কবি যদুনাথ দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
হেদে গো রামের মা
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ১৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

হেদেগো রামের মা ননী চোরা গেল এই পথে।
নন্দ মন্দ বলু মোরে লাগালি পাইলে তারে সাজাই করিব ভাল মতে॥
শূন্যঘর খানি পাইয়া সকলি নবনী খায়্যা দ্বারে মুছিয়াছে হাত খানি।
আঙ্গুলের চিনাগুলি বেকত হইবে বলি ঢালিয়া দিয়াছে তাতে পানি॥
ক্ষীর ননী ছেনা চাঁচি উভকরি শিকা গাছি যতনে তুলিয়া রাখি তাতে।
আনিয়া মথন দণ্ড ভাঙ্গিয়া ননীর ভাণ্ড নামতে থাকিয়ে মুখ পাতে॥
ক্ষীর সর যত হয় কিছুই নাহিক রয় কি ঘর করণে বসি মোরা।
যে মোরে দিলেক তাপ সে মোর হইয়াছে বাপ পরাণে মারিব ননী চোরা॥
যশোদার মুখ হেরি রোহিণী দেখায় ঠারি যে ঘরে আছয়ে যাদুমণি।
ঘর আঁধিয়ারে পশি বেকত হইলা শশী ধাইয়া ধরিল নন্দরাণী।
যদুনাথ কয় দড় এবার কানুরে এড় আর কভু না খাইবে ননী॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথির থেকে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা
॥ সুহই॥

হেদে গো রামের মা
ননী-চোরা গেল কোন পথে।
নন্দ মন্দ বলুক মোরে                        লাগালি পাইলে তারে
সাজা যে করিব ভাল মতে॥ ধ্রু॥
শূন্য ঘর-খানি পায়্যা                        সকল নবনী খায়্যা
দ্বারে মুছিয়াছে হাত-খানি।
আঙ্গুলের চিহ্নগুলি                        বেকত হইবে বলি
ঢালিয়া দিয়াছে তাতে পানি॥
খীর ননী ছেনা চাঁছি                        উভু করি শিকা-গাছি
যতনে তুলিয়া রাখি তাতে।
আনিয়া মন্থন-দণ্ড                        ভাঙ্গিয়া নবনী-ভাণ্ড
নামাতে থাকিয়া মুখ পাতে॥
খীর সর যত হয়                        কিছুই নাহিক রয়
কি ঘর-করণে বসি মোরা।
যে মোরে দিলেক তাপ                        সে মোর হইয়াছে পাপ
পরাণে মারিব ননী-চোরা॥
যশোদার মুখ হেরি                        রোহিণী দেখায় ঠারি
যে ঘরে আছয়ে যাদু-মণি।
যদুনাথ কয় দড়                                এবার কানুরে এড়
আর কভু না খাইবে ননী॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাত্সল্য রস
॥ বিভাস - দশকুশী॥

হেদেগো রামের মা, ননীচোরা গেল কোন পথে।
নন্দ মন্দ বলু মোরে                   লাগালি পাইলে তারে,
সাজাই করিব ভাল মতে॥
শূন্য ঘর খালি পাইয়া,                    সকল নবনী খাইয়া,
দ্বারে মুছিয়াছে হাতখানি।
অঙ্গুলির চিহ্নগুলি,                        বেকত হইবে বলি,
ঢালিয়া দিয়াছে তাহে পানী॥
ক্ষীর ননী ছানা চাঁছি,                     উভকরি শিকাগাছি,
যতনে তুলিয়া রাখি তাতে।
আনিয়া মাখন দণ্ড,                        ভাঙিয়া ননীর ভাণ্ড,
নামোতে থাকিয়া মুখ পাতে॥
ক্ষীর রস যত হয়,                           কিছুই নাহিক রয়
কি ঘর করণে বসি মোরা।
যে মোর দিলেক তাপ,                 সে মোর হইয়াছে বাপ,
পরাণে মারিব ননীচোরা॥
যশোদার মুখ হেরি,                      রোহিণী দেখায় ঠারি,
যে ঘরে আছয়ে যাদুমণি।
ঘর আন্ধিয়ারে বসি,                        বেকত লইল শশী,
ধাইল ধরিতে নন্দরাণী।
যদুনাথ কয় দৃঢ়,                           এবার কানুরে এড়,
আর কভু না খাইব ননী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা
॥ সুহই॥

হেদে গো রামের মা
ননী-চোরা গেল কোন পথে।
নন্দ মন্দ বলুক মোরে                  লাগালি পাইলে তারে
সাজা যে করিব ভাল মতে॥ ধ্রু॥
শূন্য ঘর-খানি পায়্যা                       সকল নবনী খায়্যা
দ্বারে মুছিয়াছে হাত-খানি।
আঙ্গুলের চিহ্নগুলি                        বেকত হইবে বলি
ঢালিয়া দিয়াছে তাতে পানি॥
খীর ননী ছেনা চাঁছি                    উভু করি শিকা-গাছি
যতনে তুলিয়া রাখি তাতে।
আনিয়া মন্থন-দণ্ড                        ভাঙ্গিয়া নবনী-ভাণ্ড
তলাতে থাকিয়া মুখ পাতে॥
খীর সর যত হয়                           কিছুই নাহিক রয়
কি ঘর-করণ বাসি মোরা।
যে মোরে দিলেক তাপ               সে মোর হইয়াছে পাপ
পরাণে মারিব ননী-চোরা॥
যশোদার মুখ হেরি                      রোহিণী দেখায় ঠারি
যে ঘরে আছয়ে যাদু-মণি।
যদুনাথ কয় দড়                           এবার কানুরে এড়
আর কভু না খাইবে ননী॥

ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শিশু-দৌরাত্ম্য

হেদে গো রামের মা ননীচোরা গেল কোন পথে।
মন্দ মন্দ বলু মোরে                    লাগালি পাইলে তারে
সাজাই করিব ভালমতে॥ ধ্রু॥
শূন্য ঘরখানি পায়্যা                        সকল নবনী খায়্যা
দ্বারে মুছিয়াছে হাতখানি।
অঙ্গুলির চিনাগুলি                        বেকত হইবে বলি
ঢালিয়া দিয়াছে তাতে পানী॥
ক্ষীর ননী ছেনা চাঁছি                    উভ করি শিকাগাছি
যতনে তুলিয়া রাখি তাতে।
আনিয়া মথনদণ্ড                        ভাঙ্গিয়া ননীর ভাণ্ড
নামতে থাকিয়া মুখ পাতে॥
ক্ষীর সর যত হয়                          কিছুই নাহিক রয়
কি ঘরকরণে বসি মোরা।
যে মোরে দিলেক তাপ               সে মোর হয়্যাছে পাপ
পরাণে মারিব ননীচোরা॥
যশোদার মুখ হেরি                      রোহিণী দেখায় ঠারি
যে ঘরে আছয়ে যাদুমণি।
যদুনাথ কয় দৃঢ়                           এবার কানুরে এড়
আর কভু না খাইবে ননী॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অঙ্গনে বসিয়া নীল-মণি করে খেলা
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন বাঁকুড়ার পুথি থেকে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা
॥ সুহই॥

অঙ্গনে বসিয়া নীল-মণি করে খেলা।
আসিয়া মিলিলা যত ব্রজঙ্গনা বালা॥
নবীন-নাগরী সবে একত্র হইয়া।
যশোদারে কহে সভে মিনতি করিয়া॥
কভু নাহি দেখি তোমার কানুর নাচন।
নাচাও এক-বার দেখি ভরিয়া নয়ন॥
যশোমতী বোলে শুন ব্রজ-গোপীগণ।
আপন-ইচ্ছায় কৃষ্ণ নাচিলা এখন॥
খীর ননী লৈয়া গোপালের দেহ করে।
নাচিবে গোপাল দেখি তোমা সভাকারে॥
গৃহ-কর্ম্ম তেজি রাণী গোপাল নাচায়।
যদুনাথ দাস তছু পদ-যুগে গায়॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৭৯-পৃষ্ঠায় পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস - জপতাল॥

অঙ্গনে বসিয়া নীলমণি করে খেলা।
আসিয়া মিলিলা যত ব্রজঙ্গনা বালা॥
নবীন নাগরী সবে একত্র হইয়া।
যশোদারে কহে সভে মিনতি করিয়া॥
কভু নাহি দেখি তোমার কানুর নাচন।
নাচাও একবার দেখি ভরিয়া নয়ন॥
যশোমতি বলে শুন ব্রজ গোপিগণ।
আপন ইচ্ছায় কৃষ্ণ নাচিলা এখন॥
খীর ননী লইয়া গোপালের দেহ করে।
নাচিবে গোপাল দেখি তোমা সভাকারে॥
গৃহ কর্ম্ম তেজি রাণী গোপাল নাচায়।
যদুনাথ দাস তছু পদ-যুগে গায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা
॥ সুহই॥

অঙ্গনে বসিয়া নীল-মণি করে খেলা।
আসিয়া মিলিলা যত ব্রজকুল বালা॥
নবীন-নাগরী সবে একত্র হইয়া।
যশোদারে কহে কত মিনতি করিয়া॥
কভু নাহি দেখি তোমার কানুর নাচন।
নাচাও একবার দেখি ভরিয়া নয়ন॥
যশোমতী বোলে শুন ব্রজ-গোপীগণ।
আপন ইচ্ছায় কৃষ্ণ নাচিবে এখন॥
খীর ননী লৈয়া গোপালের দেহ করে।
নাচিবে গোপাল দেখি তোমা সভাকারে॥
গৃহ-কর্ম্ম তেজি রাণী গোপাল নাচায়।
যদুনাথ দাস তছু পদ-যুগে গায়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চিত্র-পট করে লৈয়া রসবতী রাই
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।  তিনি  পেয়েছিলেন গাঁড়াদহের পুথি
থেকে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
চিত্র-দর্শন
॥ ধানশী॥

চিত্র-পট করে লৈয়া রসবতী রাই।
মিলাই দেখই ধনি অনিমিখে চাই॥
চরণে চাহিয়া দেখে সোণার নূপুর।
নখ-চন্দ্র শোভা করে অতি সুমধুর॥
কটি-তটে পীত-বাস মেঘেতে বিজুরী।
নিতম্বে-কিঙ্গিণী তাহে আছে সারি সারি॥
দর্পণে মণ্ডিত দেখে হৃদয়-বলনি।
বনমালা-মাঝে দোলে কৌস্তুভ-মণি॥
কোটি-চাঁদ জিনি শোভা অধর-বান্ধুলী।
মুখ-মাঝে বিরজিত মোহন-মুরলী॥
কপালে তিলক-পাঁতি অলকা প্রচণ্ড।
চাঁচর চিকুরে শোভে মউর-শিখণ্ড॥
আপনা পাসরে রাই দেখিয়া মাধুরী।
যদুনাথ দাসে কহে আকুল কিশোরী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
চিত্র-দর্শন
॥ ধানশী॥

চিত্র-পট করে লৈয়া রসবতী রাই।
মিলাই দেখই ধনি অনিমিখে চাই॥
চরণে চাহিয়া দেখে সোণার নূপুর।
নখ-চন্দ্র শোভা করে অতি সুমধুর॥
কটি-তটে পীত বাস মেঘেতে বিজুরী।
নিতম্বে-কিঙ্গিণী তাহে আছে সারি সারি॥
দর্পণে মণ্ডিত দেখে হৃদয়-বলনি।
বনমালা-মাঝে দোলে কৌস্তুভ-মণি॥
কোটি-চাঁদ জিনি শোভা অধর-বান্ধুলী।
মুখ-মাঝে বিরজিত মোহন-মুরলী॥
কপালে তিলক-পাঁতি অলকিত গণ্ড।
চাঁচর চিকুরে শোভে মউর-শিখণ্ড॥
আপনা পাসরে রাই দেখিয়া মাধুরী।
যদুনাথ দাসে কহে আকুল কিশোরী॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যদি তোমার শ্যাম-রূপ লাগ্যাছে মরমে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথি থেকে।

অভিসার
॥ ধানশী॥

যদি তোমার শ্যাম-রূপ লাগ্যাছে মরমে।
বিলম্ব না কর ধনি চল বৃন্দাবনে॥
কালিয়া-কস্তুরী তোমার সব অঙ্গে মাখা।
সব অঙ্গে দেখি তোমার শ্যাম-নাম লেখা॥
বুঝিলাম তোমার মায়া শ্যাম প্রিয় লোভা।
তুমি বৃন্দাবনে গেলে দোঁহ-রূপের শোভা॥
এত কহি সখীগণে ধনীরে সাজাইল।
যদুনাথ দাসে কহে ভালই হইল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ ধানশী॥

যদি তোমার শ্যাম-রূপ লাগ্যাছে মরমে।
বিলম্ব না কর ধনি চল বৃন্দাবনে॥
কালিয়া-কস্তুরী তোমার সব অঙ্গে মাখা।
সব অঙ্গে দেখি তোমার শ্যাম-নাম লেখা॥
বুঝিলাম তোমার মায়া শ্যাম প্রিয় লোভা।
তুমি বৃন্দাবনে গেলে দোঁহ-রূপের শোভা॥
এত কহি সখীগণে ধনীরে সাজাইল।
যদুনাথ দাসে কহে ভালই হইল॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সাজল মদন কলা-রস-রঙ্গিণী
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭০০ সালে  বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪
সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, উনবিংশ
ক্ষণদা-শুক্লা চতুর্থী, ১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

সাজল মদন                        কলা-রস-রঙ্গিণী
শ্যাম-মিলন-রস-সাধে।
শ্রীবৃন্দাবনে                        বিজয়ী বিনোদিনী
রমণী-শিরোমণি রাধে॥
কুঞ্চিত কেশ                      বেশ ভালে রঞ্জিত
লীলা-কমল-বয়ানী।
শ্রবণে রসাল                        কনক-নব-মঞ্জরী
মনমথ-মথন-নয়ানী॥
চান্দনী চাহি                     চকোর মুদিত ফিরে
সুললিত মুরলী-সুতান।
উনমত কোকিল                        পঞ্চম গাওত
শুনি ধনী করল পয়ান॥
হংসিনী-গমনী                      চলতি অতি মন্থর
লীলা-পদ-গতি-শোভা।
কহে যদুনাথ                        সাথ ব্রজ-সুন্দরী
শ্যাম-পিরীতি-রসে লোভা॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথি থেকে।

॥ ভূপালী॥

সাজল মদন-কলা-রস-রঙ্গিণি
শ্যাম-মিলন-সুখ-সাধে।
শ্রীবৃন্দাবনে বিজই বিনোদিনি
রমণি-শিরোমণি রাধে॥
কুঞ্চিত কেশ বেশ ভালে রঞ্জিত
লীলা-কমল-বয়ানী।
শ্রবণে রসাল কনক-নব-মঞ্জুরি
মনমথ-মনমথ-নয়নী॥
চাঁদনি রাতি চকোর সব মোদিত
ললিত-মুর@-সুতান।
উনমত কোকিল পঞ্চম গাওত
শুনি ধনি কয়ল পয়াণ॥
হংসিনি গমনি চলনি অতি মন্থর
লীলা-পদ-গতি-শোভা।
কহে যদুনাথ সাথ ব্রজ-সুন্দরি
শ্যাম-পিরিতি-রস-লোভা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

সাজল মদন কলা রসরঙ্গিণি
শ্যামমিলন সুখসাধে।
শ্রীবৃন্দাবনে বিজই বিনোদিনি
রমণি শিরোমণি রাধে॥
কুঞ্চিত কেশ বেশ ভালে রঞ্জিত
লীলাকমলবয়ানী।
শ্রবণে রসাল কনক নব-মঞ্জরি
মনমথ মনমথ নয়ানী॥
চাঁদনি রাতি চকোর সব মোদিত
সুললিত মুরলিসুতান।
উনমত কোকিল পঞ্চম গাওত
শুনি ধনি কয়ল পয়ান॥
হংসিনি গমনি চলনি অতি মন্থর
লীলাপদ গতিশোভা।
কহে যদুনাথ সাথ ব্রজ-সুন্দরি
শ্যাম-পিরীতিরস-লোভা॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ধনী ধনি বনি অভিসারে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭০০ সালে  বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪
সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, দ্বাবিংশ ক্ষণদা
- শুক্লা সপ্তমী, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই “ধনী ধনি বনি অভিসারে” এবং “(রমণি) ধনি ধনি
বনি অভিসারে” পদ দুটি আসলে একই পদ কিন্তু প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে এদুটি পদকে স্বতন্ত্র পদ
হিসেবেও এখানে তোলা হলো।

॥ শ্রীগান্ধার॥

ধনী ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                        রুপ-তরঙ্গিণী
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ ধ্রু॥
লোচন খঞ্জন-                            গঞ্জন রঞ্জন
অঞ্জন বসন বিরাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি                      বঙ্করাজ-ধ্বনি
মদন-মনোহর বাজে॥
সাজলি মদন-                        কলাবতী রাধা
যুবতী-বৃন্দ করি সাথে।
রাজহংস-গজ-                        গমন বিড়ম্বন
অবলম্বন সখী-হাতে॥
চলইতে চরণ                     সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
কনক-লতা জিনি                  জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ রাধে।
যদুনাথ দাস ভণে                 গমন নিকুঞ্জ-বনে
পূরাইতে শ্যাম-সাধে॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

ধনী ধনী বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী রূপ তরঙ্গিণী সাজলি শ্যাম বিহারে॥ ধ্রু॥
চলইতে চরণ সঙ্গে চল মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে ইনমত ধরণী চুম্বই চরণ চিহ্ন যাহাঁ শোভে॥
সাজলি মদন কলাবতী রাধে যুবতী বৃন্দ করি সাথ।
রাজহংস জিনি গমন বিলম্বন অবলম্বন সখী হাত॥
কনকলতা জিনি জনু সৌদামিনী বিধি অপরূপ রাধে।
যদুনাথ দাস ভণে গমন নিকুঞ্জ বনে পূরাইতে শ্যামরু সাধে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

(রমণি) ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                        রাগ-তরঙ্গিণী
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥
লোচন খঞ্জন-                           গঞ্জন রঞ্জন
অঞ্জন বসন বিরাজে।
কিঙ্কিণী রনরনি                      রঙ্করাজ ধ্বনি
মল্ল মনোহর বাজে॥
সজলি মদন-                        কলাবতী রাধা
যুবতী-বৃন্দ করি সাথে।
রাজহংস গজ-                         গমনবিড়ম্বন
অবলম্বন সখী হাতে॥
চলইতে চরণ                      সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত                    ধরণী চুম্বই কত
চরণ-চিহ্ন যাহা শোভে॥
কনক-লতা জিনি                  জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ রাধে।
যদুনাথ দাস ভণে                 গমন নিকুঞ্জ-বনে
পুরাইতে শামর-সাধে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
(রমণি) ধনি ধনি বনি অভিসারে
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭০০ সালে  বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪
সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, দ্বাবিংশ ক্ষণদা
- শুক্লা সপ্তমী, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই “(রমণি) ধনি ধনি বনি অভিসারে” এবং “ধনী ধনি
বনি অভিসারে” পদ দুটি আসলে একই পদ কিন্তু প্রথম পংক্তির ভিন্নতার কারণে এদুটি পদকে স্বতন্ত্র পদ
হিসেবেও এখানে তোলা হলো।

॥ শ্রীগান্ধার॥

ধনী ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                        রুপ-তরঙ্গিণী
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ ধ্রু॥
লোচন খঞ্জন-                           গঞ্জন রঞ্জন
অঞ্জন বসন বিরাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি                      বঙ্করাজ-ধ্বনি
মদন-মনোহর বাজে॥
সাজলি মদন-                        কলাবতী রাধা
যুবতী-বৃন্দ করি সাথে।
রাজহংস-গজ-                        গমন বিড়ম্বন
অবলম্বন সখী-হাতে॥
চলইতে চরণ                     সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
কনক-লতা জিনি                  জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ রাধে।
যদুনাথ দাস ভণে                গমন নিকুঞ্জ-বনে
পূরাইতে শ্যাম-সাধে॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

ধনী ধনী বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী রূপ তরঙ্গিণী সাজলি শ্যাম বিহারে॥ ধ্রু॥
চলইতে চরণ সঙ্গে চল মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে ইনমত ধরণী চুম্বই চরণ চিহ্ন যাহাঁ শোভে॥
সাজলি মদন কলাবতী রাধে যুবতী বৃন্দ করি সাথ।
রাজহংস জিনি গমন বিলম্বন অবলম্বন সখী হাত॥
কনকলতা জিনি জনু সৌদামিনী বিধি অপরূপ রাধে।
যদুনাথ দাস ভণে গমন নিকুঞ্জ বনে পূরাইতে শ্যামরু সাধে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

(রমণি) ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                        রাগ-তরঙ্গিণী
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥
লোচন খঞ্জন-                           গঞ্জন রঞ্জন
অঞ্জন বসন বিরাজে।
কিঙ্কিণী রনরনি                      রঙ্করাজ ধ্বনি
মল্ল মনোহর বাজে॥
সজলি মদন-                        কলাবতী রাধা
যুবতী-বৃন্দ করি সাথে।
রাজহংস গজ-                         গমনবিড়ম্বন
অবলম্বন সখী হাতে॥
চলইতে চরণ                      সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত                     ধরণী চুম্বই কত
চরণ-চিহ্ন যাহা শোভে॥
কনক-লতা জিনি                    জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ রাধে।
যদুনাথ দাস ভণে                  গমন নিকুঞ্জ-বনে
পুরাইতে শামর-সাধে॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্যামরী শ্যামের গুণে উনমত হৈয়া
ভণিতা যদুনাথ
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন নিমানন্দ দাসের
পদরসসার পুথি থেকে।

॥ ধানশী॥

শ্যামরী শ্যামের গুণে উনমত হৈয়া।
চলিলা নিকুঞ্জে প্রিয় সহচরী লৈয়া॥
নানা-যন্ত্রে প্রেম-মন্ত্রে উঠে উনমাদ।
আবেশে অবশ মনে করি শ্যাম-চাঁদ॥
চৌদিগে চমকি চায় কালিয়া বলিয়া।
আনন্দে নয়ন-জল পরিছে ঢলিয়া॥
সখী আসে-পাশে হাসি উলসিত মনে।
গায় সুললিত গীত সুমধুর-তানে॥
প্রবেশিলা বৃন্দাবনে দিয়া জয় জয়।
উথলে রসের নদী যদুনাথে রয়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যামরী শ্যামের গুণে উনমত হৈয়া।
চলিলা নিকুঞ্জে প্রিয় সহচরী লৈয়া॥
নানা যন্ত্রে প্রেমমন্দ্রে উঠে উনমাদ।
আবেশে অবশ মনে করি শ্যাম-চাঁদ॥
চৌদিগে চমকি চায় কালিয়া বলিয়া।
আনন্দে নয়ন-জলে পরিছে ঢলিয়া॥
সখী আসে পাশে হাসি উলসিত মনে।
গায় সুললিত গীত সুমধুর তানে॥
প্রবেশিলা বৃন্দাবনে দিয়া জয় জয়।
উথলে রসের নদী যদুনাথে রয়॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রতি-জয়-মঙ্গল ভরলহি কানন
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
আনুমানিক ১৭০০ সালে  বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪
সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, ষড়বিংশ
ক্ষণদা - শুক্লা একাদশী, ২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

রতি-জয়-মঙ্গল                        ভরল সব কানন
কো কহু আরতি-ওর।
শ্যামর-কোরে                        কসাবতী বিলসই
নব ঘনে চাঁদ উজোর॥
বৃন্দাবনে বনি                          রমণী-শিরোমণি
অনুপম অনুগত ছান্দে।
কমলিনী সঙ্গে                          রঙ্গে নব মধুকর
মাতি রহল মকরন্দে॥
দুহুঁ মুখ হেরি দুহুঁ                       করু কত চুম্বন
মাতল মনসিজ-রঙ্গে।
বাঢ়ল পিরীতি-সিন্ধু                     দুহুঁভেল আকুল
ভাসল রসের তরঙ্গে॥
নিবিড় আলিঙ্গনে                      দুহুঁ তনু মিলনে
হেম মণি-মরকত জোর।
যদুনাথ দাস কয়                       দুহুঁ রস সুখময়
কো কত বৈদগধি ওর॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”,
৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের ২০১ পুথি থেকে।

সম্ভোগ
॥ পঠমঞ্জরী॥

রতি-জয়-মঙ্গল                        ভরলহি কানন
কো কহু আরতি-ওর।
শ্যামর-কোরে                        বিলসই রসবতী
নব-ঘনে চাঁদ উজোর॥
বৃন্দাবনে বনি                        রমণি শিরোমণি
অনুপম অনুগত ছান্দে।
কমলিনি সঙ্গে                        রঙ্গে নব মধুকর
মাতি রহল মকরন্দে॥
দুহুঁ দুহুঁ মুখ হেরি                     করু কত চুম্বন
মাতল মনসিজ-রঙ্গে।
পড়লহিন পিরীতি-                  সিন্ধু ভেল আকুল
ভাসল রসের তরঙ্গে॥
নিবিড় আলিঙ্গনে                   দুহুঁ-তনু মিলাওল
হেম-মণি মরকত জোর।
যদুনাথ দাস কহে                    দুহুঁ-তনু সুখময়
কো কহু বৈদগধি-ওর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সম্ভোগ
॥ পঠমঞ্জরী॥

রতি-জয়-মঙ্গল                        ভরলহি কানন
কো কহু আরতি ওর।
শ্যামর কোরে                        বিলসই রসবতী
নব-ঘনে চাঁদ উজোর॥
বৃন্দাবনে বনি                        রমণি শিরোমণি
অনুপম অনুগত ছান্দে।
কমলিনী সঙ্গে                        রঙ্গে নব মধুকর
মাতি রহল মকরন্দে॥
দুহুঁ দুহুঁ মুখ হেরি                     করু কত চুম্বন
মাতল মনসিজ রঙ্গে।
দুহুঁজন পিরীতি-                   সিন্ধু ভেল আকুল
ভাসল রসের তরঙ্গে॥
নিবিড় আলিঙ্গন                   দুহুঁ তনু মিলাওব
হেম-মণি মরকত জোড়।
যদুনাথ দাস কয়                    দুহুঁ তনু সুখময়
কো কহু বৈদগধি-ওর॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জল বিনু জলচর নিমিখ না জীব
ভণিতা যদুনাথ দাস
কবি যদুনাথ দাস
১৯২৬ সালে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনি পেয়েছিলেন সাহিত্য পরিষদের
২০১ পুথি থেকে।

॥ ধানশী॥

জল বিনু জলচর নিমিখ না জীব।
চকোর অমিয়া বিনু তিলেক না পীব॥
তারা রয়নী যৈছন রীত।
ঐছন মোহে কানুক পিরীত॥
শুন সজনি সমুঝায়বি আন।
প্রাণ পিরিতি-বশ নিরোধ ন মান॥ ধ্রু॥
ছায়া তনু জনু অনুখণ সঙ্গ।
নাহক প্রেম-লুবধ প্রতি অঙ্গ॥
জীউ-জড়িত ভেল কানু-কলঙ্ক।
চান্দ না ছোড়ে যৈছন মৃগ অঙ্ক॥
দিনমণি-বিহিন দিবস নাহি জান।
ঐছন শ্যাম বিনু মোহর পরাণ॥
নাহ-সোহাগ হৃদয় রহ জাগ।
যদুনাথ দাস কহে ধনি অনুরাগ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ
॥ ধানশী॥

জল বিনু জলচর নিমিখ না জীব।
চকোর অমিয়া বিনু আন নাহি পীব॥
তারা রয়নী সখী যৈছন রীত।
ঐছন জান মঝু কানুক পিরীত॥
শুনলো সজনি সমুঝয়বি আন।
প্রাণ পিরীতিবশ নিরোধয়ে মান॥ ধ্রু॥
তনুসনে ছায়া জনু আনোঅন সঙ্গ।
নাহক প্রেম-লুবধ প্রতি অঙ্গ॥
জীউ জড়িত ভেল কানু-কলঙ্ক।
চান্দ না ছোড়ে যৈছন মৃগ অঙ্ক॥
দিনমণি-বিহিন দিবস নাহি জান।
ঐছন শ্যাম বিনু মোহর পরাণ॥
নাহ-সোহাগ হৃদয় রহ জাগ।
যদুনাথ দাস কহে ধনি অনুরাগ॥

.        *************************        
.                                                                                
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর