়া,
এ যদুনাথের নয়ন-তারা॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কানুর বচন শুনি হাসি কহে বিনোদিনী
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৮৬-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নৌকাবিলাস
॥ শ্রীরাগ মিশ্র মল্লার - দুঠুকী॥

কানুর বচন শুনি,                        হাসি কহে বিনোদিনী
ও চন্দ্রবদনী ধনি রাই।
ঢুলাইয়া ঢুলাইয়া মাথা,                  কহিতেছ নানা কথা,
গরবে কি দেখ দেখ নাই॥
আই আই লাজে মরি,                 দেখি তোমা ভাঙ্গা তরি
ভয়ে মরি মাঝে ডুবি পাছে।
চড়িয়ে তোমার নায়                        মনে কত ভয় হয়
না জানি কপালে কিবা আছে॥
শুন শুন নাবিক কানাই।
দিবানিশি বনে থাক                 কাষ্ঠের কিবা পাো দুখ
কত সুখে ভগ্ন তরী বাই॥ ধ্রু॥
বেড়াইতে গরু লইয়া                 সে লাজ ফেলিলে ধুইয়া,
ঘাটে এসে হইলে কাণ্ডারী।
কুলবধু পথে দেখি                        নার ফিরাইতে আঁখি
যদুনাথ দেখি লাজে মরি॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃষভানুসুতা বহু সুখে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৩৬-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মুরলী শিক্ষা
॥ সুহিনী - ছোট একতালা॥

বৃষভানুসুতা বহু সুখে।
মরলী ধরল চান্দ মুখে॥
দেখ পহুঁ মরলী বাজায়।
যে রন্ধ্রে রাধার গুণ গায়॥
যে হান শিখিলা বিনোদিনী।
বাজে বাঁশী উঠে কৃষ্ণ ধ্বনি॥
আনন্দে কহয়ে ধনি রাই।
হাসি হাসি শ্যাম মুখ চাই॥
রাই কহে সকলি শিখাবে।
কিছু অবশেষে না রাখিবে॥
শ্যাম কহে প্রাণ দিয়ে যারে।
কিবা অবশেষ আছে তারে॥
এত কহি ধরি দুই কর।
অঙ্গুলি শিখায় ঘরে ঘর॥
এ রন্ধ্রে কদম্ব ফুল ফোটা।
এ রন্ধ্রে মধুর ধ্বনি উঠে॥
একে একে সকলি শিখিল।
আর কি শিখিবে তাহা বল॥
এত শুনি বিনোদিনী হাসে।
কি কহব যদুনাথ দাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর