কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
আমার গৌরাঙ্গ জানে প্রেমের মরম
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ
শাখা, ১৮শ পল্লব, প্রকারান্ত সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ২১২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে
। এই পদটি নিমানন্দ দাস বিরচিত পদরসসার পুথির ২২৩২ সংখ্যক পদ।

॥ সুহই॥

আমার গৌরাঙ্গ জানে প্রেমের মরম।
ভাবিতে ভাবিতে ভেল রাধার বরণ॥
রা বোল বলিতে পূর্ণিত কলেবর।
ধা বোল বলিতে বহে নয়নের জল॥
ধারা ধরণী সঘনে বহি যায়।
পুলকে পূরিত তনু জপে নাম তায়॥
মন নিমগন গোরী-ভাবের প্রকাশ।
এক মুখে কি কহব যদুনাথ দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

আমার গৌরাঙ্গ জানে প্রেমের মরম।
ভাবিতে ভাবিতে হইল রাধার বরণ॥
রা বোল বলিতে পূর্ণিত কলেবর।
ধা বোল বলিতে বহে নয়নের জল॥
ধারা ধরণী সঘনে বহিয়া যায়।
পুলকে পূরিত তনু জপে নাম তায়॥
মন নিমগন গোরী ভাবের প্রকাশ।
এক মুখে কি কহব যদুনাথ দাস॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ১২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

তদুচিত গৌরচন্দ্রিকা
॥ সূহই - মধ্যম দশকুশী॥

আমার গৌরাঙ্গ জানে প্রেমের মরম।
ভাবিতে ভাবিতে হইল রাধার বরণ॥
রা বোল বলিতে পূর্ণিত কলেবর।
ধা বোল বলিতে বহে নয়নের জল॥
ধারা ধরণী সঘনে বহি যায়।
পুলকে পূরিত তনু জপে নাম তায়॥
মন নিমগন গোরী-ভাবের প্রকাশ।
এক মুখে কি কহব যদুনাথ দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

আমার গৌরাঙ্গ জানে প্রেমের মরম।
ভাবিতে ভাবিতে হইল রাধার বরণ॥
রা বোল বলিতে পূর্ণিত কলেবর।
ধা বোল বলিতে বহে নয়নের জল॥
ধারা ধরণী সঘনে বহি যায়।
পুলকে পূরিত তনু জপে নাম তায়॥
মন নিমগন গোরী ভাবের প্রকাশে।
এক মুখে কি কহব যদুনাথ দাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গদাধর নরহরি করে ধরি গৌরহরি
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব, প্রকারান্ত
সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ২১২৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস বিরচিত
পদরসসার পুথির ২২৩৩ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীগান্ধার॥

গদাধর নরহরি                          করে ধরি গৌরহরি
প্রেমাবেশে ধরণী লোটায়।
কহিলে না হয় তহু                        ফুকরি ফুকরি পহু
বৃন্দা-বিপিন-গুণ গায়॥
নিজ লীলা নিধুবন                         সোঙরিয়া উচাটন
কান্দে পহু যমুনা বলিয়া।
নয়ানে বহিছে কত                        সুরধুনী-ধারা মত
দর দর শ্রীবুক বাহিয়া॥
সুবলের শুদ্ধ সখ্য                    বৃন্দাদেবীর প্রিয় বাক্য
ললিতার ললিত সুলেহ।
বিশাখার প্রেম-কথা                    সোঙরি মরমে বেথা
কহি কহি না ধরয়ে দেহ॥
কাহাঁ মোর প্রাণেশ্বরী                    কাহাঁ গোবর্দ্ধন-গিরি
কাহাঁ মোর বংশী পীত বাস।
প্রেম-সিন্ধু উথলিল                        জগত ভরিয়া গেল
না বুঝিল যদুনাথ দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

গদাধর নরহরি                         করে ধরি গৌরহরি
প্রেমাবেশে ধরণী লোটায়।
কহিলে না হয় তহুঁ                        ফুকরি ফুকরি পহু
বৃন্দাবিপিন গুণ গায়॥
নিজ লীলা নিধুবন                        সোঙরিয়া উচাটন
কাঁকে পহুঁ যমুনা বলিয়া।
নয়ানে @অক কত                        সুরধুনী ধারা মত
দর দর শ্রীবুক বাহিয়া॥
সুবলের শুদ্ধ সখ্য                      বৃন্দাদেবীর প্রিয়বাক্য
ললিতার ললিত সুলেহ।
বিশাখার প্রেমকথা                     সোঙরি মরমে ব্যথা
কহি কহি না ধরয়ে দেহ॥
কাহা মোর প্রাণেশ্বরী                     কাঁহা গোবর্দ্ধনগিরি
কাঁহা মোর বংশী পীতবাস।
প্রেমসিন্ধু উথলিল                          জগত ভরিয়া গেল
না বুঝিল যদুনাথ দাস॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

গদাধর নরহরি                        করে ধরি গৌরহরি
প্রেমাবেশে ধরণী লোটায়।
কহিলে না হয় তহুঁ                      ফুকরি ফুকরি পহুঁ
বৃন্দাবিপিনগুণ গায়॥
নিজ লীলানিধুবন                        সোঙরিয়া উচাটন
কাঁদে পহু যমুনা বলিয়া।
নয়ানে ঝরিছে কত                     সুরধুনী ধারা মত
দর দর চিবুক বাহিয়া॥
সুবলের শুদ্ধ সখ্য                 বৃন্দাদেবীর প্রিয় বাক্য
ললিতার ললিত সুলেহ।
বিশাখার প্রেমকথা                  সোঙরি মরমে ব্যথা
কহি কহি না ধরয়ে থেহ॥
কাহাঁ মোর প্রাণেশ্বরী                  কাহাঁ গোবর্দ্ধনগিরি
কাহাঁ মোর বংশী পীত বাস।
প্রেমসিন্ধু উথলিল                       জগত ভরিয়া গেল
না বুঝিল যদুনাথ দাস॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌর-বরণ তনু সুন্দর সুখময়
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ
পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর, ২১৮০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস
বিরচিত পদরসসার পুথির ২২৮৮ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

গৌর-বরণ তনু                        সুন্দর সুখময়
সদয়-হৃদয় রসাল রে।
কুন্দ করবির                         গাঁথন থরে-থর
দোলনি বনি বন-মাল রে॥
গৌর-বামে বর                          প্রিয় গদাধর
নিগুঢ় রস পরকাশ রে।
রাস-মণ্ডল                               ঐছে ভানল
প্রেমে গদ গদ ভাষ রে॥
নদিয়া নগরে                          চাঁদ কত কত
দূরে গেও অন্ধিয়ার রে।
কতহুঁ ঊয়ল                            দীপ নিরমল
ইথেহুঁ লখই না পার রে॥
গৌর গদাধর                          প্রেম-সরোবর
উথলি মহিতল পূর রে।
দাস যদুনাথ                          বিধি-বিড়ম্বিত
পরশ না পাই ঝূর রে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

গৌরবরণ তনু, সুন্দর সুধাময়, সদয় হৃদয় রসালয়ে।
কুন্দকরবীর, গাঁথন থর থর, দোলনি বনি বনমালয়ে॥
গৌর বাসে বর, প্রিয় গদাধর, নিগূঢ় রস পরকাশয়ে।
রাসমণ্ডল ঐছে, ভাসল প্রেমে, গদ গদ ভাসয়ে॥
নদীয়া নগরে, চাঁদ কত কত, দূরে গেও আঁধিয়ারে।
কতিহু উয়ল, দীপ নিরমল, ইবেহুঁ নামই না পাররে॥
গৌর গদাধর, প্রেম সরোবর, উথলি মহিতল পূররে।
দাস যদুনাথে, বিধি বিড়ম্বিত, পরশ না পাই ঝুররে॥

ই পদটি পুনঃ জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ৮২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আনন্দ-কামোদ॥

গৌরবরণ তনু সুন্দর সুধাময় সদয় হৃদয় রসাল রে।
কুন্দ-করবীর গাঁথন থরে থর দোলনী বনি বনমাল রে॥
গৌর বামে বর প্রিয় গদাধর নিগূঢ় রস পরকাশ রে।
রাসমণ্ডল ঐছে ভাসল প্রেমে গদগদ ভাষ রে॥
নদীয়া-নগরে চাঁদ কত কত দূরে গেও আন্ধিয়ার রে।
কতহু উয়ল দীপ নিরমল ইথেহু নামই না পার রে॥
গৌর-গদাধর প্রেম-সরোবর উথলি মহীতল পূর রে।
দাস যদুনাথ বিধি-বিড়ম্বিত পরশ না পাইয়া ঝুর রে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

গৌরবরণ তনু                        সুন্দর সুধাময়
সদয় হৃদয় রসালয়।
কুন্দকরবীর                           গাঁথন থরে থর
দোলনি বনমালা সে দোলয়॥
গৌর সেবাপর                           প্রিয় গদাধর
গূঢ় রস পরকাশে।
রাসমণ্ডল যেন                    ঐছে ভাসল প্রেমে
গদ গদ ভাষে॥
নদীয়া নগরে                          চাঁদ কত কত
দূরে গেও আঁধিয়ার।
কতিহুঁ উয়ল                           দীপ নিরমল
উলূক লখয়ি না পার॥
গৌর গদাধর                          প্রেম সরোবর
উথলি মহীতল পূর।
দাস যদুনাথ                          বিধিবিড়ম্বিত
পরশ না পাইয়া ঝুর॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অপরূপ চাঁদ উদয় নদিয়াপুরে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ
পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর, ২১৯১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস
বিরচিত পদরসসার পুথির ২২৯৯ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

অপরূপ চাঁদ উদয় নদিয়াপুরে
তিমির নাহি রে ত্রিভুবনে।
অবনিতে অখিল জীবের শোক নাশল
নিগম-নিগুড় প্রেম-দানে॥
আরে মোর গৌরসুন্দর রায়।
ভকত-হৃদয়-কুমুদ পরকাশল
অকিঞ্চন-জীবের উপায়॥
শেষ শঙ্কর নারদ চতুরানন
নিরবধি যার গুণ গায়।
সো পহু নিরুপম নিজ-গুণ শুনইতে
আনন্দে ধরণী লোটায়॥
অরুণ নয়ানে বরুণ-আলয়
বহয়ে প্রেম-সুধা-জল।
যদুনাথ দাস বলে যেন সোণার কমলে
প্রসবিছে মুকুতার ফল॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

অপরূপ চাঁদ                        উদয় নদীয়াপুরে
তিমির না রহে ত্রিভুবনে।
অবনীতে অখিল                জীবের শোক নাশল
নিগমনিগূঢ় প্রেমদানে॥
আরে মোর গৌরাঙ্গ সুন্দর রায়।
ভকত-হৃদয়-কুমুদ পরকাশল অকিঞ্চন জীবের উপায়॥ ধ্রু॥
শেষ শঙ্কর, নারদ চতুরানন, নিরবধি যাঁর গুণ গায়।
সো পহুঁ নিরুপম, নিজগুণ শুনইতে, আনন্দে ধরণী লোটায়॥
অরুণ নয়ানে, বরুণ-আলয়, বহয়ে প্রেমসুধা-জল।
যদুনাথদাস বলে, জীবের করমফলে, প্রসবে সো মুকুতার ফল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র-প্রকারান্তর
॥ ধানশী॥

অপরূপ চাঁদ                        উদয় নদিয়াপুরে
তিমির না রহে ত্রিভুবনে।
অবনীতে অখিল                জীবের শোক নাশল
নিগমনিগূঢ় প্রেমদানে॥
(আরে মোর) গৌর সুন্দর রায়।
ভকত-হৃদয়-                        কুমুদ পরকাশল
অকিঞ্চন জীবের উপায়॥ ধ্রু॥
শেষ শঙ্কর                           নারদ চতুরানন
নিরবধি যাঁর গুণ গায়।
সো পহুঁ নিরুপম                    নিজগুণ শুনইতে
আনন্দে ধরণী লোটায়॥
অরুণ নয়ান কিয়ে                 বরুণ-আলয় হেন
বরিষয়ে প্রেমসুধা-জল।
যদুনাথ দাস বলে                 জীবের করমফলে
প্রসবে সো মুকুতার ফল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কষিল কনয়া কমল কিয়ে
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং
৪৬২  গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়  (পূর্বরাগ)”, ১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানসী॥

কসিল কনয়া কমল কিয়ে। থির বিজুরি নিছনি দিয়ে॥
কিয়ে সে শোণ চম্পক ফূল। রাইর বরণ জগদতূল॥
বদনে শরদ শশীর ঘটা॥ কিবা সে ঝলকে কিরণ-ছটা।
চাচর চিকুর সিঁথায় মণি। দশন কুন্দ-কলিকা জিনি॥
অরুণ অধর বচন মধু। অমিয়া উগারে কি নববিধু॥
চিবুকে শোভয়ে কস্তুরিবিন্দু। কনক কমলে ভ্রমরে নিন্দু॥
গলায় মুকুতা দোথরি ঝুরি। সুরধনী বেড়া কনকগিরি॥
শঙ্খ ঝলমলি দু’বাহু দোলা। কিয়ে সরু সরু শশির কলা॥
কর কোকনদ নখর মণি। অঙ্গুলে মুদরি মুকুর জিনি॥
খীণ মাজাখানি ভাঙ্গিয়া পড়ে। বান্ধল কিঙ্কিণি নিতম্ব-ভরে॥
রামরম্ভা উরু চরণশোভা। কি হয় অরুণ কিরণ আভা॥
নখর মুকুর অঙ্গুলাবলী। জনু সারি সারি চম্পক-কলি॥
নীল উড়নি ঢাকিল তনু। সব বিধু রাহু ঝাঁপিল জনু॥
অলপে অলপে তেয়াগে তায়। যদুনাথ-চিতে ঐছন ভায়॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭),
৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২য়-ভাগ, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র প্রকারান্তর, ২৪৭০-পদসংখ্যায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কষিল কনয়া কমল কিয়ে।
থীর বিজুরি নিছনি দিয়ে॥
কিয়ে সে সোণ চম্পক ফূল।
রাই-বরণে জলদ-তূল॥
তাহি কিরণ ঝলকে ছটা।
বদনে শরদ-বিধুর ঘটা॥
চাঁচর চিকুর সিঁথায় মণি।
দশন কুন্দ-কলিকা জিনি॥
অরুণ অধর বচন মধু।
অমিয়া উগারে বিমল বিধু॥
চিবুকে শোভয়ে কস্তুরি-বিন্দু।
কনক-কমলে বালক ভৃঙ্গু॥
গলায়ে মুকুতা দোসুতি ঝুরি।
সুরধুনী বেঢ়ি কনক-গিরি॥
শঙ্খ ঝলমলি দুবাহু দোলা।
কিয়ে সরু সরু শশীর কলা॥
কর কোকনদ নখর মণি।
অঙ্গুলে মুদরি মুকুর জিনি॥
খিণ মাঝ খানি ভাঙ্গিয়া পড়ে।
বান্ধল কিঙ্কিণি নিতম্ব-ভরে॥
রাম-রম্ভা উরু চরণ-শোভা।
কি হয়ে অরুণ-কিরণ-আভা॥
নখর-মুকুর অঙ্গুলাবলি।
জনু সারি সারি চম্পক-কলি॥
নীল ওঢ়নি ঢাকিল তনু।
সব বিধু রাহু ঝাঁপিল জনু॥
অলপে অলপে তেয়াগে তায়।
যদুনাথ চিতে ঐছন ভায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কষিল কনয়া কমল কিয়ে।
থির বিজুরী নিছনি দিয়ে॥
কিয়ে সে কনক-চম্পক ফূল।
রাই-বরণে জলদ-তুল॥
তাহি কিরণ ঝলকে ছটা।
বদনে শরদ-বিধুর ঘটা॥
চাঁচর চিকুর সিঁথায় মণি।
দশন কুন্দ-কলিকা জিনি॥
অরুণ অধর বচন মধু।
অমিয়া উগারে বিমল বিধু॥
চিবুকে শোভয়ে কস্তুরি-বিন্দু।
কনক-কমলে বালক ভৃঙ্গু॥
গলায়ে মুকুতা দোসুতি ঝুরি।
সুরধুনী বেড়ি কনক-গিরি॥
শঙ্খ ঝলমলি দুবাহু দোলা।
কিয়ে সরু সরু শশীর কলা॥
কর কোকনদ নখর মণি।
অঙ্গূলে মুদরি মুকুতা জিনি॥
খিণ মাঝ খানি ভাঙ্গিয়া পড়ে।
বান্ধল কিঙ্কিণি নিতম্ব-ভরে॥
রাম-রম্ভা উরু চরণ-শোভা।
কি হয়ে অরুণ-কিরণ-আভা॥
নখর-মুকুর অঙ্গুলাবলি।
জনু সারি সারি চম্পক-কলি॥
নীল ওঢ়নি ঢাকিল তনু।
সব বিধু রাহু ঝাঁপিল জনু॥
অলপে অলপে তেয়াগে তায়।
যদুনাথ চিতে ঐছন ভায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রূপ
॥ সুহই॥

কষিল কনয়া কমল কিয়ে।
থীর বিজুরি নিছনি দিয়ে॥
কিয়ে সে শোণ চম্পক ফূল।
রাই-বরণে না হয়-তুল’॥
তাহি কিরণ ঝলকে ছটা।
বদনে শরদ-বিধুর ঘটা॥
চাঁচর চিকুর সিঁথায় মণি।
দশন কুন্দ-কলিকা জিনি॥
অরুণ অধর বচন মধু।
অমিয়া উগারে বিমল বিধু॥
চিবুকে শোভয়ে কস্তুরি বিন্দু।
কনক-কমলে ভ্রমর নিন্দু॥
গলায় মুকুতা দোসুতি ঝুরি।
সুরধুনী বেঢ়ি কনক-গিরি॥
শঙ্খ ঝলমলি দুবাহু দোলা।
কিয়ে সরু সরু শশীর কলা॥
কর কোকনদ নখর মণি।
অঙ্গুলে মুদরি মুকুর জিনি॥
খিণ মাঝখানি ভাঙ্গিয়া পড়ে।
বান্ধল কিঙ্কিণী নিতম্ব-ভরে॥
রাম-রম্ভা ঊরু চরণ-শোভা।
কি হয়ে অরুণ কিরণ-আভা॥
নখর-মুকুর অঙ্গুলাবলি।
জনু সারি সারি চম্পককলি॥
নীল ওঢ়নি ঢাকিল তনু।
পূর্ণ বিধু বাহু ঝাঁপিল জনু॥
অলপে অলপে তেয়াগে তায়।
যদুনাথ চিতে ঐছন ভায়॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কষিল কনয়া কমল কিয়ে।
থীর বিজুরি নিছনি দিয়ে॥
কিয়ে সে সোণ চম্পক ফুল।
রাই-বরণে জলদ-তূল॥
তাহি কিরণ ঝলকে ছটা।
বদনে শবদ-বিধুর ঘটা॥
চাঁচর চিকুর সিঁথায়ে মণি।
দশন কুন্দ-কলিকা জিনি॥
অরুণ অধর বচন মধু।
অমিয়া উগারে বিমল বিধু॥
চিবুকে শোভয়ে কস্তুরি-বিন্দু।
কনক-কমলে বালক ভৃঙ্গু॥
গলায়ে মুকুতা দোসুতি ঝুরি।
সুরধুনী বেঢ়ি কনক-গিরি॥
শঙ্খ ঝলমলি দু বাহু দোলা।
কিয়ে সরু সরু শশীর কলা॥
কর কোকনদ নখর মণি।
অঙ্গুলি মুদরি মুকুর জিনি॥
খিন মাঝখানি ভাঙ্গিয়া পড়ে।
বান্ধল কিঙ্কিণি নিতম্ব-ভরে॥
রাম-রম্ভা উরু চরণ শোভা।
কি হয়ে অরুণ-কিরণ-আভা॥
নখর-মুকুর অঙ্গুলাবলি।
জনু সারি সারি চম্পক-কলি॥
নীল ওঢ়নি ঢাকিল তনু।
সব বিধু রাহু ঝাঁপিল জনু॥
অলপে অলপে তেয়াগে তায়।
যদুনাথ চিতে ঐছন ভায়॥

টীকা -
কষিল --- কষ্টিপাথরে যাচিয়া লওয়া সোনা।
সোণ --- স্বর্ণ বর্ণের।
রাই-বরণে জলদ-তূল --- সোনার মতন রঙের চাঁপা ফুল রাধার গায়ের রঙের তুলনায় যেন
মেঘের মতন কালো বলিয়া মনে হয়।
চিবুকে শোভয়ে--- চিবুকের কস্তুরীর টিপ দেখিয়া মনে হয়,  যেন সোনার কমলে ছোট্ট
একটা ভৃঙ্গ বসিয়াছে।
গলায়ে মুকুতা দোসুতি ঝুরি-- মুকুতা দিয়া নির্মিত দুই-ফেরতা লম্বা হারের মতন অলঙ্কার।
কুচযুগের উপর উহা শোভা পাইতেছে, যেন সোনার পাহাড় ঘিরিয়া গঙ্গা রহিয়াছে।
মুদরি --- রত্নাঙ্গুরীয়।
অলপে অলপে তেয়াগে তায় --- নীল ওড়নায় সর্বাঙ্গ আবৃত, যেন রাহু সকল বিধুকেই
ঢাকিয়া ফেলিয়াছে। ওড়না একটু সরাইয়া রাধা দেখিতেছেন, তাই কবি বলিতেছেন
যে, রাহু যেন আস্তে আস্তে চন্দ্রকে গ্রাসমুক্ত করিতেছে।
---বিমান বিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কষিল কনয়া কমল কিয়ে।
থীর বিজুরি নিছনি দিয়ে॥
কিয়ে সে সোণ চম্পক ফূল।
রাই-বরণে জলদ-তূল॥
তাহি কিরণ ঝলকে ছটা।
বদনে শবদ-বিধুর ঘটা॥
চাঁচর চিকুর সিঁথায়ে মণি।
দশন কুন্দ-কলিকা জিনি॥
অরুণ অধর বচন মধু।
অমিয়া উগারে বিমল বিধু॥
চিবুকে শোভয়ে কস্তুরি-বিন্দু।
কনক-কমলে বালক ভৃঙ্গু॥
গলায়ে মুকুতা দোসুতি ঝুরি।
সুরধুনী বেঢ়ি কনক-গিরি॥
শঙ্খ ঝলমলি দু বাহু দোলা।
কিয়ে সরু সরু শশীর কলা॥
কর কোকনদ নখর মণি।
অঙ্গুলে মুদরি মুকুর জিনি॥
খিন মাঝখানি ভাঙ্গিয়া পড়ে।
বান্ধল কিঙ্কিণি নিতম্ব-ভরে॥
রাম-রম্ভা উরু চরণ-শোভা।
কি হয়ে অরুণ-কিরণ-আভা॥
নখর-মুকুর অঙ্গুলাবলি।
জনু সারি সারি চম্পক-কলি॥
নীল ওঢ়নি ঢাকিল তনু।
সব বিধু রাহু ঝাঁপিল জনু॥
অলপে অলপে তেয়াগে তায়।
যদুনাথ চিতে ঐছন ভায়॥

টীকা -
উপরে দেওয়া “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” গ্রন্থে দেওয়া টীকা পড়ুন।

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রভাতে জাগিল গৌরচান্দ
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ
শাখা ২য়-ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৫১২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

অথ গিবায়াং যথা।
॥ বিভাষ॥

প্রভাতে জাগিল গৌরচান্দ।
হেরই সকলে বয়ন ছান্দ॥
ঘুমে ঢুলু ঢুলু নয়ন রাতা।
আলসে ইষত মুদিত পাতা॥
অঙ্গুলি মুড়িয়া মোড়য়ে তনু।
যৈছন অতনু-কনক-ধনু॥
দেখিতে আওল ভকতগণে।
মিলল বিহানে হরিষ-মনে॥
মুখ পাখালিয়া গৌরহরি।
বৈসে নিজগণ চৌদিগে বেড়ি॥
নদিয়া নগরে হেন বিলাস।
যদুনাথ দেখে গদাই পাশ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত,
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২২৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

প্রভাতে জাগিল গোরাচাঁদ।
হেরই সকলে আনহি ছাঁদ॥
ঘুমে ঢুলু ঢুলু নয়ন রাতা।
আলসে ঈষৎ মুদিত পাতা॥
অঙ্গুলি মুড়িয়া মোড়য়ে তনু।
যৈছন অতনু কনক-ধনু॥
দেখিতে আওল ভকতগণে।
মিলল বিহানে হরিষ মনে॥
মুখ পাখালিয়া গৌরহরি।
বৈসে নিজগণ চৌদিগে বেড়ি॥
নদীয়া নগরে হেন বিলাস।
যদুনাথ দেখে সদাই পাশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

প্রভাতে জাগিল গৌরচাঁদ।
হেরই সকলে আনহি ছাঁদ॥
ঘুমে ঢুলু ঢুলু নয়ন রাতা।
আলসে ঈষৎ মুদিত পাতা॥
অঙ্গুলি মুড়িয়া মোড়য়ে তনু।
যৈছন অতনু কনক-ধনু॥
দেখিতে আওল ভকতগণে।
মিলল বিহানে হরিষ মনে॥
মুখ পাখালিয়া গৌরহরি।
বৈসে নিজগণ চৌদিগে বেড়ি॥
নদিয়া নগরে হেন বিলাস।
যদুনাথ দেখে সদাই পাশ॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আপনে নাচিতে যবে প্রভুর মন হৈল
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ
সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২০৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আপনে নাচিতে যবে প্রভুর মন হৈল।
সাত সম্প্রদায় লয়ে একত্র করিল॥
উদ্দণ্ড নৃত্যে প্রভু ছাড়িয়া হুঙ্কার।
চক্র ভ্রমি ভ্রমে যেন আলাত আকার॥
নৃত্যে যাঁহা যাঁহা প্রভুর পড়ে পদতল।
সসাগর শৈল মহী করে টলমল॥
স্তম্ভ কম্প পুলকাশ্রু স্বেদ বৈবর্ণ্য।
নানা ভাবে বিবশ গর্ব্ব হর্ষ দৈন্য॥
দেখিয়া প্রভুর নৃত্য জগন্নাথ হাসে।
সে আনন্দে ভাসি যায় যদুনাথদাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রথাগ্রে নর্ত্তন
॥ শ্রীরাগ॥

আপনে নাচিতে যবে প্রভুর মন হৈল।
সাত সম্প্রদায় লয়ে একত্র করিল॥
উদ্দণ্ড নৃত্যে প্রভু ছাড়িয়া হুঙ্কার।
চক্রনেমি ভ্রমে যেন আলাত আকার॥
নৃত্যে যাঁহা যাঁহা প্রভুর পড়ে পদতল।
সসাগর শৈল মহী করে টলমল॥
স্তম্ভ কম্প পুলকাশ্রু স্বেদ বৈবর্ণ্য।
নানা ভাবে বিবশ গর্ব্ব হর্ষ দৈন্য॥
দেখিয়া প্রভুর নৃত্য জগন্নাথ হাসে।
সে আনন্দে ভাসি যায় যদুনাথদাসে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চৈতন্য নিতাই আরে দোন ভাই নাচে রে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২০৭-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলি॥

চৈতন্য নিতাই আরে দোন ভাই নাচে রে।
খোল করতাল, পঞ্চম রসাল, তা থৈয়া তা থৈয়া বাজে রে॥
সোনার কমল, করে টলমল, প্রেম-সিন্ধু মাঝে রে।
উত্তম অধম, দীনহীন জন, এ ঢেউ সভারে বাজে রে॥
সাত সম্প্রদায়, অতি উভরায়, জগন্নাথ গায় রে।
সভায় দেখিছে, সর্ব্বত্র নাচিছে, এককালে গোরারায় রে॥
অপূর্ব্ব ঐশ্বর্য্য, অপূর্ব্ব মাধুর্য্য, প্রকটিত এ লীলায় রে।
যদুনাথ দাসে, প্রেমানন্দে ভাসে, পহুঁ কৃপালব চায় রে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলি॥

চৈতন্য নিতাই আরে দোন ভাই নাচে রে।
খোল করতাল                               পঞ্চম রসাল
তা থৈয়া তা থৈয়া বাজে রে॥
সোনার কমল                                করে টলমল
প্রেম-সিন্ধু মাঝে রে।
উত্তম অধম                                  দীনহীন জন
এ ঢেউ সভারে বাজে রে॥
সাত সম্প্রদায়                              অতি উভরায়
জগন্নাথ আগে গায় রে।
সভায় দেখিছে                            সর্ব্বত্র নাচিছে
এককালে গোরা রায় রে॥
অপূর্ব্ব ঐশ্বর্য্য                            অপূর্ব্ব মাধুর্য্য
প্রকটিত এ লীলায় রে।
যদুনাথ দাসে                           প্রেমানন্দে ভাসে
পহুঁ কৃপালব চায় রে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কোথা গেলা নন্দ ঘোষ হের দেখ আসি
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাস বিরচিত
পদরসসার পুথির থেকে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মোত্সব
॥ ধানশী॥

কোথা গেল নন্দ ঘোষ হের দেখ আসি।
তব গৃহে উদয় হৈয়াছে কত শশী॥
এতেক দিবসে জন্ম হইল সফল।
মনের আনন্দে দেখ বদন-কমল॥
যশোদার পুত্র হৈল পড়ি গেল সাড়া।
মহানন্দে ধায়্যা আল্য যত গোয়াল পাড়া॥
নন্দের মন্দিরে রে গোয়াল আল্য ধায়্যা।
হাতে লড়ি কান্ধে ভার নাচে থৈয়া থৈয়া॥
সভে বোলে নন্দ ঘোষ বড় ভাগ্য তোর।
তব গৃহে নাহি আজি আনন্দের ওর॥
নাচয়ে হরিষে নন্দ পুত্র-মুখ চায়্যা।
চৌ-দিগে গোয়ালা নাচে কর-তালী দিয়া॥
স্বর্গে নাচে দেবগণ পাতালে নাচে ফণী।
অন্তঃপুরে রাণী নাচে পায়্যা নীল-মণি॥
শিব নাচে ব্রহ্মা নাচে আর নাচে ইন্দ্র।
গোকুল গোয়ালা নাচে পাইয়া গোবিন্দ॥
দধি হরিদ্রা আনে আর গোরোচনা।
দু-বাহু পসারি আসে আহিরী-অঙ্গনা॥
যদুনাথ দাসে বোলে শুন নন্দ-রাণী।
কত পূণ্য-ফলে তুমি পাইলা নীল-মণি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মোত্সব
॥ ধানশী॥

কোথা গেল নন্দ ঘোষ হের দেখ আসি।
তব গৃহে উদয় হৈয়াছে কত শশী॥
এতেক দিবসে জন্ম হইল সফল।
মনের আনন্দে দেখ বদন কমল॥
যশোদার পুত্র হৈল পড়ি গেল সাড়া।
মহানন্দে ধায়্যা আল্য যত গোয়াল পাড়া॥
নন্দের মন্দিরে রে গোয়াল আল্য ধায়্যা।
হাতে লড়ি কান্ধে ভার নাচে থৈয়া থৈয়া॥
সভে বোলে নন্দ ঘোষ বড় ভাগ্য তোর।
তব গৃহে নাহি আজ আনন্দের ওর॥
নাচয়ে হরিষে নন্দ পুত্র-মুখ চায়্যা।
চৌদিগে গোয়ালা নাচে কর-তালি দিয়া॥
স্বর্গে নাচে দেবগণ পাতালে নাচে ফণী।
অন্তঃপুরে রাণী নাচে পায়্যা নীল-মণি॥
শিব নাচে ব্রহ্মা নাচে আর নাচে ইন্দ্র।
গোকুল গোয়ালা নাচে পাইয়া গোবিন্দ॥
দধি হরিদ্রা আনে আর গোরোচনা।
দু-বাহু পসারি আসে আহীরী-অঙ্গনা॥
যদুনাথ দাসে বোলে শুন নন্দ-রাণী।
কত পূণ্য-ফলে তুমি পাইলা নীল-মণি॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জয় জয় কল রবে আনন্দে মাতিল সভে
জয় জয় জয় রবে আনন্দে মাতিল সভে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৮৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাস বিরচিত পদরসসার পুথির থেকে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মোত্সব
॥ ধানশী॥

জয় জয় কল-রবে                        আনন্দে মাতিল সভে
কেহু রহে কারো মুখ চাহিয়া।
কারো পদ নাহি চলে                     কেহু আধ-আধ বোলে
কেহু কেহু ডাকে উচ্চ করিয়া॥
গোপী বাস না সম্বরে                        লাজ ভয় দূর করে
অঙ্গের ভূষণ পড়ে খসিয়া।
কোন গোপী হাতাহাতি                   কহিয়া আনন্দে মাতি
নন্দের অঙ্গনে যায় গড়িয়া॥
কেহু নৃত্য কেহু গীত                        সর্ব্ব-অঙ্গ পুলকিত
কেহু গোপাল কোলে লয় তুলিয়া।
কারো কোলে নীলমণি                        পদ্ম-উতপল জিনি
গোপী রহে চান্দ-মুখ চাহিয়া॥
যদুনাথ দাসে সত্য সত্য করি কয়।
গোপিকার প্রাণ-ধন যদু-রায় হয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জয় জয় জয় রবে                        আনন্দে মাতিল সভে
কেহু রহে কারো মুখ চাহিয়া।
কারো পদ নাহি চলে                      কেহু আধ-আধ বোলে
কেহু কেহু ডাকে উচ করিয়া॥
গোপী বাস না সম্বরে                         লাজ ভয় বহু দূরে
অঙ্গের ভূষণ পড়ে খসিয়া।
কোন গোপী হাতাহাতি                   করিয়া আনন্দে মাতি
নন্দের অঙ্গনে যায় গড়িয়া॥
কেহু নৃত্য কেহু গীত                        সর্ব্ব-অঙ্গ পুলকিত
কেহু গোপাল কোলে লয় তুলিয়া।
কারো কোলে নীলমণি                      দেখে মুখ পদ্ম জিনি
যদুনাথ রহে মুখ চাহিয়া॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর