| কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| হাসি রাধা বিনোদিনী ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২২-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের চাঁদ ধরা ॥ বরাড়ী - মধ্যম একতালা॥ হাসি রাধা বিনোদিনী, কহয়ে সরসবাণী শুন ওগো মাই নন্দরাণী। তোমার কোলে নীলমণি, কত শত চন্দ্র জিনি, রাধা মুখ কিসে তাহা গণি॥ শরতের পূর্ণ শশী, গোপালের চরণে আসি, দশচাঁদ করিছে উদয়। দশচাঁদ দুইকরে, কতশত মুখবরে, রাধা মুখ দেখি লাগি ভয়॥ রাধা হেন কুলবতী, কত শত যুবতী, গোপাল-চরণ ধ্যান করে। এতেক কহেন রাই, শুনিয়া যশোদা মাই, করে ধরি বসাইল তারে॥ সকল সঙ্গিনী লৈয়া, বসিল আনন্দ হৈয়া, দেখি যাদু হাসিতে লাগিল। যদু নাথ দাসে কয়, কিবা সে আনন্দময়, গোপালের কান্দন চুপাইল। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যায় পদ রহিয়ে রহিয়ে রহিয়ে গো ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৮১-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা ব্রজ-গোপীদের উক্তি ॥ সুরট মিস্র কল্যাণ - দুঠুকী॥ যায় পদ রহিয়ে রহিয়ে রহিয়ে গো। ধজ ব্রজাঙ্কুশ পায়, রহি রহি চলি যায়, সুবলের অঙ্গে অঙ্গ হেলিয়া হেলিয়া হেলিয়া গো॥ বুঝি উহার কেহ আছে, আসিতেছে পিছে পিছে, তেঞি চায় ফিরিয়ে ফিরিয়ে ফিরিয়ে গো। হায় আমরা কি করিলাম, নবনী ভুলিয়া আইলাম, খানিক রাখিতান ননী দেখাইয়ে দেখাইয়ে দেখাইয়ে গো॥ আমরা যদি রাখাল হইতাম, তবে উহার সঙ্গে যেতাম, শ্রীদাম সুদামের মত নাচিয়ে নাচিয়ে নাচিয়ে গো। রবি বড় তাপ দিছে, চাঁদ মুখ ঘামাইছে, অলকা তিলক যাইছে ভাসিয়ে ভাসিয়ে ভাসিয়ে গো॥ হেন মনে হয় দয়া, মেঘ হৈয়া করি ছায়া, রসের বদন যাইত জুড়ীইয়ে জুড়াইয়ে জুড়াইয়ে গো। মা টানে ঘর পানে, শ্রীদাম টানে বন পানে, ব্রজগোপী টানে নয়ানে নয়ানে নয়ানে গো॥ বনে যত মুনিগণ, ভাবগত রসিক জন সদা টানে ধেয়ানে ধেয়ানে ধেয়ানে গো। ভণে যদুনাথ দাস, পূরিবে মনের আশ, রাই কানু তনু তনু মিলনে মিলনে মিলনে গো॥ টীকা - শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ গমন উপলক্ষে রাজপথে ব্রজগোপীরা দাঁড়াইয়া তাহা নানাভাবে আস্বাদন করিতেছেন। কেহ বাত্সল্য ভাবে মনে করিতেছেন, আর খানিকটা যদি রাখিতে পারিতাম! কেহ মধুর ভাবে দেখিতেছেন যে মেঘ হইয়া যদি ছায়া দান করিতে পারিতাম ; কেহ কেহ আবার সখাগণের সৌভাগ্য কামনা করিতেছেন। কেহ শ্রীকৃষ্ণকে অলোকসামান্য রূপাবিষ্ট বলিয়া মুনিজনের ও ধ্যানের বস্তু বলিয়া বর্ণনা করিতেছেন। আর পদকর্ত্তা সখীভাবে রাই কানুর মিলন দেখিবার অভিলাষ করিতেছেন। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখীর সহিতে বেশের মন্দিরে ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২১৪-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা ॥ ধানশী - জপতাল॥ সখীর সহিতে, বেশের মন্দিরে, বসিল আনন্দ চিতে। তেজি নীল শাড়ী, পীতবাস পরি, চুড়াটী বাঁধিল মাথে॥ মৃগমদে তনু তিলক রচিল, জনু প্রভাতের ভানু। প্রেমের আবেশে অঙ্গ ঢর ঢর করেতে মোহন বেণু॥ মকর কুণ্ডল, শ্রুতিমূলে ভাল, মদন মোহন মালে। বামেতে হেলায়ে, চুড়াটী বাঁধিল, শিখি-পিচ্ছ বনফুলে॥ কটিতে ঘুঙ্গুর, চরণে নূপুর, সখা সাজে জনে জনে॥ করেতে পাঁচনি, দিয়া আবাধ্বনি, সভাই যাইব বনে॥ কেহ হব দাম, শ্রীদাম সুদাম, সুবলাদি প্রিয় সখা। যাব বৃন্দাবনে, নটবর সনে, ধাইয়া করিতে দেখা॥ কহে ইন্দুরেখি, শুন বিধুমুখি, তোমারে সাজাব হরি। যদুনাথ দাস, কহয়ে বচন, এই না উপায় করি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধেনুগণ বনে বনে ফিরয়ে আনন্দ মনে ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩২২-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে। দানলীলা গোবর্দ্ধনের দান। ॥ সুরট সারঙ্গ - দুঠুকী॥ ধেনুগণ বনে বনে, ফিরয়ে আনন্দ মনে কানাই আইলা গোবর্দ্ধনে। দান সাধিবার ছলে, দাঁড়াইলা তরুতলে, সুবল মধুমঙ্গলের সনে॥ ললিত ত্রিভঙ্গ হইয়া, অধরে মুরলী লইয়া, রাধা বলি লাগিলা ডাকিতে। সে ধ্বনি শুনিয়া কাণে, চিতে ধৈরজ নাহি মানে, গরগর সখীর সহিতে॥ গুরুগণে অনুমতি, যজ্ঞস্থলে ঘৃত দিতে, আর তাহে মুরলীর ধ্বনি। ঘৃতের পসরা মাথে, রঙ্গিয়া বড়াই সাথে, বাহির হইলা বিনোদিনী॥ সহচরী সঙ্গে রঙ্গে, চলু বর কামিনী, কত কত মনের উল্লাসে। চারিদিগে নব রঙ্গিনী, মাঝে যায় ভানুনন্দিনী, শোভা নিরখে যদুনাথ দাসে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আমার শ্যামের মুখানি পূর্ণিমার শশী ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৪৩- পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ - বড় দাসপেড়ে॥ আমার শ্যামের মুখানি পূর্ণিমার শশী আলো বরণ চিকণ কালো আলো রূপ চল দেখি যাইয়া॥ ধ্রু॥ চল দেখি যাইয়া রূপ চল দেখি যাইয়া। পাসরিব সব দুখ চান্দ মুখ চাইয়া॥ ময়ূরের কণ্ঠ জিনি অঙ্গ ঝলমলি। হাসিতে মুকুতা খসে অঞ্জলি অঞ্জলি॥ চান্দ নিঙ্গাড়িয়া সুঝা কৈল নিরমাণ। রূপ হেরি কুলবতী না ধরে পরাণ॥ কি ক্ষেণে যমুনায় গেলাম দেখিলাম নয়নে দিবানিশি পড়ে মনে শয়নে স্বপনে॥ যদুনাথ দাস রূপের নিছনি লইয়া। যৌবন সাজাঞা ডালি চল দেখি যাইয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জয় জয় জয় বিজয়ী কুঞ্জে ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৯২- পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। অভিসার খণ্ড ॥ বেহাগ - জপতাল॥ জয় জয় জয় বিজয়ী কুঞ্জে কুঞ্জর বর গমনী। প্রেম তরঙ্গে ভরল অঙ্গ সঙ্গে বরজ রমণী॥ ধবল বসন হাটক বরণ ঝটকে সঘনে চলনী। ঝুনুরু ঝুনুরু ঝুনু নুনু নুনু বাজত নূপুর কিঙ্কিণী॥ মুরজ ডম্ফ জগহু ঝম্প মৃদঙ্গ সারঙ্গ শোহিনী। তা-না-না-না-না সুললিত বীণা বাওয়ে সঘনে সজনী॥ গগন মণ্ডল অতি নিরমল শরদ সুখদ যামিনী। যন্ত্র তন্ত্র তাল মান ধনি ধনি নব যৌবনী॥ সখীগণ সাথে আইলা তুরিতে শ্রীবৃন্দাবন-বিলাসিনী। দূর হতে হেরে শ্যাম নাগরে মদন-মোহন-মোহিনী॥ কুঞ্জভবন দুহুঁক মিলন অনুপম সুখ শোহিনী। যদুনাথ দাস চিত অভিলাষ হেরি শ্যাম মনমোহিনী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সে যে বিনোদ নাগর বড় রসিয়া ভণিতা যদুনাথ দাস কবি যদুনাথ দাস ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৪৪- পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। রূপ খণ্ড ॥ ভাটারী শ্রীরাগ মিশ্র - আড়া ধামালী॥ সে যে বিনোদ নাগর বড় রসিয়া। গলে মণি মতি বেড়া কম্বু কণ্ঠ আধ তেড়া চূড়াটি বেন্ধেছে বামে কসিয়া॥ একে সে মোহন শ্যাম ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম ঠাম অধরে মুরলী পুরে হাসিয়া হাসিয়া হাসিয়া। মিলাইছে শিলারাশি স্থগিত হইছে শশী ময়ূর নাচিছে কাছে আসিয়া আসিয়া আসিয়া॥ স্থগিত কোলিকা গান শুনিয়া মুরলী সান আপনার কলরব দুষিয়া দুষিয়া দুষিয়া। বাঁশী কিবা মন্ত্র জানে অবলা-হৃদয় হানে রহিতে না দিলে ঘরে রুষিয়া রুষিয়া॥ অরুণ কমল আঁখি নাচিছে খঞ্জন পাখি আকুল করিল কুল নাশিয়া নাশিয়া নাশিয়া। যদুনাথ দাসে বলে বাঁশী শুনে কেবা ভুলে ধনি রে ধনি রে শ্যামের বাঁশীয়া বাঁশীয়া বাঁশীয়া॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |